ফরিদগঞ্জ টাইমস ডেস্ক :
চাঁদপুর আল-আমিন একাডেমী স্কুল এন্ড কলেজের গর্ভনিং বডির সভাপতি ও আল-আমিন সোসাইটির চেয়ারম্যান মো. মোবারক হোসেন বলেছেন, “সৎ ও যোগ্য নাগরিক তৈরী করা শিক্ষার প্রধান উদ্দেশ্য। যোগ্য ও দক্ষ সুনাগরিক গড়তে একাডেমীর শিক্ষকগণকে নিরলসভাবে কাজ করতে হবে।” তিনি বুধবার (৭ অক্টোবর) বিকেলে আল-আমিন একাডেমীর স্কুল এন্ড কলেজের শিক্ষক সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্য প্রদানকালে এ কথা বলেন।
প্রতিষ্ঠানের মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত শিক্ষক সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন একাডেমীর অধ্যক্ষ মো. সাইফুল ইসলাম। বিশেষ অতিথি হিসাবে বক্তব্য রাখেন গর্ভনিং বডির সদস্য মাওলানা বিল্লাল হোসাইন মিয়াজী, গর্ভনিং বডির সদস্য ও আল-আমিন সোসাইটির সেক্রেটারি এডভোকেট শাহজাহান মিয়া।
উপস্থিত ছিলেন গর্ভনিং বডির সদস্য এডভোকেট শাহজাহ খান, সহকারী প্রধান শিক্ষক মো. ফারুকুল ইসলাম, ছাত্রী শাখার ইনচার্জ ফারজানা আক্তার ইমা, গুনরাজদী শাখার ইনচার্জ নাছির উদ্দিন, বাবুরহাট শাখার ইনচার্জ আব্দুল আউয়াল। সভা পরিচালনা করেন একাডেমীর ভাইস প্রিন্সিপাল অধ্যাপক রুহুল আমিন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে মো. মোবারক হোসেন আরও বলেন, “আল-আমিন একাডেমী নিয়ে গভীর ষড়যন্ত্র ও চক্রান্ত চলছে। কোনো ষড়যন্ত্রই একাডেমীর আদর্শিক শিক্ষাব্যবস্থা ধ্বংস করতে পারবে না। একাডেমীর সুনাম ও ঐতিহ্য ধরে রাখতে সকল শিক্ষক-শিক্ষিকাগণকে সততা ও দক্ষতার সাথে কাজ করতে হবে। সময়জ্ঞান ও নিয়মানুবর্তিতা অবশ্যই মেনে চলতে হবে। শিক্ষার্থীগনের কাছে শিক্ষকগণকে অনুসরণীয় ও অনুকরণীয় হতে হবে। একাডেমীর শিক্ষার মান উন্নয়নে আমাদের সকলকে আপোষহীন ভূমিকা পালন করতে হবে। সকল পরীক্ষায় একাডেমীর ফলাফল আরও ভালো করতে হবে। বাংলাদেশের এক নম্বর সেরা প্রতিষ্ঠান হিসাবে একাডেমীকে গড়ে তুলতে হবে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে খুব বেশি ভালোবাসতে হবে। প্রতিষ্ঠানের সুখে-দুঃখে সকলকে একযোগে কাজ করতে হবে।”
তিনি আরও বলেন, “১৯৭৭ সালে চাঁদপুরের সমাজ হিতোষী ও শিক্ষানুরাগী ব্যক্তিগণ দেশপ্রেমিক নাগরিক তৈরির লক্ষে আল-আমিন সোসাইটি প্রতিষ্ঠা করেন। সোসাইটির মাধ্যমে ১৯৭৮ সালে আল-আমিন একাডেমী প্রতিষ্ঠিত হয়। দীর্ঘ ৪৮ বছর যাবত আল-আমিন সোসাইটি আল-আমিন একাডেমী পরিচালনা করে আসছে। প্রসঙ্গত ২০১৯ সালে আওয়ামী ফ্যাসিবাদ আমলে তৎকালীন শিক্ষামন্ত্রী বেআইনিভাবে আল-আমিন একাডেমীর গর্ভনিং বডি বাতিল করে ৪ বছর প্রতিষ্ঠানের শিক্ষাব্যবস্থা ধ্বংস করে। জুলাই বিপ্লবের পর আল-আমিন সোসাইটি একাডেমীকে ধ্বংস্তুপের ওপর নৈতিক ভিত্তিতে দাঁড় করানোর চেষ্টা চালিয়ে ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করে। একাডেমীকে মানসম্মত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পরিণত করার জন্য গর্ভনিং বডি, শিক্ষক-শিক্ষিকাগণ অক্লান্ত পরিশ্রম করে যাচ্ছে।”
প্রধান অতিথি তার বক্তব্যে আরও জানান, ২০১৯ সালের আওয়ামী ফ্যাসিবাদী আমলের চিঠির বরাত দিয়ে কুমিল্লা শিক্ষাবোর্ড ২০২৬ সালের ২০ সেপ্টেম্বর আল-আমিন একাডেমীর গর্ভনিং বডি বাতিলের চিঠি দেয়। তৎপ্রেক্ষিতে আল-আমিন সোসাইটির পক্ষ থেকে মহামান্য হাইকোর্টে কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডের চিঠির বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে রীট পিটিশান-১৩৭৯১/২০২৬ইং দায়ের করে। বিগত ২৭ সেপ্টেম্বর তারিখে দো-তরফা শুনানী অন্তে মহামান্য হাইকোর্ট কুমিল্লা শিক্ষাবোর্ডের কার্যকারিতা স্থগিত আদেশ ও রুল জারি করেন। পরবর্তীতে সরকার পক্ষ চেম্বার জজ আদালতে লিভ-টু আপীল ৯৪২/২০২৬ইং দায়ের করার পর ২০২৬ সালের অক্টোবর মাসের ১ তারিখে মহামান্য চেম্বার জজ আদালত সরকার পক্ষের লিভ-টু-আপীল খারিজ আদেশ প্রদান করে। ফলে আল-আমিন সোসাইটি কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত ও পরিচালিত আল-আমিন একাডেমী স্কুল এন্ড কলেজের গর্ভনিং বডি বহাল থাকে। আল-আমিন সোসাইটি কর্তৃক আল-আমিন একাডেমী পরিচালনায় আইনগত আর কোনো বাধা নেই।”
