নিজস্ব প্রতিবেদক :
চাঁদপুর নৌ-টার্মিনাল থেকে চলাচলকারী যাত্রীবাহী লঞ্চে যাত্রীসেবার মান উন্নয়ন, নিম্নমানের খাবার পরিবেশন বন্ধ এবং অতিরিক্ত ভাড়া ও পণ্যমূল্য আদায় রোধে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) দুপুর সাড়ে ১২টায় জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত সভায় সভাপতিত্ব করেন জেলা প্রশাসক আহমেদ জিয়াউর রহমান।
সভায় জেলা প্রশাসক বলেন, প্রতিটি যাত্রীবাহী লঞ্চে দৃশ্যমান স্থানে হটলাইন নম্বর প্রদর্শন করতে হবে, যাতে যাত্রীরা সহজেই অভিযোগ জানাতে পারেন। লঞ্চ থেকে কোনো ধরনের বর্জ্য নদীতে ফেলা যাবে না। অনেক লঞ্চ ঘাটে ভিড়ার সময় বর্জ্য সরাসরি নদীতে ফেলে, যা বন্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে।
তিনি আরও বলেন, কেবিনের সামনে অতিরিক্ত চেয়ার রাখা বা ডেকে অপ্রয়োজনীয় ভিড় সৃষ্টি করা যাবে না। লঞ্চের টয়লেটের বর্জ্য সরাসরি নদীতে ফেলা বন্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বন্দর কর্তৃপক্ষকে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
জেলা প্রশাসক জানান, ঢাকা-চাঁদপুর রুটে রকেট স্টিমার চালুর বিষয়ে উদ্যোগ নেওয়া হবে। এছাড়া ঈদের সময় মোটরসাইকেল পরিবহনে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগের বিষয়েও ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি লঞ্চের টয়লেট সবসময় পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখা, নিরাপদ খাবার পানি নিশ্চিত করা এবং ক্যান্টিনে ন্যায্যমূল্যে মানসম্মত খাবার বিক্রির ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
সভায় বক্তব্য দেন চাঁদপুর নদীবন্দর কর্মকর্তা কামরুজ্জামান, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (নৌ অঞ্চল), পরিবেশ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. মিজানুর রহমান, জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক আব্দুল্লাহ আল ইমরান, লঞ্চ মালিক প্রতিনিধি মোহাম্মদ বিপ্লব সরকার, আজগর আলী সরকার ও ইউসুফ আলী বেপারী।
এসময় চাঁদপুর নদীবন্দরের তত্ত্বাবধায়ক সাইফুল ইসলাম, চাঁদপুর নৌ থানার প্রতিনিধিসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
বক্তারা জানান, ঢাকা-চাঁদপুর নৌপথে প্রতিদিন ২০ থেকে ২২টি লঞ্চ চলাচল করে। সকাল ৬টা থেকে রাত সাড়ে ১২টা পর্যন্ত চলাচলকারী এসব লঞ্চে ৫০০ থেকে ৯৫০ জন পর্যন্ত যাত্রী বহনের সক্ষমতা রয়েছে। তারা বলেন, যাত্রীসেবার মান উন্নয়নে লঞ্চ মালিকরা কাজ করছেন। তবে ক্যান্টিনে বাসি খাবার পরিবেশন এবং বাজারমূল্যের তুলনায় অতিরিক্ত দামে পণ্য বিক্রির অভিযোগ রয়েছে। এসব অনিয়ম বন্ধে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে কঠোর নজরদারি করার আহ্বান জানান বক্তারা।
ফরিদগঞ্জ টাইমস/কেএম
