২৯শে অক্টোবর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

Author name: Nazrul Islam

আজকের সংবাদ, স্বাস্থ্য

সফল অস্ত্রোপচার: নারীর পেট থেকে ৪ কেজি ৮০০ গ্রাম টিউমার অপসারণ

নিজস্ব প্রতিবেদক : চাঁদপুরের শাহরাস্তিতে এক নারীর পেট থেকে ৪ কেজি ৮০০ গ্রাম ওজনের বিশাল আকৃতির একটি টিউমার সফলভাবে অপসারণ করেছেন চিকিৎসকরা। শুক্রবার (৭ আগস্ট) বিকেলে উপজেলার মেডিল্যাব হসপিটাল অ্যান্ড ট্রমা সেন্টারে প্রায় দুই ঘণ্টাব্যাপী জটিল অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে টিউমারটি অপসারণ করা হয়। হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, শাহরাস্তি উপজেলার টামটা উত্তর ইউনিয়নের ৩৬ বছর বয়সী ওই নারী গত তিন মাস ধরে তলপেটে তীব্র ব্যথা ও অস্বাভাবিক ফোলাভাব নিয়ে ভুগছিলেন। পরে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হলে বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে তার পেটে বিশাল আকৃতির টিউমার শনাক্ত করা হয়। রোগীর শারীরিক অবস্থা বিবেচনায় দ্রুত অস্ত্রোপচারের সিদ্ধান্ত নেন চিকিৎসকরা। অভিজ্ঞ সার্জন ডা. মো. আরিফ উল হাসানের নেতৃত্বে অস্ত্রোপচারটি সম্পন্ন হয়। এতে সহযোগী সার্জন হিসেবে ছিলেন ডা. রেজোয়ানা সুলতানা রাখি ও ডা. মোহাম্মদ জিলানী। অ্যানেসথেসিয়ার দায়িত্ব পালন করেন ডা. পান্না লাল সাহা। অস্ত্রোপচারের বিষয়ে ডা. মো. আরিফ উল হাসান বলেন, “রোগীর শারীরিক অবস্থা বিবেচনায় অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে প্রায় দুই ঘণ্টা ধরে অস্ত্রোপচার করা হয়। সফলভাবে তার পেট থেকে ৪ কেজি ৮০০ গ্রাম ওজনের টিউমারটি অপসারণ করা হয়েছে।” তিনি জানান, এর আগে বিভিন্ন শারীরিক সমস্যার কারণে ওই নারীর পেটে চারবার অস্ত্রোপচার করা হয়েছিল। সর্বশেষ অস্ত্রোপচারটি পঞ্চমবারের মতো ছিল তার।  তবে অস্ত্রোপচার সফল হলেও ওই নারী গণমাধ্যমের কাছে তার নাম-পরিচয় প্রকাশ করতে অনিচ্ছা প্রকাশ করেছেন। হাসপাতাল সূত্রে আরও জানা যায়, বর্তমানে ওই নারী চিকিৎসকদের নিবিড় পর্যবেক্ষণে রয়েছেন। তার শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল এবং তিনি আশঙ্কামুক্ত রয়েছেন। উল্লেখ্য, ডা. আরিফ উল হাসান এর আগেও বড় আকারের ও জটিল টিউমার অপসারণ করে আলোচনায় এসেছেন। ২০২৪ সালের এপ্রিলে তিনি এক নারীর পেট থেকে ৮ কেজি ২০০ গ্রাম ওজনের একটি টিউমার অপসারণ করেন। চলতি বছরের জুন মাসে অন্য এক তরুণীর পেট থেকে প্রায় ৩ কেজি ওজনের টিউমারও সফলভাবে অপসারণ করেন তিনি। এছাড়া পায়ুপথে আটকে থাকা একটি ডাব অস্ত্রোপচার ছাড়াই বের করে এনেও আলোচনায় আসেন এই চিকিৎসক। 

আজকের সংবাদ, সর্বশেষ

বিএনপি নেতাকে ‘পরকালে পাঠানোর’ হুমকি

নিজস্ব প্রতিবেদক :  ঢাকার সাভারের আশুলিয়ায় বিএনপির এক নেতার বাড়ির ফটকের সামনে কাফনের কাপড়, গুলি, আতর, গোলাপজল ও সাবানসহ একটি চিঠি রেখে হত্যার হুমকি দিয়েছে দুর্বৃত্তরা। এ ঘটনায় স্থানীয় নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি হয়েছে। হুমকি পাওয়া বিএনপি নেতা মো. ইসমাইল হোসেন মোল্লা আশুলিয়ার ইয়ারপুর ইউনিয়ন বিএনপির জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি। তিনি আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে সদস্য (মেম্বার) পদপ্রার্থী হিসেবে প্রস্তুতি নিচ্ছেন। পরিবারের সদস্যরা জানান, শুক্রবার ভোর ৫টার দিকে বাড়ির ফটকের সামনে বাজারের ব্যাগের মতো একটি ব্যাগ দেখতে পান ইসমাইল হোসেন মোল্লা। ব্যাগটি খুলে এর ভেতরে একটি হুমকির চিঠি, কাফনের কাপড়, একটি গুলি, আতর, গোলাপজল ও সাবান দেখতে পান তারা। পরে বিষয়টি আশুলিয়া থানা পুলিশকে জানানো হলে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে ব্যাগটি জব্দ করে। চিঠিতে ইসমাইল হোসেন মোল্লাকে উদ্দেশ্য করে বলা হয়েছে, তিনি ও তার পরিবারের সদস্যরা যেভাবে চলছেন, তা ভালো হচ্ছে না। নিজেদের সংশোধন না করলে ‘অদৃশ্য’ কেউ তার কাছে পৌঁছে যাবে এবং তাকে পরকালে চলে যেতে হবে বলে হুমকি দেওয়া হয়। চিঠির শেষে ‘অদৃশ্য মুসাফির’ নামে স্বাক্ষর করা হয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপি নেতা মো. ইসমাইল হোসেন মোল্লা বলেন, “ভোররাতে অজ্ঞাত এক ব্যক্তি ব্যাগটি বাড়ির গেটে রেখে যায়। রাজনৈতিক ও সামাজিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় থাকা এবং আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে মেম্বার পদপ্রার্থী হিসেবে প্রস্তুতি নেওয়ায় কোনো কুচক্রী মহল আমাকে ও আমার পরিবারকে ভয়ভীতি দেখানোর উদ্দেশ্যে এ ন্যক্কারজনক ঘটনা ঘটিয়েছে। তবে আমি এই হুমকিতে ভয় পাই না। এ ব্যাপারে আইনি পদক্ষেপ নেব।” আশুলিয়া থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আবু তালেব ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, সংবাদ পেয়ে সকালে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে আলামত সংগ্রহ করেছে। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনাসহ জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। এ ঘটনায় থানায় মামলার প্রস্তুতি চলছে। আশুলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ তরিকুল ইসলাম বলেন, “ব্যাগ থেকে কাফনের কাপড়, একটি গুলি, আতর, গোলাপজল, সাবান ও একটি চিঠি উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।”

আজকের সংবাদ, চাঁদপুর

ইকরাম চৌধুরীর ৬ষ্ঠ মৃত্যুবার্ষিকী পালিত

নিজস্ব প্রতিবেদক :  চাঁদপুর প্রেস ক্লাবের সাবেক সভাপতি ও দৈনিক চাঁদপুর দর্পণের প্রতিষ্ঠাতা সাংবাদিক নেতা মরহুম ইকরাম চৌধুরীর ৬ষ্ঠ মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে দোয়া ও মিলাদ মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার (৮ আগস্ট) বাদ আছর শহরের নাজিরপাড়াস্থ চাঁদপুর সরকারি কলেজ জামে মসজিদে দৈনিক চাঁদপুর দর্পণ পরিবারের উদ্যোগে এ দোয়া ও মিলাদ মাহফিলের আয়োজন করা হয়। মিলাদ ও দোয়ার পূর্বে বক্তব্য রাখেন চাঁদপুর প্রেস ক্লাবের সভাপতি সোহেল রুশদী। তিনি বলেন, “চাঁদপুর প্রেস ক্লাবের সাবেক সভাপতি মরহুম ইকরাম চৌধুরীর আজ ৬ষ্ঠ মৃত্যুবার্ষিকী। চাঁদপুর প্রেস ক্লাবের পক্ষ থেকে আমি মরহুম ইকরাম চৌধুরীর প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানাই এবং তাঁর রুহের মাগফিরাত কামনা করছি। মহান আল্লাহ যেন তাঁকে জান্নাত নসিব করেন।” তিনি আরও বলেন, মরহুম ইকরাম চৌধুরী চাঁদপুর প্রেস ক্লাবের একাধিকবার সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেছেন। চাঁদপুর প্রেস ক্লাবের বর্তমান বহুতল ভবন নির্মাণেও তাঁর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। তৎকালীন সভাপতি অ্যাডভোকেট ইকবাল-বিন-বাশার ও সাধারণ সম্পাদক ইকরাম চৌধুরীর নেতৃত্বে প্রেস ক্লাবের অবকাঠামোগত উন্নয়ন এগিয়ে যায়। সোহেল রুশদী বলেন, “ইকরাম চৌধুরী ছিলেন সাংবাদিকদের নেতা ও সাংবাদিকবান্ধব মানুষ। আমি দৈনিক চাঁদপুর দর্পণে কাজ করার সুবাদে তাঁর সান্নিধ্য পেয়েছি। তিনি আমাকে ছেলের মতো স্নেহ করতেন। তাঁর কাছ থেকে অনেক কিছু শেখার সুযোগ হয়েছে। সাংবাদিকদের কল্যাণে তিনি দীর্ঘদিন কাজ করেছেন। সাংবাদিকদের কাছে তিনি ছিলেন অত্যন্ত জনপ্রিয় ও শ্রদ্ধেয়। চাঁদপুর প্রেস ক্লাব ও সাংবাদিক সমাজ তাঁকে আজীবন স্মরণ করবে।” চাঁদপুর প্রেস ক্লাবের সিনিয়র সদস্য, মরহুমের ভাই ও দৈনিক চাঁদপুর দর্পণের প্রধান সম্পাদক মুনির চৌধুরীর পরিচালনায় দোয়া অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন চাঁদপুর প্রেস ক্লাবের সাবেক সভাপতি কাজী শাহাদাত, সাবেক সভাপতি ও মরহুমের ভাই এবং দৈনিক চাঁদপুর দর্পণের ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক শরীফ চৌধুরী, সাবেক সভাপতি মাওলানা এ এইচ এম আহসান উল্লাহ, দৈনিক চাঁদপুর প্রবাহের যুগ্ম সম্পাদক হাসান মাহমুদ, চাঁদপুর ফটোজার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি অ্যাডভোকেট চৌধুরী ইয়াসিন ইকরাম, চাঁদপুর জেলা পরিষদের প্রশাসনিক কর্মকর্তা শেখ মহিউদ্দিন রাসেল, চাঁদপুর প্রেস ক্লাবের সদস্য আশ্রাফুল আলম, দৈনিক চাঁদপুর দর্পণের সিনিয়র স্টাফ রিপোর্টার সুজন চৌধুরী, সাংবাদিক আলমগীর পাটোয়ারীসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমের সাংবাদিক ও মুসল্লিরা। দোয়া ও মোনাজাত পরিচালনা করেন চাঁদপুর সরকারি কলেজ জামে মসজিদের ইমাম ও খতিব হাফেজ মাওলানা নিজামুল হক। মোনাজাতে মরহুম ইকরাম চৌধুরীর রুহের মাগফিরাত, তাঁর কবরের আজাব মাফ এবং জান্নাতুল ফেরদৌস নসিবের জন্য মহান আল্লাহর কাছে দোয়া করা হয়। 

আজকের সংবাদ, খেলাধুলা, ফরিদগঞ্জ

পানিয়ালা প্রিমিয়ার লীগে ফাইনালে ফরিদগঞ্জ ফুটবল একাডেমি

নিজস্ব প্রতিবেদক :  পানিয়ালা প্রিমিয়ার লীগ (PPL) সিজন-৬ মোটরসাইকেল কাপ-২০২৬ এর ফাইনাল নিশ্চিত করেছে ফরিদগঞ্জ ফুটবল একাডেমি। দ্বিতীয় সেমিফাইনালে ফটোছোয়া ইভেন্ট শোরশাককে ২-০ গোলে হারিয়ে দুর্দান্ত জয় তুলে নিয়ে স্বপ্নের ফাইনালের টিকিট নিশ্চিত করে দলটি। শনিবার(৮ আগস্ট) অনুষ্ঠিত দ্বিতীয় সেমিফাইনালে শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ও গোছানো ফুটবল খেলতে থাকে দুই দল। পুরো ম্যাচজুড়ে উভয় দলই দারুণ নৈপুণ্য ও মনোমুগ্ধকর ফুটবল উপহার দেয়। তবে শেষ পর্যন্ত ‘ফরিদগঞ্জ ফুটবল একাডেমি’র আক্রমণের সামনে প্রতিপক্ষকে হার মানতে হয়। ২-০ গোলের জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে ফরিদগঞ্জের দলটি। এ জয়ের মধ্য দিয়ে টুর্নামেন্টের ফাইনালে জায়গা করে নেয় ফরিদগঞ্জ ফুটবল একাডেমি। ফাইনালে তাদের প্রতিপক্ষ ‘এনএফসি ইউনাইটেড নোয়াখালী’। প্রথম সেমিফাইনালে দুর্দান্ত লড়াইয়ের পর টাইব্রেকারে সানরাইজ স্পোর্টিং ক্লাবের বিপক্ষে জয় তুলে নিয়ে ফাইনাল নিশ্চিত করে দলটি। ফলে শিরোপার লড়াইয়ে মুখোমুখি হতে যাচ্ছে টুর্নামেন্টের দুই শক্তিশালী দল। উভয় দলই পুরো আসরে অসাধারণ নৈপুণ্য, লড়াকু মানসিকতা ও মনোমুগ্ধকর ফুটবল প্রদর্শন করে ফাইনালে জায়গা করে নিয়েছে। পানিয়ালা প্রিমিয়ার লীগ (PPL) সিজন-৬ মোটরসাইকেল কাপ–২০২৬-এর চ্যাম্পিয়ন দলের জন্য পুরস্কার হিসেবে রয়েছে একটি মোটরসাইকেল। তাই বহুল প্রত্যাশিত ফাইনাল ঘিরে খেলোয়াড় ও সমর্থকদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা বিরাজ করছে। আগামীকাল রোববার (৯ আগস্ট) বিকেল ৪টায় পানিয়ালা উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে টুর্নামেন্টের জমজমাট ফাইনাল অনুষ্ঠিত হবে। 

আজকের সংবাদ, সর্বশেষ

মাথা গোঁজার ঠাঁই পেতে ‘মাথার চুল বিক্রি’

ফরিদগঞ্জ টাইমস ডেস্ক :  দারিদ্র্যের নির্মম কষাঘাতে সব হারিয়ে এখন রেললাইনের পাশে খোলা আকাশের নিচে বসবাস করছেন রেহানা খাতুন নামে এক অসহায় নারী। দুই সন্তানকে নিয়ে জীবনযুদ্ধে টিকে থাকতে গিয়ে শেষ পর্যন্ত ঘরের ভাড়া পরিশোধের জন্য মাথার চুল বিক্রি করতে হয়েছে তাকে।  ঘটনাটি বাগেরহাটের রামপাল উপজেলার সন্তোষপুর গ্রামের। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রেহানা খাতুন একসময় একটি ভাড়া ঝুপড়ি ঘরে দুই সন্তানকে নিয়ে বসবাস করতেন। কিন্তু দীর্ঘদিন ভাড়া পরিশোধ করতে না পারায় ঘর ছাড়তে হয় তাকে। এরপর থেকে খুলনা-মোংলা রেললাইনের পাশে খোলা জায়গায় দুই সন্তানকে নিয়ে দিন কাটাচ্ছেন তিনি।  বর্তমানে রেলব্রিজের পাশের সরকারি জমিতে স্থানীয়দের সহযোগিতায় বাঁশের খুঁটি দিয়ে একটি ঘর নির্মাণের চেষ্টা করছেন রেহানা। কিন্তু চরম অভাব-অনটনের কারণে কয়েক মাসেও ঘরটির নির্মাণকাজ শেষ করতে পারেননি তিনি। ফলে প্রখর রোদ-বৃষ্টি উপেক্ষা করে মানবেতর জীবনযাপন করছেন মা ও দুই সন্তান।  স্থানীয় বাসিন্দা ফেরদৌসী বেগম বলেন, মাথা গোঁজার কোনো জায়গা না থাকায় রেহানা পাশের একটি বাড়িতে অস্থায়ীভাবে থাকতেন। একদিন দেখি তার মাথার চুল নেই। বিষয়টি জানতে চাইলে কান্নাজড়িত কণ্ঠে তিনি জানান, ঘরের ৫০০ টাকা ভাড়া পরিশোধ করতে নিজের চুল বিক্রি করেছেন।  স্থানীয়দের দাবি, রেহানার মতো অসহায় নারীর জন্য সরকারি আবাসন প্রকল্পের আওতায় দ্রুত একটি ঘরের ব্যবস্থা করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে সমাজের বিত্তবান ও মানবিক মানুষদেরও তার পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন তারা। স্থানীয় প্রবীণ আবু তালেব শেখ বলেন, ‘রেহানার অবস্থা খুবই করুণ। আমরা সরকারের কাছে আবেদন জানাব, যেন দ্রুত তার জন্য একটি ঘরের ব্যবস্থা করা হয়।’  সরেজমিনে দেখা যায়, সন্তোষপুর গ্রামের প্রবেশমুখে রেললাইনের পাশে বাঁশের একটি কাঠামো দাঁড়িয়ে আছে। ওই কাঠামোর ওপর টিন ও বেড়া লাগিয়ে একটি ছোট ঘর তৈরি করা সম্ভব। তবে অর্থের অভাবে সেটিও এখনো অসম্পূর্ণ অবস্থায় পড়ে আছে।  স্থানীয় বাসিন্দা মহিদুল ইসলাম বলেন, ‘বাঁশের কাঠামো তৈরি আছে। এখন শুধু টিন ও বেড়ার ব্যবস্থা করতে পারলেই একটি ঘর দাঁড় করানো যাবে। এজন্য এলাকার সচ্ছল মানুষদের এগিয়ে আসা প্রয়োজন।’ তিনি আরও বলেন, ‘দুই সন্তানের মুখের দিকে তাকিয়ে প্রতিদিন নতুন করে বাঁচার সংগ্রাম চালিয়ে যাচ্ছেন রেহানা। তার স্বপ্ন খুব বড় কিছু নয়—মাথার ওপর একটি টিনের ছাউনি। যেখানে বৃষ্টির দিনে সন্তানদের ভিজতে হবে না এবং রাতে একটু নিশ্চিন্তে ঘুমাতে পারবে তারা।’ কান্নাজড়িত কণ্ঠে রেহানা খাতুন বলেন, ‘দুই সন্তানের মুখের দিকে তাকাতে পারি না। ঘর নেই, খাওয়ারও কষ্ট আছে। নিরুপায় হয়ে চুল বিক্রি করেছি। আমি সরকারের কাছে সাহায্য চাই।’  একজন মায়ের মাথার চুল বিক্রি করে ঘরের ভাড়া পরিশোধের এই ঘটনা দারিদ্র্যের নির্মম বাস্তবতার একটি চিত্র তুলে ধরে। রেহানার চাওয়া-পাওয়া খুব বেশি নয়—দুই সন্তানকে নিয়ে নিরাপদে থাকার জন্য একটি ছোট্ট ঘর। এখন প্রশ্ন, আর কতটা ত্যাগ স্বীকার করলে এই অসহায় মা ও তার সন্তানদের মাথার ওপর উঠবে একটি নিরাপদ আশ্রয়ের ছাদ? 

আজকের সংবাদ, ফিচার, সর্বশেষ

থিয়েটার ফর থেরাপি–এর তাত্ত্বিক ও প্রায়োগিক পাঠ

মোস্তফা কামাল যাত্রা দ্য ফিল্ম অ্যান্ড টিভি চ্যারিটি কর্তৃক পরিচালিত এক গবেষণার ওপর ভিত্তি করে সম্প্রতি প্রকাশিত হয়েছে ‘দ্য লুকিং গ্লাস’ শিরোনামের এক গবেষণা। গবেষণাপত্রে যুক্তরাজ্যের টিভি ও চলচ্চিত্র মাধ্যমে কর্মরত কলাকুশলীদের মধ্যে পরিচালিত মানসিক স্বাস্থ্যবিষয়ক এই গবেষণার যে পরিসংখ্যান বেরিয়ে এসেছে- তা হলো : ৮৭ শতাংশ সংশ্লিষ্টজন মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যায় ভুগছেন। বিস্ময়ের বিষয় হচ্ছে তাদের মধ্যে আত্মহননের প্রবণতা প্রকট। অপর এক পর্যবেক্ষণে উঠে এসেছে যে ৮৪ শতাংশ সংশ্লিষ্ট কলাকুশলী তাদের কর্মক্ষেত্রে হয়রানি তথা বুলিং-এর শিকার হয়ে থাকে। মূলত: ট্রমাটিক বিষয় ও গল্প নিয়ে কাজ করতে হয় কলাকুশলীদের। যার ফলে তাদের মধ্যে অতিরিক্ত চাপ অনুভব হয় প্রতিনিয়ত। তারা একাকীত্বে ভোগেন। অনিয়ন্ত্রিত কর্মঘণ্টার কারণে মানসিক স্বাস্থ্য সহায়তা নেয়ার সুযোগও নেই। এছাড়া তো ব্যক্তিগত, পারিবারিক এবং শুটিং চলাকালে নানাবিধ হয়রানির মুখোমুখি হয়ে তাদের দৈনন্দিন জীবনাতিপাতের এক দুঃসহ অভিজ্ঞতা তো রয়েছেই। সামগ্রিক পরিস্থিতি মূল্যায়নের প্রেক্ষিতে ক্ষতিগ্রস্ত এবং ঝুঁকিতে থাকা এইসব কলাকুশলীকে মানসিক স্বাস্থ্যসেবার আওতায় আনা সময়ের দাবি। বাংলাদেশ একটি উন্নয়নশীল দেশ হিসাবে টিভি ও চলচ্চিত্র মাধ্যমের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কর্মীরা আরও বেশি ঝুঁকি ও ভোগান্তির শিকার হবে এটা স্বাভাবিক। তাই তাদের সুরক্ষায় এখনই তাদের ‘থিয়েটার ফর থেরাপি’ কর্মসূচির আওতায় আনা জরুরি। ‘হিসট্রনয়িক নিওরোসিস’ নামের ডিজওর্ডারে ভোগা এসব সৃজনশীল কলাকুশলীকে সুরক্ষা দিতে জেকব লিভি মরিনো নামের এক নাট্যদার্শনিক ১৯২০ খ্রিস্টাব্দে নাট্যবিজ্ঞান ও মনোবিজ্ঞানের যুথবদ্ধতার যে চিকিৎসা বিজ্ঞান প্রয়োগ করে সমকালে সাফল্যমণ্ডিত হয়েছিল তা ছিল ‘থিয়েটার ফর থেরাপি (টিএফটি)’। মনোবিশ্লেষক এই নাট্য সাফল্যের ইতিবৃত্ত নিম্নেপাঠকদের জন্য তুলে ধরা হলো : মোরিনো যেমনি অভিনয়শিল্পীদের ‘হিস্ট্রায়নিক নিউরোসিস’ থেকে পরিত্রাণের উদ্যোগ নিয়েছিলেন;তেমনি থিয়েটারকে দিয়েছিলেন পাণ্ডুলিপির দাসত্ব থেকে মুক্তি। ইমপ্রোভাইজেশনাল থিয়েটার এ সময় রূপান্তরিত হয় ‘থিয়েটার অব থেরাপি’ রূপে। যার পরিণত রূপ হলো ‘সাইকোড্রামা’। সমসাময়িক বিখ্যাত অভিনেত্রী বারবারা একই চরিত্রে বারবার অভিনয় করার ফলে ‘হিস্ট্রায়নিক নিউরোসিস’ রোগে আক্রান্ত হয়েছিলেন। বারবারা ইস্টারের ফ্যাশন প্লেতে পরিশুদ্ধ নারীত্বের মডেল রূপে মাদার ম্যারীর ছবি আঁকতেন একনিষ্ঠ হয়ে। যা তার মধ্যে স্থায়ী অবয়ব নিয়ে বসবাস করতে করতে ‘হিস্ট্রায়নিক নিউরোসিস’ এ পরিণত হয়। মোরিনো এই পরিস্থিতি থেকে বারবারাকে মুক্তি দিতে লিভিং নিউজপেপার নাট্যধারায় কাজ করতে গিয়ে তাকে একটি পতিতা চরিত্রে অভিনয় করান। কারণ মোরিনো মনে করতেন পতিতা হিসাবে বারবারা যখন নতুন নতুন খদ্দেরের মুখোমুখি হবে তখন তার মধ্যে জন্ম নেবে সৃষ্টিশীলতার অপার সম্ভাবনা। কার্যত ঘটেছেও তাই; বারবারা পতিতা চরিত্রটিতে স্বতঃস্ফূর্ততার সঙ্গে সৃজনশীল অভিনয়শিল্পীর স্বাক্ষর রাখতে সমর্থ হয়েছিলেন এবং পর্যায়ক্রমে নিজেকে ‘হিস্ট্রায়নিক নিউরোসিস’ রোগ থেকে অবমুক্ত করেছিলেন। মোরিনো এই নাট্য প্রচেষ্টার একপর্যায়ে বারবারার স্বামী জর্জকেই অংশগ্রহণ করান জনৈক খদ্দের চরিত্রে। ফলে তারা সমর্থ হয়েছিল চমৎকার এক চিত্র দৃশ্যায়িত করতে; যা ছিল হৃদয়গ্রাহীও বটে। পরবর্তীতে মোরিনো এই অভিজ্ঞতা ও পর্যবেক্ষণকে কাজে লাগিয়ে বিবাহিত দম্পতিদের ওপর প্রয়োগ করেন ‘ম্যারাইটাল থেরাপি’। সত্যিকার অর্থে থিয়েটার এর সেই কাঠামো হয়ে উঠেছিল থেরাপির ফলপ্রসূ কৌশল হিসাবে; যা একই সঙ্গে এনে দেয় অভিনয়শিল্পী ও দর্শকের ওপর কার্যকরভাবে প্রয়োগ সাফল্য। মোরিনো মনস্থির করেছিলেন থিয়েটারের এই প্রতিবিধানমূলক কাঠামোর পরিচর্যাই হবে তার ঐকান্তিক প্রচেষ্টা। যেখানে এই ধারার নাট্যক্রিয়া একই সঙ্গে অভিনয়শিল্পী ও দর্শকের ওপর সৃষ্টি করবে একটি থেরাপিউটিক অভিপ্সা। মোরিনোর এই আবিষ্কৃত নাট্য ধারণাকে সমালোচকগণ ‘ডিপ ইন্ট্রালেকচুয়াল ন্যাচারাল ক্যাথারসিস’ অভিধা হিসাবে স্বীকৃতি দিয়েছিলেন। স্মরণীয় যে, ওয়ার্ল্ড ফেডারেশন ফর মেন্টাল হেলথ-এর প্রতিবেদন মোতাবেক বিশ্বের মোট জনসংখ্যার ২০ শতাংশ মনোসামাজিক প্রতিবন্ধীতায় ভোগে। আর ওয়ার্ল্ড হেলথ অরগানাইজেশনের ঘোষণা মোতাবেক উন্নত বিশ্বে মোট জনসংখ্যার ১০ শতাংশ মানুষ কোনো না কোনো প্রতিবন্ধকতার মুখোমুখি হয়ে জীবনাতিপাত করে থাকে। অপরদিকে জাতিসংঘ অনুমোদিত UNDP কনভেনশন অনুযায়ী মনোসামাজিক সমস্যা এখন প্রতিবন্ধীতার আওতাভুক্ত। অর্থাৎ উল্লেখিত বিশ্লেষণ মোতাবেক মোট জনসংখ্যার ৩০ শতাংশ মানুষ প্রতিবন্ধীতার আওতাভুক্ত। উক্ত ৩০ শতাংশ মানুষের মধ্যে ১০ শতাংশ মানুষ চরম পর্যায়ের মনোসামাজিক ও মনোদৈহিক প্রতিবন্ধী ব্যক্তি। যারা অন্যের সহযোগিতা ছাড়া দৈনন্দিন ব্যক্তিগত পরিচর্যা সুসম্পন্ন করতে সমর্থ নয়। তাই তাদের জন্য আরও ১০ শতাংশ কর্মক্ষম জনগোষ্ঠীকে সার্বক্ষণিক সময় দিতে হয়। অর্থাৎ মোট জনসংখ্যার ৪০ শতাংশ মানুষ কোনো না কোনো ভাবে উৎপাদনশীল কর্মক্রিয়ার আওতাভুক্ত থাকতে ব্যর্থ হয়। যা আমাদের সামগ্রিক অর্থনীতির ওপর ফেলে নেতিবাচক প্রভাব। বাংলাদেশের মোট জনসংখ্যা যদি ১৭ কোটি হয়; তবে সেই বিবেচনায় ৫ কোটির ওপরে মানুষ কোনো না কোনো প্রতিবন্ধকতার মুখোমুখি হচ্ছে। ফলে তারা থাকছে উৎপাদন প্রক্রিয়ার বাইরে। যার আর্থিক নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রের ওপর। তাই আর্থসামাজিক এই পরিস্থিতি থেকে মুক্তি পেতে হলে আমাদের প্রয়োজন বর্ণিত ৪০ শতাংশ মানুষকে মনোবৈজ্ঞানিক ও মনোদৈহিক স্বাস্থ্যসেবার আওতায় আনা। যার জন্য প্রয়োজন দক্ষ ও প্রশিক্ষিত মনোসামাজিক স্বাস্থ্যসেবা প্রদানকারী জনবল। এক্ষেত্রে ‘থিয়েটার ফর থেরাপি’–এর প্রয়োগ প্রক্রিয়ায় দক্ষ জনবল গড়ে তুলতে পারলে এই খাতের সেবাকর্মী সৃষ্টি সম্ভব হবে। অর্থাৎ প্রায় ৫ কোটিরও অধিক সংখ্যক জনগোষ্ঠীর মনোসামাজিক স্বাস্থ্যসেবা প্রদানে দক্ষ জনবল সৃষ্টিতে ‘থিয়েটার ফর থেরাপি (TfT)’ প্রয়োগ বা পাঠক্রমভুক্তহওয়া অত্যাবশ্যক। আর তা যদি হয় দেশের বিভিন্ন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে চালু থাকা নাট্যকলা বিভাগসমূহ; তবে সেই বিভাগগুলো থেকে পাশ করা শিক্ষার্থীদের জন্য পেশাদারিভাবে ‘থিয়েটার ফর থেরাপি’ অনুশীলনের ক্ষেত্র প্রস্তুত করবে। প্রকারান্তরে নাট্যকলায় বিদ্যায়তনিক পাঠ সম্পন্নকারী শিক্ষার্থীগণ দিনে চেম্বারভিত্তিক কাউন্সিলিং ও সাইকোথেরাপির প্রচলিত ব্যবহারকেন্দ্রিক সেবার পাশাপাশি ‘নাট্যিক থেরাপি’ প্রদানের মাধ্যমে নিজেদের আর্থিক জোগান যেমনি নিশ্চিত করতে সমর্থ হবে; তেমনি সন্ধ্যায় চলমান গ্রুপ থিয়েটারভিত্তিক নাট্যক্রিয়ায় নিজেদের সম্পৃক্ত করতে পারবে। তাই যুগের চাহিদা তথা প্রাত্যহিক সামাজিক জীবনে প্রয়োগযোগ্য নাট্যিক কলাবিদ্যা পাঠ্যসূচিতে অন্তর্ভুক্ত করা যেমন জরুরি; তেমনি মনোসামাজিক স্বাস্থ্যসেবা কৌশল ‘থিয়েটার ফর থেরাপি’–এর নানান প্রয়োগ পদ্ধতির হাতে-কলমে পাঠ নাট্যকলা বিভাগগুলোর পাঠ্যক্রমে সিলেবাসভুক্ত করা। এই প্রসঙ্গে সরকারের যথাযথ কর্তৃপক্ষের সঙ্গে অধিপরামর্শ এর পাশাপাশি অবশ্যই সম্মান ও স্নাতকোত্তর পর্যায়ের পাঠ্যক্রম সংশোধন অত্যাবশ্যক। নাট্যকলা বিষয়ে বিদ্যায়তনিক পাঠ সম্পন্নকারীদের চাকরির ক্ষেত্র সৃষ্টিতে সংশ্লিষ্ট বিভাগসমূহের শিক্ষকদের পাশাপাশি প্রাক্তনীদের পক্ষ থেকে এই প্রসঙ্গে কার্যকরী উদ্যোগ সময়ের দাবি। আশাকরি উল্লেখিত পরিসংখ্যান ও সম্ভাবনাসংশ্লিষ্ট সব পক্ষের যৌক্তিক বিবেচনা পাবে এবংনাট্যকলা বিভাগগুলোর পাঠ্যক্রমে ‘থিয়েটার ফর থেরাপি’–এর তাত্ত্বিক ও প্রায়োগিক পাঠ অন্তর্ভুক্ত হবে। [লেখক : নির্বাহী পরিচালক, উৎস (UTSA), চট্টগ্রাম]

আজকের সংবাদ, শিক্ষা ও সাহিত্য, সর্বশেষ

নিমগ্ন দুপুর—এর কবিতাগুচ্ছ

নিমগ্ন দুপুর—এর কবিতাগুচ্ছ আদিম আঁধার আমি এসেছি লবণাক্ত অন্ধকার থেকেযেখানে সৃষ্টির আদিম ক্রন্দন-সমুদ্রের গর্ভে ঢেউ হয়ে আত্মপ্রকাশ করেছিল! সেদিন দুটি শরীর তাদের শঙ্কা ভুলেআমাকে তুলে এনেছিল আলোয়অথচ তারা জানতোই না,আমি আলো মানি না-আমি তো সেই আদিম আঁধার—যে ঘরে জন্মায়, কিন্তু ঘর চিনে না। অতঃপর এক ফোঁটা জলের অণু থেকে আমিক্রমশ রূপ নিয়েছিলাম মানব ছায়ায়,চোখে ধারণ করে মহাশূন্যের নীহারিকাবুকে নিয়ে নিঃশব্দ স্রোতের তান-তখনও আমার স্মৃতিতে দগদগ করছিলতপ্ত মারিনার অতল-যেখানে জন্ম নয় কেবল আবর্তিত হয়এক দূর্ভেদ্য অনন্ত চক্র! তাই আমি কোনো ধর্মের উত্তরসূরি নইনই কোনো ভবিষ্যদ্বাণীর অক্ষর-আমি কেবলই এক ঢেউযে বারবার ফিরে আসে আলোর মুখোমুখিহয়ে আবার হারিয়ে যায় নিঃসঙ্গ গহ্বরে! এভাবেই সূর্য আমাকে প্রতিদিন দহন করেআর চাঁদ নিঃশব্দে করে শীতলতারপরও আমার চিহ্ন মুছে যায় না! আমি তো সেই মহাজাগতিক প্রশ্নযে নিজেই নিজের উত্তর-তাই তো যতবার ডুবে গেছি মৃত্যুর গহীনেততবারই সমুদ্র আমাকে-ফিরিয়ে দিয়েছে নতুন নামে। আমি জানি-প্রতিটি জন্মই আমার মৃত্যু,প্রতিটি মৃত্যুই— এক অনন্ত আহ্বান,যেখানে একদিন ঠিক ফিরতে হবেজলে মিশে যাওয়া সেই কণা হয়ে-যাকে ঈশ্বর করুণা করেও ভালোবাসেনি! শহরের চিৎকার পথে এলোমেলো হাঁটতে হাঁটতে দেখিএকটি শিশু যীশুর মূর্তি গলিয়েবানাচ্ছে একটি ক্ষুধার্ত অস্ত্র-আর প্রার্থনার বদলে কোনো এক বৃদ্ধহাতে প্ল্যাকার্ড নিয়ে দাঁড়িয়ে-তাতে লেখা—“পৃথিবী বিক্রি হবে” এই শহরে মূলত সাইরেন নয়আহত চিৎকারই দেয় সংকেত-এখানে গুলির সুর হলো গানআর শিশুদের ঘুম পাড়ায়মরিচ পোড়া ধোঁয়া! কারণ ঈশ্বর এখন বক্তৃতার মঞ্চেকর্পোরেট সুরে ব্যাখ্যা দেন মুক্তির সংজ্ঞা—“বেচা-কেনা হোক বিশ্বাসে।” তুমি বলো,এই বাজারে স্বর্গও কিডিসকাউন্টে আসে? চলো তবে—শেষবারের মতো নিঃশ্বাস নিইকোনো এক মৃত কবির বুকে-যে কবিতার বদলেচেয়েছিল শুধু একটু মানবতা। এই হেমন্তে তোমার অভাবে আমার ভেতরহেমন্ত নেমেছে-পাতাঝড় হয় প্রতিটি নিঃশ্বাসেবুকের ভেতর ঝরে পড়ে অপেক্ষাধুলো হয়ে ধ্বংস হয়ে। চোখের পাতায় জমে ওঠে খরাসেখানে কান্না ফোটে না আর-তুমি নেই বলে জলও হারিয়েফেলে নিজের পথ। সব শব্দ এখন বোবাসব গান নিঃশব্দ শোকসব পথ হেঁটে যায় কেবলইতুমিহীনতার দিকে! অথচ তুমি থাকলে আলতো ছোঁয়াতেওভেঙে যেত সব দুর্যোগ-তোমার কণ্ঠে আমার মৃত কবিতারাওজেগে উঠতো সুর হয়ে! জানি, তুমি মৌমাছির মতো-ফুল থেকে ফুলে উড়ে বেড়াওআর আমি?শুধু একগুচ্ছ অব্যবহৃত ভালোবাসা-না ফোটা গোলাপ-যার পাঁপড়িতে শুধুই তোমার নাম লেখা! তুমি কি আসবে না একদিনএই নিঃস্ব আলয়ে?তুমি কি পারো নাএই ভাঙা বুক জুড়েঝড়োবৃষ্টির মতো নামতে? যদি আসো-তোমার ছোঁয়ায়সব দুর্ভিক্ষ গলে যাবেপুড়ে গিয়ে সব হাহাকার-ভালোবাসা হয়ে উঠবে আগুনএকান্ত দুপুরে! অনধিকার তোমার কাছ থেকে ফিরে আসতে আসতেবুঝলাম, আমি তোমাকে রেখে আসিনিবরং তোমার নামে লেখা আমার সমস্তঅধিকার ফিরিয়ে দিয়েছি। আজ থেকে তোমার সমস্ত সকালতোমারই থাকুক, কোনো বিকেলের অজুহাতেতোমার দরজায় আমি আর ফিরব না। বিদায়েরও একটা গন্ধ থাকে-আমি আজকাল সেই গন্ধ নিয়েই ঘুমোইবালিশে মুখ রাখলেই মনে হয়-নিঃশব্দে আমার নাম মুছে যাচ্ছেকারো শেষ চাওয়া থেকে। আমাদের গল্পের কোনো সমাপ্তি নেইআছে শুধু নীরবতার দীর্ঘ অনুচ্ছেদ।যেখানে উচ্চারণহীন বাক্যগুলোপ্রতিদিন একটু একটু করে পাথর হয়ে যায়। ভালোবাসা আসলে বড়ই অদ্ভুত-যাকে নিজের বলে ডাকার সাহস হয় না,তার জন্যই মানুষ সবচেয়ে দীর্ঘ প্রার্থনা করে! তাই তোমার নাম আমি আর ঠোঁটে আনব নাকারণ নাম উচ্চারণ করলেই হৃদয় বিশ্বাস করেফেলে, তুমি এখনও আছ। আমি বরং তোমাকে অনধিকারেইরেখে দেব, যেখানে স্মৃতিরা চিৎকারকরে না শুধু নীরবতায় জমাট বাঁধে। এরপর যদি কোনোদিন আমাদের না-ঘটাজীবনের সাথে হঠাৎ তোমার দেখা হয়ে যায়একবার শুধু তাকিয়ে দেখো…সেখানেও আমি থাকব দাঁড়িয়েতোমাকে নয়-অবশিষ্ট আমিকেই বিদায় জানাতে! অনুতাপ আইজকাইল নিজের নাম হুনলেই চমকাইআইজকাইল নিজেরেও বড় অচেনা লাগেমনে অয় কেউ বুঝি পুরান ক্ষতগুলারেআবার নাম ধইরা ডাকতাছে… নিজের লগে যে কত রকম চুক্তি করছি…তোমার কথা ভাবুম না, তোমার রাস্তা দিয়াহাঁটুম না… কেউ কইতে আইলেও তোমার নামকানে ঢুকতে দিমু না… কিন্তু মনডা বেবাক বেইমান বড়ই নির্লজ্জসব চুক্তির নিচে হ্যায় চুপচাপ তোমারনামটাই লেইখা রাখে। এই শহরের মানুষজন আমারে সুখী ভাবেতাগো কথা হুনি আর হাসি…অথচ তারা টেরওপাইতাসে না– প্রতিদিন একটু একটু কইরা ক্যামনেআমি নিজের মনডারে হারায়া ফেলতাসি! রাইতে জানালা খুইলা রাখি– যদি বাতাসের লগেতোমার কোনো খবর আইসা পড়ে!সারারাইত অপেক্ষার পর সকালে আবারজানালাডা বন্ধ কইরা দেই—কারণমনের ভিত্রে বেশিক্ষণ আশা ধইরা রাহনযায় না, রাখলে বুকের ঘরে পচন ধরে। এখন আর কারো লগে কথা কইতেও ইচ্ছা করে না-নিজের ছায়ারেও মাঝে মাঝে ডর লাগে…কখনো রাস্তার পাশে বইসা থাকি তোকখনো অচেনা মুখগুলার দিকে চাইয়া থাকি…. আহারে… এই দুনিয়ায় সব মাইনষের ফেরারকোনো না কোনো ঘর আছে..খালি আমার ফিরা আসার কোনো ঠিকানা নাই! তোমারে ভুলার লাইগা কত কিছু যে ভুইলা গেলাম…হাসতে ভুললাম, ঘুমাইতে ভুললাম…নিজেরে ভালোবাসতেও ভুইলা গেলাম! শেষে বুঝলাম, পাপটা তোমারে ভালোবাসা ছিল না,পাপটা ছিল, তোমার হৃদয়ে ঘর বানাইতে গিয়া নিজের হৃদয়ডারে খালি হাতে ফিরাইয়া আনা। এহন কও,যেই হৃদয় নিজের না হইয়াঅন্য কারো কাছে বন্দী হইয়া রইছেতার মুক্তির জন্য কোন আসমানে দোয়া চাই?

আজকের সংবাদ, ফরিদগঞ্জ, সর্বশেষ

পশ্চিম হাঁসায় জামে মসজিদের উদ্বোধন করেন এম.এ হান্নান এমপি 

নিজস্ব প্রতিবেদক :  চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জ উপজেলার পশ্চিম হাঁসা জলহক পাটওয়ারী বাড়ির পুনঃনির্মিত পশ্চিম হাঁসা বাইতুল মোকাররম জামে মসজিদের শুভ উদ্বোধন করা হয়েছে।  শুক্রবার (৭ আগস্ট) জুমার নামাজের পূর্বে নবনির্মিত মসজিদটির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন প্রধান অতিথি ও উদ্বোধক, স্থানীয় সংসদ সদস্য আলহাজ্ব এম.এ হান্নান। উদ্বোধন শেষে তিনি দলীয় নেতাকর্মী ও মুসল্লিদের সঙ্গে মসজিদে জুমার নামাজ আদায় করেন।  অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন চাঁদপুর জেলা পরিষদের প্রশাসক ও পশ্চিম হাঁসা বাইতুল মোকাররম জামে মসজিদের উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট এ কে এম সলিম উল্যাহ সেলিম। এ সময় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চাঁদপুর জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি শরীফ মো. ইউনুস। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন চাঁদপুর সরকারি কলেজ ছাত্রদলের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি শফিউল বাশার মুকুল পাটওয়ারী, উপজেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক ফারুক আহমেদ খান, নজরুল ইসলাম পাটওয়ারী, উপজেলা যুবদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম নান্টু, ১০ নম্বর ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি আলমগীর হোসেন পাটওয়ারী, ১১ নম্বর ইউনিয়ন যুবদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মো. মহসিন হোসেন মিন্টু, ১০ নম্বর ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক মঞ্জিল হোসেন, ১০ নম্বর ইউনিয়ন ছাত্রদলের সভাপতি ফজলে রাব্বি, ১১ নম্বর ইউনিয়ন ছাত্রদলের সভাপতি সিয়াম আইয়াম, ৩ নম্বর ইউনিয়ন ছাত্রদলের সভাপতি মনির হোসেন, সাধারণ সম্পাদক আকবর হোসেন, ২ নম্বর ইউনিয়ন ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক মো. সাইফুল ইসলামসহ বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।  এ সময় প্রধান অতিথির বক্তব্যে সংসদ সদস্য আলহাজ্ব এম.এ হান্নান বলেন, “মসজিদ শুধু ইবাদতের স্থান নয়, এটি মানবিকতা, নৈতিকতা ও সামাজিক সম্প্রীতির কেন্দ্র। একটি সুন্দর ও সমৃদ্ধ সমাজ গঠনে মসজিদের ভূমিকা অপরিসীম। আমরা যদি মসজিদকেন্দ্রিক শিক্ষা, শৃঙ্খলা ও ইসলামের আদর্শকে ধারণ করি, তাহলে সমাজ থেকে অন্যায়, দুর্নীতি ও বিভেদ দূর হবে। এই মসজিদ যেন নামাজ আদায়ের পাশাপাশি দ্বীনি শিক্ষা, সামাজিক ঐক্য ও মানবকল্যাণের কেন্দ্র হিসেবে গড়ে ওঠে—সেই প্রত্যাশা করি। আল্লাহ তাআলা যেন এ মসজিদের সঙ্গে সম্পৃক্ত সকলের দান ও শ্রম কবুল করেন।” অনুষ্ঠান শেষে দেশ, জাতি এবং মুসলিম উম্মাহর শান্তি, সমৃদ্ধি ও কল্যাণ কামনা করে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত পরিচালনা করেন পশ্চিম হাঁসা বাইতুল মোকাররম জামে মসজিদের খতিব। 

আজকের সংবাদ, ফরিদগঞ্জ, সর্বশেষ

ফরিদগঞ্জে মাদক মামলায় তিন বছরের সাজাপ্রাপ্ত আসামি গ্রেফতার 

নিজস্ব প্রতিবেদক :  চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের মামলায় তিন বছরের সশ্রম কারাদণ্ডপ্রাপ্ত এক আসামিকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। শুক্রবার (৭ আগস্ট) সকালে উপজেলার সুবিদপুর পশ্চিম ইউনিয়নের মুন্সিরহাট এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারকৃত আসামি মো. ওসমান বেপারী (৪০) উপজেলার সুবিদপুর পশ্চিম ইউনিয়নের ভোলাচো গ্রামের বেপারী বাড়ির বাসিন্দা। পুলিশ সূত্রে জানা যায়, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮-এর ৩৬(১) ধারার ১০(ক) অনুযায়ী দায়ের করা একটি মামলায় (নং-৩৬৯/২২) চাঁদপুর চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-২ এর বিচারক ওসমান বেপারীকে তিন বছরের সশ্রম কারাদণ্ড, তিন হাজার টাকা অর্থদণ্ড এবং অনাদায়ে আরও তিন মাসের কারাদণ্ড প্রদান করেন। আদালতের সাজা পরোয়ানার ভিত্তিতে ফরিদগঞ্জ থানার এএসআই অরূপ রায় সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে অভিযান চালিয়ে শুক্রবার সকালে তাকে গ্রেফতার করেন।  ফরিদগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ এরশাদ উল্লাহ্ বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, “সাজাপ্রাপ্ত আসামি ওসমান বেপারীকে শুক্রবার সকালে গ্রেফতার করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে তিনটি মাদক মামলা রয়েছে।”  তিনি আরও জানান, প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া শেষে একই দিন দুপুরে গ্রেফতারকৃত আসামিকে আদালতে পাঠানো হয়েছে।

আজকের সংবাদ, চাঁদপুর, সর্বশেষ

নিজ ঘরে আগুন দেওয়ার অভিযোগে মাদকাসক্ত ছেলে গ্রেফতার

নিজস্ব প্রতিবেদক : চাঁদপুরের শাহরাস্তি উপজেলায় মাদকাসক্ত অবস্থায় নিজ ঘরে আগুন দেওয়ার অভিযোগে এক যুবককে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার (৭ আগস্ট) তাকে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সম্প্রতি শাহরাস্তি পৌরসভার ১২ নম্বর ওয়ার্ডের বিশারা গ্রামের শামছু মুহুরীর বাড়িতে মাদকাসক্ত অবস্থায় মো. মনির হোসেন বাবু (৪০) নিজ ঘরে আগুন দেন বলে অভিযোগ ওঠে। এ ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। ঘটনার পর শাহরাস্তি মডেল থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়। মামলার এফআইআর নম্বর-৫, তারিখ ৬ আগস্ট ২০২৬, জিআর নম্বর-২৪৮। মামলায় দণ্ডবিধি ১৮৬০-এর ৩২৩, ৪৩৬, ৪২৭ ও ৫০৬(২) ধারায় অভিযোগ আনা হয়। মামলার তদন্তের অংশ হিসেবে শাহরাস্তি মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মীর মাহবুবুর রহমানের নির্দেশনায় এসআই (নিরস্ত্র) মো. আব্দুল কুদ্দুছ সরকার সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে অভিযান চালিয়ে এজাহারভুক্ত একমাত্র আসামি মো. মনির হোসেন বাবুকে গ্রেফতার করেন। তিনি বিশারা গ্রামের মো. মমিনের ছেলে। থানা সূত্র জানায়, গ্রেফতারকৃত আসামিকে প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া শেষে শুক্রবার (৭ আগস্ট) আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।

আজকের সংবাদ, প্রবাস, সর্বশেষ

বাংলাদেশি কৃষি শ্রমিকদের জন্য ওমানের ভিসা চালু

কাজী ইমাম, ওমান প্রতিনিধি : দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য ওমানের শ্রমবাজারে নতুন সুযোগ তৈরি হতে যাচ্ছে। তবে এই সুযোগ সব ধরনের কর্মীর জন্য নয়; শুধুমাত্র কৃষি শ্রমিক (মাজরা) পেশায় ওমানে যেতে আগ্রহীদের জন্য সীমিত পরিসরে এই ভিসা চালু করা হয়েছে। জানা গেছে, ওমান এগ্রিকালচারাল অ্যাসোসিয়েশনের বিশেষ অনুরোধের প্রেক্ষিতে দেশটির শ্রম মন্ত্রণালয় বাংলাদেশি কৃষি শ্রমিকদের জন্য কাজের ভিসা অনুমোদন দিয়েছে। তবে ভিসা ইস্যুর ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট কিছু এলাকা ও শর্ত নির্ধারণ করা হয়েছে। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, শুধুমাত্র আল দাহিরাহ প্রদেশের ইব্রি, ধাংক ও ইয়ানকুল অঞ্চলের নিবন্ধিত খামারগুলো বাংলাদেশ থেকে কৃষি শ্রমিক নিয়োগ করতে পারবে। এসব এলাকায় নিবন্ধিত খামারের সংখ্যা সীমিত হওয়ায় মোট ভিসার সংখ্যাও সীমিত থাকবে। নিয়োগকর্তাদের জন্য বেশ কয়েকটি শর্ত নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে— ওমান কৃষি সমিতির আল দাহিরাহ শাখার সদস্যপদ গ্রহণ এবং বার্ষিক ২৫ ওমানি রিয়াল ফি পরিশোধ। এছাড়া আবেদনপত্রের সঙ্গে কৃষি জমির মালিকানার দলিল, জাতীয় পরিচয়পত্রের অনুলিপি এবং শ্রম মন্ত্রণালয় থেকে ইস্যুকৃত বৈধ ওয়ার্ক পারমিট জমা দিতে হবে। এছাড়া ২০২৬-২০২৭ মৌসুমের জন্য ফসল ও কৃষি এলাকার বিস্তারিত তথ্য উল্লেখ করে ‘কৃষি ক্যালেন্ডার ফর্ম’ পূরণ করাও বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। নির্ধারিত এলাকাগুলোর নিবন্ধিত খামার মালিকরা আগামী ৯ আগস্ট থেকে ২০ আগস্ট পর্যন্ত বাংলাদেশি কৃষি শ্রমিক আনার জন্য আবেদন জমা দিতে পারবেন। সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, নিবন্ধিত খামার মালিকদের মাধ্যম ছাড়া বা মধ্যস্বত্বভোগীদের প্রলোভনে না পড়ে নির্ধারিত সরকারি প্রক্রিয়ায় তথ্য যাচাই করে আবেদন করার জন্য আগ্রহীদের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। 

আজকের সংবাদ, স্বাস্থ্য

বান্দরবানের দুর্গম পাহাড়ে বিজিবির ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প

ফরিদগঞ্জ টাইমস ডেস্ক : বান্দরবানের দুর্গম পাহাড়ি অঞ্চলের অসহায় ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের জন্য বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা ও ওষুধ বিতরণ করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। মানবিক সহায়তার অংশ হিসেবে আয়োজিত এ ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্পে তিনটি গ্রামের পাঁচ শতাধিক নারী, পুরুষ ও শিশু চিকিৎসাসেবা গ্রহণ করেন। বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) রোয়াংছড়ি উপজেলার দুর্গম কাইন্তারমুখ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে বান্দরবান সেক্টর বিজিবির উদ্যোগে এ মেডিকেল ক্যাম্প অনুষ্ঠিত হয়। এতে কাইন্তারমুখ, লাপেগই ও লাপাইমুখ পাড়াসহ আশপাশের দুর্গম এলাকার প্রায় পাঁচ শতাধিক নারী, শিশু ও বয়স্ক মানুষকে বিভিন্ন রোগের চিকিৎসাসেবা দেওয়া হয়। পাশাপাশি প্রয়োজন অনুযায়ী বিনামূল্যে ওষুধও বিতরণ করা হয়। স্থানীয়রা জানান, দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় স্বাস্থ্যসেবার সুযোগ সীমিত হওয়ায় বিজিবির এ উদ্যোগ তাদের জন্য অত্যন্ত উপকারী হয়েছে। চিকিৎসাসেবা পেয়ে উপকারভোগীরা সন্তোষ প্রকাশ করেন এবং ভবিষ্যতেও এমন কার্যক্রম নিয়মিত চালিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানান। এ বিষয়ে বান্দরবান সেক্টরের সেক্টর কমান্ডার কর্নেল রুবায়েত জামিল বলেন, সীমান্ত রক্ষার দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি দুর্গম এলাকার মানুষের স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও মানবিক সহায়তায় বিজিবি নিয়মিত বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক কর্মসূচি বাস্তবায়ন করে আসছে। ভবিষ্যতেও এ ধরনের সেবামূলক কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে বলেও তিনি জানান।

Scroll to Top