২৭শে জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
Chandpur passport office

নিজস্ব প্রতিবেদক: পাসপোর্ট অফিসের সামনেই বড় করে লেখা, ‘অবাঞ্ছিত ব্যক্তির নিকট যাবেন না, প্রতারণার শিকার হবেন না।’ অর্থাৎ শব্দটি দ্বারা দালাল না ধরার কথাই ইঙ্গিত করা হলেও বাস্তবতা বলছে ভিন্ন কথা। পাসপোর্ট করতে আসা সেবাগ্রহীতারা বলছেন, দালাল ধরলে পাসপোর্ট করা একেবারেই সহজ। আর না হয় নানাভাবে পড়তে হয় হয়রানির মুখে। লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হয় দীর্ঘসময়। ‘পান থেকে চুন খসলেই’ পড়তে হয় বড় বিপদে। সামান্য ভুলে সৃষ্টি হয় বড় বিপত্তি। যে কারণে ভুক্তভোগীদের কাছে আপদের চেয়েও দালাল ভালো।

অভিযোগ রয়েছে, সহযোগিতার কথা বলে প্রতি ফাইলে ঘুষ নেওয়া হয় ১৬০০ টাকা। প্রতিদিন যার পরিমাণ দাঁড়ায় প্রায় ৮ লাখ ৮০ হাজার টাকায়। সে হিসাবে বছরে এই অফিস থেকে ঘুষ লেনদেন হয় ২৩ কোটি ২৩ লাখ টাকা। একই অবস্থা চান্দগাঁও আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসেও। সেখানেও সাড়ে ৪ লাখ টাকার ঘুষ লেনদেন হয়। সে হিসাবে প্রতি মাসে লেনদেন হয় প্রায় কোটি টাকা।

সংশ্লিষ্টরা এসব বিষয় অস্বীকার করলেও ভুক্তভোগীরা বলছেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের ভালো কাজ ম্লান হচ্ছে এসব অভিযোগের কারণে। ফলে এসব স্থানে আরও বেশি জবাবদিহি আনা দরকার।

সূত্র জানায়, ঘুষের লেনদেনের পদ্ধতি এবং দালালদের ভূমিকা পাসপোর্ট অফিসের ঘুষ লেনদেনের পদ্ধতি অত্যন্ত সুসংগঠিত। প্রতিটি পাসপোর্ট ফাইলে দালালদের একটি সাংকেতিক চিহ্ন থাকে, যা অফিসের কর্মকর্তারা সহজেই চিহ্নিত করতে পারেন। এই সাংকেতিক চিহ্ন ৭৭ নম্বর কলামে দালালের ইমেইল আকারে দেওয়া হয়। সাধারণত পাসপোর্ট আবেদনকারীরা যদি এই সাংকেতিক চিহ্ন ব্যবহার না করেন, তবে তাদের নানা অজুহাতে হয়রানি করা হয়। ফলে সহজ-সরল লোকের নানাভাবে হয়রানি শিকার হন।

পুলিশকে টাকা না দিলে ভেরিফিকেশন হবে না কেন প্রশ্ন করলে এই দালাল বলেন, রিপোর্ট তো দেবেই না বরং নানা ঝামেলা সৃষ্টি করবে। আমার হাতের লেখা কাগজ এই পাসপোর্ট অফিসে ১০০ রিম আছে। এখানে আমার মতো অভিজ্ঞ আরও চার থেকে পাঁচজন আছেন।

Tags:

সর্বশেষ

Calendar
Mon Tue Wed Thu Fri Sat Sun
 12345
6789101112
13141516171819
20212223242526
2728293031  
Scroll to Top