৩রা জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

Author name: Farid Ahmed

আজকের সংবাদ, চাঁদপুর

চাঁদপুর থেকে আবারও শুরু এনসিপির পদযাত্রা

নিজস্ব প্রতিবেদক: রাষ্ট্রীয় শোক পালন শেষে আজ বুধবার (২৩ জুলাই) চাঁদপুর থেকে পুনরায় ‘জুলাই পদযাত্রা’ শুরু করতে যাচ্ছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। সকাল ১১টায় চাঁদপুর বাসস্ট্যান্ড থেকে ‘দেশ গড়তে জুলাই পদযাত্রা’ শিরোনামে এই কর্মসূচির সূচনা হবে। পদযাত্রাকে ঘিরে চাঁদপুরে ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। পুলিশের পাশাপাশি মোতায়েন থাকবে র‍্যাব, ডিবি ও সেনাবাহিনীর সদস্যরা। অতিরিক্ত নিরাপত্তার অংশ হিসেবে মঞ্চের চারপাশে বসানো হয়েছে সিসি ক্যামেরা। এনসিপির চাঁদপুর জেলা প্রধান সমন্বয়ক মাহবুব আলম জানান, এই পদযাত্রা চাঁদপুরবাসীর জন্য একটি ঐতিহাসিক মুহূর্ত। এটি চাঁদপুরের উন্নয়ন ও সম্ভাবনার নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে। অনুষ্ঠানসূচি অনুযায়ী, সকাল ৯টায় সার্কিট হাউসে শহীদ পরিবারের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হবে। বেলা ১১টায় বাসস্ট্যান্ডে পথসভা ও পদযাত্রা শুরু হবে। দুপুর ১টায় হাজীগঞ্জে শহীদ আজাদ চত্বরের উদ্বোধন এবং বেলা ২টায় শাহরাস্তির দোয়াভাঙ্গায় পদযাত্রা শেষ হবে। এই পদযাত্রায় উপস্থিত থাকবেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম, এনসিপির দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহ, এনসিপির উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম, নাসীরউদ্দীন পাটওয়ারী, ডা. তাসনিম জারা, শামান্তা শারমিনসহ কেন্দ্রীয় নেতারা। চাঁদপুরের পুলিশ সুপার মুহম্মদ আব্দুর রকিব জানান, এনসিপির পদযাত্রা ঘিরে পুলিশের পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়েছে। পুরো আয়োজনটি যাতে শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হয়, সে লক্ষ্যে পুলিশ সতর্ক অবস্থানে থাকবে। কোনো অপ্রীতিকর ঘটনার সম্ভাবনা নেই।

আজকের সংবাদ, ফরিদগঞ্জ

ফরিদগঞ্জ ও চাঁদপুরে মাদকসহ তিন কারবারি গ্রেপ্তার

নিজস্ব প্রতিবেদক: চাঁদপুর সদর ও ফরিদগঞ্জ উপজেলায় যৌথ বাহিনীর পৃথক অভিযানে মাদকসহ তিন কারবারি গ্রেপ্তার হয়েছে। আজ মঙ্গলবার (২২ জুলাই) সকালে সদর আর্মি ক্যাম্প থেকে অপারেশনাল অফিসার লেফটেন্যান্ট মানজুরুল হাসান খান এ তথ্য জানান। মানজুরুল খান বলেন, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সোমবার দিনগত রাত ২টার দিকে সদর উপজেলার শ্রীরামপুর এলাকা থেকে মাদক কারবারি মো. শাহাজাহান গাজী (৫০) ও মো. ইউসুফ জোয়াদ্দারকে (৩৫) গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের কাছ থেকে উদ্ধার করা হয় ১৪১টি ইয়াবা বড়ি, ১২০ গ্রাম গাঁজা, নগদ ৬৪ হাজার ১১০ টাকা, একটি গাঁজা মাপার মেশিন, দুটি কাঁচি এবং তিনটি মোবাইল ফোন। এদিকে একই রাত দেড়টার দিকে অপর অভিযানে ফরিদগঞ্জ উপজেলার চরচন্না এলাকা থেকে মাদক কারবারি মো. নাজিমকে (২৪) গ্রেপ্তার করা হয়। তাঁর কাছ থেকে উদ্ধার করা হয় ১০টি ইয়াবা বড়ি। উদ্ধার করা মাদকদ্রব্য ও গ্রেপ্তার মাদক কারবারিদের বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট থানার পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

আজকের সংবাদ, চাঁদপুর

চাঁদপুর জুলাই শহীদদের কবরের পাশে বৃক্ষরোপণ

নিজস্ব প্রতিবেদক: চাঁদপুরে জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুত্থানে শহীদদের স্মরণে ‘এক শহীদ, এক বৃক্ষরোপন’ কর্মসূচি পালিত হয়েছে।  প্রত্যেক শহীদের কবরস্থানে সোনালু জাতের গাছের চারা লাগালো হয়েছে। শনিবার (১৯ জুলাই) সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত জেলার ৮ উপজেলায়  ৩১ জন শহীদের কবরের পাশে এই বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি জেলা প্রশাসন ও বন বিভাগের ব্যবস্থাপনায় আয়োজন করা হয়। সকালে সদর উপজেলার চান্দ্রা ইউনিয়নে ২ জন এবং পৌর এলাকার একজনসহ ৩ শহীদের কবরের পাশে আনুষ্ঠানিকভাবে বৃক্ষরোপণ করেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মোহসীন উদ্দিন । বৃক্ষরোপণকালে উপস্থিত ছিলেন সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাখাওয়াত জামিল সৈকত, সদর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. আল ইমরান খান, জেলা বন কর্মকর্তা মো. তাজুল ইসলাম, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা ও শহীদ পরিবারের সদস্যরা। জেলা প্রশাসক বলেন, চাঁদপুরে জুলাই আন্দোলনে শহীদদের স্মরণে প্রত্যেকটি কর্মসূচি সবাইকে নিয়ে সম্পাদন করা হচ্ছে। বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতেও সকালে বন বিভাগ থেকে বৃক্ষসহ প্রত্যেক উপজেলায় কর্মকর্তাদেরকে পাঠানো হয়েছে। জেলা প্রশাসক বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতে গিয়ে শহীদ পরিবারের সদস্যের সাথে কথা বলেন এবং তাদের খোঁজখবর নেন।

আজকের সংবাদ, চাঁদপুর

চাঁদপুরে দেয়ালজুড়ে ‘জুলাই অভ্যুত্থান’-এর গ্রাফিতি

নিজস্ব প্রতিবেদক: জুলাই পুনর্জাগরণ কর্মসূচির আওতায় চাঁদপুরে দেয়ালে দেয়ালে ‘২৪-এর রঙে গ্রাফিতি ও চিত্রাঙ্কণ’ প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়েছে। রবিবার (২০ জুলাই) চাঁদপুর সরকারি মহিলা কলেজের বহিঃবিভাগের দেয়ালে এই প্রতিযোগিতার আয়োজন করে জেলা প্রশাসন। সকাল ১০টায় শুরু হওয়া প্রতিযোগিতা চলে দুপুর ১২টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত। এতে জেলার বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ৪৮টি দল অংশগ্রহণ করে। প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণকারীদের মধ্য থেকে ৩ জন বিজয়ী বিভাগীয় পর্যায়ের প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণের সুযোগ পাবে। গ্রাফিতি প্রতিযোগিতা সম্পর্কে জেলা প্রশাসক মো. মোহসীন উদ্দিন বলেন, ‘জুলাই অভ্যুত্থানে গ্রাফিতির ছিল গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা। মানুষের অধিকারের দাবি ও চেতনা ফুটিয়ে তোলা হচ্ছে এই গ্রাফিতির মাধ্যমে।’ এ বিষয়ে জেলা পুলিশ সুপার মো. আব্দুর রকিব বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের মনে জুলাই বিপ্লব নিয়ে যে চিন্তা-চেতনা রয়েছে, তারা তা গ্রাফিতির মাধ্যমে প্রকাশ করছে। এমন কার্যক্রম তাদের মধ্যে অপরাধপ্রবণতা হ্রাসে সহায়ক হবে।’

আজকের সংবাদ, চাঁদপুর

ইলিশের দাম বেশি হওয়ার যে কারণ জানালেন উপদেষ্টা

নিজস্ব প্রতিবেদক: সরবরাহ কম থাকায় পাশাপাশি চাঁদাবাজি ও ডিজেলের দাম বেশি হওয়ায় কারণে দেশে বর্তমানে ইলিশের দাম বেশি বলে জানিয়েছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ফরিদা আখতার। তিনি বলেন, এখন ইলিশের কেজি ২ হাজার টাকার ওপরে। দাম কমানোর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এ বিষয়ে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয় থেকে ইলিশের দাম কমানোর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। রোববার (২১ জুলাই) সচিবালয়ে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন। দাম বেশির কারণ জানতে চাইলে উপদেষ্টা জানান, সরবরাহ কম, এটা প্রধান কারণ। ঢাকায় ইলিশ এখনো সেইভাবে আসেনি। আর চাঁদাবাজিও আছে, এটা এখনো বন্ধ করা যায়নি। ডিজেলের দামও বেশি। এর আগে লিখিত বক্তব্যে উপদেষ্টা বলেন, ইলিশের ভরা মৌসুম শুরু হয়েছে। এ বছর জাটকা রক্ষা সপ্তাহসহ বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করে ইলিশ রক্ষার চেষ্টা করা হয়েছে। ১২ জুন থেকে ২০ জুলাই পর্যন্ত ৪৬ হাজার ৭৯০ মেট্রিক টন ইলিশ মাছ আহরিত হয়েছে। বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা প্রতিষ্ঠানের মডেল অনুযায়ী ২০২৪-২৫ সালে বাংলাদেশের ইলিশ উৎপাদন ৫ লাখ ৩৮ হাজার থেকে ৫ নলাখ ৪৫ হাহার মেট্রিক টন হতে পারে। কিন্তু এটাও সতর্ক করে দেওয়া হচ্ছে যে, ২০২৩-২৪ অর্থবছরের মতো উৎপাদন হ্রাসের প্রবণতা অব্যাহত থাকলে প্রকৃত উৎপাদন আরও কম হতে পারে। তিনি বলেন, আমরা জেলা প্রশাসক, নৌবাহিনী, কোস্টগার্ড, নৌপুলিশ দিয়ে জাটকা রক্ষায় যৌথভাবে বিভিন্ন অভিযান পরিচালনা করেছি কিন্তু নির্বিচার জাটকা নিধন সম্পূর্ণরূপে বন্ধ রাখা যায়নি। এর সঙ্্গে যুক্ত হয়েছে নদীর নাব্যতা হ্রাস এবং নদীদূষণ, বৃষ্টিপাত সময় মতো না হওয়া, মাত্রাতিরিক্ত তাপ ইত্যাদি। গত দু-এক সপ্তাহে অতিরিক্ত বৃষ্টি ও ঝড়-বাদলের কারণে জেলেরা মাছ ধরতে যেতে পারেনি। তবে যারা যেতে পারে তারা মাছ পাচ্ছে। তিনি আরও বলেন, ইলিশের দাম এখনো সাধারণ মানুষের নাগালের মধ্যে নেই। ঢাকায় ১ কেজির কম ওজনের ইলিশ এখনও ২০০০ টাকার বেশি। বাজারে ইলিশের সরবরাহ বাড়লে দাম কমবে বলে আমরা আশা করছি। এরইমধ্যে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয় থেকেও ইলিশের দাম নিয়ন্ত্রণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তবে বরিশাল ও চট্টগ্রামে তুলনামূলকভাবে ইলিশের দাম কম। উপদেষ্টা বলেন, দেশে বসবাসরত আপামর জনগোষ্ঠীর মতো বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বসবাসরত প্রবাসীদের চাহিদা পূরণের লক্ষ্যে পরীক্ষামূলকভাবে প্রাথমিকভাবে এক বা দুইটি দেশে (বিশেষত যেখানে অপেক্ষাকৃত বেশি সংখ্যক প্রবাসী বাংলাদেশি বসবাস করেন) ইলিশ রপ্তানির উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। তিনি বলেন, সৌদি আরবে ১১ হাজার মেট্রিক টন ইলিশ রপ্তানির অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। আগামী অক্টোবরের মধ্যে এটা পাঠানো হবে।

আজকের সংবাদ, ফরিদগঞ্জ

ফরিদগঞ্জে মা-মেয়ের বিষপানে মেয়ের মৃত্যু

নিজস্ব প্রতিবেদক: চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জে পারিবারিক কলহের জেরে মা ও মেয়ে বিষপান করেছেন। এতে মেয়ে জান্নাত আক্তার (১৮) মারা গেছেন। মা পারুল বেগম (৪৫) চাঁদপুর সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। মঙ্গলবার (১৫ জুলাই) সকালে উপজেলার রূপসা দক্ষিণ ইউনিয়নের সাহেবগঞ্জ এলাকার রাড়ি বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। পারুল বেগম স্থানীয় জয়নাল আবেদীনের স্ত্রী। পরিবারের সদস্যরা জানান, জয়নাল আবেদীনের সংসারে দীর্ঘদিন ধরে পারিবারিক কলহ চলছিল। মঙ্গলবার সকালে মা ও মেয়ের মধ্যে কথা-কাটাকাটি হয়। এক পর্যায়ে জান্নাত ঘরে থাকা কীটনাশক পান করেন। পরে মাও কিটনাশক পান করেন। বিষয়টি টের পেয়ে দ্রুত তাদের ফরিদগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। চিকিৎসকরা অবস্থা গুরুতর দেখে দুজনকেই চাঁদপুর জেনারেল হাসপাতালে পাঠান। পরে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় জান্নাত আক্তার মারা যান। এ বিষয়ে জান্নাতের বাবা জয়নাল আবেদীন বলেন, ‌‘আমার মেয়ে মানসিকভাবে কিছুটা অসুস্থ ছিল। সে প্রায়ই মায়ের সঙ্গে খারাপ ব্যবহার করতো। সকালে নামাজ শেষে বাজারে গেলে ফোনে খবর পাই, ওরা দুজনেই বিষ খেয়েছে।’ তিনি বলেন, ‘দ্রুত বাড়ি ফিরে তাদের প্রথমে ফরিদগঞ্জ হাসপাতালে নিই। পরে চাঁদপুর হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানে মেয়েটা মারা যায়। এখনো আমার স্ত্রীর জ্ঞান ফেরেনি।’ এ বিষয়ে ফরিদগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শাহ আলম বলেন, পারিবারিক কলহের জেরে মা ও মেয়ে বিষপান করেছেন। মেয়ে জান্নাত চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। মরদেহের সুরতহাল করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে।

আজকের সংবাদ, চাঁদপুর

চাঁদপুরে মামলার শুনানি চলাকালীন আইনজীবীর মৃত্যু

নিজস্ব প্রতিবেদক: চাঁদপুর জেলা জজ আদালতে একটি মামলার শুনানির সময় হঠাৎ মাথা ঘুরে মেঝেতে পড়ে যান আব্দুল মান্নান খান (মহিন) নামে এক আইনজীবী। সেখান থেকে তাকে চাঁদপুর সরকারি জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে জরুরি বিভাগের চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। মঙ্গলবার (১৫ জুলাই) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে জেলা জজ আদালতে রিভিশন মামলার শুনানিকালে এ ঘটনা ঘটে। আব্দুল মান্নান খান (মহিন) হাজীগঞ্জ উপজেলার ৪ নম্বর কালচোঁ দক্ষিণ ইউনিয়নের চাঁদপুর গ্রামের ব্যাপারী বাড়ির বাসিন্দা। তিনি স্ত্রী, এক ছেলে ও এক মেয়ে নিয়ে চাঁদপুর সদর উপজেলা পরিষদের দক্ষিণে বসবাস করতেন। তার বয়স ছিল ৫১ বছর। মহিন ২০১০ সালে চাঁদপুর আইনজীবী সমিতিতে যুক্ত হন। মহিনের সহকর্মী আইনজীবীরা জানান, পড়ে যাওয়ার সময় আদালতের বেঞ্চের সঙ্গে ধাক্কা লেগে তার মাথায় জখম হয়। তাৎক্ষণিক আদালতে থাকা অন্যান্য আইনজীবী ও আইনজীবীর সহকারীরা তাকে চাঁদপুর সরকারি জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যান। পরে জরুরি বিভাগের চিকিৎসক আমিনুল ইসলাম সুমন তাকে মৃত ঘোষণা করেন। চাঁদপুর জেলা জজ আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) কুহিনূর বেগম কালবেলাকে বলেন, আইনজীবী আব্দুল মান্নান আদালতে একটি রিভিশন মামলার অ্যাডমিশন শুনানি করছিলেন। শুনানি করা অবস্থায় তিনি মাথা ঘুরে ফ্লোরে পড়ে যান। সঙ্গে সঙ্গে তাকে চিকিৎসার জন্য চাঁদপুর সরকারি হাসপাতালে পাঠানো হয়।

আজকের সংবাদ, প্রবাস

বাহরাইনের গোল্ডেন ভিসা: কম খরচে বেশি সুবিধা

নিজস্ব প্রতিবেদক: মধ্যপ্রাচ্যের অন্যান্য দেশগুলোর তুলনায় বাহরাইনের গোল্ডেন রেসিডেন্সি ভিসা কম খরচ ও বেশি সুবিধার কারণে অভিবাসীদের কাছে দ্রুত জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। বাহরাইন সরকারের ‘ভিশন ২০৩০’-এর অংশ হিসেবে চালু হওয়া এই ভিসা মধ্যম স্তরের পেশাদার, সম্পত্তিতে বিনিয়োগকারী এবং অবসরপ্রাপ্তদের জন্য দীর্ঘমেয়াদে বসবাসের সুবিধা দিয়ে থাকে। কেন বাহরাইনের গোল্ডেন ভিসা বেশি আকর্ষণীয়? সংযুক্ত আরব আমিরাত এবং সৌদি আরবের প্রিমিয়াম রেসিডেন্সির তুলনায় বাহরাইনের গোল্ডেন রেসিডেন্সি ভিসার প্রধান সুবিধা হলো এর কম খরচ এবং নমনীয় শর্ত। এই ভিসাধারী ব্যক্তিরা কোনো নির্দিষ্ট নিয়োগকর্তার স্পনসরশিপ ছাড়াই যেকোনো প্রতিষ্ঠানে কাজ করতে, নিজস্ব ব্যবসা শুরু করতে বা ফ্রিল্যান্সিং করতে পারেন—এমন সুবিধা উপসাগরীয় অঞ্চলে বিরল। এছাড়া, বাহরাইনে থাকার খরচ আমিরাত বা সৌদির তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে কম। মানামায় বাসস্থানের খরচ দুবাইয়ের তুলনায় ৩০ থেকে ৪০ শতাংশ কম, দৈনন্দিন খরচ যেমন- মুদিপণ্য এবং পরিবহনও সাশ্রয়ী। অন্যদিকে, আমিরাতে গোল্ডেন ভিসার জন্য ন্যূনতম ২০ লাখ দিরহাম (প্রায় ৫ লাখ ৪৫ হাজার মার্কিন ডলার) সম্পত্তি বিনিয়োগ প্রয়োজন, যেখানে বাহরাইনে এর পরিমাণ মাত্র দুই লাখ বাহরাইনি দিনার (প্রায় ৫ লাখ ৩০ হাজার মার্কিন ডলার)। এছাড়া, বাহরাইনের ভিসাধারীদের দেশের বাইরে থাকার সময়ের ওপর কোনো বিধিনিষেধ নেই, যেখানে আমিরাতের গোল্ডেন ভিসাধারীদের প্রতি ছয় মাসে দেশে ফিরতে হয়। পারিবারিক সুবিধা বাহরাইনের গোল্ডেন রেসিডেন্সি ভিসা পরিবারকেন্দ্রিক সুবিধা দিয়ে থাকে। স্বামী/স্ত্রী, সন্তান এবং পিতামাতাকে সহজেই স্পনসর করা যায়। ভিসা নবায়নের জন্য চাকরি বা সম্পত্তি ধরে রাখার বাধ্যবাধকতা নেই, যা একে দীর্ঘমেয়াদি বসবাসের জন্য আকর্ষণীয় করে তোলে। কারা আবেদন করতে পারবেন? বাহরাইনের গোল্ডেন রেসিডেন্সির জন্য চারটি যোগ্যতা বিভাগ রয়েছে: > দক্ষ পেশাদার: বাহরাইনে কমপক্ষে পাঁচ বছর বসবাস এবং মাসিক দুই হাজার বাহরাইনি দিনার আয়।> বিনিয়োগকারী: দুই লাখ বাহরাইনি দিনার মূল্যের সম্পত্তির মালিক।> অবসরপ্রাপ্ত ব্যক্তি: বাহরাইনে বসবাসরত অবসরপ্রাপ্তদের জন্য মাসিক দুই হাজার দিনার পেনশন এবং বাহরাইনের বাইরে থাকা অবসরপ্রাপ্তদের জন্য চার হাজার দিনার।> বিশেষ প্রতিভা: বিজ্ঞান, ক্রীড়া, শিল্পকলা বা উদ্যোক্তা ক্ষেত্রে স্বীকৃত ব্যক্তিরা। আবেদন প্রক্রিয়া বাহরাইনের গোল্ডেন রেসিডেন্সি ভিসার আবেদন প্রক্রিয়া সহজ এবং ডিজিটাল। আবেদনকারীদের বাহরাইনের অফিসিয়াল পোর্টালে (বাহরাইন ডট বিএইচ) একটি ইকি (eKey) অ্যাকাউন্ট তৈরি করে প্রয়োজনীয় নথি (পাসপোর্ট, স্বাস্থ্য বীমা, আয় বা সম্পত্তির প্রমাণ) জমা দিতে হয়। আবেদন ফি মাত্র পাঁচ বাহরাইনি দিনার। আবেদন অনুমোদনের পর ভিসা ইস্যু ফি ৩০০ দিনার। আবেদন প্রক্রিয়া সাধারণত পাঁচ থেকে ১০ কার্যদিবসের মধ্যে সম্পন্ন হয়।

আজকের সংবাদ, জাতীয়

এসএসসি ও সমমানের ফল প্রকাশ, পাসের হার ৬৮.৪৫

নিজস্ব প্রতিবেদক: চলতি বছরের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশ করা হয়েছে। এ বছর দেশের ১১টি শিক্ষা বোর্ডে গড় পাসের হার ৬৮ দশমিক ৪৫ শতাংশ। গত বছর অর্থাৎ, ২০২৪ সালে গড় পাসের হার ছিল ৮৩ দশমিক ০৪ শতাংশ। সে হিসাবে পাসের হার অনেক কমেছে। বৃহস্পতিবার (১০ জুলাই) দুপুর ২টার দিকে এ ফল প্রকাশ করা হয়। এ বছর ছাত্রীদের পাসের হার ৭১.০৩ শতাংশ এবং ছাত্রদের পাসের হার ৬৫.৮৮ শতাংশ। সে হিসাবে এবারও পাসের হারে এগিয়ে রয়েছেন ছাত্রীরা। এ নিয়ে টানা ১০ বছর এসএসসিতে পাসের হারে এগিয়ে ছাত্রীরা। এ বছর ১১টি শিক্ষা বোর্ডে জিপিএ-৫ পেয়েছেন ১ লাখ ৩৯ হাজার ৩২ জন শিক্ষার্থী। গত বছর অর্থাৎ ২০২৪ সালে সারাদেশে জিপিএ-৫ পেয়েছিলেন এক লাখ ৮২ হাজার ১২৯ জন। সে হিসাবে এবার জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যাও ব্যাপক হারে কমেছে। চলতি বছর এসএসসি ও সমমান পরীক্ষা শুরু হয়েছিল গত ১০ এপ্রিল। পরীক্ষা শেষ হয় ১৩ মে। এ পরীক্ষায় অংশ নিতে ফরম পূরণ করেছিলেন ১৯ লাখ ২৮ হাজার ৯৭০ জন। তাদের মধ্যে ছাত্রী ৯ লাখ ৬৭ হাজার ৭৩৯ জন এবং ছাত্র ৯ লাখ ৬১ হাজার ২৩১ জন। যদিও পরীক্ষার প্রথম দিনেই সারাদেশের ৩ হাজার ৭১৫টি কেন্দ্রে অনুপস্থিত ছিলেন ২৬ হাজার ৯২৮ জন পরীক্ষার্থী। পরে এ অনুপস্থিতির সংখ্যা আরও বেড়েছিল। সবমিলিয়ে পরীক্ষায় অংশ নেন প্রায় ১৯ লাখ শিক্ষার্থী।

অর্থনীতি, আজকের সংবাদ

৭ লাখ ৯০ হাজার কোটির বাজেট

নিজস্ব প্রতিবেদক: দেশের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রেখে রাজস্ব আহরণ বৃদ্ধি এবং ব্যয়ের কার্যকর ব্যবস্থাপনার লক্ষ্যে ২০২৫-২৬ অর্থবছরের বাজেট প্রস্তাব করা হয়েছে। সোমবার বিকেল ৩টায় বাজেট উপস্থাপন শুরু করেছেন অন্তর্বর্তী সরকারের অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহ উদ্দিন আহমেদ। বাংলাদেশ টেলিভিশনে বাজেট বক্তৃতা শুরু করেন তিনি। আগামী ২০২৫-২৬ অর্থবছরের জাতীয় বাজেটের আকার ধরা হয়েছে ৭ লাখ ৮৯ হাজার ৯৯৯ কোটি টাকা—যা চলতি ২০২৪-২৫ অর্থবছরের মূল বাজেটের তুলনায় ৭ হাজার কোটি টাকা কম। প্রস্তাবিত বাজেটে জিডিপি প্রবৃদ্ধি ধরা হয়েছে ৫ দশমিক ৬ শতাংশ। বাজেট ঘাটতি ২ লাখ ৬৬ হাজার কোটি টাকা, যা মোট বাজেটের ৩ দশমিক ৬ শতাংশ। মূল্যস্ফীতি ৬ দশমিক ৫ শতাংশ এবং এডিপি ২ লাখ ৩০ হাজার কোটি টাকার প্রস্তাব করা হয়েছে। এটি বর্তমান সরকারের দৃষ্টিতে সংকোচনমূলক বাজেট। এর আগে সোমবার সকালে রাজধানীর তেজগাঁওয়ে প্রধান উপদেষ্টার দপ্তরে অনুষ্ঠিত হয় উপদেষ্টা পরিষদের বিশেষ বৈঠক। প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সভাপতিত্বে ওই বৈঠকে আগামী ২০২৫-২৬ অর্থ বছরের প্রস্তাবিত বাজেট অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। উপদেষ্টা পরিষদের বিশেষ বৈঠকে প্রস্তাবিত বাজেট অনুমোদন শেষে তাতে সই করেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। এরপর বাজেট ডকুমেন্টস নিয়ে রামপুরার বিটিভি ভবনে যান অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহ উদ্দিন আহমেদ। সেখানে রেকর্ড করা হয় ২০২৫-২৬ অর্থবছরের জাতীয় বাজেট উপস্থাপনা। যা বিকাল ৩টায় সম্প্রচার শুরু করে বাংলাদেশ টেলিভিশন। ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে সুদ পরিশোধের জন্য এক লাখ ১৩ হাজার ৫০০ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। আগামী অর্থবছরে বেতন, ভাতা ও ভর্তুকির মতো খরচ চলতি অর্থবছরের মতোই অপরিবর্তিত রয়েছে অর্থ উপদেষ্টার প্রস্তাবিত বাজেটে। বাজেট ঘাটতি জিডিপির পাঁচ শতাংশের নিচে রাখা হয়েছে।  অর্থ উপদেষ্টা তার বাজেট বক্তৃতায় বলেছেন, ঋণের সুদ পরিশোধে খরচ বেড়ে যাওয়ার পাশাপাশি রাজস্ব আদায় কম হওয়ায় বাজেটের আকার ছোট করতে বাধ্য হয়েছে সরকার।

অর্থনীতি, আজকের সংবাদ

ন্যূনতম কর ৫ হাজার টাকা, নতুন করদাতাদের জন্য ১ হাজার

নিজস্ব প্রতিবেদক: আগামী ২০২৫-২৬ অর্থ বছরের প্রস্তাবিত বাজেটে ন্যূনতম করের পরিমাণ এলাকাভেদে বৃদ্ধি করে ২০২৬-২৭ ও ২০২৭-২৮ করবর্ষ থেকে ন্যূনতম করের পরিমাণ ৫ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে নতুন করদাতাদের জন্য ন্যূনতম করের পরিমাণ ১ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। সোমবার অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদের ২০২৫-২৬ অর্থবছরের বাজেট উপস্থাপনকালে এসব তথ্য উঠে আসে।  অর্থ উপদেষ্টা বলেন, বর্তমানে স্বাভাবিক ব্যক্তি ও হিন্দু অবিভক্ত পরিবার করদাতাদের জন্য প্রযোজ্য ন্যূনতম করের পরিমাণ এলাকাভেদে ৩ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা। ২০২৬-২৭ ও ২০২৭-২৮ করবর্ষে মোট আয় করমুক্ত আয়ের সীমা অতিক্রম করলে ন্যূনতম করের পরিমাণ এলাকা নির্বিশেষে ৫ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। অন্যদিকে কর প্রদান সংস্কৃতির বিকাশ, কর-নেট সম্প্রসারণ এবং নতুন করদাতাদের কর প্রদানে উৎসাহিত করার লক্ষ্যে নতুন করদাতাদের ন্যূনতম করের পরিমাণ ১ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। সোমবার বিকেল ৩টায় জাতীয় বাজেট উপস্থাপন করেন অন্তর্বর্তী সরকারের অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ। এটি দেশের ৫৪তম বাজেট এবং অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রথম বাজেট। প্রতিবছর জাতীয় সংসদে বাজেট পেশ করা হলেও এবার সংসদ না থাকায় তা ঘোষণা করা হচ্ছে বেতার-টেলিভিশনের মাধ্যমে। এবারের বাজেটের সম্ভাব্য আকার ৭ লাখ ৯০ হাজার কোটি টাকা। যা গত অর্থ বছরের তুলনায় সাত হাজার কোটি টাকা কম।  এর আগে আজ দুপুরে উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে ২০২৫-২৬ অর্থবছরের বাজেট প্রস্তাব অনুমোদন করা হয়।

আজকের সংবাদ, জাতীয়

৯০ হাজার ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা, ভাতা নিচ্ছে ২৪০০ কোটি টাকা

ডেস্ক: দেশে মুক্তিযোদ্ধার সংখ্যা নিয়ে বিতর্কের অবসান হয়নি। ১৯৯৪ সালের সরকারি তালিকায় মুক্তিযোদ্ধার সংখ্যা ছিল ৮৬ হাজার। ২০২৪ সালে এসে এই সংখ্যা দাঁড়ায় ২ লাখ ৮ হাজার। এ হিসেবে ভুয়া মুক্তিযোদ্ধার সংখ্যা ১ লাখ ২২ হাজার। তবে মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী দেশে ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা ৯০ হাজার। প্রতি মুক্তিযোদ্ধা বছরে সর্বনিম্ন ২ লাখ ৬৭ হাজার টাকা সম্মানি পান। এ হিসেবে ভুয়া মুক্তিযোদ্ধারা বছরে প্রায় ২৪০০ কোটি টাকা ভাতা নিয়ে যাচ্ছেন। এসব ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা শনাক্তের উদ্যোগ নিয়েছে জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিল বা জামুকা। এই উদ্যোগের প্রথম ধাপ হিসেবে কুমিল্লায় আজ (২ জুন) শুনানি শুরু হচ্ছে। জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিলের তথ্য বলছে, এখন পর্যন্ত দেশে ভাতাপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধার সংখ্যা ২ লাখ ৮ হাজার ৫০ জন। সরকারি চাকরিতে মুক্তিযোদ্ধা কোটায় নিয়োগপ্রাপ্তের সংখ্যা ৮৯ হাজার ২৩৫ জন। গেজেট বাতিল, মুক্তিযোদ্ধা বয়সসীমা নির্ধারণসহ প্রায় ১৪ ক্যাটাগরিতে মোট মামলার সংখ্যা ২ হাজার ৭১৯টি। ইতোমধ্যে নির্ধারিত বয়স ১২ বছর ৬ মাসের চেয়ে কম হওয়ায় ২ হাজার ১১১ জন মুক্তিযোদ্ধার সনদ বাতিল করা হয়েছে। এ নিয়ে বিগত ১৫ বছরে ৩৯২৬ মুক্তিযোদ্ধার গেজেট বাতিল হয়। বর্তমানে দেশে প্রতিজন যুক্তিযোদ্ধা মাসে ২০ হাজার টাকা করে ভাতা পান। এছাড়া দুই ঈদে ১০ হাজার করে, ২৬ মার্চ ৫ হাজার ও বৈশাখে ২ হাজার টাকা ভাতা পান। এ হিসেবে বছরে প্রতি মুক্তিযোদ্ধা ভাতা পান সর্বনিম্ন ২ লাখ ৬৭ হাজার। এ হিসেবে বছরে ভুয়া মুক্তিযোদ্ধারা সরকারি অর্থ নিয়ে যাচ্ছে প্রায় ২৪০০ কোটি টাকা। এছাড়া যুদ্ধাহত ও খেতাপপ্রাপ্তরা আরও বেশি টাকা পান। জুলাই আন্দোলনে ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের পর অন্তর্বর্তী সরকার গঠিত হলে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টার দায়িত্ব পান ফারুক-ই-আজম বীরপ্রতীক। দায়িত্ব নেওয়ার পর এক সপ্তাহের মাথায় মুক্তিযোদ্ধা সনদ ও তালিকা যাচাই-বাছাইয়ে নির্দেশ দেন তিনি। তার নির্দেশনার পর দেশের জেলা, উপজেলা থেকে মন্ত্রণালয়ে এবং জামুকায় হাজার হাজার ভুয়া মুক্তিযোদ্ধার বিরুদ্ধে অভিযোগ জমা পড়ে। জেলা প্রশাসকদের চিঠি দিয়ে এসব অভিযোগ যাচাই-বাছাইয়ে নির্দেশনা দেয় মন্ত্রণালয়। ভুয়া মুক্তিযোদ্ধার অভিযোগ যাচাই করতে কুমিল্লা অঞ্চলে প্রথম শুনানি শুরু হচ্ছে। সোমবার প্রথম দফায় ৩১ জনের বিরুদ্ধে শুনানি অনুষ্ঠিত হবে। কুমিল্লা সার্কিট হাউজে সকাল ১০টা থেকে এ শুনানি অনুষ্ঠিত হবে। এ বিষয়ে জামুকার মহাপরিচালক শাহিনা খাতুন গণমাধ্যমকে বলেন, একজন মুক্তিযোদ্ধা ভুয়া নাকি আসল, তা ঢাকায় বসে যাচাই করা সম্ভব না। এজন্য আমরা অভিযোগ ওঠা মুক্তিযোদ্ধাদের তথ্য যাচাইয়ে মাঠ পর্যায়ে যাওয়ার উদ্যোগ নিয়েছি। এর অংশ হিসাবে আজ কুমিল্লায় যাচ্ছি। সেখানে প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটনে সে সময়কার সাক্ষ্যপ্রমাণ, তথ্যপ্রমাণ নিখুঁতভাবে নিরূপণের চেষ্টা করব। দেশের শীর্ষস্থানীয় জাতীয় দৈনিক যুগান্তরে সোমবার এ খবর প্রকাশ করা হয়েছে।

Scroll to Top