২৯শে অক্টোবর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

Author name: Nazrul Islam

আজকের সংবাদ, চাঁদপুর

হাজীগঞ্জে ২০ পিস ইয়াবাসহ বাবা-ছেলে আটক

নিজস্ব প্রতিবেদক : চাঁদপুরের হাজীগঞ্জে ২০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেটসহ বাবা-ছেলেকে আটক করেছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর। বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) উপজেলার রাজারগাঁও ইউনিয়নের পশ্চিম রাজারগাঁও গ্রামের খান বাড়িতে অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়।  আটকরা হলেন– পশ্চিম রাজারগাঁও গ্রামের খান বাড়ির মো. কাউছার খান (৪৩) ও তার ছেলে মো. পারভেজ খান (২৫)।  মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে চাঁদপুর জেলা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের একটি দল বুধবার পশ্চিম রাজারগাঁও গ্রামের খান বাড়িতে মো. কাউছার খানের বসতঘরে অভিযান পরিচালনা করে। এ সময় বসতঘরের একটি কক্ষ থেকে ২০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়। পরে ইয়াবাসহ কাউছার খান ও তার ছেলে পারভেজ খানকে আটক করা হয়। আটকের পর তাদের হাজীগঞ্জ থানায় সোপর্দ করা হয়। এ ঘটনায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর, চাঁদপুর জেলা কার্যালয়ের উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. সোহেল রানা বাদী হয়ে হাজীগঞ্জ থানায় মামলা দায়ের করেন। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর, জেলা কার্যালয়, চাঁদপুরের উপ-পরিদর্শক মো. সোহেল রানা বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, মাদকের বিরুদ্ধে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।

আজকের সংবাদ, ফরিদগঞ্জ

ফরিদগঞ্জে প্রান্তিক পেশাজীবীদের ১০ দিনব্যাপী সফটস্কিল প্রশিক্ষণের সমাপ্তি

নিজস্ব প্রতিবেদক : ফরিদগঞ্জ উপজেলায় ‘প্রান্তিক পেশাজীবী জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়ন প্রকল্প (২য় পর্যায়)’-এর আওতায় প্রান্তিক পেশাজীবীদের ১০ দিনব্যাপী পেশাভিত্তিক সফটস্কিল প্রশিক্ষণ শেষ হয়েছে। ১৪–২৩ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের আয়োজনে এ প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত হয়। বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) প্রশিক্ষণের সমাপনী অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে এর আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি হয়। কোর্স পরিচালক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সেটু কুমার বড়ুয়া এই আয়োজনের সভাপতিত্ব করেন। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মুহাম্মদ মাহমুদুল হাসান।  সমাপনী অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন ‘বাংলাদেশের প্রান্তিক পেশাজীবী জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়ন (২য় ফেইজ)’ প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক মো. আফজাল হোসেন, জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের উপপরিচালক মো. নজরুল ইসলাম, সহকারী পরিচালক রুহুল আমিন বাশির ও সহকারী পরিচালক শফিউদ্দিন মিতুল। এছাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (তদন্ত) আল আমিন তালুকদার, উপজেলা প্রকৌশলী সৈয়দ মেহেদি হাসান, উপজেলা আইসিটি কর্মকর্তা নাজমুল হোসেন, উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা বেলায়েত হোসেন, ফরিদগঞ্জ প্রেসক্লাবের সভাপতি আবু হেনা মোস্তফা কামাল এবং পৌর নির্বাহী কর্মকর্তা শাহ সুফিয়ান অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন। বক্তারা বলেন, প্রাচীনকাল থেকে বংশপরম্পরায় গ্রামবাংলায় গড়ে ওঠা মৃৎশিল্প, কামার, বাঁশ-বেত ও কাঁসা-পিতলের পণ্য তৈরি, মুচিসহ বিভিন্ন ঐতিহ্যবাহী পেশা বর্তমানে নানা কারণে বিলুপ্তির ঝুঁকিতে রয়েছে। এসব পেশার সঙ্গে যুক্ত অনেক মানুষের শিক্ষা ও জীবনযাত্রার মানও তুলনামূলকভাবে পিছিয়ে রয়েছে। আধুনিকতার প্রভাব ও বাজারব্যবস্থার পরিবর্তনের কারণে ঐতিহ্যবাহী এসব পেশার অস্তিত্বও চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে। তারা বলেন, পরিবেশবান্ধব ও ঐতিহ্যবাহী প্রান্তিক পেশাজীবীদের পণ্যকে আধুনিক ও টেকসই করার পাশাপাশি তাদের জীবনমান উন্নয়নের লক্ষ্যে সমাজসেবা অধিদপ্তর ২০১৭ সাল থেকে এ প্রকল্প বাস্তবায়ন করে আসছে। বর্তমানে প্রকল্পটির দ্বিতীয় পর্যায়ের কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। বক্তারা আরও বলেন, চলমান প্রকল্পের আওতায় কামার, কুমার, নাপিত, বাঁশ-বেতের পণ্য প্রস্তুতকারক, কাঁসা-পিতলের সামগ্রী প্রস্তুতকারক, জুতা মেরামতকারী (মুচি), বাদ্যযন্ত্র ও লোকজযন্ত্র প্রস্তুতকারক, নকশিকাঁথা এবং শীতলপাটি-শতরঞ্জি তৈরিসহ বিভিন্ন সনাতন পেশার সঙ্গে যুক্ত জনগোষ্ঠীকে প্রশিক্ষণ ও আর্থিক সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। এ ধরনের প্রশিক্ষণের মাধ্যমে প্রান্তিক পেশাজীবীদের দক্ষতা বাড়ানোর পাশাপাশি তাদের উৎপাদিত পণ্য ও সেবার মানোন্নয়ন এবং পেশার আধুনিকায়নের সুযোগ তৈরি হচ্ছে। এর ফলে তাদের অর্থনৈতিক ও সামাজিক সক্ষমতা বৃদ্ধির পাশাপাশি নতুন কাজ ও আত্মকর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি এবং ঐতিহ্যবাহী পেশাগুলো টিকিয়ে রাখতে সহায়তা করবে বলে জানান বক্তারা। 

আজকের সংবাদ, চাঁদপুর, জনদুর্ভোগ

বৈদ্যুতিক গোলযোগে আগুনে পুড়ল ৫ পরিবারের ঘর—ক্ষতি ৪০ লাখ

চাঁদপুর প্রতিবেদক : চাঁদপুরের মতলব দক্ষিণ উপজেলায় বৈদ্যুতিক গোলযোগ থেকে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ৫ পরিবারের বসতঘর ও রান্নাঘরসহ বিভিন্ন মালামাল পুড়ে গেছে। এ ঘটনায় দুইজন আহত হয়েছেন। অগ্নিকাণ্ডে প্রায় ৪০ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। তবে আগুনের মধ্যেও প্রায় ১৫ লাখ টাকার মালামাল উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) সকালে উপজেলার খিদিরপুর এলাকার মাছুয়াখালে এ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত ৫ পরিবারের সদস্যরা হলেন– মো. জালাল জমদ্দার, মো. সেলিম জমদ্দার, সুফিয়ান জমদ্দার, কামরুল জমদ্দার ও মানিক মিয়া। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বুধবার সকালে হঠাৎ মো. জালাল জমদ্দারের বসতঘর থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়। মুহূর্তের মধ্যেই আগুন পাশের বসতঘর ও রান্নাঘরগুলোতে ছড়িয়ে পড়ে। আগুনের তীব্রতা বাড়তে থাকায় স্থানীয়রা ছুটে এসে আগুন নেভানোর চেষ্টা করেন। পরে ফায়ার সার্ভিসে খবর দেওয়া হলে মতলব দক্ষিণ ফায়ার সার্ভিসের একটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে স্থানীয়দের সহায়তায় প্রায় এক ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। অগ্নিকাণ্ডে পাঁচটি বসতঘর ও পাঁচটি রান্নাঘর পুড়ে গেছে। ঘরগুলোতে থাকা আসবাবপত্র, স্বর্ণালংকার, পোশাকসহ বিভিন্ন মালামাল আগুনে পুড়ে নষ্ট হয়েছে। এ ঘটনায় দুইজন আহত হয়েছেন। ক্ষতিগ্রস্ত মো. জালাল জমদ্দার বলেন, হঠাৎ আগুনে আমাদের ঘরগুলো পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। ৫টি বসতঘর, ৫টি রান্নাঘর, স্বর্ণালংকারসহ ঘরে থাকা সব মালামাল পুড়ে গেছে। আমাদের প্রায় ৪০ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে। পরনের কাপড় ছাড়া আর কিছুই নেই। এখন কোথায় থাকব, সেটাও জানি না। মতলব দক্ষিণ ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন অফিসার মেহেদী হাসান বলেন, খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ফায়ার সার্ভিসের একটি ইউনিট ঘটনাস্থলে যায়। প্রায় এক ঘণ্টা কাজ করে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা হয়। অগ্নিকাণ্ডে ৫টি পরিবারের বসতঘর ও রান্নাঘর পুড়ে গেছে এবং দুইজন আহত হয়েছেন। প্রাথমিকভাবে বৈদ্যুতিক গোলযোগ থেকেই আগুনের সূত্রপাত হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

আজকের সংবাদ, চাঁদপুর, প্রবাস, বিশেষ সংবাদ

১৪ বছর ধরে সৌদি কারাগারে চাঁদপুরের শহিদুল্লাহ, মুক্তির অপেক্ষায় পরিবার 

চাঁদপুর প্রতিবেদক : জীবিকার তাগিদে ২০০৮ সালে সৌদি আরবে পাড়ি জমান চাঁদপুরের কচুয়া উপজেলার তফিরা গ্রামের সহজ-সরল প্রকৃতির মো. শহিদুল্লাহ। চার বছর পর ছুটি কাটিয়ে পুনরায় কর্মস্থলে যাওয়ার পর থেকেই শুরু হয় তার জীবনের সবচেয়ে বড় ট্র্যাজেডি। দীর্ঘ ১৪ বছর ধরে তিনি সৌদি আরবের কারাগারে বন্দি জীবন কাটাচ্ছেন। মাথার ওপর ঝুলে আছে মৃত্যুদণ্ডের খড়্গ। প্রিয় মানুষটির দীর্ঘ অনুপস্থিতি ও ফাঁসির আশঙ্কায় চরম মানবেতর জীবনযাপন করছে তার পরিবার।  ​পরিবার সূত্রে জানা যায়, ২০১৩ সালের ২৪ জুলাই থেকে সৌদি আরবের দাম্মাম কারাগারে বন্দি রয়েছেন শহিদুল্লাহ। বাংলাদেশ দূতাবাস, রিয়াদের ২০২৩ সালের ২৪ জানুয়ারির একটি চিঠি থেকে জানা যায়, এক সৌদি নাগরিককে (জাকী আল আশুর) হত্যার অভিযোগে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। বিচার প্রক্রিয়ার পর তার বিরুদ্ধে মৃত্যুদণ্ডের রায় আসে এবং বর্তমানে রায় কার্যকরের অপেক্ষায় তিনি দাম্মাম কারাগারে আটক রয়েছেন। ​শহিদুল্লাহর পরিবারে রয়েছেন তার ৭৫ বছর বয়সি বৃদ্ধা মা খুশিদা বেগম, স্ত্রী পেয়ারা বেগম, ছেলে জিহাদ (২২) এবং মেয়ে প্রিয়া আক্তার (১৭)। ১৪ বছর ধরে পরিবারটির জীবনে কোনো স্বস্তির খবর আসেনি। বৃদ্ধা মা প্রতিদিন ছেলের শোকে চোখের জল ফেলছেন।  ​কান্নাজড়িত কণ্ঠে শহিদুল্লাহ স্ত্রী পেয়ারা বেগম বলেন, আমার স্বামী যখন কারাগারে যান, তখন ছেলের বয়স ছিল মাত্র ৭ বছর। তার গ্রেফতারের পর থেকেই সংসারের অভাব-অনটন শুরু হয়। বাধ্য হয়ে মাত্র ১৪ বছর বয়সে পরিবারের ভরণপোষণের দায়িত্ব কাঁধে তুলে নিতে হয় আমার ছেলেকে। শৈশব-কৈশোরের আনন্দ হারিয়ে সে কঠিন বাস্তবতার সঙ্গে লড়াই করেছে। সরকারের কাছে আমার স্বামীর প্রাণভিক্ষা চাই, আমার স্বামীকে ফিরিয়ে দিন। ​ছেলের কষ্টের কথা বলতে গিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন বৃদ্ধা মা খুশিদা বেগমও। তিনি বলেন, ছেলের জন্য কাঁদতে কাঁদতে দুই চোখ প্রায় অন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়েছে। আমি বৃদ্ধ হয়ে গেছি, মৃত্যুর আগে আমার ছেলেকে একনজর দেখতে চাই। আমার বুকে ফিরিয়ে দাও শহিদুল্লাহকে।  ​শারীরিক ও মানসিকভাবে ভেঙে পড়া ছেলে জিহাদ বলেন, ১৪ বছর ধরে বাবা কারাগারে। আম্মা অনেক কষ্ট করে সংসার চালাচ্ছেন। আমি অনেক ছোট বয়সেই কাজে নামতে বাধ্য হয়েছি। এখন প্রায়ই অসুস্থ হয়ে পড়ি, আগের মতো কাজও করতে পারি না। আমি সরকারের কাছে বিনীত অনুরোধ করছি, আমার বাবাকে যেন ফিরিয়ে দেওয়া হয়। আমার বাবা সম্পূর্ণ নির্দোষ, তাঁকে অন্যায়ভাবে ফাঁসানো হয়েছে।  ​প্রতিবেশীরা জানান, শহিদুল্লাহ অত্যন্ত সহজ-সরল মানুষ ছিলেন। পড়ালেখা না জানা এই প্রবাসীকে পাকিস্তানি এক ব্যক্তির সঙ্গে জড়িয়ে মিথ্যা অভিযোগে আইনি ফাঁদে ফেলা হয় এবং দীর্ঘদিন ধরে তার ওপর নির্যাতন চালানো হয়। ​সৌদি আরবের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কূটনৈতিক আলোচনার মাধ্যমে শহিদুল্লাহর বিষয়টি মানবিক দৃষ্টিতে বিবেচনা করতে এবং তাকে প্রয়োজনীয় আইনি সহায়তা দিয়ে দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনতে বর্তমান সরকার ও প্রবাস কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের জোরালো হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তার পরিবার ও স্থানীয় এলাকাবাসী। 

আজকের সংবাদ, ফরিদগঞ্জ, বিশেষ সংবাদ

বিদায়বেলায় ইউএনও সেটু কুমার বড়ুয়াকে ফরিদগঞ্জ লেখক ফোরামের সম্মানসূচক মানপত্র

তারেক রহমান তারু : চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জ উপজেলা থেকে বদলি হওয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) সেটু কুমার বড়ুয়াকে সম্মানসূচক মানপত্র প্রদান করেছে ফরিদগঞ্জ লেখক ফোরাম। তাঁর দায়িত্বকালীন জনবান্ধব ও সেবামূলক কর্মকাণ্ডের প্রতি শ্রদ্ধা এবং ফরিদগঞ্জের মানুষের পক্ষ থেকে কৃতজ্ঞতা জানাতেই এ সম্মাননা প্রদান করা হয়। সাহিত্য, সংস্কৃতি, সামাজিক সচেতনতা ও স্থানীয় মানুষের বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে কাজ করে আসছে ফরিদগঞ্জ লেখক ফোরাম। লেখক, কবি, সাংবাদিক, সংস্কৃতি ও ক্রীড়াপ্রেমীদের সমন্বয়ে গড়ে ওঠা এ সংগঠনটি দীর্ঘদিন ধরে সাহিত্যচর্চার পাশাপাশি সামাজিক নানা বিষয়ে জনসচেতনতা তৈরিতে ভূমিকা রেখে আসছে। জলাবদ্ধতা নিরসনে নদী-খাল দখল বন্ধ ও পানিপ্রবাহ স্বাভাবিক রাখার দাবিতে স্মারকলিপি প্রদানসহ বিভিন্ন সামাজিক ইস্যুতেও সংগঠনটির সক্রিয়তার নজির রয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) সকালে ফোরামের পক্ষ থেকে ইউএনও সেটু কুমার বড়ুয়ার হাতে সম্মানসূচক মানপত্র তুলে দেওয়া হয়। এ সময় তাঁকে বিদায়ী শুভেচ্ছা জানানোকালে ফোরামের সদস্যরা বলেন, একজন প্রশাসকের দায়িত্ব শুধু দাপ্তরিক কর্মকাণ্ডের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; মানুষের পাশে দাঁড়ানো, জনদুর্ভোগকে গুরুত্ব দেওয়া এবং সমাজের ইতিবাচক উদ্যোগগুলোকে এগিয়ে নেওয়াই একজন জনবান্ধব কর্মকর্তার বড় পরিচয়। তাদের ভাষায়, সেটু কুমার বড়ুয়ার কর্মময় সময়ের নানা উদ্যোগ ফরিদগঞ্জবাসীর স্মৃতিতে দীর্ঘদিন থাকবে। সেটু কুমার বড়ুয়া ৩৬তম বিসিএস প্রশাসন ক্যাডারের কর্মকর্তা। ২০২৫ সালের অক্টোবরে তিনি ফরিদগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। ফরিদগঞ্জে দায়িত্ব পালনকালে বিশেষ করে প্রাথমিক শিক্ষার মানোন্নয়ন, বিদ্যালয় ব্যবস্থাপনা ও শিক্ষার্থীবান্ধব বিভিন্ন কার্যক্রমে তাঁর সক্রিয় ভূমিকার কথা উঠে এসেছে। এসব কর্মকাণ্ডের স্বীকৃতি হিসেবে ২০২৬ সালের প্রাথমিক শিক্ষা পদক কার্যক্রমে তিনি  চাঁদপুর জেলার শ্রেষ্ঠ উপজেলা নির্বাহী অফিসার নির্বাচিত হন। এছাড়া কৃষি ও কৃষকের সহায়তায় সরকারি বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন, সামাজিক সচেতনতা সৃষ্টি এবং মাদকবিরোধী কার্যক্রমেও তাঁর সম্পৃক্ততার তথ্য প্রকাশিত হয়েছে। কৃষি পুনর্বাসন কর্মসূচির আওতায় কৃষকদের মাঝে বীজ, সার ও বিভিন্ন কৃষি উপকরণ বিতরণ কার্যক্রমেও তিনি উপস্থিত ছিলেন। দায়িত্ব বদল প্রশাসনের স্বাভাবিক প্রক্রিয়া হলেও একজন কর্মকর্তার সঙ্গে একটি এলাকার মানুষের যে মানবিক সম্পর্ক তৈরি হয়, বিদায়ের মুহূর্তে তারই বহিঃপ্রকাশ ঘটে। ফরিদগঞ্জ লেখক ফোরামের মানপত্র প্রদান ছিল তেমনই এক শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতার প্রকাশ। ফরিদগঞ্জের মাটি ও মানুষের সঙ্গে তাঁর কর্মসম্পর্কের স্মৃতি তুলে ধরে লেখক ফোরামের পক্ষ থেকে আশা প্রকাশ করা হয়—নতুন কর্মস্থলেও সেটু কুমার বড়ুয়া সততা, মানবিকতা ও কর্মনিষ্ঠার মাধ্যমে মানুষের কল্যাণে কাজ করে যাবেন। বিদায়ের এই মুহূর্তে মানপত্রের পাতায় তাই শুধু একজন কর্মকর্তার নাম নয়, লেখা রইল একটি সময়ের স্মৃতি— কর্মস্থল বদলায়, কিন্তু মানুষের ভালোবাসা ও ভালো কাজের স্মৃতি বদলায় না।  ইউএনওকে মানপত্র প্রদানকালে উপস্থিত ছিলেন ফরিদগঞ্জ লেখক ফোরামের সাধারণ সম্পাদক তারেক রহমান তারু, দপ্তর সম্পাদক টিটু হোসেন, সদস্য মো. ইয়াছিন পালোয়ান।

আজকের সংবাদ, চাঁদপুর, জনদুর্ভোগ, মতামত

হাজীগঞ্জের চার লেন সড়কে বিদ্যুতের খুঁটি: উন্নয়ন নাকি ভবিষ্যৎ ঝুঁকি?

ইলিয়াস বকুল :  আচ্ছা, হচ্ছেটা কী এসব? চাঁদপুর জেলার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যকেন্দ্র হাজীগঞ্জ। চাঁদপুর-চট্টগ্রাম ভায়া কুমিল্লা মহাসড়কের গুরুত্বপূর্ণ এই শহরটি প্রতিদিন হাজার হাজার যাত্রীবাহী ও পণ্যবাহী যানবাহনের চলাচলে ব্যস্ত থাকে। রাজধানী ঢাকার সঙ্গে দেশের দক্ষিণাঞ্চলের বিভিন্ন জেলার সড়ক যোগাযোগের ক্ষেত্রেও হাজীগঞ্জের রয়েছে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা। এমন একটি ব্যস্ত ও গুরুত্বপূর্ণ শহরের প্রধান সড়ক যখন চার লেনে উন্নীত হচ্ছে, তখন স্বাভাবিকভাবেই মানুষের প্রত্যাশা—সড়কটি হবে নিরাপদ, টেকসই ও পরিকল্পিত। কিন্তু সড়কের আরসিসি ঢালাইয়ের সঙ্গে রাস্তার ওপর দাঁড়িয়ে থাকা বিদ্যুতের খুঁটির যে অদ্ভুত সহাবস্থান দেখা যাচ্ছে, তা নিয়ে প্রশ্ন ওঠা স্বাভাবিক। একটি ব্যস্ত চার লেন সড়কের চলাচলের জায়গার মধ্যে বিদ্যুতের খুঁটি রেখে সড়কের কাজ সম্পন্ন করা কতটা নিরাপদ ও প্রকৌশলসম্মত—এ প্রশ্নের উত্তর সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছ থেকেই আসা প্রয়োজন। রাস্তার ওপর বা একেবারে চলাচলের পরিসরের মধ্যে থাকা এসব বিদ্যুতের খুঁটি ভবিষ্যতে মারাত্মক দুর্ঘটনার কারণ হতে পারে। একই সঙ্গে সড়ক রক্ষণাবেক্ষণ, সংস্কার কিংবা পুনঃনির্মাণের সময়ও এসব খুঁটি বড় ধরনের প্রতিবন্ধকতা তৈরি করতে পারে। ফলে এখনই বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা প্রয়োজন। নগরায়ণ মানে শুধু রাস্তা প্রশস্ত করা কিংবা আরসিসি ঢালাই করা নয়; এর সঙ্গে নিরাপদ সড়কব্যবস্থা, বিদ্যুৎ অবকাঠামোর সঠিক অবস্থান, পথচারী ও যানবাহনের নির্বিঘ্ন চলাচল এবং ভবিষ্যৎ রক্ষণাবেক্ষণের বিষয়গুলোও সমান গুরুত্বপূর্ণ। তাই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি অনুরোধ– সড়কের কাজ সম্পন্ন হওয়ার আগেই বিষয়টি সরেজমিনে পর্যালোচনা করা হোক। প্রয়োজন অনুযায়ী রাস্তার চলাচলের অংশ থেকে বিদ্যুতের খুঁটিগুলো নিরাপদ দূরত্বে সরিয়ে নেওয়া হোক। এতে একদিকে যেমন দুর্ঘটনার ঝুঁকি কমবে, অন্যদিকে ভবিষ্যতে সড়ক সংস্কার ও রক্ষণাবেক্ষণের কাজও সহজ হবে। এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার জনাব মো. ইবনে আল জায়েদ হোসেন, চাঁদপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১-এর জেনারেল ম্যানেজার, হাজীগঞ্জ বাজার ব্যবসায়ী সমিতির সদয় দৃষ্টি কামনা করছি। আজকের এই অসংগতিকে যদি এখনই পরিকল্পিতভাবে সমাধান করা না হয়, তাহলে ভবিষ্যতে হাজীগঞ্জবাসী হয়তো একটি উন্নত চার লেন সড়কের বদলে এমন এক ‘মরণফাঁদ’ দেখতে বাধ্য হবে, যা উন্নয়নের উদ্দেশ্যকেই প্রশ্নবিদ্ধ করবে। উন্নয়ন হোক; তবে তা হোক নিরাপদ, পরিকল্পিত ও ভবিষ্যৎমুখী।

আজকের সংবাদ, খেলাধুলা, ফরিদগঞ্জ

ফরিদগঞ্জের মাঠে যাদের ধারাবিবরণীর কণ্ঠে জমে ওঠে খেলা

টিটু হোসেন :  চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জে খেলাধুলার মাঠ মানেই উত্তেজনা, দর্শকদের উচ্ছ্বাস আর প্রিয় দলের জন্য মুহূর্তে মুহূর্তে উল্লাস। আর সেই উত্তেজনাকে আরও বাড়িয়ে দেন মাঠের জনপ্রিয় ধারাভাষ্যকাররা। তাদের সাবলীল উপস্থাপনা, প্রাণবন্ত কণ্ঠ ও তাৎক্ষণিক বর্ণনায় খেলার প্রতিটি মুহূর্ত হয়ে ওঠে আরও উপভোগ্য। ফরিদগঞ্জের বিভিন্ন মাঠে দীর্ঘদিন ধরে ধারাভাষ্য দিয়ে দর্শকদের মাতিয়ে আসছেন কয়েকজন পরিচিত কণ্ঠ। তাদের মধ্যে রয়েছেন আব্দুল্লাহ। যিনি ৮নং পাইকপাড়া এলাকার বাসিন্দা। খেলার মাঠে তার কণ্ঠে ম্যাচের গুরুত্বপূর্ণ সময়গুলো জীবন্ত হয়ে ওঠে। ধারাভাষ্যের মাধ্যমে তিনি দর্শকদের সঙ্গে তৈরি করেন দারুণ এক সংযোগ। তার বলিষ্ঠ কণ্ঠের জাদুতে জয় করেছেন অসংখ্য দর্শকের হৃদয়।  এ তালিকায় রয়েছেন গিয়াসউদ্দিন। যার বাড়ি ফরিদগঞ্জের কাছিয়াড়া গ্রামে। মাঠে তার স্বাভাবিক কণ্ঠের উপস্থাপনায় খেলার পরিস্থিতি দ্রুত তুলে ধরতে পারেন দর্শকদের মাঝে। তার এই দক্ষতা দর্শকদের মাঝে আলাদা আকর্ষণ তৈরি করে। আরেকজন রাছেল আহমেদ। পশ্চিম গাব্দেরগাঁও গ্রামের সন্তান—তিনিও ফরিদগঞ্জের মাঠে পরিচিত একটি কণ্ঠ। খেলার উত্তেজনাপূর্ণ মুহূর্তগুলোকে শব্দের মাধ্যমে দর্শকদের সামনে তুলে ধরার কারণে তার ধারাভাষ্য অনেকের কাছেই উপভোগ্য হয়ে উঠেছে। আরেকজন পরিচিত মার্জিত ধারাভাষ্যকার শামছুল ইসলাম রনি। রনির গ্রামের বাড়ি ১৬নং রূপসার সাহেবগঞ্জে। স্থানীয় মাঠের পাশাপাশি তিনি টেপ বল বিপিএল-এরও ধারাভাষ্য দিয়েছেন। যা তার ধারাভাষ্য জীবনের উল্লেখযোগ্য অভিজ্ঞতা। মাঠের পরিস্থিতি বুঝে কণ্ঠের ওঠানামা, খেলোয়াড়দের নিয়ে তাৎক্ষণিক বিশ্লেষণ এবং উত্তেজনাপূর্ণ মুহূর্তকে প্রাণবন্ত করে তোলার মাধ্যমে তিনি দর্শকদের মাঝে পরিচিতি তৈরি করেছেন। ‘গৃদকালিন্দিয়ার রনি’ হিসবেও তিনি অধিক পরিচিত।  একজন ভালো ধারাভাষ্যকার শুধু খেলার বর্ণনাই দেন না; তিনি মাঠের পরিবেশ, দর্শকদের আবেগ এবং ম্যাচের উত্তেজনাকে একসঙ্গে শব্দের মাধ্যমে তুলে ধরেন। ফুটবলের একটি গোল, ক্রিকেটের একটি ছক্কা, একটি দুর্দান্ত সেভ কিংবা শেষ মুহূর্তের রোমাঞ্চ—ধারাভাষ্যকারের কণ্ঠেই যেন সেই মুহূর্তগুলো আরও স্মরণীয় ও তরতাজা হয়ে ওঠে। ফরিদগঞ্জের বিভিন্ন প্রান্তে আয়োজিত ফুটবল, ক্রিকেট ও অন্যান্য ক্রীড়া প্রতিযোগিতায় স্থানীয় ধারাভাষ্যকারগণ নিয়মিত নিজেদের কণ্ঠের জাদু ছড়িয়ে দিচ্ছেন। তাদের কারণে মাঠের দর্শকদের আনন্দ যেমন বাড়ছে, তেমনি স্থানীয় ক্রীড়া আয়োজনও পাচ্ছে আরও পেশাদার ও প্রাণবন্ত আবহ। ফরিদগঞ্জের মাঠে খেলা চলবে, দর্শকদের উচ্ছ্বাস থাকবে– আর সেই উচ্ছ্বাসের সঙ্গে কণ্ঠ মিলিয়ে মাঠ মাতাবেন এসব জনপ্রিয় ধারাভাষ্যকার।

আজকের সংবাদ, চাঁদপুর

পূর্ব মদনায় নাত সন্ধ্যায় ‘কলরব’ ও ‘নবসুর’ শিল্পীগোষ্ঠীর মনোমুগ্ধকর পরিবেশনা

নিজস্ব প্রতিবেদক :  পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী সা. উদযাপন উপলক্ষে যুবসমাজের উদ্যোগে আয়োজিত ৩য় বার্ষিক নাত সন্ধ্যা ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান-২০২৬ অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) বিকাল থেকে ঐতিহ্যবাহী পূর্ব মদনা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে এই অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।  ইমাম হাসান হুসাইন (রা.) হিফজুল কোরআন মাদ্রাসার প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি আলহাজ্ব মো. সেলিম পাটওয়ারীর সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি ছিলেন ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশের সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট ও চাঁদপুর সমাজ উন্নয়ন সংস্থার সভাপতি এস. এ. এম মিজানুর রহমান খান।   বাদ মাগরিব ইমাম হাসান হুসাইন (রা.) হিফজুল কোরআন মাদ্রাসার হিফজ বিভাগের ছাত্র মো. জোবায়েদ পাটোয়ারীর কুরআনুল কারীম তিলাওয়াতের মধ্য দিয়ে মঞ্চে সুরের সুরভি ছড়িয়েছে ইসলামী সাংস্কৃতিক সংগঠন ‘নবসুর শিল্পীগোষ্ঠী’র শিল্পীরা।  ​এশার সালাতের পরপরই শুরু হয় আলোচনা সভা ও পুরস্কার বিতরণ। এসময় পবিত্র কুরআন থেকে তিলাওয়াত করেন ৯নং বালিয়া ইউনিয়নের ৯নং ওয়ার্ডের সম্ভাব্য মেম্বার পদপ্রার্থী জনাব জাকির খান।  ​স্বাগত বক্তব্য রাখেন নাত সন্ধ্যার আহ্বায়ক, বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর রিলিজিয়ন কাউন্সিলিং অফিসার মাওলানা মো. নজরুল ইসলাম।  ​এসময় আরও বক্তব্য রাখেন বিশেষ অতিথি চাঁদপুর জজ কোর্টের এপিপি এডভোকেট আব্দুল কাদের খান, বিশিষ্ট আলেম মুফতি ফরহাদ হোসেন, ১২নং চান্দ্রা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান প্রার্থী শাহজাহান খান, ৯নং বালিয়া ইউনিয়নের সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থী সুলতান মাহমুদ ও শাহরিয়ার তানিন, সাহিত্যিক ও গণমাধ্যমকর্মী কেএম নজরুল ইসলাম, অনুষ্ঠান সভাপতির পুত্র মো. সিয়াম পাটওয়ারী, সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতার প্রধান বিচারক মো. মামুনুর রশিদ খান, ইমাম হাসান হুসাইন রা. হিফজুল কুরআন মাদ্রাসার সেক্রেটারি মাওলানা মুজিবুর রহমান প্রমুখ।  ক্বিরাত, হামদ-নাত, উপস্থিত বক্তৃতায় সর্বমোট ১৮ জন প্রতিযোগীকে পুরস্কার প্রদান করা হয়।  আলোচনা সভা ও পুরস্কার বিতরণ শেষে জাতীয় পর্যায়ের সাংস্কৃতিক সংগঠন ‘কলরব শিল্পীগোষ্ঠী’ তাদের সুরের মোহনায় মুগ্ধ করেন উপস্থিত সকল দর্শক শ্রোতাদের।  বিশেষভাবে আলো ছড়িয়েছেন এসএ টিভি, এনটিভি ও কিডস ক্রিয়েশন টিভির জনপ্রিয় ক্ষুদে শিল্পী ঢাকার হিকমাহ ইন্টারন্যাশনাল স্কুলের মেধাবী শিক্ষার্থী নাজিয়া বিনতে নজরুল। তার সুললিত কণ্ঠের জাদুতে মোহিত হয়েছেন সকলে।  ৩য় বার্ষিক নাত সন্ধ্যা অনুষ্ঠানে সার্বিক সহযোগিতা করেছেন হাইটেক ইরেকশন এন্ড ইঞ্জিনিয়ারিং কোম্পানি প্রোপাইটার মোহাম্মদ খান, মালয়েশিয়া প্রবাসী মো. কবির গাজী, দেশী বয়েজ, রেলওয়ে হকার্স মার্কেট, চাঁদপুরের প্রোপাইটার আল আমীন ইবনে বাদশা, গাজী ট্রেডার্স, রাড়ীর পুল, চাঁদপুর সদরের প্রোপাইটার মো. মোস্তফা গাজী এবং স্বপ্নতরু সামাজিক সংগঠন। 

আজকের সংবাদ, ফরিদগঞ্জ

‎ফরিদগঞ্জে গৃহবধূর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার

নিজস্ব প্রতিবেদক : ‎চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জে লাকী আক্তার (২৮) নামে এক গৃহবধূর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) বিকেলে উপজেলার গুপ্টি পশ্চিম ইউনিয়নের লাউতলী গ্রাম থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। নিহত লাকী আক্তার ওই গ্রামের মো. নুরুন্নবীর স্ত্রী এবং দুই সন্তানের জননী। ‎নিহতের পরিবারের সদস্য ও স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, প্রায় ১০ বছর আগে লাকী আক্তারের সঙ্গে নুরুন্নবীর বিয়ে হয়। তাদের সংসারে দুই সন্তান রয়েছে। নুরুন্নবী বাকপ্রতিবন্ধী। পরিবারের দাবি, আর্থিক সংকটসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে সম্প্রতি তাদের সংসারে পারিবারিক কলহ চলছিল। ‎স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান বুলবুল আহমেদ বলেন, পারিবারিক বিরোধ নিয়ে লাকী আক্তারের লিখিত অভিযোগের পর ইউনিয়ন পরিষদ, থানা ও সংশ্লিষ্ট ইউপি সদস্যরা বিভিন্ন সময়ে বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা করেছেন। সর্বশেষ শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) রাতেও স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে কথা কাটাকাটি হয় বলে তিনি জানান। তিনি আরো বলেন, রোববার দুপুর ১২টার দিকে পরিবারের সদস্যরা সাংসারিক কাজে ব্যস্ত ছিলেন। এ সময় লাকী আক্তারের শিশু কন্যা ঘরের ভেতরে তার মাকে গলায় ফাঁস দেওয়া অবস্থায় দেখতে পায়। তার চিৎকারে প্রতিবেশীরা ছুটে এসে পুলিশকে খবর দেন। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে। ‎ফরিদগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ এরশাদ উল্যাহ বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, লাকী আক্তারের মরদেহ উদ্ধার করে থানায় রাখা হয়েছে। মৃত্যুর সঠিক কারণ জানতে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য চাঁদপুর জেলা সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হবে। ঘটনায় পরবর্তী আইনানুগ প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। 

আজকের সংবাদ, ফরিদগঞ্জ

ফরিদগঞ্জে মরা ডাকাতিয়ায় দেশীয় মাছের পোনা অবমুক্ত  

জসিম উদ্দিন :  ২০২৬-২৭ অর্থবছরের রাজস্ব খাতের আওতায় অভয়াশ্রম জলাশয়/বন্যাপ্রবণ ধানক্ষেত/বদ্ধ জলাশয়/প্রাতিষ্ঠানিক জলাশয়ে পোনা মাছ অবমুক্তকরণ কর্মসূচির অংশ হিসেবে ফরিদগঞ্জে মরা ডাকাতিয়া নদীর খেয়াঘাট এলাকায় বিভিন্ন দেশীয় প্রজাতির মাছের পোনা অবমুক্ত করা হয়েছে।  রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) দুপুরে উপজেলা মৎস্য দপ্তরের উদ্যোগে এ পোনা অবমুক্তকরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চাঁদপুর জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মোহাম্মদ ফখরুল ইসলাম।  উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা বেলায়েত হোসেনের তত্ত্বাবধানে এই কর্মসূচিতে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মাহমুদুল হাসান, ফরিদগঞ্জ প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক জাহিদুল ইসলাম।  এসময় রুই, কাতলা ও বাটা প্রজাতির ১৫৪ কেজি মাছের পোনা নদীতে অবমুক্ত করা হয়। চাঁদপুর জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মোহাম্মদ ফখরুল ইসলাম জানান, জলাশয়ে দেশীয় মাছের প্রজনন ও উৎপাদন বৃদ্ধি, মাছের প্রাকৃতিক আবাসস্থল সমৃদ্ধ করা এবং স্থানীয় জনগোষ্ঠীর মাছের চাহিদা পূরণে  অবমুক্ত করা মাছের পোনা রক্ষায় অবৈধ জাল ব্যবহার ও মাছের পোনা নিধন বন্ধে কার্যকর নজরদারির যেন থাকে। 

আজকের সংবাদ, ফরিদগঞ্জ

অসচ্ছল-অসুস্থ রোগীদের মাঝে আইডিয়াল সমাজসেবা ফাউন্ডেশনের চেক বিতরণ

নিজস্ব প্রতিবেদক :  চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জ উপজেলার সুনামধন্য অরাজনৈতিক, স্বেচ্ছাসেবী ও সমাজসেবামূলক সংগঠন আইডিয়াল সমাজসেবা ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে অসচ্ছল ও অসুস্থ রোগীদের মাঝে আর্থিক সহযোগিতার চেক বিতরণ করা হয়েছে। শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) বিকেলে উপজেলার ৬নং গুপ্টি পশ্চিম ইউনিয়নের খাজুরিয়া বাজারে অবস্থিত আইডিয়াল সমাজসেবা ফাউন্ডেশনের কার্যালয়ে ইউনিয়নের বিভিন্ন ওয়ার্ডের ৪ জন অসচ্ছল রোগী ও তাদের পরিবারের মাঝে মোট ৫০ হাজার টাকার আর্থিক সহযোগিতার চেক বিতরণ করা হয়েছে।  সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক আব্দুস সামাদের সঞ্চালনায় এবং সভাপতি সাগর আদনানের সভাপতিত্বে আয়োজিত চেক বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট সমাজসেবক, প্রবাসী ব্যবসায়ী ও আইডিয়াল সমাজসেবা ফাউন্ডেশনের প্রধান পৃষ্ঠপোষক মাসুদ মিজি মামুন। অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত সার্জেন্ট মোহাম্মদ মনির হোসাইন (কমান্ডো), ৬নং গুপ্টি পশ্চিম ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা পরিদর্শক মেহেদী হাসান গাজী, সংগঠনের সাংগঠনিক সম্পাদক রফিকুল ইসলাম রাফি।  প্রধান অতিথির বক্তব্যে মাসুদ মিজি মামুন বলেন, “অসচ্ছল ও অসুস্থ মানুষের পাশে দাঁড়ানো আমাদের সামাজিক ও মানবিক দায়িত্ব। আইডিয়াল সমাজসেবা ফাউন্ডেশন দীর্ঘদিন ধরে এলাকার মানুষের কল্যাণে কাজ করে আসছে। সংগঠনের মাধ্যমে যেন প্রকৃত অসহায় ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষ উপকৃত হয়, সেজন্য ভবিষ্যতেও আমি আমার জায়গা থেকে সাধ্যানুযায়ী সংগঠনটির পাশে থাকার চেষ্টা করব।” সংগঠনের সভাপতি সাগর আদনান বলেন, “আমরা জুলাই মাসে সংগঠনের দায়িত্ব গ্রহণ করি। দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই সংগঠনটির দীর্ঘদিনের সুনাম ও ধারাবাহিকতা ধরে রেখে সামাজিক ও মানবিক কার্যক্রম পরিচালনার চেষ্টা করছি। আমাদের ইউনিয়নের অনেক মানুষ দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন দুরারোগ্য ব্যাধিতে আক্রান্ত। অর্থের অভাবে তাদের অনেকে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা নিতে পারছেন না। কয়েকজন রোগী ও তাদের স্বজন আমাদের কাছে সহযোগিতার আবেদন করেন। তাদের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতেই আজ আমাদের সামর্থ্য অনুযায়ী ৪ জন রোগীকে আর্থিক সহযোগিতা করা হয়েছে।”  সাগর আদনান আরও বলেন, আজকের এই সহযোগিতার পুরো অর্থায়ন করেছেন আমাদের প্রধান পৃষ্ঠপোষক মাসুদ মিজি মামুন ভাই। এজন্য ওনার প্রতি আমি সংগঠনের পক্ষ থেকে আন্তরিক কৃতজ্ঞতা জানাই। সকলের সহযোগিতা ও সমর্থন পেলে আমরা আরও বৃহৎ পরিসরে ইউনিয়নের অসহায় ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের জন্য কাজ করতে চাই। আগামীতে আরও কয়েকটি জনকল্যাণমূলক উদ্যোগ বাস্তবায়নের পরিকল্পনা রয়েছে বলেও জানান তিনি। আর্থিক সহযোগিতা পেয়ে উপকারভোগী ও তাদের স্বজনরা বলেন, আমরা বর্তমানে খুবই অসহায় অবস্থার মধ্যে আছি। চিকিৎসার ব্যয় বহন করা আমাদের জন্য কঠিন হয়ে পড়েছে। আইডিয়াল সমাজসেবা ফাউন্ডেশন যে সহযোগিতা করেছে, তা আমাদের অনেক উপকারে আসবে। আমরা সংগঠনের প্রতি আন্তরিকভাবে কৃতজ্ঞ। এ সময় সংগঠনের সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক নাঈম চৌধুরী, অর্থ সম্পাদক নাঈমুল হাসান, স্বাবলম্বী বিষয়ক সম্পাদক শেখ ফরিদ, সহ-স্বাবলম্বী বিষয়ক সম্পাদক মেহেদী হাসান, সহ-স্বাস্থ্য বিষয়ক সম্পাদক তাজুল ইসলাম, নারী ও শিশু বিষয়ক সম্পাদক জাকিয়া সুলতানা, সদস্য কামরুল ইসলাম ও শান্ত ভূঁইয়াসহ সংগঠনের সেচ্ছাসেবী ফরহাদ হোসেন, নাহিদ মিজিসহ অনেকেই উপস্থিত ছিলেন। উল্লেখ্য, আইডিয়াল সমাজসেবা ফাউন্ডেশন ২০১৯ সালে প্রতিষ্ঠার পর থেকে গত সাত বছর ধরে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, মানবিক সহায়তা, স্বাবলম্বীকরণসহ বিভিন্ন সামাজিক ও জনকল্যাণমূলক কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। করোনাকালীন সময়ে অক্সিজেন সেবা ও ত্রাণ সহায়তা, রমজানে অসচ্ছল পরিবারের মাঝে খাদ্যসামগ্রী বিতরণ, বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা, অসুস্থ ও অসচ্ছল রোগীদের চিকিৎসায় আর্থিক সহযোগিতা এবং নারীদের স্বাবলম্বী করতে সেলাই মেশিন ও প্রশিক্ষণসহ বিভিন্ন উদ্যোগ বাস্তবায়ন করেছে সংগঠনটি। 

আজকের সংবাদ, ইসলাম, ফরিদগঞ্জ

ফরিদগঞ্জে পেশাজীবী ফোরামের আয়োজনে রাসূল (সা.)-এর জীবন ও কর্মশীর্ষক সভা 

নিজস্ব প্রতিবেদক :  ‎পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জে পেশাজীবী ফোরামের আয়োজনে হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর জীবন ও কর্মশীর্ষক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।  ‎১৯ সেপ্টেম্বর (শনিবার) সকাল সাড়ে ৯টায় ফরিদগঞ্জ পৌরসভার আরাফাত হোটেল এন্ড পার্টি সেন্টারের তৃতীয় তলায় এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। ‎অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চাঁদপুর জেলা শিক্ষা অফিসার মোহাম্মদ রুহুল্লাহ। ‎বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মাওলানা আব্দুল মান্নান খান, মাওলানা আবু তাহের তালুকদার, হাফেজ মো. সোহাইল আহমেদ চিশতী ও মুফতি মো. আনোয়ার হোসেন আমিনী, মাওলানা মিজানুর রহমান প্রমুখ। ‎অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন শাহ মো. শহিদ উল্লাহ। ‎আলোচনা সভায় বক্তারা মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর জীবন, আদর্শ, মানবিকতা ও কর্মময় জীবনের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন। তারা বলেন, মহানবী (সা.)-এর আদর্শ অনুসরণ করে ব্যক্তি ও সমাজজীবনে ন্যায়, শান্তি, সৌহার্দ্য ও মানবিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব। ‎অনুষ্ঠানে স্থানীয় আলেম-ওলামা, শিক্ষক, ব্যবসায়ী ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।  সবশেষে মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর উম্মতের শান্তি, সমৃদ্ধি ও কল্যাণ কামনা করে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত করা হয়।

Scroll to Top