২৭শে জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

Author name: Farid Ahmed

আজকের সংবাদ, জাতীয়

২ জানুয়ারি খসড়া ভোটার তালিকা প্রকাশ

নিজস্ব প্রতিবেদক: আগামী বছরের ২ জানুয়ারি খসড়া ভোটার তালিকা প্রকাশ করা হবে বলে জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন। রোববার (৮ ডিসেম্বর) নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের জনসংযোগ পরিচালক মো. শরিফুল আলম স্বাক্ষরিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, যাদের জাতীয় পরিচয়পত্রে (এনআইডি) ভুল আছে তাদেরকে জরুরিভিত্তিতে আগামী ২ জানুয়ারির আগেই সংশ্লিষ্ট উপজেলা/থানা নির্বাচন অফিসে গিয়ে ভুল সংশোধন করার জন্য অনুরোধ করা যাচ্ছে। এদিকে গত ২ ডিসেম্বর নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ বলেন, আগামী বছরের ২ মার্চ চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ করা হবে। আগারগাঁওয়ের নির্বাচন ভবনে নতুন নির্বাচন কমিশনের প্রথম কমিশন সভা শেষে ব্রিফিংয়ে এ কথা বলেন তিনি। তিনি বলেন, বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভোটার তথ্য সংগ্রহ করে এ তালিকা তৈরি করা হবে। মো. সানাউল্লাহ বলেন, নতুন ভোটার হিসেবে যুক্ত হওয়ার জন্য আমাদের কাছে ১৭ লাখ নাগরিকের তথ্য সংগ্রহে রয়েছে। এসব নাগরিক আগামী ১ জানুয়ারি ভোটার তালিকায় যুক্ত হবে। এই ১৭ লাখ নাগরিকের মধ্যে ১৩ লাখের তথ্য নির্বাচন কমিশন ২২ সালে সংগ্রহ করেছিল। বাকি নাগরিকরা নিজেরা নিবন্ধিত হয়েছেন। তবে পরিসংখ্যান বলে ৪৫ লাখের মতো নাগরিকের নতুন ভোটার হিসেবে যুক্ত হওয়ার কথা। সেই হিসাবে ২৭-২৮ লাখ নাগরিক নিবন্ধিত হননি। কিন্তু তারা ভোটার হওয়ার যোগ্য। এ কারণে আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি— নতুন বছরের হালনাগাদ ২ জানুয়ারি থেকে ২ মার্চের মধ্যে সম্পন্ন হবে। এরপর আমরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে তথ্য সংগ্রহ করব। বাদ পড়া এসব নাগরিকসহ ২০২৬ সালে ভোটার হওয়ার উপযুক্ত হবেন— এমন নাগরিকের তথ্য সংগ্রহ করা হবে। একইসঙ্গে যেসব ভোটার মৃত্যুবরণ করেছে— তাদের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার জন্য তথ্য নেওয়া হবে। এ ছাড়া দ্বৈত ভোটার বা অন্য কোনো জটিলতা আছে কি না, সে বিষয়েও তথ্য সংগ্রহ করা হবে। এর মাধ্যমে আমরা শুদ্ধ এবং পূর্ণাঙ্গ তথ্যের ভিত্তিতে শতভাগ সঠিকতা নিশ্চিত করতে পারব।

suicide
আজকের সংবাদ, ফরিদগঞ্জ

ফরিদগঞ্জে দুই সন্তানের জননীর আত্ম-হত্যা

নিজস্ব প্রতিবেদক: চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জে দুই সন্তানের জননী সাবিনা আক্তার গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন। মরদেহ মেডিক্যালে রেখেই দুই সন্তান নিয়ে পালিয়ে যায় তার স্বামী কাউসার। সোমবার ২ ডিসেম্বর রাতে ফরিদগঞ্জ পৌর এলাকার পুর্ব বড়ালী গ্রামের এই ঘটনা ঘটে। আত্মহত্যার সংবাদ পেয়ে থানার এসআই আমদাজা সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে রাতেই উপজেলা স্বাস্থ্যকমপ্লেক্স থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে। সাবিনা পুর্ববড়ালী গ্রামের সিদ্দিক আলি বেপারি বাড়ির (ওমান) প্রবাসী কাউসার হোসেনে’র স্ত্রী ও দুই সন্তানের জননী। কাউসারের মা কোহিনুর বেগম জানান, আমি মাগরিবের নামাজ আদায় করে আমার ঘরেই ছিলাম। আমার ছেলে কাউসার ও ঘরের বাহিরে ছিল। ৯ টা নাগাদ ঘরে এসে দেখে সাবিনা ঘরের আড়ার সাথে ফাঁস দিয়ে ঝুলে আছে। তার চিৎকার শুনে আমি তাদের ঘরে যাই এবং আসপাশের লোকজন এসে তাকে মেডিক্যাল নিয়ে যাই। এরপর ডাক্তার দেখে তাকে মৃত ঘোষণা করেন। তিনি আরো বলেন, আমার ছেলে গত দুই মাস পূর্বে বাড়িতে আসে। কি কারনে সে আত্মহত্যা করেছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমার বৌয়ের সাথে কোন সমস্যা ছিল না। তাহলে মেডিক্যালে মরদেহ রেখে পালিয়ে এসেছেন কেন জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমরা ভয় পেয়ে চলে আসছি। সাবিনার বাবা শুক্কুর আলী বলেন, আমার মেয়ে কি কারনে আত্মহত্যা করেছে আমার জানা নেই। এ বিষয়ে ফরিদগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ শাহ্ আলম বলেন, সংবাদ পেয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে মৃত দেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে প্রেরণ করা হয়েছে। এ ঘটনায় একটি অপমৃত্যু মামলা দায়ের করা হয়েছে আইনানুগ ব্যবস্থা প্রক্রিয়াদিন রয়েছে।

Chandpur passport office
আজকের সংবাদ, জাতীয়

দালাল না ধরলে পাসপোর্ট পেতে ভোগান্তি!

নিজস্ব প্রতিবেদক: পাসপোর্ট অফিসের সামনেই বড় করে লেখা, ‘অবাঞ্ছিত ব্যক্তির নিকট যাবেন না, প্রতারণার শিকার হবেন না।’ অর্থাৎ শব্দটি দ্বারা দালাল না ধরার কথাই ইঙ্গিত করা হলেও বাস্তবতা বলছে ভিন্ন কথা। পাসপোর্ট করতে আসা সেবাগ্রহীতারা বলছেন, দালাল ধরলে পাসপোর্ট করা একেবারেই সহজ। আর না হয় নানাভাবে পড়তে হয় হয়রানির মুখে। লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হয় দীর্ঘসময়। ‘পান থেকে চুন খসলেই’ পড়তে হয় বড় বিপদে। সামান্য ভুলে সৃষ্টি হয় বড় বিপত্তি। যে কারণে ভুক্তভোগীদের কাছে আপদের চেয়েও দালাল ভালো। অভিযোগ রয়েছে, সহযোগিতার কথা বলে প্রতি ফাইলে ঘুষ নেওয়া হয় ১৬০০ টাকা। প্রতিদিন যার পরিমাণ দাঁড়ায় প্রায় ৮ লাখ ৮০ হাজার টাকায়। সে হিসাবে বছরে এই অফিস থেকে ঘুষ লেনদেন হয় ২৩ কোটি ২৩ লাখ টাকা। একই অবস্থা চান্দগাঁও আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসেও। সেখানেও সাড়ে ৪ লাখ টাকার ঘুষ লেনদেন হয়। সে হিসাবে প্রতি মাসে লেনদেন হয় প্রায় কোটি টাকা। সংশ্লিষ্টরা এসব বিষয় অস্বীকার করলেও ভুক্তভোগীরা বলছেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের ভালো কাজ ম্লান হচ্ছে এসব অভিযোগের কারণে। ফলে এসব স্থানে আরও বেশি জবাবদিহি আনা দরকার। সূত্র জানায়, ঘুষের লেনদেনের পদ্ধতি এবং দালালদের ভূমিকা পাসপোর্ট অফিসের ঘুষ লেনদেনের পদ্ধতি অত্যন্ত সুসংগঠিত। প্রতিটি পাসপোর্ট ফাইলে দালালদের একটি সাংকেতিক চিহ্ন থাকে, যা অফিসের কর্মকর্তারা সহজেই চিহ্নিত করতে পারেন। এই সাংকেতিক চিহ্ন ৭৭ নম্বর কলামে দালালের ইমেইল আকারে দেওয়া হয়। সাধারণত পাসপোর্ট আবেদনকারীরা যদি এই সাংকেতিক চিহ্ন ব্যবহার না করেন, তবে তাদের নানা অজুহাতে হয়রানি করা হয়। ফলে সহজ-সরল লোকের নানাভাবে হয়রানি শিকার হন। পুলিশকে টাকা না দিলে ভেরিফিকেশন হবে না কেন প্রশ্ন করলে এই দালাল বলেন, রিপোর্ট তো দেবেই না বরং নানা ঝামেলা সৃষ্টি করবে। আমার হাতের লেখা কাগজ এই পাসপোর্ট অফিসে ১০০ রিম আছে। এখানে আমার মতো অভিজ্ঞ আরও চার থেকে পাঁচজন আছেন।

taka
অর্থনীতি, আজকের সংবাদ

পাঁচ ব্যাংকের ১২শ কোটি জনগণের আমানত হাওয়া

নিজস্ব প্রতিবেদক: ২০১৯ সালে পুঁজিবাজারের তালিকাভুক্ত প্রতিষ্ঠান বেস্ট হোল্ডিংসে ১ হাজার ৭৭৫ কোটি টাকা বিনিয়োগ করে রাষ্ট্রায়ত্ত চার ব্যাংকসহ পাঁচ ব্যাংক। কেন্দ্রীয় ব্যাংক নিয়ম লঙ্ঘন করে তাদের সহযোগিতা করেছে। রাজনৈতিক চাপের এই বিনিয়োগে ব্যাংকগুলো জনগণের আমানত থেকে ১ হাজার ২৩৮ কোটি টাকা লোকসান করেছে। বাংলাদেশ ব্যাংক, বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনসহ একাধিক রাষ্ট্রীয় সংস্থার প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, বেস্ট হোল্ডিংসে রাষ্ট্রায়ত্ত সোনালী ব্যাংক ৫০০ কোটি, জনতা ব্যাংক ৫০০ কোটি, অগ্রণী ব্যাংক ৩৭৫ কোটি, রূপালী ব্যাংক ৩০০ কোটি ও বেসরকারি খাতের এনসিসি ব্যাংক বিনিয়োগ করে ১০০ কোটি টাকা। এসব অর্থ দিয়ে ব্যাংকগুলো মোট ২৭ কোটি ৩০ লাখ ৭৭ হাজার শেয়ার ক্রয় করে। এতে ১ হাজার ২৩৮ কোটি টাকার লোকসান গুনেছে এসব ব্যাংক, যা জনগণের আমানতের অপচয়। তথ্য বলছে, পদ্মা ব্যাংকের সাবেক চেয়ারম্যান ও আওয়ামী সরকারের সুবিধাভোগী নাফিস সারাফাত প্রভাব খাটিয়ে এসব বিনিয়োগ বের করে নিয়েছেন। ব্যাংকগুলো ক্ষতি জেনেও বেস্ট হোল্ডিংসে বিনিয়োগে বাধ্য হয়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকগুলোর সূত্র। আর এ ক্ষেত্রে সহায়তা করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। বাংলাদেশ ব্যাংকে বিনিয়োগের বিষয়ে অবহিত করে চিঠি পাঠানোর পর তড়িঘড়ি করে এসব বিনিয়োগের অনুমোদন দেওয়া হয়। ফলে ঝুঁকিতে পড়ে সাধারণ মানুষের আমানত। তথ্য বলছে, বেস্ট হোল্ডিংসে বিনিয়োগের ক্ষেত্রে সর্বপ্রথম সরকারি ব্যাংক হিসেবে বিনিয়োগ করে রূপালী ব্যাংক। প্রাইভেট প্লেসমেন্ট শেয়ারে প্রজেক্ট এসপিভির মাধ্যমে প্রতি শেয়ার ৫৫ টাকা প্রিমিয়ামসহ ৬৫ টাকা দরে মোট ৪ কোটি ৬১ লাখ ৫৩ হাজার ৮৫০টি শেয়ার ক্রয় করা হয়। এজন্য প্রতিষ্ঠানটির অনুকূলে ৩০০ কোটি টাকা অনুমোদন করে রূপালী ব্যাংক। ওই সময় ব্যাংকটি ৬৫ টাকা দরে শেয়ার ক্রয় করলেও বর্তমানে এই শেয়ারের দর নেমে এসেছে ১৯ টাকা ৮০ পয়সায়। এতে রূপালী ব্যাংকের লোকসান গুনতে হচ্ছে প্রায় ২০৯ কোটি টাকা। ২০১৯ সালে জুনভিত্তিক প্রকাশিত বেস্ট হোল্ডিংসের আর্থিক হিসাব পর্যালোচনায় দেখা যায়, ওই সময় প্রতিষ্ঠানটির অনুমোদিত মূলধন ছিল ১ হাজার কোটি টাকা। কিন্তু পরিশোধিত মূলধন ছিল মাত্র ৮ কোটি ৮৩ লাখ টাকা। একই সময় প্রতিষ্ঠানটির দায় ছিল ২ হাজার ৫০ কোটি টাকা। অর্থাৎ প্রতিষ্ঠানের ফাইন্যান্সিয়াল লেভারেজ অত্যন্ত বেশি এবং ঝুঁকিপূর্ণ জেনেও বিনিয়োগের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে ব্যাংকের আমানতকে ঝুঁকি তৈরি করেছে রূপালী ব্যাংক। বেস্ট হোল্ডিংসে বিনিয়োগের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ব্যাংকের বিআরপিডি সার্কুলার-১৫ এর নির্দেশনা অমান্য করেছে রূপালী ব্যাংক। এ বিষয়ে জানতে চাইলে রূপালী ব্যাংকের ভারপ্রাপ্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক পারসুমা আলমকে একাধিকবার ফোন দিয়েও পাওয়া যায়নি। তথ্য বলছে, ২০১৯ সালের ১০ ডিসেম্বর সোনালী ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের ৬৬২তম সভায় পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত প্রতিষ্ঠান বেস্ট হোল্ডিংসের অনুকূলে শেয়ার ক্রয়ের সিদ্ধান্ত হয়। এ সিদ্ধান্ত অনুযায়ী প্রাইভেট প্লেসমেন্ট শেয়ারে প্রজেক্ট এসপিভির মাধ্যমে প্রতি শেয়ার ৫৫ টাকা প্রিমিয়ামসহ ৬৫ টাকা দরে মোট ৭ কোটি ৬৯ লাখ ২৩ হাজার ১০০টি শেয়ার ক্রয় করা হয়। এজন্য একই মাসের ১৫ তারিখে প্রতিষ্ঠানটির অনুকূলে ৫০০ কোটি টাকা অনুমোদন করে সোনালী ব্যাংক। ওই সময় ব্যাংকটি ৬৫ টাকা দরে শেয়ার ক্রয় করলেও বর্তমানে এই শেয়ারের দর নেমে এসেছে ১৯ টাকা ৮০ পয়সায়। এতে সোনালী ব্যাংকের লোকসান গুনতে হচ্ছে ৩৪৮ কোটি টাকা। বেস্ট হোল্ডিংসের একটি অঙ্গপ্রতিষ্ঠানের কাছে ১৫ কোটি ৮৬ লাখ শেয়ার এবং অবশিষ্ট ২৬ কোটি ৩৩ লাখ শেয়ার অন্য একটি প্রতিষ্ঠানের কাছে ১০ টাকা অভিহিত মূল্যে বিক্রয় করা হয়। কিন্তু দুর্বল আর্থিক ভিত্তির ওপর প্রতিষ্ঠিত প্রতিষ্ঠানে অভিহিত মূল্যের অতিরিক্ত ৫৫ টাকা করে প্রিমিয়াম প্রদানপূর্বক প্লেসমেন্ট শেয়ারে বিনিয়োগ করায় ব্যাংকের ৪২৩ কোটি টাকা ক্ষতি হয়েছে। এর পরও বেস্ট হোল্ডিংসে বিনিয়োগের পূর্বে সার্বিক বিষয় উল্লেখ করে ৫৫ টাকা প্রিমিয়ামসহ ৬৫ টাকা দরে ক্রয়ের অনুমতির জন্য অনাপত্তি পত্র চাওয়া হলে বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে অনাপত্তি পত্র প্রদান করা হয়েছে। ফলে বিনিয়োগ ঝুঁকিপূর্ণ জেনেও অনাপত্তি প্রদান করায় নিয়ন্ত্রক সংস্থা হিসেবে বাংলাদেশ ব্যাংক তার দায় এড়াতে পারে না। তথ্য বলছে, ২০১৭ সালের মার্চ মাসে অনুষ্ঠিত সোনালী ব্যাংকের ৫০৯তম সভায় বেস্ট হোল্ডিংসে বিনিয়োগের বিষয়ে ১ হাজার ২০০ কোটি টাকার ঋণ প্রস্তাব উঠেছিল। কিন্তু সে সময় পরিচালনা পর্ষদের সদস্যরা প্রস্তাবটি অনুমোদনে অসম্মতি জানান। এ ক্ষেত্রে তৎকালীন বোর্ড প্রতিষ্ঠানটির বিষয়ে কয়েকটি পর্যবেক্ষণ দিয়ে প্রস্তাব নাকচ করে দেয়। ওই পর্যবেক্ষণে বলা হয়, বেস্ট হোল্ডিংসের সংশ্লিষ্ট প্রকল্পটি লাভজনক নয়। প্রতিষ্ঠানটির তৎকালীন অনুমোদিত মূলধন ছিল ৬০০ কোটি টাকা। আর পরিশোধিত মূলধন ছিল মাত্র ১ কোটি ৮ লাখ টাকা। এত কম মূলধনের বিপরীতে ১ হাজার ২০০ কোটি টাকার বন্ড ইস্যু অসামঞ্জস্যপূর্ণ। এ ছাড়া ইক্যুইটি অংশগ্রহণও নগণ্য। বেস্ট হোল্ডিংসের হোটেল লা মেরিডিয়ানে ২০১৬ সালের জুনভিত্তিক হিসাবে পুনর্মূল্যায়ন রিজার্ভ ১ হাজার ৬২২ কোটি টাকা। প্রতিষ্ঠানটির ইক্যুইটিতে পুনর্মূল্যায়ন রিজার্ভ বিবেচনায় না আনলে ঋণাত্মক রিটেইনড আর্নিংসহ ইক্যুইটি ঋণাত্মক। অন্যদিকে, তাদের ঋণ অনেক বেশি। হোটেল লা মেরিডিয়েনের সম্পদের পরিমাণ ১ হাজার ১২৬ কোটি টাকা। ওই সময় ব্যাংককে বলা হয়, হোটেলের আয়ের প্রবাহ দ্বারা ইস্যু করা বন্ড ও বন্ডের সুদ পরিশোধ করা হবে। কিন্তু ঋতু পরিবর্তন বা রাজনৈতিক অবস্থা পরিবর্তন হলে হোটেল ব্যবসা ঝুঁকিপূর্ণ খাত হিসেবে বিবেচ্য বলে উল্লেখ করে সোনালী ব্যাংকের বোর্ড। পর্যবেক্ষণে আরও বলা হয়, প্রস্তাবিত মর্টগেজ করা সম্পত্তি রাজউকের লিজহোল্ড প্রোপার্টি, যা বিভিন্ন ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানটির কাছে সিন্ডিকেট ঋণের বিপরীতে মর্টগেজকৃত। এমন অবস্থায় প্রস্তাবিত বন্ডে বিনিয়োগ করা অর্থ প্রাপ্তির পর ওই মর্টগেজ পে-অফ করে রাজউকের অনুমতি সাপেক্ষে তা বন্ডের বিপরীতে ১৮০ দিনের মধ্যে রি-মর্টগেজ করার প্রস্তাব করা হয়েছে, যা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। শুধু তাই নয়, ২০১৬ সালের জুনভিত্তিক হিসাবে প্রতিষ্ঠানটির নিট ব্যয়-পরবর্তী ক্ষতি ৭৭ কোটি ৫৫ লাখ টাকা এবং রিটেইন আর্নিং ৪৪ কোটি টাকা ঋণাত্মক। কিন্তু নতুন আবেদনে ক্ষতির পরিবর্তে ২ কোটি ১৭ টাকা লাভ, রিটেইন আর্নিং ৩৬ কোটি টাকা ধনাত্মক উল্লেখ করা হয়েছে। ফলে নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদনকে অতিরঞ্জিত করে কোম্পানির আর্থিক অবস্থা ভালো দেখানো হয়েছে। আর ২০১৯ সালের জুনভিত্তিক হিসাবে স্থিতিভিত্তিক মোট পুনর্মূল্যায়ন রিজার্ভের পরিমাণ ১ হাজার ৯৮৮ কোটি টাকা। প্রতিষ্ঠানটির ইক্যুইটি পুনর্মূল্যায়ন রিজার্ভ বিবেচনায় না আনলে ঋণের হার ১৯৬ শতাংশ, যা বিনিয়োগ অনুকূল নয়। পুনর্মূল্যায়ন রিজার্ভ বিবেচনায় না আনলে শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদ মূল্য দাঁড়ায় ২৫ দশমিক ৪৩ টাকা। ফলে প্রতি শেয়ারে ৬৫ টাকা করে বিনিয়োগের যৌক্তিকতা নেই। এসব বিষয়ে জানতে চাইলে সোনালী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা শওকত আলী কালবেলাকে বলেন, ওই সময় কেন এই বিনিয়োগ করা হয়েছে জানা নেই। এতে ব্যাংকের লোকসান গুনতে হচ্ছে। এই লোকসান কীভাবে কমিয়ে আনা যায়, সে বিষয়ে কাজ করবে সোনালী ব্যাংক। সোনালী ব্যাংকের সমপরিমাণ ৫০০ কোটি টাকা বিনিয়োগ করেছে জনতা ব্যাংকও। একইভাবে প্রভাব খাটিয়ে এসব ঋণ অনুমোদন করা হয়েছিল। বর্তমানে ব্যাংকটিকেও এসব ঋণের ৩৪৮ কোটি টাকা লোকসান গুনতে হচ্ছে। এ বিষয়ে জানতে চাইলে জনতা ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মুজিবুর রহমান কালবেলাকে বলেন, আমি মাত্রই এখানে দায়িত্ব নিয়েছি। এখনো সব তথ্য আমার কাছে নেই। বোর্ড সভা থাকায় তিনি প্রতিবেদকের সঙ্গে বিস্তারিত আলোচনা করতে পারেননি। ক্ষতির বিষয়ে জানতে চাইলে অগ্রণী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা আনোয়ারুল ইসলাম ব্যাংকটির ট্রেজারি বিভাগের প্রধানের

প্রণয় ভার্মা
আজকের সংবাদ, জাতীয়

নির্দিষ্ট একটি ইস্যু দিয়ে সম্পর্ক মূল্যায়ন করা যাবে না: ভারতীয় হাইকমিশনার

নিজস্ব প্রতিবেদক: কোনো নির্দিষ্ট একটি ইস্যু দিয়ে বাংলাদেশ ও ভারতের সম্পর্ক মূল্যায়ন করা যাবে না বলে মনে করেন ভারতীয় হাইকমিশনার প্রণয় ভার্মা। মঙ্গলবার (৩ ডিসেম্বর) বিকেলে তলবের প্রেক্ষাপটে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে যান তিনি। ভারপ্রাপ্ত পররাষ্ট্রসচিব এম রিয়াজ হামিদুল্লাহর দপ্তরে তাকে তলব করা হয়। পরে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে হাইকমিশনার এ কথা বলেন। প্রণয় ভার্মা বলেন, আমরা আমাদের আলোচনা চলমান রাখবো, আজকের বৈঠক তেমনই একটি বিষয়। আমাদের বিস্তৃত সম্পর্ক রয়েছে, পারস্পরিক স্বার্থ সংশ্লিষ্ট সম্পর্ক রয়েছে। আমরা একটি ইস্যু দিয়ে সেটি মূল্যায়ন করতে পারবো না। আমাদের পরস্পরনির্ভর বিষয় রয়েছে। যেটি দুদেশের জন্যই গুরুত্বপূর্ণ। হাইকমিশনার আরও বলেন, সর্বশেষ দুই মাসে আমাদের পরস্পর সহযোগিতার জন্য ইতিবাচক কিছু উন্নয়ন হয়েছে। আমাদের অনেক ইতিবাচক বিষয় রয়েছে। আমরা অন্তর্বর্তী সরকারের সঙ্গে কাজ করে যাচ্ছি। আমরা সামনে অর্থনীতিসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে একসঙ্গে কাজ করে যাবো। গতকাল সোমবার দুপুরে ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য ত্রিপুরার রাজধানী আগরতলায় বাংলাদেশের সহকারী হাইকমিশন প্রাঙ্গণে ঢুকে হামলা চালানো হয়। জানা যায়, বাংলাদেশে সংখ্যালঘু নির্যাতনের অভিযোগ তুলে ত্রিপুরার হিন্দুত্ববাদী সংগঠন হিন্দু সংঘর্ষ সমিতিসহ বেশ কয়েকটি সংগঠনের সমর্থকেরা এ হামলা চালান। এ ঘটনায় রাতেই পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানায়। বাংলাদেশের সহকারী হাইকমিশনের প্রাঙ্গণে হিংসাত্মক বিক্ষোভ ও আক্রমণের জন্য বাংলাদেশ সরকার গভীরভাবে ক্ষুব্ধ বলেও বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়। 

আজকের সংবাদ, রাজনীতি

আঞ্চলিক উত্তেজনায় সর্বোচ্চ সংযমের আহ্বান তারেক রহমানের

ডেস্ক: আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর বাংলাদেশকে ঘিরে ভারতের উসকানিমূলক ও রাজনৈতিক বক্তব্য নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তিনি এই আঞ্চলিক উত্তেজনায় সবাইকে সর্বোচ্চ সংযমে থাকার আহ্বান জানিয়েছেন। সোমবার (২ ডিসেম্বর) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক বিবৃতিতে তিনি এ আহ্বান জানান। বিবৃতিতে তারেক রহমান অভিযোগ করেন, ভারতীয় বিশ্লেষকরা ভুল তথ্যের ওপর ভিত্তি করে বাংলাদেশবিরোধী মনোভাব প্রকাশ করছে এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতাকে বিঘ্নিত করছে। সম্প্রতি আগরতলায় বাংলাদেশ সহকারী হাইকমিশনের ওপর হামলার ঘটনা উল্লেখ করে তিনি লেখেন, এই ধরনের ঘটনা বিভেদ আরও গভীর করার ঝুঁকি বাড়াচ্ছে। পোস্টে তারেক রহমান লেখেন, শেখ হাসিনাকে ক্ষমতা থেকে অপসারণের কারণ এবং তিনি ভারতে আশ্রয় নেওয়ার পর বাংলাদেশে কী ঘটছে এবং কেন বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে সম্পর্ক গড়ে তোলা জরুরি, তা নিরপেক্ষভাবে বোঝা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান লেখেন, বাংলাদেশ অনেক চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি, কিন্তু আমরা মূলত একটি ধর্মীয় সম্প্রীতির ও ভূখণ্ডগত সার্বভৌমত্বের দেশ ছিলাম এবং থাকব; যেখানে জাতি, বর্ণ ও ধর্ম নির্বিশেষে প্রতিটি নাগরিকের অধিকার ও স্বাধীনতা সুরক্ষিত থাকবে। পোস্টে দেশবাসীকে তিনি সর্বোচ্চ সংযমে থাকার আহ্বান জানিয়ে লেখেন, আমার প্রিয় দেশবাসীকে অনুরোধ করছি, সর্বোচ্চ সংযম প্রদর্শন করুন এবং কোনো প্ররোচনায় পা দেবেন না।

tripura
আজকের সংবাদ, জাতীয়, প্রবাস

ত্রিপুরায় বাংলাদেশিদের জন্য হোটেল সেবা বন্ধ

ডেস্ক: বাংলাদেশিদের জন্য ত্রিপুরায় হোটেল পরিষেবা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। সোমবার (২ ডিসেম্বর) রাতে ত্রিপুরার হোটেল মালিকদের এক সভা থেকে এ সিদ্ধান্ত জানিয়ে বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হয়। এদিকে মঙ্গলবার (৩ ডিসেম্বর) ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া স্থলবন্দর দিয়ে সকাল থেকেই মাছ রপ্তানি শুরু হয়। ভারতীয়দের অনুরোধের প্রেক্ষিতে একটু তাড়াতাড়ি মাছ পাঠানো হচ্ছে বলে জানান ব্যবসয়ীরা। সংশ্লিষ্টরা জানান, ভারতীয় ব্যবসায়ীরা বাংলাদেশিদের আগে থেকে থেকেই জানিয়ে দেন, মঙ্গলবার যেন তাড়াতাড়ি মাছ পাঠানো হয়। কেননা, আমদানি-রপ্তানি বিষয়ে তাদের একটি সভা আছে। ওই সভা থেকে কিছু বার্তা দেওয়া হতে পারে বাংলাদেশকে। বাংলাদেশি ব্যবসায়ীরা অবশ্য মনে করছেন, আর যাই- হোক হুট করে মাছ আমদানি বন্ধ করবে না। কেননা, ওপারের সেভেন সিস্টার্স বলে খ্যাত ৭টি রাজ্যে বাংলাদেশের মাছের ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। আখাউড়া স্থলবন্দরের ব্যবসায়ী নেসার উদ্দিন ভুঁইয়া জানান, মঙ্গলবার সকাল থেকেই মাছ যাওয়া শুরু হয়েছে, আরও মাছ যাচ্ছে। নিজেদের মধ্যে আলোচনা আছে জানিয়ে ভারতীয় ব্যবসায়ীরা আগেভাগে মাছ দিতে বলেন। আখাউড়া ইমিগ্রেশন পুলিশের ওসি মো. খাইরুল আলম কালবেলাকে বলেন, এ পথে যাত্রী পারাপার স্বাভাবিক রয়েছে। তবে অন্য দিনের তুলনায় আজকে সকাল থেকে যাত্রী অনেক কম। উল্লেখ্য, দেশের অন্যতম বৃহৎ ও রপ্তানিমুখী এ স্থলবন্দর দিয়ে প্রতিদিন গড়ে দেড় লাখ মার্কিন ডলার মূল্যের বিভিন্ন পণ্য রপ্তানি হয় উত্তর-পূর্ব ভারতে। রপ্তানি পণ্যগুলোর মধ্যে রয়েছে- মাছ, প্লাস্টিক, রড, সিমেন্ট, ভোজ্যতেল, তুলা ও বিভিন্ন খাদ্যসামগ্রী।

BGB
Uncategorized

সীমান্তে যে কোনো অপতৎপরতা রোধে সম্পূর্ণ প্রস্তুত : বিজিবি

ডেস্ক: সীমান্তে যে কোনো ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি কিংবা অপতৎপরতা রোধে সম্পূর্ণ প্রস্তুত থাকার কথা জানিয়েছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। মঙ্গলবার (০৩ ডিসেম্বর) দুপুরে এক খুদে বার্তায় এ তথ্য জানায় বিজিবি সদর দপ্তর। এতে বলা হয়, সীমান্তে যে কোনো ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি কিংবা অপতৎপরতা রোধে বিজিবি সম্পূর্ণ প্রস্তুত ও সতর্ক রয়েছে। এদিকে, ভারতের ত্রিপুরার আগরতলা থেকে আখাউড়ামুখী লংমার্চ কর্মসূচিকে ঘিরে সীমান্তে উত্তেজনা থাকায় আখাউড়া সীমান্তে অতিরিক্ত বিজিবি সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। জানা গেছে, ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যের রাজধানী আগরতলায় কুঞ্জবন এলাকায় গতকাল সোমবার (২ ডিসেম্বর) বাংলাদেশ সহকারী হাইকমিশন অফিসে হামলার পর সেখানকার বিজিবি নেতৃত্বাধীন দলীয় নেতাকর্মীরা আগরতলা থেকে আখাউড়া স্থলবন্দরমুখী লংমার্চ কর্মসূচি দিয়েছে আজ মঙ্গলবার। বাংলাদেশ সময় দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে এ কর্মসূচি শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। এ কর্মসূচিকে ঘিরে সীমান্তে যে কোনো ধরনের উত্তেজনা রোধ করার লক্ষ্যে বিজেপির পক্ষ থেকে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। সীমান্ত এলাকায় সাধারণ মানুষের গতিবিধি কিছুটা শিথিল করা হয়েছে। এর আগে সোমবার আগরতলার ত্রিপুরায় অবস্থিত বাংলাদেশ সহকারী হাইকমিশনে হামলার ঘটনা ঘটে। এ সময় বাংলাদেশের লাল-সবুজ পতাকা টেনেহিঁচড়ে ছিঁড়ে ফেলা হয়। বাংলাদেশ সম্মিলিত সনাতনী জাগরণ জোটের মুখপাত্র ও চট্টগ্রামের হাটহাজারীর পুণ্ডরীক ধামের অধ্যক্ষ চিন্ময় কৃষ্ণ দাস প্রভুকে অবৈধভাবে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এমন অভিযোগ তুলে ভারতের ডানপন্থি সংস্থা ‘হিন্দু সংগ্রাম স্মৃতি’ এ হামলা চালায়। ভারতের আঞ্চলিক সংবাদমাধ্যমের খবরে বলা হয়, সোমবার শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভটি সার্কিট হাউসের মহাত্মা গান্ধীর ভাস্কর্যের সামনে পৌঁছলে পুলিশ তাদের বাধা দেয়। একপর্যায়ে পুলিশি ব্যারিকেড ভেঙে তারা বাংলাদেশ সহকারী হাইকমিশনারের অফিসে প্রবেশ করে এবং ভাঙচুর চালায়। ঘটনার পরই পরিস্থিতি সামাল দিতে ঘটনাস্থলে যায় পুলিশ। পশ্চিম ত্রিপুরার এসপি ড. কিরান কুমা এবং ডিজিপি অনুরাগ ধানকার ঘটনা তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন। বিক্ষোভ চলাকালে ছয় সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল বাংলাদেশি সহকারী হাইকমিশনারের কাছে একটি স্মারকলিপি পৌঁছে দেয়। এ সময় একজন বিক্ষোভকারী বলেন, চিন্ময় কৃষ্ণ দাস প্রভুর সঙ্গে অমানবিক আচরণ করা হচ্ছে। তাকে খাবার পর্যন্ত দেওয়া হচ্ছে না। এটা সম্পূর্ণ অবৈধ এবং অগ্রহণযোগ্য।

আজকের সংবাদ, ফরিদগঞ্জ

১০ লক্ষ টাকা চাঁদা দাবীর অভিযোগে দুই পুলিশসহ সাত জনের বিরুদ্ধে মামলা

নিজস্ব প্রতিবেদক: চাঁদা না পেয়ে অপহরন চেষ্টার অভিযোগে দুই পুলিশসহ সাত জনের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা দায়ের হয়েছে। ভুক্তভোগী জামিল হোসাইন ঢাকা নিউমার্কেটের ব্যবসায়ী । তিনি বাদী হয়ে চীফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত ঢাকায় মামলাটি দায়ের করেন। মামলা নং- সি.আর. ৭৯৪/২৪। মামলার বিবরণে জানা গেছে, বাদী এবং বিবাদী সকলেরই চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জের পাইকপাড়া উত্তর ইউনিয়নের বাসিন্দা। কিন্তু তাদের কর্মক্ষেত্র ঢাকায়। বিবাদীদের ৭ জনের মধ্যে ৫ মুক্তিযোদ্ধা বাদশা পাঠান পরিবারের সদস্য এবং পতিত সরকারের সমর্থক ও সুবিধাভোগী। এদের মধ্যে মোস্তাফিজুর রহমান দুলাল এবং মোহাম্মদ আলী মুক্তিযোদ্ধা কোটায় বাংলাদেশ পুলিশে কর্মরত আছেন। পেশাগত আনুকূল্য আর আওয়ামীলীগের প্রভাব কাজে লাগিয়ে হাসিনা সরকারের সময়ে এলাকায় জমি দখল, চাঁদাবাজি, মামলা, হামলাসহ ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেন তারা। ১৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৪ তারিখে ঢাকা নিউ মার্কেটের ব্যবসায়ী (দোকান নং-১০৯) জামিল হোসেনের কাছে ১০ লক্ষ টাকা চাঁদা দাবী করেন। জামিল বৈষম্য বিরোধী আন্দোলনের সক্রিয় সমর্থক হওয়ায় এ সুযোগকে কাজে লাগানোর চেষ্টা করেন বিবাদীরা। গত ২৭ জুলাই ২০২৪ নিউমার্কেটের দোকান থেকে জামিল হোসেনকে অপহরনের চেষ্টা চালান তারা এবং পুনরায় চাঁদা দাবী ও ভয়ভীতি প্রদর্শন করে। ভয়ে জামিল তৎক্ষনাৎ এ ঘটনায় কোন পদক্ষেপ গ্রহণ করেননি। ৫ আগস্ট সরকার পতনের পর ৩ অক্টোবর নিউমার্কেট থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেন। যাহার জিডি নং-১৪১। জিডির বিষয়টি জানা জানি হলে ২২ অক্টোবর জামিলের মোহাম্মদপুরস্থ বাসার নিচে এসে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করে বিবাদীরা। বিষয়টি স্বীকার করলে পুনরায় তাঁকে অপহরন চেষ্টা চালিয়ে বিবাদীরা ব্যর্থ হয়। ২৭ অক্টোবর ভুক্তভোগী জামিল হোসেন চীফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত ঢাকায় একটি মামলা দায়ের করেন। এতে ফৌজদারী দণ্ডবিধির ৩২৩/৩২৪/৩২৫/৩০৭/৩৬৪/৩৮৫/৫০৬(II)/১০৯ ধারায় অপরাধের উল্লেখ করা হয়েছে। অভিযুক্ত ৭ আসামীর মধ্যে মোস্তাফিজুর রহমান দুলাল, মোহাম্মদ আলী, জাহাঙ্গীর হোসেন, আলমগীর হোসেন, নাহিদুল ইসলাম একই পরিবারের সদস্য। অপর আসামীরা হলেন একই গ্রামের মোঃ আলম ও মোঃ মহসিন। এ মামলাটি আগামী ৮ ডিসেম্বারের মধ্যে পিবিআইকে তদন্ত প্রতিবেদন দিতে জমা দিতে আদেশ দিয়েছেন আদালত। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, অভিযুক্তরা আওয়ামীলীগ সরকারের সমর্থক ছিলেন। বিগত সময়ে বাল্য বিয়ে না পড়ানোয় ইমামকে মারধর, মসজিদ কমিটি নিয়ে আলেমদের পেটানো, জমি দখল, মামলা বাণিজ্য, সালিশ বাণিজ্যসহ এলাকার মানুষজন তাদের দ্বারা ব্যাপক জুলুম নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। এরই জের ধরে ৫ আগস্ট সরকারের পতনের পর মোস্তাফিজুর রহমান দুলালদের বাড়িতে হামলা ও ভাঙচুর করে বিক্ষুব্ধ জনতা। এ বিষয়ে জানতে চাইলে অভিযুক্ত পুলিশ সদস্য মোস্তাফিজুর রহমান দুলাল এবং মোহাম্মদ আলী বলেন, বিষয়টি মিথ্যা। তাদের সাথে আমাদের সম্পত্তিগত বিরোধ চলে আসছে। তবে তিনি ৫ আগস্ট তার বাড়িতে হামলার বিষয়টি স্বীকার করেন। দুলালের ভাই জাহাঙ্গীর হোসেনও বলেন, মামলাটি উদ্দেশ্য প্রণোদিত। মামলার বাদী জামিল হোসেন জানান, আমি বৈষম্য বিরোধী আন্দোলনের একজন সক্রিয় সমর্থক ছিলাম। ২৭ জুলাই প্রথমে তারা দোকানে এসে আমাকে বেদম মারধর করে এবং দোকান থেকে অপহরণের চেষ্টা করে। অন্যান্য ব্যবসায়ীদের প্রতিরোধের মুখে তারা ব্যর্থ হয়। কিছুক্ষণ পর তাদের সাথে পুলিশের পোশাকধারী কয়েকজন লোক যুক্ত হয়। তারাসহ মারধর করে আমাকে দোকান থেকে নিয়ে যায়। আন্দোলনের সমর্থক হওয়ায় নানান ভয়ভীতি প্রদর্শন করে। একটা উল্লখযোগ্য টাকা দেওয়ার পর সে যাত্রায় প্রাণে বেঁচে যাই। সরকার পতনের পর একটি জিডি করি। জিডির বিষয়টি জানতে পেরে তারা পুনরায় অপহরণ চেষ্টা চালায়। আমি ন্যায় বিচার প্রত্যাশা করি। দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করছি এবং আমার কাছ হাতিয়ে নেওয়া টাকা ফেরত দেওয়া ও আমাকে হয়রানীর ক্ষতিপূরণ দাবী করছি। মামলার সাক্ষী ইব্রাহীম মিয়াজীও অপহরণ চেষ্টার বিষয়টি সাংবাদিকদের নিশ্চিত করেছেন।

Dakatia river
আজকের সংবাদ, ফরিদগঞ্জ

ফরিদগঞ্জে ডাকাতিয়া নদী ও খাল খনন সংগ্রাম কমিটির সংবাদ সম্মেলন

নিজস্ব প্রতিবেদক: ‘চাঁদপুর সেচ প্রকল্প’র স্থবিরতায় কৃষি ও পরিবেশ ভয়াবহ হুমকির মধ্যে পড়েছে। ফলে ধান, ও মাছসহ অন্যান্য আবাদ বিপর্যয়ের সম্মুখিন। ধান আবাদের মৌসুমে খালে পানি স্বল্পতা, আবার ভারি বর্ষণে ভয়াবহ জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। এ সংকট উত্তরণে কৃষি, কৃষক ও পরিবেশ রক্ষায় সিআইপির অভ্যন্তরে জলবাদ্ধতা দূরীকরণে ডাকাতিয়া নদী ও বোরোপিটসহ সকল খাল খননে ৫ দফা দাবিতে সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। সংকট দূরীকরণে ৪ ডিসেম্বর চাঁদপুর জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে বন পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয় উপদেষ্টা বরাবর স্মারকলিপি পেশ করা হবে। রোববার (১ ডিসেম্বর) সকালে ফরিদগঞ্জ প্রেসক্লাবে ডাকাতিয়া নদী ও খাল খনন সংগ্রাম কমিটির উদ্যোগে এই উপলক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন সংগঠনের আহ্বায়ক বীর মুক্তিযোদ্ধা আলমগীর হোসেন দুলাল। লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, চাঁদপুর ও লক্ষীপুর জেলার ৬ উপজেলার ৫৮ হাজার হেক্টর (গ্রস)জমি ও ২৮ হাজার হেক্টর আবাদী জমি নিয়ে একশত কিলোমিটারের পরিধির এই বাঁধ ১৯৭৮ সাল থেকে প্রকল্পটি পুরোদমে চালু হয়। বাঁধের উদ্দেশ্য ছিলো বন্যা নিয়ন্ত্রণ করে সেচের মাধ্যমে এক ফসলী জমিকে দুই-তিন ফসলি জমিতে রূপান্তর করে অধিক ফসল উৎপাদন করে এই অঞ্চলের খাদ্য ঘাটতি দূর করা। কিন্তু বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ এবং সেচের মাধ্যমে বোরো (ইরি) আমন উৎপাদন বেড়ে খাদ্য ঘাটতি আপেক্ষিক অর্থে দূর হলেও সি.আই,পি. বাঁধ আর্শিবাদের পরিবর্তে এখন অভিশাপে পরিণত হতে চলেছে। এর কারণ নদীতে অপরিকল্পিত বাঁধ নির্মাণ, অপর্যাপ্ত স্লুইস গেট, ইনলেট-আউটলেটে বড় ধরনের ত্রুটির কারণে ও অনিয়ম দূর্নীতির ফলে সিআইপি বাঁধ প্রায় অকার্যকর। বৃষ্টিজনিত জলাবদ্ধতার অন্যতম কারণ সি.আই.পি’র অভ্যন্তরে পানি প্রবাহের প্রধান ক্যানেল ডাকাতিয়া নদী গত প্রায় ১০০ বছর এবং বোরোফিট খালসহ শত খাল গত ২৫-৩০ বছরেও খনন বা সংস্কার না করায় নাব্যতা হারিয়ে বৃষ্টি হলেই পানি ধারণ ক্ষমতা না থাকায় ভয়াবহ জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়। এ বছর টানা বষর্ণে ২৮ হাজার হেক্টর জমিতে রোপনের জন্য প্রস্তুতকরা বীজতলা ও রোপন করা আমন ধান সম্পূর্ণরুপে তলিয়ে নষ্ট হয়ে গেছে। ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে হাজারও কৃষক, বর্গা ও ইজারা চাষী এবং মৎস্য চাষীরা। সিআইপি প্রজেক্টের অভ্যন্তরে প্রায় সিংহভাগই ফরিদগঞ্জ উপজেলায়। এই প্রজেক্টের অফিস, বাসা থাকা সত্ত্বেও নেই কোন কর্মকর্তা কর্মচারী। এসডিই, এসওসহ কর্মকর্তারা অফিস ও বসবাস করেন চাঁদপুর শহরে। তারা প্রজেক্ট এলাকায় যান না, না রাখেন কৃষকদের খোঁজ খবর। ফলে কৃষক তাঁদের সংকটের কথা কার কাছে বলবে। কৃষক তাদের পরিচয়ও জানে না। কৃষক যেন নিজ এলাকায় পরবাসী। বোরো মৌসুমে কৃষক পানি সংকটের কারণে সঠিক সময়ে বোরো আবাদ করতে পারে না। অন্যদিকে আমন মৌসুমে জলাবদ্ধতায় বীজতলা সহ রোপনকৃত ধানও পানিতে তলিয়ে বিনষ্ট হয়। তাই অবিলম্বে ডাকাতিয়া নদী ও সকল খাল খনন (সংস্কার) করে জলাবদ্ধতা দূরীকরণ, আমন ধান জলাশয়, পুকুরে মাছ চাষীদের ও মৎসজীবিদের রক্ষা করা, বোরো (ইরি) মৌসুমে পানি সংকট নিরসন, ডাকাতিয়া নদী ও বোরোফিট খাল ইজারা বন্ধ ও দখলমুক্ত করে কচুরিপানা পরিস্কার, মাছ, পানি পরিবেশ রক্ষা, জলাবদ্ধতায় ক্ষতিগ্রস্ত সি.আই.পি বাসীদের চালসহ নিত্য পণ্যের রেশনিং ব্যবস্থা চালু করা, কৃষি ঋণ মওকুফ করা, জলাবদ্ধতায় ক্ষতিগ্রস্থদের ক্ষতিপূরণ দেওয়ার জন্য আমাদের ৫ দফা দাবি। দাবিগুলো বাস্তবায়ন হলে সি.আই.পি আর্শীবাদে পরিণত হবে ও ডাকাতিয়া নদী তার হারানো যৌবন ফিরে পেলে দেশীয় মাছ উৎপাাদন উল্লেখ যোগ্য হারে বাড়ার প্রত্যাশা করা হয়েছে। সংগ্রাম কমিটির যুগ্মআহ্বায়ক মো: মন্তাজ সরকারের সভাপতিত্বে এ সময় রহিমা আক্তার পলি, রিয়াজ উদ্দিন ফরিদী, প্রেসক্লাবের সভাপতি মামনুর রশিদ পাঠান, সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম ফরহাদসহ অন্যঅন্য সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন। এদিকে সংবাদ সংম্মেলন ছাড়াও এই দাবিগুলোর বিষয়ে জনসচেতনতা সৃষ্টিতে ফরিদগঞ্জসহ সিআইপি এলাকার বিভিন্ন বাজারে লিফলেট বিতরণ করা হবে বলে সংগ্রাম কমিটি নেতৃবৃন্দ জানিয়েছেন।

আজকের সংবাদ, ফরিদগঞ্জ

চাঁদপুরে মোটরসাইকেল কেড়ে নিল দুই বন্ধুর প্রাণ

চাঁদপুর: চাঁদপুর-কুমিল্লা আঞ্চলিক মহাসড়কে বেপরোয়া মোটরসাইকেল নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সোহেল খাস (১৭) নামের দুই তরুণের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। ১ ডিসেম্বর রোববার বিকেলে চাঁদপুর-কুমিল্লা আঞ্চলিক মহাসড়কের টেকনিক্যাল হাই স্কুলের সামনে এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা। নিহত সোহেল খান ফরিদগঞ্জ উপজেলার ১নং বালিথুবা পশ্চিম ইউনিয়নের সেকদি গ্রামের আনোয়ার খানের ছেলে। বন্ধু ইমরান একই ইউনিয়নের লিটন খানের ছেলে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, রোববার বিকেলে মোটরসাইকেল আরোহী সোহেল ও তার বন্ধু ইমরান খান হাজীগঞ্জ যাওয়ার উদ্দেশ্যে ফরিদগঞ্জ থেকে রওয়ানা হন। তারা মোটরসাইকেল চালিয়ে চাঁদপুর-কুমিল্লা আঞ্চলিক মহাসড়কের টেকনিক্যাল স্কুলের সামনে গেলে বেপরোয়া গতি থাকায় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়কের পাশে থাকা বৈদ্যুতিক খুঁটির সাথে সজোরে আঘাতপ্রাপ্ত হয়। এতে তারা দুজন গাড়ি থেকে রাস্তার পাশে ছিটকে পড়ে শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত পেয়ে রক্তাক্ত জখম হয়ে গুরুতরভাবে আহত হন। অনেকে জানিয়েছেন ঘটনাস্থলে মোটরসাইকেল চালকের মৃত্যু হয়েছে। ঘটনাস্থলে থাকা প্রত্যক্ষদশীরা রক্তাক্ত জখম অবস্থায় মোটরসাইকেল চালক সোহেল ও তার বন্ধু ইমরান খানকে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য চাঁদপুর সরকারি জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যান। পরে হাসপাতালের কর্মরত চিকিৎসক সোহেলকে মৃত ঘোষণা করেন। আহত ইমরানের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল হাসপাতালে প্রেরণ করেন। ঢাকা মেডিকেলে নেয়ার পর রাত ৮ টার দিকে ইমরানও মৃত্যুবরণ করেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ইমরানের খালাতো ভাই সাহামেন আজাদ। এদিকে দুর্ঘটনার খবর পেয়ে চাঁদপুর মডেল থানার এস আই শাহজাহান হাসপাতালে গিয়ে লাশের সুরতল করেন। নিহতের পরিবাররা জানান, সোহেল তার বন্ধুকে নিয়ে হাজীগঞ্জ ঘুরতে যাওয়ার পথে এই সড়ক দুর্ঘটনাটি ঘটেছে। চাঁদপুর মডেল থানার এস আই শাহাজাহান জানান, ‘নিহতের পরিবারে পক্ষ থেকে কোন ধরনের অভিযোগ দিলে পুলিশ আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। তবে একটি ভ্যান গাড়িকে সাইড দিতে গিয়ে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে এই সড়ক দুর্ঘটনাটি ঘটেছে।’

Scroll to Top