২৬শে জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

তারেক রহমান তারু :

একটি ছোট্ট জরাজীর্ণ ঘর। ভাঙাচোরা দেয়াল আর টিনের চালের নিচে বাস একটি অসহায় পরিবারের। পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি ছিলেন হাবিব। দিনমজুরি ও রাজমিস্ত্রির কাজ করে কোনোরকমে চলত দুই সন্তান, স্ত্রী ও বৃদ্ধ বাবাকে নিয়ে পাঁচ সদস্যের সংসার। কিন্তু ভাগ্যের নির্মম পরিহাসে আজ সেই হাবিব নিজেই শয্যাশায়ী। চিকিৎসার অভাবে তিনি এখন স্থায়ী পঙ্গুত্বের ঝুঁকিতে।

চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জ উপজেলার উত্তর মিরপুর গ্রামের কোনার বাড়ির বাসিন্দা হাবিবের জীবন যেন একের পর এক দুর্ঘটনার শিকার। কিছুদিন আগে রাজমিস্ত্রির কাজ করতে গিয়ে গুরুতর দুর্ঘটনায় তার দুই কাঁধ প্রায় স্থানচ্যুত হয়ে যায়। স্থানীয় মানুষের সহযোগিতায় সীমিত চিকিৎসা নিয়ে আবারও জীবিকার সংগ্রামে ফিরেছিলেন তিনি।

কিন্তু সেই লড়াই বেশিদিন স্থায়ী হয়নি। জীবিকার তাগিদে গাছ থেকে ঢাল কাটতে গিয়ে ভয়াবহ দুর্ঘটনায় তার মেরুদণ্ড ভেঙে যায়। বর্তমানে তিনি চলাফেরা করতে অক্ষম। চিকিৎসকদের মতে, উন্নত চিকিৎসার জন্য প্রয়োজন প্রায় ১০ লাখ টাকা। অথচ সেই অর্থ জোগাড় করা তার পরিবারের পক্ষে একেবারেই অসম্ভব।

আজ হাবিবের বৃদ্ধ বাবা মানুষের দ্বারে দ্বারে ঘুরে ছেলের চিকিৎসার জন্য সাহায্য চাইছেন। চোখে অশ্রু, কণ্ঠে অসহায়ত্ব। তিনি বলেন, “আমার ছেলের আয়েই আমাদের সংসার চলত। আজ সে নিজেই অসহায় হয়ে বিছানায় পড়ে আছে। আমরা কীভাবে চলব, কী খাব—কিছুই জানি না। সমাজের বিত্তবান ও মানবিক মানুষদের কাছে আমার আকুল আবেদন, আপনারা আমার ছেলের পাশে দাঁড়ান। আল্লাহ আপনাদের উত্তম প্রতিদান দেবেন।”

স্থানীয়দের ভাষ্য, হাবিব ছিলেন পরিশ্রমী ও সৎ একজন মানুষ। নিজের কষ্টের কথা কখনো কাউকে বোঝাতেন না। কিন্তু আজ চিকিৎসার অভাবে তার জীবনই অনিশ্চয়তার মুখে।

মানবিক সমাজ গঠনে এমন সংকটে এগিয়ে আসাই হতে পারে সবচেয়ে বড় দায়িত্ব। একজন অসহায় বাবার চোখের জল মুছে দিতে, দুই শিশুর মাথার ওপর থেকে অনিশ্চয়তার কালো ছায়া সরিয়ে দিতে এবং হাবিবকে নতুন করে বাঁচার সুযোগ করে দিতে সমাজের বিত্তবান, দানশীল ব্যক্তি ও মানবিক সংগঠনগুলোর সহায়তা এখন সময়ের দাবি।

আসুন, আমরা সবাই মিলে হাবিবের পাশে দাঁড়াই। মানবতার হাত বাড়িয়ে একটি পরিবারকে বাঁচিয়ে তুলি।

ফরিদগঞ্জ টাইমস/কেএম

Tags:

সর্বশেষ

Calendar
Mon Tue Wed Thu Fri Sat Sun
 12345
6789101112
13141516171819
20212223242526
2728293031  
Scroll to Top