নিজস্ব প্রতিবেদক: কেন্দ্রীয় বিএনপির প্রশিক্ষণ বিষয়ক সম্পাদক ও দলের উপদেষ্টা রাশেদা বেগম হীরা তৃতীয়বারের মতো সংরক্ষিত নারী আসনের জন্য চূড়ান্তভাবে মনোনীত হয়েছেন। এর মধ্য দিয়ে তিনি আবারও জাতীয় সংসদে প্রতিনিধিত্ব করার সুযোগ পাচ্ছেন।
রাশেদা বেগম হীরার পৈতৃক বাড়ি চাঁদপুর জেলার রামপুর ইউনিয়নের আলগী গ্রামে। তিনি ১৯৮১ সালে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এমএ এবং ১৯৯০ সালে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এমফিল ডিগ্রি অর্জন করেন।
ছাত্রজীবন থেকেই রাজনীতিতে সক্রিয় হীরা ১৯৭৯ সালে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল-এর রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত হন। তিনি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সামসুন্নাহার হলের সহ-সভাপতি (ভিপি) ও সাধারণ সম্পাদক (জিএস) পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। ছাত্রনেত্রী হিসেবে ১৯৮১ সালে শহিদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও দেশনেত্রী খালেদা জিয়া-এর সঙ্গে রাষ্ট্রীয় সফরে নেপাল ভ্রমণের সুযোগ পান।
পেশাগত জীবনে তিনি ১৯৮৪ থেকে ১৯৯০ সাল পর্যন্ত Oxfam, Save the Children এবং Voluntary Service Overseas (VSO)- সহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থায় জেন্ডার বিশেষজ্ঞ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। একই সময়ে তিনি রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডেও সক্রিয় ছিলেন এবং ১৯৯০ সালের স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনসহ দলের বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশ নেন।
রাশেদা বেগম হীরা এর আগে ৮ম ও ৯ম জাতীয় সংসদে সংরক্ষিত নারী আসনে বিএনপির মনোনয়নে সংসদ সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। এছাড়া তিনি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য, কেন্দ্রীয় মহিলা দলের চট্টগ্রাম বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক, জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি এবং জাতীয়তাবাদী মহিলা দল চাঁদপুর জেলা শাখার সভানেত্রী হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন।
পূর্ববর্তী সময়ে আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে বিএনপির কর্মসূচি চলাকালে রাজধানীর পল্টন এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে পুলিশের কাজে বাধা দেয়ার অভিযোগে দায়ের করা মামলায় জামিনের আবেদন করলে আদালত তা নামঞ্জুর করেন।
ব্যক্তিগত জীবনে রাশেদা বেগম হীরার স্বামী অবসরপ্রাপ্ত চট্টগ্রাম বিভাগীয় খাদ্য কর্মকর্তা মরহুম মো. রফিকুল ইসলাম মজুমদার।
মনোনয়ন পাওয়ার প্রতিক্রিয়ায় তিনি বিএনপির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ চাঁদপুরের সংশ্লিষ্ট সংসদ সদস্যদের প্রতি ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন।
দলীয় নেতাকর্মীরা আশা করছেন দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা ও সাংগঠনিক দক্ষতার মাধ্যমে রাশেদা বেগম হীরা সংসদে নারীর প্রতিনিধিত্ব আরও শক্তিশালী করতে ভূমিকা রাখবেন।
