৩রা জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

Author name: Farid Ahmed

আজকের সংবাদ, ফরিদগঞ্জ

ফরিদগঞ্জে শিক্ষার মান উন্নয়নে সভা অনুষ্ঠিত

নিজস্ব প্রতিনিধি: ফরিদগঞ্জ উপজেলার শিক্ষার গুণগত মান উন্নয়ন বিষয়ে এক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সোমবার সকাল ১০টায় ফরিদগঞ্জ উপজেলা অডিটোরিয়ামে আয়োজিত এ সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত  ছিলেন চাঁদপুরের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মোহসীন। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চাঁদপুর জেলা শিক্ষা অফিসার মোহাম্মদ রুহুল্লাহ। সভায় সভাপতিত্ব করেন ফরিদগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সুলতানা রাজিয়া এবং সঞ্চালনায় ছিলেন উপজেলা একাডেমিক সুপারভাইজার আব্দুল্লাহ আল মামুন। এসময় বক্তব্য রাখেন ফরিদগঞ্জ উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার গাউসুল আযম ও বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধানগন।এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন ফরিদগঞ্জ প্রেসক্লাবের সভাপতি মো. মামুনুর রশীদ পাঠান ও সুধীবৃন্দ। বিগত  এসএসসি/দাখিল ও সমমনা  পরীক্ষা বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ফলাফল বিপর্যয়ে আশানুরূপ ফলাফল না হওয়া হতাশা ব্যক্ত করেন। বক্তারা উপজেলার শিক্ষা ব্যবস্থার সার্বিক উন্নয়ন, শিক্ষক-শিক্ষার্থীর মানোন্নয়ন এবং আধুনিক শিক্ষাপদ্ধতি বাস্তবায়নে গুরুত্বারোপ করেন। শিক্ষা শুধু পরীক্ষায় ভালো ফল করার মাধ্যম নয়, বরং এটি একজন মানুষের চিন্তাশক্তি, নৈতিকতা ও সৃজনশীলতাকে বিকশিত করার প্রক্রিয়া। তাই গুণগত মানোন্নয়নের জন্য আমাদের কিছু মৌলিক বিষয়ে মনোযোগী হতে হবে,শিক্ষক-শিক্ষার্থী সম্পর্ক, সৃজনশীল মূল্যায়ন ব্যবস্থা,অভিভাবকের সম্পৃক্ততা,শৃঙ্খলা ও নৈতিক শিক্ষা,প্রযুক্তি নির্ভর শিক্ষা – মাল্টিমিডিয়া, অনলাইন রিসোর্স এবং ডিজিটাল কনটেন্ট ব্যবহার, শিক্ষার্থীর চরিত্র গঠন ও নৈতিক শিক্ষাকে সমান গুরুত্ব দিতে হবে। সততা, দায়িত্ববোধ, দেশপ্রেম ইত্যাদি বিষয়ের উপর গুরুত্বারোপ করেন।

আজকের সংবাদ, ফরিদগঞ্জ

ফরিদগঞ্জে বড়গাঁও গ্রামে চাচার হাতে ভাতিজা খুন!

নিজস্ব প্রতিনিধি: ফরিদগঞ্জ বড়গাঁও গ্রামে বিদেশের টাকা লেনদেনের জেরে চাচার ধারালো অস্ত্রের আঘাতে ওমান ফেরত ভাতিজা বাবু (২৪) নিহত হয়েছে। একই ঘটনায় বাবা রওশন গাজী (৫০) ও ভাই এমরান হোসেন (২০) গুরুতর আহত হয়েছেন। নিহতের বাবা রওশন গাজীর মাথা ফেটে যাওয়ায় বেশ কয়েকটি সেলাই দিতে হয়। অপরদিকে, নিহতের ভাই আরমানের অবস্থা আশংকা জনক হওয়ায় চাঁদপুর সরকারি জেনারেল হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে ঢাকায় প্রেরণ করা হয়েছে। সোমবার দুপুরে ফরিদগঞ্জ উপজেলার ৪ নং সুবিদপুর বড়গাঁও এলাকার গাজী বাড়ীতে এই ঘটনা ঘটে। চাঁদপুর সদর জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বাবা রওশান গাজী বলেন, প্রবাসে তার ছেলে বাবুর কাছে কিছু টাকা পাবে বলে চাচা হাসানের সাথে বিরোধ হয়। এসময় তার চাচা হাসান ও তার দুই ছেলে উত্তেজিত হয়ে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে জখম করে তার ছেলে বাবুকে। ঘটনাস্থলেই বাবু মারা যায়। এ বিষয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ( প্রশাসন ও অর্থ ) লুৎফর রহমান জানান, হামলাকারীদের মধ্যে একজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। দুইজন পলাতক রয়েছে। পরিবারের পক্ষ থেকে হত্যা মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।

আজকের সংবাদ, ফরিদগঞ্জ

লেখক ফোরাম’র নতুন অফিস উদ্বোধন উপলক্ষে চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা

নিজস্ব প্রতিনিধি: ফরিদগঞ্জ লেখক ফোরাম’র নতুন অফিস উদ্বোধন উপলক্ষে চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়েছে। প্রতিযোগীতায় ফরিদগঞ্জ সদরের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের ৯৬ জন প্রতিযোগী অংশ গ্রহণ করে। প্রতিযোগিতার উদ্বোধন করেন ডা.আবুল কালাম আযাদ। রোববার (১০ আগস্ট ২০২৫) দুপুরে ফরিদগঞ্জ লেখক ফোরাম কার্যালয়ে প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত। ফরিদগঞ্জ লেখক ফোরাম’র প্রতিষ্ঠাতা ও সাবেক সভাপতি নুরুল ইসলাম ফরহাদ’র সভাপতিত্বে, বর্তমান কমিটির সাধারণ সম্পাদক তারেকুর রহমান তারুর সঞ্চালনায় প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন ফরিদগঞ্জ উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক ডা.আবুল কালাম আযাদ। এ সময় তিনি বলেন,‘আমরা একটি সুন্দর বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখি। আর সেই সুন্দর বাসযোগ্য বাংলাদেশের উপকরণ হলো এখানে যারা উপস্থিত আছে তারা। আজকের শিশুই আগামীর সুন্দর বাংলাদেশ গড়ার কারিগর। অতএব, সকল ধরনের অসুন্দর কাজ এবং পরিবেশ থেকে আমাদের শিশুদের হেফাজতে রাখতে হবে। তাদেরকে সুন্দর একটি পরিবেশের মাধ্যমে গড়ে তুলতে হবে। অভিভাবকদের খেয়াল রাখতে হবে আপনার শিশু যাতে ডিভাইসে আক্রান্ত না হয়।’ অনুষ্ঠানের শুরুতে স্বাগত বক্তব্য রাখেন ফরিদগঞ্জ লেখক ফোরাম’র বর্তমান কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক ও এশিয়ান টেলিভিশনের জেলা প্রতিনিধি জাহিদুল ইসলাম ভূঁইয়া। এ সময় উপস্থিত ছিলেন- ফরিদগঞ্জ লেখক ফোরাম’র সাবেক সভাপতি কাউসার আহমেদ, সাবেক সাধারণ সম্পাদক রাবেয়া আক্তার। বর্তমান কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মেহেরাজ হাসান সৌরভ, দপ্তর সম্পাদক মো. টিটু হোসেন, সাংস্কৃতিক সম্পাদক মিতু রানী দেবনাত প্রমুখ। ফরিদগঞ্জ লেখক ফোরাম’র বর্তমান কার্যালয় ফরিদগঞ্জ সরকারি ডিগ্রি কলেজ অভিমুখী সড়কের পাশে, যাকে রূপসা রাস্তার মোড় বলা হয়ে থাকে। সাবেক ঝর্ণা হাসপাতালের বিপরীত পাশের ভবনের ২য় তলায়।

আজকের সংবাদ, ফরিদগঞ্জ

ভাষা ও সাহিত্যকে বাঁচিয়ে রেখেছে খেটে খাওয়া শ্রমিক, মেহনতি মানুষরা: সুলতানা রাজিয়া

নিজস্ব প্রতিবেদক: ‘খোয়াব’ একটি ছোট কাগজ। ‘খোয়াব’র ২য় সংখ্যা ছিলো ‘আঞ্চলিক ভাষা সংখ্যা’। বাংলাদেশের প্রায় প্রতিটি জেলার ভাষায় রচিত হয় গল্প, কবিতা, প্রবন্ধ, মুক্ত গদ্য এবং ছড়া। কলকাতা, ত্রিপুরা, মিজুরাম এবং বাংলাদেশের ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্টিদের ভাষায় রচিত কবিতাও স্থান পেয়েছে এ সংখ্যায়। অতিথিরা ছোট কাগজ ‘খোয়াব’র মোড়ক উন্মোচন করেন। শুক্রবার (৮ আগস্ট ২০২৫) বিকালে আম্বিয়া-ইউনুছ ফাউন্ডেশন পাঠাগারে পাঠ-পর্যালোচনা ও প্রকাশনা উৎসবে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার সুলতানা রাজিয়া। ‘খোয়াব’ সম্পাদক অমৃত ফরহাদ ও দন্ত্যন ইসলাম’র যৌথ সঞ্চালনায় প্রধান আলোচকের বক্তব্য রাখেন- চাঁদপুর সরকারি কলেজ, বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মো.সাইদুজ্জামান। ফরিদগঞ্জ লেখক ফোরাম’র সিনিয়র সহ-সভাপতি কবি হাসানুজ্জামান’র সভাপতিত্বে এবং শুভেচ্ছা বক্তব্যের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের কার্যক্রম শুরু হয়। শুরুতে স্বাগত বক্তব্য রাখেন অন্যতম সম্পাদক কবি দন্ত্যন ইসলাম।প্রধান অতিথি সুলতানা রাজিয়া বলেন, ‘খোয়াব’ একটি চমৎকার কাজ করেছে; আঞ্চলিক ভাষার সংখ্যাটি বাংলা সাহিত্যে একদিন অমূল্য সম্পদে হিসেবে পরিগনিত হবে। আমি মনে করি এটি একটি স্থায়ী কাজ। সত্যি কথা বলতে- বাংলা ভাষা এবং সাহিত্যকে বাঁচিয়ে রেখেছে এদেশের খেটে খাওয়া দিনমজুর, শ্রমিক শ্রেণির মানুষরা। কথাটি এই বইটিতেও আছে। আঞ্চলিক ভাষা নিয়ে কাজ সহজ বিষয় নয়, এটি একটি দূরহ কাজ। সে কাজটি যে দু’জনের হাত ধরে সম্পূর্ণ হয়েছে তাদেরকে আন্তরি ধন্যবাদ। আশা ও বিশ্বাস তাদের কাছ থেকে ভবিষ্যতে আরো নতুন নতুন কাজ দেখতে পাবো।’ অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য রাখেন- সাহিত্য একাডেমি চাঁদপুর এর মহাপরিচালক ও চাঁদপুর প্রেসক্লাব সাধারণ সম্পাদক কাদের পলাশ। সাহিত্য একাডেমি চাঁদপুর’র পরিচালক (গবেষণা) বিশিষ্ট কবি, গবেষক ও প্রাবন্ধীক মুহাম্মদ ফরিদ হাসান, ফরিদগঞ্জ সরকারি ডিগ্রি কলেজের প্রভাষক মোবারক করিম খান, ফরিদগঞ্জ লেখক ফোরাম’র উপদেষ্টা মোস্তফা কামাল মুকুল, চাঁদপুর সাহিত্য একাডেমি চাঁদপুরের নির্বাহী সদস্য সুমন কুমার দত্ত, কবির হোসেন মিজি, সংগঠক ও সাহিত্যিক এইচ.এম জাকির, কবি জাহিদ নয়ন, আরিফ হোসেন শান্ত, শিক্ষক মিজানুর রহমান, ফরিদগঞ্জ লেখক ফোরাম সাধারণ সম্পাদক তারেক রহমান তারু, সাবেক সাধারণ সম্পাদক মহসিন হাসান শুভ্র প্রমুখ। অনুষ্ঠানের মাঝে খোয়াব থেকে স্ব-রচিত কবিতা পাঠ করেন- কবির হোসেন মিজি , নুরুন্নাহার মুন্নির (চাঁদপুরের ভাষায় রচিত, কষ্ট) কবিতা আবৃত্তি করে ইন্দ্রানি দাস মম, মাসুদ সুমনের (মাদারীপুরের ভাষায় রচিত, ক্ষরণ) কবিতা আবৃত্তি করে ইন্দ্রিলা দাস প্রভা। দেশের গান পরিবেশন করে পৃথুলা মজুমদার, রবীন্দ্র সংগীত পরিবেশন করে পল্লবী কর্মকার।

অর্থনীতি, আজকের সংবাদ

বাজারে আসছে নতুন টাকার নোট, আসল-নকল চিনবেন কীভাবে

নিজস্ব প্রতিবেদক: নতুন নকশার ১০০ টাকার নোট বাজারে আসছে মঙ্গলবার (১২ আগস্ট)। নোটটিতে ১০টি বিশেষ নিরাপত্তা বৈশিষ্ট্য যোগ করা হয়েছে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। যা জানা থাকলে আসল-নকল সহজেই বোঝা যাবে। বাংলাদেশ ব্যাংকের জনসংযোগ ও প্রকাশনা বিভাগের পরিচালক নুরুন্নাহার স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, এই নোটটি ‘বাংলাদেশের ঐতিহাসিক এবং প্রত্নতাত্ত্বিক স্থাপত্য’ শীর্ষক নতুন নকশা ও সিরিজের অংশ। এই সিরিজে আসছে আরও পাঁচ ধরনের নোট, ৫০০, ২০০, ১০, ৫ ও ২ টাকা। এর আগে বাজারে এসেছে ১০০০, ৫০ ও ২০ টাকার নতুন নোট। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্যানুযায়ী, নোটের সামনের অংশের ডান দিকের কোনায় মুদ্রিত ‘১০০’ লেখাটি রঙ পরিবর্তনশীল—নাড়াচাড়া করলে এটি সোনালি থেকে সবুজে বদলে যাবে। বাম পাশে আছে লাল ও উজ্জ্বল রুপালি রঙের নিরাপত্তা সুতা, যা নাড়াচাড়া করলে লাল থেকে সবুজ রঙ পাল্টাবে। নোটটিতে রয়েছে, ৩টি ছোট বৃত্ত, যা হাতের স্পর্শে অসমতল অনুভূত হবে। গভর্নরের স্বাক্ষরের ডানপাশে আছে অদৃশ্য ‘১০০’ লেখা—শুধু আলোর বিপরীতে ধরলেই চোখে পড়বে। দৃশ্যপটেও এসেছে বদল। নতুন ১০০ টাকার নোটের সামনের অংশে বামপাশে রয়েছে ঐতিহাসিক ষাট গম্বুজ মসজিদের ছবি, মাঝখানে পাতা ও কলিসহ প্রস্ফুটিত শাপলা, আর পেছনে সুন্দরবনের মনোমুগ্ধকর দৃশ্য। জলছাপে যুক্ত হয়েছে রয়েল বেঙ্গল টাইগারের মুখ, যা নোটে বাড়তি সৌন্দর্যের সঙ্গে দিয়েছে নিরাপত্তার নিশ্চয়তা।

আজকের সংবাদ, চাঁদপুর

চাঁদপুরে একদিনেই ৩৬৫ যানবাহনকে জরিমানা

নিজস্ব প্রতিবেদক: চাঁদপুরে সেনাবাহিনীর নেতৃত্বে সড়কে যৌথবাহিনীর অভিযান চালিয়ে একদিনেই ৩৬৫টি যানবাহন থেকে ১ লাখ ২৭ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করেছে। একই সঙ্গে কাগজপত্র না থাকায় ২টি মোটরসাইকেল জব্দ করা হয়। মূলত সরকারি নিয়ম না মেনে সড়কে মোটরসাইকেল, প্রাইভেট কার, ট্রাক এসব যানবাহন থেকে জরিমানা আদায় করে সেনাবাহিনীর নেতৃত্বে যৌথ বাহিনীর সদস্যরা। চাঁদপুরে সেনাবাহিনীর অপারেশনাল অফিসার লে. মো. জাবিদ হাসান জানান, রোববার সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত চাঁদপুর সদর, ফরিদগঞ্জ ও হাজীগঞ্জ উপজেলার প্রধান সড়কে তল্লাশি চৌকি বসানো হয়। এসময় বিভিন্ন চালক এবং সংশ্লিষ্ট যানবাহনের প্রয়োজনীয় কাগজপত্র দেখাতে বলা হয়। কিন্তু কারো যানবাহনের লাইসেন্স, ফিটনেস, উচ্চগতি এবং হেলমেট না থাকায় সড়ক নিরাপত্তা আইনের কার্যবিধি মতে  এমন ৩৬৫টি যানবাহন থেকে ১ দিনেই ১ লাখ ২৭ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করা।  সেনাবাহিনীর এ কর্মকর্তা আরও জানান, গত বছরের ৩ সেপ্টেম্বর থেকে অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার, সন্ত্রাস, মাদক কারবারি ও চোরাচালান এবং সড়ক নিরাপত্তার জন্য এ ধরনের অভিযান অব্যাহত রাখা হয়েছে এবং আগামী দিনেও তা চলমান থাকবে।

আজকের সংবাদ, ফরিদগঞ্জ

ফরিদগঞ্জে শহীদ স্মরণে নির্মিত স্মৃতিফলক উন্মোচন

নিজস্ব প্রতিবেদক: গত বছর ৫ আগস্ট চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জে শহীদ হন শাহাদাত হোসেন। এই শহীদের স্মরণে নির্মিত স্মৃতিফলক উন্মোচন করা হয়ছে। শাহীদ শাহাদাত হোসেন স্মরণে সোমবার (৪ আগস্ট) দুপুরে ফরিদগঞ্জ থানা মোড়ে অপর স্মৃতিফলক উন্মোচন করেন ফরিদগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সুলতানা রাজিয়া। এ সময় উপস্থিত ছিলেন ফরিদগঞ্জ উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) এ আর এম জাহিদ হাসান, ফরিদগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ শাহ্ আলম, প্রেসক্লাব সভাপতি মামুনুর রশিদ পাঠান, শহীদ শাহাদাতের মা শিরোতাজ বেগম ও নানি মমতাজ বেগমসহ স্থানীয় লোকজন। ফরিদগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সুলতানা রাজিয়া বলেন, আমরা আজ শহীদ শাহাদাত হোসেনের স্মৃতিকে চিরস্মরণীয় করে রাখার একটি ক্ষুদ্র প্রয়াস গ্রহণ করেছি। শহীদরা জাতির বাতিঘর। তাঁদের আত্মত্যাগে নতুন বাংলাদেশ তৈরি হয়েছে। শহীদ শাহাদাত হোসেন আন্দোলনের একজন সাহসী সন্তান। তাঁর এই আত্মত্যাগের মর্যাদা দিতে পারলেই আমাদের এই প্রয়াস সার্থক হবে। অনুষ্ঠানটি এক আবেগঘন পরিবেশে সম্পন্ন হয়। শাহাদাতের মা স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন। তিনি বলেন, আজকের এই দিনটি আমাদের জীবনের এক স্মরণীয় দিন। আশা করি আমার ছেলের আত্মত্যাগ কেউ ভুলে যাবে না।

আজকের সংবাদ, চাঁদপুর

চাঁদপুরে ৪৫ মণ জেলিযুক্ত চিংড়ি মাটিতে পুঁতে বিনষ্ট

নিজস্ব প্রতিবেদক: চাঁদপুরের হাজীগঞ্জ উপজেলার দেররা থেকে ১ হাজার ৮০০ কেজি (৪৫ মণ) জেলিযুক্ত চিংড়ি জব্দ করা হয়েছে। মঙ্গলবার (২৯ জুলাই) ভোর ৫টা থেকে সকাল ১০টা পর্যন্ত দেররা মাছের আড়তে যৌথ অভিযান পরিচালনা করে চাঁদপুর সদর উপজেলা মৎস্য বিভাগ ও কোস্টগার্ড চাঁদপুর স্টেশন। বিকেলে এসব তথ্য নিশ্চিত করেন সদর উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা নিজাম ওমর ফারুক। তিনি বলেন, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে দেররা মৎস্য আড়তে অভিযান পরিচালনা করা হয়। এ সময় আড়তের সামনে বক্সে থাকা ১হাজার ৮শ কেজি জেলিপুশকৃত চিংড়ি জব্দ করা হয়। জব্দ চিংড়ির কেউ মালিক দাবি না করায় কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি। পরে দুপুরে জব্দকৃত চিংড়িগুলো কোস্টগার্ড চাঁদপুর স্টেশনে এনে মাটিতে পুঁতে বিনষ্ট করা হয়। অভিযানে কোস্টগার্ড চাঁদপুর স্টেশনের টহল সদস্যরা সার্বিক সহযোগিতা করে।  মৎস্য ও মৎস্য-পণ্য (পরিদর্শন ও মান নিয়ন্ত্রণ) আইন, ২০২০ বাস্তবায়নে এই ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে জানান এই কর্মকর্তা।

আজকের সংবাদ, জাতীয়

অবশেষে জুলাই সনদের খসড়া প্রকাশ

নিজস্ব প্রতিবেদক: নানা আলোচনা-সমালোচনা শেষে জুলাই জাতীয় সনদের খসড়া প্রকাশ করেছে জাতীয় ঐকমত্য কমিশন। রোববার (২৮ জুলাই) রাজনৈতিক দলগুলোর কাছে খসড়া সনদটি পাঠানো হয়েছে। কালবেলা পাঠকদের জন্য জুলাই জাতীয় সনদের খসড়াটি হুবহু তুলে ধরা হলো। বাংলাদেশে ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে সংঘটিত সফল ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের পরিপ্রেক্ষিতে গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র পুনর্গঠনের এক ঐতিহাসিক সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। এই মাহেন্দ্রক্ষণে আমরা নিম্নস্বাক্ষরকারী বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, জোট ও শক্তিসমূহের প্রতিনিধিরা অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে গঠিত জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের উদ্যোগে পারস্পরিক আলোচনার মাধ্যমে রাষ্ট্রের সংবিধান, নির্বাচন ব্যবস্থা, বিচার বিভাগ, জনপ্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন ও দুর্নীতি দমন কমিশন বিষয়ে সংস্কারের লক্ষ্যে নিম্নলিখিত বিষয়ে ঐকমত্যে উপনীত হয়েছি। ১ । পটভূমি ১৯৭১ সালে সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও সামজিক সুবিচারের নীতিকে ধারণ করে সংগঠিত মহান মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে যে একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র কাঠামো গঠনের আকাঙ্ক্ষা বাংলাদেশের জনগণের মধ্যে তৈরি হয়েছিল, দীর্ঘ ৫৩ বছরেও তা অর্জন করা যায়নি। কারণ গণতান্ত্রিক পদ্ধতি ও সংস্কৃতি বিকাশের ধারা বারবার হোঁচট খেয়েছে। বস্তুতপক্ষে, বিগত ৫ দশকে রাষ্ট্রের গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে একদিকে টেকসই ভিত্তির ওপর প্রতিষ্ঠা করা যায়নি। অপরদিকে, সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলো নামেমাত্র থাকলেও তা অত্যন্ত দুর্বলভাবে কাজ করেছে। বস্তুত রাষ্ট্রকাঠামোতে একচ্ছত্র নিয়ন্ত্রণ এবং ক্ষমতার অপব্যবহারের সুরক্ষা নিশ্চিতের লক্ষ্যে দলীয় প্রভাবের প্রাতিষ্ঠানিকীকরণের মাধ্যমে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে অকার্যকর ও বিচারহীনতার সহায়ক হিসেবে পরিচালনা করা হয়েছে। ২০০৯ সালে একটি দলীয় সরকার রাষ্ট্রপরিচালনার দায়িত্ব গ্রহণ করে ক্রমান্বয়ে গণতান্ত্রিক মূল্যবোধকে জলাঞ্জলি দিয়ে অগণতান্ত্রিক চরিত্র ধারণ করতে থাকে। তারা রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ ও সমালোচকদের মানবাধিকার হরণ, গুম, খুন, নিপীড়ন-নির্যাতন, মামলা ও হামলার মাধ্যমে একটি নৈরাজ্যকর ও বিভীষিকাময় ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করে। সমগ্র রাষ্ট্রযন্ত্রকে স্বৈরতান্ত্রিকভাবে ব্যক্তি ও গোষ্ঠী বন্দনার জন্য নিবেদিত রাখা হয়। দেড় দশকে স্বৈরাচারী আওয়ামী লীগ সরকার জনস্বার্থের বিরুদ্ধে ক্ষমতাকে কুক্ষিগত করার উদ্দেশ্যে সংবিধান সংশোধনের মাধ্যমে সংবিধানের বিকৃতি সাধন, বিভিন্ন নিবর্তনমূলক আইন প্রণয়ন, নির্বাচনী ব্যবস্থাকে ধ্বংস করা, বিচার বিভাগ ও জনপ্রশাসনকে দলীয়করণ এবং দুর্নীতির মাধ্যমে রাষ্ট্রীয় সম্পদের লুটপাট করে। এই পটভূমিকায় ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে শিক্ষার্থীদের নেতৃত্বে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে বিপুল ছাত্র-জনতার অংশগ্রহণের ফলে এক অভূতপূর্ব সফল গণ-অভ্যুত্থান সংঘটিত হয়। এতে শাসকগোষ্ঠীর প্রতিহিংসার শিকার হয়ে শিশু ও নারীসহ এক হাজার চারশোর বেশি নিরস্ত্র নাগরিক নিহত এবং বিশ হাজারের বেশি মানুষ আহত হয়। তাদের আত্মাহুতি ও ত্যাগের বিনিময়ে এবং জনগণের সম্মিলিত শক্তি ও প্রতিরোধের কাছে স্বৈরাচারী শাসক ও তার দোসররা পরাজিত হয়ে পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়। এমতাবস্থায় জনগণের মননে রাষ্ট্র-কাঠামো পুনর্গঠনের একটি প্রবল অভিপ্রায় সৃষ্টি হয়েছে। রাষ্ট্র সংস্কার বিশেষ করে সংবিধানের মৌলিক সংষ্কার, নির্বাচনী ব্যবস্থার পুনর্গঠন, গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার অনুশীলন, স্বাধীন বিচার বিভাগ প্রতিষ্ঠা এবং সুশাসিত জবাবদিহিমূলক ও দুর্নীতিমুক্ত সরকার ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার ঐতিহাসিক সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে, যার সদ্ব্যবহার করা আমাদের সকলের পবিত্র দায়িত্ব। ২। সংস্কার কমিশন গঠন বিদ্যমান সংবিধানের ১০৬ অনুচ্ছেদ অনুসারে রাষ্ট্রপতি কর্তৃক প্রেরিত প্রশ্নে সুপ্রিমকোর্টের আপিল বিভাগের মতামতের ভিত্তিতে ২০২৪ সালের ৮ আগস্ট প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার দায়িত্ব গ্রহণ করে রাষ্ট্র ব্যবস্থার সংস্কারের বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করে। তারই ধারাবাহিকতায় গত ৭ অক্টোবর সরকার এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে ছয়টি সংস্কার কমিশন গঠন করে। কমিশনগুলো হচ্ছে, সংবিধান সংস্কার কমিশন, নির্বাচন ব্যবস্থা সংস্কার কমিশন, বিচার বিভাগ সংস্কার কমিশন, জনপ্রশাসন সংস্কার কমিশন, পুলিশ সংস্কার কমিশন ও দুর্নীতি দমন কমিশন সংস্কার কমিশন। কমিশনগুলো গত ৩১ জানুয়ারির মধ্যে সুপারিশসহ সরকারের কাছে তাদের প্রতিবেদন দাখিল করে। ৩। জাতীয় ঐকমত্য কমিশন গঠন জাতীয় ঐকমত্যের ভিত্তিতে সার্বিক সংস্কার প্রক্রিয়াকে এগিয়ে নেওয়ার জন্য অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গত ১২ ফেব্রুয়ারি প্রধান উপদেষ্টাকে সভাপতি, সংবিধান সংস্কার কমিশনের প্রধানকে সহ-সভাপতি এবং নির্বাচন ব্যবস্থা সংস্কার কমিশন, জনপ্রশাসন সংস্কার কমিশন, পুলিশ সংস্কার কমিশন, দুর্নীতি দমন কমিশন সংস্কার কমিশনের প্রধান এবং বিচার বিভাগ সংস্কার কমিশনের একজন সদস্য নিয়ে জাতীয় ঐকমত্য কমিশন গঠন করে। পরবর্তীতে উক্ত কমিশন কিছুটা পুনর্গঠন করা হয়। কমিশনের দায়িত্ব ছিল, আগামী নির্বাচনকে সামনে রেখে সংবিধান, নির্বাচন ব্যবস্থা, বিচার বিভাগ, জনপ্রশাসন, পুলিশ ও দুর্নীতি দমন বিষয়ে সংস্কারের জন্য গঠিত কমিশনগুলোর সুপারিশ বিবেচনা ও গ্রহণের লক্ষ্যে জাতীয় ঐকমত্য গঠনের জন্য রাজনৈতিক দল ও শক্তিসমূহের সঙ্গে আলোচনা করা এবং এ মর্মে পদক্ষেপ সুপারিশ করা। কমিশনের মেয়াদ ছিল কার্যক্রম শুরুর তারিখ থেকে ছয় মাস। কমিশন তার দায়িত্ববোধ ও সুপারিশের অংশ হিসেবে ঐকমত্যের মৌলিক বিষয় সংবলিত ‘জুলাই জাতীয় সনদ ২০২৫’ প্রণয়নের সিদ্ধান্ত নেয়। ৪। কমিশনের কার্যক্রম জাতীয় ঐকমত্য কমিশন গত ১৫ ফেব্রুয়ারি থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে তার কাজ শুরু করে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারির মধ্যে ছয়টি কমিশনের প্রতিবেদনের ছাপানো কপি সব রাজনৈতিক দলের কাছে প্রেরণ করা হয়। এরপর ৫ মার্চ পুলিশ সংস্কার কমিশন ব্যতীত অপর পাঁচটি কমিশনের প্রতিবেদনের গুরুত্বপূর্ণ ১৬৬টি সুপারিশ স্প্রেডশিট আকারে ৩৮টি রাজনৈতিক দল ও জোটের কাছে মতামতের জন্য পাঠানো হয়। এর মধ্যে সংবিধান সংস্কার বিষয়ক ৭০টি, নির্বাচন সংস্কার বিষয়ক ২৭টি, বিচার বিভাগ সংক্রান্ত ২৩টি, জনপ্রশাসন সংক্রান্ত ২৬টি ও দুর্নীতি দমন কমিশন বিষয়ক ২৭টি সুপারিশ ছিল। পুলিশ সংস্কার কমিশনের সুপারিশগুলো সরাসরি প্রশাসনিক সিদ্ধান্তে বাস্তবায়নযোগ্য হওয়ায় সেগুলো স্প্রেডশিটে রাখা হয়নি। অপরদিকে, সংবিধান সংস্কার কমিশন ছাড়া অন্য পাঁচটি কমিশনের দ্রুত বাস্তবায়নযোগ্য সুপারিশগুলোর তালিকা সরকারের কাছে হস্তান্তর করা হয় । মোট ৩৫টি রাজনৈতিক দল ও জোট তাদের মতামত কমিশনের কাছে প্রেরণ করে, অনেকে বিস্তারিত ব্যাখ্যা বিশ্লেষণও প্রদান করে। মতামত গ্রহণের পাশাপাশি প্রথম পর্যায়ে গত ২০ মার্চ থেকে ১৯ মে পর্যন্ত ৩২টি দল ও জোটের সঙ্গে জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের মোট ৪৪টি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। আলোচনা ফলপ্রসূ করার লক্ষ্যে কিছু দলের সঙ্গে একাধিকবার বৈঠক হয়। রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে প্রথম পর্যায়ের আলোচনা শেষ করে কমিশন অগ্রাধিকার ও গুরুত্বপূর্ণ বিবেচনায় মোট ২০টি বিষয় নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে দ্বিতীয় দফা আলোচনায় মিলিত হয়। এই প্রক্রিয়ার ফলশ্রুতিতে নিম্নলিখিত ‘জুলাই জাতীয় সনদ ২০২৫’ রচিত হয়। জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের উদ্যোগে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও জোটের পারস্পরিক আলাপ-আলোচনার ভিত্তিতে, আমরা অংশগ্রহণকারী রাজনৈতিক দল ও জোটের প্রতিনিধিরা স্ব স্ব দলের পক্ষ থেকে বিদ্যমান শাসন ব্যবস্থা তথা সংবিধান, বিচার ব্যবস্থা, নির্বাচন ব্যবস্থা, জনপ্রশাসন, পুলিশি ব্যবস্থা ও দুর্নীতি দমন বিষয়ে নিম্নোল্লেখিত কাঠামোগত, আইনি ও প্রাতিষ্ঠানিক পরিবর্তনের ব্যাপারে ঐকমত্যে উপনীত হয়েছি এবং এসব বিষয়সমূহকে একটি জাতীয় সনদে সন্নিবেশিত করতে সম্মত হয়েছি। ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে সংঘটিত গণ-অভ্যুত্থানের বীর শহীদ ও আহতদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা প্রকাশ এবং উক্ত গণ-অভ্যুত্থানে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে অংশগ্রহণকারীদের প্রতি কৃতজ্ঞতার স্মারক হিসেবে আমরা এই সনদকে ‘জুলাই জাতীয় সনদ ২০২৫’ হিসেবে ঘোষণা করছি। ৫। ঐকমত্যে উপনীত হওয়ার বিষয়সমূহ (পরে যুক্ত হবে) (এই অংশে প্রথম পর্বের আলোচনা এবং চলমান দ্বিতীয় পর্বের আলোচনা শেষে যে সকল বিষয়ে ঐকমত্য হবে সেই সকল বিষয় অন্তর্ভুক্ত হবে।) জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নের অঙ্গীকারনামা আমরা নিম্নস্বাক্ষরকারীগণ এই মর্মে অঙ্গীকার করছি যে, ১) হাজারো মানুষের জীবন ও রক্ত এবং অগণিত মানুষের সীমাহীন ক্ষয়ক্ষতি ও ত্যাগ-তিতিক্ষার বিনিময়ে অর্জিত সুযোগ এবং তৎপ্রেক্ষিতে জনআকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন হিসেবে দীর্ঘ ধারাবাহিক প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে প্রণীত ও ঐকমত্যের ভিত্তিতে গৃহীত ‘জুলাই জাতীয় সনদ ২০২৫’ এর পূর্ণ বাস্তবায়ন নিশ্চিত করব; ২) ‘জুলাই জাতীয় সনদ ২০২৫’-এ দেশের শাসন ব্যবস্থা তথা

আজকের সংবাদ, জাতীয়

সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য সাতটি জরুরি নির্দেশনা

নিজস্ব প্রতিবেদক: সরকারি চাকরিজীবীদের প্রতারণামূলক ফাঁদ থেকে নিরাপদ রাখতে এবং তাদের ওপর অধিকতর সাবধানতা অবলম্বন নিশ্চিত করতে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ গুরুত্বপূর্ণ সাতটি নির্দেশনা জারি করেছে। সম্প্রতি মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে এ সংক্রান্ত একটি চিঠি দেশের সব মন্ত্রণালয় ও বিভাগের সিনিয়র সচিব ও সচিবদের কাছে পাঠানো হয়েছে। চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে, বর্তমান পরিস্থিতিতে সরকারি কর্মকর্তাদের প্রতারণামূলক ফাঁদ থেকে নিরাপদ রাখার জন্য তাদের অধিকতর সতর্ক হতে হবে। এ উদ্দেশ্যে মন্ত্রণালয়/বিভাগ ও অধীনস্থ দপ্তরগুলোর কর্মকর্তাদের জন্য বিশেষ নির্দেশনা প্রদান করার অনুরোধ জানানো হয়েছে। ১. সরকারি কর্মকর্তাদের প্রতারণামূলক ফাঁদ থেকে নিরাপদ থাকার জন্য অধিকতর সাবধানতা অবলম্বন করার জন্য পরামর্শ দেওয়া যেতে পারে। ২. এ ধরনের অপরাধের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা যেতে পারে। ৩. এরূপ অপরাধের বিষয়ে কোনো তথ্য পেলে গোয়েন্দা সংস্থা অথবা আইনশৃঙ্খলারক্ষা বাহিনীকে অতিসত্বর অবহিত করা যেতে পারে যাতে গোয়েন্দা সংস্থা সিন্ডিকেট চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় কার্যকরী ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারে। ৪. সরকারি কর্মকর্তাদের বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাদের পদের পরিচয়, অবস্থান ও দৈনন্দিন কার্যক্রম প্রকাশ না করার ব্যাপারে সতর্ক থাকা। ৫. কোনো ধরনের প্রলোভনমূলক ভিডিও কল, ছবি বা চ্যাটের ফাঁদে পা না দেওয়ার জন্য সচেতনতা বৃদ্ধি করা। ৬. অপরিচিত বা অল্প পরিচিত ব্যক্তির সঙ্গে খুব দ্রুত ঘনিষ্ঠ না হওয়া। ৭. অনলাইন চ্যাট বা ভিডিও কলে গোপন তথ্য, ছবি বা ভিডিও শেয়ার না করা।

আজকের সংবাদ, চাঁদপুর

চাঁদপুরে অবৈধভাবে বালুবাহী বাল্কহেড থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক: চাঁদপুরে নদীপথে নির্দিষ্ট সীমানার বাহিরে গিয়ে অবৈধ উপায়ে বালুবাহী বাল্কহেড থেকে ইজারার চাঁদা আদায়ের অভিযোগ করেছেন জেলা বালুবাহী নৌ-যান মালিক সমবায় সমিতি লিমিটেডের নেতারা। বিভিন্ন কৌশলের মাধ্যমে ইজারা সীমানার বাহিরে গিয়ে এবং সরকারি চাঁদার থেকে দ্বিগুণ, কখনো তিনগুণও চাঁদা আদায় করছেন বলেও জানান এই সংগঠনের নেতারা। জেলা প্রশাসন বলছে অতিরিক্ত টোল আদায় করলে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। সম্প্রতি সরজমিনে জেলা বালুবাহী নৌ-যান মালিক সমবায় সমিতির নেতাদের সঙ্গে কথা বলে এসব অভিযোগের তথ্য জানা যায়। জেলা বালুবাহী নৌ-যান মালিক সমবায় সমিতির সাধারণ সম্পাদক হারুনুর রশিদ জানায়, সম্প্রতি ইয়াছিন আরাফাত নামে জেলা প্রশাসন হতে লঞ্চঘাট/টেম্পু ঘাট/ বোটমহল এর তথ্যে ইজারা নেন। ইজারায় উল্লেখ রয়েছে ৮৩ নং মকিমাবাদ মৌজার ডাকাতিয়া নদীর উত্তরপাড় মকিমাবাদ মৌজায় রনি সিনেমা হল হইতে পৌর হকার্স মার্কেট ঘাটলা পর্যন্ত এবং নদীর দক্ষিণপাড় ডাকাতিয়ারচর মৌজায় হাজীগঞ্জ ও রামগঞ্জ ব্রিজের দক্ষিণ অংশ পর্যন্ত। উক্ত সীমানায় মালামাল খালাস করলে সরকারি তালিকা অনুসারে টাকা নেওয়ার কথা থাকলেও তারা এর বাহিরে গিয়ে চাঁদা আদায় করছে, এমনকি নদীপথে বাল্কহেড থাকা অবস্থায়ও চাঁদা করছেন। কিন্তু তারা সরকার কর্তৃক যে ইজারার জন্যে যে সীমানা নির্ধারণ করা হয়েছে তারা সেই সীমার বাহিরে গিয়েও অবৈধভাবে আমাদের বাল্কহেড থেকে চাঁদা আদায় করছে। হারুনুর রশিদ জানান, সরকারি তালিকা অনুযায়ী ৪০০-৮০০ টাকা চাঁদা আদায় করার কথা থাকলেও তারা ৮০০-৫০০০ টাকা চাঁদা আদায় করছে। এক্ষেত্রে তারা বিভিন্ন কৌশল অনুকরণ করছে। তারা প্রশাসনকে দেখাতে একটি অরিজিনাল রশিদ ব্যবহার করলেও সাথে আরেকটি রশিদ দিচ্ছে, যেখানে তারা অবৈধভাবে চাঁদা আদায় করছে। অনেকসময় এ অবৈধ উপায়ে চাঁদা আদায় করতে গিয়ে বাল্কহেডে থাকা আমাদের স্টাফদেরও মারধর করেন। এতে করে এই ব্যবসার সীমানায় বাহিরের অনেক বাল্কহেড আসতে চায় না। যার কারণে আমাদের ব্যবসা করতেও প্রচণ্ড বেগ পেতে হচ্ছে। সম্প্রতি সরজমিনে জেলা বালুবাহী নৌ-যান মালিক সমবায় সমিতির নেতাদের সঙ্গে কথা বলে এসব অভিযোগের তথ্য জানা যায়। জেলা বালুবাহী নৌ-যান মালিক সমবায় সমিতির সাধারণ সম্পাদক হারুনুর রশিদ জানায়, সম্প্রতি ইয়াছিন আরাফাত নামে জেলা প্রশাসন হতে লঞ্চঘাট/টেম্পু ঘাট/ বোটমহল এর তথ্যে ইজারা নেন। ইজারায় উল্লেখ রয়েছে ৮৩ নং মকিমাবাদ মৌজার ডাকাতিয়া নদীর উত্তরপাড় মকিমাবাদ মৌজায় রনি সিনেমা হল হইতে পৌর হকার্স মার্কেট ঘাটলা পর্যন্ত এবং নদীর দক্ষিণপাড় ডাকাতিয়ারচর মৌজায় হাজীগঞ্জ ও রামগঞ্জ ব্রিজের দক্ষিণ অংশ পর্যন্ত। উক্ত সীমানায় মালামাল খালাস করলে সরকারি তালিকা অনুসারে টাকা নেওয়ার কথা থাকলেও তারা এর বাহিরে গিয়ে চাঁদা আদায় করছে, এমনকি নদীপথে বাল্কহেড থাকা অবস্থায়ও চাঁদা করছেন। কিন্তু তারা সরকার কর্তৃক যে ইজারার জন্যে যে সীমানা নির্ধারণ করা হয়েছে তারা সেই সীমার বাহিরে গিয়েও অবৈধভাবে আমাদের বাল্কহেড থেকে চাঁদা আদায় করছে। হারুনুর রশিদ জানান, সরকারি তালিকা অনুযায়ী ৪০০-৮০০ টাকা চাঁদা আদায় করার কথা থাকলেও তারা ৮০০-৫০০০ টাকা চাঁদা আদায় করছে। এক্ষেত্রে তারা বিভিন্ন কৌশল অনুকরণ করছে। তারা প্রশাসনকে দেখাতে একটি অরিজিনাল রশিদ ব্যবহার করলেও সাথে আরেকটি রশিদ দিচ্ছে, যেখানে তারা অবৈধভাবে চাঁদা আদায় করছে। অনেকসময় এ অবৈধ উপায়ে চাঁদা আদায় করতে গিয়ে বাল্কহেডে থাকা আমাদের স্টাফদেরও মারধর করেন। এতে করে এই ব্যবসার সীমানায় বাহিরের অনেক বাল্কহেড আসতে চায় না। যার কারণে আমাদের ব্যবসা করতেও প্রচণ্ড বেগ পেতে হচ্ছে।

আজকের সংবাদ, ফরিদগঞ্জ

ফরিদগঞ্জে লাইভে হুমকি দেওয়া নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ নেতা গ্রেপ্তার

নিজস্ব প্রতিবেদক: চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জ উপজেলায় ফেসবুক লাইভে ধারালো টিপ ছুরি হাতে বিএনপিকে হুমকি দেওয়ার অভিযোগে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ নেতা মো. মাসুম (২২)কে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তাঁর কাছ থেকে একটি পুরোনো স্মার্টফোন ও একটি টিপ ছুরি উদ্ধার করা হয়েছে। শনিবার (২৬ জুলাই) সন্ধ্যায় উপজেলার পাইকপাড়া উত্তর ইউনিয়নের উত্তর নদোনা (আমির বাড়ি) এলাকা থেকে মাসুমকে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি ওই এলাকার মো. সাহাদাত হোসেন পাটওয়ারীর ছেলে। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে মাসুম তাঁর ব্যক্তিগত ফেসবুক আইডি থেকে লাইভে এসে হাতে টিপ ছুরি নিয়ে বিএনপিকে গালাগাল ও হুমকি দেন। এ দৃশ্য স্থানীয়দের নজরে এলে তাঁরা বিষয়টি থানায় জানান। পরে পুলিশ তাঁর বাড়িতে অভিযান চালিয়ে মাসুমকে আটক করে। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, মাসুম দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় মাদক ও সন্ত্রাসী কার্যকলাপে জড়িত। কেউ প্রতিবাদ করলে তাঁদের মারধর কিংবা কুপিয়ে আহত করতেন। সম্প্রতি এক মুক্তিযোদ্ধার বাড়ির সামনে মাদক সেবনের সময় বাধা দেওয়ায় তিনি ওই মুক্তিযোদ্ধার ছেলেকে কুপিয়ে রক্তাক্ত করেন। সে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের সাথে জড়িত ছিল। ফরিদগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ শাহ আলম বলেন, “আটক মাসুম এলাকায় চুরি, মাদক বিক্রি ও সেবনসহ নানা অপরাধে জড়িত। ফেসবুক লাইভে টিপ ছুরি হাতে হুমকির ঘটনাকে গুরুত্ব দিয়ে আমরা তাৎক্ষণিকভাবে অভিযান চালিয়ে তাঁকে আটক করি। তাঁর বিরুদ্ধে ‘আইন-শৃঙ্খলা বিঘ্নকারী অপরাধ (দ্রুত বিচার) আইন, ২০০৪ (সংশোধিত ২০২৪)’-এর ৪(১) ধারায় মামলা করে রোববার আদালতে পাঠানো হয়েছে।”

Scroll to Top