২৮শে অক্টোবর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

অক্টোবর ৫, ২০২৬

আজকের সংবাদ, প্রবাস, ফরিদগঞ্জ, রাজনীতি

জাতীয়তাবাদী পেশাজীবী দলের আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক ফরিদগঞ্জের সাখাওয়াত

ফরিদগঞ্জ টাইমস ডেস্ক : বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী পেশাজীবী দলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক পদে মনোনীত হয়েছেন চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জের কৃতী সন্তান ও আমেরিকা প্রবাসী মোহাম্মদ সাখাওয়াত হোসেন। সম্প্রতি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী পেশাজীবী দলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সভাপতি আরিফুল ইসলাম জিয়া ও সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ শহিদুল ইসলাম রাসেল স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে তাকে আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক পদে মনোনীত করার বিষয়টি জানানো হয়। চিঠিতে বলা হয়, সংগঠনের সাংগঠনিক গতিশীলতা, ত্যাগ ও নেতৃত্বের প্রতি আস্থা বিবেচনায় নিয়ে কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী মোহাম্মদ সাখাওয়াত হোসেনকে সর্বসম্মতিক্রমে আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক পদে মনোনীত করা হয়েছে। নেতৃবৃন্দ আশা প্রকাশ করেন, তার সুদীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা, নিষ্ঠা ও বলিষ্ঠ নেতৃত্বের মাধ্যমে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী পেশাজীবী দলের সাংগঠনিক ভিত্তি আরও শক্তিশালী ও সুসংগঠিত হবে। পাশাপাশি কেন্দ্রের নির্দেশনা মেনে এবং নেতাকর্মীদের সঙ্গে সমন্বয় করে দলের আদর্শ ও উদ্দেশ্য বাস্তবায়নে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবেন। নতুন দায়িত্ব পাওয়ায় তার সুস্বাস্থ্য, দীর্ঘায়ু ও উত্তরোত্তর সাফল্য কামনা করা হয়েছে চিঠিতে। মোহাম্মদ সাখাওয়াত হোসেন বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের নিউ জার্সি স্টেট (সাউথ) বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। দীর্ঘদিন ধরে প্রবাসে থেকে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত থেকে সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডে ভূমিকা রেখে আসছেন তিনি। সাখাওয়াত হোসেন চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জ উপজেলার গোবিন্দপুর দক্ষিণ ইউনিয়নের চরভাগল গ্রামের কৃতী সন্তান। নতুন দায়িত্ব পাওয়ার খবরে তার নিজ এলাকা ও রাজনৈতিক অঙ্গনের নেতাকর্মীদের মধ্যে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন অনেকে।

আজকের সংবাদ, জাতীয়

দুর্গাপূজায় ২০–২২ অক্টোবর ছুটি, ১৭ অক্টোবর খোলা

ফরিদগঞ্জ টাইমস ডেস্ক : আসন্ন শারদীয় দুর্গাপূজা ২০২৬ উপলক্ষে সরকারি ছুটির তারিখ পুনঃনির্ধারণের প্রস্তাব অনুমোদন করেছে মন্ত্রিসভা। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, দুর্গাপূজা উপলক্ষে আগামী ২০ থেকে ২২ অক্টোবর পর্যন্ত সরকারি ছুটি থাকবে। এর পরিবর্তে ১৭ অক্টোবর শনিবার সরকারি অফিস খোলা থাকবে। সোমবার (৫ অক্টোবর) অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। মন্ত্রিসভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, দুর্গাপূজার ছুটি পুনঃনির্ধারণ করে ২০, ২১ ও ২২ অক্টোবর সরকারি ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। একই সঙ্গে ১৭ অক্টোবরকে কর্মদিবস হিসেবে নির্ধারণ করা হয়েছে। এদিকে, প্রতি বছর ৭ নভেম্বর ‘জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস’ উপলক্ষে সাধারণ ছুটি ঘোষণার সিদ্ধান্ত নিয়েছে মন্ত্রিসভা। এ ছাড়া মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের জাতীয় ও আন্তর্জাতিক দিবস উদ্‌যাপনসংক্রান্ত পরিপত্রে ৭ নভেম্বরকে ‘ক’ শ্রেণিভুক্ত দিবস হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করে যথাযথভাবে পালনের সিদ্ধান্তও নেওয়া হয়েছে। 

আজকের সংবাদ, ফরিদগঞ্জ

বিশ্ব শিক্ষক দিবসে ফরিদগঞ্জে আনন্দ র‍্যালি ও আলোচনা সভা

ফরিদগঞ্জ টাইমস ডেস্ক :  ‘শিক্ষকদের পাশে দাঁড়ানো: পেশার সুরক্ষা, মর্যাদা বৃদ্ধি এবং আমাদের ভবিষ্যৎ গড়ার ৬০ বছর’—এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে বিশ্ব শিক্ষক দিবস-২০২৬ উপলক্ষে চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জে আনন্দ র‍্যালি ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সোমবার (৫ অক্টোবর) সকাল ১১টায় ফরিদগঞ্জ উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে এ আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। এর আগে বিশ্ব শিক্ষক দিবস উপলক্ষে উপজেলা পরিষদ প্রাঙ্গণ থেকে একটি আনন্দ র‍্যালি বের করা হয়। র‍্যালিতে উপজেলা প্রশাসন এবং বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষকরা অংশ নেন। পরে উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন ফরিদগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মো. মেহেদী হাসান মানিক। সভা সঞ্চালনা করেন উপজেলা একাডেমিক সুপারভাইজার আব্দুল্লাহ আল মামুন। অনুষ্ঠানে ফরিদগঞ্জ উপজেলা সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার, পৌরসভার বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি প্রাথমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয় এবং মাদ্রাসার প্রধান শিক্ষক ও সুপারসহ সহকারী শিক্ষকরা উপস্থিত ছিলেন। আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, একটি জাতির শিক্ষা ও উন্নয়নের মূল চালিকাশক্তি হলেন শিক্ষকরা। শিক্ষার্থীদের জ্ঞানার্জনের পাশাপাশি নৈতিকতা, মানবিক মূল্যবোধ ও দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ করতে শিক্ষকদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। পরিবর্তনশীল বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে শিক্ষার মানোন্নয়ন ও দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তুলতে শিক্ষকদের আরও কার্যকর ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান বক্তারা। বক্তারা আরও বলেন, শিক্ষকদের মর্যাদা, অধিকার ও পেশাগত উন্নয়ন নিশ্চিত করার পাশাপাশি শিক্ষার পরিবেশকে আরও আধুনিক ও যুগোপযোগী করতে সংশ্লিষ্ট সবাইকে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে। বিশ্ব শিক্ষক দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে উপজেলার বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষকরা অংশগ্রহণ করেন।

আজকের সংবাদ, চাঁদপুর, ফরিদগঞ্জ, ফিচার

অদম্য হাফছা আক্তার: হুইলচেয়ার থেকে জাতীয় শিক্ষক সম্মাননার মঞ্চে

নাসির উদ্দিন পাঠান : শারীরিক প্রতিবন্ধকতা তাঁকে থামাতে পারেনি। জীবনের শুরুতেই নেমে আসা কঠিন বাস্তবতা, পথের প্রতিবন্ধকতা, সামাজিক কুসংস্কার আর নানা অপবাদকে পেছনে ফেলে অদম্য মনোবল ও অধ্যবসায়ের মাধ্যমে এগিয়ে চলেছেন চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জ উপজেলার হাফছা আক্তার। শিক্ষকতা, খেলাধুলা, নারী উদ্যোক্তা হিসেবে সাফল্য এবং পরিবার সামলানোর পাশাপাশি এবার তিনি অর্জন করতে যাচ্ছেন জাতীয় পর্যায়ের আরেকটি বড় স্বীকৃতি। বিশ্ব শিক্ষক দিবস ২০২৬ উপলক্ষে জাতীয়ভাবে নির্বাচিত গুণী শিক্ষকদের মধ্যে বিশেষ গুণী শিক্ষক হিসেবে সম্মাননা পেতে যাচ্ছেন শারীরিক প্রতিবন্ধী শিক্ষক হাফছা আক্তার। জাতীয় পর্যায়ের এই সম্মাননার অংশ হিসেবে নির্বাচিত শিক্ষকদের প্রত্যেককে ২ লাখ টাকা, ক্রেস্ট ও সনদপত্র দেওয়ার কথা রয়েছে। জাতীয় স্টিয়ারিং কমিটি ইতোমধ্যে ৯৫ জন গুণী শিক্ষককে চূড়ান্ত করেছে। তাঁদের মধ্যে হাফছা আক্তার একজন। হাফছা আক্তারের এই দীর্ঘ পথচলায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে বাংলাদেশ প্রতিবন্ধী কল্যাণ সমিতি (বিপিকেএস)-এর। প্রতিষ্ঠানটির স্থানীয়ভাবে নিবন্ধিত স্ব-সংগঠন ‘চাঁদপুর ডিজএ্যাবল্ড পিপলস্ অর্গানাইজেশন টু ডেভেলপমেন্ট’ (চাঁদপুর-ডিপিওডি), ফরিদগঞ্জ, চাঁদপুর তাঁর এগিয়ে চলার ক্ষেত্রে সহযোগিতা ও অনুপ্রেরণা জুগিয়েছে। দুই বছর বয়সেই বদলে যায় জীবন: হাফছা আক্তার ১৯৮৩ সালের ৩ জানুয়ারি চাঁদপুর জেলার ফরিদগঞ্জ উপজেলার শোভান গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। দুই ছেলের পর প্রথম মেয়ে হিসেবে তাঁর জন্মে পরিবারে নেমে এসেছিল আনন্দের বন্যা। জন্মের পর প্রায় দুই বছর স্বাভাবিকভাবেই বেড়ে উঠছিলেন তিনি। কিন্তু দুই বছর বয়সে হঠাৎ জ্বর ও পাতলা পায়খানায় আক্রান্ত হন হাফছা। অসুস্থতার পর আর আগের মতো হাঁটাচলা করতে পারেননি। ধীরে ধীরে কোমরের নিচের অংশ অকার্যকর হয়ে পড়ে। পরিবারের আর্থিক অসচ্ছলতা থাকলেও তাঁর চিকিৎসায় কোনো ত্রুটি রাখা হয়নি। শারীরিক প্রতিবন্ধকতা সত্ত্বেও তাঁকে বাড়ির পাশের শোভান সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভর্তি করানো হয়। বিদ্যালয়ে যাতায়াতের পথে প্রায়ই পড়ে যেতেন তিনি। তবুও থেমে থাকেননি। এভাবেই পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত পড়াশোনা শেষ করেন। তিন কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে উচ্চবিদ্যালয়ে: প্রাথমিক শিক্ষা শেষে প্রায় তিন কিলোমিটার দূরের প্রত্যাশী আর এ উচ্চ বিদ্যালয়ে ভর্তি হন হাফছা। তাঁর শারীরিক অবস্থা দেখে শুরুতে বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা চিন্তিত হয়ে পড়েছিলেন। কিন্তু তাঁর অধ্যবসায়, সাহস ও অদম্য মনোবল খুব দ্রুত শিক্ষক ও সহপাঠীদের মনোভাব বদলে দেয়। সবার সহযোগিতা ও অনুপ্রেরণায় তিনি দৃঢ়তার সঙ্গে পড়াশোনা চালিয়ে যান। ১৯৯৯ সালে এসএসসি পরীক্ষায় প্রথম বিভাগে উত্তীর্ণ হন। নিজের পড়াশোনার খরচ জোগাতে তখন থেকেই ছাত্রছাত্রী পড়ানো শুরু করেন তিনি। এরপর ভর্তি হন ফরক্কাবাদ ডিগ্রি কলেজে। বাড়ি থেকে কলেজের দূরত্ব ছিল প্রায় ছয় কিলোমিটার। ২০০১ সালে দ্বিতীয় বিভাগে এইচএসসি পাস করেন। এরপর ভর্তি হন ফরিদগঞ্জ ডিগ্রি কলেজে। এবার বাড়ি থেকে কলেজের দূরত্ব প্রায় ১২ কিলোমিটার। দীর্ঘ এই পথ কখনো পায়ে হেঁটে, কখনো ট্রাক্সি বা টেম্পুতে করে পাড়ি দিতে হয়েছে তাঁকে। শারীরিক প্রতিবন্ধকতা এবং দীর্ঘ যাত্রার কষ্টও তাঁর শিক্ষার পথে বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারেনি। ২০০৫ সালে বি.এস.এস পরীক্ষায় অংশ নিয়ে দ্বিতীয় বিভাগে উত্তীর্ণ হন তিনি। জাপানে বিশ্বজয়: হাফছা আক্তারের জীবনের সবচেয়ে উজ্জ্বল অধ্যায়গুলোর একটি ২০০৫ সাল। ওই বছর জাপানের নাগোয়া সিটিতে অনুষ্ঠিত হ্যান্ডি ম্যারাথন বা হুইলচেয়ার দৌড় প্রতিযোগিতায় অংশ নেন তিনি। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ২৫১ জন প্রতিযোগীকে পেছনে ফেলে প্রতিযোগিতায় চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করেন হাফছা। শারীরিক প্রতিবন্ধকতাকে শক্তিতে পরিণত করে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের পতাকাকে তুলে ধরেন তিনি। তাঁর এই সাফল্য প্রমাণ করে—সুযোগ পেলে শারীরিক প্রতিবন্ধী ব্যক্তিরাও বিশ্বমঞ্চে নিজেদের যোগ্যতার স্বাক্ষর রাখতে পারেন। শিক্ষকতার মাধ্যমে নতুন স্বপ্ন: ২০০৬ সালে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষক হিসেবে যোগদান করেন হাফছা আক্তার। কর্মস্থল ছিল তাঁর বাড়ি থেকে প্রায় ১৫ কিলোমিটার দূরে। প্রতিদিন কিছুটা পথ পায়ে হেঁটে, এরপর বাস কিংবা অন্য যানবাহনে করে কর্মস্থলে যেতে হতো তাঁকে। শিক্ষকতা তাঁর কাছে শুধু একটি চাকরি নয়; এটি মানুষের জীবন বদলে দেওয়ার একটি মাধ্যম। নিজের জীবনের সংগ্রাম থেকেই তিনি বুঝেছেন শিক্ষার শক্তি কতটা গুরুত্বপূর্ণ। এর পাশাপাশি তিনি নারী উদ্যোক্তা হিসেবেও কাজ করেছেন। পরিবার সামলানোর পাশাপাশি নানা প্রতিকূলতার মধ্যেও নিজের পরিচয় গড়ে তুলেছেন। একজন শিক্ষক, নারী উদ্যোক্তা ও পরিবারের অভিভাবক হিসেবে বিভাগীয় পর্যায়ে জয়িতা পুরস্কার অর্জন করেছেন তিনি। বিয়ের পরও থামেনি সংগ্রাম: ২০০৭ সালে চাঁদপুর সদর উপজেলার সকদি গ্রামের মো. নাছির উদ্দিনের সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন হাফছা। তাঁদের দুই সন্তান—এক ছেলে ও এক মেয়ে। শারীরিক প্রতিবন্ধী হওয়ার কারণে বিয়ের পরও তাঁকে নানা অপবাদ, কুসংস্কার ও সামাজিক প্রতিকূলতার মুখোমুখি হতে হয়েছে। কিন্তু কোনোকিছুই তাঁর আত্মবিশ্বাসকে ভেঙে দিতে পারেনি। বরং প্রতিটি বাধাকে অতিক্রম করে আরও দৃঢ়তার সঙ্গে এগিয়ে গেছেন তিনি। সংসার, সন্তান, চাকরি ও সামাজিক দায়িত্ব—সবকিছুর পাশাপাশি নিজের স্বপ্নকে বাঁচিয়ে রেখেছেন হাফছা। ‘দয়া নয়, সুযোগ চাই’: নিজের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কে হাফছা আক্তার বলেন, চাকরির পাশাপাশি তিনি উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করতে চান। তাঁর সবচেয়ে বড় লক্ষ্য, তাঁর মতো সমাজে অবহেলিত, ভাগ্যবঞ্চিত ও প্রতিবন্ধী মানুষদের শিক্ষার মাধ্যমে উন্নয়নের মূল স্রোতধারায় নিয়ে আসা। তিনি বলেন, ব্যক্তি ও পরিবারের উন্নয়নের পাশাপাশি সমাজ ও রাষ্ট্রের উন্নয়নে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিরাও গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে পারেন। এজন্য সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর সহযোগিতা প্রয়োজন। হাফছা আক্তারের বক্তব্যে উঠে আসে আত্মমর্যাদার দৃঢ় প্রত্যয়—প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের করুণা নয়, প্রয়োজন সুযোগ। তিনি বলেন, ”দেশ আমাকে অনেক কিছু দিয়েছে। এবার দেশের উন্নয়নে আমি কিছু করতে চাই। জানি না কী করতে পারব, তবে চেষ্টা করে যাব। প্রতিবন্ধীদের কেউ দয়ার চোখে না দেখে তাদের সমাজের মূল স্রোতধারায় আসার সুযোগ দিন। দেখবেন, তারা একদিন এ দেশকে অনেক কিছু দেবে।” অনুপ্রেরণার নাম হাফছা: হাফছা আক্তারের জীবন যেন একটি দীর্ঘ সংগ্রামের গল্প—যেখানে শারীরিক সীমাবদ্ধতা বারবার সামনে এসেছে, কিন্তু প্রতিবারই তা অতিক্রম করেছেন তিনি। দুই বছর বয়সে হাঁটার সক্ষমতা হারানো সেই শিশুটি একদিন হুইলচেয়ারে বসেই জাপানের মাটিতে বিশ্বজয় করেছেন। দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে উচ্চশিক্ষা অর্জন করেছেন, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক হয়েছেন, সংসার ও সন্তান সামলেছেন, নারী উদ্যোক্তা হিসেবে নিজের পরিচয় তৈরি করেছেন এবং জয়িতা পুরস্কার পেয়েছেন। এবার জাতীয় শিক্ষক দিবসের বিশেষ গুণী শিক্ষক সম্মাননার জন্য নির্বাচিত হয়ে তাঁর সংগ্রামী জীবনের মুকুটে যুক্ত হতে যাচ্ছে আরেকটি গৌরবের পালক। হাফছা আক্তারের গল্প শুধু একজন প্রতিবন্ধী শিক্ষকের সাফল্যের গল্প নয়; এটি বাংলাদেশের প্রতিটি প্রতিবন্ধী মানুষের জন্য একটি বার্তা—সুযোগ পেলে শারীরিক সীমাবদ্ধতা নয়, মানুষের যোগ্যতাই হয়ে উঠতে পারে তার সবচেয়ে বড় পরিচয়।

আজকের সংবাদ, ফরিদগঞ্জ, শিক্ষা ও সাহিত্য

৫৬ বছর পর ফরিদগঞ্জ সরকারি ডিগ্রি কলেজে শিক্ষার্থীদের উদ্যোগে শিক্ষক দিবস উদযাপন 

মো. ইয়াছিন পালোয়ান :  প্রতিষ্ঠার ৫৬ বছর পর এবারই প্রথম শিক্ষার্থীদের উদ্যোগে বিশ্ব শিক্ষক দিবস উদযাপন করা হয়েছে। চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জ সরকারি ডিগ্রি কলেজে সোমবার (৫ অক্টোবর) কলেজের হলরুমে ২০২৫ ও ২০২৬ শিক্ষাবর্ষের উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষার্থীদের উদ্যোগে আয়োজিত হয় বিশেষ এ অনুষ্ঠান। ১৯৭০ সালে প্রতিষ্ঠিত এই কলেজে প্রথমবারের মতো শিক্ষক দিবস পালনের আয়োজন করে শিক্ষকদের প্রতি শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতা জানান শিক্ষার্থীরা। একই সঙ্গে শিক্ষার্থীদের জীবন গঠনে শিক্ষকের ভূমিকা ও শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের আন্তরিক সম্পর্কের বিষয়গুলোও উঠে আসে এই অনুষ্ঠানে। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর শাহ মুহাম্মদ মাসুম বিল্লাহ। প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, কলেজ প্রতিষ্ঠার পর এই প্রথম শিক্ষার্থীদের উদ্যোগে বিশ্ব শিক্ষক দিবস উদযাপন হচ্ছে। এটি সত্যিই আনন্দ ও গর্বের বিষয়। শিক্ষার্থীদের এমন উদ্যোগ শিক্ষকদের প্রতি তাদের শ্রদ্ধা ও ভালোবাসার বহিঃপ্রকাশ। ভবিষ্যতেও এ ধরনের সুন্দর আয়োজন অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান তিনি। কলেজের শিক্ষক পরিষদের সম্পাদক ও অর্থনীতি বিভাগের প্রভাষক মো. নাছির উদ্দীনের সভাপতিত্বে এবং উচ্চ মাধ্যমিক দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী মুনতাহা আলম মিমের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন ইসলাম শিক্ষা বিভাগের প্রভাষক শরীফ মো. আব্দুল কুদ্দুস, সমাজকর্ম বিভাগের প্রভাষক সামিয়া আফরোজ, মো. আনিছুর রহমান মজুমদার, রসায়ন বিজ্ঞান বিভাগের প্রভাষক নিঝুম সাহা, আইসিটি বিভাগের প্রভাষক মো. মোবারক করিম খান, হিসাববিজ্ঞান বিভাগের প্রভাষক মো. আব্দুল হান্নান শেখ, ইংরেজি বিভাগের প্রভাষক মো. আকরাম হোসাইন, বাংলা বিভাগের প্রভাষক রায়হানুল ইসলাম সৈকত প্রমুখ।  অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন কলেজের ভূগোল বিভাগের প্রভাষক শাহিনা আক্তার, রাশেদ আহমেদ মুরাদ, সমাজকর্ম বিভাগের প্রভাষক রোমানা সুলতানা, হিসাববিজ্ঞান বিভাগের প্রভাষক শারমিন আক্তার, ব্যবস্থাপনা বিভাগের প্রভাষক ফাহিমা সুলতানা, ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের প্রভাষক মো. রেদোয়ান হোসাইন-সহ অন্যান্য শিক্ষক-শিক্ষিকা ও শিক্ষার্থীরা।  অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থীরা কলেজের সকল শিক্ষক-শিক্ষিকার হাতে ফুল ও সম্মাননা ক্রেস্ট তুলে দিয়ে শিক্ষক দিবসের শুভেচ্ছা জানান। পরে কেক কাটার মধ্য দিয়ে উদযাপন করা হয় বিশ্ব শিক্ষক দিবস। কলেজের উচ্চ মাধ্যমিক দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থীদের মধ্যে আয়োজনে নেতৃত্ব দেন মো. শাকিল, মো. জিহাদ তফদার, মো. আল-আমিন ভুঁইয়া, মো. ফয়সাল আহমেদ, মো. ইয়াফি, মো. রবিউল, তাসমিয়া আক্তার নাফিসা, নুরসাত জাহান অরিন, মারিয়া আক্তার রিফা, রাফিজা ইসলাম, সৈয়দা আফসার জাহান, রুপালী আক্তার ও মারিয়া আক্তার-সহ আরও অনেকে।  শিক্ষার্থীদের উদ্যোগে ৫৬ বছরের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো এমন আয়োজন কলেজের শিক্ষক-শিক্ষার্থী সম্পর্কের ক্ষেত্রে একটি স্মরণীয় দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

আজকের সংবাদ, চাঁদপুর, সর্বশেষ

হাইমচরে গাঁজাসহ এক মাদক কারবারি গ্রেফতার

মো. আক্তার হোসেন, হাইমচর :  চাঁদপুরের হাইমচর উপজেলায় ১৫ গ্রাম গাঁজাসহ নূরু রাঢ়ী (২৮) নামের এক মাদক কারবারিকে গ্রেফতার করেছে হাইমচর থানা পুলিশ। ​গত শনিবার (৪ অক্টোবর) রাতে উপজেলার দক্ষিণ আলগী ইউনিয়নের বর্ডার পুল বাজার থেকে গণ্ডামারাগামী সড়কের নূরের হোটেলের সামনে থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। ​গ্রেফতারকৃত নূরু রাঢ়ী হাইমচর উপজেলার ৫নং ওয়ার্ডের গণ্ডামারা (রাঢ়ী বাড়ি) এলাকার হাতেম রাঢ়ী ও ছকিনা বেগম দম্পতির ছেলে। ​পুলিশ সূত্রে জানা যায়, হাইমচর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ শাহ্ আলম, পিপিএম-সেবা-র সার্বিক দিকনির্দেশনায় থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই/নিঃ) সৌরভ দাশ সঙ্গীয় ফোর্সসহ ওই এলাকায় বিশেষ অভিযান পরিচালনা করেন। এসময় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে নূরু রাঢ়ীকে আটক করা হয়। পরে তার দেহতল্লাশি করে ১৫ গ্রাম গাঁজা উদ্ধার করা হয়। ​এ ঘটনায় হাইমচর থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে একটি নিয়মিত মামলা (এফআইআর নং-০১, তাং- ০৪/১০/২০২৬ খ্রিঃ; জি আর নং-২৬৩) রুজু করা হয়েছে। ​রোববার (৫ অক্টোবর) সকালে আইনি প্রক্রিয়া শেষে ধৃত আসামীকে যথাযথ পুলিশ প্রহরায় বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

আজকের সংবাদ, জনদুর্ভোগ, প্রধান সংবাদ, ফরিদগঞ্জ

২১ বছরেও হয়নি পৌর ভবন, ২০ লাখ টাকার বরাদ্দও হারাল ফরিদগঞ্জ

নুরুল ইসলাম ফরহাদ : নিজস্ব ভবন না থাকায় ফরিদগঞ্জ পৌরসভা ২০ লক্ষ টাকার বিশেষ বরাদ্দ থেকে বঞ্চিত হয়েছে। স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়, স্থানীয় সরকার বিভাগ, পৌর-২ শাখার অধীনে চলতি ২০২৬–২৭ অর্থ বছরের উন্নয়ন বাজেটে পৌরসভাসমূহের জন্য ‘বিশেষ বরাদ্দ’ উপখাতে বরাদ্দকৃত অর্থ অবমুক্তকরণ করা হয়েছে। ২৯৩টি পৌরসভার মধ্যে ৫১টি পৌরসভা পাচ্ছে ৩০ লক্ষ টাকা করে। বাকী পৌরসভাগুলো পাবে ২০ লক্ষ টাকা করে।  কিন্তু দুর্ভাগ্য ফরিদগঞ্জ পৌরসভা তথা পৌরবাসীর। একটি ভবনের অভাবে ২০ লক্ষ টাকার মতো অনেক কিছুই হারাতে হতে পারে। ২০০৫ সালে ফরিদগঞ্জ পৌরসভার কার্যক্রম শুরু। ২১ বছরের মাথায়ও ভবন তো দূরের কথা, ভবন করার জন্য এক টুকরো জমিও ক্রয় করতে পারেনি কর্তৃপক্ষ। অথচ এই পৌরসভা জনপ্রতিনিধিও পেয়েছে, প্রশাসকও (সরকারি আমলা) পেয়েছে। কিন্তু কেউই ভূমি ক্রয় করতে পারেননি। পর্যায়ক্রমে ফরিদগঞ্জ পৌরসভা ‘ক’ শ্রেণীতে উন্নীত হলেও নিজেদের একটি ভবন করতে পারেনি। ২০০৫ সালের আগে এটা ছিল ১৩নং ফরিদগঞ্জ উত্তর ইউনিয়ন পরিষদ। পৌরসভার তথ্যমতে ডাকবাংলোর কাছে ইউনিয়ন পরিষদের প্রায় ৪ শতাংশ ভূমি রয়েছে। সে ভূমির ফয়সালা কী হবে তা জানতে চায় পৌরবাসী। অর্থ বিভাগের ৩০ আগস্ট ২০০০ খ্রি. তারিখের অম/অবি/উ.১/বিবিধ- ৪৬/৯৭/৪৬৯ নম্বর স্মারকের মাধ্যমে প্রশাসনিক মন্ত্রণালয়/বিভাগকে প্রদত্ত ক্ষমতাবলে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বার্ষিক উন্নয়ন বাজেটের ‘পৌরসভা উন্নয়ন সহায়তা’ খাতের অধীন ‘বিশেষ বরাদ্দ’ উপখাত হতে স্থানীয় সরকার বিভাগের আওতাধীন পৌরসভাসমূহের পৌর ভবন ও পৌরসভার আওতাধীন অন্যান্য ভবন, অডিটরিয়াম, ডাকবাংলো, হাটবাজার ও মার্কেটসমূহে ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা স্থাপন ও জাতীয় গ্রিডে সরবরাহকরণের লক্ষ্যে সোলার প্যানেল স্থাপনের প্রকল্প গ্রহণের জন্য নির্দেশক্রমে পৌরসভাসমূহের অনুকূলে ৩০ লক্ষ এবং ২০ লক্ষ অর্থ অবমুক্তির সরকারি মঞ্জুরী জ্ঞাপন করা হয়েছে। উপসচিব আশফিকুন নাহার-এর স্বাক্ষরযুক্ত এ সংক্রান্ত একটি চিঠি গত ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে চিফ একাউন্টস এন্ড ফিন্যান্স অফিসার বরাবর পাঠানো হয়। অনুলিপি হিসেবে ৯টি দপ্তরেও পাঠানো হয়েছে। এরমধ্যে প্রশাসক (সংশ্লিষ্ট পৌরসভা), জেলা ও উপজেলা হিসাব রক্ষণ কর্মকর্তাগণও আছে। ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা স্থাপন করতে পারলে স্থানীয় চাহিদা (বিদ্যুতের) মিটানো যেত। ফরিদগঞ্জ পৌরভবনের বিদ্যুতের চাহিদাও পূরণ হতো।  এ বিষয়ে ফরিদগঞ্জ পৌর প্রশাসক মেহেদী হাসান মানিক বলেন, “ফরিদগঞ্জ পৌরসভার ভবন নেই তাই আমরা এই বরাদ্দ পাইনি। যেসব পৌরসভার ভবন রয়েছে তারা এই বরাদ্দ পেয়েছে।” বাংলাদেশের মোট ২৯৩টি পৌরসভাকে এই অর্থ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। কিন্তু সে তালিকায় ফরিদগঞ্জ পৌরসভা নেই! ২১ বছরেও পৌরসভার ভূমি অধিগ্রহণ হয়নি, এর দায় কি সাবেক মেয়র ও প্রশাসকরা এড়াতে পারবেন? ২০২৭ সালের নির্বাচনে সাবেক মেয়রগণ হয়তোবা আবারও প্রার্থী হতে পারেন; জনগণের সামনে গিয়ে তারা কী জবাব দেবেন এসবের? প্রস্তুত আছেন তো?

Scroll to Top