২রা জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

নিজস্ব প্রতিবেদক: অংশীজনদের সর্বসম্মতিক্রমে ‘কোনও শিক্ষার্থী নিজ বিদ্যালয়ে মোবাইল ফোন আনতে পারবে না এবং কোনও শিক্ষক মোবাইল নিয়ে শ্রেণিকক্ষে প্রবেশ করতে পারবে না’ সহ ১৩ নির্দেশনা অনুসরণ করার জন্য চাঁদপুরের শিক্ষা সংশ্লিষ্ট দফতরে চিঠি দিয়েছেন জেলা প্রশাসক।
 
শুক্রবার (২৯ আগস্ট) জেলার মাধ্যমিক পর্যায়ে শিক্ষার মানোন্নয়নে জেলা প্রশাসকের স্বাক্ষরিত এক পত্রে ১৩ নির্দেশনা প্রতিপালনের বিষয়টি নিশ্চিত করেন জেলা প্রশাসক (ডিসি) মোহাম্মদ মোহসীন উদ্দিন।

সর্বশেষ এ বছর এসএসসি পরীক্ষার ফলাফল বিপর্যয়ের পর চাঁদপুর জেলার সর্বমহলে শিক্ষার মান নিয়ে প্রশ্ন ওঠে এবং এমন পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের উদ্যোগ নেওয়া হয়।

জেলা প্রশাসক বলেন, জেলার মাধ্যমিক পর্যায়ে শিক্ষার মানোন্নয়নে করণীয় নির্ধারণের নিমিত্তে গত ১২ আগস্ট শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক, শিক্ষানুরাগী ব্যক্তি এবং শিক্ষা সংশ্লিষ্ট দফতরের প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে কর্মশালার আয়োজন করা হয়। কর্মশালায় মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার মান বৃদ্ধির জন্য এসব সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়।

সিদ্ধান্তগুলো হলো- কোনও শিক্ষার্থী নিজ বিদ্যালয়ে মোবাইল ফোন আনতে পারবে না এবং কোন শিক্ষক মোবাইল নিয়ে শ্রেণি কক্ষে প্রবেশ করতে পারবে না। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শতভাগ শিক্ষার্থী উপস্থিতি নিশ্চিত করতে হবে। কোনও শিক্ষার্থী একাধারে ৩ দিন অনুপস্থিত থাকলে অভিভাবকের সঙ্গে যোগাযোগ করে প্রয়োজনে তার বাড়ি পরিদর্শন করতে হবে।

শিক্ষকরা শ্রেণিকার্যক্রম শুরুর ন্যূনতম ১৫ মিনিট আগে বিদ্যালয়ে উপস্থিত হবেন এবং প্রতিষ্ঠান প্রধান তা নিশ্চিত করবেন। নির্ধারিত সময়ে উপস্থিত না হলে বিধিমতে ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। শ্রেণিকার্যক্রম শুরুর আগে কোনও শিক্ষক প্রাইভেট পড়াতে পারবে না। ‘শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকদের কোচিং বাণিজ্য বন্ধ নীতিমালা-২০১২ অনুসরণ করতে হবে। শ্রেণিকক্ষে পাঠদানকে গুরুত্ব প্রদান করতে হবে।

প্রতি মাসে শ্রেণিভিত্তিক অভিভাবক সমাবেশ বা প্যারেন্টস ডে আয়োজন করতে হবে। শিক্ষার্থীদের নিয়মিত হোমওয়ার্ক প্রদান করতে হবে এবং ক্লাসে হোমওয়ার্ক জমাদানে ছাত্রছাত্রীদের বাধ্য করতে হবে। বিদ্যালয়ের ডিজিটাল ল্যাব এবং অন্য সরঞ্জামের ব্যবহার বৃদ্ধি করতে হবে। শ্রেণি কার্যক্রমের জন্য শিক্ষক নির্বাচনে সংশ্লিষ্ট বিষয়ের দক্ষতাকে একমাত্র মাপকাঠি হিসেবে বিবেচনা করতে হবে।

বিষয়ভিত্তিক ক্লাস টেস্ট নিয়মিত গ্রহণ করতে হবে। মাসে কমপক্ষে দুই বার প্রতি বিষয়ে ক্লাস টেস্ট নিতে হবে। সিলেবাস, পরীক্ষার প্রশ্নপত্র বিদ্যালয়ের উদ্যোগে প্রণয়ন করতে হবে।

বাড়ি থেকে দুপুরের খাবার অর্থাৎ হালকা নাশতা প্রদানের জন্য অভিভাবকদের উৎসাহিত করতে হবে। প্রতিদিন টিফিন ব্রেকের পর হাজিরা গ্রহণ করতে হবে। টিফিন ব্রেকের পর অনুপস্থিতির তথ্য অভিভাবককে জানাতে হবে। শ্রেণিকক্ষে আসন সংখ্যার বেশি শিক্ষার্থী ভর্তি করা যাবে না।

জেলা প্রশাসক আরও বলেন, প্রথমত শিক্ষার্থীদের নৈতিক শিক্ষা দিতে হবে। পাশাপাশি শিক্ষার মানোন্নয়নে অভিভাবক, শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের সক্রিয় ভূমিকা রাখতে হবে। ন্যূনতম এই ১৩ নির্দেশনা প্রতিপালন করলে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে শৃঙ্খলা ও গুণগত মান অনেকটা নিশ্চিত হবে।

সর্বশেষ

Calendar
Mon Tue Wed Thu Fri Sat Sun
1234567
891011121314
15161718192021
22232425262728
2930  
Scroll to Top