নিজস্ব প্রতিবেদক: চাঁদপুর শহরের রহমতপুর আবাসিক এলাকায় মাদক বিক্রিতে বাধা দেওয়াকে কেন্দ্র করে মোজাম্মেল পাটওয়ারী (২৫) হত্যা মামলায় প্রধান আসামি মো. বশিরকে (৪৪) যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাকে এক লাখ টাকা অর্থদণ্ড, অনাদায়ে আরও ৬ মাসের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৭ মে) দুপুরে চাঁদপুরের সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ সামছুন্নাহার এ রায় ঘোষণা করেন। দণ্ডপ্রাপ্ত বশির রহমতপুর আবাসিক এলাকার ২১ নম্বর বাসার মৃত তাজুল ইসলাম মেম্বারের ছেলে। নিহত মোজাম্মেল একই এলাকার ৯৬ নম্বর বাসার বাসিন্দা সিরাজুল ইসলাম পাটওয়ারীর ছেলে।
মামলার বিবরণে জানা যায়, বশির একজন চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী ছিলেন। এলাকায় মাদক বিক্রিতে বাধা দেওয়ায় মোজাম্মেলের সঙ্গে তার বিরোধ তৈরি হয়। এক পর্যায়ে মাদক মামলায় গ্রেপ্তার হওয়ার পর বশির সন্দেহ করেন, মোজাম্মেলই তাকে পুলিশে ধরিয়ে দিয়েছেন।
পরে জামিনে বের হয়ে ২০১২ সালের ২০ ডিসেম্বর রাত সাড়ে ৮টার দিকে নিজ বাড়ির সামনে মোজাম্মেলকে লাঠি দিয়ে পিটিয়ে গুরুতর আহত করেন বশির ও তার পরিবারের সদস্যরা। স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে প্রথমে চাঁদপুর সরকারি জেনারেল হাসপাতালে নেন। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নেওয়ার পথে ২১ ডিসেম্বর রাত ১টার দিকে তার মৃত্যু হয়।
ঘটনার পরদিন ২২ ডিসেম্বর নিহতের মা মরিয়ম বেগম চাঁদপুর সদর মডেল থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলায় প্রধান আসামি করা হয় বশিরকে এবং সহযোগী আসামি হিসেবে তার ভাই মো. নাছির, মো. মামুন, মো. মহিসন ও মা মনি বেগমকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। তদন্ত শেষে ২০১৬ সালের ১৬ আগস্ট তৎকালীন উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. নাজমুল হক কামাল আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন।
আসামিপক্ষে আইনজীবী ছিলেন অ্যাডভোকেট মজিবুর রহমান। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী পাবলিক প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট কুহিনুর বেগম জানান, দীর্ঘ বিচার প্রক্রিয়ায় আদালত ১০ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ করে। সাক্ষ্য-প্রমাণ ও নথিপত্র পর্যালোচনা এবং আসামির স্বীকারোক্তির ভিত্তিতে বিচারক এ রায় দেন। অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় অন্য আসামিদের খালাস দেওয়া হয়েছে।
