৩রা জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

Author name: Farid Ahmed

আজকের সংবাদ, রাজনীতি

গণঅভ্যুত্থানের ঘোষণাপত্র ছাড়া এই সরকার বেআইনি ও অবৈধ

নিজস্ব প্রতিবেদক: লেখক, কবি ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক ফরহাদ মজহার বলেছেন, ঘোষণাপত্র (Proclamation) জনগণের ক্ষমতা জনগণের কাছেই ফিরিয়ে দেওয়ার গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক এবং আইনি অনুষ্ঠান। গণঅভ্যুত্থানের ঘোষণাপত্রের অনুপস্থিতিতে সেনাসমর্থিত উপদেষ্টা সরকার বেআইনি ও অবৈধ।  বুধবার দুপুরে সামাজিক যোগযোগমাধ্যম ফেসবুকে নিজের ভেরিফাইড পেজে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এসব কথা বলেন। ওই পোস্টে তিনি আরও বলেন, শুরু থেকেই আমি কয়েকটি স্পষ্ট কথা বলে এসেছি। শেখ হাসিনার ফ্যাসিস্ট সংবিধান রক্ষার শপথ নিয়ে একটি সেনা সমর্থিত উপদেষ্টা সরকার গঠন করা হয়েছে অথচ এ ধরনের সরকারের কোনো সাংবিধানিক বা আইনি ভিত্তি নাই। অর্থাৎ জনগণের অভিপ্রায়ের বিপরীতে একটা অবৈধ সরকার জবরদস্তি কায়েম রাখা হয়েছে। আইন কিংবা রাজনৈতিক প্রক্রিয়া উভয় দিক থেকে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ফলে এ ধরনের সেনা সমর্থিত উপদেষ্টা সরকার গঠন সম্পূর্ণ অবৈধ, অযৌক্তিক এবং কাণ্ডজ্ঞান বিবর্জিত সিদ্ধান্ত। সতেরো কোটির অধিক জনগণ অধ্যুষিত বাংলাদেশের জন্য এটা ভয়ানক দায়িত্বহীন ও বিপজ্জনক। ইতোমধ্যেই বৈরী ভূরাজনৈতিক বাস্তবতায় এই অবৈধ সরকার প্রকট বিপদ তৈরি করে রেখেছে। সীমান্তে ভারতীয় সেনাবাহিনীর দাপট ও দম্ভ তার প্রমাণ।  ফরহাদ মজহার বলেন, ঘোষণাপত্রের গুরুত্ব হচ্ছে ঘোষণাপত্র এযাবৎকালে যে সকল ফ্যাসিস্ট আইন ও ফ্যাসিস্ট রাষ্ট্র ব্যবস্থা জবরদস্তি কায়েম রাখা হয়েছে তাদের বৈধতা অস্বীকার করে এবং সার্বভৌমত্বের ভিত্তিতে নতুনভাবে রাষ্ট্র ও সরকার গঠনের প্রতিশ্রুতির দেয়। ঘোষণাপত্র সেই দিক থেকে এক প্রকার গণ-অঙ্গীকারপত্র বা গণপ্রতিশ্রুতি। যার মধ্য দিয়ে গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে গঠিত সরকার পূর্ণ ক্ষমতা লাভ করে এবং  দেশের জনগণ এবং আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে নিজেদের বৈধতা অর্জন করে। একইভাবে ঘোষণাপত্র জনগণের সরাসরি অংশগ্রহণমূলক প্রক্রিয়ায় মধ্য দিয়ে ক্ষমতা হস্তান্তরের আইনি ভিত্তি স্থাপন করে। গণঅভ্যুত্থানের ঘোষণাপত্র এমন একটি দলিল উল্লেখ করে এই রাজনৈতিক বিশ্লেষক বলেন, এটা পরিষ্কার গণঅভ্যুত্থানের ঘোষণাপত্র (Proclamation) গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থার আইনি ও নৈতিক ভিত্তি স্থাপন করে। এটি জনগণের ইচ্ছার সার্বভৌম প্রকাশ এবং শাসনব্যবস্থার পুনর্গঠন ও সংস্কারের পথ দেখায়। গণঅভ্যুত্থানের ঘোষণাপত্র এমন একটি দলিল, যা জনগণের অধিকার, মর্যাদা এবং গণতান্ত্রিক ক্ষমতার রূপ নির্দেশ করে। এটি নিছকই শাসনতান্ত্রিক বা সাংবিধানিক দলিল নয়, বরং নিজেদের ইতিহাস ও ঐতিহ্যের সঙ্গে পুনরায় গিঁট বেঁধে স্বাধীনতা, সাম্য, এবং মানবাধিকারকে মূর্ত ও বর্তমান করে তোলার প্রক্রিয়া। তাই জুলাই গণঅভ্যুত্থানের মুহূর্ত বাংলাদেশের জনগণের ইতিহাসের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি অধ্যায়। এই ঘোষণার মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের নতুন রাজনৈতিক সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন এবং বিশ্বসভায় শক্তিশালী স্থান অর্জন করবার ভিত্তি।  গণঅভ্যুত্থানে নেতৃত্বদানকারী ছাত্রছাত্রী তরুণদের দাবি মানা হচ্ছে না দাবি করে ফরহাদ মজহার বলেন, এই সকল কারণে গণঅভ্যুত্থানে নেতৃত্বদানকারী ছাত্রছাত্রী তরুণেরা বারবার গণঅভ্যুত্থানের মর্ম ধারণ করে এমন একটি ‘ঘোষণা’ (Proclamation)-র দেওয়ার দাবি করে আসছেন। যদিও তাদেরকে এখন ব্যাখ্যা করতে হবে কোন পরিস্থিতির শিকার হয়ে এবং কাদের পরামর্শে এ ধরনের ঘোষণা গণঅভ্যুত্থানের পরপরই তারা দেননি, কিংবা দেওয়া হয় নি। কেন গণ-অভিপ্রায় বিরোধী এবং সংবিধান বহির্ভূত সরকার গঠন করা হলো।  এই ক্ষেত্রে সেনাবাহিনী প্রশংসার দাবিদার, কারণ উদ্ভূত পরিস্থিতিতে তারা সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ ভূমিকা বজায় রাখছেন। কিন্তু আফসোস গণঅভ্যুত্থানে নেতৃত্বদানকারী ছাত্রছাত্রী তরুণদের দাবি মানা হচ্ছে না। যা গভীর রাজনৈতিক সংকট তৈরি করে রেখেছে। এই সংকট এড়িয়ে যাবার কোন উপায় নাই।  গণঅভ্যুত্থানের ঘোষণাপত্র কেন জরুরি সেই বলতে গিয়ে ওই পোস্টে তিনি লিখেন, ‘‘বর্তমান বিপজ্জনক পরিস্থিতির একটি কারণ হতে পারে বাংলাদেশের আইনি বা সাংবিধানিক পর্যালোচনায় এবং সামগ্রিক বুদ্ধিবৃত্তিক পরিমণ্ডলে গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে গণসার্বভৌমত্ব (Popular Sovereignty) প্রতিষ্ঠার বিষয়টি– বিশেষত ‘ঘোষণা’ (proclamation) কেন জরুরি সে সম্পর্কে  প্রকট অজ্ঞতা রয়েছে।  অথচ গণঅভ্যুত্থানের পরে গণঅভিপ্রায় ব্যক্ত করে দেওয়া ‘ঘোষণা’ গভীর আইনি এবং রাজনৈতিক তাৎপর্য বহন করে। গণঅভ্যুত্থানের মুহূর্ত বা সময় শুধুমাত্র একটি ঐতিহাসিক মুহূর্ত নয়, বরং চূড়ান্ত ক্ষমতার উৎস হিসেবে জনগণের সার্বভৌম ভূমিকাকে স্বীকৃতি দিয়ে ‘ঘোষণা’একটি নতুন গঠনতন্ত্র এবং সমাজ বিনির্মাণের ভিত্তি রচনা করে’’।  ‘‘গণঅভ্যুত্থান সে কারণে ধর্মীয় ও আধ্যাত্মিক সাহিত্যে অভূতপূর্ব বিপ্লবী মুহূর্ত বা রুহানি ওয়াক্ত হিসেবে স্বীকৃত। গণঅভ্যুত্থান এমন একটি বিপ্লবী মুহূর্ত, যা জনগণের ঐক্য এবং সংগ্রামের চূড়ান্ত প্রকাশ। এটি জনগণের চেতনার পুনর্জাগরণ ঘটায় এবং জীবাবস্থা থেকে জনগণ নিজেদের সামষ্টিক রুহানি সত্তার স্বাদ আস্বাদন করে। এই সেই মুহূর্ত যখন ব্যক্তি সমষ্টির স্বার্থে শহিদী জীবন কবুল করে নিতে দ্বিধা করে না’’।   সবশেষ ওই পোস্টে তিনি জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ঘোষণাপত্রের বেশকিছু আইনি এবং রাজনৈতিক তাৎপর্য তুলে ধরেন। নিচের তার বিশ্লেষণগুলো তুলে ধরা হল। ১. আইনি তাৎপর্য সার্বভৌমত্বের ঘোষণাপত্র (Proclamation) হিসেবে স্বীকৃতি গণঅভ্যুত্থানের ঘোষণাপত্র একটি গঠনতান্ত্রিক দলিল হিসেবে কাজ করে। বাংলাদেশের বাস্তবতায় ‘ঘোষণাপত্র’ শেখ হাসিনার ও অন্যান্য গণবিরোধী রাজনীতির বিপরীতে গণরাজনৈতিক ধারাকে প্রতিষ্ঠিত করে এবং শেখ হাসিনা প্রবর্তিত ফ্যাসিস্ট রাষ্ট্র ব্যবস্থা এবং তার আগের বিভিন্ন গণবিরোধী আইন বা সংবিধানের ব্যর্থতাকে চ্যালেঞ্জ করে নতুন গঠনতন্ত্র প্রবর্তনের ভিত্তি স্থাপন করে।  আইনের দিক গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী ঘোষণা জনগণের ইচ্ছার চূড়ান্ত প্রকাশ, যা গণঅভ্যুত্থানের আগে বিদ্যমান ফ্যাসিস্ট আইন, ফ্যাসিস্ট রাষ্ট্র ব্যবস্থা এবং সকল প্রকার ফ্যাসিস্ট ক্ষমতা ও ফ্যাসিস্ট প্রতিষ্ঠানের বৈধতাকে অস্বীকার করার মধ্য দিয়ে একটি নতুন গঠনতন্ত্র প্রণয়ণের জন্য অবিলম্বে নতুন গঠনতান্ত্রিক প্রক্রিয়া শুরু করে; অর্থাৎ নতুন গঠনতন্ত্রের জন্য নৈতিক ও আইনি অধিকার প্রতিষ্ঠা করে। প্রাক-গঠনতান্ত্রিক (বা প্রাক-সাংবিধানিক) দলিলের ভূমিকা গণঅভ্যুত্থানের পর ঘোষণাপত্র একটি প্রাক-গঠনতান্ত্রিক– অর্থাৎ নতুন গঠনতন্ত্র প্রণয়নের ভিত্তি ও দিক-নির্দেশনা হিসাবে কাজ করে। যা ভবিষ্যৎ গঠনতন্ত্রের নীতিগত ও আদর্শিক ভিত্তি প্রদান করে। এটি নতুন গঠনতন্ত্রের উপাদান- যেমন সাম্য, স্বাধীনতা, মানবিক মর্যাদা, এবং সামাজিক ন্যায়বিচারকে স্পষ্টভাবে সংজ্ঞায়িত করে।  শাসনক্ষমতার পুনর্বণ্টন ঘোষণাপত্রের মাধ্যমে জনগণের কাছে শাসনক্ষমতা ফিরিয়ে দেওয়া হয়। ঘোষণাপত্রের গুরুত্ব হচ্ছে ঘোষণাপত্র পূর্ববর্তী শাসনব্যবস্থার বৈধতা অস্বীকার করে এবং জনগণের সরাসরি অংশগ্রহণমূলক প্রক্রিয়ায় মধ্য দিয়ে ক্ষমতার হস্তান্তরের আইনি ভিত্তি স্থাপন করে। আন্তর্জাতিক আইনি স্বীকৃতি গণ অভ্যুত্থানের ভিত্তিতে ঘোষণাপত্র আন্তর্জাতিক আইনের আলোকে স্বীকৃতি পেতে পারে। গণঅভ্যুত্থানের পরে ঘোষিত ঘোষণাপত্র আদতে জাতিসংঘে গৃহীত জনগণের আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকারকেই প্রতিষ্ঠিত করে। জাতিসংঘ সনদ (UN Charter) এবং অন্যান্য আন্তর্জাতিক নীতিমালা, বিশেষত আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকার ও গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থার নীতিকে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ঘোষণাপত্র শক্তিশালী করে। ২. রাজনৈতিক তাৎপর্য গণসার্বভৌমত্ব প্রতিষ্ঠা গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে জনগণ নিজেরাই নিজেদের আইনদাতা, শাসক এবং বর্তমান ও ভবিষ্যৎ নির্মাণকর্তা হিসাবে প্রতিষ্ঠিত করে। আগের ফ্যাসিস্ট রাষ্ট্র ও সাংবিধানিক একনায়কতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থার পতন ঘটিয়ে জনগণের অভিপ্রায় বা ইচ্ছার ভিত্তিতে নতুন রাজনৈতিক জনগোষ্ঠী হিসাবে জনগণ নিজেরা নিজেদের রাজনৈতিক কর্তা সত্তা হিসাবে প্রতিষ্ঠিত করে। এবং নিজেদের নতুনভাবে ‘গঠন’ করার আইনি ও রাজনৈতিক স্বীকৃতি লাভ করে। আন্তর্জাতিকভাবে এই স্বীকৃতি ছাড়া বিশ্ব রাষ্ট্র ব্যবস্থায় বাংলাদেশ কখনই শক্তিশালী স্থান দখল করতে পারবে না।  নতুন রাজনৈতিক বন্দোবস্তের সূচনা ঘোষণাপত্রের মাধ্যমে আর্থ-সামাজিক, সাংস্কৃতিক এবং নাগরিকদের পরস্পরের মধ্যে নতুন সম্পর্ক নির্মাণের সূত্র বা নীতি হাজির করা হয়। উদাহরণস্বরূপ, ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণ, মানবাধিকারের সুরক্ষা, এবং জনগণের প্রত্যক্ষ অংশগ্রহণমূলক প্রশাসনিক ব্যবস্থা বা স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠার মতো গুরুতর ও মৌলিক বিষয়গুলো এতে অন্তর্ভুক্ত থাকে। অনেকে একে নতুন ‘রাজনৈতিক বন্দোবস্ত’ বলে থাকেন, কিন্তু এই বন্দোবস্ত মানে রাজনৈতিক দল বা বিভিন্ন গণবিরোধী ও ফ্যাসিস্ট শক্তির সঙ্গে আপোষ-মীমাংসার ‘বন্দোবস্ত নয়। ‘রাজনৈতিক বন্দোবস্ত’ ধারণা হিসাবে ভুল বিভ্রান্তিকর রাজনৈতিক বর্গ।  অন্তর্বর্তীকালীন শাসনের ভিত্তি বা রাজনৈতিক বৈধতার প্রশ্ন (Political Legitimacy) ঘোষণাপত্র রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত এবং নতুন গঠনতন্ত্র প্রণয়নের পথ প্রস্তুত

আজকের সংবাদ, জাতীয়

রাজনৈতিক ঐকমত্য প্রতিষ্ঠায় প্রধান উপদেষ্টার নেতৃত্বে কমিশন গঠন

নিজস্ব প্রতিবেদক: রাষ্ট্র সংস্কারের অংশ হিসেবে প্রথম ধাপে চার সংস্কার কমিশন সুপারিশমালা জমা দিয়েছে। এ সুপারিশমালার ভিত্তিতে দ্বিতীয় ধাপে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে ঐকমত্য প্রতিষ্ঠার জন্য সংস্কার বিষয়ে আলোচনা হবে। আলোচনার জন্য অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে জাতীয় ঐকমত্য কমিশন গঠন করা হয়েছে। এ কমিশনের সদস্য হিসেবে ছয়টি কমিশনের প্রধানরা রয়েছেন। তৃতীয় ধাপে ঐকমত্যের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় আইন ও নীতি প্রণয়নের কাজ শুরু হবে। চতুর্থ ধাপে হবে বাস্তবায়ন। বুধবার (১৫ জানুয়ারি) বিকেলে রাজধানীর বেইলি রোডের ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং আয়োজিত প্রেস ব্রিফিংয়ে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান উপদেষ্টা আসিফ নজরুল এসব কথা বলেন। এদিকে প্রেস ব্রিফিংয়ে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান বলেন, ফেব্রুয়ারির মাঝামাঝি সময়ে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে সংস্কার কমিশনের প্রতিবেদন নিয়ে আলোচনা শুরু হবে। রিজওয়ানা হাসান বলেন, ১১টি সংস্কার কমিশনের মধ্যে আজ পর্যন্ত চারটি সংস্কার কমিশনের প্রতিবেদন ও সুপারিশ হস্তান্তর করা হয়েছে। তবে হস্তান্তর করা সুপারিশগুলোর মধ্যে কিছু কিছু কনটেন্ট পুনরাবৃত্তিসহ কিছু সংশোধনী থাকায় কমিশন প্রধানরা আগামী ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত সময় চেয়ে নিয়েছেন। কমিশন এ সময়ের আগেই চূড়ান্ত সুপারিশমালা প্রণয়ন করতে পারলে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনা প্রথম সপ্তাহেও শুরু হতে পারে। প্রেস ব্রিফিংয়ে আরও উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় সরকার, যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া, প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম।

আজকের সংবাদ, জাতীয়

ডেসটিনির এমডি রফিকুলসহ ১৯ জনের ১২ বছর কারাদণ্ড

নিজস্ব প্রতিবেদক: ডেসটিনি ট্রি প্ল্যান্টেশন লিমিটেডের গাছ বিক্রির টাকা আত্মসাতের মামলায় ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) রফিকুল আমীনসহ ১৯ জনকে ১২ বছর করে কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। বুধবার (১৫ জানুয়ারি) ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৪ এর বিচারক মো. রবিউল আলমের আদালত এ রায় ঘোষণা করেন। অন্য আসামিরা হলেন- ডেসটিনির পরিচালক লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) হারুনুর রশিদ, প্রধান কার্যালয়ের চেয়ারম্যান মো. হোসেন, ভাইস প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ গোফরানুল হক, মো.সাইদ-উর রহমান, মেজবাহ উদ্দিন স্বপন, ইঞ্জিনিয়ার শেখ তৈয়েবুর রহমান ও গোপাল চন্দ্র বিশ্বাস, পরিচালক সৈয়দ সাজ্জাদ হোসেন, ইরফান আহমেদ সানী, মিসেস ফারহা দিবা ও জামসেদ আরা চৌধুরী, প্রফিট শেয়ারিং ডিস্ট্রিবিউটর মো. জসিম উদ্দীন ভূইয়া, ডেসটিনি মাল্টিপারপাস কো অপারেটিভ সোসাইটি লিমিটেডের সাধারণ সম্পাদক মো. জাকির হোসেন ও সদস্য মো. আবুল কালাম আজাদ, ডায়মন্ড এক্সিকিউটিভ এস এম আহসানুল কবির বিপ্লব, জোবায়ের সোহেল ও আব্দুল মান্নান এবং ক্রাউন এক্সিকিউটিভ মোসাদ্দেক আলী খান। এর আগে, ২০১২ সালের ৩১ জুলাই ডেসটিনির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. রফিকুল আমীনসহ ১২ জনের বিরুদ্ধে গ্রাহকের দুই হাজার ২৫৭ কোটি ৭৮ লাখ ৭৭ হাজার ২২৭ টাকা আত্মসাৎ ও পাচারের অভিযোগে দুদকের উপ-পরিচালক মো. মোজাহার আলী সরকার বাদী হয়ে ঢাকার কলাবাগান থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলার এজহারে বলা হয়, ডেসটিনি মাল্টিপারপাস কো-অপারেটিভ সোসাইটি লিমিটেডের (ডিএমসিএসএল) মামলায় আসামিরা নিজেরা লাভবান হতে ২০০৯ সালের জুলাই থেকে ২০১২ সালের জুন পর্যন্ত সাড়ে আট লাখেরও বেশি বিনিয়োগকারীর সঙ্গে প্রতারণা করেছেন। এ সময় ঋণ প্রদান, অলাভজনক প্রতিষ্ঠানে বিনিয়োগ, নতুন প্রতিষ্ঠান খোলার নামে বিনিয়োগকারীদের কাছ থেকে হাজার কোটি টাকা সংগ্রহ করা হয়েছে। যা পরবর্তী সময়ে আসামিরা লভ্যাংশ, সম্মানি ও বেতন-ভাতার নামে সরিয়ে নিয়েছেন। অপরদিকে ২০০৬ সালের ২১ মার্চ থেকে ২০০৯ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত আইন ও বিধি লঙ্ঘন করে গাছ বিক্রির নামে ডেসটিনি ট্রি-প্লান্টেশন লিমিটেডের (ডিটিপিএল) জন্য দুই হাজার কোটিরও বেশি টাকা গ্রাহকদের কাছ থেকে সংগ্রহ করা হয়েছে। মামলাটি তদন্ত শেষে ১৯ জনকে অভিযুক্ত করে ২০১৪ সালের ২০ মার্চ আদালতে চার্জশিট দাখিল করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা দুদকের উপ-পরিচালক মো. মোজাহার আলী সরদার। তদন্তে আরও সাতজনের নাম আসামির তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়। ২০১৬ সালের ২৪ আগস্ট মামলাটির অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে বিচার শুরু করেন আদালত। এ মামলায় বিচার চলাকালে ১৪০ জন সাক্ষ্য দিয়েছেন।

আজকের সংবাদ, জাতীয়

সংস্কার প্রস্তাব জমা দিয়েছে চার কমিশন

ডেস্ক: অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের কাছে প্রতিবেদন জমা দিয়েছে চারটি সংস্কার কমিশন। বুধবার (১৫ জানুয়ারি) তেজগাঁওয়ে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে সংস্কার কমিশন প্রধানরা এসব প্রতিবেদন জমা দেন। প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম এক ফেসবুক পোস্টে সংবিধান সংস্কার কমিশনের প্রস্তাবের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। প্রতিবেদন জমা দেওয়া কমিশনগুলো হলো- নির্বাচন কমিশন, দুর্নীতি দমন কমিশন, পুলিশ এবং সংবিধান সংস্কারে গঠিত কমিশন। প্রতিবেদন জমা দেওয়ার পর রিপোর্ট নিয়ে আলোচনা হবে। আজ বিকেল ৩টায় সংবাদ সম্মেলন করে এ বিষয়ে গণমাধ্যমকে সরকারের পক্ষ থেকে বিস্তারিত জানানোর কথা রয়েছে। গত ৩ অক্টোবর কমিশন গঠন করে প্রজ্ঞাপন জারি করেছিল অন্তর্বর্তী সরকার। প্রসঙ্গত, গত ৩ অক্টোবর নির্বাচন ব্যবস্থা, বিচার বিভাগ, দুর্নীতি দমন কমিশন, পুলিশ ও জনপ্রশাসন সংস্কার কমিশন গঠন করে প্রজ্ঞাপন জারি করে অন্তর্বর্তী সরকার। পরে ৭ অক্টোবর সংবিধান সংস্কার কমিশন গঠন করা হয়। এরপর দ্বিতীয় ধাপে গণমাধ্যম, স্বাস্থ্য, শ্রম, নারীবিষয়ক ও স্থানীয় সরকার ব্যবস্থা সংস্কার কমিশন গঠন করা হয়। এদিকে সংস্কার কমিশনগুলোকে ৯০ দিনের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছিল। তবে প্রথম ধাপের ৫টি সংস্কার কমিশনের মেয়াদ বুধবার (১৫ জানুয়ারি) পর্যন্ত বাড়ায় সরকার। এ ছাড়া বিচার বিভাগ সংস্কার কমিশনের মেয়াদ ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত সময় বাড়ানো হয়।

Adv Abbas Uddin Faridganj
আজকের সংবাদ, ফরিদগঞ্জ

ঢাকাস্থ বৃহত্তর কুমিল্লা সমিতির সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হয়েছেন এ্যাড. আব্বাস উদ্দিন

নিজস্ব প্রতিবেদক: ঢাকাস্থ বৃহত্তর কুমিল্লা সমিতির সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হয়েছেন চাঁদপুরের কৃতী সন্তান এ্যাড. আব্বাস উদ্দিন। সভাপতি হিসেবে নির্বাচিত হন সিনিয়র সচিব নেয়ামত উল্লাহ ভূঁইয়া।শনিবার (১১ জানুয়ারি ২০২৫) বিকাল ৪ টায় কাকরাইলে সংস্থার অফিস কক্ষে সমিতির সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। সম্মেলন ও নির্বাচন ২০২৫ কমিটির আহ্বায়ক আবদুল করিম সরকারের সভাপতিত্বে আগামী ২ বছরের জন্য সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত করা হয়। কুমিল্লা, ব্রাক্ষনবাড়িয়া ও চাঁদপুর জেলা নিয়ে বৃহত্তর কুমিল্লা সমিতি ১৯৬০ সালে গঠিত হয়। সদস্যদের কল্যাণের পাশাপাশি সমিতি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের বৃত্তি, দরিদ্র ছেলে মেয়েদের বিবাহ সহায়তা এবং অসহায় মানুষের চিকিৎসা সহায়তা, সামাজিক কর্মকান্ড পরিচালনা করা হয় এই সমিতি থেকে। এছাড়াও মসজিদ মাদ্রাসায়ও অনুদান প্রদান করা হয়। পুরনো এই সমিতির প্রথমবারের মতো সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হয়েছেন বিশিষ্ট কর আইনজীবি, শিক্ষানুরাগী, রাজনৈতিক চাঁদপুর তথা ফরিদগঞ্জের কৃতি সন্তান এ্যাডভোকেট আব্বাস উদ্দিন। জিনি দীর্ঘদিন ফরিদগঞ্জে দরিদ্র অসহায় মানুষদের নিয়ে কাজ করে আসছেন। এছাড়া ফরিদগঞ্জে শিক্ষাখাতকে এগিয়ে নিতে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। বীর মুক্তিযোদ্ধা এ্যাডভোকেট আব্বাস উদ্দিন ঢাকা ট্যাক্সসেস বার এসোসিয়েশনের দুই বারের জনপ্রিয় সাবেক সভাপতি, বাংলাদেশ ট্যাক্স ল’ইয়ার্স এসোসিয়েশনের মহাসচিব, ঢাকাস্ত বৃহত্তর কুমিল্লা আইনজীবী কল্যান সমিতির সাবেক সভাপতি, ঢাকাস্থ বৃহত্তর কুমিল্লা কর আইনজীবী কল্যাণ সমিতির সাবেক সভাপতির দায়িত্ব অত্যান্ত কৃতিত্বেরসহিত এবং সফলভাবে পালন করেছেন। বর্তমানে ‘এ্যাডভোকেট আব্বাস উদ্দিন ফাউন্ডেশন’র সভাপতির দায়িত্বও পালন করছেন। এ্যাডভোকেট আব্বাস উদ্দিন ঢাকাস্থ বৃহত্তর কুমিল্লা সমিতির সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হওয়ায় ফরিদগঞ্জ লেখক ফোরামসহ উপজেলার বিভিন্ন সামাজিক সংগঠন তাঁকে অভিনন্দন জানিয়েছেন।

Abu sayed rangpur
আজকের সংবাদ, জাতীয়

গণঅভ্যুত্থানে শহীদ ও আহতদের নাম তালিকাভুক্ত করার সময় নির্ধারণ 

গণঅভ্যুত্থানে শহীদ ও আহতদের নাম তালিকাভুক্ত করতে সময়সীমা নির্ধারণ করে দিয়েছে সরকার। চলতি মাস পর্যন্ত শহীদ ও আহতদের নাম তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা যাবে বলে একটি খুদে বার্তায় জানানো হয়েছে। রোববার (১২ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ওয়েবসাইটে এই খুদে বার্তাটি প্রকাশ করা হয়। এতে বলা হয়, ‘গণঅভ্যুত্থানে শহীদ ও আহতের নাম তালিকাভুক্ত করতে সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসক/উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা/জুলাই শহীদ স্মৃতি ফাউন্ডেশন/গণঅভ্যুত্থান সংক্রান্ত বিশেষ সেল বরাবর ৩১/০১/২০২৫ পর্যন্ত আবেদন করা যাবে।’ এর আগে গত ২১ ডিসেম্বর গণঅভ্যুত্থানে শহীদ ও আহত ব্যক্তিদের প্রথম ধাপের খসড়া তালিকা প্রকাশ করে তথ্য অধিদপ্তর। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, জুলাই-আগস্টে ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে অংশগ্রহণ করে প্রতিপক্ষের আক্রমণে শহীদ বা আহত হয়েছেন এমন ব্যক্তিদের নামের তালিকা চূড়ান্ত করার লক্ষ্যে স্বাস্থ্যসেবা বিভাগ, স্বাস্থ্য অধিদপ্তর, ৬৪ জেলায় গঠিত জেলা কমিটি এবং গণঅভ্যুত্থান সংক্রান্ত বিশেষ সেল নিরলস কাজ করে যাচ্ছে। এরই অংশ হিসেবে শহীদ এবং আহত ব্যক্তিদের তালিকা চূড়ান্ত করার লক্ষ্যে প্রথম ধাপের খসড়া তালিকা গণঅভ্যুত্থান সংক্রান্ত বিশেষ সেলের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়েছে।

আজকের সংবাদ, প্রবাস

বোয়েসেলের মাধ্যমে ১০ হাজার কর্মীকে পাঠানো হবে মালয়েশিয়ায়

নিজস্ব প্রতিবেদক: মালয়েশিয়া সরকারের বেঁধে দেওয়া সময়ের মধ্যে দেশটিতে যেতে না পারা বাংলাদেশি কর্মীদের দুটি তালিকা করেছে প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়। এই দুই তালিকা অনুযায়ী সরকারি জনশক্তি রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ ওভারসিজ এমপ্লয়মেন্ট অ্যান্ড সার্ভিসেস লিমিটেডের (বোয়েসেল) মাধ্যমে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে তাদের মালয়েশিয়া পাঠানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। গত বছরের মার্চে মালয়েশিয়ার পক্ষ থেকে জানানো হয়, তারা ২০২৩ সালের ৩১ মার্চের পর নতুন করে আর কর্মীর চাহিদাপত্র ইস্যু করবে না। তবে এই সময়ের আগে ইস্যু করা চাহিদাপত্রে বিদেশি কর্মীরা ৩১ মে পর্যন্ত দেশটিতে প্রবেশ করতে পারবে, এই সময়ের পর আর কাউকে প্রবেশ করতে দেওয়া হবে না। তবে সেই সময়সীমার মধ্যে প্রায় ১৭ হাজার বাংলাদেশি কর্মী মালয়েশিয়ায় যেতে পারেননি বলে প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা যায়। সে সময় তৎকালীন প্রবাসীকল্যাণমন্ত্রী শফিকুর রহমান চৌধুরী দাবি করেছিলেন, রিক্রুটিং এজেন্সিগুলোর গাফিলতির কারণেই মালয়েশিয়া যেতে পারেননি বাংলাদেশি কর্মীরা। অন্যদিকে অ্যাসোসিয়েশন অব ট্রাভেল এজেন্টস অব বাংলাদেশ আটাবের পক্ষ থেকে সে সময় বলা হয়, প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়, বাংলাদেশ জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরো-বিএমইটি ও বায়রার মধ্যে সমন্বয়হীনতাই কর্মীদের মালয়েশিয়া যেতে না পারার কারণ। জানা গেছে, মালয়েশিয়া যেতে না পারা সেই ১৭ হাজার কর্মীর মধ্যে প্রায় ৪ হাজারের মতো কর্মী পরবর্তী সময়ে ই-পাসপোর্টজনিত জটিলতা কাটিয়ে মালয়েশিয়া যেতে সক্ষম হয়েছে। বাকি ১৩ হাজার কর্মীর মধ্যে প্রায় ৩ হাজার কর্মীর মালয়েশিয়ায় যাওয়ার সম্ভাবনা নেই বললেই চলে। কারণ তাদের নিয়োগদাতা কোম্পানিগুলো কালো তালিকাভুক্ত। বাকি যে ১০ হাজার কর্মী আছেন, তাদের এখন বোয়েসেলের মাধ্যমে মালয়েশিয়ায় পাঠানোর উদ্যোগ নিয়েছে মন্ত্রণালয়। তাদের মধ্যে ৫ হাজারের বেশি কর্মী মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে এজেন্টদের কাছ থেকে টাকা ফেরত পেয়েছেন। বাকিরাও যাতে টাকা ফেরত পায় সে জন্য মন্ত্রণালয় কাজ করছে। মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছে, মালয়েশিয়া যেতে না পারা কর্মীদের দুটি তালিকা করা হয়েছে। তাদের মধ্যে যাদের জনশক্তি, কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর (বিএমইটি) ছাড়পত্র ছিল এবং এজেন্সির থেকে টাকা ফেরত পেয়েছে তাদের নাম আছে প্রথম তালিকায়। আর যেসব কর্মী বিএমইটি ছাড়পত্র পাননি, তবে এজেন্সি টাকা পরিশোধ করেছে, তারা আছেন দ্বিতীয় তালিকায়। এর মধ্যে প্রথম তালিকায় থাকা কর্মীদের বোয়েসেলের ব্যবস্থাপনায় কম খরচে মালয়েশিয়া পাঠানোর চেষ্টা চলছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ১৪টি দেশ থেকে মালয়েশিয়া কর্মী নিলেও একমাত্র বাংলাদেশের কর্মীরাই অব্যবস্থাপনা ও প্রতারণার শিকার হয়েছে। এর জন্য দায়ী সিন্ডিকেট। এদিকে প্রায় মালয়েশিয়া যেতে না পারা প্রায় ৫ হাজার কর্মী এজেন্সিকে দেওয়া তাদের টাকা ফেরত না পেয়ে উদ্বেগে দিন কাটাচ্ছে। তাদের মধ্যে কয়েকজন কালবেলাকে জানিয়েছে, তারা মন্ত্রণালয়ে কাগজপত্র জমা দিলেও টাকা বা এ সম্পর্কিত তথ্য পাচ্ছেন না। সরকারের কাছে তাদের অনুরোধ, সরকার যেন তাদের টাকা ফেরত দেওয়ার এবং পুনরায় মালয়েশিয়ায় পাঠানোর ব্যবস্থা করে। আলাউদ্দিন নামে ভুক্তভোগী এক কর্মী কালবেলাকে বলেন, ‘টাকা ফেরত পেতে আমরা ৬৭ জন একসঙ্গে মন্ত্রণালয়ে কাগজপত্র জমা দিয়েছি। আমরা প্রত্যেকেই ৫-৬ লাখ করে টাকা এজেন্সিকে দিয়েছি। এখন মন্ত্রণালয়ে এসেছি টাকা ফেরত নেওয়ার জন্য এবং পরবর্তী সময়ে পুনরায় মালয়েশিয়া যাওয়ার ব্যবস্থা করে দেওয়ার জন্য। তবে মন্ত্রণালয় থেকে এখন পর্যন্ত আমরা তথ্য পাচ্ছি না। হাজার হাজার বঞ্চিত ও প্রতারিত মালয়েশিয়াগামী কর্মী রাস্তায় রাস্তায় ঘুরে বেড়াচ্ছে। এ বিষয়ে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করার জন্য সরকারকে অনুরোধ করছি।’ এ বিষয়ে প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা আসিফ নজরুলের একান্ত সচিব সারোয়ার আলম কালবেলাকে বলেন, মালয়েশিয়াগামী যেসব কর্মী বিদেশে যেতে পারেননি, তাদের সংখ্যা ১৭ হাজারের মতো। তাদের মধ্যে সর্বশেষ কর্মীর সংখ্যা ১০ হাজারের মতো রয়েছে, যাদের মধ্যে প্রায় সাড়ে ৫ হাজার লোক টাকা ফেরত নিয়েছে। বাকিদের টাকা ফেরত দেওয়ার কার্যক্রম চলমান রয়েছে। এ বিষয়ে যদি কোনো এজেন্সি মিথ্যা তথ্য দেয়, তবে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এক্ষেত্রে মন্ত্রণালয় দুটি তালিকা ধরে এগোচ্ছে। তিনি আরও বলেন, বঞ্চিত কর্মীদের প্রথমেই তালিকা অনুযায়ী টাকা ফেরত নিতে হবে। পরে এই তালিকা ধরে নতুন করে মালয়েশিয়ার লোক পাঠানোর চেষ্টা করা হবে। সম্ভবত, জানুয়ারি বা ফেব্রুয়ারির মধ্যেই উভয় দেশের মিটিং হবে। তখন যেসব কর্মীদের অগ্রাধিকারভিত্তিতে বোয়েসেলের মাধ্যমে মালয়েশিয়ায় লোক পাঠানোর বিষয়ে মন্ত্রণালয়ে পরিকল্পনা করছে। মালয়েশিয়াগামী প্রবাসী কর্মীরা যাতে কম খরচে কাজের সুযোগ পায় এবং পুনরায় এজেন্সির দ্বারা প্রতারণার শিকার না হয়, সেই বিষয়ে মন্ত্রণালয় সজাগ দৃষ্টি রেখেছে। তাছাড়া মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার উন্মুক্ত করার জন্য সরকারের সর্বোচ্চ মহল থেকে সর্বাত্মক চেষ্টা করা হচ্ছে। এ বিষয়ে দ্রুতই সুসংবাদ পাওয়া যেতে পারে। এক্ষেত্রে বঞ্চিত প্রবাসীরাই অগ্রাধিকার ভিত্তিতে প্রথমে মালয়েশিয়া যাওয়ার জন্য প্রাধান্য পাবে।

matlab accident
আজকের সংবাদ, চাঁদপুর

মতলবের সারপাড়ে পূর্বের স্বামী কর্তৃত সাবেক স্ত্রীকে গলা কেটে হত্যা।। ঘাতক আটক

নিজস্ব প্রতিবেদক: মতলব দক্ষিণ উপজেলার নারায়ণপুর পৌরসভার সারপাড় গ্রামে লাকী বেগম (২৫) কে গলা কেটে হত্যার ঘটনা ঘটে। লাকী বেগমের সাবেক স্বামী কুমিল্লার তিতাস থানার জগৎপুর গ্রামের চরু মিয়ার ছেলে মোস্তফা মিয়া (৩৫) সোমবার (১৩ জানুয়ারী) সকাল ৮টার সময় এ ঘটনা ঘটায় বলে সে নিজেই স্বীকার করেছে। এদিকে মোস্তফার পেটে ছুরিকাঘাতের দুটি চিহ্ন রয়েছে। ঘটনাস্থলে মোস্তফাকে তার স্ত্রীর নিথর দেহের উপর পড়ে থাকতে দেখা গেছে। খবর পেয়ে মতলব দক্ষিণ থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ সালেহ আহমেদ সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে রক্ত মাখা ছুরি এবং ঘাতক মোস্তফাকে আটক করেছ লাকী বেগম সারপাড় গ্রামের আন্দী প্রধানীয়া বাড়ির মৃত নজরুল প্রধানীয়ার মেয়ে। লাকী বেগমের ৬ বছর বয়সী একটি পুত্র সন্তান রয়েছে। আহত মোস্তফার সাথে কথা বলে জানা যায়, সে চট্রগ্রামে ট্রাকের ড্রাইভারের চাকরি করে। আজ সকালে এসেছে তার সন্তানকে নেয়ার জন্য।লাকী বেগমের মামা সারপাড় গ্রামের মৃত আলী আর্শ্বাদের ছেলে টুকু প্রধান জানান, লাকী বেগম গার্মেন্টের কাজের জন্য প্রায় ৮ বছর আগে চট্রগ্রাম চলে যায়। সেখানে মোস্তফার সাথে পরিচয়ের সূত্র ধরে পরিবারের অগোচরে তাদের বিয়ে হয়। কয়েক বছর পর তাদের মধ্যে বিবাহ বিচ্ছেদ হয়। এরপর লাকী বেগমের গৌরীপুরে আবার বিয়ে হয়। কয়েক মাস আগে সেই বিয়ে ভেঙে গেলে প্রায় এক মাস পূর্বে সারপাড় গ্রামের মামুন প্রধানের বাড়িতে ভাড়া নিয়ে থাকতে শুরু করে। অভাব অনটনের কারনে ঠিক মতো ভাগনির খোঁজ খবর নিতে পারেন না বলেও তিনি জানান। ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী লাকী বেগমের ছেলে জুনায়েদ (৬) বলেন, মোস্তফা তার মাকে ছুরি দিয়ে মুখে গলায় আঘাত করে হত্যা করেছে। আরেক প্রত্যক্ষদর্শী লাকী বেগমের ফুফাতো বোন প্রতিবেশী জেসমিন আক্তার বলেন, সকাল ৮ টার সময় লাকী বেগম চিৎকার দিয়ে ঘর থেকে বের হলে আমি আওয়াজ শুনে আমার ঘর থেকে বের হয়ে দেখি তার গলা ও মুখ দিয়ে রক্ত বের হচ্ছে। তখন ডাকচিৎকার দিলে আশেপাশের লোকজন এগিয়ে আসে। এই অবস্থায় মোস্তফা ঘর থেকে ছুরি হাতে বের হয়ে লাকী বেগমের উপর এসে বেহুঁশ হবার ভান ধরে পড়ে যায়। এদিকে লাকী বেগমের ফুফাতো বোন জেসমিন আক্তার আরও বলেন, জুনায়েদ নামে ছেলেটি মোস্তফার ঔরসজাত সন্তান নয়। ৬ বছরের জুনায়েদের সাথে কথা বলে অনেকটা এমনই মনে হয়েছে। এদিকে এলাকাবাসী জানান, আজ ভোরে ফজরের নামাজের সময় ঘাতক মোস্তফাকে সারপাড় গ্রামে দেখা গেছে। এর আগে তাকে কখনো পরিবারের সদস্য বা এলাকার কেউ দেখেনি বলে জানান। ফলে মোস্তফা সুস্থ হলে ঘটনার প্রকৃত রহস্য জেনে ঘতকের ফাঁসি দাবী করেন পরিবার ও এলাকাবাসী। মতলব দক্ষিণ থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ সালেহ আহমেদ বলেন, খবর পেয়ে সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে ঘটনাস্থলে এসেছি। ঘাতক মোস্তফাকে আহত অবস্থায় আটক করে চিকিৎসার জন্য মতলব দক্ষিণ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রেরণ করেছি। এছাড়া লাশের সুরতহাল রিপোর্ট তৈরি করে ময়নাতদন্তের জন্য চাঁদপুর মর্গে প্রেরণ করা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, পুলিশের উর্ধতন কর্মকর্তাদের বিষয়টি জানানো হয়েছে। ওনারা ঘটনাস্থল পরিদর্শনর আসতেছেন। হত্যাকাণ্ডের আইনি বিষয় প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। ছবির ক্যাপশনঃ মতলবের সারপাড় গ্রামে গলা কেটে হত্যার শিকার লাকী বেগমের নিথর দেহের উপর পড়ে থাকা সাবেক স্বামী ঘাতক মোস্তফা ও রক্ত মাখা ছুরি ।

AB party
আজকের সংবাদ, রাজনীতি

এবি পার্টির চেয়ারম্যান হলেন মঞ্জু, সম্পাদক ফুয়াদ

নিজস্ব প্রতিবেদক: আগামী তিন বছরের জন্য আমার বাংলাদেশ পার্টির (এবি পার্টি) চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন মজিবুর রহমান মঞ্জু ও সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ। শনিবার (১১ জানুয়ারি) সকালে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে এবি পার্টির কেন্দ্রীয় কাউন্সিলের আয়োজন করেছে আমার বাংলাদেশ পার্টি। কেন্দ্রীয় কাউন্সিল উদ্বোধন করেন জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদ পরিবার ও মুক্তিযোদ্ধা পরিবার। এতে চেয়ারম্যান পদে ১ হাজার ৪০০ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন মজিবুর রহমান ভুঁইয়া মঞ্জু। তার প্রতিদ্বন্দ্বী এ এফ এম সোলায়মান চৌধুরী পেয়েছেন ২১১ ভোট, আর দিদারুল আলম পেয়েছেন ৩৩ ভোট। এর আগে শুক্রবার চেয়ারম্যান পদে ভোট গ্রহণের পর রাতে জেনারেল সেক্রেটারি পদে নির্বাচনের আয়োজন করা হয়। সেখানে ভোটার ছিলেন গত মাসের শেষে নির্বাচিত এবি পার্টির নির্বাহী কমিটির ২১ সদস্য। তবে জেনারেল সেক্রেটারি পদে অন্য কোনো প্রার্থী না থাকায় বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হন আসাদুজ্জামান ফুয়াদ। শনিবার চেয়ারম্যান ও সেক্রেটারি পদের ফলাফল ঘোষণার পাশাপাশি ২১ জন নির্বাহী পরিষদ সদস্যেরও নাম ঘোষণা করা হয়। প্রথম জাতীয় কাউন্সিল অনুষ্ঠানে নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণা করে দলটির অভ্যন্তরীণ নির্বাচন কমিশন। শুক্রবার (১১ জানুয়ারি) সকাল ৯টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে এবি পার্টির চেয়ারম্যান পদে ভোটগ্রহণ হয়। সারাদেশের কাউন্সিলররা সেখানে ভোট দেন। প্রবাসী ও অসুস্থ কাউন্সিলররা ভোট দেন অনলাইনে। প্রথম জাতীয় কাউন্সিল অনুষ্ঠানে নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণা করে দলটির অভ্যন্তরীণ নির্বাচন কমিশন। শুক্রবার (১১ জানুয়ারি) সকাল ৯টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে এবি পার্টির চেয়ারম্যান পদে ভোটগ্রহণ হয়। সারাদেশের কাউন্সিলররা সেখানে ভোট দেন। প্রবাসী ও অসুস্থ কাউন্সিলররা ভোট দেন অনলাইনে। উদ্বোধনের পরেই স্বাগত বক্তব্য দেন এবি পার্টির আহ্বায়ক ডা. মেজর (অব.) আব্দুল ওহাব মিনার। তিনি পার্টি গঠনের ইতিহাস তুলে ধরে বলেন, আজকের কাউন্সিলে উপস্থিত নেতাকর্মী ভাই ও বোনেরাই আমাদের দলকে আজকের এই অবস্থানে নিয়ে এসেছেন। সব নেতাকর্মী ও উপস্থিত সব রাজনৈতিক দলের নেতাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান। এবি পার্টির কাউন্সিলে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ভয়াবহ দানবের হাত থেকে রক্ষা পেয়েছি‌। নতুন দেশ গড়ার স্বপ্ন দেখছি। এটা যাতে নষ্ট না হয়ে যায়, সেই চেষ্টা করতে হবে। তিনি আরও বলেন, ১৬ বছর ধরে আমরা গণতন্ত্রের জন্য আন্দোলন করেছি। আমাদের কোনো বিভেদ নেই। তবে আমাদের ঐক্যে ফাটল ধরানোর চেষ্টা করা হয়েছে। সেটা পারবে না। আমরা এগিয়ে যাবো। আমাদের ধৈর্য ধরতে হবে। হঠকারী সিদ্ধান্ত না নিই। তিনি বলেন, আমরা অন্তর্বর্তী সরকারেই সমর্থন করছি। তবে দেশের অর্থনীতির অবস্থা ভালো না, রাজনৈতিক অবস্থাও ভঙ্গুর। আমরা সংস্কার চাই না, এটা ভুল। আমরা সংস্কারও চাই, দ্রুত নির্বাচনও চাই। কারণ নির্বাচন হলে সব সংকট কেটে যাবে। আমার বাংলাদেশ পার্টির কেন্দ্রীয় কাউন্সিলে আরও বক্তব্য রাখেন নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না, গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়ক জোনায়েদ সাকি, নাগরিক কমিটির আহ্বায়ক নাসিরুদ্দিন পাটোয়ারী, এলডিপির মহাসচিব বীর মুক্তিযোদ্ধা ড. রেদোয়ান আহমেদ, এনডিএমের চেয়ারম্যান ববি হাজ্জাজ, খেলাফত মজলিসের মহাসচিব ড. আহমেদ আব্দুল কাদের, গণঅধিকার পরিষদের সেক্রেটারি রাশেদ খান, ১২ দলীয় জোটের মোস্তফা জামাল হায়দার, সুকোমল বড়ুয়া, ইসলামি আন্দোলন বাংলাদেশের প্রেসিডিয়াম সদস্য আশরাফ আলী আকন, জাগপার সহ সভাপতি রাশেদ প্রধান। শহীদ পরিবারের মধ্য থেকে বক্তব্য রাখেন শহীদ নাজমুল কাজীর স্ত্রী মারিয়া সুলতানা রাখি। আহতদের মধ্যে বক্তব্য দেন আসিফ আদনান। উপস্থিত ছিলেন শহীদ বাপ্পীর বোন, উমায়মা আহমেদ, মা, সুরাইয়া বেবি, শহীদ সিফাতের বাবা কামাল হাওলাদার, শহীদ তামিমির বাবা মান্নান হোসেইন, শহীদ ফজলুর স্ত্রী সুরাইয়া, শহীদ জিসানের মা জেসমিন আক্তার, শহীদ বোরহানের ভাই আমানত উল্লাহ বাবুল, যাত্রাবাড়ীতে আহত মেহেদী হাসান শুভসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারা।

শায়খুল হাদিস আল্লামা মামুনুল হক
আজকের সংবাদ, রাজনীতি

খেলাফত মজলিসের নতুন আমির মামুনুল হক

নিজস্ব প্রতিবেদক: বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের পঞ্চম আমির হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন শায়খুল হাদিস পরিষদের পৃষ্ঠপোষক শায়খুল হাদিস আল্লামা মামুনুল হক। শনিবার (১১ জানুয়ারি) ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউটে অনুষ্ঠিত মজলিসে শুরার অধিবেশনে সর্বসম্মতিক্রমে তিনি এ পদে মনোনীত হন। মাওলানা আবদুল বাছিত আজাদের স্থলাভিষিক্ত হলেন তিনি। এ উপলক্ষে শায়খুল হাদিস পরিষদের প্রধান পৃষ্ঠপোষক মাওলানা মাহফুজুল হক, সভাপতি মাওলানা তাফাজ্জুল হক আজিজ এবং সাধারণ সম্পাদক মাওলানা হাসান জুনাইদ এক যৌথ বিবৃতিতে বলেন, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের শুরা সদস্যরা যথাসময়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ ও যুগোপযোগী সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছেন। বিবৃতিতে আরও বলা হয়, আমরা বিশ্বাস করি, শায়খুল হাদিস আল্লামা আজিজুল হক রহমাতুল্লাহি আলাইহির হাতে গড়া এ সংগঠনের নেতৃত্ব একজন যোগ্য ও অভিজ্ঞ ব্যক্তির হাতে অর্পিত হয়েছে। সংগঠনের আমির শায়খুল হাদিস মাওলানা যোবায়ের আহমদ চৌধুরীর মৃত্যুর পর ভারপ্রাপ্ত আমিরে মজলিসের দায়িত্ব পান মাওলানা আবদুল বাছিত আজাদ। পরে ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বরে মাওলানা আবদুল বাছিত আজাদ খেলাফত মজলিসের আমির নির্বাচিত হন। অভিভাবক পরিষদের অন্যান্য সদস্য হলেন- মাওলানা মাহফুজুল হক, মাওলানা খুরশিদ আলম কাসেমী, মাওলানা আবুল কালাম, মাওলানা আকরাম আলী, মুফতি হিফজুর রহমান, মাওলানা আব্দুস সোবহান, মাওলানা ফরিদ আহমদ খান, মাওলানা ফরিদ আহমদ, মাওলানা মোশাররফ হোসাইন আদীব । কেন্দ্রীয় কমিটির অন্যান্য দায়িত্বশীলরা হলেন- নায়েবে আমির মাওলানা ইউসুফ আশরাফ, মাওলানা আফজালুর রহমান, মাওলানা রেজাউল করীম জালালী, মাওলানা আলী উসমান, মুফতী সাঈদ নূর, মাওলানা মুহিউদ্দীন রব্বানী, মাওলানা হেলালুদ্দীন, মাওলানা শাহীনুর পাশা, মাওলানা কোরবান আরী কাসেমী, মাওলানা মাহবুবুল হক, মাওলানা হোসাইন হাবীবুর রহমান, যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা আতাউল্লাহ আমীন, মাওলানা আব্দুল আজীজ, মুফতি শরাফত হোসাইন, মাওলানা তোফাজ্জল হোসাইন মিয়াজী, মাওলানা শরীফ সাইদুর রহমান, সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা আজিজুর রহমান হেলাল, মাওলানা এনামুল হক মূসা, মাওলানা আবুল হাসানাত জালালী, মাওলানা মুহাম্মদ ফয়সাল, মাওলানা আবু সাঈদ নোমান, মুফতি ওজায়ের আমীন, মাওলানা নিয়ামতুল্লাহ, মাওলানা মুহসিনুল হাসান, মাওলানা ফয়েজ আহমদ, মাওলানা হেদায়াতুল্লাহ হাদী, প্রশিক্ষণ সম্পাদক মাওলানা জহিরুল ইসলাম। বায়তুলমাল সম্পাদক মাওলানা ফজলুর রহমান, সমাজ কল্যাণ সম্পাদক মাওলানা রেজাউল হক, মাওলানা সামিউর রহমান মুসা, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক মাওলানা হারুনুর রশীদ ভূঁইয়া, অফিস সম্পাদক মাওলানা রুহুল আমীন খান, আইন বিষয়ক সম্পাদক মাওলানা শরীফ হোসাইন, সহকারী প্রশিক্ষণ সম্পাদক মাওলানা হাসান জুনাঈদ। নির্বাহী সদস্য মাওলানা এনামুল হক নূর, মাওলানা আতাউর রহমান, মাওলানা মুশাহিদুর রহমান, মুফতী হাবীবুর রহমান, মাওলানা জসিম উদ্দীন, মাওলানা হোসাইন আহমদ, মুফতি হাবীবুর রহমান কাসেমী, মাওলানা আব্দুন নুর, মাওলানা সাব্বির আহমদ উসমানী, মাওলানা আব্দুস সোবহান, মাওলানা মুহসিন উদ্দীন বেলালী, মাওলানা আব্দুল মুমিন, মাওলানা মামুনুর রশীদ, মাওলানা লিয়াকত হোসাইন, মাওলানা মঈনুল ইসলাম খন্দকার, মুফতি আজিজুল হক, হাফেজ শহীদুল ইসলাম, মাওলানা ওয়ালিউল্লাহ, মওলানা আনোয়ার মাহমুদ, মাওলানা মোহাম্মদ আলী, মাওলানা রেজাউল করিম।

আজকের সংবাদ, প্রবাস

অবৈধ অভিবাসীদের বৈধ হওয়ার সুযোগ দিচ্ছে না মালয়েশিয়া

নিজস্ব প্রতিবেদক: মালয়েশিয়া অবৈধ অভিবাসীদের বৈধ হওয়ার সুযোগ দিচ্ছে না। নথিবিহীন প্রবাসীদের নথিভুক্ত করতে সরকার কোনো পদক্ষেপ নিচ্ছে কি না এ বিষয়ে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত আসেনি। সম্প্রতি সোশ্যাল মিডিয়ায় গুজব ছড়ানো হয় সরকার খুব শিগগিরই ‘ওয়ার্কফোর্স রিক্যালিব্রেশন প্রোগ্রাম ৩.০’ (আরটিকে ৩.০) চালু করবে। এ বিষয়ে দেশটির ইমিগ্রেশন বিভাগ (জেআইএম) এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, গুজব ছড়ানো হচ্ছে তা সত্য নয়। দেশটির ইমিগ্রেশন মহাপরিচালক দাতুক জাকারিয়া শাবান জানান, এখন পর্যন্ত আরটিকে ৩.০ চালুর বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। তিনি বলেন, জনসাধারণকে পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে, কেউ যেন আরটিকে প্রোগ্রামের নাম ব্যবহার করে কোনো অসৎ উদ্দেশ্যে ছড়ানো গুজবে বিভ্রান্ত না হয়। সঠিক ও হালনাগাদ তথ্যের জন্য জনসাধারণকে জেআইএম-এর অফিসিয়াল পোর্টাল এবং সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্টগুলো অনুসরণ করার আহ্বান তিনি। অভিবাসন বিভাগ বলছে, আরটিকে ২.০ কর্মসূচি, যা ২০২৩ সালের ২৭ জানুয়ারি চালু হয়েছিল, তা ২০২৪ সালের ৩০ জুনে শেষ হয়েছে। এই কর্মসূচি ছিল একটি বিশেষ উদ্যোগ, যার মাধ্যমে বিদেশি শ্রমিকদের বৈধ করার সুযোগ দেওয়া হয়। কর্মসূচির অধীনে কঠোর সরকারি শর্তাবলি মেনে যোগ্য নিয়োগকারীরা বৈধভাবে তাদের কর্মীদের নিয়োগ করতে পেরেছিলেন। এ কর্মসূচিতে কতজন অভিবাসী বৈধতা নিয়েছেন তা জানানো হয়নি। অভিবাসন বিভাগের একটি সূত্রে জানা গেছে, দেশটির বৈধকরণ কর্মসূচির রিক্যালিব্রেশন তালিকার শীর্ষে ছিল বাংলাদেশ। কর্মসূচির শেষ ধাপে বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশের ৪ লাখেরও বেশি শ্রমিক নিবন্ধন করেছিলেন। তবে নানা জটিলতায় অনেক অবৈধ বাংলাদেশি এই প্রকল্পের সুযোগ নিতে পারেনি। এছাড়া গত বছরের ১ মার্চ থেকে শুরু হয় অভিবাসী প্রত্যাবাসন কর্মসূচি (পিআরএম)। এ কর্মসূচির মাধ্যমে অবৈধ অভিবাসীদের দেশে চলে যাওয়ার আহ্বান জানায় দেশটির সরকার। এই প্রত্যাবাসন কর্মসূচির মাধ্যমে স্বেচ্ছায় ৫০০ রিঙ্গিত জরিমানা দিয়ে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত অভিবাসীদের নিজ দেশে ফেরার সুযোগ করে দেয় সরকার। এ কর্মসূচিতে নাম নিবন্ধন করেছিলেন বাংলাদেশিসহ বিভিন্ন দেশের ২ লাখের বেশি প্রবাসী। এর মধ্যেও নানা জটিলতায় অনেকে দেশে ফিরতে পারেননি। জটিলতা নিরসনে, প্রবাসীদের বৈধ হওয়ার সুযোগ দিতে কূটনৈতিক তৎপরতা জোরদার করতে প্রবাসীরা আহ্বান জানিয়েছেন।

অর্থনীতি, আজকের সংবাদ

সঞ্চয়পত্রের মুনাফা বাড়লে কারা কত পাবেন?

নিজস্ব প্রতিবেদক: জাতীয় সঞ্চয় অধিদপ্তরের আওতায় পরিচালিত সঞ্চয় কর্মসূচিগুলোর মুনাফার হার বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। স্কিমের ধরন অনুযায়ী নতুন মুনাফার হার ১২ দশমিক ২৫ শতাংশ থেকে ১২ দশমিক ৫৫ শতাংশ পর্যন্ত হতে পারে। বর্তমানে স্কিমের ধরন অনুযায়ী মুনাফার হার ৯ দশমিক ৩৫ শতাংশ থেকে ১১ দশমিক ৭৬ শতাংশের মধ্যে রয়েছে। নতুন করে সঞ্চয়পত্রের যে মুনাফার হার নির্ধারণ করা হচ্ছে, এই হারে সবাই মুনাফা পাবেন না। মুনাফার নতুন হার যেদিন থেকে কার্যকর হবে, সেদিন বা তার পরে যারা সঞ্চয়পত্রে বিনিয়োগ করবেন তারাই বর্ধিত নতুন হারে মুনাফা হবে। আর যারা আগে সঞ্চয়পত্র কিনে রেখেছেন, তারা আগের নির্ধারিত হারেই মুনাফা পাবেন। উৎসে কর আগের হারে কাটা হবে নাকি কোনো পরিবর্তন আসবে সে বিষয়ে কিছু জানা যায়নি। সঞ্চয়পত্রের মুনাফার হার বাড়ানোর সুপারিশ করে সম্প্রতি অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগ থেকে অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগে (আইআরডি) একটি সুপারিশ পাঠানো হয়েছে। অর্থ বিভাগের তৈরি এ প্রস্তাব অনুমোদন করেছেন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। অর্থ বিভাগের সুপারিশে নতুন মুনাফার হার ১ জানুয়ারি থেকে কার্যকর করতে বলা হয়েছে। অর্থ বিভাগ থেকে সঞ্চয়পত্রের মুনাফার হার নির্ধারণে যে সুপারিশ করেছে তা নিয়ে আমরা কাজ করছি। শিগগির মুনাফার হার নির্ধারণ করে প্রজ্ঞাপন জারি করা হবে। অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগ থেকেও ১ জানুয়ারি থেকে সঞ্চয়পত্রের বাড়তি নতুন মুনাফা কার্যকর করার লক্ষ্যে কার্যক্রম চালানো হচ্ছে। কোন সঞ্চয়পত্রের মুনাফা কত হবে তা নির্ধারণ করে শিগগির অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগ থেকে পরিপত্র জারি করা হবে। যদি ১ জানুয়ারি থেকে নতুন মুনাফার হার কার্যকর হয়, তাহলে যারা ১ জানুয়ারি বা তার পরে সঞ্চয়পত্র কিনবেন তারা নতুন হারের মুনাফা পাবেন। আর ১ জানুয়ারির আগে যাদের সঞ্চয়পত্র কেনা আছে, তারা আগের হারেই মুনাফা পাবেন। অর্থ বিভাগের সুপারিশঅর্থ বিভাগ যে সুপারিশ করেছে, সেখানে বিনিয়োগকারীদের দুটি ধাপ নির্ধারণ করা হয়েছে। একটি ধাপে ৭ লাখ ৫০ হাজার টাকার নিচের বিনিয়োগকারী। অন্য ধাপটি হলো ৭ লাখ ৫০ হাজার টাকার ওপরের বিনিয়োগকারী। বর্তমানে বিনিয়োগকারীদের ১ থেকে ১৫ লাখ টাকা, ১৫ লাখ ১ টাকা থেকে ৩০ লাখ টাকা এবং ৩০ লাখ ১ টাকার বেশি এই তিনটি ধাপ রয়েছে। সঞ্চয়পত্রের নতুন মুনাফার হার ৫ বছর মেয়াদি ও ২ বছর মেয়াদি ট্রেজারি বন্ডের গড় সুদহার অনুযায়ী করার সুপারিশ করেছে অর্থ বিভাগ। এ দুই ধরনের ট্রেজারি বন্ডের সবশেষ ছয়টি নিলামকে বিবেচনায় নিয়ে নতুন মুনাফার হার নির্ধারণ করা হবে। এক্ষেত্রে ছয় মাসের বন্ডের সুদের গড় হার ঠিক করা হয়েছে ১২ দশমিক ২৫ থেকে ১২ দশমিক ৩৭ শতাংশ পর্যন্ত। সঞ্চয়পত্রের নতুন হার চলতি বছরের ১ জানুয়ারির থেকে জুন মাস পর্যন্ত করার সুপারিশ করেছে অর্থ বিভাগ। এরপর জুন মাসে জুলাই-ডিসেম্বর সময়ের নতুন হার নির্ধারণ করা হবে। এই মুনাফার হার নির্ধরণের দায়িত্ব পালন করবে নগদ ও ঋণ ব্যবস্থাপনা কমিটি (সিডিএমসি)। যোগাযোগ করা হলে অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগের দায়িত্বশীল এক কর্মকর্তা জাগো নিউজকে বলেন, অর্থ বিভাগ থেকে সঞ্চয়পত্রের মুনাফার হার নির্ধারণে যে সুপারিশ করেছে তা নিয়ে আমরা কাজ করছি। শিগগির মুনাফার হার নির্ধারণ করে প্রজ্ঞাপন জারি করা হবে। নতুন হারের মুনাফা কি সবাই পাবেন? এমন প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, না, সবাই নতুন হারে মুনাফা পাবেন না। নতুন হার যেদিন থেকে কার্যকর হবে, সেদিন বা তার পরে যারা সঞ্চয়পত্রে বিনিয়োগ করবেন তারাই এই হারে মুনাফা পাবেন। আর যারা আগেই সঞ্চয়পত্র কিনে রেখেছেন, তারা আগের হারে মুনাফা পাবেন। কবে থেকে নতুন হার কার্যকর হবে? এমন প্রশ্ন করলে এই কর্মকর্তা বলেন, অর্থ বিভাগ ১ জানুয়ারি থেকে নতুন মুনাফার হার কার্যকর করার সুপারিশ করেছে, আমরাও আপাতত ১ জানুয়ারি থেকে নতুন হার কার্যকর করার লক্ষ্যে কাজ করছি। তবে এখন নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না ১ জানুয়ারি থেকে নতুন মুনাফার হার কার্যকর হবে। আমরা কাজ করছি। এটা আবার সচিব মহোদয় ও উপদেষ্টা মহোদয়ের কাছে যাবে। তারপর চূড়ান্ত হবে কবে থেকে নতুন হার কার্যকর হবে। সঞ্চয়পত্রের কোন স্কিমে কী সুবিধা পরিবার সঞ্চয়পত্র১৮ ও তদূর্ধ্ব বয়সের যে কোনো বাংলাদেশি নারী, শারীরিক প্রতিবন্ধী পুরুষ ও নারী এবং ৬৫ বছর ও তার বেশি যে কোনো বাংলাদেশি পুরুষ ও নারী এই সঞ্চয়পত্র কিনতে পারেন। ২০২১ সালের ২১ সেপ্টেম্বর নির্ধারণ করা হারে এই সঞ্চয়পত্রের মুনাফা পাচ্ছেন বিনিয়োগকারীরা। ২০২১ সালে নির্ধারণ করা হার অনুযায়ী- এই সঞ্চয়পত্রে প্রথম বছরে সাড়ে ৯ শতাংশ, দ্বিতীয় বছরে ১০ শতাংশ, তৃতীয় বছরে সাড়ে ১০ শতাংশ, চতুর্থ বছরে ১১ শতাংশ এবং পঞ্চম বছরে ১১ দশমিক ৫২ শতাংশ হারে মুনাফা পাচ্ছেন বিনিয়োগকারীরা। সবাই নতুন হারে মুনাফা পাবেন না। নতুন হার যেদিন থেকে কার্যকর হবে, সেদিন বা তার পরে যারা সঞ্চয়পত্রে বিনিয়োগ করবেন তারাই এই হারে মুনাফা পাবেন। আর যারা আগেই সঞ্চয়পত্র কিনে রেখেছেন, তারা আগের হারে মুনাফা পাবেন। ১ জানুয়ারি থেকে নতুন মুনাফার হার কার্যকর করার জন্য অর্থ বিভাগ যে সুপারিশ করেছে, সেখানে পরিবার সঞ্চয়পত্র শুধু ৫ বছর মেয়াদি রাখা হয়েছে এবং এর মুনাফার সম্ভাব্য হার নির্ধারণ করা হয়েছে সাড়ে ৭ লাখ টাকা বা তার নিচের বিনিয়োগকারীদের জন্য সাড়ে ১২ শতাংশ। আর সাড়ে ৭ লাখ টাকার বেশি বিনিয়োগকারীদের জন্য ১২ দশমিক ৩৭ শতাংশ। অর্থাৎ, পাঁচ বছর মেয়াদি পরিবার সঞ্চয়পত্রের মুনাফার হার প্রায় ১ শতাংশ বাড়ছে। অন্যভাবে বলা যায়, আগে এক লাখ টাকার পাঁচ বছর মেয়াদি সঞ্চয়পত্র কিনলে বছরে ১১ হাজার ৫২০ টাকা মুনাফা পেতেন। নতুন হারে সাড়ে ৭ লাখ টাকার কম বিনিয়োগ করলে এক লাখে বছরে ১২ হাজার ৫০০ টাকা মুনাফা পাওয়া যাবে। আর সাড়ে ৭ লাখ টাকার ওপরে বিনিয়োগ করলে এক লাখে বছরে মুনাফা হবে ১২ হাজার ৩৭০ টাকা। পাঁচ বছর মেয়াদি বাংলাদেশ সঞ্চয়পত্রসব শ্রেণি-পেশার বাংলাদেশি নাগরিক এই সঞ্চয়পত্রে বিনিয়োগ করতে পারবেন। এছাড়া আয়কর বিধিমালা, ১৯৮৪ (অংশ-২) এর বিধি ৪৯-এর উপ-বিধি (২) এ সংজ্ঞায়িত স্বীকৃত ভবিষ্য তহবিল এবং ভবিষ্য তহবিল আইন, ১৯২৫ (১৯২৫ এর ১৯ নং) অনুযায়ী পরিচালিত ভবিষ্য তহবিলও বিনিয়োগ করতে পারবে। পাশাপাশি আয়কর অধ্যাদেশ-১৯৮৪ এর ৬ষ্ঠ তফসিলের পার্ট-এ এর অনুচ্ছেদ ৩৪ অনুযায়ী মৎস্য খামার, হাঁস-মুরগির খামার, পেলিটেড পোল্ট্রি ফিডস উৎপাদন, বীজ উৎপাদন, স্থানীয় উৎপাদিত বীজ বিপণন, গবাদি পশুর খামার, দুগ্ধ এবং দুগ্ধজাত দ্রব্যের খামার, ব্যাঙ উৎপাদন খামার, উদ্যান খামার প্রকল্প, রেশম গুটিপোকা পালনের খামার, ছত্রাক উৎপাদন এবং ফল ও লতাপাতার চাষ থেকে অর্জিত আয় যা সংশ্লিষ্ট উপ-কর কমিশনার প্রত্যয়ন করে এই সঞ্চয়পত্রে বিনিয়োগ করা যাবে। ২০২১ সালে নির্ধারণ করা হার অনুযায়ী- এই সঞ্চয়পত্রে প্রথম বছরে ৯ দশমিক ৩৫ শতাংশ, দ্বিতীয় বছরে ৯ দশমিক ৮০ শতাংশ, তৃতীয় বছরে ১০ দশমিক ২৫ শতাংশ, চতুর্থ বছরে ১০ দশমিক ৭৫ শতাংশ এবং পঞ্চম বছরে ১১ দশমিক ২৮ শতাংশ হারে মুনাফা পাচ্ছেন বিনিয়োগকারীরা। ১ জানুয়ারি থেকে নতুন মুনাফার হার কর্যকর করার জন্য অর্থ বিভাগ যে সুপারিশ করেছে, সেখানে শুধু ৫ বছর মেয়াদি মুনাফার হার রাখা হয়েছে। এর মুনাফার সম্ভাব্য হার নির্ধারণ করা হয়েছে সাড়ে ৭ লাখ টাকা বা তার নিচের বিনিয়োগকারীদের জন্য ১২ দশমিক ৪০ শতাংশ। আর সাড়ে

Scroll to Top