নিজস্ব প্রতিবেদক :
ফরিদগঞ্জ উপজেলায় ‘প্রান্তিক পেশাজীবী জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়ন প্রকল্প (২য় পর্যায়)’-এর আওতায় প্রান্তিক পেশাজীবীদের ১০ দিনব্যাপী পেশাভিত্তিক সফটস্কিল প্রশিক্ষণ শেষ হয়েছে।
১৪–২৩ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের আয়োজনে এ প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত হয়। বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) প্রশিক্ষণের সমাপনী অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে এর আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি হয়।
কোর্স পরিচালক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সেটু কুমার বড়ুয়া এই আয়োজনের সভাপতিত্ব করেন। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মুহাম্মদ মাহমুদুল হাসান।
সমাপনী অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন ‘বাংলাদেশের প্রান্তিক পেশাজীবী জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়ন (২য় ফেইজ)’ প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক মো. আফজাল হোসেন, জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের উপপরিচালক মো. নজরুল ইসলাম, সহকারী পরিচালক রুহুল আমিন বাশির ও সহকারী পরিচালক শফিউদ্দিন মিতুল।
এছাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (তদন্ত) আল আমিন তালুকদার, উপজেলা প্রকৌশলী সৈয়দ মেহেদি হাসান, উপজেলা আইসিটি কর্মকর্তা নাজমুল হোসেন, উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা বেলায়েত হোসেন, ফরিদগঞ্জ প্রেসক্লাবের সভাপতি আবু হেনা মোস্তফা কামাল এবং পৌর নির্বাহী কর্মকর্তা শাহ সুফিয়ান অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন।
বক্তারা বলেন, প্রাচীনকাল থেকে বংশপরম্পরায় গ্রামবাংলায় গড়ে ওঠা মৃৎশিল্প, কামার, বাঁশ-বেত ও কাঁসা-পিতলের পণ্য তৈরি, মুচিসহ বিভিন্ন ঐতিহ্যবাহী পেশা বর্তমানে নানা কারণে বিলুপ্তির ঝুঁকিতে রয়েছে। এসব পেশার সঙ্গে যুক্ত অনেক মানুষের শিক্ষা ও জীবনযাত্রার মানও তুলনামূলকভাবে পিছিয়ে রয়েছে। আধুনিকতার প্রভাব ও বাজারব্যবস্থার পরিবর্তনের কারণে ঐতিহ্যবাহী এসব পেশার অস্তিত্বও চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে।
তারা বলেন, পরিবেশবান্ধব ও ঐতিহ্যবাহী প্রান্তিক পেশাজীবীদের পণ্যকে আধুনিক ও টেকসই করার পাশাপাশি তাদের জীবনমান উন্নয়নের লক্ষ্যে সমাজসেবা অধিদপ্তর ২০১৭ সাল থেকে এ প্রকল্প বাস্তবায়ন করে আসছে। বর্তমানে প্রকল্পটির দ্বিতীয় পর্যায়ের কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।
বক্তারা আরও বলেন, চলমান প্রকল্পের আওতায় কামার, কুমার, নাপিত, বাঁশ-বেতের পণ্য প্রস্তুতকারক, কাঁসা-পিতলের সামগ্রী প্রস্তুতকারক, জুতা মেরামতকারী (মুচি), বাদ্যযন্ত্র ও লোকজযন্ত্র প্রস্তুতকারক, নকশিকাঁথা এবং শীতলপাটি-শতরঞ্জি তৈরিসহ বিভিন্ন সনাতন পেশার সঙ্গে যুক্ত জনগোষ্ঠীকে প্রশিক্ষণ ও আর্থিক সহায়তা দেওয়া হচ্ছে।
এ ধরনের প্রশিক্ষণের মাধ্যমে প্রান্তিক পেশাজীবীদের দক্ষতা বাড়ানোর পাশাপাশি তাদের উৎপাদিত পণ্য ও সেবার মানোন্নয়ন এবং পেশার আধুনিকায়নের সুযোগ তৈরি হচ্ছে। এর ফলে তাদের অর্থনৈতিক ও সামাজিক সক্ষমতা বৃদ্ধির পাশাপাশি নতুন কাজ ও আত্মকর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি এবং ঐতিহ্যবাহী পেশাগুলো টিকিয়ে রাখতে সহায়তা করবে বলে জানান বক্তারা।
