টিটু হোসেন :
চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জে খেলাধুলার মাঠ মানেই উত্তেজনা, দর্শকদের উচ্ছ্বাস আর প্রিয় দলের জন্য মুহূর্তে মুহূর্তে উল্লাস। আর সেই উত্তেজনাকে আরও বাড়িয়ে দেন মাঠের জনপ্রিয় ধারাভাষ্যকাররা। তাদের সাবলীল উপস্থাপনা, প্রাণবন্ত কণ্ঠ ও তাৎক্ষণিক বর্ণনায় খেলার প্রতিটি মুহূর্ত হয়ে ওঠে আরও উপভোগ্য।
ফরিদগঞ্জের বিভিন্ন মাঠে দীর্ঘদিন ধরে ধারাভাষ্য দিয়ে দর্শকদের মাতিয়ে আসছেন কয়েকজন পরিচিত কণ্ঠ। তাদের মধ্যে রয়েছেন আব্দুল্লাহ। যিনি ৮নং পাইকপাড়া এলাকার বাসিন্দা। খেলার মাঠে তার কণ্ঠে ম্যাচের গুরুত্বপূর্ণ সময়গুলো জীবন্ত হয়ে ওঠে। ধারাভাষ্যের মাধ্যমে তিনি দর্শকদের সঙ্গে তৈরি করেন দারুণ এক সংযোগ। তার বলিষ্ঠ কণ্ঠের জাদুতে জয় করেছেন অসংখ্য দর্শকের হৃদয়।
এ তালিকায় রয়েছেন গিয়াসউদ্দিন। যার বাড়ি ফরিদগঞ্জের কাছিয়াড়া গ্রামে। মাঠে তার স্বাভাবিক কণ্ঠের উপস্থাপনায় খেলার পরিস্থিতি দ্রুত তুলে ধরতে পারেন দর্শকদের মাঝে। তার এই দক্ষতা দর্শকদের মাঝে আলাদা আকর্ষণ তৈরি করে।
আরেকজন রাছেল আহমেদ। পশ্চিম গাব্দেরগাঁও গ্রামের সন্তান—তিনিও ফরিদগঞ্জের মাঠে পরিচিত একটি কণ্ঠ। খেলার উত্তেজনাপূর্ণ মুহূর্তগুলোকে শব্দের মাধ্যমে দর্শকদের সামনে তুলে ধরার কারণে তার ধারাভাষ্য অনেকের কাছেই উপভোগ্য হয়ে উঠেছে।
আরেকজন পরিচিত মার্জিত ধারাভাষ্যকার শামছুল ইসলাম রনি। রনির গ্রামের বাড়ি ১৬নং রূপসার সাহেবগঞ্জে। স্থানীয় মাঠের পাশাপাশি তিনি টেপ বল বিপিএল-এরও ধারাভাষ্য দিয়েছেন। যা তার ধারাভাষ্য জীবনের উল্লেখযোগ্য অভিজ্ঞতা। মাঠের পরিস্থিতি বুঝে কণ্ঠের ওঠানামা, খেলোয়াড়দের নিয়ে তাৎক্ষণিক বিশ্লেষণ এবং উত্তেজনাপূর্ণ মুহূর্তকে প্রাণবন্ত করে তোলার মাধ্যমে তিনি দর্শকদের মাঝে পরিচিতি তৈরি করেছেন। ‘গৃদকালিন্দিয়ার রনি’ হিসবেও তিনি অধিক পরিচিত।
একজন ভালো ধারাভাষ্যকার শুধু খেলার বর্ণনাই দেন না; তিনি মাঠের পরিবেশ, দর্শকদের আবেগ এবং ম্যাচের উত্তেজনাকে একসঙ্গে শব্দের মাধ্যমে তুলে ধরেন। ফুটবলের একটি গোল, ক্রিকেটের একটি ছক্কা, একটি দুর্দান্ত সেভ কিংবা শেষ মুহূর্তের রোমাঞ্চ—ধারাভাষ্যকারের কণ্ঠেই যেন সেই মুহূর্তগুলো আরও স্মরণীয় ও তরতাজা হয়ে ওঠে।
ফরিদগঞ্জের বিভিন্ন প্রান্তে আয়োজিত ফুটবল, ক্রিকেট ও অন্যান্য ক্রীড়া প্রতিযোগিতায় স্থানীয় ধারাভাষ্যকারগণ নিয়মিত নিজেদের কণ্ঠের জাদু ছড়িয়ে দিচ্ছেন। তাদের কারণে মাঠের দর্শকদের আনন্দ যেমন বাড়ছে, তেমনি স্থানীয় ক্রীড়া আয়োজনও পাচ্ছে আরও পেশাদার ও প্রাণবন্ত আবহ।
ফরিদগঞ্জের মাঠে খেলা চলবে, দর্শকদের উচ্ছ্বাস থাকবে– আর সেই উচ্ছ্বাসের সঙ্গে কণ্ঠ মিলিয়ে মাঠ মাতাবেন এসব জনপ্রিয় ধারাভাষ্যকার।
