সাদদান ফারুক ওমর :
‘আবাবিল ঘাট’ ফরিদগঞ্জের প্রাকৃতিক পর্যটন স্পট
চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জ উপজেলা একটি প্রাচীন ও ঐতিহ্যবাহী জনপদ। এখানকার প্রধান পর্যটন ও দর্শনীয় স্থানগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য ঐতিহাসিক রূপসা জমিদার বাড়ি, প্রায় ৩০০ বছরের পুরোনো লোহাগড় মঠ, এবং ব্রিটিশ আমলের সাহেবগঞ্জ নীলকুঠি।
এসব ঐতিহাসিক স্থাপনা প্রমাণ করে—এক কালে ফরদিগঞ্জ বেশ সমৃদ্ধ জনপদ ছিল। এটার একটা কারণ রয়েছে। সেটা হলো ডাকাতিয়া নদী। সমগ্র উপজেলাকে ডাকাতিয়া নদী সর্পিলভাবে পেঁচিয়ে রেখেছে। এই নদীটিকে ঘিরে গড়ে উঠেছে উপজেলাটির জনপদ এবং যোগাযোগ ব্যবস্থা।
ফরিদগঞ্জে এলে সুযোগ পেলেই আমি ডাকাতিয়া নদীতে নৌকা ভ্রমণ করতে ভালোবাসি। ২০২৩–এর শুরুতে শীতকালে সম্ভবত জানুয়ারি কি ফেব্রুয়ারিতে আমি ডাকাতিয়া নদী ভ্রমণ করতে যেয়ে পাইকদি নামের একটি ঘাটে যাই। পাইকদি খেয়াঘাট থেকে বিপরীতে যেই ঘাট তার নাম ‘আবাবিল ঘাট’।

শানবাঁধানো সিঁড়ি করা ঘাট আর উপরে ধ্যানমগ্ন বুদ্ধের মূর্তির মতো নিঃস্বঙ্গ একটি বটগাছ। পৌষের শেষবেলায় আধো আলোতে নদীর মাঝখান থেকেই ঘাটটি দেখে কেমন যেনো পরলৌকিক এক অশরীরী মনে হলো। আমরা দুজন মানুষ খুবই সন্তর্পণে তড়িঘড়ি করে ঘাট এলাকাটি অতিক্রম করি—তবে আমার মানসপটে ঘাটটি ‘বটগাছওয়ালা’ ঘাট হিসেবে স্থায়ী হয়ে গেল।
কিছুদিন আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আবাবিল ঘাটের একটি ভিডিও দেখি। ঘাটটিকে অনেক সুন্দর করা হয়েছে। নদীর পাশে সুন্দর নামাজের স্থান করা হয়েছে। খেয়া পারাপারের জন্য অপেক্ষমান মানুষের জন্য সুন্দর বসার ব্যবস্থা করা হয়েছে। বটগাছটি সেই আগের মতো ডাল-পালা ছড়িয়ে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে। সমগ্র ঘাটটিকে সে তার আদরের ছায়া দিয়ে আগলে রেখেছে যেন আহ্বান করছে ক্লান্ত পথিককে ‘দাঁড়াও! একটু জিরিয়ে যাও, নিঃসঙ্গ আমাকে একটু সঙ্গ দিয়ে যাও’।

ঘাটটির সৌন্দর্য উপভোগ করতে আমিও চলে যাই গত ১৬ আগস্ট সকালে। দুপুরের আগ পর্যন্ত নিরিবিলি থাকলেও এরপর শুরু হয়ে যায় লোকজনের আনাগোনা। কনটেন্ট ক্রিয়েটর, ভ্লগারদের যুগে ঘাটটি আর গোপন নেই। বিকেল পর্যন্ত থাকলাম, অনেকরকম মানুষ এলো, কেউ ছবি তুলল, কেউ ভিডিও করল, কেউবা আড্ডা দিলো। কোনো সন্দেহ নেই এটি সময় কাটানোর জন্য দারুণ একটি স্থান। সময় পেলে আপনিও ঘুরে আসতে পারেন সপরিবারে আবাবিল ঘাট।
কীভাবে যাবেন? সোজা চলে যাবেন ফরিদগঞ্জের পূর্ব চান্দ্রা বাজার। সেখানে নেমে অটোতে পাইকদি ঘাট বললেই আবাবিল ঘটে নিয়ে যাবে যে কেউ। ভাড়া পড়বে জনপ্রতি ২০ টাকা।

পরিশেষে–কোথাও ভ্রমণে গেলে অবশ্যই আমাদের স্থানীয় মানুষের যাতে কোনো অসুবিধা না হয় সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে এবং অবশ্যই পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখতে হবে। সবার ভ্রমণ শুভ হউক।
