তারেক রহমান তারু :
একসময় জীবিকার তাগিদে পাড়ি জমিয়েছিলেন সৌদি আরবে। দীর্ঘ ১২ বছর প্রবাসজীবন কাটানোর পর দেশে ফিরে আর বিদেশমুখী হননি মো. রিয়াদুর রহমান রিয়াদ। নিজের মেধা, শ্রম ও উদ্যোগকে কাজে লাগিয়ে এখন তিনি নিজ গ্রামেই গড়ে তুলেছেন সফল ব্যবসা ও কৃষিভিত্তিক কর্মসংস্থানের ক্ষেত্র। বর্তমানে প্রতি মাসে প্রায় ১ থেকে ২ লাখ টাকা আয় করছেন তিনি।
মো. রিয়াদুর রহমান রিয়াদ ফরিদগঞ্জ উপজেলার ৭নং পাইকপাড়া ইউনিয়নের ৭নং ওয়ার্ডের চৌরাস্তাসংলগ্ন এলাকার বাসিন্দা। তার পিতা মৃত ফজলুর রহমান এবং মাতা মাহমুদা বেগম।
দেশে ফিরে প্রথমে ব্যবসার পাশাপাশি কৃষিকে গুরুত্ব দেন রিয়াদ। বর্তমানে তার রয়েছে ‘রাহমানিয়া ট্রেডার্স’ নামে একটি মুদি দোকান। চৌরাস্তা এলাকার মানুষের কাছে দোকানটি ইতোমধ্যে বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। সাধারণ বাজারদরের তুলনায় অধিকাংশ পণ্য প্রায় ৫ টাকা কম দামে বিক্রি করার চেষ্টা করেন তিনি। ফলে ক্রেতাদের আস্থা ও ভালোবাসায় দিন দিন তার ব্যবসার পরিধিও বাড়ছে।
তবে রিয়াদের সাফল্যের সবচেয়ে বড় গল্প কৃষিকে ঘিরে। মাছ চাষ, সবজি চাষ ও ফলদ বাগান– সবকিছুকেই তিনি নিজের কর্মপরিকল্পনার অংশ করেছেন। পুকুরে মাছ চাষের পাশাপাশি পুকুরের পাড়ে করেছেন পেঁপে ও কলার চাষ। তার বাগানে রয়েছে লেবু, নারকেল ও সুপারি গাছসহ বিভিন্ন ধরনের ফলদ ও কৃষিজ ফসল। পাশাপাশি মৌসুমি বিভিন্ন সবজিও উৎপাদন করছেন তিনি।
রিয়াদের কৃষিভিত্তিক এই উদ্যোগ শুধু তার নিজের আয়ই বাড়াচ্ছে না, বরং স্থানীয় পর্যায়ে কর্মসংস্থানেরও সুযোগ তৈরি করছে। তার বিভিন্ন কাজে এলাকার বেশ কয়েকজন যুবক যুক্ত হয়েছেন। এতে একদিকে যেমন তাদের কর্মসংস্থান হচ্ছে, অন্যদিকে গ্রামীণ অর্থনীতিতেও তৈরি হচ্ছে নতুন সম্ভাবনা।
প্রবাসজীবনের অভিজ্ঞতা থেকে রিয়াদ এখন মনে করেন– ইচ্ছা, পরিশ্রম ও সঠিক পরিকল্পনা থাকলে নিজের দেশেও সফল হওয়া সম্ভব। তাই তরুণদের বিদেশে যাওয়ার পাশাপাশি দেশে থেকে উদ্যোক্তা হওয়ার বিষয়টিও গুরুত্ব দিয়ে ভাবার আহ্বান জানান তিনি।
রিয়াদ বলেন, বিদেশে দীর্ঘসময় থেকেছি। দেশে ফিরে বুঝেছি, নিজের মাটি ও মানুষের কাছেও সফল হওয়ার অনেক সুযোগ রয়েছে। কৃষি ও ব্যবসাকে একসঙ্গে এগিয়ে নিয়ে আমি আরও বড় পরিসরে কাজ করতে চাই। ভবিষ্যতে দেশের অর্থনীতিতে উদ্যোক্তা হিসেবে বড় ভূমিকা রাখার পাশাপাশি অন্যদেরও উদ্যোক্তা হতে সহযোগিতা করতে চাই।
তিনি আরও বলেন, তরুণদের জন্য প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে ঋণ, কৃষি উপকরণ ও প্রয়োজনীয় সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করা গেলে গ্রাম থেকেই আরও অনেক সফল উদ্যোক্তা তৈরি করা সম্ভব।
রিয়াদের স্বপ্ন এখন আরও বড়। নিজের উদ্যোগকে আরও সম্প্রসারণ করে এলাকার বেকার ও তরুণদের জন্য নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করতে চান তিনি। তার বিশ্বাস, বিদেশে যাওয়ার প্রবণতা কমিয়ে তরুণদের যদি উদ্যোক্তা হওয়ার সুযোগ ও সহযোগিতা দেওয়া যায়, তাহলে গ্রামের মাটি থেকেই গড়ে উঠতে পারে দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের নতুন গল্প।
সৌদি আরবের প্রবাসজীবন পেছনে ফেলে নিজ গ্রামে ফিরে রিয়াদের এই পথচলা যেন প্রমাণ করে– সফলতার জন্য সবসময় বিদেশের মাটিতে পাড়ি জমাতে হয় না; স্বপ্ন, শ্রম আর সাহস থাকলে নিজের মাটিতেও সাফল্যের বীজ বোনা যায়।
