ইমরান মকিম :
চাঁদপুর-লক্ষ্মীপুর আঞ্চলিক মহাসড়কের পুরোনো অংশ হিসেবে পরিচিত ফরিদগঞ্জ ডাকবাংলো-আরএন্ডএইচ (ভাটিয়ালপুর) সড়কটি দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় মানুষের গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগপথ। কিন্তু সড়কের ডাকবাংলো অংশে প্রবাহিত ডাকাতিয়া নদীর কারণে দুই পাড়ের মানুষের যাতায়াতে প্রতিদিনই ভোগান্তির শিকার হতে হয়। নদীর ওপর কোনো সেতু না থাকায় স্থানীয়দের একমাত্র ভরসা একটিমাত্র ছোট নৌকা।
দীর্ঘদিনের এ দুর্ভোগ নিরসনে আশার আলো দেখা দিয়েছে। চাঁদপুর-৪ (ফরিদগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য মো. আবদুল হান্নান ডাকবাংলো এলাকায় ডাকাতিয়া নদীর ওপর একটি সেতু নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছেন। এ লক্ষ্যে চলতি বছরের ২৮ জুন তিনি স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) প্রধান প্রকৌশলীর কাছে একটি ডিও লেটার পাঠিয়ে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের অনুরোধ জানান।
স্থানীয়দের মতে, সেতুটি নির্মিত হলে ডাকাতিয়া নদীর পশ্চিম তীরের কয়েকটি গ্রামের মানুষের বহু বছরের যাতায়াত দুর্ভোগের অবসান ঘটবে। বর্তমানে স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থী, চাকরিজীবী, কৃষক, ব্যবসায়ী এবং সাধারণ মানুষকে প্রতিদিন নৌকায় নদী পার হতে হয়। বর্ষাকালে নদীর স্রোত বেড়ে গেলে এ দুর্ভোগ আরও তীব্র আকার ধারণ করে। অনেক সময় ঝুঁকি নিয়েই শিশু ও শিক্ষার্থীদের নদী পারাপার করতে হয়।
বিশেষ করে পশ্চিমপাড়ের শিক্ষার্থীরা একটি সেতুর অভাবে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যাতায়াতে দীর্ঘদিন ধরে সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছে। সেতু নির্মাণ হলে তারা নিরাপদ ও স্বল্প সময়ে স্কুল-কলেজে যেতে পারবে। একই সঙ্গে কৃষিপণ্য পরিবহন, ব্যবসা-বাণিজ্য এবং জরুরি সেবাও সহজ হবে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।
এলাকাবাসীর ভাষ্য, ডাকাতিয়া নদীর পশ্চিম পাড়ে বিস্তীর্ণ চরাঞ্চল, নদী ও সবুজ প্রকৃতির সমন্বয়ে গড়ে উঠেছে এক মনোমুগ্ধকর প্রাকৃতিক পরিবেশ। প্রতিদিন বিকেলে অনেক মানুষ সেখানে গিয়ে নির্মল বাতাস উপভোগ করেন। তবে সহজ যোগাযোগব্যবস্থা না থাকায় এ সম্ভাবনাময় এলাকাটি এখনো কাঙ্ক্ষিতভাবে বিকশিত হয়নি।
স্থানীয়রা মনে করছেন, নদীর ওপর একটি সেতু নির্মিত হলে শুধু যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নই নয়, বরং এলাকাটিতে পর্যটনের সম্ভাবনাও সৃষ্টি হবে। প্রকৃতিপ্রেমী মানুষ সহজেই সেখানে গিয়ে সময় কাটাতে পারবেন। একই সঙ্গে নতুন ব্যবসা-বাণিজ্য, ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা সৃষ্টি এবং স্থানীয় অর্থনীতিতেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।
ডিও লেটার পাঠানোর বিষয়টি এলাকায় ব্যাপক আশার সঞ্চার করেছে। এখন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত প্রকল্পটি অনুমোদন ও বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেবে—এমন প্রত্যাশা স্থানীয় বাসিন্দাদের। তাদের বিশ্বাস, বহু প্রতীক্ষিত এ সেতু বাস্তবায়িত হলে ফরিদগঞ্জের পশ্চিমাঞ্চলের হাজারো মানুষের দীর্ঘদিনের কষ্টের অবসান ঘটবে এবং এলাকার সার্বিক উন্নয়নে নতুন দিগন্তের সূচনা হবে।
ফরিদগঞ্জ টাইমস/কেএম
