২৮শে অক্টোবর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

অক্টোবর ২১, ২০২৬

আজকের সংবাদ, ফরিদগঞ্জ

ফরিদগঞ্জে দুই পূজামণ্ডপ পরিদর্শনে বিল্লাল হোসেন ভূঁইয়া, এমপির পক্ষে উন্নয়নের আশ্বাস

ফরিদগঞ্জ টাইমস ডেস্ক : চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জ উপজেলার ১৫নং রূপসা উত্তর ইউনিয়নের পশ্চিম রূপসা সার্বজনীন দুর্গা মন্দির ও রূপসা সার্বজনীন সনাতন হরিসভা মন্দির পরিদর্শন করেছেন বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতৃবৃন্দ।  চাঁদপুর-৪ (ফরিদগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য এম.এ হান্নানের পক্ষে সাবেক চেয়ারম্যান বিল্লাল হোসেন ভূঁইয়ার নেতৃত্বে তারা মন্দির দুটি পরিদর্শন করেন। এসময় মন্দির দুটির উন্নয়নে বরাদ্দ প্রদানের আশ্বাস দেওয়া হয়। পাশাপাশি বিল্লাল হোসেন ভূঁইয়া ব্যক্তিগত উদ্যোগে উভয় মন্দিরে নগদ আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হয়েছে।  মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) দিবাগত রাতে পর্যায়ক্রমে মন্দির দুটি পরিদর্শনকালে আয়োজিত অনুষ্ঠানে মন্দির কমিটির সদস্যরা তাদের স্বাগত জানান। এসময় মন্দিরের সার্বিক উন্নয়ন, ধর্মীয় কার্যক্রম পরিচালনা এবং এলাকার সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখার বিষয়ে আলোচনা হয়। মন্দির কমিটির সদস্যদের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন ১৫নং রূপসা উত্তর ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান জহিরুল ইসলাম ও সাবেক চেয়ারম্যান বিল্লাল হোসেন ভূঁইয়া। তারা ধর্মীয় সম্প্রীতি, পারস্পরিক সৌহার্দ্য এবং এলাকার উন্নয়নে সম্মিলিতভাবে কাজ করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান জহিরুল ইসলাম বলেন, “ধর্মীয় সম্প্রীতি ও পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ একটি সুন্দর সমাজের ভিত্তি। আমরা চাই, সব ধর্মের মানুষ শান্তিপূর্ণ পরিবেশে তাদের ধর্মীয় উৎসব পালন করুন। এলাকার উন্নয়ন ও সম্প্রীতি বজায় রাখতে আমরা সবাই ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করব।” সাবেক চেয়ারম্যান বিল্লাল হোসেন ভূঁইয়া বলেন, “বাংলাদেশ সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির দেশ। এদেশের প্রতিটি নাগরিকের নিজ নিজ ধর্ম স্বাধীনভাবে পালনের অধিকার রয়েছে। ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে আমরা সবাই এদেশের নাগরিক এবং পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সহমর্মিতা ও সৌহার্দ্যের বন্ধনে আবদ্ধ। দুর্গাপূজা সনাতন ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় উৎসব। এ উৎসব আনন্দমুখর ও নির্বিঘ্ন করতে সবার সহযোগিতা করা উচিত। আমরা চাই, প্রতিটি ধর্মের মানুষ নিরাপদে ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে তাদের ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান পালন করতে পারেন। এলাকার উন্নয়ন ও জনকল্যাণে আমরা সবসময় মানুষের পাশে থাকার চেষ্টা করি। সংসদ সদস্য এম.এ হান্নানের পক্ষ থেকে মন্দির দুটির উন্নয়নে বরাদ্দের আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। আমিও ব্যক্তিগতভাবে সাধ্যমতো আর্থিক সহায়তা দিয়েছি। ভবিষ্যতেও এলাকার ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর উন্নয়ন, সামাজিক সম্প্রীতি রক্ষা এবং মানুষের কল্যাণে যথাসাধ্য সহযোগিতা অব্যাহত রাখতে চাই।” পরিদর্শনকালে সফরসঙ্গী হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ৫নং ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি সৌরভ বিডিআর, উপজেলা যুবদলের যুগ্ম-আহ্বায়ক ইমরান হোসেন বেপারী, উপজেলা যুবদলের শিক্ষাবিষয়ক সম্পাদক রফিক ইসলাম মাস্টার, রূপসা উত্তর ইউনিয়ন যুবদলের সাধারণ সম্পাদক হাসানসহ স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা। এসময় মন্দির কমিটির সদস্যরা মন্দির দুটির উন্নয়ন ও ধর্মীয় কার্যক্রম পরিচালনায় সহযোগিতার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।

আজকের সংবাদ, ফরিদগঞ্জ, স্বাস্থ্য

ফরিদগঞ্জে অনন্যা’র ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প, সেবা পেলেন তিন শতাধিক রোগী

ফরিদগঞ্জ টাইমস ডেস্ক : মানবিকতার বন্ধনে মানুষের পাশে দাঁড়ানোর প্রত্যয়ে চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জে তৃতীয়বারের মতো ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প, বিনামূল্যে ওষুধ বিতরণ ও ডায়াবেটিস পরীক্ষা কর্মসূচির আয়োজন করেছে অনন্যা যুব নারী কল্যাণ সংঘ। সংগঠনটির এ উদ্যোগে তিন শতাধিক রোগী বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা গ্রহণ করেছেন। অসচ্ছল ও সাধারণ মানুষের জন্য চিকিৎসাসেবা সহজলভ্য করার পাশাপাশি স্বাস্থ্যসচেতনতা বৃদ্ধিতে এ আয়োজন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। বুধবার (২১ অক্টোবর) সকাল থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত উপজেলার ৯নং গোবিন্দপুর উত্তর ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ে এ মেডিকেল ক্যাম্প অনুষ্ঠিত হয়। নয়াহাট বাজারসংলগ্ন ইউনিয়ন পরিষদে আয়োজিত এ কর্মসূচিতে বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত নারী-পুরুষসহ নানা বয়সী মানুষ চিকিৎসাসেবা নিতে আসেন। চিকিৎসকদের পরামর্শ গ্রহণের পাশাপাশি রোগীরা বিনামূল্যে ওষুধ ও ডায়াবেটিস পরীক্ষা করার সুযোগ পান। মেডিকেল ক্যাম্পে চিকিৎসাসেবা প্রদান করেন চাঁদপুর মেডিকেল কলেজের মেডিসিন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. মো. সাইফুল ইসলাম সোহেল। তিনি মেডিসিন, বাতব্যথা ও হৃদরোগসংক্রান্ত সমস্যায় আক্রান্ত রোগীদের পরামর্শ দেন। চাঁদপুর মাজহারুল হক বিএনএসবি চক্ষু হাসপাতালের চক্ষু বিশেষজ্ঞ ও মাইক্রোসার্জন ডা. মো. হানিফুর রহমান চোখের বিভিন্ন সমস্যায় আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসাসেবা প্রদান করেন। এছাড়া চাঁদপুর মেডিকেল কলেজের মাইক্রোবায়োলজি বিভাগের প্রভাষক ডা. মো. কামরুল হাসান মেডিসিন, নবজাতক ও শিশুস্বাস্থ্য বিষয়ে রোগীদের পরামর্শ দেন। হাইমচর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার ডা. মো. ওমর ফারুক মেডিসিন, গ্যাস্ট্রোলিভার ও পরিপাকতন্ত্রের বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে আসা রোগীদের চিকিৎসাসেবা প্রদান করেন। অনন্যা যুব নারী কল্যাণ সংঘের সভাপতি রাবেয়া আক্তার বলেন, “তিন শতাধিক রোগী এদিন আমাদের ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প থেকে চিকিৎসাসেবা গ্রহণ করেছেন। বিগত বছরগুলোর মতো এবারও আমরা সফলভাবে এ আয়োজন সম্পন্ন করতে পেরেছি। আমাদের সংগঠনের মূল ব্রত হচ্ছে জনসাধারণের জন্য কাজ করা, মানবিক কাজ করা। আমরা মানুষের পাশে থাকতে চাই, বিশেষ করে যারা আর্থিক সীমাবদ্ধতার কারণে সহজে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে পারেন না, তাদের জন্য কিছু করতে চাই।”  তিনি আরও বলেন, “আগামীতেও মানুষের কল্যাণে এ ধরনের কার্যক্রম অব্যাহত রাখতে চাই। আমরা যেন সবসময় অসহায় ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে মানবিক কাজ করতে পারি, সে জন্য সবার সহযোগিতা ও আন্তরিক সমর্থন কামনা করছি।” এসময় অনন্যা যুব নারী কল্যাণ সংঘের এ মানবিক উদ্যোগের প্রতি শুভকামনা জানান বিশিষ্ট ব্যাংকার ও বিএনপি নেতা হাবিবুর রহমান রুবেল, ৯নং গোবিন্দপুর উত্তর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শাহ আলম শেখ এবং ফরিদগঞ্জ প্রেসক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক নুরুল ইসলাম ফরহাদ। রোগীরা বলেন, বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা, ওষুধ বিতরণ ও ডায়াবেটিস পরীক্ষার মতো উদ্যোগ মানুষের জন্য স্বস্তির বার্তা নিয়ে আসে। বিনামূল্যে আমরা সেবা পেয়েছি, বড় বড় ডাক্তার দেখাতে পেরেছি, ঔষধ পেয়েছি। আমরা ভীষণ খুশি। এসব কাজে সমাজের বিত্তবান ব্যক্তি, পেশাজীবী, স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ও সচেতন মানুষ সম্মিলিতভাবে এগিয়ে এলে সুবিধাবঞ্চিত মানুষের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার পথ আরও সহজ হতে পারে। মানবিকতার প্রকৃত সৌন্দর্য ফুটে ওঠে মানুষের বিপদে-আপদে পাশে দাঁড়ানোর মধ্য দিয়ে। অসুস্থ মানুষের পাশে দাঁড়ানো, প্রয়োজনের সময় সহায়তার হাত বাড়িয়ে দেওয়া এবং মানুষের মুখে স্বস্তির হাসি ফোটানোর মতো কাজই একটি সুন্দর ও সহমর্মী সমাজ গঠনে ভূমিকা রাখে। অনন্যা যুব নারী কল্যাণ সংঘের এ উদ্যোগ সেই মানবিক চেতনারই একটি উদাহরণ। ভবিষ্যতেও এ ধরনের জনকল্যাণমূলক কার্যক্রম অব্যাহত থাকলে ফরিদগঞ্জের সাধারণ মানুষ উপকৃত হবেন বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা। এই আয়োজনে অনন্যা যুব নারী কল্যাণ সংঘের সদস্যরা উপস্থিত থেকে সার্বিক সহযোগিতার মাধ্যমে সবকিছু সফলভাবে সম্পন্ন করেছেন।

আজকের সংবাদ, ফরিদগঞ্জ, বিশেষ সংবাদ

ফরিদগঞ্জে সাংবাদিক লাঞ্ছিতের ঘটনায় সাবেক এমপি ও প্রেসক্লাবের সভাপতির মধ্যস্থতায় নিষ্পত্তি 

নিজস্ব প্রতিবেদক :  দৈনিক ইত্তেফাকের ফরিদগঞ্জ প্রতিনিধি ও প্রেসক্লাবের সহ-সভাপতি জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক মহিউদ্দিনকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট বিরোধের অবসান হয়েছে। ফরিদগঞ্জ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির রাজস্ব ও ব্যাংকিং বিষয়ক সম্পাদক লায়ন মো. হারুনুর রশিদ ও ফরিদগঞ্জ প্রেসক্লাবের সভাপতি আবু হেনা মোস্তফা কামালের মধ্যস্থতায় উভয় পক্ষের বক্তব্য শুনে আলোচনা ও সমঝোতার মাধ্যমে বিরোধটির সৌহার্দ্য ও মর্যাদাপূর্ণ নিষ্পত্তি করা হয়।  মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) সকাল আনুমানিক ৮টা নাগাদ পৌর ছাত্রদলের নেতা কামরুল ইসলাম পাটোয়ারীর হামলায় সাংবাদিক মহিউদ্দিন আহত হন। পরে কয়েকজন সাংবাদিক তাঁকে উদ্ধার করে ফরিদগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গেলে সেখানেও তিনি বাধার মুখে পড়েন। একপর্যায়ে সাংবাদিকদের প্রতিরোধের মুখে বাধাদানকারীরা পিছু হটেন। পরে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে তাঁকে বাড়িতে নেওয়া হয়। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় সাংবাদিকদের মধ্যে ক্ষোভ ও উদ্বেগ তৈরি হয়।  এ ঘটনায় ফরিদগঞ্জ প্রেসক্লাবের সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক ও জ্যেষ্ঠ সাংবাদিকদের সঙ্গে পরামর্শক্রমে বিকেল ৩টায় প্রেসক্লাবে জরুরি সভার আয়োজন করেন। সভায় প্রেসক্লাবের সদস্যরা বক্তব্য দেন। এতে সাংবাদিকের ওপর হামলার নিন্দা, প্রতিবাদ জানিয়ে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। এদিকে সাবেক সংসদ সদস্য, বিএনপির কেন্দ্রীয় রাজস্ব ও ব্যাংকিং বিষয়ক সম্পাদক উদ্ভূত পরিস্থিতির খবর পান। তিনি প্রেসক্লাবের সভাপতির সঙ্গে একাধিকবার কথা বলে দুঃখপ্রকাশ করেন। সাংবাদিক ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের মধ্যে যেন বিরোধ না হয় এবং স্থানীয় পর্যায়ে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় থাকে, সে লক্ষ্যে তিনি সংশ্লিষ্টদের ধৈর্য ও সংযম প্রদর্শনের আহ্বান জানান এবং প্রেসক্লাবে উপস্থিত হয়ে সম্মানজনক মীমাংসার প্রতিশ্রুতি দেন। জরুরি সভা চলাকালীন রাত ৮টা নাগাদ তিনি ফরিদগঞ্জ প্রেসক্লাবে পৌঁছালে প্রেসক্লাবের নেতৃবৃন্দ তাঁকে অভ্যর্থনা জানান। পরে তিনি উভয় পক্ষের বক্তব্য মনোযোগ দিয়ে শোনেন এবং উদ্ভূত ঘটনাটি অনাকাঙ্খিত বলে মন্তব্য ও দুঃখ প্রকাশ করেন।  অভিযুক্তরা অপরাধ করেছে মত প্রকাশ করলে তারাও মেনে নেন। এতে, প্রেসক্লাবের সভাপতি ও অন্যান্য সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে উভয়ের মধ্যে পারস্পরিক বোঝাপড়া ও সমঝোতার ভিত্তিতে অভিযোগ নিষ্পত্তি করা হয়।  প্রসঙ্গত সাবেক সংসদ সদস্য বলেন, বিরোধী দলে থাকাকালীন ঢাকার ও সারাদেশের সাংবাদিকগণ সবসময় আমাদের পাশে ছিলেন এবং অনেক সাংবাদিক ভাই নির্যাতন ও মামলা হামলার শিকার হয়েছেন। সাংবাদিকগণ আমাদের বন্ধু ও দুঃসময়ের সাথী মন্তব্য করে তিনি আরও বলেন, আমাদের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান গণমাধ্যমের স্বাধীনতার প্রতি শ্রদ্ধাশীল। সাংবাদিকদের নিরাপত্তা, পেশাগত মর্যাদা এবং স্বাধীনভাবে দায়িত্ব পালনের অনুকূল পরিবেশ নিশ্চিত করা আমাদের দায়িত্ব।

আজকের সংবাদ, জনদুর্ভোগ, ফরিদগঞ্জ

ফরিদগঞ্জে ঘর নির্মাণে বাধা, জরাজীর্ণ ঘরে মানবেতর জীবনযাপন

নিজস্ব প্রতিবেদক :  চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জ উপজেলার ৭নং পাইকপাড়া উত্তর ইউনিয়নের বিষুরবন্দ গ্রামে জায়গাসংক্রান্ত বিরোধের জেরে প্রবাসী মনির হোসেনের পরিবারকে নিজ ভিটায় বসতঘর নির্মাণে বাধা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। প্রতিপক্ষের অব্যাহত হুমকি ও বাধার মুখে বর্তমানে অসহায় পরিবারটি জরাজীর্ণ বসতঘরে চরম মানবেতর জীবনযাপন করছে।  ভুক্তভোগী প্রবাসী পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে ওই প্রবাসীর পরিবারের সাথে তার ভাইদের পৈত্রিক সম্পত্তি নিয়ে বিরোধ চলে আসছিল। সম্প্রতি প্রবাসী পরিবারটি তাদের নিজস্ব খরিদা ও পৈত্রিক সূত্রে প্রাপ্ত ভিটায় মাথা গোঁজার ঠাঁই হিসেবে একটি নতুন বসতঘর নির্মাণ শুরু করলে প্রতিপক্ষরা তাতে অন্যায়ভাবে বাধা সৃষ্টি করে।  এ বিষয়ে প্রবাসীর মনির হোসেনের স্ত্রী কান্নাজড়িত কণ্ঠে জানান, আমার স্বামী প্রবাসে হাড়ভাঙা খাটুনি খেটে ঘর করার জন্য টাকা পাঠিয়েছেন। কিন্তু তার ভাই ও বোনেরা অন্যায়ভাবে আমাদের নিজেদের জায়গায় ঘর তুলতে দিচ্ছে না। তারা আমাদের নির্মাণসামগ্রী নষ্ট করছে এবং আমাদের নানাভাবে হুমকি-ধমকি দিচ্ছে। ঘর বানাতে না পেরে জরাজীর্ণ ভাঙা চালার নিচে ছেলে ও মেয়ে নিয়ে আমরা চরম নিরাপত্তাহীনতা ও কষ্টের মধ্যে দিন পার করছি। আমি প্রশাসন ও এলাকাবাসীর কাছে এই অন্যায়ের বিচার এবং আমাদের মাথা গোঁজার ঠাঁই নিশ্চিত করার দাবি জানাচ্ছি।  স্থানীয় এলাকাবাসী নেছার আহম্মদ জানান, প্রবাসী মনিরের সব ভাইয়েরা পৈত্রিক সম্পত্তির ওপর বসতঘর নির্মাণ করে থাকলেও জোরপূর্বক একটি পরিবারকে ঘর তুলতে না দিয়ে এভাবে উচ্ছেদ বা অবরুদ্ধ অবস্থায় রাখা কোনোভাবেই কাম্য নয়। অসহায় পরিবারটির এই মানবিক বিপর্যয় দেখে এলাকায় চাপা ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। তিনি দ্রুত প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করছেন যাতে প্রবাসী পরিবারটি নিরাপদে তাদের ঘর নির্মাণ সম্পন্ন করতে পারে।  প্রতিপক্ষরা বলেন, জায়গা নিয়ে বিরোধ চলছে, প্রাণনাশের হুমকি-ধমকি বিষয়টি সম্পূর্ণ মিথ্যা এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। স্থানীয় শালিসগণ মাপ-জরিপ করে এই জায়গা আমাদের দিয়েছে তাই তাদের ঘর করতে দিচ্ছি না। এদিকে ভুক্তভোগী পরিবারটি নিজ বসত ভিটায় ঘর নির্মাণে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।  স্থানীয়দের আশঙ্কা, প্রশাসন দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে এই জমি সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে যেকোনো সময় বড় ধরনের আইন-শৃঙ্খলার অবনতি ঘটতে পারে।

Scroll to Top