কেএম নজরুল ইসলাম :
চাঁদপুরে ২০২৬ সালের এসএসসি, দাখিল ও এসএসসি (ভোকেশনাল) পরীক্ষার ফলাফলে উপজেলাভেদে সাফল্যের চিত্রে বড় ধরনের পার্থক্য দেখা গেছে। সাধারণ এসএসসি পরীক্ষায় পাসের হারে জেলার শীর্ষে রয়েছে হাইমচর উপজেলা। আর জিপিএ-৫ অর্জনে সবচেয়ে এগিয়ে চাঁদপুর সদর।
অন্যদিকে দাখিল পরীক্ষায় পাসের হার ও জিপিএ-৫—দুই সূচকেই জেলার সেরা হাজীগঞ্জ উপজেলা। এসএসসি (ভোকেশনাল) পরীক্ষায় পাসের হারে শীর্ষে রয়েছে শাহরাস্তি, আর জিপিএ-৫ অর্জনে এগিয়ে হাজীগঞ্জ।
সোমবার বিকেলে জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মোহাম্মদ রুহুল্লাহ স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে চাঁদপুর জেলার এসএসসি, দাখিল ও এসএসসি (ভোকেশনাল) পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশ করা হয়।
জেলা শিক্ষা কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের সাধারণ এসএসসি পরীক্ষায় চাঁদপুরের ২৮৫টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে ২১ হাজার ৬৪৪ জন পরীক্ষার্থী অংশ নেয়। এর মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছে ১৩ হাজার ৭৯৭ জন। জেলায় গড় পাশের হার ৬৩ দশমিক ৭৫ শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছে ১ হাজার ৮৫ জন।
উপজেলাভিত্তিক ফলে পাশের হারে সবচেয়ে ভালো করেছে হাইমচর। উপজেলার ১৩টি প্রতিষ্ঠানের ৫৮৪ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছে ৪২৮ জন। পাসের হার ৭৩ দশমিক ২৯ শতাংশ।
তবে জিপিএ-৫ অর্জনে বড় ব্যবধানে এগিয়ে রয়েছে চাঁদপুর সদর। এ উপজেলার ৫০টি প্রতিষ্ঠান থেকে ৪ হাজার ৬০৬ জন পরীক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নেয়। উত্তীর্ণ হয়েছে ৩ হাজার ২৭৩ জন। পাশের হার ৭১ দশমিক ১৬ শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছে ৪৮১ জন।
এসএসসিতে পাশের হারে দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে মতলব দক্ষিণ উপজেলা—৬৭ দশমিক ৩৩ শতাংশ। এরপর ফরিদগঞ্জে ৬৫ দশমিক ৭৯ শতাংশ, হাজীগঞ্জে ৬৩ দশমিক ৫৭ শতাংশ, শাহরাস্তিতে ৫৯ দশমিক ৬৮ শতাংশ, মতলব উত্তরে ৫৮ দশমিক ৫১ শতাংশ এবং কচুয়ায় ৫৬ দশমিক ২৬ শতাংশ।
জিপিএ-৫ অর্জনে চাঁদপুর সদরের পর রয়েছে হাজীগঞ্জ। এ উপজেলায় ১৫৩ জন জিপিএ-৫ পেয়েছে। ফরিদগঞ্জে ১০৩ জন, মতলব দক্ষিণে ৯৮ জন, শাহরাস্তিতে ৯২ জন, কচুয়ায় ৮১ জন, মতলব উত্তরে ৪৬ জন এবং হাইমচরে ৩১ জন জিপিএ-৫ পেয়েছে।
মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের অধীনে দাখিল পরীক্ষায় চাঁদপুরের ২০১টি মাদ্রাসা থেকে ৭ হাজার ৩০০ জন পরীক্ষার্থী অংশ নেয়। উত্তীর্ণ হয়েছে ৪ হাজার ২০১ জন। জেলায় গড় পাশের হার ৫৭ দশমিক ৫৫ শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছে ৯২ জন।
দাখিল পরীক্ষায় পাশের হার ও জিপিএ-৫—দুই ক্ষেত্রেই জেলার শীর্ষে রয়েছে হাজীগঞ্জ। এ উপজেলায় ১ হাজার ১৫১ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছে ৭৫৭ জন। পাশের হার ৬৫ দশমিক ৭৭ শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছে ৩৪ জন।
পাশের হারে দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে কচুয়া। সেখানে পাশের হার ৬৪ দশমিক ৮৭ শতাংশ এবং জিপিএ-৫ পেয়েছে ১৬ জন।
তবে দাখিলে সবচেয়ে দুর্বল ফল করেছে মতলব উত্তর ও মতলব দক্ষিণ উপজেলা। মতলব উত্তরে পাশের হার মাত্র ৩৯ দশমিক ৬২ শতাংশ; কোনো শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ পায়নি। মতলব দক্ষিণে পাশের হার ৩৯ দশমিক ৭১ শতাংশ এবং জিপিএ-৫ পেয়েছে মাত্র চারজন।
এছাড়া চাঁদপুর সদরে দাখিলে পাশের হার ৫৬ দশমিক ৭৭ শতাংশ এবং জিপিএ-৫ পেয়েছে ১৯ জন। ফরিদগঞ্জে পাশের হার ৫৮ দশমিক ৮০ শতাংশ, জিপিএ-৫ পেয়েছে ১৩ জন। শাহরাস্তিতে পাশের হার ৫৬ দশমিক ৫০ শতাংশ, জিপিএ-৫ তিনজন এবং হাইমচরে পাশের হার ৫১ দশমিক ২৮ শতাংশ, জিপিএ-৫ পেয়েছে তিনজন।
কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে এসএসসি (ভোকেশনাল) পরীক্ষায় চাঁদপুরের ৩১টি প্রতিষ্ঠান থেকে ১ হাজার ৭২৪ জন পরীক্ষার্থী অংশ নেয়। উত্তীর্ণ হয়েছে ১ হাজার ১১৯ জন। জেলায় পাশের হার ৬৪ দশমিক ৯১ শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছে ৪৭ জন।
ভোকেশনালে পাশের হারে জেলার শীর্ষে রয়েছে শাহরাস্তি। এ উপজেলায় পাশের হার ৭৪ দশমিক ৬৩ শতাংশ। তবে জিপিএ-৫ অর্জনে সবচেয়ে এগিয়ে হাজীগঞ্জ—এ উপজেলায় ২১ জন শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ পেয়েছে।
এছাড়া ভোকেশনালে মতলব দক্ষিণে পাশের হার ৭১ দশমিক ৭৪ শতাংশ, হাজীগঞ্জে ৭০ দশমিক ৭৬ শতাংশ, ফরিদগঞ্জে ৬৭ দশমিক ৩৯ শতাংশ, মতলব উত্তরে ৬৬ দশমিক ৬৭ শতাংশ, কচুয়ায় ৬০ দশমিক ৭৯ শতাংশ, হাইমচরে ৫৮ দশমিক ৩৩ শতাংশ এবং চাঁদপুর সদরে ৫১ দশমিক ২২ শতাংশ।
জিপিএ-৫ অর্জনে চাঁদপুর সদরে ছয়জন, মতলব উত্তরে ছয়জন, কচুয়ায় পাঁচজন, হাইমচরে পাঁচজন, শাহরাস্তিতে দুইজন এবং মতলব দক্ষিণে দুইজন শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ পেয়েছে। তবে ফরিদগঞ্জে ভোকেশনাল পরীক্ষায় কোনো শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ অর্জন করতে পারেনি।
চাঁদপুরের এবারের ফলাফলে সাধারণ এসএসসিতে পাশের হার ও জিপিএ-৫—দুই সূচকেই সদর ও হাইমচর আলাদা জায়গা করে নিয়েছে। দাখিলে হাজীগঞ্জের সাফল্য উল্লেখযোগ্য হলেও মতলব উত্তর ও দক্ষিণের ফলাফল তুলনামূলকভাবে উদ্বেগজনক। আর কারিগরি শিক্ষায় পাসের হারে শাহরাস্তি এগিয়ে থাকলেও জিপিএ-৫ অর্জনে সাফল্য দেখিয়েছে হাজীগঞ্জ।
