২৯শে অক্টোবর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

প্রিয় গতকাল

তোমাকে রেখেছি মনে কতকাল প্রিয় গতকাল
আকাশ আঁধার করা রিমঝিম বাদলের দিন
হলুদাভ মনে রাখা সাদাদেহ কদম সুদিন
হয়নি তো কারো দেখা দুঃখস্মৃতি সুখ হালচাল

আষাঢ় আসবে বলে হেসে ওঠে অচেনা যে ফুল
ডোবার দুপাশ জুড়ে ডুবডুব পাখিদের বাসা
প্রতিদিন সকালেরা বিলি করে আশা ও হতাশা
কচুরিপানার ফাঁকে ডাহুকীরা গানে মশগুল

পূবের মেঘের খোঁজ ভালো জানে প্রিয় কালিদাস
আষাঢ় আকাশে ভাসা মেঘদূত উত্তরের বাণী
বিরহ বিলাপ মাখা ইতিকাল সেই যক্ষরাণী
নিঃশব্দ জারুল জলে কবিতা তো প্রিয় সাদাহাঁস

নৈঃস্বর্গিক এ সবুজে ডুবে থাকে আষাঢ়াশ্য মন
কালিদাস মেঘদূত আরো আরো কত আয়োজন

যুগল মেকুর

অভাবী শরীর জুড়ে শুধু মাখি কল্যাণের রোদ
এর চেয়ে কম দামে কিবা আছে বলো পৃথিবীতে
আয়নিক হস্তরেখা বোঝে না তো মানুষ নির্বোধ
সময়ের চক্র বাঁকে ফিরে আসে আপন অতীতে

মেঘ জল প্রার্থনায় নেমে আসে বৃষ্টির মিছিল
অনুর্বর ভূমি তাতে ফিরে পায় হারানো জৌলুস
রিজিকের ফয়সালা এ ভূমিতে ওড়ে গাঙচিল
আলোকবর্তিকা হাতে নেমে আসো পুরাণ পুুরুষ

ছায়াযুক্ত অন্ধকারে আলোজ্বলা ভোরের তিয়াস
জনপদে গড়ে ওঠে ধীরে ধীরে মানব বসতি
বায়ুর শরীর ভেঙে নিঃশ্বাসের মিটায় পিয়াস
শূণ্য হতে পূর্ণবৃত্তে রূপান্তর কঠিন জ্যামিতি

প্রাপ্তির প্রতীক্ষা শেষে প্রকৃতিরা তুলছে ঢেঁকুর
কাঁটা খেয়ে দিন পার; স্বপ্ন দেখে যুগল মেকুর

জননী আমার

জননী আমার তুমি এর চেয়ে বড় সত্য আর কিছু নয়
তুমি তো মৃত্তিকা মাগো যে বলয়ে গড়ে ওঠা আমার শরীর
হাজার অতীত স্মৃতি কষ্ট জড়ো কাঁটাশূল বেদনার তীর
তুমি সত্য তুমি আলো আকাশ উদার যার নেই পরাজয়

নিজ হাতে অগ্নি জ্বেলে সে অনলে আজ আমি করি বসবাস
আগামী জানি না বলে ভুলকে সঠিক ভেবে পড়ে যাই পিছে
শুনেছি লোকের মুখে বেহেশত জননীর দু’পায়ের নিচে
মায়ের এ আশির্বাদে হয়তোবা হতে পারি আমি ইতিহাস

জননী আমার তুমি যার কাছে এই দেশ মানচিত্র ঋণী
একটি বুলেট শুধু মৃদু শব্দে খুলে ফেলে যে নাকের ফুল
তুমি তো সঠিক মাগো বাদবাকী পৃথিবীর সব স্মৃতি ভুল
অমূল্য সম্পদ এক যা হয় না কোনোদিনো হাটে বিকিকিনি

শূন্যতায় পুড়ে পুড়ে এই মন তাই আজ হয়েছে পাথর
তোমারি পবিত্র মনে আমারি পতাকা যেন সুগন্ধি আতর

তোমার আকাশ
উৎসর্গ : কবি আবদুল মান্নান সৈয়দ

দেখা হতো তাঁর সাথে মাঝে মাঝে কবিতার পথ ও প্রান্তরে
কখনো আলোকদিন কখনো সন্ধ্যার মতো রাত পাহারায়
কেমন আছি, কেমন আছেন এতোটুকু বিনিময়ে পথ হেঁটে যায়
অবাধ্য সময়ে তিনি আমাদের না জানিয়ে অন্য গ্রহান্তরে

শ্রাবণ উড়ালমাখা কাশফুল এই দিনে কাফন সময়
আমরা আহত হই ব্যথিত ফুলের মতো তুমি শূন্যতায়
কবিতার এই পথে আমরাও বেড়ে উঠি তোমার ছায়ায়
অসুন্দর মৃত্যুর কাছে মানে না তো কোনো কবি তাই পরাজয়

অসংখ্য নক্ষত্র ভাসা বায়বীয় এ আকাশে তুমি ধ্রুবতারা
তোমার হাতের ফাঁকে ঝরে পড়ে রাশি রাশি অক্ষরের ফুল
যেমন কৈশোরে দেখা মোহনীয় সুবাসিত আমের মুকুল
অনন্ত নক্ষত্রে তুমি আশা রাখি পেয়ে যাবে মেঘের পাহারা

শিশির আগামী দিনে শিথানের পাশে রাখা জীবনানন্দ দাশ
বামপাশে নজরুল পড়ে আছে ঠিক যেন সদ্য পড়া শেষ
তরুণ কবিটি অব্ধি আরো আরো কতকিছু বিশেষ বিশেষ
সাদা সাদা মেঘবাড়ি শূন্য করে হেসে ওঠে তোমার আকাশ

সৌভাগ্যের ট্রেন

সাহসের কথা শুনে দুহাতে আঁধার ভেঙে সূর্যমাখা এনেছি সকাল
পাখিডাকা এই ভোর তোমার অপেক্ষা করে ঘুমিয়েছে প্রিয় তিতুমীর
তারাদের বাড়িঘর বিশ্রাম পালঙ্ক জুড়ে শুয়ে আছে মেঘের শরীর
সহস্র আলোকবর্ষ অযুতাংশ সময়ের বয়ে চলা এ পৃথিবী মহিষের পাল

আমিও আদিম বটে সভ্যতার সূর্য ছুঁয়ে দেখেছি যে সমুদ্র অতল
গ্রহদের নানাবাড়ি নক্ষত্র শ্বশুরালয়ে কতবার হয়েছি অতিথি
পৃথিবী আমার বোন ওরা তাই ভালো চেনে উপকারী যত পঞ্চবিথি
গন্তব্যে পৌঁছাতে হলে আরো আরো প্রয়োজন বায়ুভর্তি আয়ুর বতল

শিল্পীর চোখের কোণে এখনো আসেনি রাত আসেনি এ দীর্ঘ ছায়াপথ
মিল্কিওয়ে তিমিপিঠে চকচকে কারুকাজে পরিমিত রূপালি বালিশ
ব্লাকহোল থিওরির সূত্রগুলে তৈরি হয় বৈজ্ঞানিক আজব মালিশ
ভোরের আযানে রোজ ঘুম ভাঙে; আহ্বানে বেড়ে ওঠে নতুন শপথ

তারকা তারকা চোখে বেলা শেষে খেলা করে জাগতিক সুখের হরিণ
মহামায়া অবনত অশ্রুসিক্ত গোধূলির জলযানে ভাসে অরিয়ন
চাঁদ হয় বরযাত্রী বাতাসেরা বিউগলে সুর তুলে তৈরি করে শুদ্ধ উচ্চারণ
আমার ফিনিক্স মন মঙ্গল জমিন জুড়ে সার্চ করে ফিরে আয়োডিন

সাহস ও সুন্দরেরা মিলেমিশে আজকাল এক হয়ে উঠছে নিলামে
ফেরারি সত্যের মতো দুর্বিনীত এ দুর্যোগে চাপা পড়ে আছে অর্থনীতি
অসহায় চোখগুলো যদিও আগামী মাপে ভুলে ভরা তবুও সম্প্রীতি
আমাদের প্রার্থনায় ব-দ্বীপ স্টেশনে সৌভাগ্যের ট্রেন এসে থামে

Tags:

সর্বশেষ

Calendar
Mon Tue Wed Thu Fri Sat Sun
 1234
567891011
12131415161718
19202122232425
262728293031  
Scroll to Top