২৯শে অক্টোবর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

Author name: Nazrul Islam

আজকের সংবাদ, ফিচার, রাজনীতি

জাতিসংঘের চোখে জুলাই: ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং প্রতিবেদন

জাতিসংঘের চোখে জুলাই: ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং প্রতিবেদন মো. আবদুল বাতেন ২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলন দমন করতে শেখ হাসিনার সরকার এদেশে পরিকল্পিতভাবে বিচারবহির্ভূত শত শত হত্যাকাণ্ড, হাজার হাজার বিক্ষোভকারীকে গুরুতর আহত করা এবং গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘনের সাথে জড়িত ছিল। শেখ হাসিনার সরকার ও তার নিরাপত্তা বাহিনী এবং গোয়েন্দা সংস্থাগুলো আওয়ামী লীগের সাথে সংশ্লিষ্ট হত্যা, ধর্ষণ, খুন-গুম, গ্রেপ্তার, আটক, নির্যাতন, শিশুহত্যা, লুটতরাজ ও অন্যান্য নানাবিধ অপরাধের সাথে জড়িত ছিল। সেই প্রেক্ষিতে জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক হাইকমিশনারের কার্যালয় (ওএইচসিএইচআর) বাংলাদেশে ২০২৪ সালের ১ জুলাই থেকে ৫ আগস্টের মধ্যে সংঘটিত মানবাধিকার লঙ্ঘন ও নির্যাতনের অভিযোগে একটি স্বাধীন তদন্ত পরিচালনা করে, যাকে বলা হয় জাতিসংঘের ‘ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং প্রতিবেদন’। জাতিসংঘের মানবাধিকার কমিশন যে কারণে উক্ত ঘটনাকে (২৪-এর জুলাই আন্দোলন দমন) আন্তর্জাতিক মানবাধিকার লঙ্ঘন বলছে, তা হলো— ১. বিক্ষোভ ও ভিন্নমত দমনের কৌশল হিসেবে রাজনৈতিক নেতা ও নিরাপত্তা বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা সজ্ঞানে সমন্বয়ের মাধ্যমে ও নির্দেশনায় এইসব মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটান। ২. ২০২৪ সালের ৫ জুন সরকারি চাকরিতে ৩০% মুক্তিযোদ্ধাদের বংশধরদের জন্য রেখে হাইকোর্ট রায় দিলে বিক্ষোভের সূত্রপাত হয় এবং জনগণের মধ্যে গভীর অসন্তোষের মূলে ছিল সীমাহীন দুর্নীতি, লুটপাট, দলীয়করণ, ধ্বংসাত্মক শাসনব্যবস্থা ও ভিন্নমত দমনের নানা রাজনীতি। ৩. জনগণের সমস্যা সমাধান করতে সরকার চরমভাবে ব্যর্থ হয়েছিল; সাথে দেখা দিয়েছিল চরম বৈষম্য, পাচার, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক অধিকার হরণের নানা উপায়-উপকরণ। ৪. শেখ হাসিনার সরকারের প্রতি অনাস্থা জানিয়ে পেশাদার ও ধর্মীয় পটভূমি থেকে হাজার হাজার নাগরিক, নারী ও শিশুসহ সবাই অর্থপূর্ণ সামাজিক, অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক সংস্কারের আহ্বান জানিয়ে বিক্ষোভ করেন। জনগণের ক্রমবর্ধমান ক্ষোভ দমন করা এবং ক্ষমতা আঁকড়ে থাকার প্রচেষ্টায় সরকার সহিংস উপায় অবলম্বন করে পদ্ধতিগতভাবে বিক্ষোভ দমন করার চেষ্টা করে। ৫. জুলাইয়ের মাঝামাঝি সময়ে শেখ হাসিনার সরকার ও আওয়ামী লীগ অতিরিক্ত সশস্ত্র কর্মীদের একত্রিত করে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস ও তার আশেপাশে শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভকারী শিক্ষার্থীদের ওপর ভোঁতা, ধারালো ও আগ্নেয়াস্ত্র দিয়ে হামলা চালায়। এসময় সারাদেশে যেখানেই বিক্ষোভ হয়েছে, সেখানেই ছাত্রলীগ হামলা চালিয়েছে। ৬. শিক্ষার্থীরা বেশিরভাগ সময় আত্মরক্ষা করেছে; এর প্রতিক্রিয়া হিসেবে সরকারের পুলিশ বাহিনী আরও সহিংসতার আশ্রয় নেয়। ১৭ জুলাই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের একটি বড় শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভে পুলিশ ও ছাত্রলীগ হামলা চালায়, যা ছিল আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইনের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। ৭. এইসব ঘটনার পর বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি), বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ও আন্দোলনকারী ছাত্র-জনতা ‘কমপ্লিট শাটডাউন’ কর্মসূচি দেয়; এর প্রতিক্রিয়ায় শেখ হাসিনার সরকার সহিংসতা আরও বাড়িয়ে দেয়, ফলে স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হতে থাকে। ৮. র‍্যাব ও পুলিশ বাহিনী হেলিকপ্টার থেকে গুলি ও গ্রেনেড ছুঁড়েছে; বিজিবি সামরিক রাইফেল ও শর্টগান ব্যবহার করেছে। সরকারের নিরাপত্তা বাহিনীকে প্রাণঘাতী অস্ত্র ব্যবহারের অনুমতি দেওয়া হয়; ১৯ জুলাই রংপুরে ছাত্র আবু সাঈদকে কাছ থেকে গুলি করে হত্যা করা হয়। সেদিন সারাদেশে ব্যাপক হতাহতের ঘটনা ঘটে; নিরাপত্তা বাহিনী বিক্ষোভকারীদের খুব কাছ থেকে গুলি করে সংক্ষিপ্ত মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করে। ৯. কিছু ক্ষেত্রে সেনাবাহিনী বিক্ষোভকারীদের ওপর গুলি চালায়, আবার মাঠে থাকা জুনিয়র অফিসাররা ক্রমাগত আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহারের আদেশ প্রত্যাখ্যান করেন। ১০. জুলাইয়ের শেষের দিকে ও আগস্টের ৫ তারিখে বিক্ষোভকারীদের ঢাকামুখী পদযাত্রা ঠেকাতে সেনাবাহিনী, বিজিবি এবং পুলিশকে ব্যবহার করে একটি সরকারি পরিকল্পনা করা হয়; এতে প্রাণঘাতী অস্ত্র ব্যবহার করতে বলা হয়। পুলিশ গুলি করলেও সেনাবাহিনী এবং কিছু জায়গায় বিজিবি বেশিরভাগ ক্ষেত্রে দাঁড়িয়ে ছিল। পুলিশের সেদিনের ভূমিকা ছিল সুস্পষ্ট মানবাধিকার লঙ্ঘন। ১১. বিক্ষোভ দমনে সরকারের যে সকল বাহিনী জড়িত ছিল, তারা হলো—পুলিশ, সশস্ত্র বাহিনীর গোয়েন্দা অধিদপ্তর (ডিজিএফআই), জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থা (এনএসআই), টেলিযোগাযোগ পর্যবেক্ষণ কেন্দ্র (এনটিএমসি), পুলিশের গোয়েন্দা শাখা (ডিবি), বিশেষ শাখা এবং সন্ত্রাসবাদ ও আন্তঃদেশীয় অপরাধ দমন ইউনিট (সিটিটিসি)। এ সকল সংস্থা সরাসরি সহিংস উপায়ে বিক্ষোভ দমনের কাজ করেছে, যা ছিল চরম মানবাধিকার লঙ্ঘন। ১২. এই সকল সরকারি সংস্থা নাগরিকদের গোপন নথি প্রকাশ করেছে এবং গণগ্রেপ্তার, আটক, নির্যাতন, আটককৃতদের কাছ থেকে অর্থ আদায়, স্বীকারোক্তি আদায়ে নির্বিচারে অত্যাচার, পরিবারের সদস্যদের এনে তাদেরকে আঘাত, যৌন হয়রানি, মানসিক ও শারীরিক অত্যাচারসহ নানাবিধ উপায়ে নির্যাতন করেছে। ১৩. সিটিটিসিতে শিশুদের আটক, পুলিশের গোয়েন্দা শাখা মিন্টো রোডে এবং ডিজিএফআই দ্বারা ছাত্র নেতাদের অপহরণ ও নির্যাতন এবং বিক্ষোভ কর্মসূচি প্রত্যাহারে বাধ্য করার চেষ্টা, ডিজিএফআই, এনএসআই ও ডিবি শাখার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা পরিকল্পিতভাবে জীবনরক্ষাকারী চিকিৎসা সেবায় বাধা প্রদান, চিকিৎসক ও নার্সদের ভয় দেখানো, মৃত্যুর তথ্য সরিয়ে ফেলা, লাশ নিয়ে যাওয়া, হাসপাতাল থেকে গ্রেপ্তার ও নির্যাতন ইত্যাদি ছিল সুস্পষ্ট ও চরম মানবাধিকার লঙ্ঘন। ১৪. গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘনের নথি গোপন করার জন্য সরকার মন্ত্রিপর্যায় ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলো একত্রে কাজ করেছে। ইন্টারনেট সেবা বন্ধ করা এবং একই সঙ্গে ডিজিএফআই, এনএসআই ও র‍্যাব ক্রমাগত গণমাধ্যমগুলোকে আন্দোলন দমনের খবর, তথ্য, ছবি ও ভিডিও প্রচার না করতে বাধ্য করেছে। সেই সাথে বিক্ষোভকারীদের সন্ত্রাসী ও জঙ্গি বানানোর প্রতিবেদন সংবাদে প্রচারে বাধ্য করা হয়েছিল। ভুক্তভোগী পরিবার ও আইনজীবীদের মুখ বন্ধ রাখতে ভয়ভীতি প্রদর্শনের কাজে সরাসরি ডিজিএফআই ও পুলিশ পরিকল্পিতভাবে জড়িত ছিল। ১৫. একই সময় আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগ, যুবলীগ ও পুলিশ রাজনৈতিক ভিন্নমতের (বিএনপি ও জামায়াত) হাজার হাজার নেতা-কর্মীর বাড়িতে হামলা করেছে। বিক্ষোভের সময় পুলিশ ও আওয়ামী লীগ পরিকল্পিতভাবে চট্টগ্রামে আদিবাসী, হিন্দু সম্প্রদায় ও আহমদীয় মুসলিম সংখ্যালঘু সদস্যদের ওপর হামলা চালায় এবং বাড়িঘর ও উপাসনালয় পুড়িয়ে দেয়। ১৬. ধর্মীয় ও জাতিগত বৈষম্য তৈরি করে নির্যাতন চালিয়ে মিডিয়াকে বাধ্য করা হয়েছে এর দায় ভিন্নমতের ওপর চাপিয়ে দিতে, যেন সব দায় বিএনপি ও জামায়াতের ওপর পড়ে। তবে ওএইচসিএইচআর গভীর নিরীক্ষা ও ভুক্তভোগী পরিবারগুলোর সাথে কথা বলে এই তথ্য নিশ্চিত করেছে যে, সংশ্লিষ্ট ঘটনাগুলোতে বিএনপি ও জামায়াতের জাতীয় নেতৃত্ব কিংবা সাধারণ কোনো সদস্য জড়িত ছিল না; বরং তারা সংখ্যালঘু গোষ্ঠীগুলোর পাশে দাঁড়িয়েছে, সহযোগিতা করেছে এবং সংঘটিত ঘটনার নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে। ১৭. সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের প্রত্যক্ষ সাক্ষ্য এবং অন্যান্য অভ্যন্তরীণ সূত্রের ভিত্তিতে ওএইচসিএইচআর এটি প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম হয়েছে যে—রাজনৈতিক নেতৃত্বে সজ্ঞানে, সমন্বিতভাবে ও নির্দেশনায় এই গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘন ও নির্যাতনগুলো পুলিশ, আধা-সামরিক, সামরিক ও সকল গোয়েন্দা সংস্থা এবং আওয়ামী লীগের কাজের সমন্বয়ের মাধ্যমে সমান্তরালে কাজ করেছে। ১৮. উভয় পক্ষ একাধিক সূত্র থেকে মাঠপর্যায়ে পরিস্থিতি সম্পর্কে প্রতিবেদন পেয়েছিল। ঊর্ধ্বতন সরকারি সাক্ষ্য অনুযায়ী, ২১ জুলাই এবং আগস্টের শুরুতে কর্মকর্তারা শেখ হাসিনাকে যে প্রতিবেদন দিয়েছিলেন, সেখানে অতিরিক্ত শক্তি প্রয়োগের বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছিল। ১৯. রাজনৈতিক নেতারা এবং বাংলাদেশের পুলিশ ও সেনাবাহিনীর নেতৃত্বদানকারীরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছিলেন, যার মাধ্যমে তারা চলমান মানবাধিকার লঙ্ঘনের ব্যাপারে সরাসরি জানতে পেরেছিলেন। তারপরেও রাজনৈতিক নেতৃত্ব বিজিবি, ডিজিএফআই, বাংলাদেশ পুলিশ ও গোয়েন্দা শাখাকে সরাসরি অভিযান চালাতে ও প্রাণঘাতী অস্ত্র ব্যবহার করতে নির্দেশ জারি করেছিল। এসবের মধ্যে বিক্ষোভকারী ও বেসামরিক নাগরিকদের বিরুদ্ধে গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘন, বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড ও নির্বিচারে আটকের বিষয়গুলো রয়েছে। কী ছিল ওএইচসিএইচআর প্রতিবেদনে : ১. যেভাবে শুরু হয় ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং মিশন: ২০২৪ সালের ২৩ জুলাই বাংলাদেশে ছাত্র-জনতার ওপর সরকারের নিরাপত্তা বাহিনী, আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগ ও যুবলীগ ব্যাপক সহিংসতা চালায়। সেই প্রেক্ষিতে জাতিসংঘের

আজকের সংবাদ, সর্বশেষ

মুখ সামলান, তা না হলে শরীর সামলাতে পারবেন না …..এমপি খোকন তালুকদার 

ফরিদগঞ্জ টাইমস ডেস্ক : মাদারীপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য ও কেন্দ্রীয় বিএনপির সহ-গণশিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক আনিসুর রহমান খোকন তালুকদার বলেছেন, কিছু বেয়াদব জুলাই আন্দোলন এবং জুলাইকে প্রশ্নাবিদ্ধ করছে তাদের উদ্দেশ্যে বলতে চাই– মুখ সামলান, তা না হলে কিন্তু শরীর সামলাতে পারবেন না। মঙ্গলবার সকালে কালকিনি উপজেলার সাহেবরামপুর নতুন আন্ডারচর আড়িয়াল খাঁ নদীর তীর প্রতিরক্ষা কাজের কর্মসূচীতে অংশ নিয়ে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। খোকন তালুকদার আরো বলেন, জুলাই আন্দোলন বাংলাদেশের সকল মানুষের, এমনও মা আছে যার দুটি সন্তান হারিয়েছেন তাদের কষ্ট অনেক। যারা গুম, খুন হয়েছে তাদের কষ্টও অনেক। এদেশের প্রতি তাদের ভালোবাসা আছে। আমরা চাই, এ সকল পরিবারের প্রতি আমাদেরও ভালোবাসা আছে, আমরাও তাদের পাশে থাকতে চাই। জুলাই শহীদ পরিবারের পাশে থাকতে চাই। ১৭ বছরে গুম, খুন হওয়া সকল পরিবারের পাশে থাকতে চাই। আমরা আমাদের ভালোবাসা দিয়ে তাদের মনে শান্তি এনে দিতে চাই।  এসময় উপস্থিত ছিলেন মাদারীপুর জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী সানাউল কাদের খান, মাদারীপুর জেলা যুবদলের যুগ্ম আহবায়ক নুরুজ্জামান তালুকদার, কালকিনি উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মাহবুব হোসেন মুন্সি, সাহেবরামপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মুরাদ হোসেনসহ বিএনপির অঙ্গ সহযোগী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।   ফরিদগঞ্জ টাইমস/কেএম

আজকের সংবাদ, ফরিদগঞ্জ, সর্বশেষ

চির্কা চাঁদপুর বহুমুখী উ/বি ও কলেজে সংবর্ধনা ও মেধাবী শিক্ষার্থীদের পুরস্কার বিতরণ

ইয়াছিন পালোয়ান :  চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জ উপজেলার চির্কা চাঁদপুর বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজে আমেরিকার নিউ জার্সি স্টেট (সাউথ) বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মো. সাখাওয়াত হোসেনকে সংবর্ধনা এবং ষষ্ঠ থেকে দ্বাদশ শ্রেণির ‘সুপার ফাইভ’ শিক্ষার্থীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করা হয়েছে।  সোমবার (৩ আগস্ট) সকাল ১০টায় বিদ্যালয়টির অডিটোরিয়ামে আয়োজিত অনুষ্ঠানে সহকারী শিক্ষক মো. আজহারুল ইসলামের সঞ্চালনায় সভাপতিত্ব করেন প্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষ আবু জাফর মোহাম্মদ সামছুদ্দিন পাটোয়ারী। প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন প্রতিষ্ঠানের সভাপতি শফিউল বাশার মুকুল পাটোয়ারী।  বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন ৯নং গোবিন্দপুর উত্তর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ শাহ আলম শেখ, অভিভাবক সদস্য মো. বিল্লাল হোসেন বেপারী, আবুল বাশার বাদশা মিয়া পাটোয়ারী, প্রতিষ্ঠানের প্রাক্তন শিক্ষার্থী ও ফরিদগঞ্জ পৌরসভার ৯নং ওয়ার্ডের সম্ভাব্য কাউন্সিলর পদপ্রার্থী আলহাজ মো. রসু মিয়া এবং প্রফেসর মোহাম্মদ শাহাদাত হোসেন, সহকারী প্রধান শিক্ষক আব্দুল গফুর মিয়া।  সংবর্ধিত অতিথি মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেন, “এই সংবর্ধনা আমার জন্য অত্যন্ত আনন্দ ও গর্বের। চির্কা চাঁদপুর বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজের সঙ্গে আমার আত্মিক সম্পর্ক রয়েছে। এই সম্মাননা সেই সম্পর্ককে আরও দৃঢ় করেছে। আমি আমার অবস্থান থেকে প্রতিষ্ঠানটির উন্নয়ন এবং শিক্ষার্থীদের শিক্ষা ও মেধা বিকাশে সর্বোচ্চ সহযোগিতা অব্যাহত রাখব।”  অনুষ্ঠানে ষষ্ঠ থেকে দ্বাদশ শ্রেণির ‘সুপার ফাইভ’ শিক্ষার্থীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়। পাশাপাশি অতিথিদের সম্মাননা ক্রেস্ট প্রদান এবং মো. সাখাওয়াত হোসেনকে ফুলেল শুভেচ্ছা ও সম্মাননা স্মারক প্রদান করা হয়।  বক্তারা বলেন, মেধাবী শিক্ষার্থীদের স্বীকৃতি দেওয়া শুধু তাদের সম্মানিত করাই নয়, বরং অন্য শিক্ষার্থীদেরও ভালো ফলাফলে উৎসাহিত করার একটি কার্যকর উদ্যোগ। তারা শিক্ষার্থীদের নিয়মিত অধ্যয়নের পাশাপাশি শিক্ষক-অভিভাবকদের প্রতি শ্রদ্ধাশীল ও দায়িত্বশীল হওয়ার আহ্বান জানান।  ফরিদগঞ্জ টাইমস/কেএম

আজকের সংবাদ, চাঁদপুর, ফরিদগঞ্জ, সর্বশেষ

গিলাফ জড়ানোর মধ্য দিয়ে চান্দ্রা দরবার শরীফে দুই দিনব্যাপী ওরস মোবারক শুরু 

কেএম নজরুল ইসলাম : মাজার শরীফে গিলাফ জড়ানো ও জিয়ারতের মধ্য দিয়ে চাঁদপুরের চান্দ্রা দরবার শরীফের মুজাদ্দেদে জামান আলা হযরত সৈয়দ মুহাম্মদ সাইফুল্লাহ নকশবন্দী (রহ.)-এর বেছাল শরীফ উপলক্ষে দুই দিনব্যাপী ৫২তম ইশায়াত সম্মেলন ও ১০ম বার্ষিক ওরসে আযম মোবারকের আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু হয়েছে। সোমবার (৩ আগস্ট) বিকেলে আলা হযরত সৈয়দ মুহাম্মদ সাইফুল্লাহ নকশবন্দী মুজাদ্দেদী (রহ.)-এর মাজার শরীফে গিলাফ জড়ানো ও জিয়ারতের মাধ্যমে ওরসের কার্যক্রম আরম্ভ করা হয়। এ সময় উপস্থিত ছিলেন ভারতের দরবারে আলিয়া খানকায়ে এনায়েতিয়ার সাজ্জাদানশীন আল্লামা হাফেজ আতিকুল্লাহ খান নকশবন্দী মুজাদ্দেদী এনায়েতী এবং চান্দ্রা দরবার শরীফের গদ্দিনীশীন পীর ড. এস. এম. হুজ্জাতুল্লাহ নকশবন্দী। এর আগে দুপুরে দরবার শরীফের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান জামেয়া মুজাদ্দেদীয়া সাইফিয়া মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা পবিত্র কোরআন তেলাওয়াত, হামদ ও নাত পরিবেশন করেন। বাদ আসর বিভিন্ন আলেম ধর্মীয় আলোচনা পেশ করেন। পরে বাদ মাগরিব ভারতের ও চান্দ্রা দরবার শরীফের পীরদ্বয় খতমে খাজেগান শরীফ পরিচালনা করেন। এ সময় দরবারের অসংখ্য ভক্ত-আশেকান উপস্থিত ছিলেন। আয়োজকরা জানান, প্রতিবছরের ন্যায় এবারও ৩ ও ৪ আগস্ট চান্দ্রা দরবার শরীফ প্রাঙ্গণে মুজাদ্দেদে জামান আলা হযরত সৈয়দ মুহাম্মদ সাইফুল্লাহ নকশবন্দী (রা.)-এর বেছাল শরীফ উপলক্ষে দুই দিনব্যাপী ৫২তম ইশায়াত সম্মেলন ও ১০ম বার্ষিক ওরসে আযম মোবারক অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এতে দেশবরেণ্য আলেম-ওলামারা ওয়াজ-নসিহত পেশ করবেন। আগামীকাল ৪ আগস্ট ওরসে আযম মোবারকের দ্বিতীয় দিন। মঙ্গলবার দুপুর থেকে দ্বিতীয় দিনের কার্যক্রম শুরু হয়ে সারারাত পর্যন্ত ওয়াজ নসিহত চলার পর বুধবার বাদ ফজর আখেরি মোনাজাত পরিচালনা হবে।  ওরস উপলক্ষে দেশ-বিদেশ থেকে আলেম-ওলামা, পীর-মাশায়েখ এবং অসংখ্য ভক্ত-আশেকানের সমাগম ঘটবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন আয়োজকরা।

আজকের সংবাদ, ফরিদগঞ্জ, সর্বশেষ

ফরিদগঞ্জে জমি দখলের অভিযোগ, প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা 

নিজস্ব প্রতিবেদক :  উপজেলার ৭নং পাইকপাড়া উত্তর ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ডের তালুকদার বাড়ি এলাকায় দীর্ঘদিনের দখলীয় জমি জোরপূর্বক দখলের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী পরিবার প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছে।  ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগ, প্রায় ৫০ বছর ধরে তাদের দখলে থাকা জমি স্থানীয় বাসিন্দা বেলায়েত হোসেন ওরফে বিল্লালের নেতৃত্বে জোরপূর্বক দখলের চেষ্টা চালানো হয়। তারা দাবি করেন, অতীতেও রাজনৈতিক প্রভাব ও স্থানীয় প্রভাবশালীদের সহযোগিতায় একই জমি দখলের চেষ্টা হয়েছিল। পরে এলাকাবাসী ও গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উদ্যোগে সেই জমি পুনরায় তাদের দখলে ফিরিয়ে দেওয়া হয়।  অভিযোগে আরও বলা হয়, পরবর্তীতে পুনরায় জমির একটি অংশ দখল করে সেখানে পুকুর খনন করা হয় এবং ভুক্তভোগীদের পূর্বের বসতভিটার উপর বহুতল ভবন নির্মাণ করা হয়। এতে প্রকৃত মালিকরা নিজেদের জমিতে প্রবেশ ও ভোগদখল থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন বলে দাবি করেন তারা।  ভুক্তভোগীদের ভাষ্য, সংশ্লিষ্ট সম্পত্তি নিয়ে আদালতে একাধিক মামলা বিচারাধীন রয়েছে। তাদের দাবি ৪ সেপ্টেম্বর ২০২৩ তারিখে রেজিস্ট্রিকৃত ১৪৭২ নম্বর দলিল এবং ৯৬৪ নম্বর নামজারি খতিয়ানের ভিত্তিতে তারা জমির বৈধ মালিক। এছাড়া একই সম্পত্তিকে কেন্দ্র করে চাঁদপুর জেলা জজ আদালতে দেওয়ানি মামলা এবং জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ১৪৫ ধারায় মামলাও হয়েছে বলে তারা জানান।  ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা বলেন, আমরা আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। যেহেতু বিষয়টি আদালতে বিচারাধীন, তাই মামলার নিষ্পত্তির আগে কোনো পক্ষের জোরপূর্বক জমি দখল করা আইনসম্মত নয়। আমরা প্রশাসনের কাছে আমাদের দখলীয় সম্পত্তি ফিরিয়ে দেওয়ার দাবি জানাই।  এলাকার কয়েকজন বাসিন্দাও দাবি করেন, দীর্ঘদিন ধরে জমিটি ভুক্তভোগী পরিবারের দখলেই ছিল। তাদের অভিযোগ, বর্তমানে জোরপূর্বক দখল নেওয়ার পাশাপাশি ভুক্তভোগীদের বাগান ও বিভিন্ন গাছপালারও ক্ষতি করা হচ্ছে।  এ বিষয়ে অভিযুক্ত বেলায়েত হোসেন ওরফে বিল্লাল বলেন, আমাদের সম্পতির বিএস খতিয়ান আমার বাবা আর ওদের বাবার নামে যৌথ। তারা দুজনেই মৃত। বণ্টকনামা ছাড়াই তারা তাদের মতো করে তাদের মায়ের কাছে বিক্রি দেখিয়ে দলিল করে। ভূমি অফিস সেটা খারিজও করে দেয়। আমি খারিজের বিষয়ে মামলা করেছি। এছাড়া আমাদের সম্পত্তি নিয়ে আদালতে মামলা চলমান রয়েছে। বিগত সময়ে আমরা একাধিকবার বসতে চাইলেও তারা বসেনি।  ফরিদগঞ্জ টাইমস/কেএম

আজকের সংবাদ, ফরিদগঞ্জ, সর্বশেষ

মুন্সিরহাট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৮ শিক্ষার্থীর বৃত্তি অর্জন

মুন্সিরহাট প্রতিনিধি : চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জ উপজেলার ঐতিহ্যবাহী মুন্সিরহাট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ২০২৫ সালের প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষায় উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জন করেছে। বিদ্যালয়টির ৮ জন শিক্ষার্থী বৃত্তি লাভ করেছে। এর মধ্যে ৫ জন ট্যালেন্টপুল এবং ৩ জন সাধারণ গ্রেডে বৃত্তি অর্জন করে বিদ্যালয়ের সাফল্যের ধারাকে আরও সমৃদ্ধ করেছে। এ উপলক্ষে বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতির উদ্যোগে বৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা প্রদান করা হয়। অনুষ্ঠানে সদ্য অবসরপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষিকা নাজনিন আক্তার প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে কৃতী শিক্ষার্থীদের হাতে শুভেচ্ছা স্মারক ও উপহার তুলে দেন। অনুষ্ঠানে নাজনিন আক্তার শিক্ষার্থীদের অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, বর্তমান শিক্ষার পাশাপাশি নৈতিক শিক্ষা, সততা, শৃঙ্খলা ও মানবিক মূল্যবোধ অর্জনের মাধ্যমে আদর্শ মানুষ হিসেবে নিজেদের গড়ে তুলতে হবে। তিনি শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ সাফল্য কামনা করেন এবং আগামী দিনেও বিদ্যালয়ের এ সাফল্যের ধারা অব্যাহত থাকবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন। উল্লেখ্য, ১৯৪০ সালে প্রতিষ্ঠিত মুন্সিরহাট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় দীর্ঘদিন ধরে মানসম্মত শিক্ষা প্রদানে সুনামের সঙ্গে কাজ করে আসছে। এবারের ফলাফলেও বিদ্যালয়টি ফরিদগঞ্জ উপজেলার অন্যতম সেরা সাফল্য অর্জন করেছে। এ অর্জনে শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও এলাকাবাসীর মধ্যে আনন্দের পরিবেশ বিরাজ করছে। বিদ্যালয় পরিবারের পক্ষ থেকে সকলের দোয়া ও সহযোগিতা কামনা করা হয়েছে, যাতে ভবিষ্যতেও শিক্ষার্থীরা আরও বড় সাফল্য অর্জনের মাধ্যমে বিদ্যালয় ও দেশের সুনাম বয়ে আনতে পারে। ফরিদগঞ্জ টাইমস/কেএম

আজকের সংবাদ, সর্বশেষ

বেশি দামে সার বিক্রির অপরাধে দুই ব্যবসায়ীকে জরিমানা

ফরিদগঞ্জ টাইমস ডেস্ক :  সরকার নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি দামে সার বিক্রির অপরাধে যশোরের অভয়নগরে দুই সার ব্যবসায়ীকে ১০ হাজার ৫০০ টাকা জরিমানা করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। উপজেলা কৃষি অফিসের উদ্যোগে রবিবার (২ আগস্ট) রাত ৮টায় মরিচা ও শুভরাড়া বালুরঘাট বাজারে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।  ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আশীষ কুমার বসু।   ভ্রাম্যমাণ আদালতের পেশকার মো. খায়রুজ্জামান জানান, সরকারি টিএসপি সার নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি দামে বিক্রি করার দায়ে বাঘুটিয়া ইউনিয়নের মরিচা বাজারে মেসার্স মাসুদ-মামুন ট্রেডার্সের মালিক মাসুদ মোল্যাকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। এছাড়া একই অপরাধে শুভরাড়া ইউনিয়নের শুভরাড়া বালুরঘাট বাজারে মেসার্স ভাই ভাই কৃষি স্টোরের মালিক রিয়াজ উদ্দীনকে ৫০০ টাকা জরিমানা করা হয়।  উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা লাভলী খাতুন জানান, এক হাজার ৩৫০ টাকা দরের এক বস্তা (৫০ কেজি) সরকারি টিএসপি সার কৃষকের কাছে দুই হাজার ৩০০ টাকায় বিক্রি করা হয়েছে। বিষয়টি জানার পর ভ্রাম্যমাণ আদালত কর্তৃক দুইটি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে অভিযান চালানো হয়।  এ ব্যাপারে ভ্রাম্যমাণ আদালতের বিচারক উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আশীষ কুমার বসু বলেন, সরকার নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি দামে সার বিক্রি করায় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইনে দুইজন সার ব্যবসায়ীকে ১০ হাজার ৫০০ টাকা জরিমানা করা হয়েছে।  ফরিদগঞ্জ টাইমস/কেএম

আজকের সংবাদ, সর্বশেষ

কুমিল্লার বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সড়কে ৭ শতাধিক বৃক্ষরোপণ 

কুমিল্লা প্রতিনিধি : পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা ও সবুজায়নের লক্ষ্যে কুমিল্লার মুরাদনগরের বাঙ্গরা এলাকায় বাস্তবায়িত হলো এক প্রশংসনীয় বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি। রোটারি ক্লাব গুলশান এভিনিউ, ঢাকার উদ্যোগে এবং মমতাজ বেগম ফাউন্ডেশনের অর্থায়নে এই কর্মসূচির আওতায় বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সড়কের পাশে ৭ শতাধিক গাছের চারা রোপণ করা হয়েছে।  জনকল্যাণমূলক এই উদ্যোগটি স্থানীয় সচেতনমহল ও শিক্ষার্থীদের মাঝে দারুণ উদ্দীপনার সৃষ্টি করেছে। রোববার আয়োজিত এই কর্মসূচির আওতায় বাঙ্গরা উপজেলার গাঙ্গেরকুট হাইস্কুলে ৫ শতাধিক, পীর কাশিমপুর দাখিল মাদ্রাসায় ১০০টি এবং পীর কাশিমপুর উত্তরপাড়া পাকা সড়কের দুই ধারে আরও ১৫০টি গাছের চারা রোপণ করা হয়।  উল্লেখ্য, পরিবেশ সুরক্ষায় নিয়মিত নানা কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে মমতাজ বেগম ফাউন্ডেশন। এই বছর এরই মধ্যে প্রায় ৩২টি প্রতিষ্ঠানে কয়েক হাজার গাছের চারা বিতরণ করেছে সংস্থাটি। এছাড়া গতবছর সংগঠনের পক্ষ থেকে প্রায় ৩ হাজার তালের বীজ বপন করা হয়েছিল, যা এলাকার প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও পরিবেশ রক্ষায় অনন্য ভূমিকা রাখছে। বৃক্ষরোপণ ও চারা বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মমতাজ বেগম ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান ও রোটারি ক্লাব গুলশান এভিনিউর প্রেসিডেন্ট জাকির হোসেন সরকার। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মমতাজ বেগম ফাউন্ডেশনের পরিচালক ও বিশিষ্ট গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব মো. সাহিদুল হোসেন সরকার।  অনুষ্ঠানে অতিথিরা বলেন, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি বাসযোগ্য ও সবুজ পৃথিবী গড়ে তুলতে বেশি করে গাছ লাগানোর কোনো বিকল্প নেই। শুধু চারা রোপণ করলেই চলবে না, সেগুলোর সঠিক পরিচর্যা করে বড় করে তোলার দায়িত্বও আমাদের সকলের নিতে হবে। স্থানীয় শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ এই মহতী উদ্যোগে স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করেন।  ফরিদগঞ্জ টাইমস/কেএম

আজকের সংবাদ, চাঁদপুর, সর্বশেষ

চাঁদপুরে নটমঞ্চের সভায় গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত

নিজস্ব প্রতিবেদক : চাঁদপুরের নাট্যচর্চাকে আরও গতিশীল, সুসংগঠিত ও জনসম্পৃক্ত করে তুলতে নটমঞ্চ চাঁদপুরের উদ্যোগে এক প্রাণবন্ত মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। রোববার (২ আগস্ট) বিকেল ৫টায় চাঁদপুর সাংস্কৃতিক চর্চা কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত এ সভায় সংগঠনের বর্তমান কার্যক্রম, ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা এবং সাংগঠনিক নানা বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা ও গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।  সংগঠনের সভাপতি রোটা. উজ্জ্বল হোসাইনের সভাপতিত্বে এবং কার্যনির্বাহী পরিষদের সদস্য পিএম বিল্লাল হোসাইনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত সভায় কমিটি পুনর্গঠন, নতুন নাটকের মহড়ার সময়সূচি নির্ধারণ, সংগঠনের আয়-ব্যয়ের হিসাব পর্যালোচনা এবং ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা নিয়ে বিস্তৃত আলোচনা হয়। সভায় বক্তারা বলেন, একটি সাংস্কৃতিক সংগঠনের প্রাণশক্তি হলো সদস্যদের নিয়মিত অংশগ্রহণ, আন্তরিকতা ও সৃজনশীল উদ্যোগ। নাটক শুধু বিনোদনের মাধ্যম নয়; এটি সমাজের অসঙ্গতি, বৈষম্য ও নানা সামাজিক সমস্যার বিরুদ্ধে সচেতনতা তৈরির অন্যতম কার্যকর শিল্পমাধ্যম। তাই নিয়মিত মহড়া, মানসম্মত নাটক মঞ্চায়ন এবং সাংগঠনিক কার্যক্রমের ধারাবাহিকতা বজায় রাখার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করা হয়।  বক্তারা আরও বলেন, নতুন প্রজন্মকে নাট্যচর্চার সঙ্গে সম্পৃক্ত করতে সময়োপযোগী পরিকল্পনা গ্রহণের বিকল্প নেই। এ লক্ষ্যে নতুন নাট্যকর্মী তৈরি, প্রশিক্ষণ কর্মশালার আয়োজন এবং জাতীয় ও স্থানীয় বিভিন্ন দিবসে নাট্য পরিবেশনের উদ্যোগ নেওয়ার ওপর জোর দেওয়া হয়। পাশাপাশি সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে নটমঞ্চ চাঁদপুরকে জেলার সাংস্কৃতিক অঙ্গনের অন্যতম সক্রিয় সংগঠনে পরিণত করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তারা।  সভায় উপস্থিত সদস্যরা সংগঠনের সাংগঠনিক ভিত্তি আরও শক্তিশালী করতে সদস্য সংগ্রহ, নিয়মিত চাঁদা আদায়, কার্যক্রম সম্প্রসারণ এবং আর্থিক স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার বিষয়ে বিভিন্ন মতামত তুলে ধরেন। এছাড়া নিয়মিত সভা, মহড়া ও সাংস্কৃতিক কার্যক্রমের মাধ্যমে সংগঠনের কার্যক্রমকে আরও বেগবান করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়।  মতবিনিময় সভায় উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের সহ-সভাপতি কাজী রাসেল, যুগ্ম সম্পাদক কবির হোসেন মিজি, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক সাইফুল ইসলাম, অর্থ সম্পাদক মরিয়ম আক্তার রাহা, নারী বিষয়ক সম্পাদক মুক্তা, প্রচার সম্পাদক মোখলেছুর রহমান, কার্যনির্বাহী সদস্য পিএম বিল্লাল হোসাইন, শৈবাল মজুমদার, মোর্শেদ আলম জয়সহ সংগঠনের অন্যান্য সদস্যরা।  সভা শেষে উপস্থিত সবাই নটমঞ্চ চাঁদপুরকে একটি শক্তিশালী, সৃজনশীল ও জনসম্পৃক্ত সাংস্কৃতিক সংগঠন হিসেবে গড়ে তুলতে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন। একই সঙ্গে শিগগিরই নতুন নাটকের মহড়া শুরু এবং ধারাবাহিক সাংস্কৃতিক কর্মসূচি বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। ফরিদগঞ্জ টাইমস/কেএম

আজকের সংবাদ, চাঁদপুর, ফরিদগঞ্জ, বিশেষ সংবাদ, সর্বশেষ

৪১ বছরের গৌরবময় কর্মজীবনের স্বীকৃতিতে কনস্টেবলকে ব্যতিক্রমী সংবর্ধনা 

নিজস্ব প্রতিবেদক : দীর্ঘ প্রায় ৪১ বছরের গৌরবময় কর্মজীবন শেষে অবসরে গেলেন ফরিদগঞ্জ থানার পুলিশ কনস্টেবল মো. জাকির হোসেন হাওলাদার। কর্মজীবনের শেষ দিনে সহকর্মীদের ভালোবাসা, সম্মান ও আন্তরিকতায় তিনি পেলেন এক ব্যতিক্রমী ও রাজকীয় বিদায় সংবর্ধনা। সুসজ্জিত গাড়িতে বিদায় জানিয়ে তার দীর্ঘ সেবামূলক জীবনের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেছে ফরিদগঞ্জ থানা পুলিশ। রোববার (২ আগস্ট) বিকেলে ফরিদগঞ্জ থানা প্রাঙ্গণে এ উপলক্ষে বিদায় সংবর্ধনার আয়োজন করা হয়। থানার পক্ষ থেকে ফুলেল শুভেচ্ছা, সম্মাননা স্মারক প্রদান এবং সুসজ্জিত গাড়িতে বিদায়ের মাধ্যমে অবসরপ্রাপ্ত এই পুলিশ সদস্যকে সম্মান জানানো হয়। দীর্ঘদিনের নিষ্ঠা, সততা ও পেশাদারিত্বের স্বীকৃতি হিসেবেই এই ব্যতিক্রমী আয়োজন করা হয়েছে বলে জানায় থানা কর্তৃপক্ষ। বিদায় সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ফরিদগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. এরশাদ উল্লাহ, পরিদর্শক (তদন্ত) আল-আমিন তালুকদারসহ থানার অন্যান্য পুলিশ সদস্যরা।  অনুষ্ঠান শেষে সুসজ্জিত গাড়িতে করে জাকির হোসেন হাওলাদারকে তার নিজ বাড়ি চাঁদপুর সদর উপজেলার ৪নং ইউনিয়নের বুড়ংঙ্গাচর গ্রামের হাওলাদার বাড়িতে পৌঁছে দেয় ফরিদগঞ্জ থানা পুলিশ। জাকির হোসেন হাওলাদার ১৯৮৬ সালের ২৫ নভেম্বর বাংলাদেশ পুলিশে কনস্টেবল পদে যোগদানের মাধ্যমে তাঁর কর্মজীবন শুরু করেন। দীর্ঘ চাকরিজীবনে তিনি চট্টগ্রাম, বান্দরবান, সিলেট, লক্ষ্মীপুরসহ বিভিন্ন জেলায় দায়িত্ব পালন করেন। সর্বশেষ প্রি-রিটায়ারমেন্ট লিভ (পিআরএল)-এ যাওয়ার আগে নিজ জেলা চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জ থানায় কর্মরত ছিলেন। ব্যক্তিগত জীবনে তিনি দুই ছেলে ও দুই মেয়ের জনক।  বিদায় সংবর্ধনায় আবেগাপ্লুত জাকির হোসেন হাওলাদার বলেন, “পুলিশের চাকরিতে একজন কনস্টেবলের অবসর সাধারণ ঘটনা। সাধারণত কনস্টেবলদের আনুষ্ঠানিকভাবে বিদায় দেওয়া হয় না। কিন্তু আমার ক্ষেত্রে ব্যতিক্রম ঘটেছে। এই বিদায় সংবর্ধনা আমার জীবনের সবচেয়ে স্মরণীয় ঘটনাগুলোর একটি হয়ে থাকবে। এভাবে আমাকে সম্মান জানিয়ে বিদায় দেওয়া হবে, কখনও ভাবিনি।” ফরিদগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ মো. এরশাদ উল্লাহ বলেন, “একজন সহকর্মীর দীর্ঘ কর্মজীবনের অবসানকে স্মরণীয় করে রাখতেই আমাদের এই আয়োজন। বিদায়ের মুহূর্তে তার মুখে হাসি ফোটাতে পেরে আমরাও আনন্দিত। বাংলাদেশ পুলিশ সবসময় তার ও তার পরিবারের পাশে থাকবে।”  ফরিদগঞ্জ টাইমস/কেএম

আজকের সংবাদ, ফরিদগঞ্জ, সর্বশেষ

মিশরের আল-আজহারে পড়ার সুযোগ পেলেন ফরিদগঞ্জের আবু সুফিয়ান

নিজস্ব প্রতিবেদক : চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জ উপজেলার রুস্তমপুর গ্রামের হাজী বাড়ির ফয়েজ আহমেদের ছেলে আবু সুফিয়ান পারভেজ বিশ্বের অন্যতম প্রাচীন ও মর্যাদাপূর্ণ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান মিশরের আল-আজহার বিশ্ববিদ্যালয়ে উচ্চশিক্ষার সুযোগ অর্জন করেছেন। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামী ধর্মতত্ত্ব (Islamic Theology) বিভাগে ভর্তি হওয়ার চূড়ান্ত অনুমোদন পেয়েছেন। আবু সুফিয়ান পারভেজ বর্তমানে ঢাকার উত্তরার জামিয়া দারুল আরকাম আল-ইসলামিয়ার শিক্ষার্থী। প্রতিষ্ঠানটির সঙ্গে আল-আজহার বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা সমমান (মুআদালা) চুক্তি থাকায় তিনি ওই প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে আল-আজহারে আবেদন করেন। আবেদন অনুমোদনের পর আল-আজহার কর্তৃপক্ষ অনলাইনে একটি ভার্চুয়াল ভর্তি পরীক্ষা গ্রহণ করে। ঢাকা থেকে পরীক্ষায় অংশ নিয়ে তিনি কৃতিত্বের সঙ্গে উত্তীর্ণ হন। পরে চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত হয়ে ইসলামী ধর্মতত্ত্ব বিভাগে তার ভর্তি সম্পন্ন হয়। এ উপলক্ষে গত ২৯ জুলাই উত্তরার জমজম টাওয়ারের ১২তম তলায় এক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে দেশ-বিদেশের বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ, গবেষক, আলেম, কূটনীতিক এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার অতিথিরা উপস্থিত থেকে নির্বাচিত শিক্ষার্থীদের অভিনন্দন জানান এবং তাদের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ কামনা করেন। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বাংলাদেশে নিযুক্ত মিশরের রাষ্ট্রদূত উমর মহিউদ্দিন ফাহমি। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা-১৮ আসনের সংসদ সদস্য জাহাঙ্গীর আলম, হাইয়াতুল উলয়ার কো-চেয়ারম্যান ও দারুল আরকাম ট্রাস্টের সভাপতি শায়খ সাজিদুর রহমান এবং ইসলামিক ফাউন্ডেশন বাংলাদেশের মহাপরিচালক (ডিজি) ড. মহিবুল্লাহ আল-বাকি। এছাড়া মিশরের গ্র্যান্ড মুফতি প্রফেসর ড. নাজির আইয়াদ ভার্চুয়ালি বক্তব্য দেন। বক্তারা বলেন, একসঙ্গে ১৫ জন বাংলাদেশি শিক্ষার্থীর আল-আজহার বিশ্ববিদ্যালয়ে উচ্চশিক্ষার সুযোগ অর্জন দেশের ইসলামি শিক্ষার জন্য একটি গৌরবময় মাইলফলক। তারা জামিয়া দারুল আরকাম আল-ইসলামিয়ার শিক্ষা-ঐতিহ্য, মানসম্মত পাঠদান এবং দক্ষ আলেম গড়ে তোলার ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠানটির অবদানের প্রশংসা করেন। অনুষ্ঠানের শেষপর্বে আল-আজহারে অধ্যয়নের জন্য মনোনীত ১৫ শিক্ষার্থীকে সংবর্ধনা দেওয়া হয়। তাদের সফলতা কামনায় বিশেষ দোয়া অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় অতিথিরা আশা প্রকাশ করেন, উচ্চশিক্ষা শেষে তারা দেশ, জাতি ও ইসলামের কল্যাণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবেন। এদিকে নিজের অনুভূতি প্রকাশ করে আবু সুফিয়ান পারভেজ বলেন, তার শিক্ষাজীবনের প্রতিটি ধাপে সবচেয়ে বেশি অনুপ্রেরণা ও সাহস যুগিয়েছেন তার বাবা এবং বড় ভাই। তাদের প্রতি তিনি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। পাঁচ ভাইবোনের মধ্যে তৃতীয় আবু সুফিয়ান পারভেজ দেশবাসীর কাছে দোয়া কামনা করেছেন, যেন তিনি সফলভাবে পড়াশোনা শেষ করে দেশ ও জাতির সেবায় নিজেকে নিয়োজিত করতে পারেন। ফরিদগঞ্জ টাইমস/কেএম

আজকের সংবাদ, জাতীয়, সর্বশেষ

বাংলাদেশ-নেপাল সম্পর্ক আরও গভীর হবে: মির্জা ফখরুল

ফরিদগঞ্জ টাইমস ডেস্ক : স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী এবং বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, বাংলাদেশ ও নেপালের মধ্যে বিদ্যমান বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক ভবিষ্যতে আরও শক্তিশালী ও দীর্ঘস্থায়ী হবে। দুই দেশের পারস্পরিক সহযোগিতা, সৌহার্দ্য এবং মানবিক উদ্যোগ জনগণের কল্যাণে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করবে। রোববার (২ আগস্ট) ঠাকুরগাঁও ডায়াবেটিক সমিতির উদ্যোগে এবং বাংলাদেশ-নেপালের যৌথ সহযোগিতায় আয়োজিত ‘ফ্রি আই ক্যাম্প-২০২৬’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। মির্জা ফখরুল বলেন, ঠাকুরগাঁওসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের মানুষ পরিশ্রমী ও সম্ভাবনাময়। অর্থনৈতিক সীমাবদ্ধতার কারণে অনেক দরিদ্র মানুষ সময়মতো চক্ষু চিকিৎসা নিতে পারেন না। এমন পরিস্থিতিতে বিনামূল্যের এই চক্ষু শিবির অসংখ্য মানুষের জন্য আশীর্বাদ হয়ে উঠবে। ভবিষ্যতে এ ধরনের জনকল্যাণমূলক স্বাস্থ্যসেবা দেশের আরও বিস্তৃত এলাকায় ছড়িয়ে পড়বে বলেও তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। ‘সবার জন্য দৃষ্টি, প্রতিটি চোখের যত্ন’—এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে আয়োজিত শিবিরে রোগীদের বিনামূল্যে চোখ পরীক্ষা, চিকিৎসা পরামর্শ এবং প্রয়োজনীয় রোগ নির্ণয়ের সুবিধা দেওয়া হয়। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশে নেপাল দূতাবাসের ডেপুটি চিফ অব মিশন প্রতীক কার্কি, এনএনজেএস-এর চেয়ারম্যান প্রফেসর ডা. চেত রাজ পান্ত এবং বিরাটনগর আই হাসপাতালের চেয়ারম্যান পদ্ম নারায়ণ চৌধুরী। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ঠাকুরগাঁও ডায়াবেটিক সমিতির সভাপতি ডা. আবু মো. খায়রুল কবির। আয়োজকরা জানান, দরিদ্র ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের দোরগোড়ায় চক্ষু চিকিৎসাসেবা পৌঁছে দেওয়াই এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য। শিবিরে চোখের বিভিন্ন রোগ শনাক্তকরণ, প্রয়োজনীয় চিকিৎসা পরামর্শ এবং বিনামূল্যে প্রাথমিক সেবা প্রদান করা হয়। বক্তারা বলেন, নিয়মিত চোখ পরীক্ষা এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধি করলে অনেক জটিল চক্ষুরোগ প্রতিরোধ করা সম্ভব। তাই এ ধরনের মানবিক উদ্যোগ স্বাস্থ্যসেবা সম্প্রসারণে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে। দিনব্যাপী আয়োজিত এই চক্ষু শিবিরে চিকিৎসক, সমাজসেবক, স্থানীয় বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি এবং বিপুলসংখ্যক রোগী অংশ নেন। শত শত মানুষ বিনামূল্যে চক্ষু পরীক্ষা ও চিকিৎসাসেবা গ্রহণ করেন।  ফরিদগঞ্জ টাইমস/কেএম

Scroll to Top