এস.এম তাইয়্যেব হোসাইন, চাঁদপুর :
চাঁদপুর সরকারি কলেজের বিভিন্ন বিভাগে ফরম পূরণের সময় শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে সরকারি নির্ধারিত ফি-এর বাইরে ‘জরিমানা’ ও অন্যান্য খাতে অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের অভিযোগ উঠেছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, উপস্থিতি কম থাকার অজুহাতে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে সর্বনিম্ন ৫০০ টাকা থেকে সর্বোচ্চ ১ হাজার টাকা পর্যন্ত অতিরিক্ত অর্থ নেওয়া হয়েছে। তবে এ বিষয়ে কলেজের অধ্যক্ষ জানিয়েছেন, এমন কোনো ঘটনার বিষয়ে তিনি অবগত নন।
জানা যায়, চাঁদপুর সরকারি কলেজে প্রায় ১৭ হাজার শিক্ষার্থী অধ্যয়নরত। তাদের একটি বড় অংশ মধ্যবিত্ত ও নিম্নমধ্যবিত্ত পরিবারের সন্তান। অনেকে পড়াশোনার পাশাপাশি জীবিকার প্রয়োজনে বিভিন্ন পেশায় যুক্ত থাকায় নিয়মিত ক্লাসে উপস্থিত থাকতে পারেন না। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের বিধি অনুযায়ী শিক্ষার্থীদের কমপক্ষে ৬০ শতাংশ ক্লাসে উপস্থিত থাকার কথা থাকলেও বাস্তবতায় অনেকেই তা নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হন।
একাধিক শিক্ষার্থীর অভিযোগ, এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে কলেজের কয়েকটি বিভাগে ফরম পূরণের সময় ‘জরিমানা’ নামে অতিরিক্ত অর্থ আদায় করা হয়। অভিযোগ রয়েছে, এসব অর্থ নগদে নেওয়া হয় এবং কোনো রসিদ দেওয়া হয় না।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একটি বিভাগের এক কর্মচারী দাবি করেন, আদায়কৃত অতিরিক্ত অর্থ সংশ্লিষ্ট শিক্ষকদের কাছে পৌঁছে দেওয়া হয়।
এছাড়া কয়েকজন শিক্ষার্থীর অভিযোগ, কিছু বিভাগের অফিস সহকারীরা অর্থের বিনিময়ে অনুপস্থিত শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি দেখানো, ইনকোর্স পরীক্ষায় পাস নম্বর নিশ্চিত করা এবং বিভিন্ন প্রশাসনিক সুবিধা দেওয়ার মতো অনিয়মের সঙ্গে জড়িত।
অন্যদিকে, নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী বলেন, দীর্ঘদিন ধরে কিছু বিভাগে অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের চর্চা রয়েছে। তারা অভিযোগ করেন, এসব বিষয়ে আপত্তি জানালে বিভিন্নভাবে হয়রানি, বিভাগ পরিবর্তন কিংবা চাকরির ভয় দেখানো হয়। তবে তারা নিজেরা অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের সঙ্গে জড়িত নন বলেও দাবি করেন।
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের বিধিমালা অনুযায়ী, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সব ধরনের ফি ব্যাংক বা মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে রসিদসহ আদায় করার কথা। সেক্ষেত্রে নগদে অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের অভিযোগ শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ ও অসন্তোষ সৃষ্টি করেছে।
এ বিষয়ে কয়েকটি বিভাগের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও সন্তোষজনক কোনো ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি।
এদিকে, চাঁদপুর সরকারি কলেজ ছাত্রদলের সভাপতি নাঈম খান বলেন, যেসব বিভাগে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত অর্থ নেওয়া হয়েছে, তা অবিলম্বে ফেরত দিতে হবে। ভবিষ্যতে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় নির্ধারিত ফি-এর বাইরে কোনো অর্থ আদায় বন্ধ করতে হবে। একই সঙ্গে শিক্ষার্থীদের নিয়মিত ক্লাসমুখী করতে ইতিবাচক উদ্যোগ নেওয়ারও আহ্বান জানান তিনি।
তিনি আরও বলেন, “ভবিষ্যতে কোনো বিভাগ বা ব্যক্তি যদি সরকারি নির্ধারিত ফি-এর বাইরে অতিরিক্ত অর্থ দাবি করে, তাহলে শিক্ষার্থীরা আমাদের জানাবেন। শিক্ষার্থীদের ন্যায্য অধিকার ও স্বার্থ রক্ষায় আমরা প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেব।”
চাঁসক অধ্যক্ষ প্রফেসর এ. কে. এম. আবদুল মাননান এ বিষয়ে বলেন, “এ ধরনের অর্থ আদায়ের বিষয়ে আমি অবগত নই। লিখিত অভিযোগ পেলে বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, কর্মচারীদের বক্তব্য এবং অধ্যক্ষের প্রতিক্রিয়ার পর বিষয়টি নিয়ে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন এবং প্রমাণিত অনিয়মের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি উঠেছে।
ফরিদগঞ্জ টাইমস/কেএম
