আবদুল বাতেন :
মাধ্যমিকের গণ্ডি পেরিয়ে রাজধানী বা জেলা শহরের কলেজগুলোতে ভর্তির জন্য তুমুল প্রতিযোগিতা যেখানে সাধারণ নিয়ম, সেখানে উল্টো চিত্র দেখা যাচ্ছে চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জ উপজেলার সুনামধন্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গৃদকালিন্দিয়া হাজেরা হাসমত ডিগ্রি কলেজে। শহরের ভালো কলেজের মোহ ছেড়ে শুধু মানসম্মত শিক্ষা ও শৃঙ্খলা এবং উচ্চশিক্ষার ভর্তি পরীক্ষার ঈর্ষণীয় ফলাফলের টানে গ্রাম ও উপজেলার এই কলেজে আস্থা রাখছেন শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা।
২০২৬–২০২৭ শিক্ষাবর্ষের একাদশ শ্রেণিতে চাঁদপুরসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তের ৭৫টি মাধ্যমিক ও সমমান পর্যায়ের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে ভর্তি হয়েছেন ৬ শতাধিক শিক্ষার্থী—যাদের মধ্যে ৩৯ জনই জিপিএ-৫ প্রাপ্ত।
কলেজ প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, কুমিল্লা বোর্ডে এ বছর সামগ্রিক পাসের হার কম থাকা সত্ত্বেও গৃদকালিন্দিয়া হাজেরা হাসমত ডিগ্রি কলেজের শিক্ষার পরিবেশ ও ধারাবাহিক ফলাফলে ভরসা রেখাছেন শিক্ষার্থীরা। কেবল চাঁদপুর সদর, ফরিদগঞ্জ ও হাইমচর নয়; পার্শ্ববর্তী লক্ষ্মীপুর সদর, রায়পুর, রামগঞ্জ উপজেলা এমনকি ঢাকা, সিলেট, বরিশাল ও মাদ্রাসা বোর্ডের শিক্ষার্থীরাও ভর্তি হয়েছেন এ প্রতিষ্ঠানে।
কলেজটিতে এবার একাদশ শ্রেণিতে ভর্তি হওয়া শিক্ষার্থী তাসনিম ইসলাম বলেন, রাজধানী বা জেলা শহরের কলেজগুলো যেভাবে শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করে শিক্ষার্থীদের বুনিয়াদ গড়ে দেয়, এই কলেজটি গ্রাম ও উপজেলা পর্যায়ে থেকেও ঠিক একই মানের শিক্ষা নিশ্চিত করছে। অতীতের রেজাল্টই তার বড় প্রমাণ। তাই শহরের নামিদামি কলেজে না গিয়ে আমি নিজের এলাকাতেই উচ্চমাধ্যমিকের পড়াশোনার জন্য এই কলেজকে বেছে নিয়েছি।
কলেজ প্রশাসনের তথ্য মতে, শুধু ২০২৫ সালের উচ্চশিক্ষার ভর্তি পরীক্ষায় এ কলেজ থেকেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ৮ জন, বিভিন্ন সরকারি মেডিকেল কলেজে ৭ জন এবং দেশের শীর্ষস্থানীয় পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে মোট ৪২ জন শিক্ষার্থী ভর্তি হওয়ার সুযোগ পেয়েছেন।
এরমধ্যে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘সি’ ইউনিটে ১ম স্থান অর্জন করেন সানজিদা ইসলাম এবং জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘সি’ ইউনিটে ২য় স্থান অর্জন করেন খালেদা আক্তার। সাম্প্রতিক সময়ে গৃদকালিন্দিয়া হাজেরা হাসমত ডিগ্রি কলেজের প্রাক্তন শিক্ষার্থী মো. মহিউদ্দিন রুমান বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিসের (বিজেএস) ২০২৫ সালের পরীক্ষায় জাতীয় মেধায় ৬ষ্ঠ স্থান অর্জন করে সিভিল জজ পদে সুপারিশপ্রাপ্ত হয়েছেন।
কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মো. মফিজুল ইসলাম ভূঁইয়া জানান, শিক্ষার গুণগতমান, সুদৃঢ় শৃঙ্খলা ও বস্তুনিষ্ঠ ফলাফলের বিচারে ৭৫টি স্কুল ও মাদ্রাসার শিক্ষক-অভিভাবকরা আমাদের ওপর আস্থার সাক্ষর রেখেছেন। অভিভাবকদের সেই আস্থার মর্যাদা রক্ষা করাই আমাদের মূল লক্ষ্য। কেবল উচ্চমাধ্যমিকে ভালো ফলাফলই নয়, শিক্ষার্থীরা যেন এইচএসসি পাসের পর মেডিকেল, বুয়েট ও দেশের সেরা পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে চান্স পায়, সেজন্য একাদশ বর্ষের শুরু থেকেই তাদের বিশেষ প্রস্তুতিমূলক ক্লাস ও নিয়মিত পরীক্ষার ব্যবস্থা করা হয়।
কলেজের ভর্তি কমিটির আহ্বায়ক সহকারী অধ্যাপক সঞ্জয় ভৌমিক জানান, দেশের বিভিন্ন বোর্ড ও এলাকা থেকে আসা শিক্ষার্থীদের মেধাবিকাশে কলেজ পরিচালনা পর্ষদ ও শিক্ষকবৃন্দ সর্বোচ্চ আন্তরিকতা নিয়ে কাজ করে যাচ্ছেন। গ্রাম ও প্রান্তিক এলাকা থেকেও যে জাতীয় পর্যায়ে সেরা সাফল্য অর্জন করা সম্ভব, গৃদকালিন্দিয়া হাজেরা হাসমত ডিগ্রি কলেজ প্রতিনিয়ত তা প্রমাণ করে চলেছে।
