মুনির হোসাইন জুয়েল, জার্মানি :
জার্মানির ডুসেলডর্ফে বাংলাদেশে বর্তমান ব্যবসা ও বিনিয়োগের সুযোগ তুলে ধরতে এক দিনব্যাপী সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে। বাংলাদেশ দূতাবাস, জার্মানি এবং ডুসেলডর্ফ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (আইএইচকে)-এর যৌথ উদ্যোগে ‘বিজনেস মিটস ডিপ্লোমেসি: কারেন্ট বিজনেস এন্ড ইনভেস্টমেন্ট অফরচুনিটিস ইন বাংলাদেশ’—শীর্ষক এ সেমিনারের আয়োজন করা হয়।
সেমিনারে প্রধান বক্তা হিসেবে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মোহাম্মদ জুলকার নায়েন একটি পাওয়ারপয়েন্ট উপস্থাপনার মাধ্যমে বাংলাদেশের আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্য, বিনিয়োগের বর্তমান পরিস্থিতি এবং ভবিষ্যৎ সম্ভাবনার বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন।
উপস্থাপনায় বাংলাদেশের সম্ভাবনাময় কয়েকটি খাত বিশেষভাবে গুরুত্ব পায়। এর মধ্যে ছিল হালকা প্রকৌশল শিল্প, সেমিকন্ডাক্টর প্যাকেজিং, বৈদ্যুতিক যানবাহনের ব্যাটারি, সৌর প্যানেল, ডাটা সেন্টারসহ প্রযুক্তি ও উৎপাদননির্ভর বিভিন্ন খাত। পাশাপাশি ব্যবসা ও বিনিয়োগের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের সক্ষমতা, বর্তমান সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগ এবং বিনিয়োগকারীদের জন্য বিদ্যমান সুযোগ-সুবিধা ও প্রণোদনা তুলে ধরা হয়।
রাষ্ট্রদূতের উপস্থাপনায় বাংলাদেশের অর্থনৈতিক সম্ভাবনা ও বিনিয়োগ পরিবেশের একটি তুলনামূলক চিত্র তুলে ধরা হলে তা অংশগ্রহণকারী ব্যবসায়ী ও বিনিয়োগকারীদের মধ্যে বিশেষ আগ্রহ তৈরি করে।
সেমিনারে ডুসেলডর্ফ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও আন্তর্জাতিক বাজারবিষয়ক বিশেষজ্ঞদের পাশাপাশি ALTIOS-এর সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট, জার্মানির ‘ফেডারেল মিনিস্ট্রি ফর ইকোনমিক কপারেশন এন্ড ডেভেলপমেন্ট’ (বিএমজেড)-এর প্রতিনিধি, OAV-এর দক্ষিণ এশিয়া বিষয়ক আঞ্চলিক ব্যবস্থাপক, ‘জার্মানি ট্রেড এন্ড ইনভেস্ট’ (জিটিএআই)-এর দক্ষিণ এশিয়া প্রতিনিধি, WILO-এর পরিচালক, বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠান OSPIG-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক এবং স্থানীয় ব্যাংক Sparkassen-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক বক্তব্য দেন।
বক্তারা বাংলাদেশে ব্যবসা সম্প্রসারণ ও বিনিয়োগের সম্ভাবনা, বাজার পরিস্থিতি এবং বিভিন্ন খাতের সুযোগ নিয়ে ইতিবাচক মতামত তুলে ধরেন। বাংলাদেশের সঙ্গে জার্মানির ব্যবসায়িক ও বিনিয়োগ সম্পর্ক আরও সম্প্রসারণের ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়।
জার্মানির নর্থ রাইন-ওয়েস্টফেলিয়া প্রদেশের রাজধানী ডুসেলডর্ফে অনুষ্ঠিত এ সেমিনারে মোট ২০টি কোম্পানি ও সংস্থা অংশগ্রহণ করে। অনুষ্ঠানের মাধ্যমে বাংলাদেশ ও জার্মানির ব্যবসায়ী ও বিনিয়োগকারীদের মধ্যে পারস্পরিক যোগাযোগ এবং ভবিষ্যৎ সহযোগিতার নতুন সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
