স্টাফ রিপোর্টার :
জনদুর্ভোগ শুধু রাস্তাঘাট বা অবকাঠামোগত সমস্যাতেই সীমাবদ্ধ নয়; এর প্রভাব পড়েছে শিক্ষার প্রাণকেন্দ্র বিদ্যালয়েও।
চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জ উপজেলার ১১নং চরদুঃখিয়া পূর্ব ইউনিয়নের সন্তোষপুর পূর্ব সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নিরাপদ ও স্বাস্থ্যসম্মত শৌচাগারের অভাবে চরম ভোগান্তিতে পড়েছে প্রায় দুই শতাধিক শিক্ষার্থী ও শিক্ষক।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বিদ্যালয়টিতে প্রায় ২০০ শিক্ষার্থী ও শিক্ষক থাকলেও তাদের ব্যবহারের জন্য রয়েছে মাত্র একটি জরাজীর্ণ, এক কক্ষবিশিষ্ট শৌচাগার। দীর্ঘদিন সংস্কার না হওয়ায় শৌচাগারটির দেয়ালের আস্তর খসে পড়েছে, ভেতরের পরিবেশ স্যাঁতসেঁতে ও অস্বাস্থ্যকর। দুর্গন্ধ এবং নাজুক অবকাঠামোর কারণে অনেক শিক্ষার্থী প্রয়োজন থাকা সত্ত্বেও শৌচাগার ব্যবহার করতে ভয় পায়। বিশেষ করে ছাত্রীদের জন্য এ পরিস্থিতি আরও বিব্রতকর ও স্বাস্থ্য ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
অভিভাবক ও স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, বারবার বিষয়টি সংশ্লিষ্ট দপ্তরের নজরে আনা হলেও এখনো কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। তাদের দাবি, একটি নিরাপদ ও আধুনিক ওয়াশব্লক নির্মাণ এখন সময়ের দাবি।
এদিকে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের দাবি, ভবনটি দোতলা না হওয়ায় নতুন ওয়াশব্লক নির্মাণের অনুমোদন মিলছে না। তবে এ ব্যাখ্যা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন এলাকাবাসী। কারণ, একই ইউনিয়নের পার্শ্ববর্তী উত্তর সন্তোষপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে একতলা ভবন থাকা সত্ত্বেও সেখানে চার কক্ষবিশিষ্ট আধুনিক ওয়াশব্লক নির্মাণ করা হয়েছে।
এমন বাস্তবতায় এলাকাবাসীর প্রশ্ন- যদি একতলা ভবনেও ওয়াশব্লক নির্মাণ সম্ভব হয়, তাহলে সন্তোষপুর পূর্ব সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা কেন সেই মৌলিক সুবিধা থেকে বঞ্চিত? শুধু প্রশাসনিক জটিলতার কারণে কি কোমলমতি শিশুদের স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা ঝুঁকির মুখে থাকবে?
শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও সচেতন মহল দ্রুত বিদ্যালয়টিতে একটি মানসম্মত ও স্বাস্থ্যসম্মত ওয়াশব্লক নির্মাণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। তাদের প্রত্যাশা, শিশুদের সুস্থ ও নিরাপদ শিক্ষা পরিবেশ নিশ্চিত করতে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হবে।
স্কুলের প্রধান শিক্ষক মো. জাহাঙ্গীর আলম খান বলেন, ২০০৮ সালে নির্মিত দুটি টয়লেটের একটি পুরোপুরি ব্যবহারের অনুপযোগী। আরেকটি টয়লেট আমরা ছাত্র-শিক্ষক উভয়েই ব্যবহার করি, কিন্তু সেটিও জরাজীর্ণ। যেকোনো সময় সেটিতে দুর্ঘটনা ঘটার আশঙ্কা আছে। তাই জরুরিভিত্তিতে এখানে একটি ওয়াশব্লক নির্মাণ করা একান্ত প্রয়োজন।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে উপজেলা শিক্ষা অফিসার শিরিন সুলতানা জানান, আমি স্কুলটি পরিদর্শন করেছি। সেখানে একটি ওয়াশব্লক খুবই জরুরি। সেজন্য আমরা জনস্বাস্থ্য দপ্তরে একটি আবেদন প্রেরণ করেছি। আশা করি খুব শীঘ্রই স্কুলটিতে ওয়াশব্লক নির্মাণ করা হবে।
উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলী ফরিদ হোসাইন ফরিদগঞ্জ টাইমসকে বলেন, এ সংক্রান্ত একটি আবেদন আমরা পেয়েছি। যত দ্রুত সম্ভব এটি আমরা বাস্তবায়ন করব।
ফরিদগঞ্জ টাইমস/কেএম
