৫ই মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

Author name: Farid Ahmed

আজকের সংবাদ, জাতীয়

ক্ষমতার লাঠি হবে না পুলিশ

নিজস্ব প্রতিবেদক: রাষ্ট্রীয় বাহিনী পুলিশকে ক্ষমতাসীন কোনো দলের লাঠিয়াল বাহিনীতে পরিণত করা যাবে না। পুলিশে দায়িত্বরত সদস্যরা কোনো রাজনৈতিক কর্মসূচিতে অংশ নিতে পারবে না। একই সঙ্গে বিরোধী মতের ওপর অতিরিক্ত বল প্রয়োগ করা যাবে না। গঠন করা হবে জাতীয় পুলিশ কমিশন বা ন্যাশনাল পুলিশ কমিশন (এনপিসি)। এই এনপিসি জবাবদিহি করবে সংসদীয় স্থায়ী কমিটির কাছে। পাশাপাশি পুলিশের নিয়োগ পদ্ধতিতেও সংস্কারের সুপারিশ থাকছে। এমন সব সুপারিশ ও প্রস্তাব রেখে আগামী ১৫ জানুয়ারি প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের কাছে প্রতিবেদন জমা দেবে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠিত পুলিশ সংস্কার কমিশন। কমিশনের একাধিক সদস্য কালবেলাকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। এ বিষয়ে জানতে চাইলে কমিশনের চেয়ারম্যান সফর রাজ হোসেন কালবেলাকে বলেন, ‘প্রাণহানি এড়াতে ইউরোপীয় দেশগুলোতে পুলিশের জন্য নির্ধারিত কিছু মানদণ্ড আছে। ওইসব মানদণ্ড অনুযায়ী প্রাণঘাতী নয়; শুধু এমন অস্ত্র পুলিশকে দিতে সুপারিশ করা হচ্ছে। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের প্রাণহানির মতো আর যেন ট্র্যাজেডি না হয়, সেজন্য পুলিশকে প্রাণঘাতী অস্ত্র ব্যবহার বন্ধ করা তাদের মূল লক্ষ্য।’ পুলিশ সংস্কার কমিশনের এক সদস্য আলাপকালে কালবেলাকে বলেন, ‘আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোর ওপর রাজনৈতিক প্রভাব একটি বড় সমস্যা। যে রাজনৈতিক দল যখন ক্ষমতায় আসে, তখন পুলিশসহ সব রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের ওপর তাদের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করার প্রবণতা দেখা যায়। বিষয়টি বেশ জটিল। এখানে শুধু পুলিশকে আলাদাভাবে দেখা যায় না।’ পুরো বিষয়ে প্রতিবেদনে থাকবে উল্লেখ করে ওই সদস্য বলেন, ‘সরকারি কর্মচারীদের জন্য কিছু আচরণবিধিমালা আছে। সেগুলো তাদের মেনে চলতে হবে। পদায়ন-পদোন্নতিরও কিছু বিধিমালা আছে, সেগুলোও পালন করা জরুরি। সরকার একটি স্বাধীন জাতীয় পুলিশ কমিশন (এনপিসি) গঠন করবে। তারা সংসদীয় স্থায়ী কমিটির কাছে জবাবদিহি করবে। প্রয়োজনে কমিশনে উত্থাপিত বিষয়ে তারা (সংসদীয় স্থায়ী কমিটি) হেয়ারিং কল (শুনানি) করবে। পুলিশ সদস্যদের পেশাগত কাজের জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে। ১৮৬১ সালের পুলিশ আইনের বেশকিছু ধারা সংশোধনের সুপারিশ থাকবে।’ আরেক সদস্য বলেন, কনস্টেবল, উপপরিদর্শক (এসআই) ও সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) এই তিনটি প্রারম্ভিক পদে পুলিশে সব নিয়োগ হয়। নিম্নপদে যারা নিয়োগ পান, তাদের অনেকে যোগ্য হলেও উচ্চপদে যেতে পারেন না। এই নিয়োগ প্রক্রিয়া সংস্কার করে তিনটি ধাপের বদলে প্রারম্ভিক নিয়োগের দুটি ধাপ চালুর বিষয়েও সুপারিশ করতে পারে সংস্কার কমিশন। এ ক্ষেত্রে শুধু কনস্টেবল ও এএসপি পদ থাকার সুপারিশ করা হতে পারে। কমিশনের একজন সদস্য জানান বিষয়টি এখনো চূড়ান্ত করা হয়নি। আলাপ-আলোচনা চলছে। গত ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতন হলে ৮ আগস্ট অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ক্ষমতা নেয়। ওই সময় দেশে সবচেয়ে ভঙ্গুর অবস্থায় ছিল পুলিশ বাহিনী। পুলিশ বাহিনীর নেতৃত্বে আমূল পরিবর্তন আনা হয়। ভেঙে পড়া পুলিশি ব্যবস্থা ঢেলে সাজানো হয়। ওই অবস্থায় জনমুখী, জবাবদিহিমূলক, দক্ষ ও নিরপেক্ষ পুলিশ বাহিনী গড়ে তুলতে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ‘পুলিশ সংস্কার কমিশন’ গঠন করে। গত ৩ অক্টোবর মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে এ-সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। কমিশনের প্রধান হিসেবে সাবেক সিনিয়র সচিব সফর রাজ হোসেনকে দায়িত্ব দেওয়া হয়। কমিশনের অন্য সদস্যরা হলেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের অতিরিক্ত সচিব আবু মমতাজ সাদ উদ্দিন আহমেদ, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের সাবেক মহাপরিচালক ও সাবেক অতিরিক্ত সচিব মোহাম্মদ ইকবাল, সাবেক বিভাগীয় কমিশনার ও যুগ্ম সচিব মোহাম্মদ হারুন চৌধুরী, সাবেক অতিরিক্ত পুলিশ মহাপরিদর্শক শেখ মো. সাজ্জাত আলী (বর্তমানে ঢাকা মহানগর পুলিশ কমিশনার), পুলিশের উপমহাপরিদর্শক মো. গোলাম রসুল, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক শাহনাজ হুদা, মানবাধিকার কর্মী এ এস এম নাসিরউদ্দিন এলান এবং একজন শিক্ষার্থী প্রতিনিধি। কমিশনকে ৯০ দিনের মধ্যে সুপারিশসহ প্রতিবেদন দাখিল করতে বলা হয়েছে। সে হিসেবে কমিশন গত ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার কথা ছিল। আগামী ১৫ জানুয়ারি তারা প্রধান উপদেষ্টার কাছে প্রতিবেদন জমা দেবে। এসব বিষয়ে পুলিশ সংস্কার কমিশনের প্রধান বলেন, ‘আমরা স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার সঙ্গে দেখা করে বলেছি, সরকারি, আধাসরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত চাকরিতে পুলিশ ভেরিফিকেশনে রাজনৈতিক পরিচয় যাচাই তুলে দিতে। বর্তমানে আধাসরকারি কিংবা ব্যাংকের চাকরির জন্য পুলিশ ভেরিফিকেশন করতে হয়। পুলিশ ভেরিফিকেশনের এ পদ্ধতি ৯৬ বছর ধরে চলে আসছে। ব্রিটিশ আইনের ম্যানুয়াল অনুযায়ী এখানে কয়েক ধরনের প্রশ্ন এবং তদন্ত করা হয়। এতে অনেক সময় অনেক যোগ্য চাকরিপ্রার্থী বাদ পড়ে যান। দ্বিতীয়ত, আরেকটি বিষয় প্রচলিত আছে, আত্মীয়স্বজনের মধ্যে কেউ রাজনীতি করে কি না এবং রাষ্ট্রবিরোধী কেউ আছে কি না। এটা ব্রিটিশদের আঙ্গিকে চিন্তা করা হতো। সম্প্রতি এমন অনেক অভিযোগ এসেছে, কারও আত্মীয় বা স্বজন রাজনীতি করে; কিন্তু সরকারি দল করে না, তাদের অনেকের ক্ষেত্রে এসব যুক্তি দেখিয়ে চাকরি দেওয়া হয়নি। এতে অনেক যোগ্য প্রার্থী চাকরি থেকে বঞ্চিত হয়েছেন।’ কমিশনের একজন সদস্য বলেন, আমরা পেশাগত জীবনে ইউরোপ, আমেরিকাসহ বিভিন্ন দেশ সফর করেছি, প্রশিক্ষণ নিয়েছি। সেখানকার পুলিশ কীভাবে পরিচালিত হয়, সেটা দেখেছি। সেখানে পুলিশ পরিচালনার যে মানদণ্ড আছে, সে অনুযায়ী আমরাও একটি মানদণ্ড তৈরি করতে চাই। উন্নত বিশ্বে পুলিশ স্থানীয় সরকারের জনপ্রতিধিদের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করে। আমাদের দেশে স্থানীয় সরকার যে মানের হওয়া দরকার ছিল, সেটা হয়নি। গণতান্ত্রিক চর্চার অভাব, সঠিকভাবে স্থানীয় সরকার নির্বাচন না হওয়া, দুর্বৃত্ত ও রাজনৈতিক দুর্বৃত্তদের অনেকে স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অংশ নিয়ে জনপ্রতিনিধি হয়ে যায়। এটাও আমাদের দেশের পুলিশ ও আইনশৃঙ্খলার জন্য সমস্যা তৈরি করে। আমরা যদি ইউরোপীয় দেশগুলোর মতো গণতান্ত্রিক চর্চা করতে পারতাম, অপরাধ নিয়ন্ত্রণে সিভিল সোসাইটিও ভূমিকা রাখতে পারত, তাহলে অনেক কিছু সহজ হয়ে যেত। কিন্তু বাস্তবে সেটা হচ্ছে না।’ সুপারিশ সম্পর্কে পুলিশ সংস্কার কমিশনের প্রধান সফর রাজ হোসেন বলেন, আমরা যেসব সুপারিশ করব, তার মধ্যে স্বল্পমেয়াদি, মধ্যমেয়াদি ও দীর্ঘমেয়াদে বাস্তবায়নযোগ্য সুপারিশ থাকবে। কিছু সুপারিশ বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে অর্থের দরকার আছে। কিছু ক্ষেত্রে সরকারি আইন ও বিধিবিধান পাল্টানোর সুপারিশ থাকবে। সেগুলো পরিবর্তন করা সময়সাপেক্ষ বিষয়।

আজকের সংবাদ, রাজনীতি

খালেদা জিয়ার সফরসঙ্গী হচ্ছেন যারা

নিজস্ব প্রতিবেদক: উন্নত চিকিৎসার জন্য আগামীকাল মঙ্গলবার যুক্তরাজ্যে যাচ্ছেন বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া। তিনি ‘লন্ডন ক্লিনিক’-এ ভর্তি হবেন। লন্ডন যাত্রায় খালেদা জিয়ার সফরসঙ্গী হবেন তার মেডিকেল বোর্ডের সদস্যরা, দলীয় নেতা, ব্যক্তিগত কর্মকর্তা ও স্টাফসহ ১৫ জনের অধিক মানুষ। সোমবার (৬ জানুয়ারি) এক ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন। বিএনপি সূত্রে জানা গেছে, খালেদা জিয়ার সফর সঙ্গী হচ্ছেন তার ব্যক্তিগত চিকিৎসক ও দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন। তিনি দীর্ঘদিন ধরে খালেদা জিয়ার ব্যক্তিগত চিকিৎসক হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছেন। তার মেডিকেল বোর্ডের চিকিৎসকদের মধ্যে সফরসঙ্গী হিসেবে আছেন ডা. ফখরুদ্দিন মোহাম্মদ সিদ্দিকী, ডা. মো. সাহাবুদ্দিন তালুকদার, ডা. নুর উদ্দিন আহমদ ও ডা. মোহাম্মদ আল মামুন। এ ছাড়া খালেদা জিয়ার সঙ্গে যাবেন তার প্রয়াত ছোট ছেলে আরাফাত রহমান কোকোর স্ত্রী সৈয়দা শর্মিলা রহমান। দলীয় নেতাদের মধ্যে আছেন তার উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য ড. মোহাম্মদ এনামুল হক চৌধুরী, দলের নির্বাহী কমিটির সদস্য তাবিথ আউয়াল, খালেদা জিয়ার একান্ত সচিব এবিএম আব্দুস সাত্তারসহ ব্যক্তিগত কয়েকজন কর্মকর্তা কর্মচারী রয়েছেন। জানা গেছে, খালেদা জিয়ার ব্যক্তিগত সহকারী মো. মাসুদুর রহমান, প্রটোকল অফিসার এসএম পারভেজ এবং গৃহকর্মী ফাতিমা বেগম ও রূপা শিকদারও খালেদা জিয়ার সফরসঙ্গী হবেন। সোমবার গুলশান বিএনপির চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে ডা. জাহিদ জানান, কাতারের আমিরের দেওয়া বিশেষ এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে করে খালেদা জিয়া কাতার হয়ে লন্ডন যাবেন। এয়ার অ্যাম্বুলেন্সের সঙ্গে থাকা চারজন বিশেষ চিকিৎসকও খালেদা জিয়ার সফরসঙ্গী হবেন। উল্লেখ্য, ৮০ বছর বয়সী বেগম খালেদা জিয়া লিভার সিরোসিস, হৃদরোগ, কিডনি সমস্যাসহ নানা স্বাস্থ্য জটিলতায় দীর্ঘদিন ধরে ভুগছেন।

আজকের সংবাদ, আন্তর্জাতিক

জে–৩৬: যুদ্ধক্ষেত্রে কতটা ভয়ংকর হতে পারে চীনের ‘রহস্যময়’ এই যুদ্ধবিমান

গণপ্রজাতন্ত্রী চীনের জাতির জনক মাও সে–তুংয়ের ১৩১তম জন্মবার্ষিকী ছিল গত ২৬ ডিসেম্বর। সেদিন দেশটির সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রথমবারের মতো প্রকাশ পায় একই রকম দেখতে দুটি যুদ্ধবিমানের ভিডিও। ইন্টারনেটে তা ব্যাপক সাড়া ফেলে। বিশেষজ্ঞদের মতে, ভিডিওগুলোয় চীনের নতুন ষষ্ঠ প্রজন্মের যুদ্ধবিমান ‘জে–৩৬’ দেখা গেছে। যদিও এই যুদ্ধবিমান সম্পর্কে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানায়নি চীন সরকার। তবে দেশটির সামরিক বাহিনী বিমানটির বিষয়ে অন্যভাবে ইঙ্গিত দিয়েছে। খ্রিষ্টীয় বর্ষবরণের দিন সামরিক বাহিনীর ইস্টার্ন থিয়েটার কমান্ডের একটি ভিডিওতে ‘জিংকগো’ নামের একধরনের গাছের পাতার ছবি দেখা গেছে। ওই পাতা দেখতে অনেকটা নতুন যুদ্ধবিমানটির মতো। চীন যে ষষ্ঠ প্রজন্মের যুদ্ধবিমান তৈরি করছে, সামরিক বাহিনীর প্রকাশিত ভিডিওটিকে তার পরিষ্কার বার্তা বলে মনে করছেন সামরিক বিশেষজ্ঞরা। বিমানটিকে জে–৩৬ বলে উল্লেখ করেছেন তাঁরা। বিশেষজ্ঞদের ধারণা, নতুন যুদ্ধবিমানটিতে যুগান্তকারী কিছু বৈশিষ্ট্য থাকতে পারে। তবে যুদ্ধবিমানটি দিয়ে গুরুত্বপূর্ণ কিছু কাজ করানোর জন্য কিছু ক্ষেত্রে ছাড়ও দেওয়া হতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রের বিমানবাহিনীর সাবেক পাইলট জন ওয়াটার্সের ভাষ্যমতে, যুদ্ধবিমানটির পেছনের দিকে কোনো পাখা নেই। এর ফলে সেটির রাডারের চোখ ফাঁকি দেওয়ার বা ‘স্টেলথ’–সক্ষমতা বাড়বে। তবে আকাশে বিভিন্ন কৌশলে সেটি চালানোর সক্ষমতা কমবে। নতুন যুদ্ধবিমানটিকে যুক্তরাষ্ট্রের পারমাণবিক বোমা বহনে সক্ষম ‘বি–২১ রাইডার’ বোমারু বিমানের সঙ্গে তুলনা করেছেন ওয়াটার্স। তিনি বলেন, বড় যুদ্ধবিমানের ক্ষেত্রে বিভিন্ন কৌশলে চালানোর সক্ষমতা কম থাকাটা কোনো সমস্যা নয়। কারণ সেগুলো ‘ডগফাইট’ বা আকাশে সরাসরি সম্মুখযুদ্ধে অংশ নেয় না। পাইলট ওয়াটার্সের সঙ্গে একমত নর্থরপ গ্রুম্যানের সাবেক কর্মকর্তা বিল সুইটম্যান। এই প্রতিষ্ঠান বি–২১ বোমারু বিমান তৈরি করেছে। তাঁর মতে, দিন গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে খুব কাছ থেকে ডগফাইটের গুরুত্ব কমছে। জে–৩৬–এর মূল কাজ হবে, আকাশ, মাটি ও বিমানবাহী রণতরিতে থাকা যুদ্ধবিমান, জ্বালানি তেলবাহী উড়োজাহাজ ও সহায়তাকারী বিভিন্ন উড়োজাহাজের মতো শত্রুপক্ষের লক্ষ্যবস্তুগুলোয় হামলা চালানো। জে–৩৬–এর বৈশিষ্ট্যের সঙ্গে রাশিয়ার তৈরি মিগ–৩১ যুদ্ধবিমানের বেশ মিল রয়েছে বলে মনে করেন অস্ট্রেলিয়ার বিমানবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা পিটার লেটন। মিগ–৩১ দূরবর্তী অঞ্চলে গিয়ে দ্রুতগতিতে হামলা চালাতে পারে। লেটন বলেন, জে–৩৬–এর চাকা থেকে এর ভার বহন করার সক্ষমতার প্রমাণ পাওয়া যায়। কোনো কোনো বিশ্লেষকের ধারণা, ৪৫ হাজার কেজির বেশি ওজন নিয়ে আকাশে উড়তে পারবে জে–৩৬, যা মিগ–৩১–এর চেয়ে বেশি। পিটার লেটন বলেন, এই যুদ্ধবিমান অন্য যেসব ক্ষেত্রে ভূমিকা রাখতে পারে, তার মধ্যে রয়েছে—চীনের কৌশলগত বোমারু বিমানগুলো দূরবর্তী কোথাও গেলে সেগুলোর নিরাপত্তার জন্য সঙ্গে থাকা। চীনের যেসব স্থানের ভূপৃষ্ঠে আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা নেই, সেখানকার আকাশসীমার প্রতিরক্ষার ব্যবস্থা করতে পারবে যুদ্ধবিমানটি। আকাশে না উড়েও ধ্বংস করতে পারবে দূরের কোনো হুমকি। জে–৩৬–এর নকশা দেখে সেটি ভারী অস্ত্রশস্ত্র বহন করতে পারে বলে মনে করছেন লু গুয়ো–ওয়েই। নৌবাহিনী নিয়ে ব্যাখ্যা–বিশ্লেষণ দিয়ে থাকেন নিউজিল্যান্ডভিত্তিক এই বিশ্লেষক। তাঁর মতে এই যুদ্ধবিমান পিএল–১৭–এর মতো ক্ষেপণাস্ত্র বহন করতে পারে। সর্বোচ্চ ৪০০ কিলোমিটার দূরে আকাশে থাকা লক্ষ্যবস্তু ধ্বংস করতে পারে এই ক্ষেপণাস্ত্র। ভারী এসব অস্ত্র নিয়ে শব্দের চার গুণের (মার্ক–৪) বেশি গতিতে ছুটে চলতে পারবে বিমানটি। লু গুয়ো-ওয়েই মনে করেন, সরাসরি সম্মুখযুদ্ধের চেয়ে বড় পরিসরে কাজ করার সম্ভাবনা বেশি জে–৩৬–এর। যুদ্ধক্ষেত্রে বিমানটি সম্মুখসারিতে থাকা ড্রোন, জে–২০ যুদ্ধবিমান ও জে–৩৫এ যুদ্ধবিমানের সঙ্গে একটি নেটওয়ার্ক তৈরি করবে। এর মাধ্যমে প্রচলিত আকাশপথে যুদ্ধ আরও তথ্যভিত্তিক ও সমন্বিত হবে। এ ছাড়া জে–৩৬–এর অত্যাধুনিক রাডার জে–২০–এর চেয়ে দূর থেকে স্টেলথ (রাডারের চোখ ফাঁকি দিতে পারে) যুদ্ধবিমানগুলো শনাক্ত করতে পারবে। ফলে চীনের বিমানবাহিনীর শক্তি বাড়বে। লেখা:সাউথ চায়না মর্নিং পোস্ট

আজকের সংবাদ, রাজনীতি

পিআর পদ্ধতির নির্বাচন চালু করতে প্রয়োজনে গণভোট দিন

নিজস্ব প্রতিবেদক: পিআর পদ্ধতির নির্বাচন চালু করতে প্রয়োজনে গণভোট অনুষ্ঠানের আহ্বান জানিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগর উত্তরের আমির মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন। রোববার (৫ জানুয়ারি) বিকেলে খিলগাঁও (মালিবাগ) কমিউনিটি সেন্টারে রামপুরা দক্ষিণ থানা জামায়াত আয়োজিত প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর মধ্যে শীতবস্ত্র বিতরণকালে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি। সেলিম উদ্দিন বলেন, মানুষের মধ্যে ঐক্য ও সম্প্রীতি তৈরি করা রাজনীতিকদের দায়িত্ব। স্বাধীনতার পর দেশে বিভেদের রাজনীতির চর্চা শুরু হয়েছে। একশ্রেণির রাজনীতিক নিজেদের অপরাধ-অপকর্ম, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি, দুর্নীতি ও লুটপাটকে ঢেকে রাখার জন্যই জাতিকে পরিকল্পিতভাবে বিভক্ত করে রেখেছে। মূলত তারাই দেশের প্রচলিত রাজনীতিকে সংঘাতপূর্ণ ও অস্থির করে রেখেছে। কিন্তু দেশপ্রেমী ছাত্র-জনতা তাদের এই অপরাজনীতি আর চলতে দেবে না। তারা অতীত বৃত্ত থেকে বেরিয়ে আসতে না পারলে জনগণ ঘুমিয়ে ঘুমিয়ে তামাশাও দেখবে না। যারা এখনো জনগণকে বোকা ভাবেন, তাদের পরিণতি স্বৈরাচারের চেয়ে ভয়াবহ হবে। থানা আমির আব্দুল লতিফের সভাপতিত্বে এবং থানা সেক্রেটারি খালেদ সাইফুল্লাহ তারেকের পরিচালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন ঢাকা মহানগর উত্তরের সহকারী সেক্রেটারি নাজিম উদ্দীন মোল্লা, প্রচার ও মিডিয়া সম্পাদক মু. আতাউর রহমান সরকার প্রমুখ।

আজকের সংবাদ, জাতীয়

দেশে বেকার এখন ২৬ লাখ ৬০ হাজার

নিজস্ব প্রতিবেদক: ২০২৪ সালের শুরুতে দেশে বেকার মানুষ কম থাকলেও বছর শেষে ধারাবাহিকভাবে এ সংখ্যা বেড়েছে। মূলত জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের প্রভাবে বছরের শেষ সময়ে বেড়েছে বেকার। বর্তমানে দেশে মোট বেকারের সংখ্যা ২৬ লাখ ৬০ হাজার। ২০২৩ সালের একই সময়ে এ সংখ্যা ছিল ২৪ লাখ ৯০ হাজার। সে হিসাবে এক বছরের ব্যবধানে দেশে বেকার মানুষের সংখ্যা বেড়েছে ১ লাখ ৭০ হাজার। সোমবার (৬ জানুয়ারি) বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) প্রকাশিত প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে। যেখানে বলা হয়েছে, দেশের কর্মে নিয়োজিত বা শ্রমশক্তিতে অংশগ্রহণকারী মানুষের সংখ্যা উল্লেখযোগ্য হারে কমে যাওয়ায় বেকার লোকের সংখ্যা বেড়েছে। সম্প্রতি ২০২৪ সালের তৃতীয় প্রান্তিকের (জুলাই-সেপ্টেম্বর) শ্রমশক্তি জরিপ প্রতিবেদন প্রকাশ করে বিবিএস। জরিপ প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, কৃষি, সেবা এবং শিল্প—সব খাতেই কমেছে কর্মে নিয়োজিত জনগোষ্ঠী। নারীর চেয়ে উল্লেখযোগ্য হারে পুরুষ বেকারের সংখ্যা বেশি বেড়েছে। আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার (আইএলও) নিয়ম অনুসারে, বেকার জনগোষ্ঠী মূলত তারাই—যারা গত সাত দিনের মধ্যে মজুরির বিনিময়ে একঘণ্টা কাজ করার সুযোগও পাননি এবং গত এক মাস ধরে কাজ খুঁজেছেন, কিন্তু মজুরির বিনিময়ে কোনো কাজ পাননি। বিবিএস এ নিয়ম অনুসারেই বেকারের হিসাব দিয়ে থাকে। বিবিএসের হিসাব অনুসারে, গত সেপ্টেম্বর মাস শেষে দেশে পুরুষ বেকারের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৭ লাখ ৯০ হাজার, আর নারী বেকার ৮ লাখ ৭০ হাজার। ২০২৩ সালের একই সময়ে পুরুষ বেকার ১৬ লাখ ৪০ হাজার, আর নারী বেকার ছিল ৮ লাখ ৫০ হাজার। সে হিসাবে পুরুষ বেকার বেড়েছে ১ লাখ ৫০ হাজার এবং নারী বেকার বেড়েছে ২০ হাজার। বিবিএস বলছে, শ্রমশক্তিতে এখন (তৃতীয় প্রান্তিকে) ৫ কোটি ৯১ লাখ ৮০ হাজার নারী-পুরুষ আছেন। অথচ ২০২৩ সালের তৃতীয় প্রান্তিকে এ সংখ্যা ছিল ৬ কোটি ১১ লাখ ৫০ হাজার। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে শ্রমশক্তিতে অংশগ্রহণকারী মানুষের সংখ্যা কমেছে ১৯ লাখ ৫০ হাজার। যেখানে মোট শ্রমশক্তিতে থাকা জনগোষ্ঠীর মধ্যে ৫ কোটি ৬৫ লাখ ২০ হাজার লোক কর্মে নিয়োজিত। বাকিরা বেকার। এছাড়া, শ্রমশক্তির বাইরে বিশাল জনগোষ্ঠী আছে—যারা কর্মে নিয়োজিত নয়, আবার বেকার হিসেবেও বিবেচিত নয়। এমন জনগোষ্ঠীর সংখ্যা ৬ কোটি ২৩ লাখ ৩০ হাজার। তারা মূলত সাধারণ ছাত্র, অসুস্থ ব্যক্তি, বয়স্ক নারী-পুরুষ, কাজ করতে অক্ষম ব্যক্তি, অবসরপ্রাপ্ত ব্যক্তি এবং কর্মে নিয়োজিত নন বা নিয়োজিত হতে অনিচ্ছুক গৃহিণী। শ্রমশক্তি জরিপ অনুযায়ী, বর্তমানে দেশে যুব শ্রমশক্তি ২ কোটি ৪০ লাখ ২০ হাজার। এরমধ্যে পুরুষ ১ কোটি ১৭ লাখ ৫০ হাজার, আর নারী ১ কোটি ২২ লাখ ৭০ হাজার। বছরের ব্যবধানে যুব শ্রমশক্তি জনগোষ্ঠীর সংখ্যাও কমেছে। জরিপ অনুযায়ী, ২০২৩ সালের তৃতীয় প্রান্তিকে যুব শ্রমশক্তি ছিল ২ কোটি ৬১ লাখ ৯০ হাজার, যা ২০২৪ সালের একই সময়ে কমে হয়েছে ২ কোটি ৪০ লাখ ২০ হাজার। সে হিসাবে যুব শ্রমশক্তি কমেছে ২১ লাখ ১৭ হাজার।

আজকের সংবাদ, জাতীয়

বৃহস্পতিবার থেকে ফের শৈত্যপ্রবাহের সম্ভাবনা

আগামী বৃহস্পতিবার থেকে আবারও শৈত্যপ্রবাহের সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অফিস। এদিকে আজ সোমবার দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ১১ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়েছে। এদিন সকাল ৯টায় যশোরে এ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়।  বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তরের সহকারী আবহাওয়াবিদ কাজী জেবুন্নেসা বলেন, ‘আগামী বৃহস্পতিবার থেকে মৃদু হতে মাঝারি শৈত্যপ্রবাহের সম্ভাবনা রয়েছে।’ এ সময় তাপমাত্রা কমে তীব্র শীত অনুভূত হবে বলে জানান তিনি। এদিকে আবহাওয়া অধিদপ্তরের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত পূর্বাভাসে বলা হয়, সোমবার দিবাগত মধ্য রাত থেকে সকাল পর্যন্ত সারা দেশে হালকা থেকে মাঝারি কুয়াশা পড়তে পারে। সারা দেশে রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে। রংপুর বিভাগের দিনের তাপমাত্রা সামান্য হ্রাস পেতে পারে এবং দেশের অন্যত্র তা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে বলে ওই পূর্বাভাসে বলা হয়। উল্লেখ্য, এর আগে গতকাল রোববার পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ায় দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ৯ দশমিক ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়।

স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা
আজকের সংবাদ, জাতীয়

৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে ই-পাসপোর্ট পুরোপুরি চালু করা হবে : স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা 

নিজস্ব প্রতিবেদক: চলতি বছরের ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে ইলেকট্রনিক পাসপোর্ট (ই-পাসপোর্ট) পুরোপুরি চালু করা হবে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী (অব.)। সোমবার (৬ জানুয়ারি) সকালে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে ইমিগ্রেশন ও পাসপোর্ট অধিদপ্তরের সম্মেলন কক্ষে অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে এ কথা জানান তিনি। তিনি বলেন, খালেদা জিয়া উন্নত চিকিৎসার জন্য মঙ্গলবার (৭ জানুয়ারি) রাতে লন্ডনের উদ্দেশে যাত্রা করবেন। কাতার আমিরের পাঠানো ‘বিশেষ এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে’ দেশটির রাজধানী দোহা হয়ে লন্ডন পৌঁছবেন তিনি। জাহিদ হোসেন বলেন, সেখান থেকে সরাসরি যুক্তরাজ্যের স্বনামধন্য লন্ডন ক্লিনিকে নেওয়া হবে খালেদা জিয়াকে। সেখানকার চিকিৎসকরা যদি মনে করেন তার যুক্তরাষ্ট্রে চিকিৎসা প্রয়োজন, তাহলে সেখানে যাবেন। উপদেষ্টা বলেন, চলতি বছরের মধ্যে ই-পাসপোর্টের কাজ পুরোদমে চালু করা হবে। তখন আর এমআরপি (মেশিন রিডেবল পাসপোর্ট) থাকবে না। তিনি এ সময় তার মেয়াদকালেই ই-পাসপোর্টের কাজ শেষ করার প্রচেষ্টা নেওয়া হচ্ছে বলে জানান। তিনি বলেন, বর্তমান মহাপরিচালক যোগদান করার পর ইমিগ্রেশন ও পাসপোর্ট অধিদপ্তরের দুর্নীতির মাত্রা অনেক কমেছে। তবে এটিকে শূন্যপর্যায়ে নামিয়ে আনতে হবে। বিদেশি নাগরিক যারা ভিসা ছাড়া অবৈধভাবে বাংলাদেশে অবস্থান করছেন, তাদের আগামী ৩১ জানুয়ারি ২০২৫ তারিখের মধ্যে বাংলাদেশে অবস্থানের বা কর্মরত থাকার প্রয়োজনীয় কাগজপত্রসহ বৈধতা অর্জন করতে হবে। অন্যথায় ৩১ জানুয়ারির পর তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। উপদেষ্টা এ বিষয়ে আজ কয়েকটি জাতীয় দৈনিক পত্রিকায় সতর্কীকরণ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশিত হয়েছে। পাসপোর্ট করার ক্ষেত্রে পুলিশ ভেরিফিকেশন বাদ দেওয়া হবে কি না জানতে চাইলে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে উপদেষ্টা বলেন, সবার সঙ্গে আলাপ করে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। তাছাড়া রোহিঙ্গারা যাতে কোনোভাবেই বাংলাদেশের পাসপোর্ট ব্যবহার করার সুযোগ না পান সেটা নিয়েও সরকারের অবস্থান পরিষ্কার করেন তিনি। উপদেষ্টা এর আগে ইমিগ্রেশন ও পাসপোর্ট অধিদপ্তরের এমআরপি প্রিন্টিং সেকশন, ডাটা সেন্টার ও পার্সোনালাইজেশন সেন্টারসহ অধিদপ্তরের বিভিন্ন শাখা পরিদর্শন করেন এবং প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা প্রদান করেন। এ সময় ইমিগ্রেশন ও পাসপোর্ট অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মো. নূরুল আনোয়ার উপস্থিত ছিলেন।

সালাহউদ্দিন
আজকের সংবাদ, রাজনীতি

তারেক রহমানের দেশে ফেরার জন্য উপযুক্ত পরিবেশ দরকার: সালাহউদ্দিন

নিজস্ব প্রতিবেদক: ‘তারেক রহমানের দেশে ফেরার জন্য যে উপযুক্ত পরিবেশ দরকার সেটি এখনও তৈরি করতে পারিনি। যার জন্য অল্প কিছুদিন সময় লাগবে। তবে তিনি অবশ্যই আসবেন’। প্রায় দুই সপ্তাহের লন্ডন সফর শেষে রোববার দুপুরে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদ এই তথ্য জানান। তিনি বলেন, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান অবশ্যই দেশে ফিরবেন। তবে এখনও পর্যন্ত তারেক রহমানের দেশে ফেরার জন্য উপযুক্ত পরিবেশ আমরা তৈরি করতে পারিনি। সেজন্য অল্প কিছু সময় লাগবে। তারেক রহমানের সঙ্গে কী কী বিষয়ে কথা হয়েছে, এসব বিষয়ে জানতে চাইলে সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেন, আপনারা ধীরে ধীরে এ বিষয়ে জানতে পারবেন। তবে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ঐক্যের কথা বলেছেন। এ সময় তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশে বর্তমানে ফ্যাসিবাদবিরোধী যে ঐক্য গড়ে উঠেছে; তার বাস্তবায়নে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় আমাদের যাওয়া উচিত। জাতীয় ঐক্যের ভিত্তিতে যতদ্রুত সম্ভব নির্বাচনের দিকে যাওয়া উচিত। ভাসা ভাসা সময় না, সবার সঙ্গে আলোচনা করে একটা সঠিক রোডম্যাপ দিতে হবে। নতুন রাজনৈতিক শক্তির উদয় হলে আমরা স্বাগত জানাব। তবে তা কিংস পার্টির মত যেন না হয়।

প্রধান উপদেষ্টা
আজকের সংবাদ, জাতীয়

দেশের সম্মান রাখতে কাজ করে যাচ্ছে সেনাবাহিনী : প্রধান উপদেষ্টা

নিজস্ব প্রতিবেদক: অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, দেশের সম্মান ও গৌরব অটুট রাখতে জনগণের পাশে থেকে কাজ করে যাচ্ছে সেনাবাহিনী। রোববার (৫ জানুয়ারি) দুপুরে রাজবাড়ী মিলিটারি ট্রেনিং এরিয়ার (আরএমটিএ) চর খাপুড়া ও চর রামনগর এলাকায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ৫৫ পদাতিক ডিভিশনের ব্যবস্থাপনায় শীতকালীন ম্যানুভার অনুশীলন পরিদর্শন শেষে এ কথা বলেন তিনি। ড. মুহাম্মদ ইউনুস বলেন, বাংলাদেশ সেনাবাহিনী জাতির অহংকার ও বিশ্বাসের জায়গা। এ প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে ‘প্রশিক্ষণই সর্বোত্তম কল্যাণ’ এ মন্ত্রে উদ্বুদ্ধ হয়ে আধুনিক ও যুগোপযোগী প্রশিক্ষণের মাধ্যমে আভিযানিক দক্ষতা অর্জন করে দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় সর্বদা যুদ্ধের জন্য সেনাসদস্যদের প্রস্তুত রাখতে হবে। তাই আভিযানিক দক্ষতা, সাহসিকতা ও পেশাদারিত্ব অর্জনে সেনাসদস্যদের প্রশিক্ষণ হতে হবে বাস্তবসম্মত। তিনি আশা প্রকাশ করে বলেন, বাংলাদেশ সেনাবাহিনী প্রশিক্ষণের এ লক্ষ্যকে সামনে রেখেই এগিয়ে চলবে। অনুশীলনে অংশগ্রহণকারী সেনাসদস্যদের দক্ষতা ও উঁচুমানের প্রশিক্ষণের প্রশংসা করেন প্রধান উপদেষ্টা। এর আগে বেলা ১১টা ৫৪ মিনিটে ঢাকা থেকে হেলিকপ্টারে রওনা হন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। দুপুর সাড়ে ১২টা ৩৬ মিনিটের দিকে প্রধান উপদেষ্টাকে বহন করা হেলিকপ্টারটি কালুখালীর মিলিটারি ট্রেনিং এরিয়ার চর খাপুড়ায় হেলিপ্যাডে অবতরণ করেন। অনুশীলনস্থলে পৌঁছালে ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে অভ্যর্থনা জানান সেনাবাহিনীর প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান, নৌবাহিনীর প্রধান অ্যাডমিরাল এম নাজমুল হাসান, বিমানবাহিনীর প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খান এবং জিওসি, ৫৫ পদাতিক ডিভিশন ও এরিয়া কমান্ডার, যশোর এরিয়া মেজর জেনারেল জে এম ইমদাদুল ইসলাম। এরপর তিনি প্রায় ১ ঘণ্টাব্যাপী ম্যানুভার অনুশীলন প্রত্যক্ষ করেন। প্রধান উপদেষ্টা অনুশীলন প্রত্যক্ষ শেষে সমাপনী বক্তব্য রাখেন। অনুষ্ঠানে প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে অন্যান্য উপদেষ্টা, সশস্ত্র বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং গণ্যমাধ্যম ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।

আজকের সংবাদ, ফরিদগঞ্জ

ছাত্রদলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে ফরিদগঞ্জে আনন্দ শোভাযাত্রা

নিজস্ব প্রতিবেদক: বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের ৪৬তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উপলক্ষে ফরিদগঞ্জের ছাত্রদলের একাংশের আনন্দ শোভাযাত্রা ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার পহেলা জানুয়ারী বিকেলে আম্বিয়া ইউনুস ফাউন্ডেশনের সামনে থেকে বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য মোতাহার হোসেন পাটওয়ারী ব্যানারে শোভাযাত্রাটি বের হয়ে গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে একইস্থানে এসে সংক্ষিপ্ত আলোচনার মধ্য দিয়ে শেষ হয়। এ সময় বক্তব্য রাখেন, উপজেলা ছাত্রদলের যুগ্ম আহবায়ক আব্দুল কাইয়ুম সুমন, ফরিদগঞ্জ ডিগ্রি কলেজ ছাত্রদলের আহবায়ক পারভেজ হোসেন, সুবিদপুর পূর্ব ইউনিয়ন ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি অনিক হাছান মাছুম, পৌর ছাত্রদল নেতা অপু পাটওয়ারী, তানজিল হোসেন। বক্তারা বলেন, ১৯৭৯ সালের পহেলা জানুয়ারী বহুদলীয় গণতন্ত্রের প্রবক্তা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ছাত্রদল প্রতিষ্ঠা করেন। প্রতিষ্ঠা পরবর্তী সময়ে বহু চড়াই-উৎরাই পেরিয়ে দক্ষিণ এশিয়ার শ্রেষ্ঠ ছাত্র সংগঠনে পরিনত হয়েছে। অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, উপজেলা যুবদলের সাবেক সদস্য সচিব আব্দুল মতিন, পৌর ছাত্রদলের যুগ্ম আহবায়ক রাফিকুল ইসলাম, মামুনুর রশীদ, কাউছার হোসেন প্রমূখ।

ussed
আজকের সংবাদ, ফরিদগঞ্জ

ফরিদগঞ্জে নদীর ওপর নির্মিত অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ

নিজস্ব প্রতিবেদক: ফরিদগঞ্জ উপজেলার অনেক জায়গায় সরকারি সম্পত্তি অবৈধভাবে দখল করেছে এক শ্রেণির অসাধু ও প্রভাবশালী লোকজন। কয়েক যুগ থেকে এমনতর দখল অব্যাহত রয়েছে। তা এখন পাহাড়সম হয়েছে। দখলের মধ্যে খাস ভূমি, নদী, খাল, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, এলজিইডি, সড়ক ও জনপদ, পানি উন্নয়ন বোর্ডের জমি অন্যতম। এরই ধারাবাহিকতায় উপজেলার গোয়াল ভাওর বাজারে নদীর ওপর রাতারাতি নির্মিত একটি দোকান ঘর ভেঙ্গে দেয়া হয়েছে। সোমবার (৩০ ডিসেম্বর) বিকেলে উপজেলার গোবিন্দপুর দক্ষিণ ইউনিয়নে উচ্ছেদ অভিযানটি পরিচালনা করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, গোয়াল ভাওর বাজারের পূর্ব পার্শ্বে বহমান ডাকাতিয়া নদীর শাখা। বাজারের দক্ষিণ প্রান্তে দু’দিনের মধ্যে নির্মাণ করা হয়েছিল একটি দোকান ঘর। পূর্বে নদীর তলদেশ থেকে আরসিসি বেইস ঢালাই দিয়ে ওঠানো কলামের ওপর ওই দোকান ঘরটি নির্মাণ করা হয়েছে। জানার জন্য, সংবাদকর্মীরা এ বিষয়ে যোগাযোগ করে উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও এসি (ল্যান্ড) এর সঙ্গে। তারা সন্ধ্যার সময়ই সেখানে সংশ্লিষ্ট অফিসের স্টাফ পাঠিয়ে সংবাদের সত্যতা খুঁজে পান এবং দোকান ঘর নির্মাণ কাজ বন্ধ রাখতে নির্দেশ দেন। সরজমিন রোববার সন্ধ্যায় দেখা যায়, ঘরের জন্য ফ্রেম প্রস্তুত করা হয়েছে। বেড়া ও ওপরে (চালায়) টিন লাগানো হয়নি। গণমাধ্যম কর্মীরা ছবি তুলে ও তথ্য সংগ্রহ করে ফিরে আসার পর, রাতভর দ্রুত গতিতে ঘরটির পূর্ণাঙ্গ রূপ দেয়া হয়। সকালে সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন ও উপজেলা ভূমি অফিসের সার্ভেয়ারসহ কর্মকর্তারা মাপ জরিপ করে দেখেন নির্মিত ঘরটি সরকারি এক নং খাস খতিয়ানভূক্ত। এতে, সেটি সরিয়ে নিতে ও নদী দখলমূক্ত করতে দোকান ঘর নির্মানের সঙ্গে জড়িত আলী আহমেদ ও সোহেল বেপারিকে বলা হয়। তারা সময় চান। এতে, উপজেলা নির্বাহী অফিসার উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করে ও সেনা বাহিনীর সহায়তা চান। বিকেল চারটা নাগাদ ফরিদগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ ও পৃুলিশ ফোর্সসহ সবাই সেখানে উপস্থিত হয়ে অবৈধভাবে নির্মিত দোকান ঘরটি ভেঙ্গে দেন। ওই সময় কয়েক শত উৎসুক জনতা ভাঙ্গার দৃশ্য প্রত্যক্ষ করেন। উপস্থিত জনতা সরকারের সংশ্লিষ্ট বিভাগের পক্ষ থেকে গৃহীত উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, এ বাজারের পাশে নদীর ওপর আরও অনেকগুলো স্থাপনা নির্মাণ করা হয়েছে। তারা সেগুলোও ভাঙ্গার জন্য আহ্বান জানান। এ বিষয়ে জানতে চাইলে আলী আহমেদ দাবী করে বলেন, আমাদের জমির ওপর দিয়ে রাস্তা হয়েছে। রাস্তার ওপাশে আমাদের জমি রয়ে গেছে। নদীর ওপর নির্মিত ঘরের ভূমি (ডাকাতিয়া নদী)’র মালিকানা আপনার কি না। এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, সরকারি আইনানুযায়ী আমাদের না। অপর প্রশ্নে তিনি বলেন, আইন মোতাবেক ঘর ভাঙ্গা হয়েছে। এতে, আমার কোন আপত্তি নেই। তবে, ভবিষ্যতে আইনানুযায়ী বন্দোবস্ত পেলে ঘর নির্মাণ করবো। এ বিষয়ে জানতে চাইলে সংক্ষিপ্ত জবাবে উপজেলা নির্বাহী অফিসার সুলতানা রাজিয়া বলেন, সরকাাির সম্পত্তি রক্ষায় আমাদের পদক্ষেপ অব্যাহত থাকবে। তিনি এ জন্য সমাজের সকল শ্রেণি পেশার লোক জনের সহায়তা ও সমর্থন চেয়ে এমনতর দখল থেকে বিরত ও আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশিল থাকার জন্য তিনি সকলকে আহ্বান জানান। উচ্ছেদ অভিযানে উপস্থিত ছিলেন, নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট উপজেলা ভূমি কর্মকর্তা ও পৌর প্রশাসক এ.আর.এম. জাহিদ হাসান, থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ শাহ্ আলম, সেনাবাহিনীর সিনিয়র ওয়ারেন্ট অফিসার জিয়াউল হক, উপজেলা ভূমি অফিসের সার্ভেয়ার আবু বকর সিদ্দিক, পৌর ভূমি সহকারী কর্মকর্তা ফরিদুল ইসলাম পাটওয়ারী, গোবিন্দপুর দক্ষিণ ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা গুলশান ইয়াসমিনসহ পুলিশ ও সেনাবাহিনীর সদস্যরা।

আজকের সংবাদ, রাজনীতি

ছাত্রদলের ৪৬তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী আজ

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের ৪৬তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী আজ। শিক্ষা, ঐক্য, প্রগতি স্লোগান নিয়ে এই সংগঠনটি ১৯৭৯ সালের ১ জানুয়ারি প্রতিষ্ঠিত হয়। বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা ও শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এই ছাত্রদল প্রতিষ্ঠা করেন। প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে কর্মসূচি ঘোষণা করেছে ছাত্রদল। এসব কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে সকালে ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়সহ দেশের সব জেলা ও মহানগর ইউনিট কার্যালয়ে জাতীয় পতাকাসহ দলীয় পতাকা উত্তোলন। বেলা ১১টায় শেরে বাংলা নগরে জিয়াউর রহমানের মাজারে শ্রদ্ধা নিবেদন ও মোনাজাত, দুপুর ১২টায় ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন অডিটোরিয়ামের সামনে রক্তদান কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হবে। এরপর বিকেলে সেখানে আলোচনা সভা হবে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার হলগুলোর মধ্যে সন্ধ্যা থেকে রাত অব্দি আন্তঃহল ব্যাডমিন্টন প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হবে। সারাদেশে সব জেলা, মহানগর, উপজেলা ও পৌর শাখায় বর্ণাঢ্য র্যালি হবে। এছাড়াও আগামীকাল সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত গুলিস্তান স্টেডিয়ামে কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের ৮টি টিমের মধ্যে ফুটবল প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হবে। সারাদেশের সব জেলা, মহানগর, বিশ্ববিদ্যালয়, কলেজ, উপজেলা ও পৌর ইউনিটের উদ্যোগে ক্রিকেট, ফুটবল, ভলিবল, ব্যাডমিন্টন, দাবা- যেকোনো একটি টুর্নামেন্ট অনুষ্ঠিত হবে বলে এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়। আশির দশকে দেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর ছাত্র সংসদে উল্লেখযোগ্য অবস্থান ছিল ছাত্রদলের। নব্বইয়ে স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন কিংবা এর পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন আন্দোলন-সংগ্রামেও সামনের সারিতে দেখা গেছে ছাত্রদলকে। ২০০৯ সাল থেকে শুরু করে ২৪ সাল পর্যন্ত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে বেশি নিপীড়ন নির্যাতনের শিকার হয়েছে বিএনপির এই সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা। গত জুলাই-আগস্টে ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের পর নতুন পরিবেশে কর্মসূচি পালনের ঘোষণা দিয়েছে সংগঠনটি। দীর্ঘ দেড় দশক সাংগঠনিকভাবে কোণঠাসায় থাকা ছাত্রদল শেখ হাসিনার পতনের পর সারাদেশে ব্যাপকভাবে সক্রিয় হয়েছে। ছাত্রসমাজের আস্থা ধরে রাখতে তৎপরতা চালাচ্ছে সংগঠনটি। প্রতিষ্ঠার সাড়ে চার দশকে এসে অতীতের সোনালী গৌরব পুনরুদ্ধারে সক্রিয় এখন ছাত্রদল। তবে কমিটিতে আধিপত্য বিস্তার, দীর্ঘদিন কমিটি পুনর্গঠন ও হালনাগাদ না করার কারণে অভ্যন্তরীণ কিছু সংকটও রয়েছে ছাত্রদলের। প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর শুভক্ষণে ফ্যাসিবাদবিরোধী লড়াইয়ের বিজয়ী হিসেবে ছাত্রসমাজসহ দলীয় নেতাকর্মীদের সংগ্রামী শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়েছেন সংগঠেনের বর্তমান সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব ও সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দিন নাছির। গত ১ মার্চ ভারপ্রাপ্ত সভাপতি রাশেদ ইকবাল খান ও সাধারণ সম্পাদক সাইফ মাহমুদ জুয়েলের নেতৃত্বাধীন কমিটি বিলুপ্ত করে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল কেন্দ্রীয় সংসদের সাত সদস্য বিশিষ্ট নতুন কমিটি অনুমোদন করা হয়। সেসময় আংশিক কমিটিতে রাকিবুল ইসলাম রাকিবকে সভাপতি ও নাসির উদ্দীন নাছিরকে সাধারণ সম্পাদক করা হয়। একইদিনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলেরও নতুন কমিটি ঘোষণা করা হয়। পরে কমিটি গঠনের তিন মাসের মধ্যে গত ১৫ জুন ছাত্রদলের ২৬০ সদস্য বিশিষ্ট পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করা হয়। ওই কমিটিতে কাছের ব্যক্তিদের বেশি প্রাধান্য দিয়ে কমিটি হওয়ায় সংগঠনের নেতাকর্মীদের মাঝেই সমালোচনা শুরু হয়। বিশেষ করে বৃহত্তর উত্তরাঞ্চলের নেতৃত্ব সংখ্যা একেবারেই নাম মাত্র। তাছাড়া বেশি ত্যাগী নেতাকর্মীকে কাঙিক্ষত পদ না পাওয়ায় ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন অনেকে। রাকিব-নাছিরের নেতৃত্বাধীন কমিটি দায়িত্ব নেওয়ার ৫ মাসের মাথায় সৃষ্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে সক্রিয় ভূমিকা রাখে ছাত্রদল। একপর্যায়ে ৫ আগস্ট স্বৈরাচার শেখ হাসিনার পতন ঘটলে সারাদেশে কর্মীসভা শুরু করে সংগঠনটি। বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান প্রণীত রাষ্ট্র মেরামতের ৩১ দফা নিয়ে প্রত্যেকটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে মতবিনিময়, কর্মীসভাসহ নানামুখী ইতিবাচক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে ছাত্রসমাজের আস্থা ধরে রাখার প্রচেষ্টা চালায় ছাত্রদল। এদিকে, আন্দোলন সংগ্রামের মূখ্য ভূমিকায় থাকা ঢাকা মহানগর, বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজ শাখায় ছাত্রদলের দীর্ঘদিন কমিটি না থাকা ও মেয়াদোত্তীর্ণ হওয়ায় ব্যাপক সমালোচনা তৈরি হয়। সর্বশেষ গত ২৪ ডিসেম্বর রাজধানীতে ১১টি ইউনিটে নতুন কমিটি ঘোষণা করে ছাত্রদল। ছাত্রদলের সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব ও সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছির এই কমিটি অনুমোদন করেন। ইউনিটগুলো হলো-জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা কলেজ, সরকারি তিতুমীর কলেজ, তেজগাঁও কলেজ, সরকারি বাঙলা কলেজ, সরকারি কবি নজরুল কলেজ, ঢাকা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ, ঢাকা মহানগর উত্তর, ঢাকা মহানগর পূর্ব এবং ঢাকা মহানগর পশ্চিম শাখা। ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব বলেন, গেলো বছরে আমাদেরকে দুটি আন্দোলনের মুখোমুখি হতে হয়েছি ২৩ সালের ২৮ অক্টোবর থেকে শুরু করে ২৪ জানুয়ারির অবৈধ নির্বাচন যেটা ছিল, নির্বাচনী বাস্তবতায় সেটা আমাদেরকে বেশি পীড়া দিয়েছে, মামলা হামলা ব্যাপক নির্যাতন হয়েছে। ২৪ সালের জুলাই আগস্টের আন্দোলনে আমরা আমাদের ভূমিকা রাখার চেষ্টা করেছি। তারপর পরবর্তী বাস্তব নতুন ধারার ছাত্র রাজনীতির ওপর দিয়ে আমরা যাচ্ছি। কোন প্রকারের নৈরাজ্য, চাঁদাবাজি, সন্ত্রাস এবং সাধারণ শিক্ষার্থীদের কোনো ধরনের সমস্যা হয় এটি আমরা করবো না, সেই ধরনের ছাত্র রাজনীতি নিয়েই আমরা এগিয়ে যাচ্ছি। রানিং স্টুডেন্টদের হাতে নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য এবং তরুণ প্রজন্মকে, তরুণ প্রজন্ম আগামীর বাংলাদেশ বিনির্মাণে ভূমিকা রাখবে, যারা মাদক সন্ত্রাস থেকে দূরে থাকবে, ছাত্র রাজনীতিতে তরুণ প্রজন্মকে উৎসাহিত করা , সেই ধরনের সচেতনমূলক কর্মকাণ্ড নিয়েই আমরা এগিয়ে যাচ্ছি। ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দিন নাছির বলেন, বেগম খালেদা জিয়া এবং তারেক রহমানের প্রত্যক্ষ নির্দেশনায় ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে ছাত্রদল অগ্র-সৈনিকের ভূমিকা পালন করেছে। জুলাই-আগস্টের আন্দোলনে ছাত্রদলের ত্যাগ ছিল নজিরবিহীন। শুরু থেকেই ছাত্রদল পূর্ণ সমর্থন জানিয়েছে এবং বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে ছাত্রদলের সর্বস্তরের নেতাকর্মীরা সাধারণ ছাত্রদের সঙ্গে যুক্ত হয়ে আন্দোলনকে বেগবান করেছে। বর্তমানে গণতন্ত্র উত্তরণের জন্য ছাত্রদল ছাত্র-তরুণদের মাঝে তারেক রহমান প্রণীত রাষ্ট্র সংস্কারের ৩১ দফা প্রস্তাবনার পক্ষে জনমত গঠনে কাজ করছে। আমরা সারাদেশ থেকে তরুণদের ইতিবাচক সাড়া পেয়েছি। তিনি বলেন, ছাত্রদল একুশ শতকের উপযোগী মেধাভিত্তিক এবং বুদ্ধিবৃত্তিক ছাত্র-রাজনীতি চর্চায় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। নেতাকর্মীরা যাতে দক্ষ মানবসম্পদ হিসেবে ভূমিকা রাখতে পারে আমরা সেদিকে লক্ষ্য রেখে আমাদের নেতাকর্মীদের প্রস্তুত করছি। মেধাবী তরুণদেরকে নিজ নিজ প্রতিভা বিকাশের সুযোগ প্রদান এবং ছাত্রদের ন্যায়সঙ্গত সব দাবির পক্ষে আমরা কাজ করছি। সাম্য ও মানবিক মর্যাদার ভিত্তিতে একটি গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা করা আমাদের লক্ষ্য।

Scroll to Top