মো. সোহেল রানা :
হঠাৎ দেখা মেলে বিদ্যুতের–কিছু সময় পরে আর দেখা মেলে না। এভাবেই চলতে থাকে দিনে-রাতে। বিদ্যুতের লোডশেডিং ভয়াবহ রূপ নিয়েছে ফরিদগঞ্জের প্রত্যন্ত গ্রামগুলোতে। দিনে-রাতে কোথাও কোথাও ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ৩/৪ ঘণ্টার মতো পাওয়া যায় বিদ্যুৎ। কোনো কোনো এলাকায় একটানা আধা ঘণ্টার বেশি বিদ্যুৎ থাকছে না। এতে করে গ্রাহকদের মধ্যে এক ধরনের চাপা ক্ষোভ বিরাজ করছে।
ভ্যাপসা গরমে দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে জনজীবন। ঘন ঘন বিদ্যুৎ বিভ্রাটে শিশু, শিক্ষার্থী ও বয়োজ্যেষ্ঠরা চরম দুর্ভোগে পড়েছেন। বেশি ক্ষতির মুখে পড়েছেন মাছ চাষী, অটোরিকশাচালক, ছাত্র- ছাত্রী ও বিভিন্ন ব্যবসায়ীরা।
উপজেলা পল্লীবিদ্যুতের গ্রাহকরা জানান, প্রতিদিন বিদ্যুৎ সকালে চলে যায় এবং রাত ১০টার ভেতরে মাঝেমধ্যে আসে। এই কারণে ছাত্র-ছাত্রীরা পড়াশোনায় অনেক পিছিয়ে পড়ছে। কৃষিকাজেও ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হতে হচ্ছে। গভীর রাতে বিদ্যুৎ না থাকায় সিসিটিভি বন্ধ থাকে, এই সুযোগে চুরি ডাকাতির পরিমাণও বেড়ে যাচ্ছে। আগের মতো আবারও লোডশেডিং নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিদ্যুৎ গেলে আর আসে না। সেই আগের মতো লোডশেডিংয়ের সমস্যা প্রকট আকার ধারণ করেছে। প্রায় মাসখানেক ধরে বিদ্যুতের সমস্যা খুব প্রকট হচ্ছে।
সকাল থেকে এক ঘণ্টা বিদুৎ থাকলে দুই ঘণ্টা থাকে না, এইভাবে চলতে থাকে। সন্ধ্যার পরে যায় আর আসে রাত ৯টার পর। আবার আধঘণ্টা পরে চলে যায় রাত ১১টার পরে আসে। আবার ১২টার পরে যায়, ফজরের পরে আসে। দিন রাত মিলিয়ে ৬ ঘণ্টা বিদ্যুৎ পাওয়া যায় না।
ফরিদগঞ্জ উপজেলার বদরপুর গ্রামের পোল্ট্রি ব্যবসায়ী আবুল হাশিম বলেন, বিদ্যুতের ভয়াবহ লোডশেডিংয়ে অতিষ্ট আমরা। দুঃসহ গরমের সঙ্গে দিনে-রাতে চলছে ভয়াবহ লোডশেডিং। বিদ্যুৎ না থাকার কারণে ব্যবসায় ক্ষতি হচ্ছে, কোনোরকম টিকে আছি।
এই বিষয়ে ফরিদগঞ্জ জোনাল অফিসের ম্যানেজার মোবারক হোসেন সরকার ফরিদগঞ্জ টাইমসকে বলেন, “আমরা চেষ্টা করছি এ সমস্যা থেকে উত্তরণের জন্য। ফরিদগঞ্জে ২৩-২৬ মেগাওয়াট চাহিদার বিপরীতে পাওয়া যাচ্ছে ৭-১০ মেগাওয়াট। এ কারণে আমরা চাহিদামতো বিদ্যুৎ সরবরাহ করতে পারছি না। অপ্রয়োজনে বিদ্যুতের ব্যবহার পরিহার এবং বিদ্যুতের বরাদ্দ বাড়লে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে। আমার কার্যালয়ের আওতায় মাত্র একটি সাবস্টেশন রয়েছে। প্রয়োজন অন্তত আরও দুটি সাবস্টেশন। একটি সাবস্টেশন থাকায় প্রাকৃতিক দুর্যোগ বা লাইনে সমস্যা হলে দূর-দূরান্তের গ্রাহকদের বিদ্যুৎ বন্ধ রাখতে হয়। কেউ যদি সড়কের পাশে জমি দিয়ে সহযোগিতা করে, তাহলে সাবস্টেশন স্থাপন করাটা সহজ হবে। এছাড়া এই কার্যালয়েও প্রয়োজনীয় জনবল ঘাটতি ১০-১২ জনের। সবাইকে ধৈর্য ধরার অনুরোধ করছি। আশা করি সব ঠিক হয়ে যাবে।”
