নিজস্ব সংবাদদাতা :
চাঁদপুরে এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় জিপিএ-৫ (এ+) প্রাপ্ত কৃতি শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা দিয়েছে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির চাঁদপুর জেলা শাখা। মেধাবী শিক্ষার্থীদের উৎসাহিত করা এবং তাদের নৈতিক ও মানবিক মূল্যবোধে গড়ে তোলার লক্ষ্যে এ সংবর্ধনার আয়োজন করা হয়।
হাজীগঞ্জের একটি অভিজাত কমিউনিটি সেন্টারে আয়োজিত অনুষ্ঠানে জেলার বিভিন্ন এলাকার প্রায় ২০০ জন জিপিএ-৫ প্রাপ্ত শিক্ষার্থীকে সম্মাননা প্রদান করা হয়।
চাঁদপুর জেলা ছাত্রশিবিরের সভাপতি মো. হাসানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান বক্তা ছিলেন আইনবিদ ও সমাজচিন্তক ব্যারিস্টার আল-মামুন রাসেল। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন রাজশাহী মহানগর ছাত্রশিবিরের সভাপতি ইমরান নাজির।
প্রধান বক্তার বক্তব্যে ব্যারিস্টার আল-মামুন রাসেল চাঁদপুরের বিভিন্ন উপজেলার নামকরণ ও ঐতিহাসিক তাৎপর্য শিক্ষার্থীদের সামনে তুলে ধরেন। পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের নৈতিকতা, আত্মনিয়ন্ত্রণ ও চরিত্র গঠনের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
তিনি বলেন, “বাইরের প্রতিরক্ষা যতই মজবুত হোক না কেন, ভেতরের সততা ও নৈতিক সচেতনতা না থাকলে যেকোনো সময় পতন ঘটতে পারে।”
শিক্ষার্থীদের পিতা-মাতার প্রতি শ্রদ্ধাশীল হওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি চাঁদ ও সূর্যের সঙ্গে মা-বাবার তুলনা করেন। বক্তব্যের শেষে উপস্থিত শিক্ষার্থীদের নিয়ে ব্যতিক্রমী শপথ বাক্য পাঠ করান—“যে মুখে ডাকি মা, সে মুখে মাদক না।”
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে ইমরান নাজির বলেন, “ছাত্রশিবিরের মূল ভিশন হলো আগামী দিনের নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য সৎ, দক্ষ ও যোগ্য নাগরিক গড়ে তোলা।”
অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা আবুল হোসেন, চাঁদপুর জেলা জামায়াতের নেতা মাওলানা বিল্লাল হোসেন মিয়াজী, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ সাইফুল ইসলাম এবং কেন্দ্রীয় ছাত্রকল্যাণ সম্পাদক রেজাউল করিম শাকিল।
বক্তারা শিক্ষার্থীদের জীবনে পিতা-মাতার অবদানের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে বলেন, ভালো ফলাফল অর্জনের পাশাপাশি নৈতিকতা, দেশপ্রেম ও মানবিক মূল্যবোধে নিজেদের গড়ে তুলতে হবে। ভবিষ্যতে দেশ ও সমাজের কল্যাণে কাজ করার জন্য শিক্ষার্থীদের প্রস্তুত হওয়ার আহ্বান জানান তারা।
আয়োজকরা জানান, চাঁদপুর সদর উপজেলার জিপিএ-৫ প্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের জন্য পৃথক পর্বে সংবর্ধনার আয়োজন করা হয়েছে। মেধাবী শিক্ষার্থীদের উৎসাহিত করার পাশাপাশি তাদের সঠিক দিকনির্দেশনা ও নৈতিক মূল্যবোধে গড়ে তোলার লক্ষ্যেই ছাত্রশিবিরের পক্ষ থেকে ধারাবাহিকভাবে এ ধরনের আয়োজন করা হচ্ছে।
