নিজস্ব প্রতিনিধি :
চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় উৎসব উল্টো রথযাত্রা উৎসাহ-উদ্দীপনা, ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও ভক্তিময় পরিবেশে পালিত হয়েছে। উপজেলার বিভিন্ন মন্দিরে বিশেষ পূজা, কীর্তন, প্রসাদ বিতরণ এবং বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রার মধ্য দিয়ে দিনব্যাপী উৎসব উদযাপিত হয়।
উল্টো রথযাত্রা উপলক্ষে ফরিদগঞ্জ লক্ষ্মী নারায়ণ জিউড় আখড়া থেকে এক বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা বের করা হয়। শোভাযাত্রাটি উপজেলার প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে দাসপাড়া রাধাগোবিন্দ মন্দিরে গিয়ে শেষ হয়।
এছাড়া গুপ্টি কাত্যায়ণী মন্দির, আষ্টা মহামায়া মন্দির ও কবিরূপসা জগন্নাথ মন্দিরে শোভাযাত্রা বের করা হয়। হরিনাম সংকীর্তন, শঙ্খধ্বনি ও ধর্মীয় সংগীতে মুখর হয়ে ওঠে পুরো এলাকা। নানা বয়সী নারী-পুরুষ ও শিশুদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ উৎসবকে আরও প্রাণবন্ত করে তোলে।
এদিকে উল্টো রথযাত্রা উপলক্ষে উপজেলার ছয়টি স্থানে ধর্মীয় অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। এগুলো হলো– ফরিদগঞ্জ দাসপাড়া রাধাগোবিন্দ মন্দির, গুপ্টি কাত্যায়ণী মন্দির, ফরিদগঞ্জ ইসকন মন্দির, কবিরূপসা জগন্নাথ মন্দির, আষ্টা মহামায়া মন্দির এবং গুপ্টি জ্ঞানপ্রদায়ণী হরিসভা মন্দির।
শোভাযাত্রায় উপস্থিত ছিলেন ফরিদগঞ্জ উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সাবেক সভাপতি হিতেশ চন্দ্র শর্মা, বর্তমান আহ্বায়ক কমিটির সদস্য সচিব প্রবীর চক্রবর্তী, সদস্য ও উপজেলা হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের সাংগঠনিক সম্পাদক নারায়ন রবিদাস এবং সুবর্ণচর উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক রতন তালুকদারসহ স্থানীয় সনাতন সমাজের নেতৃবৃন্দ।
সনাতন ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, রথযাত্রায় ভগবান শ্রী জগন্নাথ, বড় ভাই বলভদ্র ও বোন সুভদ্রা মাসির বাড়ি গমন করেন এবং নয়দিন পর উল্টো রথযাত্রার মাধ্যমে নিজ মন্দিরে ফিরে আসেন। এই প্রত্যাবর্তন শুভশক্তির জয়, মানবকল্যাণ, ভক্তি ও ঐক্যের প্রতীক হিসেবে বিবেচিত হয়। ভক্তদের বিশ্বাস, ভগবান শ্রীজগন্নাথের রথ দর্শন ও রথ টানার মাধ্যমে পুণ্য অর্জন হয় এবং জীবনে শান্তি, মঙ্গল ও সমৃদ্ধি লাভ করা যায়।
উৎসবকে কেন্দ্র করে ফরিদগঞ্জজুড়ে ছিল আনন্দ, উৎসব ও সম্প্রীতির আবহ। ধর্মীয় এই আয়োজন সনাতন সম্প্রদায়ের পাশাপাশি বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের মধ্যেও উৎসবের আমেজ ছড়িয়ে দেয়।
ফরিদগঞ্জ টাইমস/কেএম
