৩০শে জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

Author name: Farid Ahmed

আজকের সংবাদ, প্রবাস

মধ্যপ্রাচ্যেই আটকা শ্রমবাজার, ইউরোপে যাচ্ছে সামান্য

নিজস্ব প্রতিবেদক: ইউরোপের দেশগুলোর কঠোর অভিবাসন নীতি, দক্ষতার ঘাটতি এবং ভাষাগত দুর্বলতা বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। প্রতিবেশী অনেক দেশ দক্ষ জনবল রপ্তানির মাধ্যমে ইউরোপের শ্রমবাজারে জায়গা করে নিচ্ছে। কিন্তু বাংলাদেশ এখনো অনেক পিছিয়ে। ফলে নতুন শ্রমবাজার সম্প্রসারণ ও দক্ষতা উন্নয়নের বিষয়গুলোতে গুরুত্ব দেওয়া দরকার। শ্রমবাজার বন্ধ হলেও জনশক্তি রপ্তানির শীর্ষে মধ্যপ্রাচ্যবাংলাদেশের স্বাধীনতার পর থেকেই জনশক্তির সিংহভাগ যাচ্ছে মধ্যপ্রাচ্যে। সর্বশেষ ২০১৮ সালে বন্ধ হয় বাহরাইনের শ্রমবাজার। অঘোষিতভাবে বাংলাদেশিদের ভিসা দেওয়া বন্ধ রেখেছে সংযুক্ত আরব আমিরাতও। এছাড়া ২০২৩ সালে বন্ধ হয়ে যায় ওমানের শ্রমবাজার, বর্তমানে শুধু পেশাজীবী লোক নিচ্ছে দেশটি। বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যের সৌদি আরব, কাতার ও কুয়েতে নিয়মিতভাবে জনশক্তি রপ্তানি হচ্ছে। ইউরোপের কয়েকটি দেশের সঙ্গে আমাদের দ্বিপক্ষীয় চুক্তি রয়েছে। কিন্তু সেগুলো কার্যকর নয়। আরেকটি বিষয় হলো ইউরোপের যেসব দেশে শ্রমিক যাচ্ছেন সেগুলোতে নিয়মিত মাইগ্রেশন হচ্ছে না। সেসব দেশে ১৫ থেকে ১৮ লাখ টাকা দিয়ে যেতে হচ্ছে। মিনিস্ট্রি এবং বিএমইটি সবাই কিন্তু অতিরিক্ত খরচের বিষয়ে জানে না। -অভিবাসী উন্নয়ন ফোরামের (ওকাপ) চেয়ারম্যান সাইফুল হক জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর (বিএমইটি) তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, ২০২০ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত সর্বশেষ পাঁচ বছরে বাংলাদেশ থেকে কাজের উদ্দেশে বিদেশ যাওয়া কর্মীর সংখ্যা ৩৯ লাখ ৭৮ হাজার ৫৬২ জন। এর মধ্যে মধ্যপ্রাচ্যে যাওয়া কর্মীর সংখ্যা ৩২ লাখ আট হাজার ৮৮ জন। মধ্যপ্রাচ্যের অর্ধেকের বেশি জনশক্তি পাঠানো হয়েছে সৌদি আরবে ২৩ লাখ ৫৮ হাজার ৯৫ জন। কাতারে গেছে এক লাখ ৬৯ হাজার ৯৬৮ জন, কুয়েতে ৯৩ হাজার ৬৮৪ জন, সংযুক্ত আরব আমিরাতে দুই লাখ এক হাজার ৭০২ জন, ওমানে তিন লাখ ৮৪ হাজার ৬১৬ জন। এছাড়া বাহরাইনে গেছে ২৩ জন। একই সময়ে ইউরোপের ২৮টি দেশে পাঠানো হয়েছে ৭৫ হাজার ৬৬৮ জন শ্রমিক। গত পাঁচ বছরে ইউরোপের ইতালি, ক্রোয়েশিয়া, বুলগেরিয়া, মাল্টা, রোমানিয়া, যুক্তরাজ্য ও গ্রিসে সবচেয়ে জনশক্তি রপ্তানি হয়েছে। সর্বশেষ ২০২৪ সালে ইউরোপে গেছেন ১৬ হাজার ৭৭ জন, ২০২৩ সালে ৩০ হাজার ৪২৭ জন, ২০২২ সালে ২২ হাজার ৬০০ জন, ২০২১ সালে গেছে পাঁচ হাজার ৪৯ জন ও ২০২০ সালে এক হাজার ৫১৫ জন। কম যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র-কানাডায়২০২০ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত এই পাঁচ বছরে উত্তর আমেরিকার দেশ যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডায় গেছেন এক হাজার ৯৫৬ জন শ্রমিক। এর মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রে গেছেন মাত্র ৪৬ জন। কানাডায় এক হাজার ৯১০ জন। অভিবাসনবিষয়ক বিশ্লেষকরা বলছেন, আমাদের শ্রমবাজার শুরু থেকেই মধ্যপ্রাচ্যনির্ভর। এই নির্ভরতা থেকে বের হওয়া যাচ্ছে না। এখানে দুটি বিষয়ের অভাব রয়েছে। আমরা ইউরোপে রপ্তানিযোগ্য শ্রমিক তৈরি করতে পারছি না। অন্যদিকে, ইউরোপের দেশগুলোর সঙ্গে শ্রমিক রপ্তানির জন্য তেমন কোনো চুক্তি নেই। এখানে পররাষ্ট্র ও প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের দুর্বলতা রয়েছে। অভিবাসন ও শরণার্থীবিষয়ক বিশেষজ্ঞ আসিফ মুনীর জাগো নিউজকে বলেন, ইউরোপের যে কয়েকটি দেশের সঙ্গে চুক্তি আছে সেগুলো অনেক পুরোনো। নতুন করে জয়েন্ট ওয়ার্কিং কমিটির বৈঠক হচ্ছে না। আমাদের হাইকমিশন ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় শ্রমবাজার খোলার ক্ষেত্রে কাজ করতে পারে। কিন্তু এই দুই মন্ত্রণালয়ের সমন্বয় কম। শ্রমবাজার খুলতে অকার্যকর গবেষণা সেল ২০১৮ সালে নতুন ৫৩টি দেশে বাংলাদেশি কর্মীদের কর্মসংস্থানের জন্য বিশেষ শ্রমবাজার গবেষণা সেল গঠন হয়। কিন্তু প্রতিষ্ঠার পর থেকে এই সেল কার্যত অচল। অনেক বছর ধরে নতুন কোনো শ্রমবাজার তৈরি করা যাচ্ছে না। গত দেড় দশকে ৯৭টি দেশ থেকে বাড়িয়ে ১৬৮টি দেশে কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা হলেও এর মধ্যে বেশিরভাগ দেশেই কর্মী যাচ্ছে হাতে গোনা। অভিবাসন খাতের বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান রিফিউজি অ্যান্ড মাইগ্রেটরি মুভমেন্টস রিসার্চ ইউনিট (রামরু) জানিয়েছে, প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয় থেকে বলা হয় বাংলাদেশি নারী এবং পুরুষ কর্মীরা বিশ্বের ১৬৮টি দেশে কাজ করছেন। কিন্তু বাস্তবিক পক্ষে প্রতি বছর জনশক্তি রপ্তানির সিংহভাগ অভিবাসী উপসাগরীয়, অন্যান্য আরব, পূর্ব ও দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার ১২ থেকে ১৩টি দেশেই যান। রামরুর প্রতিবেদন বলছে, গত পাঁচ বছরে ৯৭ শতাংশ কর্মী গেছে মাত্র ১০টি দেশে। সর্বশেষ ২০২৪ সালে ৯০ শতাংশ বাংলাদেশি কর্মী গেছে মাত্র ছয়টি দেশে। অভিবাসনখাত সংশ্লিষ্টরা মনে করেন, কর্মীদের জন্য নতুন শ্রমবাজার খুলতে না পারলে নির্দিষ্ট কয়েকটি দেশেই চাপ পড়ে বারবার। ফলে সেখানে কিছুদিন পরপর নিষেধাজ্ঞার কারণে শ্রমবাজার বন্ধ হয়ে যায়। সেজন্য দক্ষ শ্রমিক তৈরি ও কম খরচে ইউরোপে পাঠানোর বৈধ ব্যবস্থা, এই দুটি বিষয়কে গুরুত্ব দেওয়াটা সবচেয়ে বেশি জরুরি। ইউরোপকে গুরুত্ব দিয়ে শ্রমবাজার খোলার তাগিদরামরুর বার্ষিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইউরোপের যে গুটিকয়েক দেশে অভিবাসন হচ্ছে, সেগুলোতেও সমস্যা রয়েছে। ইতালিতে জাল কাগজপত্রের কারণে এবং সার্বিয়ার আবেদন প্রক্রিয়ার সার্ভার অকেজো হওয়ায় এই দেশগুলোতে শ্রম অভিবাসন কার্যক্রম থেমে আছে। সম্প্রতি ক্রোয়েশিয়ার শ্রমবাজার বন্ধ হওয়ার শঙ্কা দেখা দিয়েছে। এ শ্রমবাজারগুলোতে স্বস্তি ফেরাতে হবে। অভিবাসী ও শরণার্থীবিষয়ক বিশেষজ্ঞ আসিফ মুনীর বলেন, ইউরোপের শ্রমবাজারে গুরুত্ব দেওয়াটা এখন জরুরি। আমাদের পাশের দেশগুলো নিয়মিত উন্নত বিশ্বে লোক পাঠিয়ে অধিক রেমিট্যান্স অর্জন করছে। তাই ইউরোপে শ্রমবাজার খুলতে হবে। এতে লাভ হবে আমাদের সরকারের। রেমিট্যান্স ভালো আসবে। এক্ষেত্রে আমাদের প্রশাসনের দুর্বলতা রয়েছে। ইউরোপের দেশগুলোর সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় চুক্তি নেই। রোমানিয়া ও গ্রিসে বারবার লোক পাঠানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে কিন্তু এসব দেশের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় চুক্তি হয়নি। এজন্য সরকারকে সেখানে বৈধপথে চ্যানেল খুলতে হবে। সরকারের প্রচেষ্টা থাকতে হবে। হাইকমিশনকে চেষ্টা করতে হবে। তাহলে মানুষের মধ্যে বিশ্বাস আসবে। এক দেশে গিয়ে সেখান থেকে আরেক দেশে যাওয়াটা নিরুৎসাহিত করতে হবে। তাহলে কর্মীরা অবৈধ পথে পাড়ি দেবে না। রামরুর চেয়ারম্যান অধ্যাপক তাসনিম সিদ্দিকী বলেন, নতুন বাজার খুললে সেখানে বাংলাদেশের এবং গন্তব্য দেশের রিক্রুটিং এজেন্সিগুলো ব্যাপক হারে কর্মী পাঠাতে শুরু করে। ফলে সেখানে শ্রমবাজারে বিশৃঙ্খলা দেখা দেয়। লোকজন অন্য দেশে পালিয়ে যায়। এটা বন্ধ করতে হবে। তাহলে ইউরোপের শ্রমবাজার আকর্ষণীয় হবে। উন্নত দেশ কিংবা ইউরোপে বৈধ চ্যানেলের অভাবমধ্যপ্রাচ্য ও এশিয়ার দেশগুলোর তুলনায় ইউরোপে বৈধ পথে যাওয়ার চ্যানেল কম এবং যাওয়ার খরচ বেশি হওয়ায় ইউরোপ থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছেন অনেকে। এদিকে, ইউরোপে যাওয়ার জন্য অনেক দেশের দূতাবাস বাংলাদেশে না থাকায় বাড়তি ভোগান্তিতে পড়তে হয় গমনেচ্ছুদের। ইউরোপগামী ভিসাপ্রত্যাশী ঐক্য পরিষদের সদস্য সচিব মেহেদী হাসান আশিক বলেন, বাংলাদেশ থেকে বিভিন্ন দেশে অভিবাসন, শিক্ষা ও কর্মসংস্থানের লক্ষ্যে যাত্রা করা নাগরিকদের সংখ্যা ক্রমেই বাড়ছে। ইউরোপীয় বিভিন্ন দেশের কনস্যুলেট ও দূতাবাসের কার্যক্রম না থাকায় নাগরিকদের প্রায় ভারত অভিমুখী হতে হচ্ছে। এতে বিপুল পরিমাণ অর্থ ও সময় অপচয় হচ্ছে। ভারতের ভিসা ও দূতাবাসের জন্য অপেক্ষা করতে হয়। ভারতে গিয়েও হয়রানির শিকার হতে হয়। এরপর ভিসা না হলে তো সব টাকা নষ্ট। মেহেদী হাসান আশিক বলেন, ইউরোপীয় সব কনস্যুলেট ও দূতাবাসের কার্যক্রম বাংলাদেশেই সম্পন্ন করা জরুরি। তাহলে ইউরোপের দেশগুলোতে বেশি সংখ্যক বাংলাদেশি যেতে পারবে এবং রেমিট্যান্স দেশে আসবে। অভিবাসী উন্নয়ন ফোরামের (ওকাপ) চেয়ারম্যান সাইফুল হক বলেন, ‘ইউরোপের গুটিকয়েক দেশের সঙ্গে আমাদের দ্বিপক্ষীয় চুক্তি রয়েছে। কিন্তু সেগুলো কার্যকর নয়। আরেকটি বিষয় হলো ইউরোপের যেসব দেশে শ্রমিক যাচ্ছে সেগুলোতে নিয়মিত মাইগ্রেশন হচ্ছে না। সেসব দেশে ১৫ থেকে ১৮ লাখ টাকা দিয়ে যেতে হচ্ছে। মিনিস্ট্রি এবং বিএমইটি সবাই কিন্তু অতিরিক্ত খরচের বিষয়ে জানে না।

আজকের সংবাদ, রাজনীতি

নতুন মামলায় দীপু মনি-সাদেকসহ গ্রেফতার ১০

নিজস্ব প্রতিবেদক: বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন সম্পর্কিত রাজধানীর কয়েকটি থানার পৃথক মামলায় সাবেক সমাজকল্যাণমন্ত্রী ডা. দীপু মনি ও সাবেক এমপি সাদেক খানসহ ১০ জনকে গ্রেফতার দেখানো হয়েছে। সোমবার ঢাকা মহানগর হাকিম জি এম ফারহান ইশতিয়াক পুলিশের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে গ্রেফতার দেখানোর আবেদন মঞ্জুর করেন।  মহানগর দায়রা জজ আদালতের সরকারি কৌসুলি (পিপি) ওমর ফারুক ফারুকী বলেন, এদিন আসামিদের আদালতে হাজির করে গ্রেফতার দেখানোর আবেদন করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তারা। পরে আদালত সেটি মঞ্জুর করেন।  অন্য আসামিরা হলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সরকারের সাবেক উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান, সাবেক আইনমন্ত্রী আনিসুল হক, সাবেক আইসিটি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক, সাবেক এমপি গোলাম কিবরিয়া টিপু, সাবেক আইজিপি চৌধুরী আব্দুল্লাহ আল মামুন, আওয়ামী লীগ নেতা জামাল মোস্তফা ও তাজুল ইসলাম তাজু, মহিলা লীগের নেত্রী রোকেয়া জামাল।  আসামিদের মধ্যে মোহাম্মদপুর থানার মো. সবুজ ও ইলিয়াস হোসেন হত্যা মামলায় সাবেক এমপি সাদেক খান, আনিসুল হককে যাত্রাবাড়ী থানার ৪ মামলা, সালমান এফ রহমানকে যাত্রাবাড়ী থানার ২ মামলা, চৌধুরী আব্দুল্লাহ আল মামুনকে যাত্রাবাড়ী থানার ৪ মামলা, দীপু মনিকে ১ মামলা, জুনাইদ আহমেদ পলককে ১ মামলায় গ্রেফতার দেখিয়েছেন আদালত। ২০১৫ সালের বিএনপির চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়ার গাড়ি বহরে হামলার মামলায় বরিশাল ৩ আসনের এমপি গোলাম কিবরিয়া টিপুকে গ্রেফতার দেখানো হয়েছে। এছাড়া রাজধানীর কাফরুল থানাধীন মাহবুব হাসান মামুন হত্যা মামলায় কাফরুল থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি জামাল মোস্তফা, ঢাকা মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক রোকেয়া জামাল ও কাফরুল থানা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি তাজুল ইসলাম ওরফে তাজকে গ্রেফতার দেখিয়েছেন আদালত।

আজকের সংবাদ, জাতীয়

মে-জুনের মধ্যেই ভোটের পূর্ণ প্রস্তুতি শুরু ইসির

নিজস্ব প্রতিবেদক: নির্বাচন ব্যবস্থা সংস্কার কমিশনের কোনো প্রস্তাবকে সুষ্ঠু নির্বাচনে অন্তরায় মনে হলে বিএনপি তাতে বাধা দেবে বলে জানিয়েছেন দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান। গতকাল রোববার নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে বৈঠকের পর এক ব্রিফিংয়ে তিনি এ কথা বলেন। নির্বাচন কমিশন মে-জুনের মধ্যেই ভোটের পূর্ণ প্রস্তুতি শুরু করার বিষয়ে তাদের আশ্বস্ত করেছে বলেও এ সময় জানান তিনি। এর আগে নির্বাচন কমিশন (ইসি) বিটের সাংবাদিকদের সংগঠন রিপোর্টার্স ফর ইলেকশন অ্যান্ড ডেমোক্রেসির (আরএফইডি) এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে সিইসি এএমএম নাসির উদ্দিন বলেন, ‘আমরা কোনো রাজনৈতিক দলের পক্ষে বা বিপক্ষে দাঁড়াতে চাই না। আমরা নিরপেক্ষ থাকতে চাই।’ রাষ্ট্রের প্রতিটি প্রতিষ্ঠান রাজনীতির প্রভাবে নষ্ট হয়ে গেছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। গতকাল সকালে নির্বাচন ভবনে ‘সাংবাদিক হোসাইন জাকির বেস্ট রিপোর্টিং অ্যাওয়ার্ড-২০২৫’ অনুষ্ঠানে সিইসি আরও বলেন, অতীতের নির্বাচন কমিশনগুলো নানা বিতর্কে অভিযুক্ত হয়েছে। এর প্রধান কারণ রাজনৈতিক প্রভাব ও নিয়ন্ত্রণ। রাজনীতির কাছে নির্বাচন কমিশনকে (ইসি) সঁপে দেওয়া বন্ধ করতে হবে। রাজনীতিবিদদের প্রভাব থেকে যদি ইসিকে রক্ষা না করা যায়, তবে আবার সেই পুরোনো বিতর্কের সৃষ্টি হবে। আরএফইডি সভাপতি ইকরামুল হক সায়েমের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক হুমায়ুন কবিরের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বক্তব্য অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন আরএফইডি সাধারণ নির্বাচন-২০২৫ এর প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক শেখ নজরুল ইসলাম, নির্বাচন কমিশনার ও কালের কণ্ঠের সিটি এডিটর কাজী হাফিজ এবং আরএফইডির সাবেক সভাপতি ও ইত্তেফাকের নির্বাচনবিষয়ক সম্পাদক সাইদুর রহমান। এদিকে গতকাল বিকেলে রাজধানীর আগারগাঁওয়ের নির্বাচন ভবনে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খানের নেতৃত্বে তিন সদস্যের প্রতিনিধিদল নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে বৈঠক করে। প্রতিনিধিদলে আরও ছিলেন দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ ও সেলিমা রহমান। বৈঠক শেষে নজরুল ইসলাম খান সাংবাদিকদের বলেন, ‘ইসি এ মুহূর্তে কী করছে, জাতীয় নির্বাচনের বিষয়ে প্রস্তুতি কী, এ বিষয়গুলো নিয়েই কমিশনের সঙ্গে তারা মতবিনিময় করেছেন। সবকিছু আলাপের পর আমাদের কাছে মনে হয়েছে, আগামী মে মাস-জুন মাসের মধ্যে তারা (ইসি) পরিপূর্ণভাবে প্রস্তুত হবেন ভোটার তালিকা হালনাগাদ করে নির্বাচন অনুষ্ঠানের বিষয়ে। তবে এ ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা এখন তাদের নেই।’ দেশের প্রচলিত সংবিধান ও আইন অনুযায়ী সরকার পদত্যাগ করলে ৯০ দিনের মধ্যে নির্বাচন হওয়ার বিষয়টি তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘কিন্তু এখন তো ওই আইনে দেশ চলছে না। এ মুহূর্তে তাহলে পলিটিক্যাল কনসেনসাসের ভিত্তিতে সরকারের তরফ থেকে অনুরোধ হতে হবে এবং তার ভিত্তিতে নির্বাচন কমিশন নির্বাচন অনুষ্ঠান করবে। তবে এতটুকু বুঝেছি যে, যদি মে-জুন মাসের মধ্যে পূর্ণ প্রস্তুতি থাকে তাহলে প্রাসঙ্গিক আর কোনো সমস্যা থাকলে সেটা দূর করে খুব দ্রুতই জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠান সম্ভব।’ নির্বাচনের ব্যাপারে বিএনপি কোনো প্রস্তাব দিয়েছে কি না, জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমরা কোনো প্রস্তাব দিইনি। আমরা তো উনাদের কাছে এটা বলব না। যেহেতু নির্বাচনের তারিখ ঘোষণার দায়িত্ব এখন সরকারের। তারপর শিডিউল ঘোষণা তো কমিশনই করবে। আপনারা জানেন, প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে আগামীকাল (সোমবার) আমাদের আলোচনা আছে, সেখানে আমরা বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করব।’ ইসির নির্বাচনের প্রস্তুতি কেমন এবং তা নিয়ে বিএনপি সন্তুষ্ট কি না জানতে চাইলে নজরুল ইসলাম খান বলেন, ‘আইন অনুযায়ী তাদের যা করার কথা আমরা বুঝতে পারছি যে, তারা সঠিকভাবে সেটা করছে।’ নির্বাচন ব্যবস্থা সংস্কার কমিশনের সুপারিশের প্রসঙ্গে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘দেখুন এটা তো তাদের ব্যাপার, সেটা তারা বলবে। আমরাও যদি মনে করি যে, সংস্কার কমিশনের কোনো প্রস্তাব সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠানের পথে অন্তরায়, এটা নির্বাচন কমিশন কেন, আমরাও বাধা দেব।’ রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর গত নভেম্বরে অবসরপ্রাপ্ত সচিব এ এম এম নাসির উদ্দিনের নেতৃত্বে পাঁচ সদস্যের নতুন নির্বাচন কমিশন গঠন করা হয়। নতুন কমিশনের সঙ্গে এটিই বিএনপির প্রথম বৈঠক। বৈঠকে সিইসি ছাড়াও নির্বাচন কমিশনার আনোয়ারুল ইসলাম সরকার, আবদুর রহমানেল মাসুদ, বেগম তহমিদা আহমদ ও অবসরপ্রাপ্ত ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ উপস্থিত ছিলেন। ইসি সচিব আখতার আহমেদও ছিলেন বৈঠকে।

আজকের সংবাদ, রাজনীতি

দেশজুড়ে পূর্ণাঙ্গ কর্মসূচি ঘোষণা বিএনপির

নিজস্ব প্রতিবেদক: নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্য সহনীয় পর্যায়ে রাখা, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি, দ্রুত নির্বাচনের রোডম্যাপ ঘোষণা ও পতিত ফ্যাসিবাদের নানা চক্রান্তের অপচেষ্টা মোকাবিলাসহ বিভিন্ন দাবিতে সারাদেশে জেলা ও মহানগরে সমাবেশ ও পূর্ণাঙ্গ কর্মসূচির ঘোষণা দিয়েছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। সোমবার (১০ ফেব্রুয়ারি) বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি থেকে ২৫ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত সমাবেশের দিনক্ষণ ও কেন্দ্রীয় নেতারা কে কোথায় বক্তব্য দেবেন তার তালিকা প্রকাশ করেছে দলটি। ১২ ফেব্রুয়ারি: স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় (লালমনিরহাট), নজরুল ইসলাম খান (সিরাজগঞ্জ), সালাহ উদ্দিন আহমেদ (ফেনী), হাফিজ উদ্দিন আহমেদ (খুলনা), ভাইস চেয়ারম্যান বরকত উল্লাহ বুলু (ব্রাহ্মণবাড়িয়া), আসাদুজ্জামান রিপন (রাজবাড়ী), চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল (পটুয়াখালী), আরিফুল হক চৌধুরী (সুনামগঞ্জ), যুগ্ম মহাসচিব হাবিব উন নবী খান সোহেল (জামালপুর)। ১৭ ফেব্রুয়ারি: বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর (যশোর), স্থায়ী কমিটির সদস্য আবদুল মঈন খান (টাঙ্গাইল), সেলিমা রহমান (মাদারীপুর), আবদুল আউয়াল মিন্টু (চাঁদপুর), শামসুজ্জামান দুদু (ঠাকুরগাঁও), আবদুস সালাম (বগুড়া), আরিফুল হক চৌধুরী (মৌলভীবাজার), জহির উদ্দিন স্বপন (ভোলা)। ১৮ ফেব্রুয়ারি: স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহ উদ্দিন আহমেদ (কক্সবাজার), ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু (পাবনা), শামসুজ্জামান দুদু (পঞ্চগড়), জয়নুল আবেদিন ফারুক (কুমিল্লা দক্ষিণ), আবুল খায়ের ভুঁইয়া (ঝিনাইদহ), জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী (মানিকগঞ্জ), যুগ্ম মহাসচিব শহীদ উদ্দিন চৌধুরী (হবিগঞ্জ), সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স (নেত্রকোনা)। ১৯ ফেব্রুয়ারি: স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী (নোয়াখালী), সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল (সিলেট), দলের চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য ফজলুর রহমান (কিশোরগঞ্জ), মিজানুর রহমান মিনু (কুষ্টিয়া), ফরহাদ হালিম ডোনার (শরীয়তপুর), মজিবুর রহমান সারোয়ার (পিরোজপুর), রুহুল কবির রিজভী (রাজশাহী)। ২০ ফেব্রুয়ারি: মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর (ঢাকা), আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী (লক্ষ্মীপুর), সেলিমা রহমান (বরিশাল দক্ষিণ), আবদুল আউয়াল মিন্টু (ময়মনসিংহ দক্ষিণ), আসাদুজ্জামান রিপন (ফরিদপুর), চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য আমান উল্লাহ আমান (চুয়াডাঙ্গা), মিজানুর রহমান মিনু (নওগাঁ), আবদুস সালাম (কুড়িগ্রাম)। ২২ ফেব্রুয়ারি: জয়নাল আবেদীন (ঝালকাঠি), আহমেদ আজম খান (চট্টগ্রাম দক্ষিণ), সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল (ময়মনসিংহ উত্তর), হারুনুর রশীদ (জয়পুহাট), মাহবুব উদ্দিন খোকন (কুমিল্লা উত্তর), আসলাম চৌধুরী (বান্দরবান), আবুল খায়ের ভুঁইয়া (রংপুর), যুগ্ম মহাসচিব আবদুস সালাম আজাদ (নরসিংদী)। ২৪ ফেব্রুয়ারি: স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন (মুন্সিগঞ্জ), হাফিজ উদ্দিন আহমেদ (বরিশাল উত্তর), ভাইস চেয়ারম্যান নিতাই রায় চৌধুরী (নড়াইল), আহমেদ আজম খান (নাটোর), হারুনুর রশীদ (গাইবান্ধা), হাবিব উন নবী খান সোহেল (রাঙ্গামাটি), আবদুস সালাম আজাদ (মাগুরা), সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স (সৈয়দপুর)।

স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা
আজকের সংবাদ, জাতীয়

ডেভিল শেষ না হওয়া পর্যন্ত চলবে অপারেশন : স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা

নিজস্ব প্রতিবেদক: ডেভিল শেষ না হওয়া পর্যন্ত অপারেশন চলবে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী। রোববার (০৯ ফেব্রুয়ারি) সকালে রাজধানীর ফার্মগেটে এক অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের এ কথা বলেন তিনি। সারা দেশে ‘অপারেশন ডেভিল হান্ট’ চালানো প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, ডেভিল যতদিন শেষ না হবে ততদিন পর্যন্ত অপারেশন চলবে। গাজীপুরে যারা ছাত্র-জনতার ওপর হামলার ঘটনা ঘটিয়েছে তাদের অনেককেই আইনের আওতায় আনা হয়েছে। তাড়াতাড়ি বাকিদেরও আনা হবে। যারা দেশকে অস্থিতিশীল করবে তাদের টার্গেট করে ডেভিল হান্ট অপারেশন চলবে বলেও জানান স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা। গত শুক্রবার রাতে গাজীপুরে আওয়ামী লীগ নেতা ও সাবেক মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হকের বাড়িতে মারধরে আহত হন বেশ কয়েকজন ছাত্র। তাদের মধ্যে গুরুতর আহত সাতজনকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তাদের মধ্যে একজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। হাসপাতাল সূত্র জানায়, গাজীপুর থেকে মারধরে আহত হয়ে গত শুক্রবার রাতে মোট ১১ জন এসেছিলেন। তাদের মধ্যে চারজন প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন। বাকি সাতজনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তাদের মধ্যে কাশেম (১৭) নামে একজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। তাকে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) রাখা হয়েছে। হাসপাতালে হামলায় আহত ইয়াকুবের ভাই মো. নাছির বলেন, ফাঁদে ফেলে তার ভাইসহ অন্যদের গাজীপুরে আ ক ম মোজাম্মেল হকের বাসার একটি কক্ষে শুক্রবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে আটকে রেখে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কোপানো হয়। তাদের এলোপাতাড়ি আঘাত করা হয়। তার ভাইয়ের মাথায় আঘাত রয়েছে। স্থানীয় লোকজন ও পুলিশ জানিয়েছে, বিক্ষুব্ধ ছাত্র-জনতা গাজীপুর মহানগরের ধীরাশ্রমের দক্ষিণখানে মোজাম্মেল হকের বাড়িতে হামলা চালায়। তারা বাড়ির ভেতরে ঢুকে ভাঙচুর করে। ওই সময় মসজিদের মাইকে ‘মন্ত্রীর বাড়িতে’ ডাকাত পড়েছে বলে ঘোষণা দিয়ে লোকজনকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানানো হয়। মাইকিং শুনে আশপাশের লোকজন বাড়িটি ঘিরে ফেলেন। ওই সময় কয়েকজনকে মারধর করা হয়। এতে অন্তত ১৫ জন আহত হয়েছেন। শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার ঘটনায় নড়েচড়ে বসেছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। ঘোষণা দেয় ‘অপারেশন ডেভিল হান্ট’ অভিযানের। এরপর গতকাল শনিবার রাত থেকেই সাঁড়াশি অভিযান শুরু করে যৌথ বাহিনী। গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে টহল জোরদার করা হয়। ছাত্র-জনতার ওপর হামলার ঘটনায় এখন পর্যন্ত আওয়ামী লীগের ৪০ জন নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তারের কথা জানিয়েছেন গাজীপুরের পুলিশ সুপার চৌধুরী যাবের সাদেক। পুলিশের ঊর্ধ্বতন পাঁচ কর্মকর্তাকে গ্রেপ্তার প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, যাদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে তাদের অপরাধ দেশবাসীর জানা রয়েছে।

আজকের সংবাদ, জাতীয়

জুলাই আন্দোলনের ছবি-ভিডিও চেয়েছে পুলিশ

নিজস্ব প্রতিবেদক : জুলাই-আগস্ট গণআন্দোলনকালে ছাত্র-জনতার ওপর সহিংস ঘটনার স্থির চিত্র ও ভিডিও ফুটেজ ‘আন্দোলনের ছবি’ ওয়েবসাইটে আপলোডের আহ্বান জানিয়েছে পুলিশ সদর দপ্তর। রোববার (০৯ ফেব্রুয়ারি) গণমাধ্যমে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ আহ্বান জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, জুলাই-আগস্ট গণআন্দোলনকালে ছাত্র-জনতার ওপর হামলা, হত্যা ও গুলিবর্ষণের ঘটনাসমূহের তথ্য-প্রমাণ ও ডিজিটাল এভিডেন্স সংগ্রহের লক্ষ্যে গত ১ জুলাই থেকে ৫ আগস্ট ২০২৪ পর্যন্ত ব্যক্তিগত মোবাইল ফোন/ক্যামেরায় ধারণকৃত স্থির চিত্র ও ভিডিও ফুটেজ ‘আন্দোলনের ছবি’ ওয়েবসাইটে (andolonerchobi.police.gov.bd) আপলোড করার জন্য সবার প্রতি আহ্বান জানানো যাচ্ছে। বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, একটি মোবাইল নম্বর দিয়ে প্রতি ঘণ্টায় সর্বোচ্চ একটি এবং প্রতিদিন সর্বোচ্চ ৫টি করে স্থির চিত্র ও ভিডিও ফুটেজ আপলোড করা যাবে। প্রতিটি ফাইল আপলোডের পূর্বে আপলোডকারীর মোবাইল নম্বরে একটি ওটিপি প্রেরণ করা হবে। আপলোডকৃত ফাইলসমূহ আপলোডকারীর মোবাইল নম্বর দিয়ে লগ-ইন করে দেখা যাবে। আগামী ১১ ফেব্রুয়ারি থেকে ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৫ পর্যন্ত ওই ওয়েবসাইটে স্থির চিত্র ও ভিডিও ফুটেজ আপলোড করা যাবে বলেও জানানো হয়েছে বিজ্ঞপ্তিতে।

আজকের সংবাদ, ফরিদগঞ্জ, শিক্ষা ও সাহিত্য

ফরিদগঞ্জ লেখক ফোরামের ১৮তম কাউন্সিল সম্পন্ন ।। সভাপতি ফরিদ, সম্পাদক তারেক

নিজস্ব প্রতিবেদক : ফরিদগঞ্জ লেখক ফোরাম’র নতুন সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন ফরিদ আহমেদ মুন্না ও সাধারণ সম্পাদক তারেক রহমান তারু। সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক সংগঠন ফরিদগঞ্জ লেখক ফোরামের ১৮তম কাউন্সিল সম্পন্ন হয়েছে। কাউন্সিলে প্রস্তাব সমর্থের মাধ্যমে ২০২৫- ২৬ সালের জন্য সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন ফরিদ আহমেদ মুন্না ও সাধারণ সম্পাদক তারেক রহমান তারু।শুক্রবার (৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৫) সন্ধ্যায় আম্বিয়া-ইউনুছ ফাউন্ডেশন মিলনায়তনে কাউন্সিলের কার্যক্রম শুরু হয়। দুই পর্বের অনুষ্ঠানমালায় প্রথম পর্বে সভাপতিত্ব করেন সাবেক সভাপতি কেএম নজরুল ইসলাম। সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা নুরুল ইসলাম ফরহাদের সঞ্চালনায় সদ্যবিদায়ী সাধারণ সম্পাদক রাবেয়া আক্তার বার্ষিক প্রতিবেদন ও হিসাব উপস্থাপন করেন। প্রথম অধিবেশনের শেষভাগে অনুষ্ঠানের সভাপতি কেএম নজরুল ইসলাম বিগত কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণা করেন।অনুষ্ঠানে বক্তব্য করেন ফরিদগঞ্জ লেখক ফোরামের উপদেষ্টা মোস্তফা কামাল মুকুল, সাংগঠনিক সম্পাদক জাহিদুল ইসলাম, দপ্তর সম্পাদক মেহেরাজ হাসান সৌরভ, নির্বাহী কমিটির সদস্য ফরিদ আহমেদ মুন্না, সদস্য মাহবুবে রাব্বানী, নাছির উদ্দিন, রাকিব হোসেন, মিতু রানী দেবনাথ ও রিমা আক্তার প্রমুখ। দ্বিতীয় অধিবেশনে নির্বাচন পরিচালনা করেন নুরুল ইসলাম ফরহাদ ও কেএম নজরুল ইসলাম। এ সময় প্রস্তাব ও সমর্থনের মাধ্যমে ২০২৫-২০২৬ সালের জন্য সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন ফরিদ আহমেদ মুন্না ও তারেক রহমান তারু। নির্বাচন পরিচালনা কমিটি আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করার জন্য পরামর্শ দেন।ফরিদগঞ্জ লেখক ফোরামের নির্বাচিত সভাপতি ফরিদ আহমেদ মুন্না ফোরামের প্রতিষ্ঠাকালীন সদস্য, প্রথম কমিটির বার্তা সম্পাদক ছিলেন। বর্তমানে নিবন্ধিত অনলাইন নিউজ পোর্টাল বিডি সমাচারের বিশেষ প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করছেন। এছাড়াও তিনি শিল্প ও সাহিত্যের ম্যাগাজিন সৃজনের সম্পাদক, মাসিক ক্যাম্পাস মিররের নির্বাহী সম্পাদক ছিলেন।নির্বাচিত হওয়ার পর নতুন সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক সংগঠনের সকল সদস্য ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের সহযোগিতায় সংগঠনকে সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার কথা বলেন।

আজকের সংবাদ, রাজনীতি

ছাত্র-তরুণদের নেতৃত্বে নতুন রাজনৈতিক দল আসছে: হাসনাত আব্দুল্লাহ

নিজস্ব প্রতিনিধি: ছাত্র-তরুণদের সমন্বয়ে এ মাসেই নতুন রাজনৈতিক দলের আত্মপ্রকাশ হবে বিষয়টি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই আলোচনা চলছে। এবার বিষয়টি নিয়ে আজ বুধবার নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের আহ্বায়ক হাসনাত আব্দুল্লাহ একটি স্ট্যাটাস দিয়েছেন। ওই স্ট্যাটাসে তিনি লিখেছেন, ‘ছাত্র-তরুণদের নেতৃত্বে নতুন রাজনৈতিক দল আসছে! । আপনি কেমন দল চান আমরা তা জানতে চাই এবং সে আদলেই দলটি গড়তে চাই। কমেন্টে দেয়া ফর্মে আপনার মতামত জানান। ফর্মটি পূরণ করতে মাত্র ৫ মিনিট সময় লাগবে।’ এছাড়াও বিষয়টি নিয়ে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক ও নাগরিক কমিটির মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম ও নাগরিক কমিটির কেন্দ্রীয় নেতারও ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিয়েছেন।

আজকের সংবাদ, ফরিদগঞ্জ

ফরিদগঞ্জে ১০ বোতল বিদেশী মদসহ ২ জন আটক

নিজস্ব প্রতিনিধি: ১০ বোতল বিদেশী মদ সহ ২ জন আসামীকে আটক করেছে ফরিদগঞ্জ থানা পুলিশ। বুধবার (৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৫) সকালে ফরিদগঞ্জ পৌরসভা এলাকা থেকে এস.আই পিয়াস বড়ুয়া সঙ্গীয় অফিসার ও ফোর্সসহ অভিযান পরিচালনা করেন। অভিযানে হাজীগঞ্জ উপজেলার গন্ধব্যপুর গ্রামের রাজেন চন্দ্র দাশের ছেলে আপন চন্দ্র দাশ (২৪) এবং শাহরাস্তি উপজেলার শোরশাক গ্রামের মো. লোকমান হোসেনের ছেলে মো. সাগর (২০) কে আটক করে। এ সময় তাদের কাছ থেকে ১০(দশ) বোতল বিদেশী মদ উদ্ধার করে পুলিশ এবং মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রন আইনে নিয়মিত মামলা রুজু পূর্বক যথাযথ পুলিশ প্রহরায় বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করা হয় তাদের।

ফরিদগঞ্জ পৌর এলাকা
আজকের সংবাদ, ফরিদগঞ্জ

ফরিদগঞ্জে বোতলের ঘরেই স্বপ্নপূরণ

নিজস্ব প্রতিনিধি: বাবার স্বপ্ন ছিল দোতলা ভবন করার, কিন্তু আর্থিক সামর্থ্য না থাকায় তা করতে পারেননি। তবে মানুষের ব্যবহার করা বোতল দিয়ে ঘর তৈরি করছেন দেলোয়ার।   চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জ পৌর এলাকার ৩ নং ওয়ার্ডের মিরপুর গ্রামের বাসিন্দা ফারুক হোসেনের ছেলে তিনি।   স্থানীয়রা তার এই কাণ্ড দেখে প্রথমদিকে হাস্যরস করলেও এখন প্রতিদিনই তার তৈরি ঘর দেখতে ছুটে আসছেন মানুষ।  স্থানীয়রা জানায়, অটোরিকশা চালিয়ে সংসার চালান দেলোয়ার। পাশাপাশি শুরু করেছেন ভাঙ্গারি ব্যবসা। ইউটিউবের মাধ্যমে জানতে পারেন বোতল দিয়ে ঘর বানানো যায়। সেখান থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে ৪০ হাজার বোতল সংগ্রহ করে ঘর নির্মাণ শুরু করেন।  বর্তমানে ঘরটি দৃশ্যমান হওয়ার পথে। মাটি বালি আর সিমেন্ট মিশিয়ে দুই কক্ষ, একটি রান্নাঘর ও বারান্দা নিয়ে কাজ শুরু দেলোয়ারের। তিনি বলছেন, ঘরটি নির্মাণে খরচ হবে দুই থেকে আড়াই লাখ টাকা।  দেলোয়ার জানান, আমার বাবার স্বপ্ন ছিল একটি দোতলা বাড়ি করার। গরিব হওয়ার কারণে সেটি সম্ভব হয়নি। আমি বোতল বাবার জন্য একতলা একটি বাড়ি করছি। কিছুদিনের মধ্যে আমার বাড়ির কাজ শেষ হবে।  তিনি বলেন, প্রথমে লোকজন বিষয়টি হাস্যরস করলেও এখন আমার বাড়ি দেখার জন্য দূর থেকেও মানুষ আসছে।  সুযোগ এবং সহযোগিতা পেলে এর চেয়ে আরও চমৎকার করে আমি বাড়ি বানাতে পারবো।  স্থানীয় বাবুল পাটওয়ারী বলেন, দেলোয়ারের বোতলের তৈরি ঘর দেখে আমরা অবাক হয়েছি। চমৎকার করে ঘরটি বানিয়েছে সে। কাজ শেষ হলে আরও সুন্দর লাগবে।  দেলোয়ারের মা বলেন, ছেলের স্বপ্ন ছিল একটি দোতালা বাড়ি নির্মাণ করবে। সে বোতল দিয়ে বাড়ি তৈরি করছে। এখানেও অনেক টাকা খরচ হচ্ছে। সবার সহযোগিতা পেলে আমার ছেলের স্বপ্ন তাড়াতাড়ি পূরণ হবে।  স্থানীয় পৌর প্রশাসক ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) এআরএম জাহিদ হাসান বলেন, পরিবেশ বান্ধব বাড়ি তৈরি করছে; বিষয়টি শুনে আমার ভালো লাগছে। পরিকল্পনা করে করলে দীর্ঘস্থায়ী হবে বলে আশা করছি।

আজকের সংবাদ, জাতীয়

নতুন কৌশলে ভোজ্যতেলের দাম বাড়ানোর পাঁয়তারা

নিজস্ব প্রতিনিধি: রোজার আগে ফের ভোজ্যতেলের দাম বাড়ানোর পাঁয়তারা চলছে। ইতোমধ্যে ব্যবসায়ীদের সংগঠনের পক্ষ থেকে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে লিটারে ১৫ টাকা বাড়ানোর জন্য প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। কার্যকর না হওয়ায় তেল কোম্পানিগুলো জোটবদ্ধ হয়ে একই সময় তেল সরবরাহ করছে না বলে অভিযোগ উঠেছে। ফলে খুচরা বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরি হয়েছে। এ সুযোগে প্রতি লিটার বোতলজাত সয়াবিন তেলের গায়ের মূল্য ১৭৫ টাকা মুছে ১৯০ টাকায় বিক্রি করছেন খুচরা বিক্রেতারা। খোলা সয়াবিনের দর গিয়ে ঠেকেছে ২০০ টাকায়। জানুয়ারির দ্বিতীয় সপ্তাহে আবার সয়াবিন তেলের দাম বাড়াতে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে প্রস্তাব দিয়েছে ভোজ্যতেল ব্যবসায়ীদের সংগঠন বাংলাদেশ ভেজিটেবল অয়েল রিফাইনার্স অ্যান্ড বনস্পতি ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যাসোসিয়েশন। লিটারপ্রতি ১৫ টাকা বাড়ানোর প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। হিসাব করে ১১ টাকা বাড়ানোর পক্ষে যুক্তিতর্ক চলছে। সর্বশেষ ২৩ জানুয়ারি ব্যবসায়ীদের সঙ্গে বাণিজ্য উপদষ্টো শেখ বশিরউদ্দীনের বৈঠক হয়। তবে সেখানে কোনো সদ্ধিান্ত আসেনি। ব্যবসায়ীদের প্রস্তাবের পরিপ্রেক্ষিতে বাংলাদেশ ট্রেড অ্যান্ড ট্যারিফ কমিশনের মতামত চেয়ে প্রতিবেদন দিতে বলেছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। সেই প্রতিবেদন এখনো জমা পড়েনি। এদিকে মঙ্গলবার বেলা ১১টায় রাজধানীর জিনজিরা কাঁচাবাজারে ৫টি খুচরা দোকান ঘুরে বোতলজাত সয়াবিন তেলের বোতলের গায়ে মূল্য পাওয়া যায়নি। খুচরা বিক্রেতারা বোতলজাত তেলের বোতলের গায়ের মূল্য মুছে লিটারপ্রতি ১৮০ থেকে ১৯০ টাকায় বিক্রি করছেন। অথচ সরকার নির্ধারিত মূল্য ১৭৫ টাকা। এছাড়া খোলা সয়াবিন প্রতি লিটার ১৯৫ থেকে ২০০ টাকায় বিক্রি করতে দেখা গেছে, যা সাতদিন আগেও ১৮০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। এক মাস আগে দাম ছিল ১৭০ টাকা। তবে সরকার নির্ধারিত মূল্য ১৫৭ টাকা। রোজার আগে ফের ভোজ্যতেলের দাম বাড়ানোর পাঁয়তারা চলছে। ইতোমধ্যে ব্যবসায়ীদের সংগঠনের পক্ষ থেকে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে লিটারে ১৫ টাকা বাড়ানোর জন্য প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। কার্যকর না হওয়ায় তেল কোম্পানিগুলো জোটবদ্ধ হয়ে একই সময় তেল সরবরাহ করছে না বলে অভিযোগ উঠেছে। ফলে খুচরা বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরি হয়েছে। এ সুযোগে প্রতি লিটার বোতলজাত সয়াবিন তেলের গায়ের মূল্য ১৭৫ টাকা মুছে ১৯০ টাকায় বিক্রি করছেন খুচরা বিক্রেতারা। খোলা সয়াবিনের দর গিয়ে ঠেকেছে ২০০ টাকায়। জানুয়ারির দ্বিতীয় সপ্তাহে আবার সয়াবিন তেলের দাম বাড়াতে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে প্রস্তাব দিয়েছে ভোজ্যতেল ব্যবসায়ীদের সংগঠন বাংলাদেশ ভেজিটেবল অয়েল রিফাইনার্স অ্যান্ড বনস্পতি ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যাসোসিয়েশন। লিটারপ্রতি ১৫ টাকা বাড়ানোর প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। হিসাব করে ১১ টাকা বাড়ানোর পক্ষে যুক্তিতর্ক চলছে। সর্বশেষ ২৩ জানুয়ারি ব্যবসায়ীদের সঙ্গে বাণিজ্য উপদষ্টো শেখ বশিরউদ্দীনের বৈঠক হয়। তবে সেখানে কোনো সদ্ধিান্ত আসেনি। ব্যবসায়ীদের প্রস্তাবের পরিপ্রেক্ষিতে বাংলাদেশ ট্রেড অ্যান্ড ট্যারিফ কমিশনের মতামত চেয়ে প্রতিবেদন দিতে বলেছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। সেই প্রতিবেদন এখনো জমা পড়েনি। এদিকে মঙ্গলবার বেলা ১১টায় রাজধানীর জিনজিরা কাঁচাবাজারে ৫টি খুচরা দোকান ঘুরে বোতলজাত সয়াবিন তেলের বোতলের গায়ে মূল্য পাওয়া যায়নি। খুচরা বিক্রেতারা বোতলজাত তেলের বোতলের গায়ের মূল্য মুছে লিটারপ্রতি ১৮০ থেকে ১৯০ টাকায় বিক্রি করছেন। অথচ সরকার নির্ধারিত মূল্য ১৭৫ টাকা। এছাড়া খোলা সয়াবিন প্রতি লিটার ১৯৫ থেকে ২০০ টাকায় বিক্রি করতে দেখা গেছে, যা সাতদিন আগেও ১৮০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। এক মাস আগে দাম ছিল ১৭০ টাকা। তবে সরকার নির্ধারিত মূল্য ১৫৭ টাকা।

আজকের সংবাদ, জাতীয়

পাসপোর্টে থাকছে না পুলিশ ভেরিফিকেশন

নিজস্ব প্রতিনিধি: পাসপোর্ট ইস্যু ও নবায়নের ক্ষেত্রে এখন থেকে পুলিশ ভেরিফিকেশন বাধ্যতামূলক থাকছে না।মঙ্গলবার এ তথ্য জানা যায় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক সূত্রে। এর আগে পাসপোর্ট সম্পর্কিত সমস্যা সমাধানের জন্য মঙ্গলবার সকালে সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব ড. নাসিমুল গণির সভাপতিত্বে একটি সভা অনুষ্ঠিত হয়। পাসপোর্টের ক্ষেত্রে জাতীয় পরিচয়পত্র ও জন্মনিবন্ধন পাসপোর্ট ইস্যুর মূল ভিত্তি ধরা হয়। এ দুটি সঠিক থাকলে পাসপোর্ট দেওয়ার ক্ষেত্রে কোনো বাধা থাকার কথা নয়- উপদেষ্টা পরিষদের সভায় এমন মতামত উঠে আসার পরই এ নিয়ে কাজ শুরু করে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সুরক্ষা সেবা বিভাগ। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কর্মকর্তা জানান, এ বিষয়ে সভায় অনেকটা এগিয়ে গেছে। পরবর্তীতে আরেকটি সভা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। সভায় বেশিরভাগ প্রতিনিধি পাসপোর্টে ভেরিফিকেশন উঠানোর বিষয়ে মত দিয়েছেন। জানা গেছে, সভায় পাসপোর্ট জটিলতা নিরসনের লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় সুপারিশ প্রণয়ন করা হয়। উপদেষ্টা পরিষদের নির্দেশনার আলোকে সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করে এ-সংক্রান্ত আদেশ জারি করা হবে। সভায় প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়, আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয়, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়, পুলিশের বিশেষ শাখাসহ অন্যান্য বিভাগের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। সভায় উপস্থিত প্রতিনিধিদের মধ্যে ছিলেন- প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয় সচিব সাইফুল্লাহ পান্না, আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয় সচিব শেখ আবু তাহের,  প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় সচিব, মো. রুহুল আমিন, বহিরাগমন ও পাসপোর্ট অধিদপ্তর মহাপরিচালক মেজর জেনারেল নূরুল আনোয়ার, মোহাম্মদ নুরুল, বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশনের জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন অনুবিভাগ মহাপরিচালক (অতিরিক্ত সচিব), এ এস এম হুমায়ুন কবীর, জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা অধিদপ্তর যুগ্ম-পরিচালক, মো. জিয়াউল কাদের, অতিরিক্ত সচিব, স্থানীয় সরকার বিভাগ রেজিস্ট্রার জেনারেল, জন্ম-মৃত্যু নিবন্ধন, মো. যাহিদ হোসেন, অতিরিক্ত পুলিশ মহাপরিদর্শক, গোলাম রসূল, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় উপসচিব আমিন আল পারভেজ, বিশেষ পুলিশ সুপার, (এসবি) হায়াতুন্নবী, বাংলাদেশে ই-পাসপোর্ট ও স্বয়ংক্রিয় বর্ডার নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থাপনা প্রবর্তন শীর্ষক প্রকল্প পরিচালক, মো. সাইদুর রহমান, লেফটেন্যান্ট কর্নেল সাফি প্রমুখ।

Scroll to Top