অবৈধ ড্রেজারে বালু উত্তোলন চলছে দিনরাত: বসতবাড়ি-ফসলি জমি ধসের শঙ্কা
ফরিদগঞ্জ টাইমস ডেস্ক : সরকারের আদেশ-নির্দেশ ও নিষেধাজ্ঞার তোয়াক্কা না করেই চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জে অবৈধ ড্রেজার দিয়ে বালু উত্তোলনের হিড়িক যেন থামছেই না। প্রকাশ্যে শক্তিশালী ড্রেজার বসিয়ে দিনরাত বালু উত্তোলন করা হলেও কার্যকর ব্যবস্থা না থাকায় ক্ষোভ ও আতঙ্ক বাড়ছে স্থানীয়দের মধ্যে। সম্প্রতি ফরিদগঞ্জ পৌরসভার ৯নং ওয়ার্ডের চরকুমিরা গ্রামের মোহাব্বত আলী হাজী বাড়ির খলিফা বাড়ি সংলগ্ন একটি ফসলি জমিতে ড্রেজার বসিয়ে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের অভিযোগ উঠেছে। দিন-রাত বিরতিহীনভাবে মাটির গভীর থেকে বালু তুলে নেওয়ায় ওই এলাকার ভূপ্রকৃতি ও আশপাশের জমির স্থিতিশীলতা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, ফসলি জমির একেবারে কাছ থেকে অপরিকল্পিতভাবে বালু উত্তোলন করায় আশপাশের মাটি ধীরে ধীরে তলিয়ে যাচ্ছে। এতে বসতভিটা, বসতঘর, কৃষিজমি এবং বিভিন্ন ফলজ ও বনজ বাগান ধসে পড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। বর্ষা ও অতিবৃষ্টির সময় পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তারা। এলাকাবাসীর মধ্যে আ. রহিম ও মনোয়ার বলেন, এভাবে বালু উত্তোলন অব্যাহত থাকলে শুধু একটি জমিই ক্ষতিগ্রস্ত হবে না; আশপাশের বিস্তীর্ণ এলাকার ভিটেমাটি ও কৃষিজমি মারাত্মক ঝুঁকির মধ্যে পড়বে। ধস শুরু হলে অনেক বসতঘর ও গাছপালা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি কৃষিনির্ভর পরিবারগুলোও বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়তে পারে। সরেজমিনে গেলে একাধিক বাসিন্দা জানান, ড্রেজার দিয়ে বালু উত্তোলনের কারণে ইতোমধ্যে জমির পাড় ও আশপাশের মাটিতে পরিবর্তন দেখা দিয়েছে। বিষয়টি দ্রুত বন্ধ না করা হলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে। তারা অবৈধ ড্রেজার স্থাপন করে বালু উত্তোলনের বিরুদ্ধে দ্রুত প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন। অভিযোগ রয়েছে, সরকারি বিধি-নিষেধ উপেক্ষা করে এ ধরনের বালু উত্তোলন পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট করার পাশাপাশি জনবসতি ও কৃষিজমিকে সরাসরি ঝুঁকির মুখে ফেলছে। বিশেষ করে বসতবাড়ি ও ফসলি জমির কাছাকাছি ড্রেজার বসিয়ে বালু উত্তোলন করা হলে মাটির স্বাভাবিক গঠন দুর্বল হয়ে ধসের আশঙ্কা বাড়ে। ড্রেজার পরিচালনাকারী বকুল জানিয়েছেন, ড্রেজার দিয়ে মাটি উত্তোলনের জন্য উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছ থেকে তিনি মৌখিক অনুমতি নিয়েছেন। কিন্তু প্রশাসন বলছে ভিন্ন কথা। ইউএনওর কাছ থেকে কোনো প্রকার অনুমতির দাবি সরাসরি নাকচ করে দিয়েছেন তারা। স্থানীয়দের আশঙ্কা, এখনই কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে আগামী দিনে চরকুমিরা গ্রামের ওই এলাকার ভিটেমাটি, বসতবাড়ি, কৃষিজমি ও বাগান রক্ষায় বড় ধরনের সংকট তৈরি হতে পারে। তাই দ্রুত ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে অবৈধ ড্রেজার অপসারণ এবং বালু উত্তোলন বন্ধে প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তারা। এই বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সেটু কুমার বড়ুয়া বলেন, আইনে ‘মৌখিক অনুমতি’ বলতে কোনো সুযোগ। অবৈধ ড্রেজারের বিরুদ্ধে আমরা কঠোর অবস্থান নিচ্ছি। দ্রুত মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
