লোন দিবে বলে সাধারণ মানুষের টাকা নিয়ে উধাও প্রতারক চক্র
নিজস্ব প্রতিবেদক : ফরিদগঞ্জ পৌরসভার অন্তর্গত পশ্চিম বড়ালী গ্রামের ভুক্তভোগী শাহীনুর আক্তার ও রেহানা বেগম। পারিবারিক প্রয়োজনে লোনের প্রয়োজনীয়তা অনুভব করছিলেন বেশ কিছুদিন ধরেই। পশ্চিম বড়ালী গ্রামের মধ্যে রয়েছে অনেকগুলো এনজিওর শাখা অফিস। সেই সুবাদে বড়ালী গ্রামের প্রতিটি বাড়িতেই এনজিও কর্মীদের নিয়মিত আসা-যাওয়া হয়। তারই ধারাবাহিকতায় গত ১৮ অক্টোবর রাসেল এবং অজ্ঞাতনামা আরেকজনসহ পশ্চিম বড়ালী গ্রামের শাহীনুরের ঘরের দরজায় গিয়ে ‘শাহীনুর আফা’ বলে ডাকতে থাকেন। শাহীনুর ভেবেছিলেন তারা হয়তো অন্যসব এনজিওর মতোই কোনো এনজিও কর্মী। অন্যদের মতো তাদেরও অফিস রয়েছে পূর্ব বড়ালী হাজী বাড়ির ব্রিজ সংলগ্ন একটি বিল্ডিংয়ে। তারা সহজ শর্তে ঋণ দেওয়ার নানারকম প্রলোভন দেখান। তাদের কথা শুনে কয়েকজন ঋণ নিতে তৎক্ষণাৎ রাজিও হন। শাহীনুর আক্তারও তার ব্যতিক্রম নন। তিন লাখ টাকা ঋণ নিতে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র রেডি করেন এবং প্রতারক চক্রের তৈরিকৃত ফরম পূরণ করেন। ঋণ নিতে হলে প্রথমে জামানত বাবদ ৩ লাখ টাকার জন্য ৩০ হাজার টাকা দিতে হয়। শাহীনুর আক্তার ১৯ তারিখ ঋণ পাবেন বলে ১৯ অক্টোবর সকালবেলা ৩০ হাজার টাকা তুলে দেন প্রতারক চক্রের হাতে। আরও কয়েকজনও তাদের হাতে জামানতের টাকা তুলে দেন। সহজ শর্তে ঋণ, বছরে একবার কিস্তি পরিশোধসহ এমন নানান প্রলোভনে ফাঁদে পা দেন তারা। ফলাফল ১৯ অক্টোবর দুপুর ১২টায় ভূয়া অফিসে তালা মেরে উধাও হয়ে যায় প্রতারক চক্র। বন্ধ পাওয়া যায় তাদের মোবাইল ফোন। এ ঘটনায় ফরিদগঞ্জ থানায় তাৎক্ষণিক একটি সাধারণ অভিযোগ দায়ের করা হলেও পুলিশ গুরুত্ব দেয়নি বলে ভুক্তভোগীদের অভিযোগ। ভুক্তভোগী শাহীনুর আক্তার জানান, তারা এমনভাবে আমাকে ফাঁদে ফেলেছে আমি বুঝতে পারিনি। এখানে আশেপাশে অনেক এনজিও রয়েছে, আমি ভেবেছি তাদের মধ্যেই এরা কেউ। আশ্চর্যজনক বিষয় হচ্ছে দুজন অপরিচিত মানুষ আমার ঘরে গিয়ে আমার নাম ধরে ডেকেছে। এর পিছনে স্থানীয় কেউ জড়িত থাকতে পারে বলে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন। তিনি আরও বলেন, স্থানীয় মানুষদের সহায়তা ছাড়া অপরিচিত দুজন মানুষ আমার ঘর পর্যন্ত পৌঁছানো এবং নাম ধরে ডাকা অসম্ভব। নিশ্চয়ই এর পেছনে কোনো রহস্য আছে। এই বিষয়ে ফরিদগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জের কাছে জানতে চাওয়া হলে তিনি জানান, অভিযোগ পেলে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। মানুষ এতটা লোভী হয়ে ঋণ নিতে চাওয়ার বিষয়টিকে তিনি আশঙ্কা হিসেবে দেখছেন।




