মাঠ ছেড়ে প্রবাসে পাড়ি জিয়ার, আবেগে ভারী ফরিদগঞ্জের ক্রীড়াঙ্গন
টিটু হোসেন : ফরিদগঞ্জ উপজেলা তথা চাঁদপুরের ক্রীড়াঙ্গনের অতি পরিচিত ও জনপ্রিয় মুখ জিয়াউর রহমান জিয়া। দীর্ঘদিন ধরে ফুটবলের সঙ্গে নিবিড়ভাবে সম্পৃক্ত থেকে তরুণ খেলোয়াড়দের উৎসাহ, প্রশিক্ষণ ও সহযোগিতার মাধ্যমে স্থানীয় ক্রীড়াঙ্গনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে আসছেন তিনি। এবার প্রবাস জীবনের উদ্দেশ্যে ফরিদগঞ্জ ছাড়ছেন এই ক্রীড়া সংগঠক ও ফুটবলপ্রেমী। ফরিদগঞ্জের ফুটবল অঙ্গনে জিয়ার নামটি যেন আলাদা এক পরিচয়। মাঠে ফুটবল নিয়ে তার ব্যস্ততা, তরুণ খেলোয়াড়দের প্রতি ভালোবাসা এবং নতুন প্রতিভা তুলে আনার নিরলস প্রচেষ্টা তাকে ক্রীড়াপ্রেমীদের কাছে জনপ্রিয় করে তুলেছে। তার হাত ধরে ফরিদগঞ্জের অনেক উদীয়মান ফুটবলার দেশের বিভিন্ন প্রান্তে গিয়ে খেলাধুলার সঙ্গে যুক্ত হয়েছেন। শত শত তরুণ ফুটবলারের কাছে জিয়া শুধু একজন সংগঠক নন; ছিলেন একজন অভিভাবক, পরামর্শদাতা ও অনুপ্রেরণার মানুষ। মাঠে তরুণদের পাশে দাঁড়ানো, তাদের উৎসাহ দেওয়া এবং খেলাধুলায় এগিয়ে যেতে সহযোগিতা করার কারণে দীর্ঘদিন ধরেই ফরিদগঞ্জের ফুটবল অঙ্গনে তার রয়েছে আলাদা গ্রহণযোগ্যতা। জিয়াউর রহমান জিয়া দীর্ঘদিন ইত্যাদি স্পোর্টসের ম্যানেজার, ফরিদগঞ্জ স্পোর্টস ক্লাবের প্রতিষ্ঠাতা, ফরিদগঞ্জ কিশোর একাডেমির প্রতিষ্ঠাতা এবং ফরিদগঞ্জ ফুটবল একাডেমির পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। পাশাপাশি তিনি ফরিদগঞ্জ বাজার ব্যবসায়ী কমিটির ক্রীড়া সম্পাদক এবং ফরিদগঞ্জ ফুটবল একাডেমির সহ-সভাপতি হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন। ফুটবলকে ঘিরে তার দীর্ঘ পথচলার সবচেয়ে বড় অর্জন হয়তো কোনো পদ-পদবি নয়; বরং তার উৎসাহে মাঠে আসা এবং ধীরে ধীরে নিজেদের জায়গা তৈরি করে নেওয়া অসংখ্য তরুণ ফুটবলার। তাদের কাছে জিয়ার চলে যাওয়া তাই আনন্দের নয়, বরং আবেগ ও বিষাদের। প্রবাসে পাড়ি দেওয়ার খবর ছড়িয়ে পড়ার পর থেকেই ফরিদগঞ্জের অনেক তরুণ ফুটবলারের মাঝে নেমে এসেছে মনখারাপের ছায়া। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও তাকে ঘিরে আবেগঘন নানা কথা উঠে আসছে। চলছে স্মৃতিচারণা। প্রিয় এই ক্রীড়া সংগঠকের সঙ্গে মাঠের নানা স্মৃতি মনে করে অনেকেই তার নতুন জীবনের জন্য শুভকামনা জানাচ্ছেন। জিয়াউর রহমান জিয়ার গ্রামের বাড়ি ফরিদগঞ্জ পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের গাজী বাড়িতে। নজিবুল হক গাজীর চার ছেলে ও চার মেয়ের মধ্যে জিয়া সবার ছোট। দীর্ঘদিনের পরিচিত মাঠ, খেলোয়াড় ও ক্রীড়াঙ্গন ছেড়ে প্রবাস জীবনে নতুন অধ্যায় শুরু করতে যাচ্ছেন জিয়া। তার এই নতুন যাত্রা জীবনে বয়ে আনুক সাফল্য ও সম্ভাবনার নতুন দ্বার—এমন প্রত্যাশা ফরিদগঞ্জবাসীর। দেশের বাইরে গেলেও ফরিদগঞ্জের ফুটবল মাঠ, তরুণ খেলোয়াড় এবং প্রিয় ক্রীড়াঙ্গনের সঙ্গে তার সেই আত্মিক সম্পর্ক অটুট থাকবে—এটাই প্রত্যাশা ক্রীড়াপ্রেমীদের। বিদায় নয়, এটি নতুন এক যাত্রা। জিয়ার জন্য রইল ফরিদগঞ্জের অগণিত ক্রীড়াপ্রেমী ও তরুণ ফুটবলারের ভালোবাসা, দোয়া ও শুভকামনা।

