২৮শে অক্টোবর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

অক্টোবর ২২, ২০২৬

অর্থনীতি, আজকের সংবাদ, ফরিদগঞ্জ, ফিচার

উঠোনের অর্থনীতি: যেখানে শীতল পাটি আর নকশিকাঁথা এক সুতোয় গাঁথা

ফাতেমাতুজ জান্নাত প্রিয়া :  চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জের কোনো গ্রামে বিকেলবেলায় যদি কোনো বাড়ির উঠোনে উঁকি দেন, এক অদ্ভুত দৃশ্য চোখে পড়বে। বাচ্চারা শুয়ে শুয়ে কৌতূহলী চোখ দিয়ে দেখে হাজারো স্বপ্ন বুননের গল্প। একই উঠোনে দুটি শিল্প পাশাপাশি বেঁচে আছে। এক কোণে শাশুড়ি মুর্তা বেত দিয়ে শীতল পাটি বুনছেন, আর ঠিক তার পাশেই পুত্রবধূ পুরনো শাড়ির ওপর সুই দিয়ে তুলছেন নকশিকাঁথার ফোঁড়। দুটি ভিন্ন শিল্প, কিন্তু একই গল্প—টিকে থাকার গল্প। গ্রামীণ অর্থনীতিতে নারীর ভূমিকা নিয়ে আমরা অনেক কথা বলি, কিন্তু এই উঠোনের দিকে না তাকালে তা বোঝা যাবে না। এখানে শীতল পাটি আর নকশিকাঁথা আলাদা কোনো পণ্য নয়, এরা একে অপরের পরিপূরক। সকালটা পাটির, রাতটা কাঁথার গ্রামের নারীদের দিন ভাগ করা থাকে। ভোর থেকে দুপুর পর্যন্ত চলে শীতলপাটির কাজ। কারণ, পাটি বুনতে লাগে দিনের আলো, টান টান বেত, শক্ত হাত। মুর্তা কাটা, সেদ্ধ করা, শুকানো, রঙ করা—সবটাই তো কায়িক পরিশ্রমের। একজন নারী দিনে ৪-৫ ঘণ্টা কাজ করে একটি পাটির এক-তৃতীয়াংশ শেষ করেন। এটি তার ‘দিনের আয়’। আর সন্ধ্যার পর? যখন হাঁস-মুরগি তুলে, রান্না শেষে ঘরে হারিকেন জ্বলে, তখন কোলে আসে নকশিকাঁথা। এরজন্য জোরে আলো লাগে না, লাগে ধৈর্য। এটা তার ‘রাতের সঞ্চয়’। পাটির টাকা দিয়ে চাল-ডাল কেনা হয়, আর কাঁথার টাকা জমে থাকে মেয়ের বিয়ে কিংবা বিপদের জন্য। রূপসা গ্রামের আমেনা বেগম বলেন, “পাটি হইলো আমার দৈনিক হাজিরা, কাঁথা হইলো আমার ব্যাংক। পাটি না বুনলে চুলা জ্বলবো না, কাঁথা না সেলাইলে ভবিষ্যৎ থাকবো না।” ফেলে দেওয়া থেকে বৈদেশিক মুদ্রা—একই হাতে দুই জাদু এই মিশ্র অর্থনীতির সবচেয়ে সুন্দর দিক হলো এর জিরো ওয়েস্ট মডেল। মুর্তা গাছের যে অংশ দিয়ে পাটি হয় না, সেই সরু অংশ দিয়ে হয় ঝুড়ি, মোড়া। আর নকশিকাঁথা? সেটি তো তৈরি হয় একেবারে ফেলে দেওয়া কাপড় দিয়ে। একটি পরিবারের যে কাপড় আর পরার যোগ্য নয়, তাই হয়ে যায় ৩০০ ডলারের রপ্তানি পণ্য। একজন নারী যখন একই সাথে দুটি কাজ পারেন, তখন বাজারে তার দর কষাকষির ক্ষমতা বাড়ে। পাটি বিক্রি না হলে কাঁথা আছে, কাঁথার অর্ডার না থাকলে পাটি আছে। গ্রামীণ অর্থনীতিতে একে বলে ‘ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা’, যা বড় বড় অর্থনীতিবিদরা এসি রুমে বসে শেখান, আর আমাদের মায়েরা উঠোনে বসে করে দেখান। আজ ঢাকার গুলশানের শোরুমে যে শীতল পাটির টেবিল ম্যাট ২৫০০ টাকা, আর যে নকশিকাঁথার বেড কভার ১২,০০০ টাকা—তার কারিগর একই গ্রামের দুই বোন, কিংবা একই মায়ের দুই রূপ। কিন্তু এই সোনার হাতগুলোই সবচেয়ে অবহেলিত। ফড়িয়া এসে বলে, “চাচী, পাটি আর কাঁথা দুইটাই একসাথে দেন, দাম একটু কম রাখেন।” আলাদা আলাদা বিক্রি করলে যে টাকা পেতেন, একসাথে মিক্স করে বিক্রি করতে গিয়ে ৩০% কম পান। তাই সময় এসেছে এই ‘মিক্সড ইকোনমি’-কে আলাদা চোখে দেখার। সরকার যদি ‘এক উঠোন, দুই শিল্প’ মডেলে একটি সমবায় করে দেয়—যেখানে নারীরা নিজেদের পাটি ও কাঁথা একসাথে প্রদর্শন ও বিক্রি করতে পারবেন, সরাসরি অনলাইনে ছবি তুলে ক্রেতা খুঁজবেন, তাহলে মধ্যস্বত্বভোগী থাকবে না। শীতল পাটি শরীরকে শীতল করে, নকশিকাঁথা বুকে উষ্ণতা দেয়। একটি গ্রামীণ নারী এই দুইয়ের কারিগর হয়ে প্রমাণ করছেন—তিনি শুধু ঘর সামলান না, তিনি দেশের অর্থনীতির তাপমাত্রাও নিয়ন্ত্রণ করেন। তার উঠোনটাই আসলে বাংলাদেশের সবচেয়ে ছোট, কিন্তু সবচেয়ে শক্তিশালী ব্যাংক।

আজকের সংবাদ, জাতীয়, শিক্ষা ও সাহিত্য

জামসেদ ওয়াজেদ–এর একগুচ্ছ কবিতা

প্রিয় গতকাল তোমাকে রেখেছি মনে কতকাল প্রিয় গতকালআকাশ আঁধার করা রিমঝিম বাদলের দিনহলুদাভ মনে রাখা সাদাদেহ কদম সুদিনহয়নি তো কারো দেখা দুঃখস্মৃতি সুখ হালচাল আষাঢ় আসবে বলে হেসে ওঠে অচেনা যে ফুলডোবার দুপাশ জুড়ে ডুবডুব পাখিদের বাসাপ্রতিদিন সকালেরা বিলি করে আশা ও হতাশাকচুরিপানার ফাঁকে ডাহুকীরা গানে মশগুল পূবের মেঘের খোঁজ ভালো জানে প্রিয় কালিদাসআষাঢ় আকাশে ভাসা মেঘদূত উত্তরের বাণীবিরহ বিলাপ মাখা ইতিকাল সেই যক্ষরাণীনিঃশব্দ জারুল জলে কবিতা তো প্রিয় সাদাহাঁস নৈঃস্বর্গিক এ সবুজে ডুবে থাকে আষাঢ়াশ্য মনকালিদাস মেঘদূত আরো আরো কত আয়োজন যুগল মেকুর অভাবী শরীর জুড়ে শুধু মাখি কল্যাণের রোদএর চেয়ে কম দামে কিবা আছে বলো পৃথিবীতেআয়নিক হস্তরেখা বোঝে না তো মানুষ নির্বোধসময়ের চক্র বাঁকে ফিরে আসে আপন অতীতে মেঘ জল প্রার্থনায় নেমে আসে বৃষ্টির মিছিলঅনুর্বর ভূমি তাতে ফিরে পায় হারানো জৌলুসরিজিকের ফয়সালা এ ভূমিতে ওড়ে গাঙচিলআলোকবর্তিকা হাতে নেমে আসো পুরাণ পুুরুষ ছায়াযুক্ত অন্ধকারে আলোজ্বলা ভোরের তিয়াসজনপদে গড়ে ওঠে ধীরে ধীরে মানব বসতিবায়ুর শরীর ভেঙে নিঃশ্বাসের মিটায় পিয়াসশূণ্য হতে পূর্ণবৃত্তে রূপান্তর কঠিন জ্যামিতি প্রাপ্তির প্রতীক্ষা শেষে প্রকৃতিরা তুলছে ঢেঁকুরকাঁটা খেয়ে দিন পার; স্বপ্ন দেখে যুগল মেকুর জননী আমার জননী আমার তুমি এর চেয়ে বড় সত্য আর কিছু নয়তুমি তো মৃত্তিকা মাগো যে বলয়ে গড়ে ওঠা আমার শরীরহাজার অতীত স্মৃতি কষ্ট জড়ো কাঁটাশূল বেদনার তীরতুমি সত্য তুমি আলো আকাশ উদার যার নেই পরাজয় নিজ হাতে অগ্নি জ্বেলে সে অনলে আজ আমি করি বসবাসআগামী জানি না বলে ভুলকে সঠিক ভেবে পড়ে যাই পিছেশুনেছি লোকের মুখে বেহেশত জননীর দু’পায়ের নিচেমায়ের এ আশির্বাদে হয়তোবা হতে পারি আমি ইতিহাস জননী আমার তুমি যার কাছে এই দেশ মানচিত্র ঋণীএকটি বুলেট শুধু মৃদু শব্দে খুলে ফেলে যে নাকের ফুলতুমি তো সঠিক মাগো বাদবাকী পৃথিবীর সব স্মৃতি ভুলঅমূল্য সম্পদ এক যা হয় না কোনোদিনো হাটে বিকিকিনি শূন্যতায় পুড়ে পুড়ে এই মন তাই আজ হয়েছে পাথরতোমারি পবিত্র মনে আমারি পতাকা যেন সুগন্ধি আতর তোমার আকাশউৎসর্গ : কবি আবদুল মান্নান সৈয়দ দেখা হতো তাঁর সাথে মাঝে মাঝে কবিতার পথ ও প্রান্তরেকখনো আলোকদিন কখনো সন্ধ্যার মতো রাত পাহারায়কেমন আছি, কেমন আছেন এতোটুকু বিনিময়ে পথ হেঁটে যায়অবাধ্য সময়ে তিনি আমাদের না জানিয়ে অন্য গ্রহান্তরে শ্রাবণ উড়ালমাখা কাশফুল এই দিনে কাফন সময়আমরা আহত হই ব্যথিত ফুলের মতো তুমি শূন্যতায়কবিতার এই পথে আমরাও বেড়ে উঠি তোমার ছায়ায়অসুন্দর মৃত্যুর কাছে মানে না তো কোনো কবি তাই পরাজয় অসংখ্য নক্ষত্র ভাসা বায়বীয় এ আকাশে তুমি ধ্রুবতারাতোমার হাতের ফাঁকে ঝরে পড়ে রাশি রাশি অক্ষরের ফুলযেমন কৈশোরে দেখা মোহনীয় সুবাসিত আমের মুকুলঅনন্ত নক্ষত্রে তুমি আশা রাখি পেয়ে যাবে মেঘের পাহারা শিশির আগামী দিনে শিথানের পাশে রাখা জীবনানন্দ দাশবামপাশে নজরুল পড়ে আছে ঠিক যেন সদ্য পড়া শেষতরুণ কবিটি অব্ধি আরো আরো কতকিছু বিশেষ বিশেষসাদা সাদা মেঘবাড়ি শূন্য করে হেসে ওঠে তোমার আকাশ সৌভাগ্যের ট্রেন সাহসের কথা শুনে দুহাতে আঁধার ভেঙে সূর্যমাখা এনেছি সকালপাখিডাকা এই ভোর তোমার অপেক্ষা করে ঘুমিয়েছে প্রিয় তিতুমীরতারাদের বাড়িঘর বিশ্রাম পালঙ্ক জুড়ে শুয়ে আছে মেঘের শরীরসহস্র আলোকবর্ষ অযুতাংশ সময়ের বয়ে চলা এ পৃথিবী মহিষের পাল আমিও আদিম বটে সভ্যতার সূর্য ছুঁয়ে দেখেছি যে সমুদ্র অতলগ্রহদের নানাবাড়ি নক্ষত্র শ্বশুরালয়ে কতবার হয়েছি অতিথিপৃথিবী আমার বোন ওরা তাই ভালো চেনে উপকারী যত পঞ্চবিথিগন্তব্যে পৌঁছাতে হলে আরো আরো প্রয়োজন বায়ুভর্তি আয়ুর বতল শিল্পীর চোখের কোণে এখনো আসেনি রাত আসেনি এ দীর্ঘ ছায়াপথমিল্কিওয়ে তিমিপিঠে চকচকে কারুকাজে পরিমিত রূপালি বালিশব্লাকহোল থিওরির সূত্রগুলে তৈরি হয় বৈজ্ঞানিক আজব মালিশভোরের আযানে রোজ ঘুম ভাঙে; আহ্বানে বেড়ে ওঠে নতুন শপথ তারকা তারকা চোখে বেলা শেষে খেলা করে জাগতিক সুখের হরিণমহামায়া অবনত অশ্রুসিক্ত গোধূলির জলযানে ভাসে অরিয়নচাঁদ হয় বরযাত্রী বাতাসেরা বিউগলে সুর তুলে তৈরি করে শুদ্ধ উচ্চারণআমার ফিনিক্স মন মঙ্গল জমিন জুড়ে সার্চ করে ফিরে আয়োডিন সাহস ও সুন্দরেরা মিলেমিশে আজকাল এক হয়ে উঠছে নিলামেফেরারি সত্যের মতো দুর্বিনীত এ দুর্যোগে চাপা পড়ে আছে অর্থনীতিঅসহায় চোখগুলো যদিও আগামী মাপে ভুলে ভরা তবুও সম্প্রীতিআমাদের প্রার্থনায় ব-দ্বীপ স্টেশনে সৌভাগ্যের ট্রেন এসে থামে

আজকের সংবাদ, চাঁদপুর, ফরিদগঞ্জ

সাংবাদিক নুরুন্নবী চৌধুরীর বাবার ১৪তম মৃত্যুবার্ষিকী 

ফরিদগঞ্জ টাইমস ডেস্ক : ঢাকাস্থ চাঁদপুর জেলা সাংবাদিক ফোরামের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক এবং ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক, লেখক ও সাংবাদিক নুরুন্নবী চৌধুরী (হাছিব)-এর বাবা শরীফুল আলম চৌধুরীর ১৪তম মৃত্যুবার্ষিকী ২৩ অক্টোবর, শুক্রবার। ২০১২ সালের এই দিনে কুয়েতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে ফরিদগঞ্জ উপজেলার ২নং বালিথুবা (পূর্ব) ইউনিয়নের সরখাল গ্রামের স্থানীয় মসজিদে বিশেষ দোয়ার আয়োজন করা হয়েছে। এছাড়া একাধিক এতিমখানায় মরহুমের আত্মার মাগফিরাত কামনায় দোয়া ও মোনাজাতের ব্যবস্থা করেছে পরিবার। মরহুম শরীফুল আলম চৌধুরী সরখাল গ্রামের চৌধুরী বাড়ির সন্তান। তিনি চাঁদপুর সরকারি কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ অধ্যাপক এ ডব্লিউ মো. তোয়াহা মিয়ার ভাতিজা। তাঁর স্ত্রী হাছিনা আক্তার উত্তর রাজাপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক। তাঁর বড় ছেলে নুরুন্নবী চৌধুরী (হাছিব) বর্তমানে নেদারল্যান্ডসভিত্তিক আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম গ্লোবাল ভয়েসেসে কর্মরত। পাশাপাশি তিনি ডিজিটাল কনটেন্ট স্ট্র্যাটেজিস্ট এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) নিয়ে কাজ করছেন। ছোট ছেলে সফটওয়্যার প্রকৌশলী আছিব চৌধুরী (পাপন) বিভিন্ন আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানে কারিগরি সহায়তা-সংক্রান্ত কাজে যুক্ত আছেন। মরহুমের আত্মার মাগফিরাত কামনায় আত্মীয়স্বজন, শুভানুধ্যায়ী ও সহকর্মীদের কাছে দোয়া চেয়েছে শোকসন্তপ্ত পরিবার।

Scroll to Top