২রা জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

ফরিদগঞ্জ প্রতিনিধি :
পেশী শক্তি প্রয়োগ করে নিজ ভূমিতে দোকানঘর নির্মাণ করা দেওয়াল ভেঙ্গে দিয়েছে প্রতিপক্ষ। এমন অভিযোগ এনে ফরিদগঞ্জ থানায় একটি অভিযোগও দায়ের করেছেন ভুক্তভোগী মিজানুর রহমান।
উপজেলার ১৬নং রূপসা দক্ষিণ ইউনিয়নের কাউনিয়া গ্রামের ভুক্তভোগী প্রবাসী মিজানুর রহমান একই বাড়ির সৈয়দ আহম্মদ মাস্টার, বাহার হোসেন, দেলোয়ার হোসেন ও সোহেলসহ অজ্ঞাত নামা ২-৩ জনকে বিবাদী করে ফরিদগঞ্জ থানায় লিখিত অভিযোগ করেন। ঘটনাটি ৫ মার্চ বৃহস্পতিবার কাওনিয়া গ্রামের বটতলায় ঘটে।
সরেজমিনে গিয়ে জানাযায়, মিজানুর রহমান দীর্ঘ দুই যুগের বেশি সময় প্রবাসে অবস্থান করছেন, মাথার ঘাম পায়ে ফেলে দেশে রেমিটেন্স পাঠান। বহু চেষ্টার পর দলিল মূল্যে নিজ সম্পত্তির মধ্যে কষ্টের টাকায় দোকানঘর নির্মাণের উদ্যোগ নেন। বাড়ির মুরুব্বি ও স্থানীয় গণ্যমান্যদের শালিশীর মাধ্যে সম্পত্তি বুঝে ফেলেও ভোগ দখলে যেতে দিচ্ছেননা চাচাতো ভাইয়েরা। সরকার প্রবাসীদেরকে রেমিটেন্স যোদ্ধা হিসেবে স্বীকৃত দিলের প্রতিবেশিরা করছে অত্যাচার। জোরপূর্বক সম্পত্তি দখল ও দোকানঘর নির্মাণ কালে বাধা প্রধানসহ ভেঙ্গে ফেলা হয় দেওয়াল। নিরুপায় হয়ে থানায় অভিযোগ করলেও তেমন কোন কুলকিনারা পাচ্ছেন না। বরং বাড়ি থেকে উৎখাত ও হত্যার হুমকি পাচ্ছেন। এমনটাই সাংবাদিকদের জানালেন প্রবাসী মিজানুর রহমান। তিনি আরও বলেন, ‘আমি একজন প্রবাসী, বিদেশে গিয়ে দেশে রেমিটেন্স পাঠাচ্ছি। আমরা দেশ গড়ার ভূমিকা নিলেও দেশের মানুষের কাছে হচ্ছি নির্যাতনের শিকার। কোন উপায় খুঁজে পাচ্ছি না। প্রশাসনের কাছে এর সুস্থ সামাধান চাই।’
মিজানুর রহমানের স্ত্রী শিউলি বেগম জানান, নানা শ্বশুর আমার স্বামী ও দেবরকে এই জায়গাটা রেজি. করে দিয়ে গেছেন। আমরা আমাদের দলিলমূলে মালিকানা ভূমিতে দখলে গেলে বার বার ওরা বাধা সৃষ্টি করছে। তাদের দাবী এ জমির মালিক তারা কিন্তু এর পক্ষে কোনো কাগজপত্র দেখাতে পারছেনা। এ নিয়ে একাধিকবার এলাকায় বসলেও তারা সিদ্ধান্ত মানছেন না। আওয়ামীলীগের আমলেও তারা জোরজবরদস্তি করেছে এখনো করছে। তারা কাউকে মানছে। আমরা থানাতে অভিযোগ করেছি কিন্তু কেন জানি তারাও বিষয়টি গুরুত্ব দিচ্ছেন না। আমার স্বামী প্রবাস থেকে এসে এই জায়গাতে দোকানঘর নির্মাণ করতে গেলে তার এক চাচা ও চাচাত ভাইরা মিলে কাজ চলাবস্থা দেওয়াল ভেঙ্গে ফেলে এবং আমাদেরকে মারতে আসে।
অভিযুক্ত মো. বাহার সাংবাদিকদের বলেন,‘আমি বাচ্চাকে নিয়ে হসপিটালে ব্যস্ত আছি, এ বিষয়ে কথা বলতে পারবো না।’ অপর এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন- আমি জানিনা আপনি এ ছাড়া অন্য কার সাথে কথা বলবেন।
পুলিশ কর্মকর্তা মো. আলী বলেন- এ সংক্রান্ত একটি অভিযোগ রয়েছে। আমরা তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নিবো।
সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মোরশেদ বলেন- বিষয়টি দুঃখ জনক। ওরা আমার কাছ থেকে সময় নেওয়ার পরও ওয়ালটি ভেঙ্গে দিয়েছে। দুই পক্ষের সাথে কথা বলে আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি বসে বিষয়টি সামাধান করবো। কিন্তু বসার আগেরদিনই তারা (বাহার) এই কাজটি করলো। যেহেতু তারা (বাহার) আমাদেরকে মানে না, তাই ওরা (মিজান) বাধ্য হয়ে থানার আশ্রয় নিয়েছে।

সর্বশেষ

Calendar
Mon Tue Wed Thu Fri Sat Sun
1234567
891011121314
15161718192021
22232425262728
2930  
Scroll to Top