৩রা জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

Author name: Farid Ahmed

আজকের সংবাদ, জাতীয়

কুমিল্লায় বজ্রপাতে নিহত ৪

নিজস্ব প্রতিবেদক: কুমিল্লায় বজ্রপাতে দুই স্কুলছাত্রসহ চারজনের মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও একজন। তাকে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। সোমবার (২৮ এপ্রিল) দুপুরে বরুড়া ও মুরাদনগরে পৃথক দুটি ঘটনায় তাদের মৃত্যু হয়। বরুড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কাজী নাজমুল হক ও বাঙ্গরা বাজার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহফুজুর রহমান এ তথ্য নিশ্চিত করেন। দুই স্কুলছাত্র হলো, বরুড়া উপজেলার পয়ালগচ্ছ গ্রামের মৃত খোকন মিয়ার ছেলে মো. ফাহাদ হোসেন (১৩) ও একই এলাকার বিলাল হোসেনের ছেলে মোহাম্মদ জিহাদ (১৪)। তারা বড়হরিপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের ৬ষ্ঠ শ্রেণির ছাত্র ছিল। বাকি দুজন হলেন, মুরাদনগর উপজেলার দেওরা গ্রামের জসিম উদ্দিন ভূঁইয়ার ছেলে জুয়েল ভূঁইয়া (৩৫) ও কোরবানপুর পশ্চিম পাড়া (কালীবাড়ি) গ্রামের মৃত বীরচরণ দেবনাথের ছেলে নিখিল দেবনাথ (৬০)। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, দুপুর ১২টার দিকে মুরাদনগরের কোরবানপুর পূর্বপাড়ার একটি মাঠে নিখিল দেবনাথ ও জুয়েল ভূঁইয়া পাশাপাশি জমিতে ধান কাটছিলেন। এক পর্যায়ে হঠাৎ বজ্রপাত শুরু হলে ঘটনাস্থলে দুজনের মৃত্যু হয়। এ সময় তাদের সঙ্গে থাকা নাজির (৪০) নামে আরও এক কৃষক আহত হন। তাকে উদ্ধার করে বাড়িতে রেখে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। এদিকে দুপুর পৌনে ১২টার দিকে উপজেলার খোশবাস ইউনিয়নের পয়ালগচ্ছ গ্রামের কয়েকজন শিশু মাঠে ঘুড়ি উড়াচ্ছিলেন। এ সময় হঠাৎ বজ্রপাত হলে ফাহাদ, জিহাদ ও আবু সুফিয়ান নামে তিনজন মারাত্মকভাবে আহত হয়। পরে স্বজনরা দ্রুত তাদের উদ্ধার করে স্থানীয় একটি হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক ফাহাদ ও জিহাদকে মৃত্যু ঘোষণা করেন এবং উন্নত চিকিৎসার জন্য আবু সুফিয়ানকে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

আজকের সংবাদ, ফরিদগঞ্জ

ফরিদগঞ্জ লেখক ফোরাম’র বৈশাখি চুড়ইভাতি অনুষ্ঠিত

নিজস্ব প্রতিবেদক: শিল্প, সাহিত্য, সামাজিক কাজের পাশাপাশি গ্রামিন ঐতিহ্যের বাহন হিসেবে কাজ করে আসছে ফরিদগঞ্জ লেখক ফোরাম। সুস্থ আয়োজনের মাধ্যমে প্রতিনিয়ত লেখক ফোরাম সামাজে তাদের কাজের ছাঁপ রেখে যাচ্ছে। তেমনি এক ব্যাতিক্রম আয়োজন লেখক ফোরাম’র বৈশাখি চুড়ইভাতি। ২৫ ই এপ্রিল আম্বিয়া ইউনুছ ফাউন্ডেশন আইফা পাঠাগার ক্যাম্পাসে গ্রামিন বিভিন্ন আয়োজনের মধ্যে দিয়ে লেখক ফোরাম আয়োজন করলো চড়ুইভাতি অনুষ্ঠান। কিছু দিন আগেই বৈশাখ চলে গেলেও বৈশাখের আমেজ কে মনে রাখতে এই আয়োজনের নাম দেওয়া হয়েছে বৈশাখি চুড়ইভাতি। অনুষ্ঠান কে ঘিরে সকাল থেকে সংগঠনের সদস্যরা বিভিন্ন কাজে ব্যাস্ত সময় কাটিয়েছে। সকালের নাস্তা হিসেবে দেশীয় পিঠার স্বাধ নেওয়ার মাধ্যমে শুরু হয় চুড়ইভাতির দিন। গ্রামিন ঐতিহ্যের ধারক চুড়ইভাতির মূল আকর্শন ছিলো সংগঠনের সদস্যদের নিজ হাতে রান্না করা খিচুড়ি। খিচুড়ি রান্নার পাশাপাশি নানান পদের ভর্তা তৈরি করে গ্রামিন খাবারের স্বাদ নিয়েছে সংগঠনের সদস্যরা। এদিন সংগঠনের নতুন পুরাতন প্রায় ৫০ জন সদস্য উপস্থিত ছিলো।

আজকের সংবাদ, জাতীয়

এক মাসে ৬ দিন ছুটি পাচ্ছেন সরকারি চাকরিজীবীরা

নিজস্ব প্রতিবেদক: সরকারি চাকরিজীবীরা পেতে যাচ্ছেন দুই ধাপের ছুটি। ১ মে (মে দিবস) ও সাপ্তাহিক ছুটি মিলিয়ে টানা তিন দিনের ছুটি। এ ছাড়া একই মাসে আরও একবার তিন দিনের ছুটি পেতে যাচ্ছেন সরকারি কর্মচারীরা। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সরকারি ছুটির প্রজ্ঞাপন অনুসারে, আগামী ১ মে (বৃহস্পতিবার) আন্তর্জাতিক শ্রমিক দিবসের সরকারি ছুটি। এর সঙ্গে যোগ হচ্ছে শুক্র ও শনিবারের সাপ্তাহিক ছুটি। এতে টানা তিন দিন ছুটি পাচ্ছেন সরকারি চাকরিজীবীরা। এ ছাড়া আগামী ১১ মে (রবিবার) বুদ্ধ পূর্ণিমার ছুটি। এর আগে দু-দিন সাপ্তাহিক ছুটি আছে তাদের। অর্থাৎ একই মাসে দুবার তিনদিন করে ছুটি পাচ্ছেন তারা। এর আগে গেল পবিত্র ঈদুল ফিতরে লম্বা ছুটি কাটিয়েছেন সরকারি চাকরিজীবীরা। ঈদ উপলক্ষে আগেই পাঁচ দিন টানা ছুটি ঘোষণা করেছিল সরকার। পরে নির্বাহী আদেশে আরও এক দিন ৩ এপ্রিল ছুটি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় সরকার। ফলে ২৮ মার্চ থেকে ৫ এপ্রিল পর্যন্ত টানা ৯ দিন ছুটি কাটিয়েছেন তারা। উল্লেখ্য, ছুটির বিধিমালা অনুযায়ী, দুই ছুটির মাঝে নৈমিত্তিক ছুটি নেওয়ার নিয়ম নেই। নিলে তা টানা ছুটি হয়ে যাবে। অবশ্য অর্জিত ছুটি নেওয়ার সুযোগ আছে। এ ছাড়া ঐচ্ছিক ছুটি নেওয়ারও সুযোগ আছে। প্রত্যেক কর্মচারীকে বছরের শুরুতে নিজ ধর্ম অনুযায়ী নির্ধারিত তিন দিনের ঐচ্ছিক ছুটি ভোগ করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পূর্বানুমোদন নিতে হয়। সরকারি চাকরিজীবীরা পেতে যাচ্ছেন দুই ধাপের ছুটি। ১ মে (মে দিবস) ও সাপ্তাহিক ছুটি মিলিয়ে টানা তিন দিনের ছুটি। এ ছাড়া একই মাসে আরও একবার তিন দিনের ছুটি পেতে যাচ্ছেন সরকারি কর্মচারীরা। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সরকারি ছুটির প্রজ্ঞাপন অনুসারে, আগামী ১ মে (বৃহস্পতিবার) আন্তর্জাতিক শ্রমিক দিবসের সরকারি ছুটি। এর সঙ্গে যোগ হচ্ছে শুক্র ও শনিবারের সাপ্তাহিক ছুটি। এতে টানা তিন দিন ছুটি পাচ্ছেন সরকারি চাকরিজীবীরা। এ ছাড়া আগামী ১১ মে (রবিবার) বুদ্ধ পূর্ণিমার ছুটি। এর আগে দু-দিন সাপ্তাহিক ছুটি আছে তাদের। অর্থাৎ একই মাসে দুবার তিনদিন করে ছুটি পাচ্ছেন তারা। এর আগে গেল পবিত্র ঈদুল ফিতরে লম্বা ছুটি কাটিয়েছেন সরকারি চাকরিজীবীরা। ঈদ উপলক্ষে আগেই পাঁচ দিন টানা ছুটি ঘোষণা করেছিল সরকার। পরে নির্বাহী আদেশে আরও এক দিন ৩ এপ্রিল ছুটি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় সরকার। ফলে ২৮ মার্চ থেকে ৫ এপ্রিল পর্যন্ত টানা ৯ দিন ছুটি কাটিয়েছেন তারা। উল্লেখ্য, ছুটির বিধিমালা অনুযায়ী, দুই ছুটির মাঝে নৈমিত্তিক ছুটি নেওয়ার নিয়ম নেই। নিলে তা টানা ছুটি হয়ে যাবে। অবশ্য অর্জিত ছুটি নেওয়ার সুযোগ আছে। এ ছাড়া ঐচ্ছিক ছুটি নেওয়ারও সুযোগ আছে। প্রত্যেক কর্মচারীকে বছরের শুরুতে নিজ ধর্ম অনুযায়ী নির্ধারিত তিন দিনের ঐচ্ছিক ছুটি ভোগ করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পূর্বানুমোদন নিতে হয়।

আজকের সংবাদ, চাঁদপুর

শাহরাস্তিতে সিঁড়ির নিচে স্কুলের অফিস, এক কক্ষে দুই শ্রেণির পাঠদান

নিজস্ব প্রতিবেদক: একতলা বিদ্যালয় ভবনের কক্ষ মাত্র দুটি। ভবনটির সিঁড়ির নিচে বসে দাপ্তরিক কাজ সারেন শিক্ষকরা। একটি কক্ষে একসঙ্গে চলে দুই শ্রেণিরা পাঠদান। সময় ভাগ করে চলে ক্লাস। শ্রেণিকক্ষ সংকটে ব্যাহত হচ্ছে পাঠদান। বছর বছর কমছে শিক্ষার্থীর সংখ্যা। ঘটনাটি চাঁদপুরের শাহরাস্তি উপজেলা সদরের দক্ষিণ নিজ মেহের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের। জানা যায়, উপজেলা প্রশাসন ও পৌর ভবন থেকে মাত্র এক কিলোমিটারের মধ্যেই অবস্থিত দক্ষিণ নিজ মেহের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। এ বিদ্যালয়ে রয়েছে মাত্র দুটি কক্ষ। বর্তমানে স্কুলটিতে চালিয়ে যাচ্ছেন ছয়জন শিক্ষিকা। সকাল ৯টা থেকে শুরু হয়ে বিকাল ৪টা পর্যন্ত চলে স্কুলটির কার্যক্রম। সকাল ৯টা থেকে বেলা ১১টা পর্যন্ত চলে শিশু, প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণির পাঠদান। বেলা ১১টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত তৃতীয়, চতুর্থ ও পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের পাঠদান। বৃহস্পতিবার দক্ষিণ নিজ মেহের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে গিয়ে দেখা যায়, সিঁড়ির নিচে চেয়ারে বসে আছেন কয়েকজন শিক্ষক। তাদের জিজ্ঞাসা করা হলে তারা বলেন, শিক্ষকদের কক্ষ না থাকায় এখানেই বসতে হয়।  দৃষ্টিকটু মনে হলেও বাধ্য হয়েই এ কাজটি করে যাচ্ছেন বলে জানান তারা। ওই সময় স্কুলটির একটি কক্ষে চলছিল পাঠদান। সেখানে গিয়ে দেখা মিলে দুই শিক্ষকের। তারা একসঙ্গে দুই শ্রেণির ক্লাস নিচ্ছিলেন। শাহরাস্তি  বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা মরিয়ম আক্তার জানান, ২০১৭ সালে তিনি এ বিদ্যালয়ে যোগদান করেন। এরপর থেকেই প্রতি বছর ভবনের ঊর্ধ্বমুখী সম্প্রসারণের জন্য লিখিত আবেদন করে যাচ্ছেন তিনি। কিন্তু এতে কোনো কাজ হচ্ছে না। সহকারী শিক্ষিকা জান্নাতুল মাওয়া বলেন, ‘একটি কক্ষে দুটি শ্রেণির পাঠদান করতে সমস্যা হচ্ছে। আমাদের অফিস ও নামাজের স্থান নেই।’ উপজেলা সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. আক্তার হোসেন বলেন, ‘বিদ্যালয়টির ভবন প্রয়োজন। আমরা কয়েকবার তালিকাভুক্ত করে ভবনের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠিয়েছি। উপজেলা প্রকৌশল অধিদপ্তরে তালিকাটি পাঠানো হয়েছে। কিন্তু কোনো সুরাহা হয়নি।’

আজকের সংবাদ, চাঁদপুর

চাঁদপুরে মফস্বল সাংবাদিকতায় প্রশিক্ষণ শুরু

নিজস্ব প্রতিবেদক: চাঁদপুর সাংবাদিক সমবায় সমিতি লিমিটেডের আয়োজেন ১৬ দিনব্যাপী দীর্ঘমেয়াদি মফস্বল সাংবাদিকতায় হাতেখড়ি প্রশিক্ষণ কর্মশালার উদ্বোধন হয়েছে। শুক্রবার চাঁদপুর সদর উপজেলা অডিটোরিয়ামে কর্মশালার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মোহসীন উদ্দিন। প্রশিক্ষক ছিলেন বাংলাদেশ টেলিভিশনের উপস্থাপক ও ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সাবেক সাধারণ সম্পাদক সরদার ফরিদ আহমেদ। বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার লুৎফর রহমান, যুগান্তরের নগর সম্পাদক মিজান মালিক, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাখাওয়াত জামিল সৈকত, চাঁদপুর প্রেস ক্লাবের সভাপতি রহিম বাদশা ও আমার দেশ পাঠক মেলার কেন্দ্রীয় উপদেষ্টা মো. কাউছার আলম। অনুষ্ঠানের শুরুতে পবিত্র কুরআন থেকে তেলওয়াত করেন প্রশিক্ষণার্থী মাওলানা শামছুদ্দিন আহমেদ। চাঁদপুর সাংবাদিক সমবায় সমিতির সভাপতি মুসাদ্দেক আল আকিবের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক মাসুদ আলম ও গিয়াস উদ্দিনের যৌথ পরিচালনায় স্বাগত বক্তব্য দেন জাতীয় প্রেস ক্লাবের সদস্য মো. আব্দুল্লাহ মজুমদার। শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন সমিতির কোষাধ্যক্ষ কেএম সালাউদ্দিন।

অর্থনীতি, আজকের সংবাদ, চাঁদপুর

৮৫ জাতের আঙুর চাষে সফল চাঁদপুরের কামরুজ্জামান

নিজস্ব প্রতিবেদক: থোকায় থোকায় ঝুলে আছে বিদেশি ফল আঙুর। এমন দৃশ্য চোখে পড়লে মনে হবে বিদেশে আঙুর চাষের দৃশ্য। কিন্তু প্রথমবারের মতো দেশের মাটিতে বাণিজ্যিক চাষে সফল হয়েছেন চাঁদপুরের যুবক কামরুজ্জামান প্রধানিয়া। মাত্র ২০ শতক জমিতে আঙুর চাষ করেছেন তিনি। তার সংগ্রহে এখন পর্যন্ত ১৮ দেশের ৮৫টি জাতের আঙুর গাছ আছে। এরই মধ্যে ফলন ভালো হওয়ায় আঙুর বাজারজাত করেছেন। প্রতিদিন জেলা-উপজেলাসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে মানুষ এই বাগান দেখতে আসেন। চাঁদপুর সদর উপজেলার চাঁদপুর-মতলব পেন্নাই সড়কের কালিভাংতি এলাকায় প্রধানিয়া এগ্রোতে দেখা মিলছে ভিনদেশি এই রসালো ফল। বাঁশের মাচায় ঝুলে থাকা সবুজ আঙুর দূর থেকে পথচারীদের নজর কাড়ছে। ফলন ভালো হওয়ায় বাগান থেকে ৫০ কেজি এরই মধ্যে বাজারজাতও করেছেন। এতে লাভের মুখ দেখছেন উদ্যোক্তা কামরুজ্জামান। উদ্যোক্তা কামরুজ্জামান প্রধানিয়া বলেন, ‘২০২১ সালে শখের বশে আঙুর চাষ শুরু করি। প্রথমে ছাদ বাগান, পরে জমিতে বাণিজ্যিকভাবে আঙুর চাষ শুরু করবো। আমার বাগানে ১২০টি মাতৃগাছে ফুল ফুটতে শুরু করেছে। এরই মধ্যে ৫০ কেজির মতো বাজারে বিক্রি করেছি। সবমিলিয়ে দেড়শ কেজি ফলন হওয়ার সম্ভাবনা দেখছি।’ তিনি বলেন, ‘অক্টোবর-নভেম্বর মাসে আঙুর গাছ ছাঁটাই করলে মার্চ-এপ্রিলে ফল পাওয়া যায়। আবার শীতের সময়ে ফলন আসে। বেকারত্ব দূর করতে এখান থেকে চারা নিয়ে অনেকেই চাষ শুরু করেছেন। অনলাইনের মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আঙুরের চারা সংগ্রহ করছেন। অনেকে সরাসরি দেখে যাচ্ছেন। কৃষি বিভাগ থেকে সহায়তা করলে আরও বড় পরিসরে আঙুরের আবাদ করতে পারবো।’ ফরিদগঞ্জ থেকে আসা ওমর ফারুক বলেন, ‘আমি বেশ কিছুদিন ধরে কামরুজ্জামান প্রধানিয়ার আঙুর চাষের ভিডিও দেখেছি। আমি উদ্বুদ্ধ হয়ে এখানে এসে অবাক হয়েছি। এত চমৎকার ভাবে আঙুর ধরে আছে। যে কেউ দেখলে অভিভূত হবেন। এখান থেকে চারা কিনে বাড়িতে রোপণ করবো।’ চাঁদপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক কৃষিবিদ মোহাম্মদ আবু তাহের বলেন, ‘আঙুর দোআঁশযুক্ত লালমাটি, জৈবিক সার সমৃদ্ধ কাঁকর জাতীয় মাটি এবং পাহাড়ের পাললিক মাটিতে ভালো হয়। জমি অবশ্যই উঁচু হতে হবে। যেখানে পানি দাঁড়িয়ে থাকবে না। প্রচুর সূর্যের আলো পড়বে এমন জায়গা আঙুর চাষের জন্য নির্বাচন করতে হবে। চাঁদপুরের মাটিতে আঙুরের ফলন বেশ ভালো হয়েছে। এই ধরনের কার্যক্রম দেশব্যাপী ছড়িয়ে দেওয়া হলে নতুন নতুন উদ্যােক্তা তৈরি করা সম্ভব।’

আজকের সংবাদ, চাঁদপুর

হাজীগঞ্জে গণিত পরীক্ষা খারাপ হওয়ায় কেন্দ্র ভাঙচুর

নিজস্ব প্রতিবেদক: চাঁদপুরের হাজীগঞ্জে গণিত পরীক্ষা খারাপ হওয়ায় পরীক্ষা শেষে কেন্দ্র ভাঙচুর ও সড়ক অবরোধ করেছেন এসএসসি পরীক্ষার্থীরা। সোমবার (২১ এপ্রিল) দুপুরে কালচোঁ দক্ষিণ ইউনিয়নের রামপুর কেন্দ্রে গণিত পরীক্ষা শেষে রামপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের একাডেমিক ভবন ভাঙচুর ও বলাখাল-রামপুর সড়ক অবরোধের ঘটনা ঘটে। চাঁদপুরের হাজীগঞ্জে গণিত পরীক্ষা খারাপ হওয়ায় পরীক্ষা শেষে কেন্দ্র ভাঙচুর ও সড়ক অবরোধ করেছেন এসএসসি পরীক্ষার্থীরা। সোমবার (২১ এপ্রিল) দুপুরে কালচোঁ দক্ষিণ ইউনিয়নের রামপুর কেন্দ্রে গণিত পরীক্ষা শেষে রামপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের একাডেমিক ভবন ভাঙচুর ও বলাখাল-রামপুর সড়ক অবরোধের ঘটনা ঘটে। কয়েকজন পরীক্ষার্থী ও অভিভাবকরা জানান, ম্যাজিস্ট্রেটসহ সরকারি কর্মকর্তারা সারাক্ষণ পরীক্ষা কেন্দ্রে উপস্থিত ছিলেন। হলে অতিরিক্ত গার্ড দেওয়া হয়। এতে মানসিক চাপে পড়ে পরীক্ষার্থী। ফলে তাদের গণিত পরীক্ষা খারাপ হয়। রামপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোতাহের হোসেন বলেন, পরীক্ষার্থীরা আমার বিদ্যালয়ের বেশ কিছু চেয়ার-টেবিল ও গ্লাসসহ অন্যান্য জিনিসপত্র ভাঙচুর করে। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে মৌখিকভাবে জানিয়েছি। পরীক্ষা কেন্দ্র হাজীগঞ্জ-৬ এর কেন্দ্র সচিব ও রামপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক কবির হোসেন সরকার জানান, আজ নিয়মিত ও অনিয়মিতসহ ২৫৪ জন শিক্ষার্থী গণিত পরীক্ষায় অংশ নেয়। এর মধ্যে পরীক্ষা খারাপ হওয়ায় রামপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের পরীক্ষার্থীরা রামপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে হৈ-হুল্লোড় শুরু করে। কেন্দ্রে দায়িত্বরত উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার প্রতিনিধি ও সহকারী উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. তোফাজ্জল হোসেনের সঙ্গে কথা হলে তিনি কেন্দ্র সচিবের সঙ্গে যোগাযোগ করার জন্য বলেন। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. ইবনে আল জায়েদ হোসেন বলেন, যেহেতু পরীক্ষা চলমান এবং পরীক্ষার্থীরা অপ্রাপ্তবয়স্ক, বিষয়টি অভিভাবকদের জানানো হয়েছে। এ বিষয়ে ব্যবস্থা নিতে কেন্দ্র সচিব ও বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষককে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

আজকের সংবাদ, চাঁদপুর

চাঁদপুরে জনতা ব্যাংক কর্মকর্তার ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার

নিজস্ব প্রতিবেদক: চাঁদপুরের শাহরাস্তিতে ব্যাংক কর্মকর্তা রাকিব হাসানের (২৮) ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার (১৫ এপ্রিল) সকালে সূচিপাড়া বাজারে আপন প্লাজা (আব্দুর জব্বারের বিল্ডিং) ভবনের পঞ্চম তলায় ১৫ নম্বর কক্ষ থেকে মরদেহ উদ্ধার করা হয়। নিহত রাকিব জনতা ব্যাংকের সূচিপাড়া বাজার শাখার সিনিয়র অফিসার। তিনি আপন প্লাজা ভবনের পঞ্চম তলায় ভাড়া থাকতেন। তার গ্রামের বাড়ি শরীয়তপুরের জাজিরায়। নিহতের সহপাঠী নাজিম উদ্দীনের বরাত দিয়ে পুলিশ জানায়, রাকিব সোমবার (১৪ এপ্রিল) রাত সাড়ে ১১টা পর্যন্ত তার সঙ্গে স্বাভাবিক কথা শেষে রুমের দরজা বন্ধ করে ঘুমিয়ে পড়েন। সকাল ৮টার দিকে তার কক্ষের দরজা না খোলায় সন্দেহ হলে শাহরাস্তি থানায় সংবাদ দেওয়া হয়। খবর পেয়ে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা গিয়ে ওই রুমের দরজা ভেঙে ফ্যানের সঙ্গে ঝুলত অবস্থা ওই কর্মকর্তার মরদেহ পাওয়া যায়। শাহরাস্তি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল বাসার বলেন, মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য চাঁদপুর সরকারি জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হচ্ছে। এছাড়া আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এর আগে সোমবার (১৪ এপ্রিল) সকালে ব্যাংক ব্যবস্থাপক কার্তিক চন্দ্র ঘোষ ও একই ব্যাংকের সিনিয়র অফিসার জাবেদ হোসেনকে গ্রাহকের ৮৪ লাখ ৬৭ হাজার ৮১৪ টাকা আত্মসাতের ঘটনায় শাহরাস্তি থানা পুলিশ আটক করে। পরে দুপুরে তাকে চাঁদপুর আদালতে সোপর্দ করা হয়।

আজকের সংবাদ, ফরিদগঞ্জ

সৌদি আরবে সড়ক দুর্ঘটনায় ফরিদগঞ্জের এক প্রবাসী নিহত

নিজস্ব প্রতিবেদক: সৌদি আরবে সড়ক দুর্ঘটনায় মো. মিজান (৪৮) নামে এক প্রবাসী বাংলাদেশি নিহত হয়েছেন। তার বাড়ি চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জ উপজেলায়। বাংলাদেশ সময় সোমবার (২১ এপ্রিল) ভোরে সৌদি আরবের আবহা শহরের মাহাইল এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত মিজান ফরিদগঞ্জের ৬ নম্বর গুপ্টি পশ্চিম ইউনিয়নের আদশা গ্রামের বাসিন্দা মৃত এরশাদ মিজির বড় ছেলে। তিনি এক কন্যা ও এক পুত্র সন্তানের বাবা। নিহতের চাচাতো ভাই মানিক হোসেন মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি সৌদি আরবে নিহত মিজানের কাছে বসবাস করেন। মানিক জানান, প্রতিদিনের মতো সোমবার স্থানীয় সময় রাত ২টার দিকে মিজান মালামাল লোড করে গাড়ি নিয়ে ফেরার পথে একটি দ্রুতগতির গাড়ির সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে তিনি গুরুতর আহত হন। পরে তাকে উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। নিহত মিজান ফরিদগঞ্জের ৬ নম্বর গুপ্টি পশ্চিম ইউনিয়নের আদশা গ্রামের বাসিন্দা মৃত এরশাদ মিজির বড় ছেলে। তিনি এক কন্যা ও এক পুত্র সন্তানের বাবা। নিহতের চাচাতো ভাই মানিক হোসেন মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি সৌদি আরবে নিহত মিজানের কাছে বসবাস করেন। মানিক জানান, প্রতিদিনের মতো সোমবার স্থানীয় সময় রাত ২টার দিকে মিজান মালামাল লোড করে গাড়ি নিয়ে ফেরার পথে একটি দ্রুতগতির গাড়ির সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে তিনি গুরুতর আহত হন। পরে তাকে উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

আজকের সংবাদ, জাতীয়

টানা পাঁচদিন বজ্রসহ বৃষ্টির আভাস

নিজস্ব প্রতিবেদক: মঙ্গলবার থেকে পরবর্তী পাঁচদিন দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বৃষ্টির আভাস দিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। এর মধ্যে কোথাও কোথাও অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ বিদ্যুৎ চমকানো বা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। মঙ্গলবার (২২ এপ্রিল) সকাল ৯টা থেকে পরবর্তী ১২০ ঘণ্টার পূর্বাভাসে এ তথ্য জানানো হয়েছে। আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, মঙ্গলবার (২২ এপ্রিল) ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় এবং রংপুর, রাজশাহী, ঢাকা ও চট্টগ্রাম বিভাগের দু’এক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ বিদ্যুৎ চমকানো/বৃষ্টি/বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। এছাড়া দেশের অন্যত্র অস্থায়ীভাবে আংশিক মেঘলা আকাশসহ আবহাওয়া প্রধানত শুষ্ক থাকতে পারে। এই সময়ে সারাদেশে দিন এবং রাতের তাপামাত্রা সামান্য বৃদ্ধি পেতে পারে। বুধবার (২৩ এপ্রিল) রংপুর, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের দু’এক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ বিদ্যুৎ চমকানো/বৃষ্টি/বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। এছাড়া দেশের অন্যত্র অস্থায়ীভাবে আংশিক মেঘলা আকাশসহ আবহাওয়া প্রধানত শুষ্ক থাকতে পারে। সারাদেশে দিন এবং রাতের তাপামাত্রা সামান্য বৃদ্ধি পেতে পারে। বৃহস্পতিবার (২৪ এপ্রিল) ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের দু’এক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ বিদ্যুৎ চমকানো/বৃষ্টি/বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। এছাড়া দেশের অন্যত্র অস্থায়ীভাবে আংশিক মেঘলা আকাশসহ আবহাওয়া প্রধানত শুষ্ক থাকতে পারে। এই সময়ে সারাদেশে দিনের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে এবং রাতের তাপামাত্রা সামান্য বৃদ্ধি পেতে পারে। শুক্রবার (২৫ এপ্রিল) রংপুর, ঢাকা, ময়মনসিংহ, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের দু’এক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ বিদ্যুৎ চমকানো/বৃষ্টি/বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। সারাদেশে দিনের তাপমাত্রা সামান্য হ্রাস পেতে পারে এবং রাতের তাপামাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে। শনিবার (২৬ এপ্রিল) রংপুর, ঢাকা, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের দু’এক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ বিদ্যুৎ চমকানো/বৃষ্টি/বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। এছাড়া দেশের অন্যত্র অস্থায়ীভাবে আংশিক মেঘলা আকাশসহ আবহাওয়া প্রধানত শুষ্ক থাকতে পারে। এছাড়া সারাদেশে দিনের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে এবং রাতের তাপামাত্রা সামান্য হ্রাস পেতে পারে। বর্ধিত পাঁচদিনের আবহাওয়ার অবস্থা জানিয়ে আবহাওয়া অফিস জানায়, বৃষ্টিপাতের প্রবণতা বৃদ্ধি পেতে পারে এবং তাপমাত্রা হ্রাস পেতে পারে। এদিকে আজ দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে বান্দরবানে ২১.২ ডিগ্রি সেলসিয়াস। আজ ঢাকার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ২৩.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

অর্থনীতি, আজকের সংবাদ

শহর থেকে গ্রামে অনলাইন জুয়ার রমরমা বাণিজ্য!

নিজস্ব প্রতিবেদক: অনলাইন জুয়ার আসরে কোটি টাকার অবৈধ লেনদেন হচ্ছে দেশে। অবৈধ ও বিটিআরসি অননুমোদিত অ্যান্ড্রয়েড অ্যাপে চলছে রমরমা জুয়ার বাণিজ্য। সকাল দুপুর কিংবা মধ্যরাতে মোবাইল ফোনে চলছে জুয়ার আসর। দেখে বোঝার উপায় নেই হাতে থাকা মোবাইল ফোনেই অপরাধ জগতের এক ভয়াল জগতে নিমজ্জিত তরুণ-যুবকরা। হাতে থাকা অ্যান্ড্রয়েড মোবাইল ফোন দিয়ে অখ্যাত অ্যাপের মাধ্যমে চলছে অবৈধ পথে অবৈধ অর্থ লেনদেন। নির্ভরযোগ্য সূত্র বলছে, অবৈধ এসব জুয়ার অ্যাপের মাধ্যমে প্রতিমাসে কোটি কোটি টাকার লেনদেন হচ্ছে। চাঞ্চল্যকর অনলাইন জুয়ার আসর শহর ছাড়িয়ে পৌঁছে গেছে প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চলেও। তবুও অজানা কারণে টনক নড়েনি প্রশাসনের। এ নিয়ে সচেতন মহল ও অভিভাবকদের মধ্যে বেড়েছে শঙ্কা ও মিশ্র প্রতিক্রিয়া। অনুসন্ধানে জানা গেছে, অ্যান্ড্রয়েড মোবাইল ফোনের জন্য অনুমোদিত অ্যাপ্লিকেশন পেতে গুগল প্লে স্টোর ও অ্যাপল স্টোর একমাত্র উৎস। কিন্তু অবৈধ ও বিটিআরসির অননুমোদিত অ্যান্ড্রয়েড অ্যাপ্লিকেশন ব্যবহার করে রমরমা অনলাইন জুয়ার বাণিজ্য চালিয়ে যাচ্ছে একটি সংঘবদ্ধ চক্র। এসব ক্ষতিকর অ্যাপ ব্যবহার করতে মোবাইল ফোনে বেড়েছে ভিপিএন সফটওয়্যারের ব্যবহার। এর আগে বিভিন্ন সময়ে প্রতারক চক্রটির কয়েকজন সদস্য গ্রেফতার হলেও জামিনে বেরিয়ে তারা আবারও পুরোনো অপরাধ জগতে ফিরেছে। দাপটের সঙ্গে চালিয়ে যাচ্ছে ভার্চুয়াল প্রতারণা। ইন্টারনেট ব্রাউজার থেকে সার্চ করে ক্ষতিকর অনলাইন জুয়ার অ্যাপ্লিকেশন ব্যবহার করে প্রতিদিন হাজার হাজার টাকা জুয়ায় ঢালছেন তরুণ-যুবকরা। অনেকেই মোটা টাকা খুইয়ে নিঃস্ব হয়েছেন। কেউ কেউ দেনার দায়ে হতাশাগ্রস্ত জীবন পার করছেন। বিশ্বস্ত সূত্র বলছে, অনলাইন এসব জুয়ার পেছনে তদারকির জন্য রয়েছে স্থানীয় একাধিক এজেন্ট, যারা মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে জুয়ার গ্রাহকদের কথিত আইডি তৈরি করে দেওয়ার নামে হাতিয়ে নিচ্ছেন লাখ লাখ টাকা। একজন গ্রাহক নিজের আইডি চালু করার পর অন্য কাউকে আইডি চালু করাতে পারলে পাচ্ছেন বাড়তি বোনাস। এসব কথিত বোনাস ও রাতারাতি বড়লোক হওয়ার ভুয়া স্বপ্নে প্রতারকদের ফাঁদে পা দিচ্ছেন উঠতি তরুণ, যুবকসহ নানা বয়সের মানুষ। পেশাজীবী, শ্রমজীবী ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের অনেকেই এসব জুয়ায় মেতেছেন। সূত্র বলছে, অ্যান্ড্রয়েড অ্যাপ্লিকেশন ব্যবহার করে জুয়ার মাধ্যমে কথিত উপার্জিত টাকা দেশের অনুমোদিত কোনো ব্যাংকেই লেনদেন সম্ভব নয়। যে কারণে স্থানীয় এজেন্টদের মাধ্যমেই এসব কথিত জুয়ার টাকা উত্তোলন করা হচ্ছে। ভিপিএন সফটওয়্যার ব্যবহার করে রাতভর মোবাইলে মোবাইলে চলছে রমরমা জুয়ার আসর। যে কারণে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীও কোনো কূলকিনারা করতে পারছে না। গোয়েন্দা সূত্র বলছে, অনলাইন জুয়ায় যে কথিত উপার্জন দেখানো হয়, প্রকৃতপক্ষে তা কোনো ব্যাংকিং বা অনুমোদিত আর্থিক চ্যানেলে উত্তোলন কিংবা জমা দেওয়া অসম্ভব। প্রতারক জুয়াড়ি চক্র এজেন্ট ব্যবহার করে মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে টাকা লেনদেন করে থাকে। চক্রটি কৌশলে টাকার হাত বদল ঘটায় মাত্র। তবে এসব জুয়ায় অর্জিত টাকার কোনো অস্তিত্ব অনুমোদিত আর্থিক চ্যানেলে পাওয়া যাবে না। অনলাইন জুয়ায় আসক্ত নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক তরুণ প্রতিবেদককে জানান, তিনি তিন মাস ধরে একটি অ্যান্ড্রয়েড অ্যাপ্লিকেশনের মাধ্যমে অনলাইনে জুয়া খেলছেন। জুয়ার মাধ্যমে অর্জিত টাকা কোনো ব্যাংক বা সরকার অনুমোদিত আর্থিক মাধ্যম থেকে উত্তোলন করতে পারেননি। কথিত উপার্জিত সব টাকা তিনি নির্ধারিত এজেন্টের মাধ্যমেই উত্তোলন করেছেন। অনেক সময় এজেন্টরা গ্রাহকদের সঙ্গে এ নিয়ে প্রতারণাও করে থাকেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক অপর এক যুবক বলেন, জুয়ার মাধ্যমে যে টাকা আসে তা কোনো ব্যাংক থেকে তোলা যায় না। এজেন্টের মাধ্যমে যোগাযোগ করে টাকা নির্ধারিত অ্যান্ড্রয়েড অ্যাপ্লিকেশনে এজেন্টের কথিত জুয়ার আইডিতে ট্রান্সফার করা হয়। পরে মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে এজেন্টরা এ টাকা পাঠিয়ে দেন। অনেক ক্ষেত্রেই এজেন্টরা টাকা নিয়ে উধাও হয়ে যান। জুয়ায় আসক্ত মধ্যবয়সী এক ব্যক্তি নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, জুয়া মানেই প্রতারণা। জেনে বুঝেই সাময়িক লাভের নেশায় অনেকেই মোবাইল ফোনের এসব জুয়ার ফাঁদে পড়ছে। অনেক সময় অনলাইন অ্যাপ্লিকেশনের এজেন্টরা রাতারাতি মোটা টাকা হাতিয়ে উধাও হয়ে যান। এরকম ঘটনা প্রায়ই ঘটে থাকে। যেহেতু বিষয়টি বেআইনি, তাই কেউই আইনি সহায়তা নিতে পারে না। আর এই সুযোগেই প্রতি মাসে কোটি টাকার ওপর হাতিয়ে নিচ্ছে সংঘবদ্ধ প্রতারক চক্র। জানা যায়, এ ধরনের অনলাইন জুয়ায় যারা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন, তারা নির্ভয়ে সাইবার ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন সেলে অভিযোগ করতে পারেন। অভিযোগ জানানো নিয়ে সংকোচ বা সংশয় থাকা উচিত নয়। সাইবার ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন সেল এ বিষয়টি নিয়ে তৎপর রয়েছে।

অর্থনীতি, আজকের সংবাদ

বিশ্ববাজারে সোনার দাম বাড়ছে কেন?

নিজস্ব প্রতিবেদক: গত কয়েক মাসে বিশ্ববাজারে সোনার দাম রেকর্ড পরিমাণে বেড়েছে। বাজারে অনিশ্চয়তার কারণে ব্যবসায়ীরা নিরাপদ বিনিয়োগ মনে করে সোনা কেনায় ঝোঁকার কারণেই এটা হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। আর্থিক সংকট বা অস্থির সময়ে প্রথাগতভাবেই এই মূল্যবান ধাতুকে নির্ভরযোগ্য ও দৃশ্যমান সম্পদ হিসেবে দেখা হয়।  সোনা কি সত্যিই নিরাপদ বিনিয়োগ?গত এক শতাব্দীর মধ্যে বৈশ্বিক বাণিজ্যনীতিতে অন্যতম বড় পরিবর্তন ছিল মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের শুল্ক আরোপ। এর প্রতিক্রিয়ায় সর্বশেষ প্রতি আউন্স সোনার দাম বেড়ে তিন হাজার ৩৫৭ দশমিক ৪০ ডলারে দাঁড়িয়েছে যা এখন পর্যন্ত সর্বোচ্চ। শুল্ক ও বাণিজ্য যুদ্ধ নিয়ে উদ্বেগের কারণে চলতি বছর বারবার সোনার দামে রেকর্ড ভেঙেছে। অস্থির সময়ে প্রায়ই সোনার দামে ঊর্ধ্বগতি দেখা যায়। অর্থবাজার ধসে পড়লে হঠাৎ করে সোনা কেনার হিড়িক শুরু হয়, যেখানে বিপুল সংখ্যক ক্রেতা স্বর্ণ কেনার চেষ্টা করেন। সোনা কিনছে কারা?বেলফাস্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনৈতিক ইতিহাসবিদ ড. ফিলিপ ফ্লায়ার্স বলেন, হয় সরকার, ব্যক্তিগত বিনিয়োগকারী অথবা খুচরা বিনিয়োগকারীরা সোনা কিনছেন। তিনি আরও বলেন, সাধারণ মানুষ ব্যাপকভাবে শেয়ারের মতো ইক্যুইটি ছেড়ে দিচ্ছে এবং সোনার দিকে ঝুঁকছে। এতে সোনার দাম অনেক বেড়ে যাচ্ছে। প্রথাগতভাবে আর্থিক অনিশ্চয়তার সময়ে সোনাকে ‌‌‘সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য ধাতু’ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। ২০২০ সালে করোনা মহামারির সময়ে অর্থনৈতিক মন্দা দেখা দিলে হঠাৎ করেই সোনার দাম অনেক বেড়ে যায়। তবে আর্থিক বাজারের অনিশ্চয়তা স্বর্ণকেও প্রভাবিত করতে পারে। ২০২০ সালের জানুয়ারিতে করোনা মহামারির প্রাদুর্ভাব শুরু হলে স্বর্ণের দাম হঠাৎ করে বেড়ে যায়। তবে মার্চ মাসের মধ্যেই সেই দাম আবার কমতে শুরু করে। ড. ফিলিপ ফ্লায়ার্স বলেন, এটি নিরাপদ বিনিয়োগ, তার মানে এই নয় যে এতে কোনো ঝুঁকি নেই। তবুও আর্থিক অনিশ্চয়তার সময়ে বিনিয়োগের জন্য সোনাকেই একটি নির্ভরযোগ্য মাধ্যম হিসেবে এখনও বিবেচনা করা হয়। এটা কেবল সোনার মূল্যের জন্য নয় বরং ঐতিহাসিকভাবে বিভিন্ন সংস্কৃতিতে অত্যন্ত মূল্যবান হিসেবে গণ্য হওয়ায় এটি সহজে বিনিময়যোগ্যও। প্রাচীন মিশরের তুতেনখামুনের সোনার মুখোশ থেকে শুরু করে ঘানার আসান্তে জাতির গোল্ডেন স্টুল এবং ভারতের পদ্মনাভস্বামী মন্দিরের সোনার সিংহাসন পর্যন্ত—ঐতিহাসিকভাবে ধর্মীয় ও প্রতীকী গুরুত্ব বহন করে এসেছে এই মূল্যবান ধাতু। তাই বহু মানুষ তাদের সম্পদ সংরক্ষণের জন্য সোনাকে একটি নির্ভরযোগ্য মাধ্যম হিসেবে দেখে। এতে আসলে আশ্চর্য হওয়ার মতো কিছু নেই। বাসায় থাকা সোনার গয়না বা এর তৈরি অন্যান্য সামগ্রীর মূল্য সাধারণত বৈশ্বিক অর্থবাজারের ওঠানামায় তেমন প্রভাবিত হয় না। তবে ধাতুটিতে বড় পরিমাণে বিনিয়োগ করা হলে তা বড় বড় আর্থিক প্রতিষ্ঠানের কার্যকলাপের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়তে পারে। সাম্প্রতিক সময়ে সোনার দাম বৃদ্ধির পেছনে কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর অনেক বেশি করে সোনা কেনার কারণকেই দায়ী বলে সন্দেহ করেন ড. ফ্লায়ার্স। অনিশ্চয়তার সময়ে রিজার্ভ শক্তিশালী করতে বিভিন্ন কেন্দ্রীয় ব্যাংক শেয়ারে বিনিয়োগ থেকে সরে এসে প্রচুর পরিমাণে সোনা কেনে। এর অর্থ দাঁড়াচ্ছে মূল্যবান এই ধাতুতে বিনিয়োগ ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। ড. ফ্লায়ার্স সোনার দাম বাড়বে এই আশায় বিনিয়োগ করাটা এখনও ঝুঁকিপূর্ণ কৌশল। কারণ একবার বাজারে স্বস্তি চলে এলে এবং বিভিন্ন দেশের সরকার স্বাভাবিক অবস্থানে ফিরে এলে, মানুষ আবার সোনা কেনা কমিয়ে দেবে। তিনি বলেন, আমি বলব সোনা বিনিয়োগ করলে সেটা দীর্ঘমেয়াদে করতে হয়।

Scroll to Top