৬ই মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

Author name: Farid Ahmed

আজকের সংবাদ, আন্তর্জাতিক

গাজার ভবিষ্যৎ নিয়ে ট্রাম্পের বার্তা

নিজস্ব প্রতিবেদক: মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ৪৭তম প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ নেওয়ার পর ডোনাল্ড ট্রাম্প গাজার পরিস্থিতি নিয়ে তার অভিমত প্রকাশ করেছেন। সোমবার (২০ জানুয়ারি) বাংলাদেশ সময় রাত ১১টায় ওয়াশিংটনের কংগ্রেস ভবনে শপথ গ্রহণ করেন তিনি। এরপর হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে গাজার যুদ্ধবিরতি প্রসঙ্গে মন্তব্য করেন। ট্রাম্প বলেন, গাজার যুদ্ধবিরতি কতদিন টিকে থাকবে তা নিয়ে তিনি আত্মবিশ্বাসী নন। এক সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘আমি নিশ্চিত নই। ওটা আমাদের যুদ্ধ নয়, তাদের যুদ্ধ।’ মঙ্গলবার (২১ জানুয়ারি) বার্তা সংস্থা এএফপির প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা যায়। গাজার ভবিষ্যৎ অবকাঠামো নিয়ে ট্রাম্পের দৃষ্টিভঙ্গি গাজা উপত্যকা নিয়ে ট্রাম্প তার পরিকল্পনার দিকেও ইঙ্গিত দেন। তিনি জানান, ইসরায়েলের প্রতিশোধমূলক হামলায় গাজার অবস্থা অত্যন্ত শোচনীয় হলেও এটি পুনর্গঠনের জন্য ‘অসাধারণ’ একটি জায়গা। তিনি বলেন, ‘গাজা সমুদ্রের কাছাকাছি একটি অসাধারণ জায়গা। সেখানে আবহাওয়া চমৎকার। আমার মতে, জায়গাটিকে নিয়ে খুব সুন্দর কিছু কাজ করা সম্ভব।’ ট্রাম্প আরও বলেন, ‘আমি গাজা উপত্যকার একটি ছবি দেখেছি। দেখে মনে হয়েছে, সেখানে অসংখ্যবার বিস্ফোরণ ঘটেছে। সবকিছু পরিকল্পনা অনুযায়ী চললে এটি অসামান্য পুনর্গঠনের মধ্য দিয়ে যাবে।’ ইসরায়েলকে ট্রাম্পের সমর্থন ও ফিলিস্তিনিদের অবস্থান ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর ফিলিস্তিনের স্বাধীনতাকামী গোষ্ঠী হামাসের নজিরবিহীন হামলার পর ইসরায়েলের প্রতিশোধমূলক আক্রমণে গাজার বড় অংশ ধ্বংস হয়েছে। ট্রাম্প মনে করেন, হামাস এখন অনেকটাই দুর্বল হয়ে পড়েছে। তিনি বলেন, ‘ইসরায়েল এই যুদ্ধ জিতছে এবং তারা নিজেদের সুরক্ষিত রাখবে।’ এদিকে ট্রাম্প প্রেসিডেন্ট হিসেবে প্রথম দিনই ফিলিস্তিনিদের ওপর কিছু কঠোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তিনি বাইডেন প্রশাসনের সময়ে পশ্চিম তীরের কট্টর ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীদের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা বাতিল করেছেন। যুদ্ধবিরতি ও জিম্মি বিনিময়ের প্রক্রিয়া রোববার (১৯ জানুয়ারি) থেকে ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকায় ইসরায়েল-হামাসের মধ্যে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়েছে। এই চুক্তির আওতায় উভয় পক্ষ জিম্মি ও বন্দি বিনিময় শুরু করেছে। যদিও এই চুক্তি বাইডেন প্রশাসনের দেওয়া রূপরেখার ভিত্তিতে আলোচনা শুরু হয়েছিল, ট্রাম্প-বাইডেনের যৌথ কূটনৈতিক প্রতিনিধিদের প্রচেষ্টায় তা বাস্তবায়িত হয়। তবে ট্রাম্প নিশ্চিত করেছেন যে, তিনি ইসরায়েলকে সব সময়ের মতোই সম্পূর্ণ সমর্থন দেবেন। ট্রাম্পের নেতৃত্বে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রনীতিতে গাজার পুনর্গঠন ও ইসরায়েলের স্বার্থ সুরক্ষার বিষয়টি আরও জোরালোভাবে প্রতিফলিত হচ্ছে। তবে গাজার যুদ্ধবিরতি কতদিন স্থায়ী হবে এবং ফিলিস্তিনিদের ভবিষ্যৎ কী হবে, তা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে।

আজকের সংবাদ, রাজনীতি

জামায়াত নেতার মাছ লুট করে বহিষ্কার দুই বিএনপি নেতা

নিজস্ব প্রতিবেদক: জামায়াত নেতার মাছ লুট করে বিক্রির অভিযোগে যশোরের মণিরামপুরে বিএনপির দুই নেতাকে বহিষ্কার করা হয়েছে। সোমবার (২০ জানুয়ারি) জেলা বিএনপির সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট সৈয়দ সাবেরুল হক সাবু এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে তাদের বহিষ্কারের তথ্য জানিয়েছেন। বহিষ্কৃতরা হলেন- নেহালপুর ইউনিয়ন বিএনপির সদস্য মাহাবুবুর রহমান ও ওয়ার্ড বিএনপির সদস্য রাজিব। বহিষ্কৃত দুজন কোনো সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত থাকতে পারবেন না বলেও প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে। এ বিষয়ে জেলা বিএনপির সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট সৈয়দ সাবেরুল হক সাবু জানান, ‘দলের কঠোর নির্দেশনা রয়েছে, কেউ দলীয় শৃঙ্খলাপন্থি কাজ করলে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। উপজেলা বিএনপির সুপারিশে দুই নেতাকে বহিষ্কার করা হয়েছে। দলের যেই হোক না কেন, দলীয় শৃঙ্খলাপন্থি কাজ করলেই আমরা বহিষ্কার করছি। বহিষ্কৃত ওই দুজনের বিরুদ্ধে গত শনিবার (১৮ জানুয়ারি) আলমসাধু ভর্তি মাছ লুট করে বিক্রির অভিযোগ ওঠে। তারা নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক লেখক ভট্টাচার্য্য’র মাছ ভেবেই সেগুলো লুট করেন বলে বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হয়। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় রাজনীতিতে ব্যাপক তোলপাড় হয়। স্থানীয় রাজনীতিকরা জানিয়েছেন, মাছ লুটের ঘটনার তথ্য পেয়ে নেহালপুর ইউনিয়ন বিএনপি নেতারা তা উদ্ধারে সক্রিয় হয়ে ওঠেন। ঘটনার পর ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক খলিলুর রহমান বলেছিলেন, সিসিটিভির ফুটেজ দেখে মাহাবুব ও রাজিব নামে দুজনকে মাছ লুটের সঙ্গে জড়িত হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। পরে তাদের কাছ থেকে মাছ বিক্রির সব টাকা উদ্ধার করে মালিককে ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে।

আজকের সংবাদ, রাজনীতি

রাতের আঁধারে বিএনপি নেতার বাড়িতে হাতবোমা বিস্ফোরণ

নিজস্ব প্রতিবেদক: শরীয়তপুরের নড়িয়া উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মতিউর রহমান সাগরের বাড়িতে বেশ কয়েকটি হাতবোমা নিক্ষেপ ও বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। সোমবার (২০ জানুয়ারি) দিনগত রাত ১১টার দিকে উপজেলার ঘড়িষার ইউনিয়নের চরলাউলানী এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, মতিউর রহমান সাগর দীর্ঘদিন ধরে বিএনপির রাজনীতি করে আসছেন। বর্তমানে তিনি নড়িয়া উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক। সোমবার দিনগত রাতে একদল দুর্বৃত্ত তার বাড়িতে প্রবেশ করে। এসময় তারা ঘরের সামনে বেশ কয়েকটি হাতবোমা নিক্ষেপ করে ও বিস্ফোরণ ঘটিয়ে পালিয়ে যায়। বোমা বিস্ফোরণের বিকট শব্দে বাড়ির লোকজনের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। পরে খবর পেয়ে ঘটনাস্থল থেকে একটি অবিস্ফোরিত ককটেল উদ্ধার করে পুলিশ। এ ব্যাপারে নড়িয়া উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মতিউর রহমান সাগর বলেন, গত রাতে কে বা কারা আমার বাড়িতে ককটেল বিস্ফোরণ ঘটায়। এই ঘটনার পর বেশ আতঙ্কে আছি। আমি এই ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চাই। জানতে চাইলে জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (নড়িয়া সার্কেল) আহসান হাবীব বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করা হয়েছে। সেখান থেকে একটি অবিস্ফোরিত ককটেল উদ্ধার করা হয়। অভিযোগের ভিত্তিতে এ ব্যাপারে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আজকের সংবাদ, প্রবাস

পান্থপথে সড়ক অবরোধ করেছেন বিদেশ গমনেচ্ছুরা

নিজস্ব প্রতিবেদক: টিকার সৌদিসহ মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি দেশ হজ বা প্রবাসীদের জন্য মেনিনজাইটিসের টিকা বাধ্যতামূলক করে দিয়েছে। সৌদি সরকারের নির্দেশনার আলোকে সম্প্রতি হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষও মেনিনজাইটিসের টিকা বাধ্যতামূলক বিষয়ে নির্দেশনা দিয়েছে। রাজধানীর কয়েকটি হাসপাতালে এই টিকা দেওয়া হয় বলেও জানানো হয়। টিকা না পেয়ে রাজধানীর পান্থপথ এলাকায় সড়ক অবরোধ করে আন্দোলন করছেন সৌদি আবরসহ মধ্যপ্রাচ্যগামী প্রবাসীরা। প্রবাসীদের আন্দোলনের কারণে পান্থপথ এলাকায় ব্যাপক যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। মঙ্গলবার (২১ জানুয়ারি) সকাল সাড়ে ১০টার পর থেকে প্রায় তিন শতাধিক প্রবাসী পান্থপথে অবস্থিত স্কয়ার হাসপাতালের সামনে এই আন্দোলন করছেন। জানা যায়, আন্দোলনরত প্রবাসীদের মধ্যে অধিকাংশ সৌদি প্রবাসী। এ ছাড়া ওমরা হজের যাত্রীরাও রয়েছেন। তাদের আজ রাজধানীর বিভিন্ন হাসপাতালে সৌদি আবরসহ মধ্যপ্রাচ্যের আরো দুই-একটি দেশে যাওয়ার জন্য টিকা নেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু ওইসব হাসপাতালে গিয়ে তারা দেখেন তাদের যেসব টিকা দেওয়ার কথা ছিল সেসব টিকা নেই। পরে তাদের জানানো হয় পান্থপথের স্কয়ার হাসপাতালে টিকা আছে সেখানে যেতে। সে অনুযায়ী তারা স্কয়ার হাসপাতালে আসেন। কিন্তু এসে দেখেন এখানেও টিকার সংকট। এরপর টিকা না পেয়ে প্রবাসীরা ক্ষুব্ধ হয়ে রাস্তায় নেমে আন্দোলন করতে থাকেন। এ বিষয়ে তেজগাঁও থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. জুবায়ের সংবাদমাধ্যমকে বলেন, টিকা না পেয়ে ক্ষুব্ধ প্রবাসীরা সড়ক অবরোধ করেছেন। তাদেরকে বিভিন্ন হাসপাতাল থেকে বলা হয়েছে যে, স্কয়ার হাসপাতালে গেলে তারা টিকা পাবেন। কিন্তু স্কয়ার হাসপাতাল থেকে প্রতিদিন ১০ থেকে ১৫টি টিকা দেওয়া হয়। তাদের কাছে তো এত টিকার স্টক নেই। প্রায় ৩০০ জন লোক এসেছেন টিকা নিতে। তাদের অধিকাংশ সৌদি প্রবাসী। আবার অনেকে রয়েছেন ওমরা হজের যাত্রী। এর বাইরে মধ্যপ্রাচ্যের আরও দু-একটি দেশের প্রবাসীরা রয়েছেন। স্কয়ার হাসপাতালের সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট ডা. ফয়সাল জামান সংবাদমাধ্যমকে বলেন, সকাল সাড়ে আটটা থেকে আমাদের হাসপাতালের সামনে টিকার জন্য প্রবাসীরা এসে বসে আছেন। এই মুহূর্তে আমাদের কাছে কোনো টিকা নেই, যা ছিল গতকাল পর্যন্ত আমরা দিয়েছি। এই টিকা বাংলাদেশে আমদানি করে রেডিয়েন্ট ফার্মা, তাদের সঙ্গে আমরা যোগাযোগ করেছি তারা বলছে নতুন করে টিকা আনতে অন্তত ১০-১৫ দিন লাগবে। এই মুহূর্তে তো আমাদের কিছুই করার নেই। তিনি বলেন, এর আগে প্রতিদিন সর্বোচ্চ পাঁচ থেকে ছয়টা টিকা লাগত। হুটহাট করেই সৌদি সরকারের কী সিদ্ধান্ত হলো, এখন এসে হাজারো মানুষ হাসপাতালের সামনে ভিড় জমিয়েছে। এর মধ্যে আবার অন্যান্য কয়েকটি হাসপাতালও তাদের কাছে টিকা নিতে যাওয়া লোকদের আমাদের হাসপাতালে পাঠিয়ে দিচ্ছে। আমরা তো এই অবস্থার জন্য প্রস্তুত ছিলাম না। এটি একটি স্লো মুভিং টিকা। অর্ডার দেওয়ার পরও বেশ সময় নিয়ে আসে। আমরা একাধিকবার রেডিয়েন্ট ফার্মাকে অনুরোধ করেছি কিছু করার জন্য কিন্তু তারা বলছে পারবে না। এখন আমাদের কি করার আছে? আমাদের তো টিকা দিলে কোনো সমস্যা নেই। বরং আমাদের লাভ।

শীতে বিপর্যস্ত দিনাজপুরের
আজকের সংবাদ, জাতীয়

২ ডিগ্রি তাপমাত্রা কমে শীতে বিপর্যস্ত দিনাজপুরের জনজীবন

উত্তরের হিমেল হাওয়া ও ঘন কুয়াশায় বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে দিনাজপুরের জনজীবন। তাপমাত্রা নেমেছে ১০.১ ডিগ্রি সেলসিয়াসে। ঠান্ডা বাতাস প্রবাহিত হচ্ছে পাঁচ কিলোমিটার বেগে। সোমবার (২০ জানুয়ারি) তাপমাত্রা ছিল ১২.২ ডিগ্রি সেলসিয়াস। আজ তা ২.১ ডিগ্রি কমে নেমে এসেছে ১০.১ ডিগ্রি সেলসিয়াসে। তাপমাত্রা কমে যাওয়ায় প্রয়োজন ছাড়া কেউ রাস্তায় বের হচ্ছে না। উষ্ণতা পেতে মানুষ খড়কুটো জ্বালিয়ে শীত নিবারণের চেষ্টা করছে। চায়ের দোকানে ভিড় করছেন শ্রমজীবী মানুষ। দূরপাল্লার ভারী যানবাহনকে চলাচল করতে হচ্ছে হেডলাইট জ্বালিয়ে। তাপমাত্রা কমায় নিম্ন আয়ের খেটে খাওয়া মানুষদের দুর্ভোগ বেড়েছে। কাজ না পেয়ে বিপাকে পড়েছেন তারা। তাপমাত্রা কমে যাওয়ায় প্রয়োজন ছাড়া কেউ রাস্তায় বের হচ্ছে না। উষ্ণতা পেতে মানুষ খড়কুটো জ্বালিয়ে শীত নিবারণের চেষ্টা করছে। চায়ের দোকানে ভিড় করছেন শ্রমজীবী মানুষ। দূরপাল্লার ভারী যানবাহনকে চলাচল করতে হচ্ছে হেডলাইট জ্বালিয়ে। তাপমাত্রা কমায় নিম্ন আয়ের খেটে খাওয়া মানুষদের দুর্ভোগ বেড়েছে। কাজ না পেয়ে বিপাকে পড়েছেন তারা। ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার চালক নাজমুল হোসেন বলেন, কাকডাকা ভোরে বের হয়েছি, কিন্তু ভাড়া নেই। রাস্তাঘাট প্রায় ফাঁকা। শীতে মানুষ বের হচ্ছে না। আবার শীতে বাইরেও থাকা যাচ্ছে না। হু হু করে বাতাস বইছে। দিনাজপুর আঞ্চলিক আবহাওয়া অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা তোফাজ্জল হোসেন বলেন, বুধবার দিনাজপুরের তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ১০.১ ডিগ্রি সেলসিয়াস। ২৪ ঘণ্টায় বাতাসের গড় গতিবেগ ছিল পাঁচ কিলোমিটার। বাতাসের আর্দ্রতা ছিল ৯৭ শতাংশ। হিমেল বাতাস প্রবাহিত হওয়ায় শীত বেশি অনুভূত হচ্ছে।

illis fish
আজকের সংবাদ, জাতীয়

রোববার থেকে কম দামে ইলিশ বেচবে সরকার

নিজস্ব প্রতিবেদক: ইলিশের দাম সব সময় ক্রেতার নাগালের বাইরে থাকে। এবার মাছটি সহজলভ্য করতে রোববার (১৯ জানুয়ারি) থেকে কেজিপ্রতি ৬০০ টাকায় বিক্রি করবে সরকার। এসব ইলিশের ওজন ৪৫০ থেকে ৮৫০ গ্রাম। শনিবার (১৮ জানুয়ারি) এ তথ্য জানিয়েছে বাংলাদেশ মৎস্য উন্নয়ন করপোরেশন (বিএফডিসি)। জানা গেছে, রোববার (১৯ জানুয়ারি) দুপুরে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ফরিদা আখতারের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনের পর এ ইলিশ কারওয়ান বাজারের বিএফডিসি ভবনের মৎস্যবিতানে বিক্রি করা হবে। বিএফডিসির পরিচালক অদ্বৈত চন্দ্র দাস গণমাধ্যমকে বলেন, ‘এই লটে বিক্রয়যোগ্য ইলিশের পরিমাণ ৮৫০ কেজি। ক্রেতারা আগে এলে আগে পাবেন। আমরা ধারণা করছি, এক সপ্তাহের মধ্যে সব মাছ বিক্রি হয়ে যাবে। এ বিষয়ে বাংলাদেশ মেরিন ফিশারিজ অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি এনাম চৌধুরী গণমাধ্যমকে বলেন, ‘মানুষকে কম দামে ইলিশ খাওয়াতে কোনো প্রফিট (লাভ) ছাড়া এ কর্মসূচিতে যুক্ত হয়েছি। পরীক্ষামূলক স্বল্পমূল্যে ইলিশ বিক্রিতে সফলতা পেলে পরে আমরা আরও বড় উদ্যোগ নেব।’

zia
আজকের সংবাদ, জাতীয়

আজ জিয়াউর রহমানের জন্মবার্ষিকী

নিজস্ব প্রতিবেদক: বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা, বহুদলীয় গণতন্ত্রের প্রবর্তক, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান বীর উত্তমের ৮৯তম জন্মবার্ষিকী আজ রোববার (১৯ জানুয়ারি)। ১৯৩৬ সালের এই দিনে বগুড়া জেলার গাবতলী উপজেলার বাগবাড়িতে জন্মগ্রহণ করেন তিনি। জিয়াউর রহমানের ডাকনাম ‘কমল’। ১৯৭৮ সালের ১ সেপ্টেম্বর তিনি বিএনপি প্রতিষ্ঠা করেন। জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে এক দিনের কর্মসূচি গ্রহণ করেছে দলটি। জিয়াউর রহমানের বাবা মনসুর রহমান পেশায় ছিলেন একজন রসায়নবিদ। বগুড়া ও কলকাতায় শৈশব-কৈশোর অতিবাহিত করার পর জিয়াউর রহমান বাবার কর্মস্থল করাচিতে চলে যান। শিক্ষাজীবন শেষে ১৯৫৫ সালে তিনি পাকিস্তান মিলিটারি একাডেমিতে অফিসার হিসেবে কমিশন লাভ করেন। বর্ণাঢ্য কর্মজীবনের অধিকারী শহীদ জিয়াউর রহমান বাংলাদেশের গণমানুষের কাছে মহান স্বাধীনতার ঘোষক, বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদের প্রবক্তা ও বহুদলীয় গণতন্ত্রের প্রতিষ্ঠাতা হিসেবে সমাদৃত। একজন সৈনিক হিসেবে কর্মজীবন শুরু করলেও জিয়াউর রহমানের জীবনের বৈশিষ্ট্য হচ্ছে দেশের সঙ্কটে তিনি বার বার ত্রাণকর্তা হিসেবে অবতীর্ণ হয়েছেন এবং দেশকে সে সঙ্কট থেকে মুক্ত করেছেন। তিনি অস্ত্রহাতে স্বাধীনতা যুদ্ধ করেছেন। যুদ্ধ শেষে আবার পেশাদার সৈনিক জীবনে ফিরে গেছেন। জিয়াউর রহমান সময়ের প্রয়োজনেই প্রতিষ্ঠা করেছিলেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপি। তার গড়া সেই রাজনৈতিক দল তার সহধর্মিণী সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া এবং জ্যেষ্ঠপুত্র তারেক রহমানের বলিষ্ঠ নেতৃত্বে নানা চড়াই-উৎরাই পেরিয়ে আজ দেশের অন্যতম বৃহৎ রাজনৈতিক দল হিসেবে স্বীকৃত। অসাধারণ দেশপ্রেমিক, অসম সাহসিকতা, সততা-নিষ্ঠা ও সহজ-সরল ব্যক্তিত্বের প্রতীক জিয়াউর রহমানের অবদান অসামান্য। ১৯৬৫ সালে পাক-ভারত যুদ্ধে খেমকারান সেক্টরে অসীম সাহসিকতার সাথে তিনি যুদ্ধ করেন। আবার বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়ে মুক্তিযুদ্ধের একটি সেক্টরের কমান্ডার হিসেবে যুদ্ধ পরিচালনা করেন। বিশ্ব মানচিত্রে তিনি বাংলাদেশ ও বাংলাদেশিদের ব্যাপকভাবে পরিচিত করিয়েছেন স্বাতন্ত্র্য বৈশিষ্ট্যে। জাতির মর্যাদাকেও বিশ্বব্যাপী সমুন্নত করেছেন তার শাসনামলে। জিয়াউর রহমানের সৈনিক ও রাজনৈতিক জীবনের সততা, নিষ্ঠা ও নিরলস পরিশ্রম দেশের মানুষ শ্রদ্ধাভরে এখনো স্মরণ করে। একজন খাঁটি দেশপ্রেমিক হিসেবেও তার পরিচিতি সর্বজনবিদিত। সময়ের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছে শহীদ জিয়ার রাজনৈতিক দর্শন ও দিকনির্দেশনা। তার প্রতিষ্ঠিত রাজনৈতিক দল বিএনপি দেশের স্বাধীনতা-পরবর্তীকালে একাধিকবার রাষ্ট্রক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হয়। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট তৎকালীন রাষ্ট্রপতি শেখ মুজিবুর রহমান সপরিবারে নিহত হবার পর তারই সহকর্মী খন্দকার মোশতাক আহমদ ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হন। পরবর্তী সময়ে নানা রাজনৈতিক পটপরিবর্তন ও ঘটনাপ্রবাহের পরিপ্রেক্ষিতে সিপাহী-জনতার ঐক্যবদ্ধ অভ্যুত্থান ঘটে। দেশের সেই চরম ক্রান্তিকালে সিপাহী-জনতার মিলিত প্রয়াসে জিয়াউর রহমান নেতৃত্বের হাল ধরেন। রাষ্ট্রক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হয়ে তিনি দেশে বহুদলীয় গণতন্ত্র, বাক-ব্যক্তি স্বাধীনতা, সংবাদপত্রের স্বাধীনতা নিশ্চিত করেন। দেশকে অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করতে আমৃত্যু চেষ্টা চালিয়েছেন। জাতির মধ্যে একটি নতুন উদ্দীপনার সৃষ্টি করে তাদের জাগিয়ে তুলতে তিনি সফল হয়েছিলেন। তার স্বল্পকালীন শাসনকার্য পরিচালনায় তিনি যে গভীর দেশপ্রেম, সততা, কর্তব্যনিষ্ঠা ও দুরদর্শিতার পরিচয় দিয়েছিলেন- তা আজো কেউ অতিক্রম করতে পারেনি বলে অভিমত অনেক রাজনৈতিক বিশ্লেষকের। এমনকি জিয়ার রাজনৈতিক বিরোধীরাও মৃত্যুর পর তার সততা নিয়ে কোনো প্রশ্ন উত্থাপন করতে পারেনি। শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান এ কারণেই এ দেশের জনগণের অন্তরে স্থায়ী আসন করে নিয়েছেন। ১৯৮১ সালের ৩০ মে একদল বিপথগামী সেনাসদস্যের হাতে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউজে শাহাদতবরণ করেন দেশপ্রেমিক এই রাষ্ট্রনায়ক। রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে তাকে সমাহিত করা হয়। বিএনপি মহাসচিবের বাণী : বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এক বাণীতে জিয়াউর রহমানের রুহের মাগফিরাত কামনা করে বলেন, শহীদ জিয়ার বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদী দর্শনেই আমাদের জাতিসত্ত্বার সঠিক স্বরূপটি ফুটে ওঠে, যা আমাদের ভৌগলিক জাতিসত্ত্বার সুনির্দিষ্ট পরিচয় দান করে। বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ আমাদের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব টিকিয়ে রাখারও অবিনাশী দর্শন। তিনি জিয়ার জন্মবার্ষিকীতে স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব সুরক্ষা; গণতন্ত্র, মানুষের ভোটাধিকার, মানবিক সাম্য, ন্যায়-বিচার ফিরিয়ে আনা এবং মানুষের হারানো মৌলিক ও মানবাধিকার প্রতিষ্ঠা করতে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার জন্য দেশবাসীর প্রতি আহবান জানান। কর্মসূচি : জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে আজ রোববার সকালে নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়সহ দেশব্যাপী দলীয় কার্যালয়গুলোতে দলীয় পতাকা উত্তোলন করা হবে। এরপর বেলা ১১টায় রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে শহীদ জিয়ার মাজারে পুষ্পস্তবক অর্পণ ও ফাতেহা পাঠ করবেন দলের জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্যবৃন্দসহ কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ ও নেতাকর্মীরা। দুপুর ২টায় রমনাস্থ ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে বিএনপির উদ্যোগে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হবে। দিবসটি উপলক্ষে পোস্টার প্রকাশ ও পত্রিকায় ক্রোড়পত্র প্রকাশ করা হয়েছে। এ ছাড়া বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনগুলোর উদ্যোগে জেলা, মহানগর, উপজেলা, থানা ও বিভিন্ন ইউনিটে নিজ নিজ সুবিধা অনুযায়ী আলোচনা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হবে। বিভিন্ন পেশাজীবী সংগঠন আলোচনা সভা ও শীতবস্ত্র বিতরণ করবে।

আজকের সংবাদ, রাজনীতি

গণঅভ্যুত্থানের ঘোষণাপত্র ছাড়া এই সরকার বেআইনি ও অবৈধ

নিজস্ব প্রতিবেদক: লেখক, কবি ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক ফরহাদ মজহার বলেছেন, ঘোষণাপত্র (Proclamation) জনগণের ক্ষমতা জনগণের কাছেই ফিরিয়ে দেওয়ার গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক এবং আইনি অনুষ্ঠান। গণঅভ্যুত্থানের ঘোষণাপত্রের অনুপস্থিতিতে সেনাসমর্থিত উপদেষ্টা সরকার বেআইনি ও অবৈধ।  বুধবার দুপুরে সামাজিক যোগযোগমাধ্যম ফেসবুকে নিজের ভেরিফাইড পেজে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এসব কথা বলেন। ওই পোস্টে তিনি আরও বলেন, শুরু থেকেই আমি কয়েকটি স্পষ্ট কথা বলে এসেছি। শেখ হাসিনার ফ্যাসিস্ট সংবিধান রক্ষার শপথ নিয়ে একটি সেনা সমর্থিত উপদেষ্টা সরকার গঠন করা হয়েছে অথচ এ ধরনের সরকারের কোনো সাংবিধানিক বা আইনি ভিত্তি নাই। অর্থাৎ জনগণের অভিপ্রায়ের বিপরীতে একটা অবৈধ সরকার জবরদস্তি কায়েম রাখা হয়েছে। আইন কিংবা রাজনৈতিক প্রক্রিয়া উভয় দিক থেকে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ফলে এ ধরনের সেনা সমর্থিত উপদেষ্টা সরকার গঠন সম্পূর্ণ অবৈধ, অযৌক্তিক এবং কাণ্ডজ্ঞান বিবর্জিত সিদ্ধান্ত। সতেরো কোটির অধিক জনগণ অধ্যুষিত বাংলাদেশের জন্য এটা ভয়ানক দায়িত্বহীন ও বিপজ্জনক। ইতোমধ্যেই বৈরী ভূরাজনৈতিক বাস্তবতায় এই অবৈধ সরকার প্রকট বিপদ তৈরি করে রেখেছে। সীমান্তে ভারতীয় সেনাবাহিনীর দাপট ও দম্ভ তার প্রমাণ।  ফরহাদ মজহার বলেন, ঘোষণাপত্রের গুরুত্ব হচ্ছে ঘোষণাপত্র এযাবৎকালে যে সকল ফ্যাসিস্ট আইন ও ফ্যাসিস্ট রাষ্ট্র ব্যবস্থা জবরদস্তি কায়েম রাখা হয়েছে তাদের বৈধতা অস্বীকার করে এবং সার্বভৌমত্বের ভিত্তিতে নতুনভাবে রাষ্ট্র ও সরকার গঠনের প্রতিশ্রুতির দেয়। ঘোষণাপত্র সেই দিক থেকে এক প্রকার গণ-অঙ্গীকারপত্র বা গণপ্রতিশ্রুতি। যার মধ্য দিয়ে গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে গঠিত সরকার পূর্ণ ক্ষমতা লাভ করে এবং  দেশের জনগণ এবং আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে নিজেদের বৈধতা অর্জন করে। একইভাবে ঘোষণাপত্র জনগণের সরাসরি অংশগ্রহণমূলক প্রক্রিয়ায় মধ্য দিয়ে ক্ষমতা হস্তান্তরের আইনি ভিত্তি স্থাপন করে। গণঅভ্যুত্থানের ঘোষণাপত্র এমন একটি দলিল উল্লেখ করে এই রাজনৈতিক বিশ্লেষক বলেন, এটা পরিষ্কার গণঅভ্যুত্থানের ঘোষণাপত্র (Proclamation) গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থার আইনি ও নৈতিক ভিত্তি স্থাপন করে। এটি জনগণের ইচ্ছার সার্বভৌম প্রকাশ এবং শাসনব্যবস্থার পুনর্গঠন ও সংস্কারের পথ দেখায়। গণঅভ্যুত্থানের ঘোষণাপত্র এমন একটি দলিল, যা জনগণের অধিকার, মর্যাদা এবং গণতান্ত্রিক ক্ষমতার রূপ নির্দেশ করে। এটি নিছকই শাসনতান্ত্রিক বা সাংবিধানিক দলিল নয়, বরং নিজেদের ইতিহাস ও ঐতিহ্যের সঙ্গে পুনরায় গিঁট বেঁধে স্বাধীনতা, সাম্য, এবং মানবাধিকারকে মূর্ত ও বর্তমান করে তোলার প্রক্রিয়া। তাই জুলাই গণঅভ্যুত্থানের মুহূর্ত বাংলাদেশের জনগণের ইতিহাসের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি অধ্যায়। এই ঘোষণার মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের নতুন রাজনৈতিক সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন এবং বিশ্বসভায় শক্তিশালী স্থান অর্জন করবার ভিত্তি।  গণঅভ্যুত্থানে নেতৃত্বদানকারী ছাত্রছাত্রী তরুণদের দাবি মানা হচ্ছে না দাবি করে ফরহাদ মজহার বলেন, এই সকল কারণে গণঅভ্যুত্থানে নেতৃত্বদানকারী ছাত্রছাত্রী তরুণেরা বারবার গণঅভ্যুত্থানের মর্ম ধারণ করে এমন একটি ‘ঘোষণা’ (Proclamation)-র দেওয়ার দাবি করে আসছেন। যদিও তাদেরকে এখন ব্যাখ্যা করতে হবে কোন পরিস্থিতির শিকার হয়ে এবং কাদের পরামর্শে এ ধরনের ঘোষণা গণঅভ্যুত্থানের পরপরই তারা দেননি, কিংবা দেওয়া হয় নি। কেন গণ-অভিপ্রায় বিরোধী এবং সংবিধান বহির্ভূত সরকার গঠন করা হলো।  এই ক্ষেত্রে সেনাবাহিনী প্রশংসার দাবিদার, কারণ উদ্ভূত পরিস্থিতিতে তারা সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ ভূমিকা বজায় রাখছেন। কিন্তু আফসোস গণঅভ্যুত্থানে নেতৃত্বদানকারী ছাত্রছাত্রী তরুণদের দাবি মানা হচ্ছে না। যা গভীর রাজনৈতিক সংকট তৈরি করে রেখেছে। এই সংকট এড়িয়ে যাবার কোন উপায় নাই।  গণঅভ্যুত্থানের ঘোষণাপত্র কেন জরুরি সেই বলতে গিয়ে ওই পোস্টে তিনি লিখেন, ‘‘বর্তমান বিপজ্জনক পরিস্থিতির একটি কারণ হতে পারে বাংলাদেশের আইনি বা সাংবিধানিক পর্যালোচনায় এবং সামগ্রিক বুদ্ধিবৃত্তিক পরিমণ্ডলে গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে গণসার্বভৌমত্ব (Popular Sovereignty) প্রতিষ্ঠার বিষয়টি– বিশেষত ‘ঘোষণা’ (proclamation) কেন জরুরি সে সম্পর্কে  প্রকট অজ্ঞতা রয়েছে।  অথচ গণঅভ্যুত্থানের পরে গণঅভিপ্রায় ব্যক্ত করে দেওয়া ‘ঘোষণা’ গভীর আইনি এবং রাজনৈতিক তাৎপর্য বহন করে। গণঅভ্যুত্থানের মুহূর্ত বা সময় শুধুমাত্র একটি ঐতিহাসিক মুহূর্ত নয়, বরং চূড়ান্ত ক্ষমতার উৎস হিসেবে জনগণের সার্বভৌম ভূমিকাকে স্বীকৃতি দিয়ে ‘ঘোষণা’একটি নতুন গঠনতন্ত্র এবং সমাজ বিনির্মাণের ভিত্তি রচনা করে’’।  ‘‘গণঅভ্যুত্থান সে কারণে ধর্মীয় ও আধ্যাত্মিক সাহিত্যে অভূতপূর্ব বিপ্লবী মুহূর্ত বা রুহানি ওয়াক্ত হিসেবে স্বীকৃত। গণঅভ্যুত্থান এমন একটি বিপ্লবী মুহূর্ত, যা জনগণের ঐক্য এবং সংগ্রামের চূড়ান্ত প্রকাশ। এটি জনগণের চেতনার পুনর্জাগরণ ঘটায় এবং জীবাবস্থা থেকে জনগণ নিজেদের সামষ্টিক রুহানি সত্তার স্বাদ আস্বাদন করে। এই সেই মুহূর্ত যখন ব্যক্তি সমষ্টির স্বার্থে শহিদী জীবন কবুল করে নিতে দ্বিধা করে না’’।   সবশেষ ওই পোস্টে তিনি জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ঘোষণাপত্রের বেশকিছু আইনি এবং রাজনৈতিক তাৎপর্য তুলে ধরেন। নিচের তার বিশ্লেষণগুলো তুলে ধরা হল। ১. আইনি তাৎপর্য সার্বভৌমত্বের ঘোষণাপত্র (Proclamation) হিসেবে স্বীকৃতি গণঅভ্যুত্থানের ঘোষণাপত্র একটি গঠনতান্ত্রিক দলিল হিসেবে কাজ করে। বাংলাদেশের বাস্তবতায় ‘ঘোষণাপত্র’ শেখ হাসিনার ও অন্যান্য গণবিরোধী রাজনীতির বিপরীতে গণরাজনৈতিক ধারাকে প্রতিষ্ঠিত করে এবং শেখ হাসিনা প্রবর্তিত ফ্যাসিস্ট রাষ্ট্র ব্যবস্থা এবং তার আগের বিভিন্ন গণবিরোধী আইন বা সংবিধানের ব্যর্থতাকে চ্যালেঞ্জ করে নতুন গঠনতন্ত্র প্রবর্তনের ভিত্তি স্থাপন করে।  আইনের দিক গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী ঘোষণা জনগণের ইচ্ছার চূড়ান্ত প্রকাশ, যা গণঅভ্যুত্থানের আগে বিদ্যমান ফ্যাসিস্ট আইন, ফ্যাসিস্ট রাষ্ট্র ব্যবস্থা এবং সকল প্রকার ফ্যাসিস্ট ক্ষমতা ও ফ্যাসিস্ট প্রতিষ্ঠানের বৈধতাকে অস্বীকার করার মধ্য দিয়ে একটি নতুন গঠনতন্ত্র প্রণয়ণের জন্য অবিলম্বে নতুন গঠনতান্ত্রিক প্রক্রিয়া শুরু করে; অর্থাৎ নতুন গঠনতন্ত্রের জন্য নৈতিক ও আইনি অধিকার প্রতিষ্ঠা করে। প্রাক-গঠনতান্ত্রিক (বা প্রাক-সাংবিধানিক) দলিলের ভূমিকা গণঅভ্যুত্থানের পর ঘোষণাপত্র একটি প্রাক-গঠনতান্ত্রিক– অর্থাৎ নতুন গঠনতন্ত্র প্রণয়নের ভিত্তি ও দিক-নির্দেশনা হিসাবে কাজ করে। যা ভবিষ্যৎ গঠনতন্ত্রের নীতিগত ও আদর্শিক ভিত্তি প্রদান করে। এটি নতুন গঠনতন্ত্রের উপাদান- যেমন সাম্য, স্বাধীনতা, মানবিক মর্যাদা, এবং সামাজিক ন্যায়বিচারকে স্পষ্টভাবে সংজ্ঞায়িত করে।  শাসনক্ষমতার পুনর্বণ্টন ঘোষণাপত্রের মাধ্যমে জনগণের কাছে শাসনক্ষমতা ফিরিয়ে দেওয়া হয়। ঘোষণাপত্রের গুরুত্ব হচ্ছে ঘোষণাপত্র পূর্ববর্তী শাসনব্যবস্থার বৈধতা অস্বীকার করে এবং জনগণের সরাসরি অংশগ্রহণমূলক প্রক্রিয়ায় মধ্য দিয়ে ক্ষমতার হস্তান্তরের আইনি ভিত্তি স্থাপন করে। আন্তর্জাতিক আইনি স্বীকৃতি গণ অভ্যুত্থানের ভিত্তিতে ঘোষণাপত্র আন্তর্জাতিক আইনের আলোকে স্বীকৃতি পেতে পারে। গণঅভ্যুত্থানের পরে ঘোষিত ঘোষণাপত্র আদতে জাতিসংঘে গৃহীত জনগণের আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকারকেই প্রতিষ্ঠিত করে। জাতিসংঘ সনদ (UN Charter) এবং অন্যান্য আন্তর্জাতিক নীতিমালা, বিশেষত আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকার ও গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থার নীতিকে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ঘোষণাপত্র শক্তিশালী করে। ২. রাজনৈতিক তাৎপর্য গণসার্বভৌমত্ব প্রতিষ্ঠা গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে জনগণ নিজেরাই নিজেদের আইনদাতা, শাসক এবং বর্তমান ও ভবিষ্যৎ নির্মাণকর্তা হিসাবে প্রতিষ্ঠিত করে। আগের ফ্যাসিস্ট রাষ্ট্র ও সাংবিধানিক একনায়কতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থার পতন ঘটিয়ে জনগণের অভিপ্রায় বা ইচ্ছার ভিত্তিতে নতুন রাজনৈতিক জনগোষ্ঠী হিসাবে জনগণ নিজেরা নিজেদের রাজনৈতিক কর্তা সত্তা হিসাবে প্রতিষ্ঠিত করে। এবং নিজেদের নতুনভাবে ‘গঠন’ করার আইনি ও রাজনৈতিক স্বীকৃতি লাভ করে। আন্তর্জাতিকভাবে এই স্বীকৃতি ছাড়া বিশ্ব রাষ্ট্র ব্যবস্থায় বাংলাদেশ কখনই শক্তিশালী স্থান দখল করতে পারবে না।  নতুন রাজনৈতিক বন্দোবস্তের সূচনা ঘোষণাপত্রের মাধ্যমে আর্থ-সামাজিক, সাংস্কৃতিক এবং নাগরিকদের পরস্পরের মধ্যে নতুন সম্পর্ক নির্মাণের সূত্র বা নীতি হাজির করা হয়। উদাহরণস্বরূপ, ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণ, মানবাধিকারের সুরক্ষা, এবং জনগণের প্রত্যক্ষ অংশগ্রহণমূলক প্রশাসনিক ব্যবস্থা বা স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠার মতো গুরুতর ও মৌলিক বিষয়গুলো এতে অন্তর্ভুক্ত থাকে। অনেকে একে নতুন ‘রাজনৈতিক বন্দোবস্ত’ বলে থাকেন, কিন্তু এই বন্দোবস্ত মানে রাজনৈতিক দল বা বিভিন্ন গণবিরোধী ও ফ্যাসিস্ট শক্তির সঙ্গে আপোষ-মীমাংসার ‘বন্দোবস্ত নয়। ‘রাজনৈতিক বন্দোবস্ত’ ধারণা হিসাবে ভুল বিভ্রান্তিকর রাজনৈতিক বর্গ।  অন্তর্বর্তীকালীন শাসনের ভিত্তি বা রাজনৈতিক বৈধতার প্রশ্ন (Political Legitimacy) ঘোষণাপত্র রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত এবং নতুন গঠনতন্ত্র প্রণয়নের পথ প্রস্তুত

আজকের সংবাদ, জাতীয়

রাজনৈতিক ঐকমত্য প্রতিষ্ঠায় প্রধান উপদেষ্টার নেতৃত্বে কমিশন গঠন

নিজস্ব প্রতিবেদক: রাষ্ট্র সংস্কারের অংশ হিসেবে প্রথম ধাপে চার সংস্কার কমিশন সুপারিশমালা জমা দিয়েছে। এ সুপারিশমালার ভিত্তিতে দ্বিতীয় ধাপে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে ঐকমত্য প্রতিষ্ঠার জন্য সংস্কার বিষয়ে আলোচনা হবে। আলোচনার জন্য অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে জাতীয় ঐকমত্য কমিশন গঠন করা হয়েছে। এ কমিশনের সদস্য হিসেবে ছয়টি কমিশনের প্রধানরা রয়েছেন। তৃতীয় ধাপে ঐকমত্যের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় আইন ও নীতি প্রণয়নের কাজ শুরু হবে। চতুর্থ ধাপে হবে বাস্তবায়ন। বুধবার (১৫ জানুয়ারি) বিকেলে রাজধানীর বেইলি রোডের ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং আয়োজিত প্রেস ব্রিফিংয়ে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান উপদেষ্টা আসিফ নজরুল এসব কথা বলেন। এদিকে প্রেস ব্রিফিংয়ে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান বলেন, ফেব্রুয়ারির মাঝামাঝি সময়ে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে সংস্কার কমিশনের প্রতিবেদন নিয়ে আলোচনা শুরু হবে। রিজওয়ানা হাসান বলেন, ১১টি সংস্কার কমিশনের মধ্যে আজ পর্যন্ত চারটি সংস্কার কমিশনের প্রতিবেদন ও সুপারিশ হস্তান্তর করা হয়েছে। তবে হস্তান্তর করা সুপারিশগুলোর মধ্যে কিছু কিছু কনটেন্ট পুনরাবৃত্তিসহ কিছু সংশোধনী থাকায় কমিশন প্রধানরা আগামী ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত সময় চেয়ে নিয়েছেন। কমিশন এ সময়ের আগেই চূড়ান্ত সুপারিশমালা প্রণয়ন করতে পারলে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনা প্রথম সপ্তাহেও শুরু হতে পারে। প্রেস ব্রিফিংয়ে আরও উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় সরকার, যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া, প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম।

আজকের সংবাদ, জাতীয়

ডেসটিনির এমডি রফিকুলসহ ১৯ জনের ১২ বছর কারাদণ্ড

নিজস্ব প্রতিবেদক: ডেসটিনি ট্রি প্ল্যান্টেশন লিমিটেডের গাছ বিক্রির টাকা আত্মসাতের মামলায় ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) রফিকুল আমীনসহ ১৯ জনকে ১২ বছর করে কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। বুধবার (১৫ জানুয়ারি) ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৪ এর বিচারক মো. রবিউল আলমের আদালত এ রায় ঘোষণা করেন। অন্য আসামিরা হলেন- ডেসটিনির পরিচালক লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) হারুনুর রশিদ, প্রধান কার্যালয়ের চেয়ারম্যান মো. হোসেন, ভাইস প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ গোফরানুল হক, মো.সাইদ-উর রহমান, মেজবাহ উদ্দিন স্বপন, ইঞ্জিনিয়ার শেখ তৈয়েবুর রহমান ও গোপাল চন্দ্র বিশ্বাস, পরিচালক সৈয়দ সাজ্জাদ হোসেন, ইরফান আহমেদ সানী, মিসেস ফারহা দিবা ও জামসেদ আরা চৌধুরী, প্রফিট শেয়ারিং ডিস্ট্রিবিউটর মো. জসিম উদ্দীন ভূইয়া, ডেসটিনি মাল্টিপারপাস কো অপারেটিভ সোসাইটি লিমিটেডের সাধারণ সম্পাদক মো. জাকির হোসেন ও সদস্য মো. আবুল কালাম আজাদ, ডায়মন্ড এক্সিকিউটিভ এস এম আহসানুল কবির বিপ্লব, জোবায়ের সোহেল ও আব্দুল মান্নান এবং ক্রাউন এক্সিকিউটিভ মোসাদ্দেক আলী খান। এর আগে, ২০১২ সালের ৩১ জুলাই ডেসটিনির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. রফিকুল আমীনসহ ১২ জনের বিরুদ্ধে গ্রাহকের দুই হাজার ২৫৭ কোটি ৭৮ লাখ ৭৭ হাজার ২২৭ টাকা আত্মসাৎ ও পাচারের অভিযোগে দুদকের উপ-পরিচালক মো. মোজাহার আলী সরকার বাদী হয়ে ঢাকার কলাবাগান থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলার এজহারে বলা হয়, ডেসটিনি মাল্টিপারপাস কো-অপারেটিভ সোসাইটি লিমিটেডের (ডিএমসিএসএল) মামলায় আসামিরা নিজেরা লাভবান হতে ২০০৯ সালের জুলাই থেকে ২০১২ সালের জুন পর্যন্ত সাড়ে আট লাখেরও বেশি বিনিয়োগকারীর সঙ্গে প্রতারণা করেছেন। এ সময় ঋণ প্রদান, অলাভজনক প্রতিষ্ঠানে বিনিয়োগ, নতুন প্রতিষ্ঠান খোলার নামে বিনিয়োগকারীদের কাছ থেকে হাজার কোটি টাকা সংগ্রহ করা হয়েছে। যা পরবর্তী সময়ে আসামিরা লভ্যাংশ, সম্মানি ও বেতন-ভাতার নামে সরিয়ে নিয়েছেন। অপরদিকে ২০০৬ সালের ২১ মার্চ থেকে ২০০৯ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত আইন ও বিধি লঙ্ঘন করে গাছ বিক্রির নামে ডেসটিনি ট্রি-প্লান্টেশন লিমিটেডের (ডিটিপিএল) জন্য দুই হাজার কোটিরও বেশি টাকা গ্রাহকদের কাছ থেকে সংগ্রহ করা হয়েছে। মামলাটি তদন্ত শেষে ১৯ জনকে অভিযুক্ত করে ২০১৪ সালের ২০ মার্চ আদালতে চার্জশিট দাখিল করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা দুদকের উপ-পরিচালক মো. মোজাহার আলী সরদার। তদন্তে আরও সাতজনের নাম আসামির তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়। ২০১৬ সালের ২৪ আগস্ট মামলাটির অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে বিচার শুরু করেন আদালত। এ মামলায় বিচার চলাকালে ১৪০ জন সাক্ষ্য দিয়েছেন।

আজকের সংবাদ, জাতীয়

সংস্কার প্রস্তাব জমা দিয়েছে চার কমিশন

ডেস্ক: অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের কাছে প্রতিবেদন জমা দিয়েছে চারটি সংস্কার কমিশন। বুধবার (১৫ জানুয়ারি) তেজগাঁওয়ে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে সংস্কার কমিশন প্রধানরা এসব প্রতিবেদন জমা দেন। প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম এক ফেসবুক পোস্টে সংবিধান সংস্কার কমিশনের প্রস্তাবের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। প্রতিবেদন জমা দেওয়া কমিশনগুলো হলো- নির্বাচন কমিশন, দুর্নীতি দমন কমিশন, পুলিশ এবং সংবিধান সংস্কারে গঠিত কমিশন। প্রতিবেদন জমা দেওয়ার পর রিপোর্ট নিয়ে আলোচনা হবে। আজ বিকেল ৩টায় সংবাদ সম্মেলন করে এ বিষয়ে গণমাধ্যমকে সরকারের পক্ষ থেকে বিস্তারিত জানানোর কথা রয়েছে। গত ৩ অক্টোবর কমিশন গঠন করে প্রজ্ঞাপন জারি করেছিল অন্তর্বর্তী সরকার। প্রসঙ্গত, গত ৩ অক্টোবর নির্বাচন ব্যবস্থা, বিচার বিভাগ, দুর্নীতি দমন কমিশন, পুলিশ ও জনপ্রশাসন সংস্কার কমিশন গঠন করে প্রজ্ঞাপন জারি করে অন্তর্বর্তী সরকার। পরে ৭ অক্টোবর সংবিধান সংস্কার কমিশন গঠন করা হয়। এরপর দ্বিতীয় ধাপে গণমাধ্যম, স্বাস্থ্য, শ্রম, নারীবিষয়ক ও স্থানীয় সরকার ব্যবস্থা সংস্কার কমিশন গঠন করা হয়। এদিকে সংস্কার কমিশনগুলোকে ৯০ দিনের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছিল। তবে প্রথম ধাপের ৫টি সংস্কার কমিশনের মেয়াদ বুধবার (১৫ জানুয়ারি) পর্যন্ত বাড়ায় সরকার। এ ছাড়া বিচার বিভাগ সংস্কার কমিশনের মেয়াদ ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত সময় বাড়ানো হয়।

Adv Abbas Uddin Faridganj
আজকের সংবাদ, ফরিদগঞ্জ

ঢাকাস্থ বৃহত্তর কুমিল্লা সমিতির সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হয়েছেন এ্যাড. আব্বাস উদ্দিন

নিজস্ব প্রতিবেদক: ঢাকাস্থ বৃহত্তর কুমিল্লা সমিতির সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হয়েছেন চাঁদপুরের কৃতী সন্তান এ্যাড. আব্বাস উদ্দিন। সভাপতি হিসেবে নির্বাচিত হন সিনিয়র সচিব নেয়ামত উল্লাহ ভূঁইয়া।শনিবার (১১ জানুয়ারি ২০২৫) বিকাল ৪ টায় কাকরাইলে সংস্থার অফিস কক্ষে সমিতির সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। সম্মেলন ও নির্বাচন ২০২৫ কমিটির আহ্বায়ক আবদুল করিম সরকারের সভাপতিত্বে আগামী ২ বছরের জন্য সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত করা হয়। কুমিল্লা, ব্রাক্ষনবাড়িয়া ও চাঁদপুর জেলা নিয়ে বৃহত্তর কুমিল্লা সমিতি ১৯৬০ সালে গঠিত হয়। সদস্যদের কল্যাণের পাশাপাশি সমিতি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের বৃত্তি, দরিদ্র ছেলে মেয়েদের বিবাহ সহায়তা এবং অসহায় মানুষের চিকিৎসা সহায়তা, সামাজিক কর্মকান্ড পরিচালনা করা হয় এই সমিতি থেকে। এছাড়াও মসজিদ মাদ্রাসায়ও অনুদান প্রদান করা হয়। পুরনো এই সমিতির প্রথমবারের মতো সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হয়েছেন বিশিষ্ট কর আইনজীবি, শিক্ষানুরাগী, রাজনৈতিক চাঁদপুর তথা ফরিদগঞ্জের কৃতি সন্তান এ্যাডভোকেট আব্বাস উদ্দিন। জিনি দীর্ঘদিন ফরিদগঞ্জে দরিদ্র অসহায় মানুষদের নিয়ে কাজ করে আসছেন। এছাড়া ফরিদগঞ্জে শিক্ষাখাতকে এগিয়ে নিতে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। বীর মুক্তিযোদ্ধা এ্যাডভোকেট আব্বাস উদ্দিন ঢাকা ট্যাক্সসেস বার এসোসিয়েশনের দুই বারের জনপ্রিয় সাবেক সভাপতি, বাংলাদেশ ট্যাক্স ল’ইয়ার্স এসোসিয়েশনের মহাসচিব, ঢাকাস্ত বৃহত্তর কুমিল্লা আইনজীবী কল্যান সমিতির সাবেক সভাপতি, ঢাকাস্থ বৃহত্তর কুমিল্লা কর আইনজীবী কল্যাণ সমিতির সাবেক সভাপতির দায়িত্ব অত্যান্ত কৃতিত্বেরসহিত এবং সফলভাবে পালন করেছেন। বর্তমানে ‘এ্যাডভোকেট আব্বাস উদ্দিন ফাউন্ডেশন’র সভাপতির দায়িত্বও পালন করছেন। এ্যাডভোকেট আব্বাস উদ্দিন ঢাকাস্থ বৃহত্তর কুমিল্লা সমিতির সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হওয়ায় ফরিদগঞ্জ লেখক ফোরামসহ উপজেলার বিভিন্ন সামাজিক সংগঠন তাঁকে অভিনন্দন জানিয়েছেন।

Scroll to Top