৩০শে অক্টোবর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

Author name: Nazrul Islam

আজকের সংবাদ, ফরিদগঞ্জ, বিশেষ সংবাদ

ফরিদগঞ্জ আসছেন বিশ্বজয়ী হাফেজ নাজমুস সাকিব 

আলাউদ্দীন বিন সিদ্দিক :  চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জের পাটওয়ারী বাজারে অবস্থিত ইক্বরা ইন্টারন্যাশনাল মাদরাসায় আগামীকাল বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) আসছেন সৌদি আরব ও দুবাই আন্তর্জাতিক হিফজুল কুরআন প্রতিযোগিতায় ১ম স্থান অর্জনকারী বিশ্বজয়ী হাফেজ নাজমুস সাকিব। ইক্বরা ইন্টারন্যাশনাল মাদরাসার প্রতিষ্ঠাতা ও মুহতামিম মুফতি আবু তাহের সিদ্দিকীর আমন্ত্রণে তিনি মাদরাসাটি সফর করবেন। সফরকালে তিনি মাদরাসার শিক্ষার্থীদের মাশক্বুল কুরআনের বিশেষ ক্লাস পরিচালনা করবেন। শিক্ষার্থীদের তিলাওয়াতের শুদ্ধতা, মাখরাজ ও তাজবিদের বিভিন্ন বিষয়ে তিনি দিকনির্দেশনা দেবেন। বিশ্বজয়ী একজন হাফেজের কাছ থেকে সরাসরি মাশক্বুল কুরআনের ক্লাস করার সুযোগ শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষভাবে অনুপ্রেরণাদায়ক হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। হাফেজ নাজমুস সাকিবের আগমনকে কেন্দ্র করে ইক্বরা ইন্টারন্যাশনাল মাদরাসার শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে উৎসাহ উদ্দীপনা সৃষ্টি হয়েছে। মাদরাসা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তার এই সফর শিক্ষার্থীদের কুরআন হিফজ ও তিলাওয়াতের মানোন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে এবং কুরআনের প্রতি তাদের ভালোবাসা ও আগ্রহ আরও বৃদ্ধি করবে।

আজকের সংবাদ, সর্বশেষ

ঘুষ কাণ্ডে ডিবি সদস্য মেহেদী ক্লোজড, তদন্ত কমিটি গঠন

কুড়িগ্রাম প্রতিবেদক : কুড়িগ্রামে অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগের অভিযোগে বাবা-ছেলেকে ভয়ভীতি দেখিয়ে ঘুষ দাবির অভিযোগ ওঠা গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) সদস্য মেহেদী হাসানকে পুলিশ লাইনসে ক্লোজড করা হয়েছে। একই সঙ্গে অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ে তদন্ত টিম গঠন করেছে পুলিশ। সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) কুড়িগ্রাম পুলিশ সুপারের কার্যালয় সূত্র জানায়, সংবাদ প্রকাশের পর ডিবি সদস্য মেহেদী হাসানকে পুলিশ লাইনসে ক্লোজড করা হয়েছে এবং একটি তদন্ত টিম গঠন করা হয়েছে। অপরাধ প্রমাণিত হলে তার শাস্তি হবে। এর আগে শুক্রবার গভীর রাতে কুড়িগ্রাম পৌর এলাকার ভেলাকোপা গ্রামের কেচাপাড়া এলাকায় থাই মিস্ত্রি শাহীন আলম (৪৫) ও তার ছেলে রবিউল ইসলামকে (১৭) অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগের অভিযোগে ভয়ভীতি দেখিয়ে ১৫ হাজার টাকা উৎকোচ দাবির অভিযোগ ওঠে ডিবি সদস্য মেহেদী হাসানের বিরুদ্ধে। পরে স্থানীয় দুই যুবকের মাধ্যমে ৮ হাজার টাকায় বিষয়টি মীমাংসার কথা বলে ওই টাকা নেওয়া হয় বলে অভিযোগ ভুক্তভোগী পরিবারের।পরদিন টাকা ফেরত চাওয়াকে কেন্দ্র করে বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে। একপর্যায়ে শনিবার রাতে ঘটনাস্থলে গেলে স্থানীয়দের ক্ষোভের মুখে পড়েন মেহেদী হাসান। পরে স্থানীয়রা তাকে ঘিরে ফেললে তিনি অবরুদ্ধ হন। খবর পেয়ে ডিবির একটি দল ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে উদ্ধার করে নিয়ে যায়। স্থানীয় ও ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগ, মেহেদী হাসান ও স্থানীয় দুই যুবক তাজুল ও বাবু ঘটনাস্থলে গিয়ে অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগের অভিযোগ তোলেন এবং শাহীন আলম ও তার ছেলের কাছে ১৫ হাজার টাকা দাবি করেন। পরে ৮ হাজার টাকায় বিষয়টি মীমাংসার কথা বলে টাকা নেওয়া হয়। ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি, গাছ বিক্রি করে ওই টাকা পরিশোধ করেসন তারা। পরে টাকা ফেরত চাওয়ার বিষয়টি জানাজানি হলে স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ সৃষ্টি হয়। এদিকে স্থানীয় একাধিক ব্যক্তির দাবি, ডিবি সদস্য মেহেদী হাসানের বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষকে ভয়ভীতি দেখিয়ে টাকা আদায়ের আরও অভিযোগ রয়েছে। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা তদন্তের মাধ্যমে যাচাই হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ। অভিযোগের বিষয়ে ডিবি সদস্য মেহেদী হাসানের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি। এ ব্যাপারে কুড়িগ্রাম অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মিমতানুর রহমান-পিপিএম বলেন, “তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে মেহেদী হাসানের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আপাততঃ তাকে পুলিশ লাইন্সে শাস্তিমূলক ক্লোজড করা হয়েছে।”

আজকের সংবাদ, ফরিদগঞ্জ, বিশেষ সংবাদ

‘কোনো পেশাই ছোট নয়’—ইউএনও : প্রান্তিক পেশাজীবীদের ১০ দিনের প্রশিক্ষণ শুরু

নিজস্ব প্রতিবেদক :  বাংলাদেশের প্রান্তিক পেশাজীবী জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়ন (২য় ফেইজ) শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জে প্রান্তিক পেশাজীবীদের ১০ দিনব্যাপী পেশাভিত্তিক সফটস্কিলস প্রশিক্ষণ (ব্যবসায় উন্নয়ন ও পরিচালন) শুরু হয়েছে। সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) সকাল ১০টায় উপজেলা পরিষদ সম্মেলন কক্ষে এ প্রশিক্ষণ কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়। সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে এবং সমাজসেবা অধিদপ্তরের বাস্তবায়নে আয়োজিত এ প্রশিক্ষণ কর্মশালা চলবে ১০ দিন। প্রশিক্ষণ কর্মশালার উদ্বোধন করেন ফরিদগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সেটু কুমার বড়ুয়া। উদ্বোধনী বক্তব্যে তিনি বলেন, “সমাজের প্রতিটি পেশারই নিজস্ব গুরুত্ব ও মর্যাদা রয়েছে। কুমার, কামার, নাপিত, মুচি কিংবা হাতের তৈরি বিভিন্ন শিল্পের সঙ্গে যুক্ত মানুষজন আমাদের ঐতিহ্য ও অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তাদের পেশাকে ছোট করে দেখার কোনো সুযোগ নেই।” তিনি বলেন, প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে এসব পেশাজীবী তাদের দক্ষতা, শ্রম ও সৃজনশীলতার মাধ্যমে সমাজে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে চলেছেন। সময়ের সঙ্গে তাদের ঐতিহ্যবাহী পেশায় আধুনিক প্রযুক্তি, নতুন নকশা, মানসম্মত উৎপাদন ও আধুনিক বিপণন পদ্ধতি যুক্ত করা প্রয়োজন। এতে একদিকে যেমন তাদের পণ্যের বাজার সম্প্রসারিত হবে, অন্যদিকে তাদের আয় ও জীবনমানও উন্নত হবে।”  প্রথম দিনের প্রশিক্ষক হিসেবে প্রশিক্ষণ প্রদান করেন চাঁদপুর জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক রুহুল আমিন বাশির। ফরিদগঞ্জ উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মোহাম্মদ মাহমুদুল হাসানের সঞ্চালনায় এসময় অন্যান্য বক্তারা বলেন, “প্রশিক্ষণের মাধ্যমে অর্জিত জ্ঞান কাজে লাগিয়ে প্রত্যেককে নিজের পেশাকে আরও আধুনিক ও লাভজনক করার চেষ্টা করতে হবে। নিজের পেশার প্রতি সম্মান ও আত্মবিশ্বাস নিয়ে এগিয়ে গেলে প্রান্তিক পেশাজীবীরাও উদ্যোক্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হতে পারবেন। তাদের উৎপাদিত পণ্য স্থানীয় বাজারের পাশাপাশি অনলাইন ও বৃহত্তর বাজারে ছড়িয়ে দেওয়ার উদ্যোগ নিতে হবে।”  বক্তব্য রাখেন ফরিদগঞ্জ প্রেসক্লাবের সভাপতি আবু হেনা মোস্তফা কামাল, সাধারণ সম্পাদক জাহিদুল ইসলাম ভূঁইয়া ও সদস্য কেএম নজরুল ইসলাম। এসময় উপস্থিত ছিলেন ফরিদগঞ্জ উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা বেলায়েত হোসেন ও ফরিদগঞ্জ প্রেসক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক প্রবীর চক্রবর্তী। প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্য হলো প্রান্তিক আদি পেশাজীবীদের টেকসই উন্নয়নে তাদের উৎপাদিত পণ্যের উৎকর্ষ সাধনে সক্ষমতা বৃদ্ধি, পণ্যের বহুমুখী ব্যবহার, আধুনিকায়ন ও বিপণন ব্যবস্থার উন্নয়ন এবং পরিবেশবান্ধব পণ্য ব্যবহারে উদ্বুদ্ধ করা। এর মাধ্যমে তাদের অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করার পাশাপাশি সরকারের উন্নয়ন অভীষ্ট লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে গুরুত্বপূর্ণ অংশীজন হিসেবে গড়ে তোলা। 

আজকের সংবাদ, শিক্ষা ও সাহিত্য

মাহমুদুল হাসান ইমরোজ–এর কবিতা

অপেক্ষার প্রহরে বিধ্বস্ত কতটা প্রহর আমি অপেক্ষায় কাটাবআর কতটা প্রহর এভাবেই চলে যাবে!একপশলা বৃষ্টি তারপর রোদ্দুরবকুলতলায় কুড়ানো ফুলগুলোর সঙ্গআমাকে বারণ করে ফিরে আসতে। একমুঠো বকুলের মালাটি মেলে ধরি,তাজা বকুলের ঘ্রাণ এখনও বাকি আছে।বিশ্বাস করো হে সখী– আমি বকুলতলায় আছিএবং এখানেই অপেক্ষায় থাকব যদি ধরা না দাও। সেই কুসুমভোরে নগ্নপায়ে শিশির মাড়িয়েছি,কতটা কাঁটা বিঁধেছে তার ইয়ত্তা নেই,একগ্লাস পানিতে শরীরটা এখনো ফুরফুরেকিন্তু সূর্যটা আমাকে বিরক্ত করেই চলছে,তবুও আমি অপেক্ষায় আছি পথপানে। সেদিন বলেছিলে বকুলের মালায় সাজবেটিকলি আর টায়রা বানিয়ে দিতে হবে,আর নূপুর পেলে নৃত্যগীতে মন ভরাবে।আমি তাই প্রতিরাতেই স্বপ্ন দেখিভোরের পাখি হয়ে মুঠোমুঠো বকুল তুলিমালায় জড়িয়ে রাখি সবগুলো অতি যত্নে,কিন্তু অপেক্ষার প্রহরে আমি আজ বিধ্বস্ত। একটি ক্যাকটাসের জন্য বেলকনির নিশ্চল টবে ঠায় দাঁড়িয়েএকচিলতে মুগ্ধ হাসিতে প্রাণ জুড়াও;অতি সঙ্গোপনে বেড়েই চলেছে তোমার ক্ষুরধার কাঁটাগুলো;স্পর্শে মৃদু অনুভূতি কেড়ে নিই,অজানা ইশারায় কেঁপে উঠে শিরদাঁড়া রাত্রির এক নিবেদন। গহীন অরণ্যে আলো আঁধারের লুকোচুরি;শানবাঁধানো ঘাটে নিস্তব্ধতায় এই নিভৃতচারীপদ্মফুলের নির্যাসে নির্মল আনন্দে সদা মাতে।তারপর আনমনে নয়নযুগলে ধরা পড়ে;অনিন্দ্য রাজকন্যার রূপ।চৈতী হাওয়া জড়িয়ে স্বাগত জানাই;পদ্মফুলেল উষ্ণীশ পরিয়ে, দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান। অতি যত্নে রাখি; রৌদ্র-জল অবারিত জোছনার আভায়,বিহঙ্গের আনাগোনায় কোণঠাসা প্রাণে;মায়াবী জাল জেগে থাকে,টবের বৃত্তপথ পরিভ্রমণে মশগুল ত্রিনয়ন।একটি ক্যাকটাসের জন্যে এতদূর। অর্ধযুগের নিরন্তর ঘণ্টাধ্বনি থেমে যায় একদিনরৌদ্রতাপের বিভীষিকায়, অসাড় কাঁটাগুলো শুধুই জেগে আছে,অভিমানী স্মৃতিচিহ্ন বিদ্ধ করে সর্বদা।নিষ্পলক নয়নে নিত্য চেখে রাখি,একচিলতে হাসির জন্যে স্মৃতিরাজ্যে উপনিবেশ;জেগে থাকুক আর কিছুকাল। বিশুদ্ধ মাল্যদান তুমি নেই তাই ভাবনাগুলো এলোমেলোঅবিন্যস্ত ঘরে শুধুই নীরবতা।সুরের ধারায় তান, সে তো হারিয়েছি,দাঁড়কাকের সাথে এখন বেসুরে কণ্ঠমিলন।প্রজাপতি উড়ে নিঃশব্দে চলে যায়অ্যাকুরিয়ামে অম্লযোগের বড়ই অভাব।মাছগুলোয় ফ্যাকাসে আস্তরণ,মায়াবী স্পর্শের বড়ই আকাল। বিনি সুতোয় গাঁথা মালাটি আর কতকালশুধুই নির্জীব সাক্ষী হবে?ফুলেরাও অভিমানে সুঘ্রাণ ছড়ায় না,সবই তোমার পথপানে আশায় বসতি। মাকড়সার জালে চিত্রলিপির প্রতিচ্ছবিতোমার নামটি যেন শোভা পায়।অমিত্রাক্ষর ছন্দে পদ্যগুলো দেয়ালে ঝুলে,আয়নায় দীর্ঘশ্বাসে ভাসে বিকৃত প্রতিকৃতি।শুকনো হাসি আর প্রাণে লাগে না,চাই তোমার সাথে বিশুদ্ধ মাল্যদান। নিদ্রাঝড়ের আবির্ভাব দখিনা পবন বয়, আঙিনায় বিছানা পাতি,এলিয়ে তপ্তদেহে শিরশিরে ছোঁয়া,একখণ্ড মেঘ রাতের আকাশেউন্মাদ নৃত্যরত। কখনো সন্ধ্যাতারার মিটিমিটি হাসি,আঁধারের মাঝে জেগে থাকা প্রদীপ্ত চেরাগদানি,জোছনার সম্মোহনী খেলায় আলো আঁধারীর উচ্ছ্বল উৎসব। তাপদাহে যে ব্যথিত হৃদয়ে দিবাকর রুষ্ট,কপোলে তারই ছাপ জেগে থাকেঅঝোর ধারায় সৃষ্ট সুবিশাল ক্যানভাসে। মেঘেরা উড়ে যায় আকাশে বাতাসেভেলায় পরীদের জলকেলি,ঘনমেঘে ন্যুব্জ আকাশ ভেঙে পড়েআমার আঙিনায়,দেহ মাঝে তারই শিহরণ অনন্তযৌবনারূপী। বৃষ্টিজল আমার হয়ে অবারিত ঝরে,ফোঁটায় ফোঁটায় অকৃত্রিম সুরের তানগভীর রাতের দীর্ঘতাভেদে মিলিয়ে যায়আখিঝুরে প্রচ্ছন্ন নিদ্রাঝড়ের আবির্ভাব। সেই ভোরের প্রতীক্ষায় যদি এমন একটি ভোর হতো—কুয়াশা বিন্দু বিন্দু করে জমে থাকবেকচি ঘাসের ডগায়, আবার নেচে উঠবেপ্রভাতের গানে, সূর্যত্যাজে পালাবে না।যদি পাখিরা আগের মতোই উড়ে যেত খুব স্বাধীনভাবে,কর্ণকুহরে ঝাপটানো ধ্বনিতে সেই আলোড়ন যদি আবার হতোতবে পৃথিবীতে সেই সময় হবে শ্রেষ্ঠ ভোর। যদি হ্রদের ওপাশে হেলানো সেই বিকেলেসূর্যটা ডুবে যেতে যেতে তাকিয়ে থাকতোএই পৃথিবীর কত শত মুখগুলোতে–যেখানে প্রচ্ছদের মতো ছবি ভেসে উঠেকিন্তু হাসতে পারে না বোবাকান্নায়।শতদিন খাঁচায় পাখি তো থাকে প্রাণহীনদূরের নীলিমায় দৃষ্টিতে ভাসে উড়ন্ত শৈশবসেই পাখিটিও চায় না হেরে যেতেসময়ের প্রতীক্ষায় বাসা বুনে যেতে থাকে। যদি কখনো চাঁদটি আপন প্রিয়ার মতোহঠাৎ আলোয় ভরে দিতো আলতো করে,হ্রদের জলে জ্যোৎস্নায় পাহাড়ের কোলজুড়েমেঘের অবকাশ হতো শ্রেষ্ঠ পূর্ণিমার গল্প। যদি মুকুলিত বৃক্ষটি আর না কাঁদতো—এই অসময়ে বোনা ফসলের ক্ষেতে পঙ্গপালনা এসে যদি ফিরে যেত, তবে খোলা চিঠিমহারাজার কাছে সেই ভোরের প্রতীক্ষায়–শুধরে দাও এই পৃথিবী।। মোনালিসা তোমার চাঁদমুখ আজো অনির্বাণ,তুমি অসংখ্য তারার রাণী,হৃদয়ে অকৃত্রিম হাসির ঘূর্ণিবাতে ক্ষণিকের তরেমিলিয়ে যাওয়া একফালি চাঁদের জোছনা।মিটমিটে আলোয় আঁধারের বুকে অহর্নিশিদৃপ্তপদক্ষেপের মন্ত্রণা। তুমি আজো প্রাণে প্রাণে ছন্দবদ্ধ পঙক্তি রূপেঅনিঃশেষ কাব্যরসের সেরা যোজনা।কবিতায় সুদৃঢ় শব্দচয়নে, বলিষ্ঠ উচ্চারণআর হৃদয় কাঁপানো অবিরাম আবৃত্তিরঅনন্য প্রেরণা। তুমি কবির হারানো সুপ্ত মনোবাঞ্ছায়অকাল পদ্যে সুরলহরীর ক্রমাগত আবির্ভাব।নিদারুণ যন্ত্রণার সাক্ষী, সদা জাগ্রততরুছায়ায় নির্বাক শার্দূল। তুমি ক্ষীণমনে কুম্ভীরাশ্রুর স্রোতধারায় তীব্র প্রতিবাদ,পঙ্কিল মনুষ্যত্ব নাশিনী দোর্দণ্ড তেজস্বিনীরপ্রকাণ্ড হুংকার।তুমি জেগে আছো দশদিগন্তে কোটি মানবমনে,ভুবনজয়ী হাসিটুকু ফুলের পাপড়িরূপেযেন চিরঅম্লান অনিঃশেষ।

আজকের সংবাদ, ফিচার, মতামত, শিক্ষা ও সাহিত্য

শিক্ষক, প্রযুক্তি ও নিরাপত্তা: একটি মানবিক শিক্ষাব্যবস্থার সন্ধানে

মো. মিজানুর রহমান :  শিক্ষা কোনো বিচ্ছিন্ন ব্যবস্থা নয়; এটি সামাজিক মূল্যবোধ, প্রশাসনিক নীতি এবং মানবিক অনুভূতির এক সুবিন্যস্ত সমন্বয়। একজন শিক্ষকের বিদ্যালয়ের উপস্থিতি কেবল উপস্থিতি খাতায় একটি স্বাক্ষর বা নির্ধারিত সময় পার করা নয়; এটি পরম মনোযোগ, মেধা এবং মানসিক উপস্থিতির দাবি রাখে। কিন্তু শিক্ষক দিনশেষে একাধারে একজন সামাজিক ও পারিবারিক মানুষ। নিজের সন্তান বা পরিবারকে ঝুঁকিপূর্ণ কিংবা নিরাপত্তাহীন অবস্থায় রেখে কোনো শিক্ষকের পক্ষে শ্রেণিকক্ষে পূর্ণ মনোযোগ দেওয়া সম্ভব নয়। পেশাগত দায়িত্বের বাইরেও যে তার একটি মানবিক সত্তা এবং গভীর পারিবারিক দায়বদ্ধতা রয়েছে—এই মৌলিক বিষয়টি উপলব্ধি করা যেকোনো শিক্ষাগত সংস্কারের প্রথম শর্ত হওয়া উচিত। শিক্ষাব্যবস্থার গুণগত মান বৃদ্ধি কিংবা পেশাগত সততা নিশ্চিত করার নামে যখন কেবল শিক্ষকের ওপর প্রশাসনিক কড়াকড়ি আরোপ করা হয় অথবা তাকে প্রযুক্তি থেকে বিচ্ছিন্ন করার চেষ্টা করা হয়, তখন সমস্যার মূল কারণ আড়ালেই থেকে যায়। কেবল শিক্ষককে নজরদারিতে রেখে সার্বিক শিক্ষার মান উন্নয়ন সম্ভব নয়, যদি না পুরো প্রশাসনিক কাঠামোতে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা হয়। সার্বিক অসৎ লেনদেন, স্বজনপ্রীতি ও দুর্নীতির সংস্কৃতি বন্ধ করে প্রশাসনিক সততা প্রতিষ্ঠা করা গেলে প্রতিষ্ঠানে এমনিতেই একটি সুস্থ ও দায়িত্বশীল পরিবেশ গড়ে ওঠে। পর্যাপ্ত মূল্যায়ন, উপযুক্ত সামাজিক মর্যাদা ও নিরাপত্তা পেলে জবাবদিহিতা বাইরে থেকে চাপিয়ে দিতে হয় না—তা শিক্ষকের ভেতর থেকেই স্বতঃস্ফূর্তভাবে উঠে আসে। এই প্রেক্ষাপটে বিদ্যালয়ে শিক্ষকদের প্রযুক্তি ও স্মার্টফোন ব্যবহারের সামাজিক ও পেশাগত যৌক্তিকতা এবং এর ভারসাম্যমূলক প্রয়োগ পর্যালোচনা করা যেতে পারে। পরিবারের জরুরি পরিস্থিতি (যেমন অসুস্থ সন্তান বা বৃদ্ধ পিতা-মাতা) সম্পর্কে সচেতন থাকার সুযোগ প্রতিটি পেশাজীবীর মৌলিক অধিকার। এই ন্যূনতম মানসিক নিশ্চিন্ততা শিক্ষককে শ্রেণিকক্ষে উদ্বিগ্নতামুক্ত রেখে পাঠদানে নিবিষ্ট হতে সাহায্য করে। আধুনিক যুগে জ্ঞানচর্চা কেবল নির্দিষ্ট পাঠ্যবইয়ের পাতায় সীমাবদ্ধ নয়। শ্রেণিকক্ষে জটিল কোনো বিষয়কে ভিজ্যুয়াল উপস্থাপনা, তাৎক্ষণিক চিত্র বা প্রাসঙ্গিক তথ্যের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের কাছে সহজবোধ্য করে তুলতে প্রযুক্তি এক অপরিহার্য মাধ্যম। আধুনিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে একাডেমিক নোটিশ, জরুরি প্রশাসনিক নির্দেশনা ও তথ্য আদান-প্রদানে প্রযুক্তি সময় সাশ্রয় করে এবং প্রাতিষ্ঠানিক গতিশীলতা বৃদ্ধি করে। প্রযুক্তির সুবিধার পাশাপাশি এর অনিয়ন্ত্রিত ব্যবহারের ঝুঁকিও এড়ানো যায় না। শ্রেণিকক্ষে পাঠদানকালে অনাকাঙ্ক্ষিত কল, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দীর্ঘ সময় ব্যয় বা ব্যক্তিগত যোগাযোগ শিক্ষকের পেশাদারিত্বকে ক্ষুণ্ন করে এবং শিক্ষার্থীদের মনোযোগে ব্যাঘাত ঘটায়। শিক্ষক যখন শ্রেণিকক্ষে অপ্রয়োজনীয় কাজে মোবাইল ব্যবহার করেন, তখন তা শিক্ষার্থীদের মধ্যেও নিয়ম অমান্য করার মানসিকতা তৈরি করে। সুতরাং, সমাধান ঢালাও নিষেধাজ্ঞায় নয়; বরং একটি পরিপক্ক ‘পেশাগত আচরণবিধি’ অনুসরণের মধ্যে নিহিত। পাঠদান চলাকালীন ডিভাইস সাইলেন্ট বা ভাইব্রেশন মোডে থাকবে, যাতে শিক্ষক জরুরি বার্তার সংকেত পান অথচ ক্লাসের স্বাভাবিক পরিবেশ ব্যাহত না হয়। পরম জরুরি ক্ষেত্রে সহকর্মীদের সমন্বয়ে বা ক্লাসের স্বাভাবিক গতি রক্ষা করে স্বল্প সময়ের জন্য সংযোগ রক্ষা করা যেতে পারে। প্রযুক্তি কেবল জ্ঞান সম্প্রসারণ ও শিক্ষা সহায়তায় ব্যবহৃত হবে; ব্যক্তিগত বিনোদনের কাজে নয়। আরো যাহা প্রয়োজন—শিক্ষকের সুরক্ষা ও সামাজিক মর্যাদার অপরিহার্যতা। সাম্প্রতিক সময়ে শিক্ষাখাতের অন্যতম বড় সংকট হলো শিক্ষকের সামাজিক নিরাপত্তা ও কাঠামোগত সুরক্ষার অভাব। সামান্য প্রশাসনিক অসন্তোষ বা বাহ্যিক প্রভাবে যখন-তখন শিক্ষককে হেনস্তা করা কিংবা তার কাজে অহেতুক হস্তক্ষেপ করার প্রবণতা আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে। একজন শিক্ষক যদি নিজের কর্মক্ষেত্রে নিরবচ্ছিন্ন নিরাপত্তাহীনতা ও মর্যাদাহানির ভয়ে থাকেন, তবে তার পক্ষে স্বাধীন ও বুদ্ধিদীপ্ত পাঠদান অসম্ভব হয়ে পড়ে। জাতীয় পর্যায়ে ‘শিক্ষক সুরক্ষা আইন’ প্রণয়ন এবং এর কার্যকর বাস্তবায়ন এখন সময়ের দাবি। একজন শিক্ষককে কেবল আইনের মাধ্যমে শাসন করার মানসিকতা থেকে বেরিয়ে এসে তাকে উপযুক্ত আইনি সুরক্ষা, কাজের পরিবেশ এবং সামাজিক মর্যাদা দিতে হবে। যে সমাজ শিক্ষককে অপমানিত হতে দেখে, সে সমাজ কখনো মেধা ও মননে সমৃদ্ধ হতে পারে না।  একটি উন্নত শিক্ষা ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে প্রয়োজন তিনমুখী সমন্বয়—প্রশাসনিক সততা ও স্বচ্ছতা, শিক্ষকের আইনি ও সামাজিক সুরক্ষা এবং প্রযুক্তির সুনিয়ন্ত্রিত ও মানবিক প্রয়োগ। শিক্ষককে সন্দেহ বা কড়াকড়ির চোখে না দেখে, তাকে একজন মর্যাদাশীল ও দায়িত্বশীল অংশীদার ভাবলেই কেবল শিক্ষার প্রকৃত রূপান্তর সম্ভব। শিক্ষক নিরাপদ ও সম্মানিত থাকলে, সমাজও নিশ্চিতভাবে একটি আলোকোজ্জ্বল ভবিষ্যৎ উপহার পাবে।

আজকের সংবাদ, প্রধান সংবাদ, ফরিদগঞ্জ

বিএনপির অফিস ভাঙচুর মামলায় সোহাগ, সন্ত্রাসবিরোধী মামলায় জুয়েল গ্রেফতার 

নিজস্ব প্রতিবেদক : চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জে পুলিশের পৃথক পৃথক অভিযানে আওয়ামী লীগের সহযোগী সংগঠন যুবলীগ ও ছাত্রলীগের দুই নেতাকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) দুপুরে উপজেলার দুটি পৃথক স্থানে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করা হয়। পুলিশ জানায়, ফরিদগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ এরশাদ উল্যাহর নির্দেশনায় এসআই রাকিবুল হাসানের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল দুপুরে গোবিন্দপুর উত্তর ইউনিয়নে অভিযান পরিচালনা করে। এ সময় স্থানীয় ইউপি সদস্য ও যুবলীগ নেতা আহাদ খান জুয়েল (৩৫)-কে আটক করা হয়।  অন্যদিকে, একই দিন বেলা সাড়ে ১১টার দিকে ফরিদগঞ্জ বাজারের সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের সামনে থেকে ছাত্রলীগ নেতা মো. নুরুজ্জামান সোহাগ (২৭)-কে গ্রেফতার করে পুলিশ। তিনি নয়াহাট বাজারসংলগ্ন ভূঁইয়া বাড়ির দলিললেখক মো. নূরুল আমিন ভূঁইয়ার ছেলে। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, আহাদ খান জুয়েলকে সন্ত্রাসবিরোধী আইনের একটি মামলায় গ্রেফতার দেখানো হয়েছে। আর মো. নুরুজ্জামান সোহাগকে ২০২২ সালের ১ সেপ্টেম্বর বিএনপির দলীয় কার্যালয়ে হামলা, ভাঙচুর ও বিস্ফোরণের ঘটনায় করা মামলায় গ্রেফতার দেখানো হয়েছে। ফরিদগঞ্জ থানার ওসি মোহাম্মদ এরশাদ উল্যাহ গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, পৃথক মামলায় গ্রেফতার দুই নেতার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া শেষে তাদের আদালতে পাঠানো হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে পুলিশের অভিযান অব্যাহত থাকবে।

আজকের সংবাদ, ফরিদগঞ্জ

ফরিদগঞ্জে যাত্রা শুরু করতে যাচ্ছে ‘FARIDGANJ BIKE RAIDERS’

নিজস্ব প্রতিবেদক : তরুণ বাইকারদের ঐক্য, নিরাপদ সড়ক নিশ্চিতকরণ এবং সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্য নিয়ে চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জে আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করতে যাচ্ছে ‘FARIDGANJ BIKE RAIDERS’। ইতোমধ্যে সংগঠনটির কার্যক্রমকে সামনে রেখে স্থানীয় বাইকারদের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ তৈরি হয়েছে। পারস্পরিক সহযোগিতা, শৃঙ্খলাপূর্ণ বাইকিং সংস্কৃতি, নিরাপদে চলাচল এবং বিভিন্ন সামাজিক ও মানবিক কার্যক্রমে তরুণদের সম্পৃক্ত করার প্রত্যয় নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে সংগঠনটি। আয়োজকরা জানান, খুব শিগগিরই ফরিদগঞ্জ বাসস্ট্যান্ড এলাকায় সংগঠনটির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন ও বিশেষ আয়োজন অনুষ্ঠিত হবে। অনুষ্ঠানে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি, বাইকার কমিউনিটির সদস্য, সাংবাদিকসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের উপস্থিতি থাকবে বলে আশা করা হচ্ছে। ‘Ride Together • Stay Safe • Stronger Together’—এই বার্তাকে সামনে রেখে ফরিদগঞ্জের তরুণ বাইকারদের নিয়ে একটি সুন্দর, দায়িত্বশীল ও মানবিক কমিউনিটি গড়ে তোলাই FARIDGANJ BIKE RAIDERS-এর মূল প্রত্যাশা। 

আজকের সংবাদ, ফরিদগঞ্জ

খাজুরিয়া ইয়থ ক্লাবের নবগঠিত কার্যকরী কমিটির অনুমোদন

নিজস্ব প্রতিবেদক : চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জ উপজেলার সরকারি নিবন্ধনকৃত সমাজসেবা ও যুব সংগঠন ঐতিহ্যবাহী ‘খাজুরিয়া ইয়থ ক্লাব’-এর নবগঠিত কার্যকরী কমিটির অনুমোদন দিয়েছে চাঁদপুর জেলা সমাজসেবা কার্যালয়।  গত ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে কমিটি অনুমোদনের জন্য আবেদনপত্র ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র দাখিল করা হয়। দাখিলকৃত কাগজপত্র সন্তোষজনক হওয়ায় ৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের উপপরিচালক মো. নজরুল ইসলাম স্বাক্ষরিত এক স্মারকের মাধ্যমে কমিটির অনুমোদন দেওয়া হয়। স্মারক নং- ৪১.০১.১৩০০.০০০.০০০.২৮.০০০৬.২৪.২৯৭-এ উল্লেখ করা হয়, নিবন্ধন নম্বর চাঁদ/১০৬ (১৫৪/১৪৯০/৬৪৭৫)৮৭ এবং ৬ নভেম্বর ১৯৬৪ তারিখে নিবন্ধিত ‘খাজুরিয়া ইয়থ ক্লাব’-এর নবগঠিত কার্যকরী কমিটিকে ১ জুলাই ২০২৫ থেকে ৩০ জুন ২০২৭ পর্যন্ত দুই বছরের জন্য অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। ১৭ সদস্যবিশিষ্ট নতুন কমিটিতে সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন মোহাম্মদ সফিকুর রহমান এবং সাধারণ সম্পাদক হিসেবে রয়েছেন অ্যাডভোকেট মো. এমরান হোসেন। কমিটির অন্যান্য দায়িত্বশীলরা হলেন—সিনিয়র সহ-সভাপতি মো. জাকির হোসেন মিজি, সহ-সভাপতি মো. আবুল কাসেম আজাদ, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মান্নান মেম্বার ও খোরশেদ আলম মানিক ভূঁইয়া, সাংগঠনিক সম্পাদক মো. সোহেল রানা, সমাজকল্যাণ সম্পাদক পারভেজ মোশারফ, ক্রীড়া সম্পাদক আব্দুর রহিম তপদার, সাংস্কৃতিক সম্পাদক মো. সরোয়ার হোসেন চৌধুরী, পাঠাগার সম্পাদক অ্যাডভোকেট কামাল হোসেন, দপ্তর সম্পাদক নুরুল আমিন নুরু, অর্থ সম্পাদক গোলাম মোস্তফা পাটোয়ারী, সাহিত্য ও প্রকাশনা সম্পাদক মাহাতাব উদ্দিন পাটোয়ারী এবং সদস্য হিসেবে রয়েছেন শাজাহান ভূঁইয়া, সালাউদ্দিন সজিব ও ইয়াসিন আখন সুজন। নতুন কমিটির সভাপতি মোহাম্মদ সফিকুর রহমান বলেন, “এর আগেও আমি এই পদে দায়িত্ব পালন করেছি। ক্লাবের ঐতিহ্য ধরে রাখা এবং এলাকার যুবসমাজকে আরও সংগঠিত করার জন্য আমরা কাজ করব। সামাজিক উন্নয়ন, খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে নতুন গতি আনতে আমাদের প্রচেষ্টা থাকবে।” যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক খোরশেদ আলম মানিক ভূঁইয়া বলেন, “আমি একই পদে পূর্বেও দায়িত্ব পালন করেছি। নতুন কমিটির সবাইকে নিয়ে ক্লাবের কার্যক্রম আরও গতিশীল করার চেষ্টা করব। যুবকদের দক্ষতা উন্নয়ন ও সমাজসেবামূলক কর্মকাণ্ডকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। তাছাড়া এবারের কমিটিতে তরুণদেরও স্থান দেওয়া হয়েছে। আশা করি, নবীন-প্রবীণের সমন্বয়ে ক্লাবটি আরও ভালোভাবে এগিয়ে যাবে।” জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের অনুমোদনপত্রে কমিটিকে ১৯৬১ সালের স্বেচ্ছাসেবী সমাজকল্যাণ সংস্থাসমূহ (নিবন্ধন ও নিয়ন্ত্রণ) অধ্যাদেশ এবং সংশ্লিষ্ট বিধিমালা মেনে চলার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে নিয়মিত বার্ষিক প্রতিবেদন ও অডিট রিপোর্ট দাখিল, নিবন্ধন সনদের নাম, নম্বর ও তারিখ সঠিকভাবে ব্যবহারসহ অনুমোদনপত্রে উল্লেখিত অন্যান্য শর্ত যথাযথভাবে পালন করতে বলা হয়েছে। দীর্ঘদিনের পথচলায় খাজুরিয়া ইয়ুথ ক্লাব স্থানীয় যুবসমাজকে সংগঠিত করার পাশাপাশি খেলাধুলা, গণশিক্ষা ও সামাজিক সচেতনতামূলক কার্যক্রমে ভূমিকা রেখে আসছে। সরকারি সমাজসেবা কার্যালয়ের নিবন্ধিত তথ্য অনুযায়ী, ক্লাবটির উল্লেখযোগ্য কার্যক্রমের মধ্যে রয়েছে খেলাধুলার আয়োজন, গণশিক্ষা বিস্তার, বৃক্ষরোপণ, বিভিন্ন জাতীয় ও সামাজিক দিবস উদযাপন, পরিবার পরিকল্পনা বিষয়ে সচেতনতা সৃষ্টি, দুস্থ মানুষের সহায়তা এবং শিক্ষাবৃত্তি প্রদান। এসব কার্যক্রমের মধ্য দিয়ে দীর্ঘদিন ধরে ক্লাবটি স্থানীয় যুবসমাজের বিকাশ ও জনকল্যাণে অবদান রেখে আসছে।

আজকের সংবাদ, ফরিদগঞ্জ, শিক্ষা ও সাহিত্য

তা’লীমুল কুরআন নূরানী মাদরাসায় পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশ ও পুরস্কার বিতরণ

টিটু হোসেন :  চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জ উপজেলার ৮নং দক্ষিণ ইউনিয়নের ৬নং ওয়ার্ডের রামদাসেরবাগে অবস্থিত তা’লীমুল কুরআন নূরানী মাদরাসার দ্বিতীয় সাময়িক পরীক্ষা-২০২৬-এর ফলাফল প্রকাশ ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন তরুণ রাজনীতিবিদ, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ও সমাজসেবক জনাব সাইফুল ইসলাম পারভেজ। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ও সমাজসেবক হাজী মো. হারুন খান, সিঙ্গাপুর প্রবাসী জনাব মো. জাকির হোসেন এবং শাশিয়ালী মাদরাসার সিনিয়র শিক্ষক ও অত্র মাদরাসার তা’লীমী মুরব্বি হযরত মাওলানা আবু মুসা। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ও সমাজসেবক জনাব মো. ইয়াছিন খান এবং সভাপতিত্ব করেন বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ও সমাজসেবক, সৌদি আরব প্রবাসী জনাব মো. ইলিয়াস খান। অনুষ্ঠানে মাদরাসার শিক্ষার্থীদের দ্বিতীয় সাময়িক পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশ করা হয়। কৃতিত্বপূর্ণ ফলাফল অর্জনকারী শিক্ষার্থীদের হাতে অতিথিরা পুরস্কার তুলে দেন।  অনুষ্ঠানে মাদরাসার শিক্ষক-শিক্ষার্থী, অভিভাবক, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ ও এলাকাবাসী উপস্থিত ছিলেন। বক্তারা বলেন, শিক্ষার পাশাপাশি নৈতিকতা ও ধর্মীয় মূল্যবোধসম্পন্ন একটি প্রজন্ম গড়ে তুলতে নূরানী মাদরাসাগুলোর ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। শিশুদের সুশিক্ষায় শিক্ষিত করতে শিক্ষক, অভিভাবক ও সমাজের সবাইকে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে।

আজকের সংবাদ, ফরিদগঞ্জ

ফরিদগঞ্জে তরুণীকে জোরপূর্বক গাড়িতে তুলে নেওয়ার অভিযোগ 

নিজস্ব প্রতিবেদক : চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জ উপজেলার ৪নং ইউনিয়নের কামতা এলাকায় সুমাইয়া নামে এক তরুণীকে জোরপূর্বক গাড়িতে তুলে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে।  বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) সকাল আনুমানিক ১০টার দিকে কামতা বাজারের প্রায় ১০০ গজ উত্তর পাশে এ ঘটনা ঘটে বলে পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে। নিখোঁজ সুমাইয়া কামতা গ্রামের মোল্লা বাড়ির হাবিবের মেয়ে। তার মায়ের নাম শান্তি আক্তার। পরিবারের অভিযোগ, সকালে বাড়ির পাশের এলাকায় অবস্থানকালে সাগর নামে এক ব্যক্তি সুমাইয়াকে জোরপূর্বক একটি গাড়িতে তুলে নিয়ে যান। এরপর থেকে তার কোনো সন্ধান পাওয়া যাচ্ছে না। পরিবারের সদস্যরা সম্ভাব্য বিভিন্ন স্থানে খোঁজ করেও সুমাইয়ার সন্ধান না পাওয়ায় উদ্বেগের মধ্যে রয়েছেন। পরিবারের পক্ষ থেকে আরও অভিযোগ করা হয়েছে, সাগর মাদক কারবারের সঙ্গে জড়িত। তবে এ অভিযোগের সত্যতা এবং তরুণীকে জোরপূর্বক নিয়ে যাওয়ার বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। সুমাইয়ার সন্ধান ও ঘটনার প্রকৃত কারণ জানতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সহযোগিতা কামনা করেছে পরিবার।

আজকের সংবাদ, আন্তর্জাতিক, তথ্য প্রযুক্তি, প্রবাস

বার্লিনে Youth Action Summit 2027: বিশ্বজুড়ে তরুণ নেতৃত্বের মিলনমেলা 

মুনির হোসাইন জুয়েল, জার্মানি :  বিশ্বের বিভিন্ন দেশের তরুণ নেতা, শিক্ষার্থী, তরুণ পেশাজীবী, উদ্যোক্তা ও পরিবর্তনকামী তরুণদের অংশগ্রহণে জার্মানির রাজধানী বার্লিনে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে Youth Action Summit (YAS) 2027।  Centre for Diplomatic Advancement (CDA) আয়োজিত চার দিনব্যাপী এই আন্তর্জাতিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে ১১ থেকে ১৪ জানুয়ারি ২০২৭ সাল। আয়োজকদের তথ্য অনুযায়ী ১২৫টিরও বেশি দেশের ২৫০ জনের বেশি তরুণ এই সম্মেলনে অংশ নেওয়ার সুযোগ পাবেন। সম্মেলনের মূল লক্ষ্য হলো তরুণদের নেতৃত্বের দক্ষতা বৃদ্ধি, আন্তর্জাতিক নীতি ও কূটনীতি সম্পর্কে বাস্তব জ্ঞান অর্জনের সুযোগ তৈরি এবং বিশ্বের বিভিন্ন দেশের তরুণদের মধ্যে পারস্পরিক যোগাযোগ ও সহযোগিতা গড়ে তোলা। বার্লিনে অনুষ্ঠিত এই সম্মেলনে নেতৃত্ব, আলোচনা, নেগোশিয়েশন, পাবলিক স্পিকিং ও নীতিনির্ধারণ বিষয়ে বিভিন্ন কর্মশালা ও প্রশিক্ষণের আয়োজন থাকবে। আলোচনায় থাকবে বৈশ্বিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়: YAS 2027-এ জলবায়ু পরিবর্তন ও জলবায়ু কার্যক্রম, ডিজিটাল গভর্ন্যান্স, শান্তি প্রতিষ্ঠা এবং জাতিসংঘের Sustainable Development Goals (SDGs)-সহ বিভিন্ন বৈশ্বিক ইস্যু নিয়ে বিশেষজ্ঞ প্যানেল আলোচনা ও নীতিগত সংলাপ অনুষ্ঠিত হবে। পাশাপাশি অংশগ্রহণকারীরা আন্তর্জাতিক প্রতিনিধিদের সঙ্গে দলভিত্তিক প্রকল্প ও বাস্তবভিত্তিক কার্যক্রমে যুক্ত হওয়ার সুযোগ পাবেন। সম্মেলনের অংশ হিসেবে বার্লিনের গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক স্থান পরিদর্শন, সাংস্কৃতিক কার্যক্রম, নেটওয়ার্কিং সেশন এবং গালা ডিনারেরও আয়োজন থাকবে। এতে ১২৫টিরও বেশি দেশের তরুণদের সঙ্গে সরাসরি আন্তর্জাতিক যোগাযোগ তৈরির সুযোগ পাওয়া যাবে। কারা আবেদন করতে পারবেন?: আয়োজকদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী ১৬ থেকে ৪৫ বছর বয়সী যেকোনো দেশের নাগরিক আবেদন করতে পারবেন। শিক্ষাগত যোগ্যতার ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট কোনো বাধ্যতামূলক ডিগ্রি বা নির্দিষ্ট শিক্ষাগত ব্যাকগ্রাউন্ডের প্রয়োজন নেই। শিক্ষার্থী, তরুণ পেশাজীবী, উদ্যোক্তা, সামাজিক কর্মী ও কমিউনিটি লিডারসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রের আগ্রহী তরুণরা আবেদন করতে পারবেন। তবে ইংরেজিতে কাজ করার মতো দক্ষতা প্রয়োজন এবং কোনো ন্যূনতম কাজের অভিজ্ঞতা বাধ্যতামূলক নয়। ৫০টি Fully Funded Scholarship: YAS 2027-এর অন্যতম আকর্ষণ হলো এর স্কলারশিপ ব্যবস্থা। আয়োজকদের তথ্য অনুযায়ী মোট ২৫০টি স্কলারশিপ/সিটের মধ্যে ৫০টি Fully Funded Scholarship, ১০০টি Partially Funded Scholarship এবং ১০০টি Forum Access Pass রয়েছে। একজন আবেদনকারী একটি আবেদন করেই তিনটি ক্যাটাগরির জন্য বিবেচিত হতে পারেন। Fully Funded Scholarship-এর জন্য নির্বাচিত অংশগ্রহণকারীরা রাউন্ড-ট্রিপ বিমান ভ্রমণ সহায়তা, শেয়ার্ড চার-তারকা আবাসন, ভিসা সহায়তা ও অফিসিয়াল আমন্ত্রণপত্র, ভিসা ফি ফেরত, ভিসা প্রক্রিয়ায় সহায়তা, সম্মেলনের সেশন ও কর্মশালায় অংশগ্রহণ, খাবার, নেটওয়ার্কিং কার্যক্রম এবং অফিসিয়াল সার্টিফিকেটসহ বিভিন্ন সুবিধা পাবেন। কেন তরুণদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ?: আন্তর্জাতিক পরিসরে নিজের নেতৃত্বের দক্ষতা প্রদর্শন, বিভিন্ন দেশের তরুণদের সঙ্গে নেটওয়ার্ক তৈরি, আন্তর্জাতিক নীতি ও কূটনীতি সম্পর্কে বাস্তব অভিজ্ঞতা অর্জন এবং ভবিষ্যৎ শিক্ষা ও ক্যারিয়ারের জন্য আন্তর্জাতিক যোগাযোগ তৈরির দিক থেকে এই সম্মেলনটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ হতে পারে। বিশেষ করে যারা আন্তর্জাতিক সম্পর্ক, কূটনীতি, নেতৃত্ব, সামাজিক উন্নয়ন, জলবায়ু পরিবর্তন, প্রযুক্তি, উদ্যোক্তা কার্যক্রম ও নীতিনির্ধারণ নিয়ে কাজ করতে বা ভবিষ্যতে ক্যারিয়ার গড়তে চান, তাদের জন্য YAS 2027 একটি উল্লেখযোগ্য আন্তর্জাতিক প্ল্যাটফর্ম হতে পারে। আবেদনের শেষ সময়: Youth Action Summit 2027-এর জন্য আবেদনের শেষ তারিখ ৫ অক্টোবর ২০২৬। সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে ১১–১৪ জানুয়ারি ২০২৭, বার্লিন, জার্মানিতে। আগ্রহী প্রার্থীদের আবেদন করার আগে আয়োজক CDA-এর অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে যোগ্যতা, স্কলারশিপের শর্ত, ফি এবং সুবিধাগুলো ভালোভাবে যাচাই করে আবেদন করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। অফিসিয়াল তথ্য ও আবেদন: [Youth Action Summit 2027 – CDA](https://thecda.co/youth-action-summit-2027-berlin/?utm_source=chatgpt.com)

আজকের সংবাদ, চাঁদপুর, প্রবাস

সাউথ আফ্রিকায় সন্ত্রাসীদের গুলিতে চাঁদপুরের একজন নিহত

ফরিদগঞ্জ টাইমস ডেস্ক : সাউথ আফ্রিকায় সন্ত্রাসীদের গুলিতে নিহত হয়েছেন চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলার ফতেপুর পূর্ব ইউনিয়নের সিপাইকান্দি গ্রামের মো. জামাল মিয়া । গত ৯ সেপ্টেম্বর দিবাগত রাতে সাউথ আফ্রিকার সময় আনুমানিক রাত সাড়ে ১১টার দিকে এ মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। ​নিহত জামাল মিয়া জীবিকার তাগিদে ৪-৫ বছর পূর্বে দক্ষিণ আফ্রিকায় পাড়ি জমান। সেখানে তিনি কষ্টে অর্জিত অর্থে একটি ভ্যারাইটিজ সুপার শপের গড়ে তোলেন এবং নিজেই একজন কর্মচারী রেখে ব্যবসা পরিচালনা করে আসছিলেন। ঘটনার রাতে একদল সশস্ত্র সন্ত্রাসী তার দোকানে হামলা চালায়। সন্ত্রাসীদের এলোপাতাড়ি গুলিতে ঘটনাস্থলেই জামাল মিয়া নিহত হন। এ সময় দোকানে থাকা অপর এক কর্মচারী গুরুতর আহত হয়ে বর্তমানে স্থানীয় একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। নিহতের পরিবার সূত্রে জানা যায়, স্ত্রী ও তিন সন্তান এবং বাবা-মা রয়েছেন  জামাল মিয়ার সংসারে। উপার্জনক্ষম একমাত্র ব্যক্তিকে হারিয়ে নিহতের পরিবার এখন সম্পূর্ণ নিঃস্ব। নিহতের বাবা ওয়েজ আর্নার্স প্রবাসী কল্যাণ বোর্ড ও প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের প্রতি আকুল আবেদন জানিয়ে বলেন, সরকারের পক্ষ থেকে যেন দ্রুত তার ছেলের মরদেহ বাংলাদেশে এনে নিজ গ্রাম সিপাইকান্দিতে দাফন করার ব্যবস্থা করা হয়। পাশাপাশি শোকসন্তপ্ত পরিবারটির আর্থিক ক্ষতিপূরণ এবং দক্ষিণ আফ্রিকার প্রচলিত আইনের মাধ্যমে জড়িত সন্ত্রাসীদের দ্রুত গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন তারা।

Scroll to Top