১০ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

বিশেষ প্রতিবেদক : 

ছয় দফা দাবি আদায়ে ১১ দলীয় ঐক্য জোট আয়োজিত ‘ঢাকা-চট্টগ্রাম লংমার্চ’-এর অংশ হিসেবে কুমিল্লার পদুয়ার বাজারে মহাসমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। সমাবেশে রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের বক্তব্যে উঠে আসে স্থানীয় অধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলনসহ বর্তমান জাতীয় রাজনীতির নানা উত্তপ্ত দিক। 

সমাবেশে বক্তব্য প্রদানকালে খেলাফত মজলিসের নেতা মাওলানা মামুনুল হক কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, “জনগণের সাথে প্রতারণা ও গাদ্দারি করে বাংলাদেশে অতীতে কেউ রক্ষা পায়নি, ভবিষ্যতেও পাবে না। বর্তমান শাসকগোষ্ঠীকে ইতিহাস থেকে শিক্ষা নিয়ে সতর্ক থাকতে হবে।”

বিদ্যমান বিদ্যুৎ সংকটের তীব্র সমালোচনা করে লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) সভাপতি কর্নেল (অব.) অলি আহমদ বলেন, “আমরা সরকারকে বারবার বার্তা দিয়েছি, কিন্তু তারা তা অনুধাবন করতে ব্যর্থ হয়েছে। অতীতের সরকারগুলোর মতো বর্তমান শাসকগোষ্ঠীও জনগণের দাবিকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখাচ্ছে। মনে রাখবেন, এর পরিণতি কখনো শুভ হবে না।” 

তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে আরও বলেন, “গ্যাস সরবরাহ বাড়িয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন নিশ্চিত করুন, অন্যথায় গদি ছেড়ে দিন।”

সমাবেশে আরও বক্তব্য রাখেন জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)’র কেন্দ্রীয় নেতা মোহাম্মদ আসিফ মাহমুদ সজীব এবং সংসদে বিরোধী দলের সদস্য জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম।

আয়োজনের শেষপর্যায়ে সময় স্বল্পতার কারণে সঞ্চালক নাসির উদ্দীন পাটোয়ারীর বক্তব্য না দেওয়ার ঘোষণা দিলে উপস্থিত জনতার মাঝে অসন্তোষ দেখা দেয়। জনতা সমস্বরে ‘নাসির উদ্দীনের বক্তব্য চাই’ বলে স্লোগান দিতে থাকে। পরবর্তীতে জনদাবির মুখে দাঁড়িয়ে নাসির উদ্দিন পাটোয়ারী বলেন, “এই বাংলাদেশে চাঁদাবাজ, টেন্ডারবাজ ও দুর্নীতিবাজদের কোনো ঠাঁই হবে না। সকল অন্যায়ের বিরুদ্ধে আমাদের আমরণ সংগ্রাম অব্যাহত থাকবে।” একই সাথে তিনি শহীদ হাদীর নির্মম হত্যাকাণ্ডের দ্রুত ও সুষ্ঠু বিচার দাবি করেন।

মহাসমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর ড. শফিকুর রহমান কুমিল্লা বিভাগ বাস্তবায়নের দীর্ঘদিনের গণদাবি পুনর্ব্যক্ত করে বলেন, “১৯৯৪ সাল থেকে শুরু হওয়া আপনাদের এই ন্যায়সঙ্গত দাবিটি আজ দীর্ঘ তিন দশক ধরে অমীমাংসিত পড়ে আছে। দেশের অন্যান্য অঞ্চল যখন প্রশাসনিক মর্যাদা পাচ্ছে, তখন কুমিল্লার মতো একটি ঐতিহাসিক ও ঐতিহ্যবাহী জনপদকে কেন বারবার বঞ্চিত করা হচ্ছে? 

বিভাগ গঠনের প্রশাসনিক নামকরণ প্রসঙ্গে তিনি স্পষ্ট হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “কোনো অঞ্চলের স্বকীয় নাম বা ঐতিহাসিক পরিচয় নিয়ে ছলচাতুরি করা মানে সেখানকার প্রতিটি মানুষ ও সংস্কৃতিকে অবমূল্যায়ন করা।” জনগণের প্রদত্ত গণরায়ের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, দাবি আদায় না হলে রাজপথে কঠোর আন্দোলনের মধ্য দিয়ে সরকারকে তা মানতে বাধ্য করা হবে। জোহরের ওয়াক্তের ঠিক ১৫ মিনিট আগে ড. শফিকুর রহমান তার সংক্ষিপ্ত বক্তব্যের মধ্য দিয়ে মহাসমাবেশের সমাপ্তি ঘোষণা করেন। 

Tags:

সর্বশেষ

Calendar
Mon Tue Wed Thu Fri Sat Sun
 123456
78910111213
14151617181920
21222324252627
282930  
Scroll to Top