৬ই মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

Author name: Farid Ahmed

Abu sayed rangpur
আজকের সংবাদ, জাতীয়

গণঅভ্যুত্থানে শহীদ ও আহতদের নাম তালিকাভুক্ত করার সময় নির্ধারণ 

গণঅভ্যুত্থানে শহীদ ও আহতদের নাম তালিকাভুক্ত করতে সময়সীমা নির্ধারণ করে দিয়েছে সরকার। চলতি মাস পর্যন্ত শহীদ ও আহতদের নাম তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা যাবে বলে একটি খুদে বার্তায় জানানো হয়েছে। রোববার (১২ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ওয়েবসাইটে এই খুদে বার্তাটি প্রকাশ করা হয়। এতে বলা হয়, ‘গণঅভ্যুত্থানে শহীদ ও আহতের নাম তালিকাভুক্ত করতে সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসক/উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা/জুলাই শহীদ স্মৃতি ফাউন্ডেশন/গণঅভ্যুত্থান সংক্রান্ত বিশেষ সেল বরাবর ৩১/০১/২০২৫ পর্যন্ত আবেদন করা যাবে।’ এর আগে গত ২১ ডিসেম্বর গণঅভ্যুত্থানে শহীদ ও আহত ব্যক্তিদের প্রথম ধাপের খসড়া তালিকা প্রকাশ করে তথ্য অধিদপ্তর। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, জুলাই-আগস্টে ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে অংশগ্রহণ করে প্রতিপক্ষের আক্রমণে শহীদ বা আহত হয়েছেন এমন ব্যক্তিদের নামের তালিকা চূড়ান্ত করার লক্ষ্যে স্বাস্থ্যসেবা বিভাগ, স্বাস্থ্য অধিদপ্তর, ৬৪ জেলায় গঠিত জেলা কমিটি এবং গণঅভ্যুত্থান সংক্রান্ত বিশেষ সেল নিরলস কাজ করে যাচ্ছে। এরই অংশ হিসেবে শহীদ এবং আহত ব্যক্তিদের তালিকা চূড়ান্ত করার লক্ষ্যে প্রথম ধাপের খসড়া তালিকা গণঅভ্যুত্থান সংক্রান্ত বিশেষ সেলের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়েছে।

আজকের সংবাদ, প্রবাস

বোয়েসেলের মাধ্যমে ১০ হাজার কর্মীকে পাঠানো হবে মালয়েশিয়ায়

নিজস্ব প্রতিবেদক: মালয়েশিয়া সরকারের বেঁধে দেওয়া সময়ের মধ্যে দেশটিতে যেতে না পারা বাংলাদেশি কর্মীদের দুটি তালিকা করেছে প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়। এই দুই তালিকা অনুযায়ী সরকারি জনশক্তি রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ ওভারসিজ এমপ্লয়মেন্ট অ্যান্ড সার্ভিসেস লিমিটেডের (বোয়েসেল) মাধ্যমে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে তাদের মালয়েশিয়া পাঠানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। গত বছরের মার্চে মালয়েশিয়ার পক্ষ থেকে জানানো হয়, তারা ২০২৩ সালের ৩১ মার্চের পর নতুন করে আর কর্মীর চাহিদাপত্র ইস্যু করবে না। তবে এই সময়ের আগে ইস্যু করা চাহিদাপত্রে বিদেশি কর্মীরা ৩১ মে পর্যন্ত দেশটিতে প্রবেশ করতে পারবে, এই সময়ের পর আর কাউকে প্রবেশ করতে দেওয়া হবে না। তবে সেই সময়সীমার মধ্যে প্রায় ১৭ হাজার বাংলাদেশি কর্মী মালয়েশিয়ায় যেতে পারেননি বলে প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা যায়। সে সময় তৎকালীন প্রবাসীকল্যাণমন্ত্রী শফিকুর রহমান চৌধুরী দাবি করেছিলেন, রিক্রুটিং এজেন্সিগুলোর গাফিলতির কারণেই মালয়েশিয়া যেতে পারেননি বাংলাদেশি কর্মীরা। অন্যদিকে অ্যাসোসিয়েশন অব ট্রাভেল এজেন্টস অব বাংলাদেশ আটাবের পক্ষ থেকে সে সময় বলা হয়, প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়, বাংলাদেশ জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরো-বিএমইটি ও বায়রার মধ্যে সমন্বয়হীনতাই কর্মীদের মালয়েশিয়া যেতে না পারার কারণ। জানা গেছে, মালয়েশিয়া যেতে না পারা সেই ১৭ হাজার কর্মীর মধ্যে প্রায় ৪ হাজারের মতো কর্মী পরবর্তী সময়ে ই-পাসপোর্টজনিত জটিলতা কাটিয়ে মালয়েশিয়া যেতে সক্ষম হয়েছে। বাকি ১৩ হাজার কর্মীর মধ্যে প্রায় ৩ হাজার কর্মীর মালয়েশিয়ায় যাওয়ার সম্ভাবনা নেই বললেই চলে। কারণ তাদের নিয়োগদাতা কোম্পানিগুলো কালো তালিকাভুক্ত। বাকি যে ১০ হাজার কর্মী আছেন, তাদের এখন বোয়েসেলের মাধ্যমে মালয়েশিয়ায় পাঠানোর উদ্যোগ নিয়েছে মন্ত্রণালয়। তাদের মধ্যে ৫ হাজারের বেশি কর্মী মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে এজেন্টদের কাছ থেকে টাকা ফেরত পেয়েছেন। বাকিরাও যাতে টাকা ফেরত পায় সে জন্য মন্ত্রণালয় কাজ করছে। মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছে, মালয়েশিয়া যেতে না পারা কর্মীদের দুটি তালিকা করা হয়েছে। তাদের মধ্যে যাদের জনশক্তি, কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর (বিএমইটি) ছাড়পত্র ছিল এবং এজেন্সির থেকে টাকা ফেরত পেয়েছে তাদের নাম আছে প্রথম তালিকায়। আর যেসব কর্মী বিএমইটি ছাড়পত্র পাননি, তবে এজেন্সি টাকা পরিশোধ করেছে, তারা আছেন দ্বিতীয় তালিকায়। এর মধ্যে প্রথম তালিকায় থাকা কর্মীদের বোয়েসেলের ব্যবস্থাপনায় কম খরচে মালয়েশিয়া পাঠানোর চেষ্টা চলছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ১৪টি দেশ থেকে মালয়েশিয়া কর্মী নিলেও একমাত্র বাংলাদেশের কর্মীরাই অব্যবস্থাপনা ও প্রতারণার শিকার হয়েছে। এর জন্য দায়ী সিন্ডিকেট। এদিকে প্রায় মালয়েশিয়া যেতে না পারা প্রায় ৫ হাজার কর্মী এজেন্সিকে দেওয়া তাদের টাকা ফেরত না পেয়ে উদ্বেগে দিন কাটাচ্ছে। তাদের মধ্যে কয়েকজন কালবেলাকে জানিয়েছে, তারা মন্ত্রণালয়ে কাগজপত্র জমা দিলেও টাকা বা এ সম্পর্কিত তথ্য পাচ্ছেন না। সরকারের কাছে তাদের অনুরোধ, সরকার যেন তাদের টাকা ফেরত দেওয়ার এবং পুনরায় মালয়েশিয়ায় পাঠানোর ব্যবস্থা করে। আলাউদ্দিন নামে ভুক্তভোগী এক কর্মী কালবেলাকে বলেন, ‘টাকা ফেরত পেতে আমরা ৬৭ জন একসঙ্গে মন্ত্রণালয়ে কাগজপত্র জমা দিয়েছি। আমরা প্রত্যেকেই ৫-৬ লাখ করে টাকা এজেন্সিকে দিয়েছি। এখন মন্ত্রণালয়ে এসেছি টাকা ফেরত নেওয়ার জন্য এবং পরবর্তী সময়ে পুনরায় মালয়েশিয়া যাওয়ার ব্যবস্থা করে দেওয়ার জন্য। তবে মন্ত্রণালয় থেকে এখন পর্যন্ত আমরা তথ্য পাচ্ছি না। হাজার হাজার বঞ্চিত ও প্রতারিত মালয়েশিয়াগামী কর্মী রাস্তায় রাস্তায় ঘুরে বেড়াচ্ছে। এ বিষয়ে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করার জন্য সরকারকে অনুরোধ করছি।’ এ বিষয়ে প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা আসিফ নজরুলের একান্ত সচিব সারোয়ার আলম কালবেলাকে বলেন, মালয়েশিয়াগামী যেসব কর্মী বিদেশে যেতে পারেননি, তাদের সংখ্যা ১৭ হাজারের মতো। তাদের মধ্যে সর্বশেষ কর্মীর সংখ্যা ১০ হাজারের মতো রয়েছে, যাদের মধ্যে প্রায় সাড়ে ৫ হাজার লোক টাকা ফেরত নিয়েছে। বাকিদের টাকা ফেরত দেওয়ার কার্যক্রম চলমান রয়েছে। এ বিষয়ে যদি কোনো এজেন্সি মিথ্যা তথ্য দেয়, তবে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এক্ষেত্রে মন্ত্রণালয় দুটি তালিকা ধরে এগোচ্ছে। তিনি আরও বলেন, বঞ্চিত কর্মীদের প্রথমেই তালিকা অনুযায়ী টাকা ফেরত নিতে হবে। পরে এই তালিকা ধরে নতুন করে মালয়েশিয়ার লোক পাঠানোর চেষ্টা করা হবে। সম্ভবত, জানুয়ারি বা ফেব্রুয়ারির মধ্যেই উভয় দেশের মিটিং হবে। তখন যেসব কর্মীদের অগ্রাধিকারভিত্তিতে বোয়েসেলের মাধ্যমে মালয়েশিয়ায় লোক পাঠানোর বিষয়ে মন্ত্রণালয়ে পরিকল্পনা করছে। মালয়েশিয়াগামী প্রবাসী কর্মীরা যাতে কম খরচে কাজের সুযোগ পায় এবং পুনরায় এজেন্সির দ্বারা প্রতারণার শিকার না হয়, সেই বিষয়ে মন্ত্রণালয় সজাগ দৃষ্টি রেখেছে। তাছাড়া মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার উন্মুক্ত করার জন্য সরকারের সর্বোচ্চ মহল থেকে সর্বাত্মক চেষ্টা করা হচ্ছে। এ বিষয়ে দ্রুতই সুসংবাদ পাওয়া যেতে পারে। এক্ষেত্রে বঞ্চিত প্রবাসীরাই অগ্রাধিকার ভিত্তিতে প্রথমে মালয়েশিয়া যাওয়ার জন্য প্রাধান্য পাবে।

matlab accident
আজকের সংবাদ, চাঁদপুর

মতলবের সারপাড়ে পূর্বের স্বামী কর্তৃত সাবেক স্ত্রীকে গলা কেটে হত্যা।। ঘাতক আটক

নিজস্ব প্রতিবেদক: মতলব দক্ষিণ উপজেলার নারায়ণপুর পৌরসভার সারপাড় গ্রামে লাকী বেগম (২৫) কে গলা কেটে হত্যার ঘটনা ঘটে। লাকী বেগমের সাবেক স্বামী কুমিল্লার তিতাস থানার জগৎপুর গ্রামের চরু মিয়ার ছেলে মোস্তফা মিয়া (৩৫) সোমবার (১৩ জানুয়ারী) সকাল ৮টার সময় এ ঘটনা ঘটায় বলে সে নিজেই স্বীকার করেছে। এদিকে মোস্তফার পেটে ছুরিকাঘাতের দুটি চিহ্ন রয়েছে। ঘটনাস্থলে মোস্তফাকে তার স্ত্রীর নিথর দেহের উপর পড়ে থাকতে দেখা গেছে। খবর পেয়ে মতলব দক্ষিণ থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ সালেহ আহমেদ সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে রক্ত মাখা ছুরি এবং ঘাতক মোস্তফাকে আটক করেছ লাকী বেগম সারপাড় গ্রামের আন্দী প্রধানীয়া বাড়ির মৃত নজরুল প্রধানীয়ার মেয়ে। লাকী বেগমের ৬ বছর বয়সী একটি পুত্র সন্তান রয়েছে। আহত মোস্তফার সাথে কথা বলে জানা যায়, সে চট্রগ্রামে ট্রাকের ড্রাইভারের চাকরি করে। আজ সকালে এসেছে তার সন্তানকে নেয়ার জন্য।লাকী বেগমের মামা সারপাড় গ্রামের মৃত আলী আর্শ্বাদের ছেলে টুকু প্রধান জানান, লাকী বেগম গার্মেন্টের কাজের জন্য প্রায় ৮ বছর আগে চট্রগ্রাম চলে যায়। সেখানে মোস্তফার সাথে পরিচয়ের সূত্র ধরে পরিবারের অগোচরে তাদের বিয়ে হয়। কয়েক বছর পর তাদের মধ্যে বিবাহ বিচ্ছেদ হয়। এরপর লাকী বেগমের গৌরীপুরে আবার বিয়ে হয়। কয়েক মাস আগে সেই বিয়ে ভেঙে গেলে প্রায় এক মাস পূর্বে সারপাড় গ্রামের মামুন প্রধানের বাড়িতে ভাড়া নিয়ে থাকতে শুরু করে। অভাব অনটনের কারনে ঠিক মতো ভাগনির খোঁজ খবর নিতে পারেন না বলেও তিনি জানান। ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী লাকী বেগমের ছেলে জুনায়েদ (৬) বলেন, মোস্তফা তার মাকে ছুরি দিয়ে মুখে গলায় আঘাত করে হত্যা করেছে। আরেক প্রত্যক্ষদর্শী লাকী বেগমের ফুফাতো বোন প্রতিবেশী জেসমিন আক্তার বলেন, সকাল ৮ টার সময় লাকী বেগম চিৎকার দিয়ে ঘর থেকে বের হলে আমি আওয়াজ শুনে আমার ঘর থেকে বের হয়ে দেখি তার গলা ও মুখ দিয়ে রক্ত বের হচ্ছে। তখন ডাকচিৎকার দিলে আশেপাশের লোকজন এগিয়ে আসে। এই অবস্থায় মোস্তফা ঘর থেকে ছুরি হাতে বের হয়ে লাকী বেগমের উপর এসে বেহুঁশ হবার ভান ধরে পড়ে যায়। এদিকে লাকী বেগমের ফুফাতো বোন জেসমিন আক্তার আরও বলেন, জুনায়েদ নামে ছেলেটি মোস্তফার ঔরসজাত সন্তান নয়। ৬ বছরের জুনায়েদের সাথে কথা বলে অনেকটা এমনই মনে হয়েছে। এদিকে এলাকাবাসী জানান, আজ ভোরে ফজরের নামাজের সময় ঘাতক মোস্তফাকে সারপাড় গ্রামে দেখা গেছে। এর আগে তাকে কখনো পরিবারের সদস্য বা এলাকার কেউ দেখেনি বলে জানান। ফলে মোস্তফা সুস্থ হলে ঘটনার প্রকৃত রহস্য জেনে ঘতকের ফাঁসি দাবী করেন পরিবার ও এলাকাবাসী। মতলব দক্ষিণ থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ সালেহ আহমেদ বলেন, খবর পেয়ে সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে ঘটনাস্থলে এসেছি। ঘাতক মোস্তফাকে আহত অবস্থায় আটক করে চিকিৎসার জন্য মতলব দক্ষিণ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রেরণ করেছি। এছাড়া লাশের সুরতহাল রিপোর্ট তৈরি করে ময়নাতদন্তের জন্য চাঁদপুর মর্গে প্রেরণ করা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, পুলিশের উর্ধতন কর্মকর্তাদের বিষয়টি জানানো হয়েছে। ওনারা ঘটনাস্থল পরিদর্শনর আসতেছেন। হত্যাকাণ্ডের আইনি বিষয় প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। ছবির ক্যাপশনঃ মতলবের সারপাড় গ্রামে গলা কেটে হত্যার শিকার লাকী বেগমের নিথর দেহের উপর পড়ে থাকা সাবেক স্বামী ঘাতক মোস্তফা ও রক্ত মাখা ছুরি ।

AB party
আজকের সংবাদ, রাজনীতি

এবি পার্টির চেয়ারম্যান হলেন মঞ্জু, সম্পাদক ফুয়াদ

নিজস্ব প্রতিবেদক: আগামী তিন বছরের জন্য আমার বাংলাদেশ পার্টির (এবি পার্টি) চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন মজিবুর রহমান মঞ্জু ও সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ। শনিবার (১১ জানুয়ারি) সকালে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে এবি পার্টির কেন্দ্রীয় কাউন্সিলের আয়োজন করেছে আমার বাংলাদেশ পার্টি। কেন্দ্রীয় কাউন্সিল উদ্বোধন করেন জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদ পরিবার ও মুক্তিযোদ্ধা পরিবার। এতে চেয়ারম্যান পদে ১ হাজার ৪০০ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন মজিবুর রহমান ভুঁইয়া মঞ্জু। তার প্রতিদ্বন্দ্বী এ এফ এম সোলায়মান চৌধুরী পেয়েছেন ২১১ ভোট, আর দিদারুল আলম পেয়েছেন ৩৩ ভোট। এর আগে শুক্রবার চেয়ারম্যান পদে ভোট গ্রহণের পর রাতে জেনারেল সেক্রেটারি পদে নির্বাচনের আয়োজন করা হয়। সেখানে ভোটার ছিলেন গত মাসের শেষে নির্বাচিত এবি পার্টির নির্বাহী কমিটির ২১ সদস্য। তবে জেনারেল সেক্রেটারি পদে অন্য কোনো প্রার্থী না থাকায় বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হন আসাদুজ্জামান ফুয়াদ। শনিবার চেয়ারম্যান ও সেক্রেটারি পদের ফলাফল ঘোষণার পাশাপাশি ২১ জন নির্বাহী পরিষদ সদস্যেরও নাম ঘোষণা করা হয়। প্রথম জাতীয় কাউন্সিল অনুষ্ঠানে নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণা করে দলটির অভ্যন্তরীণ নির্বাচন কমিশন। শুক্রবার (১১ জানুয়ারি) সকাল ৯টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে এবি পার্টির চেয়ারম্যান পদে ভোটগ্রহণ হয়। সারাদেশের কাউন্সিলররা সেখানে ভোট দেন। প্রবাসী ও অসুস্থ কাউন্সিলররা ভোট দেন অনলাইনে। প্রথম জাতীয় কাউন্সিল অনুষ্ঠানে নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণা করে দলটির অভ্যন্তরীণ নির্বাচন কমিশন। শুক্রবার (১১ জানুয়ারি) সকাল ৯টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে এবি পার্টির চেয়ারম্যান পদে ভোটগ্রহণ হয়। সারাদেশের কাউন্সিলররা সেখানে ভোট দেন। প্রবাসী ও অসুস্থ কাউন্সিলররা ভোট দেন অনলাইনে। উদ্বোধনের পরেই স্বাগত বক্তব্য দেন এবি পার্টির আহ্বায়ক ডা. মেজর (অব.) আব্দুল ওহাব মিনার। তিনি পার্টি গঠনের ইতিহাস তুলে ধরে বলেন, আজকের কাউন্সিলে উপস্থিত নেতাকর্মী ভাই ও বোনেরাই আমাদের দলকে আজকের এই অবস্থানে নিয়ে এসেছেন। সব নেতাকর্মী ও উপস্থিত সব রাজনৈতিক দলের নেতাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান। এবি পার্টির কাউন্সিলে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ভয়াবহ দানবের হাত থেকে রক্ষা পেয়েছি‌। নতুন দেশ গড়ার স্বপ্ন দেখছি। এটা যাতে নষ্ট না হয়ে যায়, সেই চেষ্টা করতে হবে। তিনি আরও বলেন, ১৬ বছর ধরে আমরা গণতন্ত্রের জন্য আন্দোলন করেছি। আমাদের কোনো বিভেদ নেই। তবে আমাদের ঐক্যে ফাটল ধরানোর চেষ্টা করা হয়েছে। সেটা পারবে না। আমরা এগিয়ে যাবো। আমাদের ধৈর্য ধরতে হবে। হঠকারী সিদ্ধান্ত না নিই। তিনি বলেন, আমরা অন্তর্বর্তী সরকারেই সমর্থন করছি। তবে দেশের অর্থনীতির অবস্থা ভালো না, রাজনৈতিক অবস্থাও ভঙ্গুর। আমরা সংস্কার চাই না, এটা ভুল। আমরা সংস্কারও চাই, দ্রুত নির্বাচনও চাই। কারণ নির্বাচন হলে সব সংকট কেটে যাবে। আমার বাংলাদেশ পার্টির কেন্দ্রীয় কাউন্সিলে আরও বক্তব্য রাখেন নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না, গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়ক জোনায়েদ সাকি, নাগরিক কমিটির আহ্বায়ক নাসিরুদ্দিন পাটোয়ারী, এলডিপির মহাসচিব বীর মুক্তিযোদ্ধা ড. রেদোয়ান আহমেদ, এনডিএমের চেয়ারম্যান ববি হাজ্জাজ, খেলাফত মজলিসের মহাসচিব ড. আহমেদ আব্দুল কাদের, গণঅধিকার পরিষদের সেক্রেটারি রাশেদ খান, ১২ দলীয় জোটের মোস্তফা জামাল হায়দার, সুকোমল বড়ুয়া, ইসলামি আন্দোলন বাংলাদেশের প্রেসিডিয়াম সদস্য আশরাফ আলী আকন, জাগপার সহ সভাপতি রাশেদ প্রধান। শহীদ পরিবারের মধ্য থেকে বক্তব্য রাখেন শহীদ নাজমুল কাজীর স্ত্রী মারিয়া সুলতানা রাখি। আহতদের মধ্যে বক্তব্য দেন আসিফ আদনান। উপস্থিত ছিলেন শহীদ বাপ্পীর বোন, উমায়মা আহমেদ, মা, সুরাইয়া বেবি, শহীদ সিফাতের বাবা কামাল হাওলাদার, শহীদ তামিমির বাবা মান্নান হোসেইন, শহীদ ফজলুর স্ত্রী সুরাইয়া, শহীদ জিসানের মা জেসমিন আক্তার, শহীদ বোরহানের ভাই আমানত উল্লাহ বাবুল, যাত্রাবাড়ীতে আহত মেহেদী হাসান শুভসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারা।

শায়খুল হাদিস আল্লামা মামুনুল হক
আজকের সংবাদ, রাজনীতি

খেলাফত মজলিসের নতুন আমির মামুনুল হক

নিজস্ব প্রতিবেদক: বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের পঞ্চম আমির হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন শায়খুল হাদিস পরিষদের পৃষ্ঠপোষক শায়খুল হাদিস আল্লামা মামুনুল হক। শনিবার (১১ জানুয়ারি) ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউটে অনুষ্ঠিত মজলিসে শুরার অধিবেশনে সর্বসম্মতিক্রমে তিনি এ পদে মনোনীত হন। মাওলানা আবদুল বাছিত আজাদের স্থলাভিষিক্ত হলেন তিনি। এ উপলক্ষে শায়খুল হাদিস পরিষদের প্রধান পৃষ্ঠপোষক মাওলানা মাহফুজুল হক, সভাপতি মাওলানা তাফাজ্জুল হক আজিজ এবং সাধারণ সম্পাদক মাওলানা হাসান জুনাইদ এক যৌথ বিবৃতিতে বলেন, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের শুরা সদস্যরা যথাসময়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ ও যুগোপযোগী সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছেন। বিবৃতিতে আরও বলা হয়, আমরা বিশ্বাস করি, শায়খুল হাদিস আল্লামা আজিজুল হক রহমাতুল্লাহি আলাইহির হাতে গড়া এ সংগঠনের নেতৃত্ব একজন যোগ্য ও অভিজ্ঞ ব্যক্তির হাতে অর্পিত হয়েছে। সংগঠনের আমির শায়খুল হাদিস মাওলানা যোবায়ের আহমদ চৌধুরীর মৃত্যুর পর ভারপ্রাপ্ত আমিরে মজলিসের দায়িত্ব পান মাওলানা আবদুল বাছিত আজাদ। পরে ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বরে মাওলানা আবদুল বাছিত আজাদ খেলাফত মজলিসের আমির নির্বাচিত হন। অভিভাবক পরিষদের অন্যান্য সদস্য হলেন- মাওলানা মাহফুজুল হক, মাওলানা খুরশিদ আলম কাসেমী, মাওলানা আবুল কালাম, মাওলানা আকরাম আলী, মুফতি হিফজুর রহমান, মাওলানা আব্দুস সোবহান, মাওলানা ফরিদ আহমদ খান, মাওলানা ফরিদ আহমদ, মাওলানা মোশাররফ হোসাইন আদীব । কেন্দ্রীয় কমিটির অন্যান্য দায়িত্বশীলরা হলেন- নায়েবে আমির মাওলানা ইউসুফ আশরাফ, মাওলানা আফজালুর রহমান, মাওলানা রেজাউল করীম জালালী, মাওলানা আলী উসমান, মুফতী সাঈদ নূর, মাওলানা মুহিউদ্দীন রব্বানী, মাওলানা হেলালুদ্দীন, মাওলানা শাহীনুর পাশা, মাওলানা কোরবান আরী কাসেমী, মাওলানা মাহবুবুল হক, মাওলানা হোসাইন হাবীবুর রহমান, যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা আতাউল্লাহ আমীন, মাওলানা আব্দুল আজীজ, মুফতি শরাফত হোসাইন, মাওলানা তোফাজ্জল হোসাইন মিয়াজী, মাওলানা শরীফ সাইদুর রহমান, সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা আজিজুর রহমান হেলাল, মাওলানা এনামুল হক মূসা, মাওলানা আবুল হাসানাত জালালী, মাওলানা মুহাম্মদ ফয়সাল, মাওলানা আবু সাঈদ নোমান, মুফতি ওজায়ের আমীন, মাওলানা নিয়ামতুল্লাহ, মাওলানা মুহসিনুল হাসান, মাওলানা ফয়েজ আহমদ, মাওলানা হেদায়াতুল্লাহ হাদী, প্রশিক্ষণ সম্পাদক মাওলানা জহিরুল ইসলাম। বায়তুলমাল সম্পাদক মাওলানা ফজলুর রহমান, সমাজ কল্যাণ সম্পাদক মাওলানা রেজাউল হক, মাওলানা সামিউর রহমান মুসা, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক মাওলানা হারুনুর রশীদ ভূঁইয়া, অফিস সম্পাদক মাওলানা রুহুল আমীন খান, আইন বিষয়ক সম্পাদক মাওলানা শরীফ হোসাইন, সহকারী প্রশিক্ষণ সম্পাদক মাওলানা হাসান জুনাঈদ। নির্বাহী সদস্য মাওলানা এনামুল হক নূর, মাওলানা আতাউর রহমান, মাওলানা মুশাহিদুর রহমান, মুফতী হাবীবুর রহমান, মাওলানা জসিম উদ্দীন, মাওলানা হোসাইন আহমদ, মুফতি হাবীবুর রহমান কাসেমী, মাওলানা আব্দুন নুর, মাওলানা সাব্বির আহমদ উসমানী, মাওলানা আব্দুস সোবহান, মাওলানা মুহসিন উদ্দীন বেলালী, মাওলানা আব্দুল মুমিন, মাওলানা মামুনুর রশীদ, মাওলানা লিয়াকত হোসাইন, মাওলানা মঈনুল ইসলাম খন্দকার, মুফতি আজিজুল হক, হাফেজ শহীদুল ইসলাম, মাওলানা ওয়ালিউল্লাহ, মওলানা আনোয়ার মাহমুদ, মাওলানা মোহাম্মদ আলী, মাওলানা রেজাউল করিম।

আজকের সংবাদ, প্রবাস

অবৈধ অভিবাসীদের বৈধ হওয়ার সুযোগ দিচ্ছে না মালয়েশিয়া

নিজস্ব প্রতিবেদক: মালয়েশিয়া অবৈধ অভিবাসীদের বৈধ হওয়ার সুযোগ দিচ্ছে না। নথিবিহীন প্রবাসীদের নথিভুক্ত করতে সরকার কোনো পদক্ষেপ নিচ্ছে কি না এ বিষয়ে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত আসেনি। সম্প্রতি সোশ্যাল মিডিয়ায় গুজব ছড়ানো হয় সরকার খুব শিগগিরই ‘ওয়ার্কফোর্স রিক্যালিব্রেশন প্রোগ্রাম ৩.০’ (আরটিকে ৩.০) চালু করবে। এ বিষয়ে দেশটির ইমিগ্রেশন বিভাগ (জেআইএম) এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, গুজব ছড়ানো হচ্ছে তা সত্য নয়। দেশটির ইমিগ্রেশন মহাপরিচালক দাতুক জাকারিয়া শাবান জানান, এখন পর্যন্ত আরটিকে ৩.০ চালুর বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। তিনি বলেন, জনসাধারণকে পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে, কেউ যেন আরটিকে প্রোগ্রামের নাম ব্যবহার করে কোনো অসৎ উদ্দেশ্যে ছড়ানো গুজবে বিভ্রান্ত না হয়। সঠিক ও হালনাগাদ তথ্যের জন্য জনসাধারণকে জেআইএম-এর অফিসিয়াল পোর্টাল এবং সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্টগুলো অনুসরণ করার আহ্বান তিনি। অভিবাসন বিভাগ বলছে, আরটিকে ২.০ কর্মসূচি, যা ২০২৩ সালের ২৭ জানুয়ারি চালু হয়েছিল, তা ২০২৪ সালের ৩০ জুনে শেষ হয়েছে। এই কর্মসূচি ছিল একটি বিশেষ উদ্যোগ, যার মাধ্যমে বিদেশি শ্রমিকদের বৈধ করার সুযোগ দেওয়া হয়। কর্মসূচির অধীনে কঠোর সরকারি শর্তাবলি মেনে যোগ্য নিয়োগকারীরা বৈধভাবে তাদের কর্মীদের নিয়োগ করতে পেরেছিলেন। এ কর্মসূচিতে কতজন অভিবাসী বৈধতা নিয়েছেন তা জানানো হয়নি। অভিবাসন বিভাগের একটি সূত্রে জানা গেছে, দেশটির বৈধকরণ কর্মসূচির রিক্যালিব্রেশন তালিকার শীর্ষে ছিল বাংলাদেশ। কর্মসূচির শেষ ধাপে বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশের ৪ লাখেরও বেশি শ্রমিক নিবন্ধন করেছিলেন। তবে নানা জটিলতায় অনেক অবৈধ বাংলাদেশি এই প্রকল্পের সুযোগ নিতে পারেনি। এছাড়া গত বছরের ১ মার্চ থেকে শুরু হয় অভিবাসী প্রত্যাবাসন কর্মসূচি (পিআরএম)। এ কর্মসূচির মাধ্যমে অবৈধ অভিবাসীদের দেশে চলে যাওয়ার আহ্বান জানায় দেশটির সরকার। এই প্রত্যাবাসন কর্মসূচির মাধ্যমে স্বেচ্ছায় ৫০০ রিঙ্গিত জরিমানা দিয়ে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত অভিবাসীদের নিজ দেশে ফেরার সুযোগ করে দেয় সরকার। এ কর্মসূচিতে নাম নিবন্ধন করেছিলেন বাংলাদেশিসহ বিভিন্ন দেশের ২ লাখের বেশি প্রবাসী। এর মধ্যেও নানা জটিলতায় অনেকে দেশে ফিরতে পারেননি। জটিলতা নিরসনে, প্রবাসীদের বৈধ হওয়ার সুযোগ দিতে কূটনৈতিক তৎপরতা জোরদার করতে প্রবাসীরা আহ্বান জানিয়েছেন।

অর্থনীতি, আজকের সংবাদ

সঞ্চয়পত্রের মুনাফা বাড়লে কারা কত পাবেন?

নিজস্ব প্রতিবেদক: জাতীয় সঞ্চয় অধিদপ্তরের আওতায় পরিচালিত সঞ্চয় কর্মসূচিগুলোর মুনাফার হার বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। স্কিমের ধরন অনুযায়ী নতুন মুনাফার হার ১২ দশমিক ২৫ শতাংশ থেকে ১২ দশমিক ৫৫ শতাংশ পর্যন্ত হতে পারে। বর্তমানে স্কিমের ধরন অনুযায়ী মুনাফার হার ৯ দশমিক ৩৫ শতাংশ থেকে ১১ দশমিক ৭৬ শতাংশের মধ্যে রয়েছে। নতুন করে সঞ্চয়পত্রের যে মুনাফার হার নির্ধারণ করা হচ্ছে, এই হারে সবাই মুনাফা পাবেন না। মুনাফার নতুন হার যেদিন থেকে কার্যকর হবে, সেদিন বা তার পরে যারা সঞ্চয়পত্রে বিনিয়োগ করবেন তারাই বর্ধিত নতুন হারে মুনাফা হবে। আর যারা আগে সঞ্চয়পত্র কিনে রেখেছেন, তারা আগের নির্ধারিত হারেই মুনাফা পাবেন। উৎসে কর আগের হারে কাটা হবে নাকি কোনো পরিবর্তন আসবে সে বিষয়ে কিছু জানা যায়নি। সঞ্চয়পত্রের মুনাফার হার বাড়ানোর সুপারিশ করে সম্প্রতি অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগ থেকে অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগে (আইআরডি) একটি সুপারিশ পাঠানো হয়েছে। অর্থ বিভাগের তৈরি এ প্রস্তাব অনুমোদন করেছেন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। অর্থ বিভাগের সুপারিশে নতুন মুনাফার হার ১ জানুয়ারি থেকে কার্যকর করতে বলা হয়েছে। অর্থ বিভাগ থেকে সঞ্চয়পত্রের মুনাফার হার নির্ধারণে যে সুপারিশ করেছে তা নিয়ে আমরা কাজ করছি। শিগগির মুনাফার হার নির্ধারণ করে প্রজ্ঞাপন জারি করা হবে। অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগ থেকেও ১ জানুয়ারি থেকে সঞ্চয়পত্রের বাড়তি নতুন মুনাফা কার্যকর করার লক্ষ্যে কার্যক্রম চালানো হচ্ছে। কোন সঞ্চয়পত্রের মুনাফা কত হবে তা নির্ধারণ করে শিগগির অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগ থেকে পরিপত্র জারি করা হবে। যদি ১ জানুয়ারি থেকে নতুন মুনাফার হার কার্যকর হয়, তাহলে যারা ১ জানুয়ারি বা তার পরে সঞ্চয়পত্র কিনবেন তারা নতুন হারের মুনাফা পাবেন। আর ১ জানুয়ারির আগে যাদের সঞ্চয়পত্র কেনা আছে, তারা আগের হারেই মুনাফা পাবেন। অর্থ বিভাগের সুপারিশঅর্থ বিভাগ যে সুপারিশ করেছে, সেখানে বিনিয়োগকারীদের দুটি ধাপ নির্ধারণ করা হয়েছে। একটি ধাপে ৭ লাখ ৫০ হাজার টাকার নিচের বিনিয়োগকারী। অন্য ধাপটি হলো ৭ লাখ ৫০ হাজার টাকার ওপরের বিনিয়োগকারী। বর্তমানে বিনিয়োগকারীদের ১ থেকে ১৫ লাখ টাকা, ১৫ লাখ ১ টাকা থেকে ৩০ লাখ টাকা এবং ৩০ লাখ ১ টাকার বেশি এই তিনটি ধাপ রয়েছে। সঞ্চয়পত্রের নতুন মুনাফার হার ৫ বছর মেয়াদি ও ২ বছর মেয়াদি ট্রেজারি বন্ডের গড় সুদহার অনুযায়ী করার সুপারিশ করেছে অর্থ বিভাগ। এ দুই ধরনের ট্রেজারি বন্ডের সবশেষ ছয়টি নিলামকে বিবেচনায় নিয়ে নতুন মুনাফার হার নির্ধারণ করা হবে। এক্ষেত্রে ছয় মাসের বন্ডের সুদের গড় হার ঠিক করা হয়েছে ১২ দশমিক ২৫ থেকে ১২ দশমিক ৩৭ শতাংশ পর্যন্ত। সঞ্চয়পত্রের নতুন হার চলতি বছরের ১ জানুয়ারির থেকে জুন মাস পর্যন্ত করার সুপারিশ করেছে অর্থ বিভাগ। এরপর জুন মাসে জুলাই-ডিসেম্বর সময়ের নতুন হার নির্ধারণ করা হবে। এই মুনাফার হার নির্ধরণের দায়িত্ব পালন করবে নগদ ও ঋণ ব্যবস্থাপনা কমিটি (সিডিএমসি)। যোগাযোগ করা হলে অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগের দায়িত্বশীল এক কর্মকর্তা জাগো নিউজকে বলেন, অর্থ বিভাগ থেকে সঞ্চয়পত্রের মুনাফার হার নির্ধারণে যে সুপারিশ করেছে তা নিয়ে আমরা কাজ করছি। শিগগির মুনাফার হার নির্ধারণ করে প্রজ্ঞাপন জারি করা হবে। নতুন হারের মুনাফা কি সবাই পাবেন? এমন প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, না, সবাই নতুন হারে মুনাফা পাবেন না। নতুন হার যেদিন থেকে কার্যকর হবে, সেদিন বা তার পরে যারা সঞ্চয়পত্রে বিনিয়োগ করবেন তারাই এই হারে মুনাফা পাবেন। আর যারা আগেই সঞ্চয়পত্র কিনে রেখেছেন, তারা আগের হারে মুনাফা পাবেন। কবে থেকে নতুন হার কার্যকর হবে? এমন প্রশ্ন করলে এই কর্মকর্তা বলেন, অর্থ বিভাগ ১ জানুয়ারি থেকে নতুন মুনাফার হার কার্যকর করার সুপারিশ করেছে, আমরাও আপাতত ১ জানুয়ারি থেকে নতুন হার কার্যকর করার লক্ষ্যে কাজ করছি। তবে এখন নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না ১ জানুয়ারি থেকে নতুন মুনাফার হার কার্যকর হবে। আমরা কাজ করছি। এটা আবার সচিব মহোদয় ও উপদেষ্টা মহোদয়ের কাছে যাবে। তারপর চূড়ান্ত হবে কবে থেকে নতুন হার কার্যকর হবে। সঞ্চয়পত্রের কোন স্কিমে কী সুবিধা পরিবার সঞ্চয়পত্র১৮ ও তদূর্ধ্ব বয়সের যে কোনো বাংলাদেশি নারী, শারীরিক প্রতিবন্ধী পুরুষ ও নারী এবং ৬৫ বছর ও তার বেশি যে কোনো বাংলাদেশি পুরুষ ও নারী এই সঞ্চয়পত্র কিনতে পারেন। ২০২১ সালের ২১ সেপ্টেম্বর নির্ধারণ করা হারে এই সঞ্চয়পত্রের মুনাফা পাচ্ছেন বিনিয়োগকারীরা। ২০২১ সালে নির্ধারণ করা হার অনুযায়ী- এই সঞ্চয়পত্রে প্রথম বছরে সাড়ে ৯ শতাংশ, দ্বিতীয় বছরে ১০ শতাংশ, তৃতীয় বছরে সাড়ে ১০ শতাংশ, চতুর্থ বছরে ১১ শতাংশ এবং পঞ্চম বছরে ১১ দশমিক ৫২ শতাংশ হারে মুনাফা পাচ্ছেন বিনিয়োগকারীরা। সবাই নতুন হারে মুনাফা পাবেন না। নতুন হার যেদিন থেকে কার্যকর হবে, সেদিন বা তার পরে যারা সঞ্চয়পত্রে বিনিয়োগ করবেন তারাই এই হারে মুনাফা পাবেন। আর যারা আগেই সঞ্চয়পত্র কিনে রেখেছেন, তারা আগের হারে মুনাফা পাবেন। ১ জানুয়ারি থেকে নতুন মুনাফার হার কার্যকর করার জন্য অর্থ বিভাগ যে সুপারিশ করেছে, সেখানে পরিবার সঞ্চয়পত্র শুধু ৫ বছর মেয়াদি রাখা হয়েছে এবং এর মুনাফার সম্ভাব্য হার নির্ধারণ করা হয়েছে সাড়ে ৭ লাখ টাকা বা তার নিচের বিনিয়োগকারীদের জন্য সাড়ে ১২ শতাংশ। আর সাড়ে ৭ লাখ টাকার বেশি বিনিয়োগকারীদের জন্য ১২ দশমিক ৩৭ শতাংশ। অর্থাৎ, পাঁচ বছর মেয়াদি পরিবার সঞ্চয়পত্রের মুনাফার হার প্রায় ১ শতাংশ বাড়ছে। অন্যভাবে বলা যায়, আগে এক লাখ টাকার পাঁচ বছর মেয়াদি সঞ্চয়পত্র কিনলে বছরে ১১ হাজার ৫২০ টাকা মুনাফা পেতেন। নতুন হারে সাড়ে ৭ লাখ টাকার কম বিনিয়োগ করলে এক লাখে বছরে ১২ হাজার ৫০০ টাকা মুনাফা পাওয়া যাবে। আর সাড়ে ৭ লাখ টাকার ওপরে বিনিয়োগ করলে এক লাখে বছরে মুনাফা হবে ১২ হাজার ৩৭০ টাকা। পাঁচ বছর মেয়াদি বাংলাদেশ সঞ্চয়পত্রসব শ্রেণি-পেশার বাংলাদেশি নাগরিক এই সঞ্চয়পত্রে বিনিয়োগ করতে পারবেন। এছাড়া আয়কর বিধিমালা, ১৯৮৪ (অংশ-২) এর বিধি ৪৯-এর উপ-বিধি (২) এ সংজ্ঞায়িত স্বীকৃত ভবিষ্য তহবিল এবং ভবিষ্য তহবিল আইন, ১৯২৫ (১৯২৫ এর ১৯ নং) অনুযায়ী পরিচালিত ভবিষ্য তহবিলও বিনিয়োগ করতে পারবে। পাশাপাশি আয়কর অধ্যাদেশ-১৯৮৪ এর ৬ষ্ঠ তফসিলের পার্ট-এ এর অনুচ্ছেদ ৩৪ অনুযায়ী মৎস্য খামার, হাঁস-মুরগির খামার, পেলিটেড পোল্ট্রি ফিডস উৎপাদন, বীজ উৎপাদন, স্থানীয় উৎপাদিত বীজ বিপণন, গবাদি পশুর খামার, দুগ্ধ এবং দুগ্ধজাত দ্রব্যের খামার, ব্যাঙ উৎপাদন খামার, উদ্যান খামার প্রকল্প, রেশম গুটিপোকা পালনের খামার, ছত্রাক উৎপাদন এবং ফল ও লতাপাতার চাষ থেকে অর্জিত আয় যা সংশ্লিষ্ট উপ-কর কমিশনার প্রত্যয়ন করে এই সঞ্চয়পত্রে বিনিয়োগ করা যাবে। ২০২১ সালে নির্ধারণ করা হার অনুযায়ী- এই সঞ্চয়পত্রে প্রথম বছরে ৯ দশমিক ৩৫ শতাংশ, দ্বিতীয় বছরে ৯ দশমিক ৮০ শতাংশ, তৃতীয় বছরে ১০ দশমিক ২৫ শতাংশ, চতুর্থ বছরে ১০ দশমিক ৭৫ শতাংশ এবং পঞ্চম বছরে ১১ দশমিক ২৮ শতাংশ হারে মুনাফা পাচ্ছেন বিনিয়োগকারীরা। ১ জানুয়ারি থেকে নতুন মুনাফার হার কর্যকর করার জন্য অর্থ বিভাগ যে সুপারিশ করেছে, সেখানে শুধু ৫ বছর মেয়াদি মুনাফার হার রাখা হয়েছে। এর মুনাফার সম্ভাব্য হার নির্ধারণ করা হয়েছে সাড়ে ৭ লাখ টাকা বা তার নিচের বিনিয়োগকারীদের জন্য ১২ দশমিক ৪০ শতাংশ। আর সাড়ে

আজকের সংবাদ, রাজনীতি

যুগপৎ কর্মসূচিতে যাচ্ছে বিএনপি-সমমনারা

নিজস্ব প্রতিবেদক: দ্রুত নির্বাচন, দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণসহ বিভিন্ন দাবিতে যুগপৎভাবে কর্মসূচিতে যাচ্ছে বিএনপিসহ যুগপৎ আন্দোলনের দল ও জোটগুলো। শিগগিরই এই কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে। তবে কি ধরনের কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে তা জানানো হয়নি।  শনিবার রাজধানীর গুলশানে চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে বিএনপির লিয়াজোঁ কমিটির সঙ্গে ১২ দলীয় জোটের বৈঠক শেষে এসব কথা জানান জাতীয় পার্টির (জাফর) চেয়ারম্যান ও ১২ দলীয় জোটের প্রধান মোস্তফা জামাল হায়দার।  বৈঠক সূত্র জানায়, পতিত ফ্যাসিস্টদের গ্রেফতার এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতিসহ বিভিন্ন ইস্যুতে বিএনপিসহ যুগপৎ আন্দোলনের দল ও জোট যুগপৎভাবে কর্মসূচিতে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। সভা, সমাবেশ, মিছিল এবং মানববন্ধনসহ বিভিন্ন জনসম্পৃক্ততামূলক কর্মসূচি দেওয়া হবে।  বিএনপির স্থায়ী কমিটির বৈঠকে এবিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। বিএনপির পক্ষে বৈঠকে দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান, বেগম সেলিমা রহমান এবং ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল আউয়াল মিন্টু উপস্থিত ছিলেন।  এক প্রশ্নের জবাবে নজরুল ইসলাম খান বলেন, আমরা যে একদফায় আন্দোলন করছিলাম, এটা জুলাই মাসের শেষের দিকে এসে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের পক্ষে একদফা ঘোষণা করা হল। আমরা শুরু করেছি অনেক আগে। একদফার মূল কথাই ছিল যে, ফ্যাসিবাদের পতন এবং দেশে গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা। এর একটা অংশ আমরা অর্জন করতে পেরেছি। আরেকটা অংশ হল গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা। গণতান্ত্রিক পুনঃপ্রতিষ্ঠা মানে হলো দেশে গণতান্ত্রিক শাসন প্রতিষ্ঠা। আর গণতান্ত্রিক শাসন প্রতিষ্ঠা হয় একটি নিরপেক্ষ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মাধ্যমে। আমরা সেটার জন্যই অপেক্ষা করছিলাম। কিন্তু অতি সম্প্রতি অনেকে অনেক কথা বলা শুরু করেছেন। অন্যান্য কিছু নির্বাচনের কথা আলোচনা হচ্ছে। এটা গোটা আকাঙ্ক্ষার সঙ্গে সংগতিপূর্ণ না।  তিনি বলেন, বিএনপিসহ দেশের অনেকগুলো রাজনৈতিক দল আমরা জোটবদ্ধভাবে আন্দোলন করেছি এবং পরবর্তী পর্যায়ে যুগপৎ আন্দোলন করেছি। যুগপৎ আন্দোলনের অন্যতম শরীক ১২ দলীয় জোটের সঙ্গে আজকে দেশের বিদ্যমান, রাজনৈতিক, সামাজিক এবং অর্থনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা ও মতবিনিময় করেছি।  মোস্তফা জামাল হায়দার বলেন, আমরা প্রায় দীর্ঘ দুই ঘণ্টাব্যাপী দেশের বিদ্যমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি, সমস্যা এবং সংকটসহ নানা বিষয়ে আলোচনা করেছি। আমরা ঘোষণা করতে চাই, অতি শিগগিরই দুই থেকে তিনদিনের মধ্যে আমরা আমাদের পরবর্তী কর্মসূচি ঘোষণা করব। ৫ই আগস্টে আমাদের যে বিজয়, সেই বিজয়কে বিভিন্নভাবে আজকে বিপদগ্রস্ত হতে চলেছে। আমরা সবাই লক্ষ্যে করছি, জুলাই-আগস্টে ফ্যাসিবাদ বিরোধী যে ঐক্য, সেই ঐক্য কিছুটা হলেও হারিয়ে যেতে বসেছে। আমাদের ঐক্যে কোথায় যেনো একটু চিড় ধরেছে। আমরা এর সমাধান করতে চাই। আগামী দুই থেকে তিনদিনের মধ্যে সর্বদলীয়ভাবে, জুলাই-আগস্টে যেভাবে আন্দোলন করেছি, ঠিক তেমনিভাবে একত্রিত থেকে পরবর্তী কর্মসূচি ঘোষণা করব। তিনি বলেন, ‘জনজীবনে যে বর্তমান সমস্যা, দ্রব্যমূল্যের কষাঘাত, নির্বাচন সংক্রান্ত বিষয়ে ধুম্রজাল’-এসমস্ত কিছুর সুস্পষ্ট এবং সুনির্দিষ্ট ব্যাখা আমরা আপনাদের সামনে প্রদান করব। মোস্তফা জামাল হায়দারের নেতৃত্বে বৈঠকে ১২ দলীয় জোটের আরও উপস্থিত ছিলেন, জোটের মুখপাত্র বাংলাদেশ এলডিপির চেয়ারম্যান শাহাদাত হোসেন সেলিম, জোটের সমন্বয়ক ও বাংলাদেশ জাতীয় দলের চেয়ারম্যান সৈয়দ এহসানুল হুদা, জমিয়াতে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের মহাসচিব মুফতি গোলাম মহিউদ্দিন ইকরাম, জাতীয় পার্টি (জাফর) মহাসচিব আহাসান হাবিব লিংকন, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির (জাগপা) সহ-সভাপতি রাশেদ প্রধান, বাংলাদেশ লেবার পার্টি চেয়ারম্যান লায়ন মুহাম্মদ ফারুক রহমান, বাংলাদেশ কল্যাণ পার্টির মহাসচিব আবু হানিফ, ইসলামী ঐক্য জোটের মহাসচিব মাওলানা আব্দুল করিম, ইসলামিক পাটির্র মহাসচিব আবুল কাশেম, নয়া গণতান্ত্রিক পার্টির সভাপতি এম এ মান্নান, প্রগতিশীল জাতীয়তাবাদী দল (পিএনপি) চেয়ারম্যান ফিরোজ মো. লিটন ।

আজকের সংবাদ, খেলাধুলা

লিটন-সাকিবকে ছাড়াই চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির দল ঘোষণা

পাকিস্তানে অনুষ্ঠিতব্য আইসিসি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি ২০২৫-এর জন্য বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের স্কোয়াড ঘোষণা করা হয়েছে। তবে শেষ পর্যন্ত সবচেয়ে বড় চমক হয়ে থাকছে এই দলে লিটন দাস ও সাকিব আল হাসানের অনুপস্থিতি। দুই অভিজ্ঞ তারকাকে ছাড়াই নতুন এবং তরুণ প্রতিভার ওপর ভরসা রেখে দল গঠন করেছে নির্বাচক প্যানেল। এবারের স্কোয়াডের নেতৃত্বে রয়েছেন নাজমুল হোসেন শান্ত। তার অভিজ্ঞতার পাশাপাশি তরুণ নেতৃত্বগুণ বাংলাদেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। দলে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে মেহেদী হাসান মিরাজ, সৌম্য সরকার, তৌহিদ হৃদয় এবং তানজিদ হাসানের মতো প্রতিভাবান খেলোয়াড়দের। ব্যাটিং বিভাগে অভিজ্ঞ মুশফিকুর রহিম ও মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ রয়েছেন, যারা ব্যাটিং অর্ডারে গভীরতা যোগ করবেন। বোলিং আক্রমণে রয়েছেন তাসকিন আহমেদ, মোস্তাফিজুর রহমান এবং নাসুম আহমেদের মতো নির্ভরযোগ্য পেসার ও স্পিনাররা। তরুণ লেগ-স্পিনার রিশাদ হোসেনের অন্তর্ভুক্তি বাংলাদেশের বোলিং আক্রমণে ভিন্ন মাত্রা যোগ করবে। এছাড়া তানজিম হাসান সাকিব এবং দেশের স্পিড স্টার নাহিদ রানা দলে নতুন উদ্যম নিয়ে খেলবেন বলে আশা করা হচ্ছে। চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির জন্য বাংলাদেশের এই স্কোয়াডে তরুণ ও অভিজ্ঞতার মিশ্রণ থাকলেও লিটন ও সাকিবের অনুপস্থিতি নিয়ে আলোচনা চলছেই। সাকিবের সাম্প্রতিক বোলিং নিষেধাজ্ঞা তার দলে অনুপস্থিতির প্রধান কারণ। আর লিটন দাসের ফর্ম নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে, যা হয়তো তাকে স্কোয়াড থেকে বাদ দেওয়ার কারণ। বাংলাদেশের স্কোয়াড: নাজমুল হোসেন শান্ত (অধিনায়ক), সৌম্য সরকার, তানজিদ হাসান, তৌহিদ হৃদয়, মুশফিকুর রহিম, মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ, জাকের আলি অনিক, মেহেদী হাসান মিরাজ, রিশাদ হোসেন, তাসকিন আহমেদ, মোস্তাফিজুর রহমান, নাসুম আহমেদ, তানজিম হাসান সাকিব, পারভেজ হোসেন ইমন, নাহিদ রানা।

আজকের সংবাদ, ফরিদগঞ্জ

‘স্বপ্নচুড়া সমাজ কল্যাণ সংস্থার প্রতিষ্ঠা বার্ষিকীতে ফ্রি ব্লাড গ্রুপ নির্নয় ক্যাম্পিং’

তারেক রহমান: চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জে সামাজিক সংগঠন স্বপ্নচুড়া সমাজ কল্যাণ সংস্থার পঞ্চম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উপলক্ষ্যে ফ্রি ব্লাড গ্রুপ নির্নয় ক্যাম্পিং অনুষ্ঠিত হয়েছে।আজ বুধবার ৮ জানুয়ারি সকালে উপজেলার গৃদকালিন্দিয়া মৌলভী আইউব আলী শিক্ষা কমপ্লেক্সে এই আনুষ্ঠানিকতার আয়োজন করা হয়। ফ্রি ব্লাড গ্রুপ নির্নয় ক্যাম্পিং কার্যক্রম উদ্বোধন করেন সংগঠনের উপদেষ্টা ও গৃদকালিন্দিয়া হাজেরা হাসমত ডিগ্রি কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ ড. মোহাম্মদ মহিব উল্যা খান।গৃদকালিন্দিয়া হাজেরা হাসমত কলেজের অধ্যক্ষ (ভারপ্রাপ্ত) গৌরি রানি শাহা, বিএনসিসি ক্যাপ্টেন কমান্ডার (ময়নামতি রেজিমেন্ট) আবুল কালাম আজাদ, সামাজিক সংগঠক এইচ এম মুহিব, আব্দুল বাতেন, সোহেল মিজি, মামুন খান, শাহীন খান, নিতাই চন্দ্র সূত্রধর আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন।অতিথিরা তাদের বক্তব্যে বলেন, ব্লাড ডোনেশনে সাধারণ মানুষকে উদ্ধুদ্ধ করা একটি মহত কাজ। মুমুর্ষ রোগীর জীবন বাঁচাতে সময়মত ডোনার সংগ্রহ করা একটি কঠিন কাজ। সে কঠিন কাজকে সহজি করনে স্বপ্ন চুড়া সমাজ কল্যান সংস্থার এ কাজ অবশ্যই প্রসংশার দাবী রাখে। ভবিষ্যতে এই সংস্থার সদস্যরা সব ভালো কাজের সাথে যুক্ত থাকবে বলে প্রত্যাশা করি।

আজকের সংবাদ, ফরিদগঞ্জ

ফরিদগঞ্জে ট্রাক্টরের আধিপত্য, ধ্বংস করছে পরিবেশ, জনমনে উদ্বেগ

তারেক রহমান: ফরিদগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন সড়ক ও অলিতে-গলিতে বেপরোয়াভাবে চলাচল করছে নিষিদ্ধ ট্রলি ও ট্রাক্টর। উপজেলার ছোটবড় সব সড়কে সকাল থেকে শুরু করে মধ্য রাত পর্যন্ত বেপরোয়াভাবে দাপিয়ে বেড়াচ্ছে এসব যানবাহন। লাইসেন্স, সিগনাল লাইট ও হর্ণ ছাড়াই এগুলো রাস্তায় চলাচল করছে। এ সুযোগে অনেক অদক্ষ ও কিশোর বয়সের ছেলেরা চালাচ্ছে এসব গাড়ি। যার ফলে প্রতিনিয়ত দুর্ঘটনাসহ রাস্তায় যানজট, কালো ধোঁয়া ও শব্দ দূষণ হচ্ছে। এ ছাড়াও এসব যানবাহনের কারণে গ্রামগঞ্জের কাঁচা-পাকা রাস্তা নষ্ট হচ্ছে। ট্রাক্টর চলাচলের কারণে বছর না ঘুরতেই পাকা রাস্তাগুলোই ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বেশি। অদক্ষ চালকদের বেপরোয়া গাড়ি চালনার কারণে যানজটের পাশাপাশি প্রায় সময় ঘটছে দুর্ঘটনা। ট্রাক্টর শুধুমাত্র চাষাবাদের জন্য বৈধ থাকলেও এখন অবৈধভাবে পণ্য পরিবহন কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে। স্বল্প খরচে ভারী কাজ করানোর জন্য মাটি খেকুরা এসব যান ব্যবহার করেন। অন্যদিকে ফসলি জমির মাটি নিয়ে আসার কাজে ব্যবহৃত হওয়ায় নষ্ট হচ্ছে ফসলি জমির উর্বরতা শক্তি। অভিযোগ রয়েছে, কৃষি জমির মাটি ক্রয়-বিক্রয়ে স্থানীয় একটি প্রভাবশালী চক্র জড়িত। কৃষি জমির মাটি কেটে ফসল উৎপাদন হুমকির মুখে ফেলতেও কোনো দ্বিধা করছেন না এই চক্র। অবৈধভাবে ফসলি জমির মাটি বিক্রি এবং জমির বিক্রিত মাটি তুলে আনতে গিয়ে ট্রাক্টর পাশের জমিগুলোরও বেহাল দশা করছে। এদিকে প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো বাধা না থাকায় উপজেলায় রাত-দিন ২৪ ঘণ্টা চলছে এ অবৈধ পরিবহন। এসবের বেপরোয়া গতির কারণে প্রায়ই ঘটছে দুর্ঘটনা। এ ছাড়া এসব পরিবহনের বিকট শব্দের কারণে ঘটছে শব্দদূষণও। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, এসব যান তৈরি হয় মূলত হালচাষের জন্য। দেশে অসাধু লোকজন হালচাষের ট্রাক্টরে বডি লাগিয়ে পরিবহন হিসেবে ব্যবহার করছে। অথচ বাংলাদেশ মোটরযান আইনে পাকা রাস্তায় চলাচলকারী যানবাহনের তালিকায় এসব পরিবহনের কোনো অস্তিত্ব নেই। সরকার শুধু কৃষিকাজে ব্যবহারের জন্য এসব যান আমদানির অনুমতি দিয়ে থাকে। কিন্তু দেখা যাচ্ছে, বিশেষ করে বিভিন্ন ইটভাটার মালিক এবং মাটি ও বালু বিক্রয়ের সিন্ডিকেটরা হাল চাষের ট্রাক্টরগুলোতে অবৈধ ট্রলি লাগিয়ে সড়কের উপর ছেড়ে দেয়। তাদের ইট, বালু ও মাটি পরিবহন করে এ ট্রাক্টরে। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ফরিদগঞ্জ উপজেলায় প্রতিদিন প্রায় ২শত অবৈধ ট্রাক্টর বিভিন্ন ধরনের মালামাল নিয়ে অবাধে চলাচল করছে। বিকট শব্দে রাতের বেলাও ঘুমানো দায়। ফলে পথচারীসহ জনসাধারণকে সার্বক্ষণিক আতঙ্কের মধ্যে থাকতে হচ্ছে। সড়কে চলাচলের অনুপযোগী এসব পরিবহনের কারণে কমছে রাস্তার স্থায়িত্ব। অপর দিকে সামান্য বৃষ্টি হলেই ট্রাক্টর থেকে পড়ে যাওয়া মাটি পিচ্ছিল হয়ে রাস্তা মরণফাঁদে পরিণত হচ্ছে। বালু পরিবহনের সময় ওপর দিকটা খোলা থাকায় বালু উড়ে এসে পথচারীদের চোখে পড়ে সমস্যার সৃষ্টি করছে। এদিকে ২০১৭ সালে চাঁদপুরের সাবেক পুলিশ সুপার শামচ্ছুন্নাহার প্রায় ২ বছর ট্রাক্টর চলাচল বন্ধ রাখেন।পরবর্তীতে পুলিশ সুপার বদলী হওয়ার পরে রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় পুনরায় চলছে ফরিদগঞ্জ উপজেলা সহ চাঁদপুর জেলায়। চিকিৎসকরা বলছেন, এসব পরিবহন বেপরোয়া চলাচলের কারণে রাস্তায় প্রচণ্ড ধুলাবালি ওড়ে। স্কুলগামী শিশুসহ বয়স্ক মানুষের নিউমোনিয়াসহ শ্বাসকষ্টজনিত বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হওয়ার বেশি আশঙ্কা থাকে। সচেতন মহল মনে করেন এসব নিষিদ্ধ গাড়ি নিয়ন্ত্রণে আনা প্রয়োজন। তা না হলে দিনদিন এসব যানবাহনের প্রভাবে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। এবং আমার কৃষি জমির উর্বরতা নষ্ট হয়ে যাবে। এ বিষয়ে উপজেলা ইউএনও সুলতানা রাজিয়া জানান, সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী কৃষি জমি বাঁচাতে হবে। অবৈধ ট্রাক্টরসহ জোর পূর্বক মাটি বিক্রি কারীদের বিরুদ্ধে প্রশাসনের পক্ষ থেকে অচিরেই ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে শাস্তির ব্যবস্থা করা হবে।

আজকের সংবাদ, রাজনীতি

অবশেষে মায়ের বুকে ছেলে

নিজস্ব প্রতিবেদক: উন্নত চিকিৎসার জন্য যুক্তরাজ্যের লন্ডনে পৌঁছেছেন বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া। যুক্তরাজ্যের স্থানীয় সময় বুধবার (৮ জানুয়ারি) সকাল ৯টা ৫ মিনিটে (বাংলাদেশ সময় বিকেল ২টা ৫৮ মিনিট) তিনি হিথ্রো বিমানবন্দরে পৌঁছান। এসময় তার বড় ছেলে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ও পুত্রবধূ জোবায়দা রহমান বিমানবন্দরে তাকে স্বাগত জানান। প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে মাকে কাছে পেয়ে গলা জড়িয়ে ধরেন তারেক রহমান। এসময় তারেক রহমানকে হাস্যোজ্জ্বল দেখা যায়। মা-ছেলের এ মধুর মুহূর্ত এক আবেগঘন পরিবেশ তৈরি করে। এর মধ্য দিয়ে দীর্ঘ সাড়ে সাত বছর পর মা-ছেলের সাক্ষাৎ হলো। চিকিৎসার জন্য সবশেষ ২০১৭ সালের ১৬ জুলাই লন্ডনে গিয়েছিলেন খালেদা জিয়া। এরপর তিনি আর কোনো বিদেশ সফর করেননি। এ সময়ের মধ্যে ছেলে তারেক রহমানের সঙ্গেও সরাসরি দেখা হয়নি তার। বিমানবন্দরে খালেদা জিয়াকে ফুল দিয়ে স্বাগত জানান যুক্তরাজ্যে বাংলাদেশের ভারপ্রাপ্ত হাইকমিশনার হযরত আলী খান। তাকে স্বাগত জানাতে বিমানবন্দরে যুক্তরাজ্য বিএনপির সভাপতি এম এ মালেক ও সাধারণ সম্পাদক কয়সর এম আহমদসহ খালেদা জিয়ার পরিবারের অন্য সদস্যরা এবং দলের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।  বিএনপির দলীয় সূত্র আগেই জানিয়েছে, খালেদা জিয়াকে ‘লন্ডন ক্লিনিকে’ ভর্তি করা হবে। সেখানে কিছুদিন চিকিৎসার পর তার যুক্তরাষ্ট্রের মেরিল্যান্ডে জনস হপকিনস বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালে চিকিৎসা নেওয়ার কথা রয়েছে। হিথ্রো বিমানবন্দরে ইমিগ্রেশন প্রক্রিয়া শেষে বিমানবন্দরের চতুর্থ টার্মিনালের রয়্যাল ভিভিআইপি গেট দিয়ে বের হয়ে অ্যাম্বুলেন্সে সরাসরি লন্ডন ক্লিনিকে যাওয়ার কথা রয়েছে খালেদা জিয়ার। এর আগে মঙ্গলবার রাত সোয়া ৮টার পর খালেদা জিয়ার গাড়িবহর বিমানবন্দরের উদ্দেশ্যে গুলশানের বাসা ফিরোজা থেকে রওনা হয়। রাত ১০টা ৫৫ মিনিটে তিনি বিমানবন্দরে পৌঁছান। তাকে বিদায় জানাতে গুলশান থেকে বিমানবন্দর পর্যন্ত পথে পথে বিএনপির নেতাকর্মীদের ঢল নামে। নেতাকর্মীরা ব্যানার-ফেস্টুন নিয়ে রাস্তার দুই পাশে দাঁড়িয়ে বিভিন্ন স্লোগান দিয়ে দলের চেয়ারপারসনকে বিদায়ী শুভেচ্ছা জানান। গাড়িতে খালেদা জিয়ার পাশে ছিলেন তার ছোট ছেলে প্রয়াত আরাফাত রহমান কোকোর স্ত্রী শর্মিলা রহমান সিঁথি। গুলশানের বাসভবন ফিরোজায় খালেদা জিয়ার ছোট ভাই শামীম ইস্কান্দার ও তার স্ত্রী কানিজ ফাতিমা, প্রয়াত ভাই সাইদ ইস্কান্দারের স্ত্রী নাসরিন ইস্কান্দারসহ আত্মীয়স্বজনরা তাকে বিদায় জানান। খালেদা জিয়া ফিরোজা ছাড়ার পর সেখানে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সাংবাদিকদের বলেন, ‘ম্যাডাম বাসা থেকে রওয়ানা হয়েছেন। তিনি আপনাদের মাধ্যমে দেশবাসীসহ সবার কাছে দোয়া চেয়েছেন।’ একাধিক দুর্নীতি মামলায় ২০১৮ সালের শুরু থেকে কারাবাসে যান খালেদা জিয়া। দীর্ঘদিন ধরে লিভার সিরোসিস, কিডনি, হার্ট, ডায়াবেটিস, আর্থ্রাইটিসসহ নানান শারীরিক জটিলতায় ভুগছেন তিনবারের সাবেক এ প্রধানমন্ত্রী।

Scroll to Top