২৯শে অক্টোবর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

Author name: Nazrul Islam

আজকের সংবাদ, ফরিদগঞ্জ, স্বাস্থ্য

ফরিদগঞ্জে অনন্যা’র ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প, সেবা পেলেন তিন শতাধিক রোগী

ফরিদগঞ্জ টাইমস ডেস্ক : মানবিকতার বন্ধনে মানুষের পাশে দাঁড়ানোর প্রত্যয়ে চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জে তৃতীয়বারের মতো ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প, বিনামূল্যে ওষুধ বিতরণ ও ডায়াবেটিস পরীক্ষা কর্মসূচির আয়োজন করেছে অনন্যা যুব নারী কল্যাণ সংঘ। সংগঠনটির এ উদ্যোগে তিন শতাধিক রোগী বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা গ্রহণ করেছেন। অসচ্ছল ও সাধারণ মানুষের জন্য চিকিৎসাসেবা সহজলভ্য করার পাশাপাশি স্বাস্থ্যসচেতনতা বৃদ্ধিতে এ আয়োজন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। বুধবার (২১ অক্টোবর) সকাল থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত উপজেলার ৯নং গোবিন্দপুর উত্তর ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ে এ মেডিকেল ক্যাম্প অনুষ্ঠিত হয়। নয়াহাট বাজারসংলগ্ন ইউনিয়ন পরিষদে আয়োজিত এ কর্মসূচিতে বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত নারী-পুরুষসহ নানা বয়সী মানুষ চিকিৎসাসেবা নিতে আসেন। চিকিৎসকদের পরামর্শ গ্রহণের পাশাপাশি রোগীরা বিনামূল্যে ওষুধ ও ডায়াবেটিস পরীক্ষা করার সুযোগ পান। মেডিকেল ক্যাম্পে চিকিৎসাসেবা প্রদান করেন চাঁদপুর মেডিকেল কলেজের মেডিসিন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. মো. সাইফুল ইসলাম সোহেল। তিনি মেডিসিন, বাতব্যথা ও হৃদরোগসংক্রান্ত সমস্যায় আক্রান্ত রোগীদের পরামর্শ দেন। চাঁদপুর মাজহারুল হক বিএনএসবি চক্ষু হাসপাতালের চক্ষু বিশেষজ্ঞ ও মাইক্রোসার্জন ডা. মো. হানিফুর রহমান চোখের বিভিন্ন সমস্যায় আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসাসেবা প্রদান করেন। এছাড়া চাঁদপুর মেডিকেল কলেজের মাইক্রোবায়োলজি বিভাগের প্রভাষক ডা. মো. কামরুল হাসান মেডিসিন, নবজাতক ও শিশুস্বাস্থ্য বিষয়ে রোগীদের পরামর্শ দেন। হাইমচর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার ডা. মো. ওমর ফারুক মেডিসিন, গ্যাস্ট্রোলিভার ও পরিপাকতন্ত্রের বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে আসা রোগীদের চিকিৎসাসেবা প্রদান করেন। অনন্যা যুব নারী কল্যাণ সংঘের সভাপতি রাবেয়া আক্তার বলেন, “তিন শতাধিক রোগী এদিন আমাদের ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প থেকে চিকিৎসাসেবা গ্রহণ করেছেন। বিগত বছরগুলোর মতো এবারও আমরা সফলভাবে এ আয়োজন সম্পন্ন করতে পেরেছি। আমাদের সংগঠনের মূল ব্রত হচ্ছে জনসাধারণের জন্য কাজ করা, মানবিক কাজ করা। আমরা মানুষের পাশে থাকতে চাই, বিশেষ করে যারা আর্থিক সীমাবদ্ধতার কারণে সহজে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে পারেন না, তাদের জন্য কিছু করতে চাই।”  তিনি আরও বলেন, “আগামীতেও মানুষের কল্যাণে এ ধরনের কার্যক্রম অব্যাহত রাখতে চাই। আমরা যেন সবসময় অসহায় ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে মানবিক কাজ করতে পারি, সে জন্য সবার সহযোগিতা ও আন্তরিক সমর্থন কামনা করছি।” এসময় অনন্যা যুব নারী কল্যাণ সংঘের এ মানবিক উদ্যোগের প্রতি শুভকামনা জানান বিশিষ্ট ব্যাংকার ও বিএনপি নেতা হাবিবুর রহমান রুবেল, ৯নং গোবিন্দপুর উত্তর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শাহ আলম শেখ এবং ফরিদগঞ্জ প্রেসক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক নুরুল ইসলাম ফরহাদ। রোগীরা বলেন, বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা, ওষুধ বিতরণ ও ডায়াবেটিস পরীক্ষার মতো উদ্যোগ মানুষের জন্য স্বস্তির বার্তা নিয়ে আসে। বিনামূল্যে আমরা সেবা পেয়েছি, বড় বড় ডাক্তার দেখাতে পেরেছি, ঔষধ পেয়েছি। আমরা ভীষণ খুশি। এসব কাজে সমাজের বিত্তবান ব্যক্তি, পেশাজীবী, স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ও সচেতন মানুষ সম্মিলিতভাবে এগিয়ে এলে সুবিধাবঞ্চিত মানুষের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার পথ আরও সহজ হতে পারে। মানবিকতার প্রকৃত সৌন্দর্য ফুটে ওঠে মানুষের বিপদে-আপদে পাশে দাঁড়ানোর মধ্য দিয়ে। অসুস্থ মানুষের পাশে দাঁড়ানো, প্রয়োজনের সময় সহায়তার হাত বাড়িয়ে দেওয়া এবং মানুষের মুখে স্বস্তির হাসি ফোটানোর মতো কাজই একটি সুন্দর ও সহমর্মী সমাজ গঠনে ভূমিকা রাখে। অনন্যা যুব নারী কল্যাণ সংঘের এ উদ্যোগ সেই মানবিক চেতনারই একটি উদাহরণ। ভবিষ্যতেও এ ধরনের জনকল্যাণমূলক কার্যক্রম অব্যাহত থাকলে ফরিদগঞ্জের সাধারণ মানুষ উপকৃত হবেন বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা। এই আয়োজনে অনন্যা যুব নারী কল্যাণ সংঘের সদস্যরা উপস্থিত থেকে সার্বিক সহযোগিতার মাধ্যমে সবকিছু সফলভাবে সম্পন্ন করেছেন।

আজকের সংবাদ, ফরিদগঞ্জ, বিশেষ সংবাদ

ফরিদগঞ্জে সাংবাদিক লাঞ্ছিতের ঘটনায় সাবেক এমপি ও প্রেসক্লাবের সভাপতির মধ্যস্থতায় নিষ্পত্তি 

নিজস্ব প্রতিবেদক :  দৈনিক ইত্তেফাকের ফরিদগঞ্জ প্রতিনিধি ও প্রেসক্লাবের সহ-সভাপতি জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক মহিউদ্দিনকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট বিরোধের অবসান হয়েছে। ফরিদগঞ্জ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির রাজস্ব ও ব্যাংকিং বিষয়ক সম্পাদক লায়ন মো. হারুনুর রশিদ ও ফরিদগঞ্জ প্রেসক্লাবের সভাপতি আবু হেনা মোস্তফা কামালের মধ্যস্থতায় উভয় পক্ষের বক্তব্য শুনে আলোচনা ও সমঝোতার মাধ্যমে বিরোধটির সৌহার্দ্য ও মর্যাদাপূর্ণ নিষ্পত্তি করা হয়।  মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) সকাল আনুমানিক ৮টা নাগাদ পৌর ছাত্রদলের নেতা কামরুল ইসলাম পাটোয়ারীর হামলায় সাংবাদিক মহিউদ্দিন আহত হন। পরে কয়েকজন সাংবাদিক তাঁকে উদ্ধার করে ফরিদগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গেলে সেখানেও তিনি বাধার মুখে পড়েন। একপর্যায়ে সাংবাদিকদের প্রতিরোধের মুখে বাধাদানকারীরা পিছু হটেন। পরে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে তাঁকে বাড়িতে নেওয়া হয়। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় সাংবাদিকদের মধ্যে ক্ষোভ ও উদ্বেগ তৈরি হয়।  এ ঘটনায় ফরিদগঞ্জ প্রেসক্লাবের সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক ও জ্যেষ্ঠ সাংবাদিকদের সঙ্গে পরামর্শক্রমে বিকেল ৩টায় প্রেসক্লাবে জরুরি সভার আয়োজন করেন। সভায় প্রেসক্লাবের সদস্যরা বক্তব্য দেন। এতে সাংবাদিকের ওপর হামলার নিন্দা, প্রতিবাদ জানিয়ে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। এদিকে সাবেক সংসদ সদস্য, বিএনপির কেন্দ্রীয় রাজস্ব ও ব্যাংকিং বিষয়ক সম্পাদক উদ্ভূত পরিস্থিতির খবর পান। তিনি প্রেসক্লাবের সভাপতির সঙ্গে একাধিকবার কথা বলে দুঃখপ্রকাশ করেন। সাংবাদিক ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের মধ্যে যেন বিরোধ না হয় এবং স্থানীয় পর্যায়ে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় থাকে, সে লক্ষ্যে তিনি সংশ্লিষ্টদের ধৈর্য ও সংযম প্রদর্শনের আহ্বান জানান এবং প্রেসক্লাবে উপস্থিত হয়ে সম্মানজনক মীমাংসার প্রতিশ্রুতি দেন। জরুরি সভা চলাকালীন রাত ৮টা নাগাদ তিনি ফরিদগঞ্জ প্রেসক্লাবে পৌঁছালে প্রেসক্লাবের নেতৃবৃন্দ তাঁকে অভ্যর্থনা জানান। পরে তিনি উভয় পক্ষের বক্তব্য মনোযোগ দিয়ে শোনেন এবং উদ্ভূত ঘটনাটি অনাকাঙ্খিত বলে মন্তব্য ও দুঃখ প্রকাশ করেন।  অভিযুক্তরা অপরাধ করেছে মত প্রকাশ করলে তারাও মেনে নেন। এতে, প্রেসক্লাবের সভাপতি ও অন্যান্য সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে উভয়ের মধ্যে পারস্পরিক বোঝাপড়া ও সমঝোতার ভিত্তিতে অভিযোগ নিষ্পত্তি করা হয়।  প্রসঙ্গত সাবেক সংসদ সদস্য বলেন, বিরোধী দলে থাকাকালীন ঢাকার ও সারাদেশের সাংবাদিকগণ সবসময় আমাদের পাশে ছিলেন এবং অনেক সাংবাদিক ভাই নির্যাতন ও মামলা হামলার শিকার হয়েছেন। সাংবাদিকগণ আমাদের বন্ধু ও দুঃসময়ের সাথী মন্তব্য করে তিনি আরও বলেন, আমাদের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান গণমাধ্যমের স্বাধীনতার প্রতি শ্রদ্ধাশীল। সাংবাদিকদের নিরাপত্তা, পেশাগত মর্যাদা এবং স্বাধীনভাবে দায়িত্ব পালনের অনুকূল পরিবেশ নিশ্চিত করা আমাদের দায়িত্ব।

আজকের সংবাদ, জনদুর্ভোগ, ফরিদগঞ্জ

ফরিদগঞ্জে ঘর নির্মাণে বাধা, জরাজীর্ণ ঘরে মানবেতর জীবনযাপন

নিজস্ব প্রতিবেদক :  চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জ উপজেলার ৭নং পাইকপাড়া উত্তর ইউনিয়নের বিষুরবন্দ গ্রামে জায়গাসংক্রান্ত বিরোধের জেরে প্রবাসী মনির হোসেনের পরিবারকে নিজ ভিটায় বসতঘর নির্মাণে বাধা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। প্রতিপক্ষের অব্যাহত হুমকি ও বাধার মুখে বর্তমানে অসহায় পরিবারটি জরাজীর্ণ বসতঘরে চরম মানবেতর জীবনযাপন করছে।  ভুক্তভোগী প্রবাসী পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে ওই প্রবাসীর পরিবারের সাথে তার ভাইদের পৈত্রিক সম্পত্তি নিয়ে বিরোধ চলে আসছিল। সম্প্রতি প্রবাসী পরিবারটি তাদের নিজস্ব খরিদা ও পৈত্রিক সূত্রে প্রাপ্ত ভিটায় মাথা গোঁজার ঠাঁই হিসেবে একটি নতুন বসতঘর নির্মাণ শুরু করলে প্রতিপক্ষরা তাতে অন্যায়ভাবে বাধা সৃষ্টি করে।  এ বিষয়ে প্রবাসীর মনির হোসেনের স্ত্রী কান্নাজড়িত কণ্ঠে জানান, আমার স্বামী প্রবাসে হাড়ভাঙা খাটুনি খেটে ঘর করার জন্য টাকা পাঠিয়েছেন। কিন্তু তার ভাই ও বোনেরা অন্যায়ভাবে আমাদের নিজেদের জায়গায় ঘর তুলতে দিচ্ছে না। তারা আমাদের নির্মাণসামগ্রী নষ্ট করছে এবং আমাদের নানাভাবে হুমকি-ধমকি দিচ্ছে। ঘর বানাতে না পেরে জরাজীর্ণ ভাঙা চালার নিচে ছেলে ও মেয়ে নিয়ে আমরা চরম নিরাপত্তাহীনতা ও কষ্টের মধ্যে দিন পার করছি। আমি প্রশাসন ও এলাকাবাসীর কাছে এই অন্যায়ের বিচার এবং আমাদের মাথা গোঁজার ঠাঁই নিশ্চিত করার দাবি জানাচ্ছি।  স্থানীয় এলাকাবাসী নেছার আহম্মদ জানান, প্রবাসী মনিরের সব ভাইয়েরা পৈত্রিক সম্পত্তির ওপর বসতঘর নির্মাণ করে থাকলেও জোরপূর্বক একটি পরিবারকে ঘর তুলতে না দিয়ে এভাবে উচ্ছেদ বা অবরুদ্ধ অবস্থায় রাখা কোনোভাবেই কাম্য নয়। অসহায় পরিবারটির এই মানবিক বিপর্যয় দেখে এলাকায় চাপা ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। তিনি দ্রুত প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করছেন যাতে প্রবাসী পরিবারটি নিরাপদে তাদের ঘর নির্মাণ সম্পন্ন করতে পারে।  প্রতিপক্ষরা বলেন, জায়গা নিয়ে বিরোধ চলছে, প্রাণনাশের হুমকি-ধমকি বিষয়টি সম্পূর্ণ মিথ্যা এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। স্থানীয় শালিসগণ মাপ-জরিপ করে এই জায়গা আমাদের দিয়েছে তাই তাদের ঘর করতে দিচ্ছি না। এদিকে ভুক্তভোগী পরিবারটি নিজ বসত ভিটায় ঘর নির্মাণে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।  স্থানীয়দের আশঙ্কা, প্রশাসন দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে এই জমি সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে যেকোনো সময় বড় ধরনের আইন-শৃঙ্খলার অবনতি ঘটতে পারে।

আজকের সংবাদ, ফরিদগঞ্জ

নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে মাঠে এমপি এম.এ হান্নান

আলাউদ্দীন বিন সিদ্দিক: নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জে মাঠপর্যায়ে সরেজমিন পর্যবেক্ষণ ও মতবিনিময় শুরু করেছেন চাঁদপুর-৪ আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ্ব এম.এ হান্নান। মঙ্গলবার(২০ অক্টোবর) উপজেলার বালিথুবা পূর্ব ও পশ্চিম ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকার গুরুত্বপূর্ণ রাস্তাঘাট সরেজমিনে পর্যবেক্ষণ করেন তিনি। পর্যবেক্ষণকালে তিনি স্থানীয় সাধারণ মানুষের সাথে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন ও তাদের বিভিন্ন সমস্যা ও দাবির কথা শুনেন এবং মতবিনিময় করেন। এসময় সংসদ সদস্য বলেন, জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষা পূরণ ও এলাকার টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করাই আমাদের মূল অঙ্গীকার। নির্বাচনের আগে দেওয়া প্রতিটি প্রতিশ্রুতি পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়ন করা হবে। পর্যবেক্ষণ ও মতবিনিময়কালে স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। তাদের মধ্যে ১নং বালিথুবা পশ্চিম ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি কাঞ্চন মুন্সী, ২নং বালিথুবা পূর্ব ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি ইব্রাহীম, সাধারণ সম্পাদক আলী হারেস মিয়াজী, ২নং বালিথুবা ইউনিয়ন যুবদলের সভাপতি গিয়াসুদ্দিন, সাধারণ সম্পাদক কাউসার তালুকদার, ২নং বালিথুবা ইউনিয়ন ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলাম, যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক সিফাত হোসেনসহ ইউনিয়ন বিএনপি ও বিভিন্ন অঙ্গসংগঠনের স্থানীয় নেতাকর্মীরা।

আজকের সংবাদ, জনদুর্ভোগ, ফরিদগঞ্জ

আগুনে শেষ মাথা গোঁজার ঘর, সন্তান নিয়ে খোলা আকাশের নিচে বসবাস 

‎ফরিদগঞ্জ টাইমস ডেস্ক : ‎জীবিকার তাগিদে প্রায় বছরখানেক আগে প্রবাসে পাড়ি দেওয়া স্বামী মো. রিয়াদ হোসেন অবৈধভাবে সৌদি আরবে অবস্থান করছেন। ধার-দেনা করে অবুঝ সন্তানদের নিয়ে বসবাসের জন্য ছোট একটি নতুন ঘর নির্মাণ করে দুই সন্তানের জননী পপি বেগম বসবাস শুরু করেন। একই সঙ্গে পরিবারের বড় মেয়ে ৭ বছরের ফাতেমা আক্তার স্কুলে যাওয়া শুরু করে। সীমিত আয়ে হলেও পরিবারটির জীবনসংসার ভালোই চলছিল।  প্রতিদিনের মতো সোমবার (১৯ অক্টোবর) রাতে খাওয়া-দাওয়া শেষে ঘুমিয়ে পড়েছিলেন পরিবারের সদস্যরা। রাত ১টার দিকে হঠাৎ অগ্নিকাণ্ডে সবার ঘুম ভেঙে যায়। আগুনের লেলিহান শিখায় টিকে থাকতে না পেরে পরনের কাপড় নিয়ে সবাই ঘর থেকে বেরিয়ে পড়েন। ডাকচিৎকারে প্রতিবেশীরা এসে আগুন নেভানোর চেষ্টা করলেও কিছুই রক্ষা করা যায়নি। সবকিছু পুড়ে ছাই হয়ে যায়।  ঘটনাটি ঘটেছে চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জ উপজেলার গোবিন্দপুর উত্তর ইউনিয়নের দক্ষিণ ধানুয়া গ্রামের খাসের বাড়িতে।  হাউমাউ করে কেঁদে অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত পপি বেগম বলেন, আমার ৭ বছরের মেয়ে ফাতেমা ও ৩ বছরের ফারাজ খানকে নিয়ে সোমবার রাতে খাবার খেয়ে ঘুমিয়ে পড়েছিলাম। রাত ১টার দিকে আগুনের তীব্র তাপে আমাদের ঘুম ভেঙে যায়। ঘুম থেকে উঠে সন্তানদের নিয়ে ডাকচিৎকার করে একখণ্ড কাপড়ে বেরিয়ে পড়ি। স্থানীয়রা এবং পরে খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা এসে আগুন নেভালেও কিছুই রক্ষা করা যায়নি। আমি নিঃস্ব হয়ে শিশু সন্তানদের নিয়ে খোলা আকাশের নিচে বসবাস করা ছাড়া আর কোনো উপায় দেখছি না। আমার স্বামী সৌদি প্রবাসে থাকলেও অবৈধভাবে অবস্থান করার কারণে রোজগার করতে পারেন না। আমরা এখন কী খাব, শিশু সন্তানদের নিয়ে কোথায় থাকব, ভেবে পাচ্ছি না। ফরিদগঞ্জ ফায়ার সার্ভিসের ইনচার্জ মো. কামরুল ইসলাম বলেন, অগ্নিকাণ্ডের খবর পেয়ে আমরা সঙ্গে সঙ্গে ঘটনাস্থলে ছুটে যাই। স্থানীয়দের সহযোগিতায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে পারলেও কিছুই রক্ষা করা যায়নি। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট থেকে অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত হয়েছে। স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শাহ আলম শেখ বলেন, এই পরিবারটি একেবারেই দরিদ্র। আগুনে বসতঘর পুড়ে যাওয়ায় এখন খোলা আকাশের নিচে বসবাস ছাড়া তাদের আর কোনো পথ খোলা নেই। আমাদের পক্ষ থেকে তাদের কিছুটা সহযোগিতা করার চেষ্টা করব। সমাজের বিত্তবান ও সামর্থ্যবান ব্যক্তিদের প্রতি অনুরোধ করছি, এই পরিবারটির পাশে দাঁড়ানোর জন্য। ফরিদগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মেহেদী হাসান মানিক বলেন, অগ্নিকাণ্ডের বিষয়টি দুঃখজনক। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারটিকে আপাতত শুকনো খাবার সরবরাহ করা হচ্ছে। তাদের পক্ষ থেকে আবেদনের প্রেক্ষিতে পরবর্তী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

আজকের সংবাদ, ফরিদগঞ্জ

দৈনিক ইত্তেফাক প্রতিনিধি মহিউদ্দিনের ওপর হামলা

ফরিদগঞ্জ টাইমস ডেস্ক : ফরিদগঞ্জ বাজারে দৈনিক ইত্তেফাকের প্রতিনিধি সাংবাদিক মহিউদ্দিনের ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে। এতে তিনি রক্তাক্ত জখম হয়েছেন। মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) সকাল আনুমানিক সাড়ে আটটায় ফরিদগঞ্জ বাজার কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের সামনে এ ঘটনা ঘটে।  জানা যায়, হামলার পর সাংবাদিক মহিউদ্দিনকে প্রায় এক ঘণ্টা অবরুদ্ধ করে রাখা হয়। পরে স্থানীয়দের সহযোগিতায় সহকর্মী সাংবাদিকরা তাঁকে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নিয়ে যান। ফরিদগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. এরশাদ উল্যাহ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। ঘটনার খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই থানা পুলিশের সদস্যরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। আহত সাংবাদিক মহিউদ্দিন অভিযোগ করে জানান, ফরিদগঞ্জ পৌর ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি কামরুল পাটোয়ারীসহ কয়েকজন ব্যক্তি তাঁর ওপর একাধিকবার হামলা চালিয়েছেন। তবে এ অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্তদের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। সাংবাদিকের ওপর হামলা ও তাঁকে দীর্ঘসময় অবরুদ্ধ করে রাখার ঘটনায় স্থানীয় সাংবাদিকদের মধ্যে উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে। এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত এবং তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।  হামলার সুনির্দিষ্ট কারণ, অভিযুক্তদের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি। এ বিষয়ে পুলিশের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে নজর রয়েছে।

আজকের সংবাদ, জনদুর্ভোগ, ফরিদগঞ্জ

লোন দিবে বলে সাধারণ মানুষের টাকা নিয়ে উধাও প্রতারক চক্র

নিজস্ব প্রতিবেদক :  ফরিদগঞ্জ পৌরসভার অন্তর্গত পশ্চিম বড়ালী গ্রামের ভুক্তভোগী শাহীনুর আক্তার ও রেহানা বেগম।  পারিবারিক প্রয়োজনে লোনের প্রয়োজনীয়তা অনুভব করছিলেন বেশ কিছুদিন ধরেই। পশ্চিম বড়ালী গ্রামের মধ্যে রয়েছে অনেকগুলো এনজিওর শাখা অফিস। সেই সুবাদে বড়ালী গ্রামের প্রতিটি বাড়িতেই এনজিও কর্মীদের নিয়মিত আসা-যাওয়া হয়। তারই ধারাবাহিকতায় গত ১৮ অক্টোবর রাসেল এবং অজ্ঞাতনামা আরেকজনসহ পশ্চিম বড়ালী গ্রামের শাহীনুরের ঘরের দরজায় গিয়ে ‘শাহীনুর আফা’ বলে ডাকতে থাকেন। শাহীনুর ভেবেছিলেন তারা হয়তো অন্যসব এনজিওর মতোই কোনো এনজিও কর্মী। অন্যদের মতো তাদেরও অফিস রয়েছে পূর্ব বড়ালী হাজী বাড়ির ব্রিজ সংলগ্ন একটি বিল্ডিংয়ে।   তারা সহজ শর্তে ঋণ দেওয়ার নানারকম প্রলোভন দেখান। তাদের কথা শুনে কয়েকজন ঋণ নিতে তৎক্ষণাৎ রাজিও হন। শাহীনুর আক্তারও তার ব্যতিক্রম নন। তিন লাখ টাকা ঋণ নিতে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র রেডি করেন এবং প্রতারক চক্রের তৈরিকৃত ফরম পূরণ করেন। ঋণ নিতে হলে প্রথমে জামানত বাবদ ৩ লাখ টাকার জন্য ৩০ হাজার টাকা দিতে হয়। শাহীনুর আক্তার ১৯ তারিখ ঋণ পাবেন বলে ১৯ অক্টোবর সকালবেলা ৩০ হাজার টাকা তুলে দেন প্রতারক চক্রের হাতে। আরও কয়েকজনও তাদের হাতে জামানতের টাকা তুলে দেন। সহজ শর্তে ঋণ, বছরে একবার কিস্তি পরিশোধসহ এমন নানান প্রলোভনে ফাঁদে পা দেন তারা। ফলাফল ১৯ অক্টোবর দুপুর ১২টায় ভূয়া অফিসে তালা মেরে উধাও হয়ে যায় প্রতারক চক্র। বন্ধ পাওয়া যায় তাদের মোবাইল ফোন। এ ঘটনায় ফরিদগঞ্জ থানায় তাৎক্ষণিক একটি সাধারণ অভিযোগ দায়ের করা হলেও পুলিশ গুরুত্ব দেয়নি বলে ভুক্তভোগীদের অভিযোগ।  ভুক্তভোগী শাহীনুর আক্তার জানান, তারা এমনভাবে আমাকে ফাঁদে ফেলেছে আমি বুঝতে পারিনি। এখানে আশেপাশে অনেক এনজিও রয়েছে, আমি ভেবেছি তাদের মধ্যেই এরা কেউ। আশ্চর্যজনক বিষয় হচ্ছে দুজন অপরিচিত মানুষ আমার ঘরে গিয়ে আমার নাম ধরে ডেকেছে। এর পিছনে স্থানীয় কেউ জড়িত থাকতে পারে বলে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন। তিনি আরও বলেন, স্থানীয় মানুষদের সহায়তা ছাড়া অপরিচিত দুজন মানুষ আমার ঘর পর্যন্ত পৌঁছানো এবং নাম ধরে ডাকা অসম্ভব। নিশ্চয়ই এর পেছনে কোনো রহস্য আছে।  এই বিষয়ে ফরিদগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জের কাছে জানতে চাওয়া হলে তিনি জানান, অভিযোগ পেলে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। মানুষ এতটা লোভী হয়ে ঋণ নিতে চাওয়ার বিষয়টিকে তিনি আশঙ্কা হিসেবে দেখছেন। 

আজকের সংবাদ, ফরিদগঞ্জ, রাজনীতি

ফরিদগঞ্জের দুই ছাত্রলীগ নেতা মোহাম্মদ ও রাসেল ভিন্ন ভিন্ন জায়গা থেকে গ্রেফতার 

ফরিদগঞ্জ টাইমস ডেস্ক : চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জে নিষিদ্ধ ঘোষিত রাজনৈতিক সংগঠন ছাত্রলীগের দুই নেতাকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। রোববার (১৮ অক্টোবর) রাতে হাজীগঞ্জে ঝটিকা মিছিলে অংশ নেওয়া ও নাশকতার অভিযোগে দায়ের করা মামলায় মো. রাসেল মিজিকে গ্রেফতার করা হয়। একই দিন সন্ধ্যায় ফরিদগঞ্জ পৌর এলাকার ভাটিয়ালপুর চৌরাস্তা মোড় থেকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে মোহাম্মদ মিজিকে গ্রেফতার করে পুলিশ। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গ্রেফতার হওয়া দুজনই ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে সক্রিয়ভাবে যুক্ত ছিলেন। তবে তাদের পৃথক দুটি ঘটনায়, ভিন্ন অভিযোগের ভিত্তিতে গ্রেফতার করা হয়েছে। মোহাম্মদ মিজি কয়েকদিন আগে একই ধরনের রাজনৈতিক অভিযোগে গ্রেফতার হওয়া নূরেজ্জামান ভূঁইয়া সোহাগের শ্যালক। পুলিশ জানায়, ফরিদগঞ্জ থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আল-আমিন তালুকদালের নির্দেশনায় উপপরিদর্শক (এসআই) হুমায়ূন কবিরের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল হাজীগঞ্জ থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে রাসেল মিজিকে গ্রেফতার করে। ৩০ বছর বয়সী রাসেল মিজি ফরিদগঞ্জ উপজেলার সুবিদপুর পূর্ব ইউনিয়নের তেলিসাইর গ্রামের প্রবাসী মো. গিয়াসউদ্দিন ইউসুফের ছেলে। অন্যদিকে, গ্রেফতার হওয়া মোহাম্মদ মিজির বয়স ২২ বছর। তিনি উপজেলার ১০নং গোবিন্দপুর দক্ষিণ ইউনিয়নের চরভাগল গ্রামের আশ্রাফ আলী মুন্সী বাড়ির নয়াহাট বাজারের মুদি ব্যবসায়ী আবুল কালাম মিজির ছেলে। পৃথক ঘটনার বিবরণে পুলিশ সূত্র জানায়, গত ৬ অক্টোবর হাজীগঞ্জ থানা এলাকায় নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের একদল নেতাকর্মী ঝটিকা মিছিল করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এ ঘটনায় হাজীগঞ্জ থানার উপপরিদর্শক (এসআই) জুয়েল বাদী হয়ে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে একটি মামলা করেন। ওই মামলায় সন্দেহভাজন আসামি হিসেবে রাসেল মিজিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। অন্যদিকে, পুলিশের দাবি, নিষিদ্ধ ঘোষণার পরও ছাত্রলীগ নেতা মোহাম্মদ মিজি গোপনে সংগঠন পুনর্গঠন এবং সরকারবিরোধী সামাজিক ও রাজনৈতিক বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির তৎপরতায় যুক্ত ছিলেন। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে তার অবস্থান নিশ্চিত হওয়ার পর সম্ভাব্য নাশকতার পরিকল্পনা প্রতিরোধে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করা হয়। এ বিষয়ে ফরিদগঞ্জ থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আল-আমিন তালুকদার জানান, সরকারবিরোধী ও আইনশৃঙ্খলা বিনষ্টকারী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে নিষিদ্ধ সংগঠনের দুই সদস্যকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এলাকায় নাশকতা ও বিশৃঙ্খলা প্রতিরোধে পুলিশের বিশেষ তদারকি ও অভিযান অব্যাহত রয়েছে। তিনি আরও জানান, আসামিদের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা দায়েরের পর সোমবার (১৯ অক্টোবর) দুপুরে আদালতের মাধ্যমে তাদের কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

আজকের সংবাদ, খেলাধুলা, ফরিদগঞ্জ

কাছিয়াড়া ফুটসাল টুর্নামেন্টে ৫-১ গোলে ‘ব্যাচ ১৯’ চ্যাম্পিয়ন

টিটু হোসেন :  ঐক্যবদ্ধ কাছিয়াড়া স্পোর্টিং ক্লাবের আয়োজনে জাকজমকপূর্ণ আবহ ও দর্শকদের আনন্দ-উচ্ছ্বাসের মধ্য দিয়ে সম্পন্ন হলো ‘কাছিয়াড়া ফুটসাল ফুটবল টুর্নামেন্ট-২০২৬’-এর মেগা ফাইনাল ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান। ফাইনালে প্রতিপক্ষ ব্রাদার্স ওয়ারিয়রকে ৫-১ গোলের বিশাল ব্যবধানে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করেছে শক্তিশালী ‘ব্যাচ ১৯’।  রোমাঞ্চকর ফাইনাল খেলায় শুরু থেকেই দুর্দান্ত ফুটবল খেলা উপহার দেয় ব্যাচ ১৯। দলের খেলোয়াড়দের নিখুঁত পাসিং ও অসাধারণ পারফরম্যান্সে একের পর এক আক্রমণ সাজিয়ে তারা ৫টি গোল অর্জন করে। বিপরীতে ব্রাদার্স ওয়ারিয়র চেষ্টা চালিয়ে ১টি গোল পরিশোধ করতে সক্ষম হলেও বড় ব্যবধানের পরাজয় এড়াতে পারেনি। খেলা শেষে বিজয়ী ও বিজিত দলের মাঝে পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন ফরিদগঞ্জ উপজেলা বিএনপি সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক মাহবুবুর রহমান মফু।  অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন সংসদ সদস্য আলহাজ্ব এম.এ হান্নান। বিশেষ অতিথি ছিলেন উপজেলা উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. মেহেদী হাসান মানিক এবং ফরিদগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. এরশাদ উল্যাহ। তবে সরাসরি উপস্থিত না হতে পারলেও সকলেই শুভকামনা জানিয়েছেন খেলোয়াড় ও আয়োজকদের প্রতি।  এসময় ভার্চুয়ালি ভিডিও কলে প্রধান অতিথি আলহাজ্ব এম.এ হান্নান এমপি বলেন, “খেলাধুলা তরুণ প্রজন্মকে মাদক, সন্ত্রাস ও বিভিন্ন সামাজিক অবক্ষয় থেকে দূরে রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। নিয়মিত খেলাধুলার মাধ্যমে তরুণদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশের পাশাপাশি শৃঙ্খলা, নেতৃত্ব, পারস্পরিক সহযোগিতা ও ভ্রাতৃত্ববোধ গড়ে ওঠে। জয়-পরাজয় খেলারই অংশ। তাই প্রতিযোগিতার পাশাপাশি খেলোয়াড়দের মধ্যে সৌহার্দ্য ও সম্প্রীতি বজায় রাখতে হবে। এ ধরনের আয়োজন স্থানীয় পর্যায়ে ক্রীড়াচর্চাকে এগিয়ে নেয়ার পাশাপাশি তরুণদের ইতিবাচক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করতে সহায়ক হবে। আমি আয়োজকদের এমন সুন্দর উদ্যোগকে সাধুবাদ জানাই এবং ভবিষ্যতেও এ ধরনের আয়োজন অব্যাহত রাখার আহ্বান জানাই।” এসময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক মো. জাকির হোসেন, পৌর বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক আমানত গাজী, সাংবাদিক আমান উল্লাহ আমান, ক্রীড়া সংগঠন মোহাম্মদ উল্লাহ আল-আমিন প্রমুখ।  এছাড়াও স্থানীয় শিক্ষক, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও সর্বস্তরের সাংবাদিক ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত থেকে টুর্নামেন্টের সার্বিক সাফল্য ও খেলোয়াড়দের উৎসাহ প্রদান করেন।  আয়োজক সংগঠন ‘ঐক্যবদ্ধ কাছিয়াড়া স্পোর্টিং ক্লাব’-এর কর্মকর্তা ও কছিয়াড়াবাসী সফলভাবে এ বিশাল আয়োজন সম্পন্ন করতে পেরে সবার প্রতি ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন।

আজকের সংবাদ, ফরিদগঞ্জ

গাছ কাটতে বাধা দেয়ায় হামলার অভিযোগ: ছাত্রদলনেতাসহ আটক ২ 

ফরিদগঞ্জ টাইমস ডেস্ক :  জোরপূর্বক সৃজনকৃত বাগানের গাছ ও ডালপালা কাটার ঘটনায় বাধা প্রদানের ঘটনাকে কেন্দ্র করে হামলার ঘটনায় ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদকসহ কয়েকজেন বিরুদ্ধে মামলা দায়ের হয়েছে। এই ঘটনায় পুলিশ ইউনিয়ন ছাত্রদলের সেক্রেটারি নিজাম উদ্দিনসহ দুইজনকে আটক করেছে। হামলার ঘটনায় তিনজন নারীসহ অন্তত ৫ জন আহত হয়েছে বলে জানা গেছে।   চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জ উপজেলার গুপ্টি পশ্চিম ইউনিয়নের দত্তের বাড়িতে এই ঘটনা ঘটে। ইতিমধ্যেই আদালত আটককৃতদের জামিন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন।  মামলার বাদী শিমুল লোধ জানান, তাদের প্রতিবেশি আবুল হাশেম বেপারী জাল জালিয়াতি করে তাদের পৈত্রিক সম্পত্তি নিজেদের নামে দলিল সৃজন করে জবরদখল করে রেখেছে। তারা এসব বিষয়ে কাগজপত্র উদ্ধার করে মামলার মাধ্যমে একের পর এক তাদের সম্পত্তি পুনরুদ্ধার করছেন, তখনই তারা ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে। হাশেম বেপারির ছেলে ইউনিয়ন ছাত্রদলের সেক্রেটারি নিজাম উদ্দিনসহ তার লোকজন প্রায়শই তাদের জমিতে আবাদ করতে বাধা দিত। উল্টো তারা জোরপূর্বক সৃজনকৃত বাগানের গাছের ডালপালা কেটে নিত এবং জোরপূর্বক জমি আবদ করত। সর্বশেষ গত ১৬ অক্টোবর তারা আমাদের সম্পত্তির উপর সৃজনকৃত বাগান থেকে জোরপূর্বক গাছের ডালপালা কাটার সময়ে বাধা দিলে আমাদের ওপর হামলা করে। হামলায় তার স্ত্রী টুম্পা দে (২৩), ভাইয়ের স্ত্রী কাকলী (৩০), বোন শোভা রানী (৩০)-কে কুপিয়ে আহত করে। আমাকে এবং আমার ভাতিজীকেও বেদম মারধর করে তারা। এসময় মহিলাদের গায়ে থাকা স্বর্ণালংকার ও মুঠোফোন ছিনিয়ে নিয়ে যায় তারা। এমনকি আহতদের হাসপাতালে নিয়ে আসার সময়েও তাদের বাধা দেয়া হয়। তখন ৯৯৯ ফোন করলে পুলিশ আমাদের উদ্ধার করে হাসপাতালে যাওয়ার ব্যবস্থা করে। গুরুতর আহত অবস্থায় আহতদের প্রথমে ফরিদগঞ্জ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ও পরে চাঁদপুর সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এ ব্যাপারে ফরিদগঞ্জ থানায় মামলা দায়ের করেছি। আমরা ভয়ে ও আতঙ্কে রয়েছি।  এই ঘটনায় অভিযুক্তদের এলাকায় না পাওয়ায় তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।  ফরিদগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. এরশাদ উল্যাহ বলেন, ৯৯৯-এ ফোন পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে। অভিযোগটি ইতিমধ্যেই মামলা হিসেবে গ্রহণ করে এজাহারনামীয় দুই আসামি নিজাম উদ্দিন ও শামীমকে গ্রেফতার করে আদালতে পাঠানো হয়েছে।

আজকের সংবাদ, চাঁদপুর, বিশেষ সংবাদ

হাজীগঞ্জ বড় মসজিদের মোতাওয়াল্লী শাকিল ও তার বাবা আলমগীর কবির কারাগারে

চাঁদপুর প্রতিবেদক : চাঁদপুরে প্রতারণার মামলায় হাজীগঞ্জ ঐতিহাসিক বড় মসজিদের বর্তমান মোতাওয়াল্লী প্রিন্স শাকিল আহমেদ ও তার বাবা সাবেক মোতাওয়াল্লী আলমগীর কবির পাটোয়ারীকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। একই মামলার বাদীকেও আদালত অবমাননার অভিযোগে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। রোববার (১৮ অক্টোবর) বিকেলে চাঁদপুর চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক মোহাম্মদ মুজাহিদুর রহমান এ আদেশ দেন। আদালত সূত্রে জানা গেছে, সি/ডব্লিউ (কাস্টডি ওয়ারেন্ট) মূলে সিআর ৬৩৫/২০২৬ নম্বর মামলায় প্রিন্স শাকিল আহমেদ ও তার বাবা আলমগীর কবির পাটোয়ারীকে কারাগারে পাঠানো হয়। মামলার বাদী মো. কবির হোসেন লিটনের অভিযোগ, হাজীগঞ্জের মকিমাবাদ শপিং সেন্টারে দোকান কেনার জন্য ৪২ লাখ টাকা দেওয়া হলেও তাকে দোকান বুঝিয়ে দেওয়া হয়নি। এমনকি টাকাও ফেরত দেওয়া হয়নি। এ ঘটনায় তিনি দণ্ডবিধির ৪০৬ ও ৪২০ ধারায় আদালতে মামলা করেন। আদালতে আসামিপক্ষে শুনানি করেন অ্যাডভোকেট আহসান হাবিব এবং বাদীপক্ষে ছিলেন অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ সাইফুল মোল্লা। এদিকে, আদালতের আদেশ ঘোষণার পর বাদী খুশিতে হাততালি দেন বলে আদালত সূত্রে জানা গেছে। এ ঘটনাকে আদালত অবমাননা হিসেবে গণ্য করে বিচারক বাদীকেও কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। 

আজকের সংবাদ, ফরিদগঞ্জ

ফরিদগঞ্জে জাল টাকা দিয়ে কেনাকাটার অভিযোগে আটক চার নারী

নিজস্ব প্রতিবেদক :  চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জ উপজেলার গল্লাক বাজারে জাল টাকা দিয়ে কেনাকাটার অভিযোগে চার নারীকে আটক করেছেন স্থানীয় এক দোকানদার। রোববার (১৮ অক্টোবর) বিকেলে কেনাকাটার পর জাল টাকা দিয়ে দ্রুত স্থান ত্যাগের চেষ্টা করলে তাদের পিছু ধাওয়া করে আটক করা হয়। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বোরকা পরিহিতা ওই চার নারী গল্লাক বাজারের বিভিন্ন দোকানে গিয়ে কেনাকাটা শুরু করেন। কেনাকাটার পর টাকা লেনদেনের ধরন ও তাদের তাড়াহুড়ো দেখে এক দোকানদারের সন্দেহ হয়। পরে তিনি তাদের পিছু নেন। এসময় তারা বাজার থেকে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। একপর্যায়ে ধাওয়া করে টোরা মুন্সিরহাট সংলগ্ন বদরপুর এলাকা থেকে চারজনকেই আটক করতে সক্ষম হন ওই দোকানদার। পরে আটক চার নারীকে গল্লাক বাজার পরিচালনা কমিটি ও স্থানীয় চেয়ারম্যানের উপস্থিতিতে বাজার কার্যালয়ে নিয়ে আসা হয়। সেখানে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে তাদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ শুরু হয়। জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে আটক নারীরা ভিন্ন ভিন্ন ও অসংলগ্ন বক্তব্য দেন বলে জানা গেছে। এতে তাদের কথাবার্তা নিয়ে উপস্থিত বাজার ব্যবসায়ী ও স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। ঘটনাটি এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। তবে আটক নারীদের পরিচয়, তাদের কাছ থেকে উদ্ধার হওয়া জাল টাকার পরিমাণ এবং এ ঘটনায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পরবর্তী পদক্ষেপ সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য জানা যায়নি।

Scroll to Top