তারেক রহমান তারু :
চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জ পৌরসভার ৩নং ওয়ার্ডের পূর্ব মিরপুর এলাকায় একমাত্র জুমার মসজিদ ছৈয়াল বাড়ি জামে মসজিদের নির্মাণ কাজ অর্থের অভাবে থমকে আছে। মসজিদটির নির্মাণ কাজ দ্রুত এগিয়ে নিতে সামর্থ্যবান ও হৃদয়বান মানুষের সহযোগিতা কামনা করেছেন এলাকাবাসী।
পূর্ব মিরপুরের বিস্তীর্ণ এলাকার মানুষের জুমার নামাজ আদায়ের একমাত্র প্রধান স্থান এই ছৈয়াল বাড়ি জামে মসজিদ। প্রতি শুক্রবার বিপুলসংখ্যক মুসল্লির সমাগম হওয়ায় মসজিদের ভেতরে জায়গা সংকুলান হয় না। ফলে অনেক মুসল্লিকে মসজিদের বাইরে দাঁড়িয়ে নামাজ আদায় করতে হয়।
মুসল্লিদের এই দুর্ভোগের কথা বিবেচনা করে এলাকাবাসীর উদ্যোগে পুরোনো মসজিদটি পুনর্নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়। নতুন ভবনে মসজিদের পাশাপাশি ইসলামিক শিক্ষার প্রসারে একটি মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনাও রয়েছে। সেই লক্ষ্যেই নির্মাণ কাজ শুরু করা হয়।
তবে নির্মাণ কাজ শুরু হওয়ার পর প্রত্যাশিত অর্থসংগ্রহ না হওয়ায় বর্তমানে কাজ প্রায় বন্ধ হওয়ার পথে। এতে মসজিদটির নির্মাণ কাজ নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে।
এলাকাবাসীর পক্ষে মসজিদ কমিটির সাধারণ সম্পাদক তাজুল ইসলাম বলেন, “মসজিদটি নির্মাণে প্রায় ৩ কোটি টাকা প্রয়োজন। আমরা অনেকের কাছ থেকে অনুদানের আশা করেছিলাম। কেউ কেউ সহযোগিতার প্রতিশ্রুতিও দিয়েছিলেন। কিন্তু নির্মাণ কাজ শুরু হওয়ার পর প্রত্যাশিত সাড়া পাওয়া যায়নি। ফলে অর্থের অভাবে নির্মাণ কাজ থমকে আছে।”
মসজিদ নির্মাণের দায়িত্বে থাকা ঠিকাদার জানান, মসজিদ কমিটির কাছে তার এখনো প্রায় ৩ থেকে ৪ লাখ টাকা পাওনা রয়েছে। এরপরও আল্লাহর ঘরের কাজ মনে করে তিনি টাকা না পেয়েও নির্মাণ কাজ চালিয়ে গেছেন। সামর্থ্যবান ব্যক্তিরা সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিলে মসজিদটির নির্মাণ কাজ পুনরায় গতিশীল হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
এলাকাবাসী জানান, পূর্ব মিরপুরের বিপুলসংখ্যক মানুষের নামাজ আদায়ের সুবিধার পাশাপাশি নতুন মসজিদ ভবনে ইসলামিক শিক্ষার ব্যবস্থাও করা হবে। তাই এটি শুধু একটি মসজিদ নির্মাণ নয়, বরং এলাকার ধর্মীয় ও সামাজিক উন্নয়নের একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ।
এ অবস্থায় ছৈয়াল বাড়ি জামে মসজিদের নির্মাণ কাজ সম্পন্ন করতে দেশ-বিদেশের সামর্থ্যবান ও হৃদয়বান মানুষের সহযোগিতা কামনা করেছেন এলাকাবাসী। তাদের প্রত্যাশা, সম্মিলিত সহযোগিতায় দ্রুত মসজিদটির নির্মাণ কাজ শেষ হবে এবং মুসল্লিদের দীর্ঘদিনের স্থান সংকটের অবসান ঘটবে।
