নিজস্ব প্রতিবেদক :
চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জে উপজেলা পর্যায়ে জাতীয় শিশু-কিশোর ইসলামী সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা ও সনদ বিতরণ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) সকাল থেকে শুরু হয়ে দুপুর পর্যন্ত চলে এ প্রতিযোগিতা ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠান।
প্রতিযোগিতায় ক্বিরআত, কবিতা আবৃত্তি, রচনা, উপস্থিত বক্তৃতা, আযান, হামদ-না’ত ও ইসলামী জ্ঞানসহ মোট ছয়টি ইভেন্টে দুটি গ্রুপে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা অংশগ্রহণ করে। প্রতিযোগিতা শেষে ৪২ জন বিজয়ীর হাতে সনদ তুলে দেওয়া হয়। বিজয়ীরা জেলা পর্যায়ের প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণের যোগ্যতা অর্জন করেছে। এতে উপজেলার প্রায় ২০টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থী অংশ নেয়।
সনদ বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকার কথা ছিল ফরিদগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মেহেদী হাসান মানিকের। তবে অসুস্থতার কারণে তিনি উপস্থিত থাকতে পারেননি। তাঁর প্রতিনিধি হিসেবে অনুষ্ঠানে উপস্থিত থেকে বিজয়ীদের হাতে সনদ তুলে দেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. আনিসুর রহমান।
উপজেলা ইসলামিক ফাউন্ডেশনের ফিল্ড সুপারভাইজার মো. আশিকুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. আনিসুর রহমান বলেন,
“একবার কোনো প্রতিযোগিতায় জয়ী হওয়ার পর অনেকেই নিজেকে আরও উন্নত করার চেষ্টা বন্ধ করে দেন। এতে তারা একটি নির্দিষ্ট গণ্ডির মধ্যে আটকে পড়েন। কিন্তু একটি প্রতিযোগিতায় বিজয়ী হওয়াই শেষ কথা নয়; বরং এটি সামনে এগিয়ে যাওয়ার নতুন অনুপ্রেরণা। নিজেদের মেধা ও দক্ষতা বিকাশে নিয়মিত চর্চা করতে হবে। জেলা পর্যায়ে অংশগ্রহণের মাধ্যমে নিজেদের যোগ্যতা আরও শাণিত করার সুযোগ রয়েছে। তাই বিজয়ীদের আত্মতুষ্টিতে না ভুগে আরও ভালো করার চেষ্টা চালিয়ে যেতে হবে। পাশাপাশি যারা এবার বিজয়ী হতে পারেনি, তাদেরও হতাশ না হয়ে আগামী দিনের জন্য প্রস্তুতি নিতে হবে।”
তিনি আরও বলেন, শিশু-কিশোরদের মধ্যে ইসলামী মূল্যবোধ, নৈতিকতা ও সাংস্কৃতিক চেতনা বিকাশে এ ধরনের প্রতিযোগিতা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। পড়াশোনার পাশাপাশি ধর্মীয় জ্ঞান ও সাংস্কৃতিক চর্চার মাধ্যমে নিজেদের যোগ্য নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে শিক্ষার্থীদের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা মডেল মসজিদের খতিব মাওলানা মাকসুদ আমিন, ইসলামিক ফাউন্ডেশন ফরিদগঞ্জ শাখার চারটি অঞ্চলের চারজন কেয়ারটেকারসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গ। প্রতিযোগিতার বিভিন্ন ইভেন্টে বিচারকের দায়িত্ব পালন করেন বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষকবৃন্দ।
