২৭শে জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

জুলাই ২১, ২০২৬

চাঁদপুর, ফরিদগঞ্জ, ফিচার

১৬নং রূপসা দক্ষিণ ইউনিয়নের ইতিহাস ঐতিহ্যের আদ্যোপান্ত  

এস এম তাইয়্যেব হোসাইন : পরিচিতি: চাঁদপুর জেলার ফরিদগঞ্জ উপজেলা ১৫টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভা নিয়ে গঠিত প্রশাসনিক কাঠামো। এই উপজেলার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ইউনিয়ন হলো ১৬নং রূপসা দক্ষিণ ইউনিয়ন। চাঁদপুর-লক্ষ্মীপুর আঞ্চলিক মহাসড়ক এই ইউনিয়নের বুক চিরে চলে যাওয়ায় এ এলাকার যোগাযোগব্যবস্থা কিছুটা উন্নত। ইউনিয়নের পশ্চিমে ১১নং চরদুঃখিয়া (পূর্ব) ইউনিয়ন, দক্ষিণে ১৪নং ফরিদগঞ্জ দক্ষিণ (কালিরবাজার) ইউনিয়ন, পূর্বে ১৫নং উত্তর রূপসা ইউনিয়ন এবং উত্তরে লক্ষ্মীপুর জেলার রায়পুর উপজেলা অবস্থিত। ইতিহাস ও ঐতিহ্য: রূপসা দক্ষিণ ইউনিয়ন ইতিহাস ও ঐতিহ্যের এক সমৃদ্ধ এলাকা। এই ইউনিয়নের সাহেবগঞ্জ গ্রামে ঔপনিবেশিক আমলে ইউরোপীয় নীলকর বণিকরা নীল চাষের কেন্দ্র বা নীলকুঠি প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। স্থানীয়দের মুখে প্রচলিত রয়েছে- খ্রিস্টান দুইজন ব্যবসায়ী জমিদার এ অঞ্চলে ব্যবসাবাণিজ্য, যোগাযোগব্যবস্থা ও বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। তারা এখানে বসবাস শুরু করেন এবং বর্তমানে তাদের উত্তরসূরি সাহেবগঞ্জ গ্রামে বসবাস করছেন। বর্তমানে ইউনিয়নে মুসলিম, হিন্দু ও খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের মানুষ সম্প্রীতির সঙ্গে বসবাস করছেন। বিশেষ করে সাহেবগঞ্জ গ্রামে খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের বসতি ও ঐতিহাসিক গির্জা এ অঞ্চলের ধর্মীয় বৈচিত্র্যের অনন্য নিদর্শন। প্রশাসনিক কাঠামো: রূপসা দক্ষিণ ইউনিয়নের মোট আয়তন ১১.৫৭ বর্গকিলোমিটার বা ২,৮৫৮ একর। ইউনিয়নে ৯টি মৌজা ও ৯টি গ্রাম রয়েছে। এখানে একটি ইউনিয়ন পরিষদ কমপ্লেক্স, ১টি স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্র, ২টি কমিউনিটি ক্লিনিক, ১টি ভূমি অফিস, ১টি কৃষি সম্প্রসারণ অফিস এবং কয়েকটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে। ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচিত জনপ্রতিনিধির মধ্যে রয়েছেন ১ জন চেয়ারম্যান, ৯ জন সাধারণ সদস্য এবং ৩ জন সংরক্ষিত মহিলা সদস্য। এছাড়া ১ জন সচিব, ১ জন হিসাব সহকারী কাম কম্পিউটার অপারেটর, ১ জন দফাদার এবং ৯ জন মহল্লাদার (চৌকিদার) দায়িত্ব পালন করছেন। ইউনিয়নে ১০ জন গ্রামপুলিশ কর্মরত আছেন। বর্তমান ইউনিয়ন পরিষদ ভবন ১ জানুয়ারি ২০০৪ সালে স্থাপিত হয়। গ্রাম ও ওয়ার্ড বিন্যাস: রূপসা দক্ষিণ ইউনিয়ন ৯টি ওয়ার্ড নিয়ে গঠিত। প্রথম ওয়ার্ডে নলগোড়া ও রঘুনাথপুর, দ্বিতীয় ওয়ার্ডে কাওনিয়া, তৃতীয় ওয়ার্ডে কাওনিয়া ও মান্দারখীল, চতুর্থ ওয়ার্ডে চরমান্দারী ও গৃদকালিন্দিয়া, পঞ্চম ওয়ার্ডে চরমান্দারী, চরপক্ষিয়া ও পক্ষিয়াচর, ষষ্ঠ ওয়ার্ডে উত্তর সাহেবগঞ্জ ও গৃদকালিন্দিয়া, সপ্তম ওয়ার্ডে চরমুঘুয়া ও উত্তর সাহেবগঞ্জ, অষ্টম ওয়ার্ডে মধ্য সাহেবগঞ্জ এবং নবম ওয়ার্ডে দক্ষিণ সাহেবগঞ্জ গ্রাম অন্তর্ভুক্ত। যোগাযোগ ও অবকাঠামো: ফরিদগঞ্জ উপজেলা সদর থেকে ১৬নং রূপসা দক্ষিণ ইউনিয়ন পরিষদ (গৃদকালিন্দিয়া বাজার) সড়কপথে প্রায় ৪.৪ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। এই ইউনিয়ন দিয়ে চাঁদপুর-লক্ষ্মীপুর আঞ্চলিক মহাসড়ক হ‌ওয়ার কারণে ইউনিয়নের যোগাযোগব্যবস্থা অত্যন্ত সহজ। উপজেলা সদরের সঙ্গে বাস, সিএনজি ও অটোরিকশায় যোগাযোগ করা যায়। অভ্যন্তরীণ যাতায়াতে অটোরিকশা ও রিকশা ব্যবহৃত হয়। ইউনিয়নে ৬ কিলোমিটার আর অ্যান্ড এইচ সড়ক, ২৮ কিলোমিটার এলজিইডি পাকা সড়ক, ৩০ কিলোমিটার কাঁচা রাস্তা, ৩০টি পাকা সেতু, ১০০টি কালভার্ট এবং ৩০০টি গভীর নলকূপ রয়েছে। এছাড়া ১২৫টি বড় ও ২৩৩টি ছোট পুকুর রয়েছে। জনসংখ্যা ও ভোটার: ইউনিয়নের মোট জনসংখ্যা প্রায় ৩৭ হাজার। এরমধ্যে পুরুষ ১৭ হাজার ৫০০ জন এবং মহিলা ১১ হাজার ৫০০ জন বলে স্থানীয় প্রশাসনিক তথ্যসূত্রে উল্লেখ রয়েছে। ২৮ নভেম্বর ২০২০ সালের হালনাগাদ তথ্য অনুযায়ী ইউনিয়নের মোট ভোটার সংখ্যা ২৪ হাজার ৪৫৪ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ১২ হাজার ৩৩০ জন এবং মহিলা ভোটার ১২ হাজার ১১৪ জন। একই সময়ে নিবন্ধিত প্রবাসীর সংখ্যা ছিল ৯৮১ জন। নদী, খাল ও ঝিল: ডাকাতিয়া নদী মূলত রূপসা দক্ষিণ ইউনিয়নের উত্তর ও উত্তর-পূর্ব সীমান্ত ঘেঁষে নলগোড়া, রঘুনাথপুর ও কাউনিয়া গ্রামের উত্তর দিক দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে। গৃদকালিন্দিয়া বাজার থেকে উত্তর বা উত্তর-পূর্ব দিকে মাত্র ২ থেকে ৩ কিলোমিটার সামনে গেলেই ডাকাতিয়া নদীতে পৌঁছানো যায়। ইউনিয়নের উত্তর সীমান্ত দিয়ে প্রবাহিত ডাকাতিয়া নদী থেকে কয়েকটি সংযোগ খাল ভেতরের দিকে এবং পার্শ্ববর্তী রামগঞ্জ ও রায়পুর উপজেলার দিকে প্রবেশ করেছে। গৃদকালিন্দিয়া বাজার এবং সাহেবগঞ্জ নীলকুঠির আশপাশে গুপ্তের বিলের পাশ দিয়ে পানি নিষ্কাশনের জন্য খাল রয়েছে, যা ডাকাতিয়া নদীর সঙ্গে মিলিত হয়েছে। ডাকাতিয়া নদী ও খাল ঝিলের কারণে এ এলাকায় সহজে পানি পাওয়া যায়। ফলে ধান চাষ তুলনামূলকভাবে ভালো হয়। তবে খরা মৌসুমে খাল ও বিলে পানি কমে যাওয়ায় কৃষিকাজ ও চাষাবাদ কমে যায়। শিক্ষাঙ্গন: শিক্ষাক্ষেত্রে রূপসা দক্ষিণ ইউনিয়ন সমৃদ্ধ। এখানে একটি ডিগ্রি কলেজ (বর্তমানে অনার্স কলেজ), চারটি বালক উচ্চ বিদ্যালয়, দুটি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, দুটি সিনিয়র মাদ্রাসা, পাঁচটি নূরানী মাদ্রাসা, ১৪টি ফোরকানিয়া মাদ্রাসা, চারটি হাফিজিয়া মাদ্রাসা, চারটি মহিলা মাদ্রাসা, দুটি এতিমখানা, ছয়টি কিন্ডারগার্টেন, নয়টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং একটি বেসরকারি নিবন্ধিত প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে। উল্লেখযোগ্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মধ্যে রয়েছে গৃদকালিন্দিয়া হাজেরা হাসমত ডিগ্রি কলেজ, গৃদকালিন্দিয়া উচ্চ বিদ্যালয়, পূর্ব কাউনিয়া ওয়াই এম উচ্চ বিদ্যালয় এবং সাহেবগঞ্জ উচ্চ বিদ্যালয়। ইউনিয়নের গড় শিক্ষার হার ৬১ শতাংশ। রাজনৈতিক অবদান: ফরিদগঞ্জ উপজেলার এই ইউনিয়ন থেকে জাতীয় সংসদে প্রতিনিধিত্ব করেছেন ইউনিয়নের দুই কৃতি সন্তান সাবেক সংসদ সদস্য লায়ন হারুনুর রশিদ এবং মরহুম ড. মোহাম্মদ শামছুল হক ভূঁইয়া। তাঁদের রাজনৈতিক অবদান আজও এলাকাবাসীর কাছে স্মরণীয়। ধর্মীয় সম্প্রীতি: ধর্মীয় সম্প্রীতির উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত রূপসা দক্ষিণ ইউনিয়ন। এখানে রয়েছে প্রায় ৫০টি জামে মসজিদ, একটি ঐতিহাসিক খ্রিস্টান গির্জা এবং একটি বেসরকারি খ্রিস্টান ধর্মালয়। অর্থনীতি ও কৃষি: রূপসা দক্ষিণ ইউনিয়নের অর্থনীতির প্রধান ভিত্তি কৃষি। এখানকার প্রধান ফসল ধান। ধান কাটার পর মৌসুমি ফসল হিসেবে মাসকলাই ডাল চাষ করা হয়। খালের পাড় ও উর্বর জমিতে তরমুজ, বাঙ্গি, লাউ, কুমড়াসহ বিভিন্ন শীতকালীন ও গ্রীষ্মকালীন সবজি উৎপাদিত হয়। বসতবাড়ির আঙিনায় সুগন্ধি লেবু, পেয়ারাসহ বিভিন্ন ফলের গাছ রয়েছে। ইউনিয়নের সুপারি বাগানও বিশেষভাবে পরিচিত। খাল, বিল ও ঝিলসমৃদ্ধ হওয়ায় মাছ চাষ হয় এই ইউনিয়নে। মোট জমির পরিমাণ ২ হাজার ৯৩৮ দশমিক ১২ একর। এরমধ্যে কৃষিজমি ২ হাজার ৪৩৪ দশমিক ৯৪ একর, অকৃষিজমি ৪১০ দশমিক ৬৫ একর এবং খাসজমি ৯২ দশমিক ৫৩ একর।  বাজার ও বাণিজ্য: ইউনিয়নে চারটি গুরুত্বপূর্ণ হাট-বাজার রয়েছে। গৃদকালিন্দিয়া বাজার প্রতি রবিবার ও বৃহস্পতিবার বসে, যেখানে কাঁচা বাজার, মাছ, মাংস, শাকসবজি ও কোরবানির পশু বিক্রি হয়। বর্ডার মৌলভী বাজার প্রতি শনিবার ও মঙ্গলবার বসে। কুঠির বাজার প্রতি রবিবার ও বুধবার এবং চৌহমুনী বাজার প্রতি সোমবার ও বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত হয়। এসব বাজার স্থানীয় অর্থনীতির প্রাণকেন্দ্র হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। স্বাস্থ্য ও সামাজিক সুরক্ষা: স্বাস্থ্যসেবার জন্য ইউনিয়নে একটি স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্র এবং দুটি কমিউনিটি ক্লিনিক রয়েছে। শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও ক্ষুদ্রঋণ কার্যক্রমে আশা, গ্রামীণ ব্যাংক, সিসিডিএ, পিপিই ও শুকরনী সমিতিসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান কাজ করছে। ২০১৯-২০২০ অর্থবছরে ইউনিয়নের ২৬ জন প্রতিবন্ধী ভাতা পেয়েছেন এবং ৫৩৩ জন হতদরিদ্র ব্যক্তি সরকারি সহায়তার আওতায় ছিলেন। দর্শনীয় স্থান: রূপসা দক্ষিণ ইউনিয়নের উল্লেখযোগ্য ঐতিহাসিক ও দর্শনীয় স্থানের মধ্যে রয়েছে সাহেবগঞ্জ নীলকুঠি, জালালের দিঘি, জৈনপুরের হুজুরের মসজিদ, দক্ষিণ সাহেবগঞ্জ পুরাতন মসজিদ এবং সাহেবগঞ্জ খ্রিস্টান গির্জা। এসব স্থান ইতিহাস ও সংস্কৃতির গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষ্য বহন করছে। প্রখ্যাত ব্যক্তিত্ব: রূপসা দক্ষিণ ইউনিয়নের কৃতি সন্তানদের মধ্যে রয়েছেন সাবেক সংসদ সদস্য মরহুম ড. মোহাম্মদ শামছুল হক ভূঁইয়া, সাবেক সংসদ সদস্য লায়ন হারুনুর রশিদ, বীর মুক্তিযোদ্ধা মরহুম মৌলভী আইয়ুব আলী খান (সাবেক চেয়ারম্যান), মরহুম আব্দুল মতিন খান (সাবেক চেয়ারম্যান), বীর মুক্তিযোদ্ধা মরহুম মাওলানা মুসলিম (সাবেক চেয়ারম্যান), মরহুম নুর মোহাম্মদ ভূঁইয়া, মরহুম আলহাজ

ফরিদগঞ্জ, বিশেষ সংবাদ

ফরিদগঞ্জ প্রেসক্লাবের নবগঠিত কার্যনির্বাহী কমিটির অভিষেক

স্টাফ রিপোর্টার : উৎসবমুখর পরিবেশে ফরিদগঞ্জ প্রেসক্লাবের নবগঠিত কার্যনির্বাহী কমিটির অভিষেক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার সকালে প্রেসক্লাব মিলনায়তনে আয়োজিত অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন নবনির্বাচিত সভাপতি আবু হেনা মোস্তফা কামাল এবং সঞ্চালনা করেন নবনির্বাচিত সাধারণ সম্পাদক জাহিদুল ইসলাম ভুঁইয়া। অনুষ্ঠানের শুরুতে পবিত্র কোরআন তেলাওয়াত করেন প্রেসক্লাবের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক শাকিল মুশফিক। গীতা পাঠ করেন প্রেসক্লাবের সদ্য সাবেক সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও বর্তমান কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য নারায়ন রবিদাস। এরপর অতিথিদের ফুলেল শুভেচ্ছা, পরিচয় পর্ব ও শুভেচ্ছা বিনিময় অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি (ডিআরইউ) সভাপতি আবু সালেহ আকন। এসময় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন ঢাকা ক্রাইম রিপোর্টার্স ইউনিটি (ক্র্যাব)-এর সাবেক সাধারণ সম্পাদক আলাউদ্দিন আরিফ, ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির দপ্তর সম্পাদক রাশিম মোল্লা, চাঁদপুর প্রেসক্লাবের সহ-সভাপতি ও চাঁদপুর টেলিভিশন সাংবাদিক ফোরামের সভাপতি কাদের পলাশ, চাঁদপুর প্রেসক্লাবের সাংগঠনিক সম্পাদক তালহা জোবায়ের, ফরিদগঞ্জ সরকারি ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর মাসুম বিল্লাহ, ফরিদগঞ্জ থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মো. আল আমিন, ফরিদগঞ্জ আবিদুর রেজা পাইলট মডেল সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হাসিনা আক্তার, উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির সভাপতি বিল্লাল হোসাইন, উপজেলা স্কাউট কমিশনার ও ফরিদগঞ্জ মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হাসিনা আক্তার ডলি, ফরিদগঞ্জ পৌর বিএনপির সাবেক সভাপতি আমানত গাজী, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ফরিদগঞ্জ শাখার সাধারণ সম্পাদক এ কে এম হুমায়ুন কবির, হাইমচর প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক জাহিদুল ইসলাম, উপজেলা কিন্ডারগার্টেন অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি রেজাউল করিম মাসুদ, ফরিদগঞ্জ বাজার ব্যবসায়ী কমিটির সভাপতি আলী হায়দার টিপু এবং উপজেলা মৎস্যজীবী সংগ্রাম পরিষদের প্রতিনিধি অবিনাশ চন্দ্র বর্মন। এছাড়া আরও বক্তব্য রাখেন ফরিদগঞ্জ প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি মামুনুর রশিদ পাঠান ও নুরুন্নবী নোমান। বক্তারা বলেন, সাংবাদিকতার নৈতিকতা, বস্তুনিষ্ঠতা ও পেশাগত ঐক্য বজায় রেখে ফরিদগঞ্জ প্রেসক্লাব অতীতের ধারাবাহিকতা ধরে রেখে গণমানুষের কল্যাণে কাজ করবে। একই সঙ্গে সাংবাদিকদের পেশাগত দক্ষতা বৃদ্ধি ও সামাজিক দায়বদ্ধতা পালনে নবনির্বাচিত কমিটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলেও তারা আশাবাদ ব্যক্ত করেন। অনুষ্ঠানে প্রেসক্লাবের নবনির্বাচিত কার্যনির্বাহী কমিটির নেতৃবৃন্দ, সাংবাদিক, বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক, রাজনৈতিক ও পেশাজীবী সংগঠনের প্রতিনিধি এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার সুধীজন উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠান শেষে উপস্থিত অতিথিদের সম্মানে মধ্যাহ্নভোজের আয়োজন করা হয়।

আজকের সংবাদ, বিশেষ সংবাদ, মতামত

কওমী মাদ্রাসায় ছাত্র যৌন নির্যাতন : ২ শিক্ষক আটক 

অন্তর মাশ্উদ : ওর সাথে কতবার করেছেন? – তিনবার। কিন্তু ও যখন ব্যথা পাচ্ছিলো। ভয় পাচ্ছিলো। তখন আমি আর করিনি। ছেড়ে দিয়েছি। বাম পাশের এই লেবাসধারী নুরানি চেহারার শিক্ষক এভাবেই ধরা খাওয়ার পর নিজের অপকর্মের স্বীকারোক্তি দিচ্ছিলো। গ্রেফতার হওয়া শিক্ষক মাওলানা মোস্তাক শিবচরের কুতুবপুর দারুল উলুম কওমি মাদ্রাসা ও এতিমখানায় মাত্র এক মাস আগে শিক্ষক হিসেবে যোগ দেয়। ভুক্তভোগী ছাত্র যৌন নির্যাতনের শিকার হওয়ার পর বড় হুজুরকে গিয়ে অভিযোগ জানায়। বড় হুজুর রেগে গিয়ে শিশুটিকে কাউকে বললে মেরে ফেলার হুমকি দেয়। পরে গতকাল সাত বছরের নিষ্পাপ এই ছাত্রটি যখন গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় বাড়ি ফিরে সব বলে দেয়। তখন ওর অভিযুক্তকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে সব অকপটে স্বীকার করে। এক মাস আগে এই লোক যেখানে শিক্ষকতা করতো সেখানে খোঁজ নিলে জানা যাবে এমন আরও কত নিরীহ, অসহায়দের করুণ কাহিনী। যাদের পরিবার আছে, তারা তো বাসায় ফিরে গিয়ে বলতে পারে। কিন্তু যারা এতিম অসহায়। এদের বলার কেউ নেই। একই ঘটনা শনিবারে ঘটেছে লক্ষ্মীপুরে। পপুলার আইডিয়াল হিফজ মাদ্রাসা প্রধান মাওলানা আব্দুল আহাদ নিজ কক্ষে শনিবার রাতে ছাত্রকে বলাৎকার করেন। পরদিন ঐ ছাত্রও অসুস্থ অবস্থায় বাসায় ফিরে গিয়ে তাঁর পরিবারকে সব জানালে, গতরাতে আহাদও গ্রেফতার হয়। হিফজ মাদ্রাসায় সমকামীতা, বলাৎকার ও টিকটক করা নিয়ে এত এত সমালোচনা গত চার পাঁচদিন ধরে চলছিলো। সভ্য আলেম সমাজের অনেকেই ব্যাপারটি নিয়ে অত্যন্ত লজ্জিত বলেছিলেন। কওমী মাদ্রাসার অনেক শিক্ষকও এসব অপকর্মের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চেয়েছেন। চেয়েছেন সংস্কার। আর অসভ্য আলেম সমাজের অনেক প্রতিনিধিই এটাকে ষড়যন্ত্র এবং একজনের জন্য পুরো সমাজকে দায়ী করতে নিষেধ করেছে। প্রেস কনফারেন্স ডেকেছে, সাংবাদিকরা যেন এসব না লিখে। কেউ কেউ আবার আল্টিমেটামও দিয়েছেন। পুরো দেশ যখন সোশ্যাল মিডিয়ায় এসব নিয়ে আলোচনা সমালোচনায় তখনও মাদ্রাসার শিক্ষক দ্বারা এসব ঘৃণিত কর্মকান্ড অব্যহত আছে। আজকে একটা কথা বলি। আমরা যখন এদের বিরুদ্ধে মানুষকে সচেতন করার চেষ্টা করি। তখনই একদল এসে তেড়ে বসে, আমাদের মুখ বন্ধ করতে চায়। বলে, স্কুল কলেজেও তো হয়! স্কুল কলেজ আর মাদ্রাসাকে একই পাল্লায় মাপতে চায়। তাহলে শুনুন – আমরা লেবাসধারীদের বেলায় এত কেন রেগে যাই? কারণ হচ্ছে যারা ধর্ম প্রচারক হিসেবে, শিক্ষক হিসেবে সমাজে অবদান রাখছেন। আমাদের ইসলাম ধর্মেও উনাদেরকে সর্বোচ্চ সম্মান দেওয়া হয়েছে। তাদের প্রতি আমাদের অকুন্ঠ ভালোবাসা, বিশ্বাস ও শ্রদ্ধা থাকে। আমরা স্বপ্নেও ভাবিনা যে, তাদের দ্বারা আমাদের সন্তানের ক্ষতি হতে পারে। এই বিশ্বাসটা কিন্তু স্কুল বা কলেজ শিক্ষকের প্রতি ঠিক ঐভাবে থাকে না। তাই এখানকার বাবা-মায়েরা অন্ধ বিশ্বাস লালন করে, নাকে তেল দিয়ে ঘুমান না৷ সচেতন থাকেন। আপনি স্কুল কলেজে শিক্ষক দ্বারা ছাত্র বলাৎকারের ঘটনা বছরে এক দুইটার বেশী পাবেন না। ঘটে না বললেই চলে। অন্যদিকে প্রতি মাসেই অন্তত ১৫-২০ টার মতো মাদ্রাসায় বলাৎকারের ঘটনা আমরা দেখতে পাই। শুধুমাত্র সেটাই দেখতে পাই, যেটা প্রকাশ পায়। প্রকাশ না পাওয়া হাজার হাজার ঘটনা যা কখনও আমাদের সামনে আসেই না। স্কুল-কলেজেও যৌন নির্যাতন হয়। সেটা ছাত্রদের সাথে নয়, ছাত্রীদের সাথে। শিক্ষক দ্বারা ছাত্রীদেরকে যৌন নির্যাতনের ঘটনা পাবেন, হয়তো মাসে চার পাঁচটা। তাই স্কুল কলেজের সাথে নিজেদের তুলনা টানাটা নিতান্তই বোকামি…জেনেশুনে এরকম ঘৃণিত অন্যায়কে প্রশ্রয় দেওয়া। আপনি একটাবার ভাবেন, যার পেছনে আপনি নামাজ পড়ছেন। প্রতি ওয়াক্ত নামাজে নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য যাকে সম্মানিত করছেন। যে শিক্ষকের কাছে নিজে কিংবা সন্তানকে ধর্মীয় জ্ঞান শেখার জন্য পাঠাচ্ছেন। যে শিক্ষকের মুখে সূরা তিলওয়াত শুনে আপনার হৃদয় বিগলিত হয়। যে শিক্ষক কওমে লূত ধ্বংস হওয়ার ঘটনা জানে এবং এর বিরুদ্ধে জ্বালাময়ী বক্তব্য দেয়। সেই একই ধর্মীয় শিক্ষক যখন ছাত্র-ছাত্রীকে যৌন নির্যাতন করে। আপনি সেটা কীভাবে মেনে নিবেন? এই বিশ্বাসঘাতক আপনার বিশ্বাসকে তো ধুলায় মিশিয়ে দিলো। ধর্ম অবমাননাকারী এই ব্যক্তির পাপকে আপনি ধর্ম ব্যবসায় লাল বাত্তি যেন না জ্বলে, সেই খাতিরে সাপোর্ট দিবেন? শেল্টার দিবেন? তাদের অপকর্ম আড়াল করবেন? সাংবাদিকদেরকে এসব প্রচার করতে নিষেধ করবেন? বিচ্ছিন্ন ঘটনা বলবেন? স্কুল-কলেজের সাথে তুলনা দিয়ে এই ন্যাক্কারজনক ঘটনাকে লঘু করতে চাইবেন? আপনার বিবেক নাই? আপনি দেখতে পাচ্ছেন না? মানুষের মন থেকে আলেমদের প্রতি সম্মান উঠে যাচ্ছে? আলেমরা এখন একটা ভালো কথা বললেও মানুষ বলাৎকারকে টেনে দু চার লাইন শুনিয়ে দিচ্ছে। এরপরেও আপনারা এসব বন্ধে কোন ব্যবস্থা নিবেন না? মানুষের মুখ বন্ধ করার জন্য নানান ধরনের গালমন্দ আর ফতোয়া দিবেন? আমি যদি আপনাদের দলীয় সর্বোচ্চ কোন প্রতিনিধি হতাম। পুরো দেশে কয়টি মাদ্রাসা রয়েছে। তাঁর আগে তালিকা করতাম। এই মাদ্রাসা চালানোর যোগ্যতা এদের আছে কীনা। কতজন শিক্ষার্থী হলে একটি মাদ্রাসার অনুমোদন পাবে। মাদ্রাসার শিক্ষক হওয়ার জন্য ঐ ব্যক্তির আদৌ যোগ্যতা আছে কীনা! কঠিন পরীক্ষার মাধ্যমে সেটা নির্ধারিত করতাম।প্রতিটি মাদ্রাসায় প্রতিনিধি পাঠাতাম। কোন ধরণের সংকোচ ছাড়াই যাতে নির্ভয়ে প্রতিটি হিফজ মাদ্রাসায় ছাত্ররা বলতে পারে, তাদের উপর যৌন নির্যাতন কোন শিক্ষক-ছাত্র চালায় কীনা! এরপর ঐ অপরাধীদেরকে আইনের আওতায় এনে এমন ব্যবস্থা করতাম! যাতে জেলখানা থেকে বেরিয়ে আসার পরেও ঐ লোক আর জীবনে কখনও মসজিদ, মাদ্রাসায় নিয়োগ না পায়। তাকে আমি আমার ধর্মকে অবমাননা করার দ্বিতীয়বার সুযোগ আর দিতাম না। আপনাদের মাথায় কেন এরকম কঠোর এবং সংস্কারের ব্যবস্থা নেওয়ার চিন্তাভাবনা আসে না? কীসের ভয়? কীসের এত দূর্বলতা? মানুষের ভেতরে থাকা ক্ষোভ থেকে জন্ম নেওয়া ঘৃণা, ভয়, আতঙ্ক দূর করার আপনারা উপযুক্ত ব্যবস্থা যদি না নেন, অপরাধীদেরকে এভাবেই পুষেন। লালনপালন করেন। তাহলে সেদিন বেশি দূরে নয় আল্লাহ্‌র প্রতি আনুগত্য ও ভালোবাসা থেকে বিচ্যুত হয়ে আপনারা যেই ব্যবসায়িক সাম্রাজ্য গড়ে তুলেছেন। সেই ব্যবসায়ে লালবাত্তি জ্বলতে। এখনও বলছি। সরকার এবং সর্বোচ্চ পর্যায়ের আলেমগণ ব্যবস্থা নেন। নিষ্পাপ এই শিশুদেরকে লেবাসধারী দৈত্য-দানব-নরপিশাচদের হাত থেকে রক্ষা করুন। [লেখাটি অন্তর মাশ্উদ তাঁর ফেসবুক পেইজে প্রকাশ করেছেন। যেটি হুবহু ফরিদগঞ্জ টাইমসের পাঠকদের জন্য তুলে ধরা হলো।]

Scroll to Top