১০ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

নিজস্ব প্রতিবেদক :

পাবলিক ফান্ডের সঠিক ও স্বচ্ছ ব্যবহার নিশ্চিত করে অনন্য এক দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন চাঁদপুরের শাহরাস্তি উপজেলা প্রশাসন। সরকারি বরাদ্দের অর্থ সাশ্রয় করে উপজেলার দুটি খাল সফলভাবে খনন করার পর অবশিষ্ট ৪০ লাখ ৮০ হাজার টাকা সরকারি কোষাগারে ফেরত দেওয়া হয়েছে। শুধু অর্থ সাশ্রয়ই নয়, সুষ্ঠু পরিকল্পনা ও আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহারে লক্ষ্যমাত্রার চেয়েও বেশি খাল খনন করে সততা ও দক্ষতার স্বাক্ষর রেখেছেন সংশ্লিষ্টরা।

​উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার কার্যালয় ও সরকারি হিসাব বিবরণী সূত্রে জানা যায়, ২০২৫–২০২৬ অর্থবছরে শাহরাস্তি উপজেলার ‘খদ্দের খাল’ (ডাকাতিয়া নদীর খোর্দ্দ হতে মোড়াগাঁও বটতলা শৈলখালী খাল পর্যন্ত) এবং ‘নওড়া-মেহের গোদা খাল’ খননের উদ্যোগ নেওয়া হয়। প্রকল্প দুটির জন্য সরকারের পক্ষ থেকে বরাদ্দ রাখা হয়েছিল মোট ৪ কোটি ৩৭ লাখ ৮১ হাজার টাকা। এর মধ্যে ‘খদ্দের খাল’ খননে বরাদ্দ ছিল ৩ কোটি ৯ লাখ ২ হাজার ৪৭০ টাকা এবং ‘নওড়া-মেহের গোদা খাল’ খননে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল ১ কোটি ২৮ লাখ ৭৮ হাজার ৫৩৭ টাকা।

​উপজেলা প্রশাসনের স্বচ্ছতা ও নিবিড় তদারকির মাধ্যমে প্রকল্প কাজ সম্পন্ন শেষে দেখা যায়, নির্ধারিত লক্ষ্যের চেয়েও কম খরচে কাজ শেষ করা সম্ভব হয়েছে। খদ্দের খাল খননে খরচ হয়েছে ২ কোটি ৮৮ লাখ ৫৪ হাজার ৪১৩ টাকা এবং নওড়া-মেহের গোদা খাল খননে ব্যয় হয়েছে ১ কোটি ৮ লাখ ৪৬ হাজার ১৯৪ টাকা। দুই প্রকল্প মিলিয়ে মোট ব্যয়ের পর উদ্বৃত্ত থাকা অবশিষ্ট ৪০ লাখ ৮০ হাজার টাকা সরকারি কোষাগারে ফেরত দেওয়া হয়।

​শাহরাস্তি উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা সোহেল রানা পাপ্পু জানান, প্রাথমিকভাবে প্রকল্প দুটির আওতায় ১৯ কিলোমিটার খাল খননের লক্ষ্যমাত্রা ও বাজেট ধরা হয়েছিল। তবে বাজেট সাশ্রয় করেও দক্ষতার সাথে আধুনিক যন্ত্রপাতির সঠিক ব্যবহারের মাধ্যমে বাস্তবে প্রায় ২১ কিলোমিটার খাল খনন সম্পন্ন করা সম্ভব হয়েছে। নারী শ্রমিকের অংশগ্রহণের নির্ধারিত শর্ত বজায় রাখার পাশাপাশি প্রযুক্তিভিত্তিক কাজ করায় একদিকে যেমন সময় বেঁচেছে, অন্যদিকে সরকারি অর্থের অপচয় রোধ করা সম্ভব হয়েছে।

উপজেলা প্রশাসনের এই নজিরবিহীন সততা, কর্মদক্ষতা ও অর্থ সাশ্রয়ের বিষয়টি প্রশাসনের উচ্চপর্যায়ে ব্যাপকভাবে সমাদৃত হয়েছে। এর স্বীকৃতিস্বরূপ ৮ আগস্ট শাহরাস্তি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মুনিরা খাতুনকে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে বিশেষ সম্মানসূচক আমন্ত্রণ জানানো হয়। সেখানে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সাথে প্রকল্প বাস্তবায়ন, বাজেট ব্যবস্থাপনা, অর্থ সাশ্রয় এবং প্রশাসনিক অভিজ্ঞতা নিয়ে প্রত্যক্ষ আলোচনা হয়।

স্থানীয় বাসিন্দারা এই উদ্যোগকে অত্যন্ত ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন। স্থানীয়দের মতে, সাধারণত উন্নয়ন প্রকল্পে বাজেট বৃদ্ধির প্রবণতা দেখা গেলেও শাহরাস্তিতে বরাদ্দকৃত টাকা বাঁচিয়ে নির্ধারিত লক্ষ্যের চেয়ে বেশি কাজ করা এবং উদ্বৃত্ত টাকা রাষ্ট্রীয় তহবিলে ফেরত দেওয়ার ঘটনা সারাদেশে সরকারি প্রকল্প বাস্তবায়নে এক উজ্জ্বল ও অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।

Tags:

সর্বশেষ

Calendar
Mon Tue Wed Thu Fri Sat Sun
 123456
78910111213
14151617181920
21222324252627
282930  
Scroll to Top