২৯শে অক্টোবর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

Author name: Nazrul Islam

আজকের সংবাদ, ফরিদগঞ্জ, স্বাস্থ্য

ফরিদগঞ্জ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে রোগীর কাছে ডিমান্ড করে ফি নেওয়ার অভিযোগ: ভিডিও ভাইরাল 

মো. ইয়াছিন পালোয়ান : চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগে চিকিৎসাসেবা নিতে গিয়ে রোগীর স্বজনের কাছ থেকে ফি নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে কর্তব্যরত স্বাস্থ্যকর্মী নূর হোসেনের বিরুদ্ধে। রোগীর ভাঙা পায়ের প্লাস্টার-সংক্রান্ত সেবা দিতে এক হাজার টাকা দাবি করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন রোগীর ছেলে মোস্তফা। এ ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিও নিয়ে এলাকায় আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রায় ছয় লাখ মানুষের চিকিৎসাসেবার জন্য ফরিদগঞ্জ উপজেলায় রয়েছে ৫০ শয্যাবিশিষ্ট সরকারি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স। উপজেলার বিভিন্ন এলাকার মানুষ এখানে চিকিৎসাসেবা নিতে আসেন। অভিযোগকারী মোস্তফা জানান, গত ৮ অক্টোবর বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় তিনি তার বাবাকে চিকিৎসার জন্য ফরিদগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে বাবার ভাঙা পায়ের প্লাস্টার-সংক্রান্ত কাজের জন্য কর্তব্যরত নূর হোসেন তার কাছে এক হাজার টাকা দাবি করেন বলে অভিযোগ করেন তিনি। পরে মোস্তফা ৫০০ টাকা দিতে চাইলে তা গ্রহণে আপত্তি জানানো হয়। মোস্তফার দাবি, এ সময় কর্তব্যরত নূর হোসেন তাকে বলেন, হাতের প্লাস্টার হলে ৫০০ টাকা নেওয়া যেত, কিন্তু পায়ের প্লাস্টারের ক্ষেত্রে ৫০০ টাকা নেওয়া যাবে না।  এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে তৈরি হওয়া একটি ভিডিও পরবর্তীতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। ভিডিওটি ঘিরে স্থানীয়দের মধ্যে আলোচনা শুরু হয়। তবে সচেতন মহলের দাবি প্লাস্টার-সংক্রান্ত ওই সেবার জন্য সরকারি কোনো নির্ধারিত ফি রয়েছে কী না; থাকলে তার পরিমাণ কত তা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্তের মাধ্যমে স্পষ্ট করা প্রয়োজন। অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে নূর হোসেনের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তিনি কোনো বক্তব্য দিতে রাজি হননি। এ বিষয়ে ফরিদগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ আসাদুজ্জামান জুয়েল বলেন, বিষয়টি জানতে পেরেছি। তদন্তসাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

আজকের সংবাদ, সর্বশেষ

কুমারখালীতে গভীর রাতে শতবর্ষী মন্দিরের ৪ প্রতিমা ভাঙচুরের অভিযোগ

ফরিদগঞ্জ টাইমস ডেস্ক :  কুষ্টিয়ার কুমারখালীতে শতবর্ষী মন্দিরের গণেশ, লক্ষ্মী, সিংহসহ অন্তত চারটি প্রতিমা ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে দুর্বৃত্তদের বিরুদ্ধে। বৃহস্পতিবার গভীর রাতে পৌরসভার ৯নং ওয়ার্ডের খয়েরচারা মাতৃ সার্বজনীন পূজা মন্দিরে এ ঘটনা ঘটে। শুক্রবার (৯ অক্টোবর) সকালে বিষয়টি জানাজানি হলে প্রশাসন, পুলিশ, পূজা উদযাপন পরিষদের নেতা ও উৎসুক জনতা ভিড় করেন। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, খয়েরচারা মাতৃমন্দিরে দুর্গাপূজা উপলক্ষে প্রতিমা তৈরির কাজ চলছিল। বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত ২টার দিকে কাজ শেষ করেন কারিগর অধীর বিশ্বাস। এসময় তার সঙ্গে মন্দিরের সাধারণ সম্পাদক কৌশিক বিশ্বাসসহ আরও কয়েকজন ছিলেন। এরপর সকাল ৬টার দিকে মন্দির কমিটির লোকজন দেখতে পান মন্দিরের বাঁশের বেড়া ভাঙা। ভেতরে গণেশ, লক্ষ্মী, সিংহসহ চারটি প্রতিমায় ভাঙচুরের ক্ষত। সেখানে নেই সিসিটিভি কিংবা নিরাপত্তা বলয়। মন্দির কমিটির সাধারণ সম্পাদক কৌশিক বিশ্বাস বলেন, “রাত ২টার দিকে কাজ শেষে সবাই বাড়ি চলে যায়। সকাল ৬টার দিকে এসে দেখি গণেশ, লক্ষ্মী, সিংহসহ চারটি প্রতিমা ভাঙা। আর্থিক সংকটের কারণে এখনও সিসিটিভি স্থাপন করা হয়নি। পূর্বশত্রুতার জেরে কেউ হামলা চালিয়েছে। আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক আইনজীবী শংকর মজুমদার বলেন, “সমাজের মধ্যে এক ধরনের অসুর রয়েছে। তারা উৎসব বিঘ্নিত করতে এবং পরিবেশ নষ্ট করতে এমন ভাঙচুর চালিয়েছে। প্রশাসন দোষীদের চিহ্নিত করে ব্যবস্থা নিক।” উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. লুৎফর রহমান বলেন, “সরকারকে প্রশ্নবিদ্ধ করার জন্য এক ধরনের কুচক্রী মহল রাতের অন্ধকারে এমন অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটিয়েছে। শারদীয় দুর্গোৎসব নির্বিঘ্ন করতে বিএনপির নেতাকর্মী ও প্রশাসন সর্বদা সতর্ক আছে।” কুমারখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জামাল উদ্দিন বলেন, “মন্দির কমিটি এবং মন্দিরের জমি নিয়ে পূর্ব বিরোধ আছে বলে জেনেছি। খবর পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করা হয়েছে। সিসিটিভি না থাকায় দুর্বৃত্তরা সুযোগ নিয়ে থাকতে পারে। বিষয়টি খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” কুষ্টিয়া জেলা পুলিশের মুখপাত্র অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ফয়সাল মাহমুদ বলেন, “ঘটনাটি জানতে পেরে সেখানে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

আজকের সংবাদ, ফিচার, সম্পাদক

সংবাদ ও ইতিহাসের কলম কার হাতে?

নাসির উদ্দিন পাঠান :  সংবাদ ও ইতিহাস—দুটিই সত্যকে ধরে রাখার কথা। কিন্তু যখন কলমের নিয়ন্ত্রণ চলে যায় ক্ষমতাশীনদের হাতে, তখন সত্যের সঙ্গে ক্ষমতার স্বার্থের সংঘাত অনিবার্য হয়ে ওঠে। ইতিহাস বিজয়ীদের হাতে লেখা হয়—এ কথাটি বহু পুরোনো। কথাটির মধ্যে শুধু রাজনৈতিক ব্যঙ্গ নেই; এর ভেতরে রয়েছে ইতিহাস রচনার একটি কঠিন বাস্তবতা। যে পক্ষ রাষ্ট্রের ক্ষমতায় থাকে, তার হাতে থাকে সরকারি নথি, প্রশাসনিক বিবরণ, প্রচারযন্ত্র এবং জনমত প্রভাবিত করার সুযোগ। ফলে একটি ঘটনার কোন অংশটি সামনে আসবে, কোন অংশটি আড়ালে থাকবে এবং কোন ব্যাখ্যাটি ‘সরকারি সত্য’ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হবে—তার ওপর ক্ষমতার প্রভাব থাকতেই পারে। সংবাদের ক্ষেত্রেও একই বাস্তবতা দেখা যায়। একটি ঘটনা ঘটল। একজন সাংবাদিক সেটি সংবাদ হিসেবে প্রকাশ করলেন। কিন্তু সেই সংবাদে কোন বক্তব্য থাকবে, কার বক্তব্যকে শিরোনাম করা হবে, কোন তথ্যটি গুরুত্ব পাবে এবং কোন তথ্যটি বাদ যাবে—এসব সিদ্ধান্তের মধ্য দিয়েই তৈরি হয় একটি ‘বয়ান’। আর সেই বয়ান যদি বারবার একই দিক থেকে মানুষের সামনে উপস্থাপন করা হয়, একসময় সেটিই জনমানসে সত্যের একমাত্র সংস্করণ হয়ে উঠতে পারে।  ক্ষমতাশীনদের সবচেয়ে বড় শক্তি এখানেই—তারা শুধু রাষ্ট্র পরিচালনা করে না, অনেক সময় রাষ্ট্রের ঘটনাগুলোর ব্যাখ্যাও নির্ধারণ করার চেষ্টা করে। একটি গণআন্দোলনকে কেউ বলতে পারে ‘জনগণের অধিকার আদায়ের সংগ্রাম’, আবার ক্ষমতাসীন পক্ষ সেটিকে বলতে পারে ‘আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি’। একই ঘটনা, কিন্তু দুই ব্যাখ্যা। কোন ব্যাখ্যাটি ইতিহাসে টিকে থাকবে, তা অনেক সময় নির্ভর করে কে নথি তৈরি করছে, কে সংবাদ প্রচার করছে এবং কে ক্ষমতায় আছে তার ওপর। বাংলাদেশের ইতিহাসেও বিভিন্ন রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর অতীতের ঘটনা ও রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বকে মূল্যায়নের ক্ষেত্রে দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন আমরা দেখেছি। পৃথিবীর অন্য দেশেও একই প্রবণতা রয়েছে। ক্ষমতার পালাবদলের সঙ্গে সঙ্গে পাঠ্যপুস্তক, সরকারি বক্তব্য, স্মৃতিচর্চা এবং রাজনৈতিক ইতিহাসের ভাষ্যও অনেক সময় পরিবর্তিত হয়েছে। কিন্তু এখানেই সাংবাদিকতা ও ইতিহাসচর্চার সবচেয়ে বড় পরীক্ষা।  সাংবাদিকের দায়িত্ব কোনো সরকারের মুখপাত্র হওয়া নয়। সাংবাদিকের কাজ হলো প্রশ্ন করা। সরকারি বক্তব্য প্রকাশ করা প্রয়োজন, কিন্তু তার পাশাপাশি সেই বক্তব্যের সত্যতা যাচাই করাও প্রয়োজন। রাষ্ট্র যা বলছে, তার বিপরীত বক্তব্য কী? সরকারি নথির বাইরে সাধারণ মানুষের অভিজ্ঞতা কী? কোনো সিদ্ধান্তের ফলে কারা লাভবান হয়েছে, আর কারা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে? যে মানুষটি কথা বলার সুযোগ পাচ্ছে না, তার বক্তব্য কী? এসব প্রশ্ন না করলে সংবাদ হয়তো প্রকাশিত হবে, কিন্তু সত্যের অনুসন্ধান অসম্পূর্ণ থেকে যাবে। আর ইতিহাসবিদের দায়িত্ব আরও দীর্ঘমেয়াদি। কারণ সংবাদ আজকের জন্য, কিন্তু ইতিহাস আগামী প্রজন্মের জন্য। আজকের একটি ভুল বা একপেশে বয়ান আগামী দিনের মানুষের কাছে একটি পুরো সময়কাল সম্পর্কে ভুল ধারণা তৈরি করতে পারে।তবে আশার জায়গাটিও এখানেই। ক্ষমতা ইতিহাসের একটি সংস্করণ লিখতে পারে, কিন্তু সব সংস্করণ মুছে ফেলতে পারে না।  একজন প্রত্যক্ষদর্শীর স্মৃতি, পুরোনো সংবাদপত্র, ব্যক্তিগত চিঠি, ছবি, ভিডিও, আদালতের নথি, সরকারি দলিল, গবেষণাপত্র—সবকিছু মিলিয়ে ভবিষ্যতের গবেষকরা একদিন একটি ঘটনার নতুন পাঠ তৈরি করতে পারেন। সময়ের সঙ্গে অনেক চাপা পড়া সত্যও সামনে আসে। তাই ইতিহাসকে শুধু ‘কে জিতেছিল’ দিয়ে বিচার করা বিপজ্জনক। জানতে হবে—কে কী হারিয়েছিল, কারা কথা বলতে পারেনি, কারা ইতিহাসের পাতায় জায়গা পায়নি এবং কেন পায়নি। একইভাবে সংবাদ পড়ার সময়ও পাঠকের দায়িত্ব আছে। সংবাদপত্রে ছাপা হয়েছে বলেই সবকিছু সত্য ধরে নেওয়া যেমন ঠিক নয়, তেমনি নিজের রাজনৈতিক বিশ্বাসের সঙ্গে মিলে গেলেই কোনো সংবাদকে সত্য বলে মেনে নেওয়াও বিপজ্জনক। একজন সচেতন পাঠককে তাই শুধু সংবাদ পড়লে হবে না; তাকে সংবাদ পড়তে জানতে হবে। কারণ শিরোনামের বাইরেও সত্য থাকে। সরকারি বক্তব্যের বাইরেও সত্য থাকে। বিরোধী দলের বক্তব্যের বাইরেও সত্য থাকে। এমনকি সাংবাদিকের প্রতিবেদনের বাইরেও কখনো কখনো আরও বড় বাস্তবতা লুকিয়ে থাকে। গণতন্ত্রে ক্ষমতার পরিবর্তন স্বাভাবিক। আজ যারা ক্ষমতায়, কাল তারা বিরোধী দলে যেতে পারে। আজ যারা বিরোধী, কাল তারা রাষ্ট্র পরিচালনা করতে পারে। কিন্তু সংবাদমাধ্যম ও ইতিহাসের দায়িত্ব কোনো পক্ষের সঙ্গে ক্ষমতার পালাবদল করা নয়। তাদের দায়িত্ব সত্যের সঙ্গে থাকা। ক্ষমতাশীনরা নিজেদের মতো করে সংবাদ লিখতে চাইবে, নিজেদের মতো করে ইতিহাসও ব্যাখ্যা করবে—এটি নতুন কোনো ঘটনা নয়। কিন্তু একটি স্বাধীন সমাজের শক্তি হলো, সেখানে একাধিক বয়ান থাকবে, প্রশ্ন করার সুযোগ থাকবে এবং শেষ পর্যন্ত তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে সত্য যাচাই করার সুযোগ থাকবে। কারণ ইতিহাস শুধু ক্ষমতাশীনদের লেখা কাহিনি নয়। ইতিহাস হলো সময়ের সাক্ষ্য। আর সেই সাক্ষ্যের সবচেয়ে বড় বিচারক—সময় নিজেই। আজকের ক্ষমতার কলম হয়তো একটি গল্প লিখবে। কিন্তু আগামী দিনের গবেষক, সাংবাদিক ও মানুষ সেই গল্পের পাশে আরেকটি প্রশ্ন লিখে দিতে পারে—“এটাই কি পুরো সত্য?” লেখক: গণমাধ্যমকর্মী, ঢাকা।

আজকের সংবাদ, জনদুর্ভোগ, ফরিদগঞ্জ

ফরিদগঞ্জ বাজারে রবি ও বৃহস্পতিবার ভারী যানবাহন চলাচল নিষিদ্ধ

মো. ইয়াছিন পালোয়ান :  চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জ বাজার এলাকায় যানজট নিয়ন্ত্রণ ও জনসাধারণের চলাচল স্বাভাবিক রাখতে সপ্তাহের দুই দিন ভারী যানবাহন চলাচল নিষিদ্ধ করেছে ফরিদগঞ্জ পৌরসভা। এ বিষয়ে বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) দিনভর বাজার এলাকায় মাইকিং করে ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষকে অবহিত করা হয়েছে। এর আগে বুধবার (৭ অক্টোবর) ফরিদগঞ্জ পৌর প্রশাসক মো. মেহেদী হাসান মানিক স্বাক্ষরিত এক জরুরি বিজ্ঞপ্তিতে এ নির্দেশনা জারি করা হয়। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, প্রতি রবিবার ও বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত ফরিদগঞ্জ বাজার এলাকায় কোনো ধরনের পণ্যবাহী ট্রাক ও ভারী যানবাহনের প্রবেশ-বাহির এবং পণ্য লোড-আনলোড সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ থাকবে। এছাড়া বাজারের ফুটপাত দখল করে অবৈধ দোকানপাট স্থাপন এবং ফুটপাতে যেকোনো ধরনের মালামাল রাখা ও বিক্রি সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এ ধরনের কার্যক্রমের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ী, আড়তদার, ডিলার ও ড্রাইভারদের দায়ী থাকতে হবে বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়। পৌরসভার নির্দেশনা অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলেও বিজ্ঞপ্তিতে সতর্ক করা হয়েছে। পৌরসভার এ উদ্যোগে বাজার এলাকায় যানজট হ্রাসের পাশাপাশি পথচারীদের চলাচল আরও স্বাভাবিক হবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

আজকের সংবাদ, চাঁদপুর, সর্বশেষ

চাঁদপুর আল-আমিন একাডেমী স্কুল এন্ড কলেজের শিক্ষক সমাবেশ

ফরিদগঞ্জ টাইমস ডেস্ক : চাঁদপুর আল-আমিন একাডেমী স্কুল এন্ড কলেজের গর্ভনিং বডির সভাপতি ও আল-আমিন সোসাইটির চেয়ারম্যান মো. মোবারক হোসেন বলেছেন, “সৎ ও যোগ্য নাগরিক তৈরী করা শিক্ষার প্রধান উদ্দেশ্য। যোগ্য ও দক্ষ সুনাগরিক গড়তে একাডেমীর শিক্ষকগণকে নিরলসভাবে কাজ করতে হবে।” তিনি বুধবার (৭ অক্টোবর) বিকেলে আল-আমিন একাডেমীর স্কুল এন্ড কলেজের শিক্ষক সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্য প্রদানকালে এ কথা বলেন। প্রতিষ্ঠানের মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত শিক্ষক সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন একাডেমীর অধ্যক্ষ মো. সাইফুল ইসলাম। বিশেষ অতিথি হিসাবে বক্তব্য রাখেন গর্ভনিং বডির সদস্য মাওলানা বিল্লাল হোসাইন মিয়াজী, গর্ভনিং বডির সদস্য ও আল-আমিন সোসাইটির সেক্রেটারি এডভোকেট শাহজাহান মিয়া।  উপস্থিত ছিলেন গর্ভনিং বডির সদস্য এডভোকেট শাহজাহ খান, সহকারী প্রধান শিক্ষক মো. ফারুকুল ইসলাম, ছাত্রী শাখার ইনচার্জ ফারজানা আক্তার ইমা, গুনরাজদী শাখার ইনচার্জ নাছির উদ্দিন, বাবুরহাট শাখার ইনচার্জ আব্দুল আউয়াল। সভা পরিচালনা করেন একাডেমীর ভাইস প্রিন্সিপাল অধ্যাপক রুহুল আমিন। প্রধান অতিথির বক্তব্যে মো. মোবারক হোসেন আরও বলেন, “আল-আমিন একাডেমী নিয়ে গভীর ষড়যন্ত্র ও চক্রান্ত চলছে। কোনো ষড়যন্ত্রই একাডেমীর আদর্শিক শিক্ষাব্যবস্থা ধ্বংস করতে পারবে না। একাডেমীর সুনাম ও ঐতিহ্য ধরে রাখতে সকল শিক্ষক-শিক্ষিকাগণকে সততা ও দক্ষতার সাথে কাজ করতে হবে। সময়জ্ঞান ও নিয়মানুবর্তিতা অবশ্যই মেনে চলতে হবে। শিক্ষার্থীগনের কাছে শিক্ষকগণকে অনুসরণীয় ও অনুকরণীয় হতে হবে। একাডেমীর শিক্ষার মান উন্নয়নে আমাদের সকলকে আপোষহীন ভূমিকা পালন করতে হবে। সকল পরীক্ষায় একাডেমীর ফলাফল আরও ভালো করতে হবে। বাংলাদেশের এক নম্বর সেরা প্রতিষ্ঠান হিসাবে একাডেমীকে গড়ে তুলতে হবে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে খুব বেশি ভালোবাসতে হবে। প্রতিষ্ঠানের সুখে-দুঃখে সকলকে একযোগে কাজ করতে হবে।”  তিনি আরও বলেন, “১৯৭৭ সালে চাঁদপুরের সমাজ হিতোষী ও শিক্ষানুরাগী ব্যক্তিগণ দেশপ্রেমিক নাগরিক তৈরির লক্ষে আল-আমিন সোসাইটি প্রতিষ্ঠা করেন। সোসাইটির মাধ্যমে ১৯৭৮ সালে আল-আমিন একাডেমী প্রতিষ্ঠিত হয়। দীর্ঘ ৪৮ বছর যাবত আল-আমিন সোসাইটি আল-আমিন একাডেমী পরিচালনা করে আসছে। প্রসঙ্গত ২০১৯ সালে আওয়ামী ফ্যাসিবাদ আমলে তৎকালীন শিক্ষামন্ত্রী বেআইনিভাবে আল-আমিন একাডেমীর গর্ভনিং বডি বাতিল করে ৪ বছর প্রতিষ্ঠানের শিক্ষাব্যবস্থা ধ্বংস করে। জুলাই বিপ্লবের পর আল-আমিন সোসাইটি একাডেমীকে ধ্বংস্তুপের ওপর নৈতিক ভিত্তিতে দাঁড় করানোর চেষ্টা চালিয়ে ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করে। একাডেমীকে মানসম্মত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পরিণত করার জন্য গর্ভনিং বডি, শিক্ষক-শিক্ষিকাগণ অক্লান্ত পরিশ্রম করে যাচ্ছে।”  প্রধান অতিথি তার বক্তব্যে আরও জানান, ২০১৯ সালের আওয়ামী ফ্যাসিবাদী আমলের চিঠির বরাত দিয়ে কুমিল্লা শিক্ষাবোর্ড ২০২৬ সালের ২০ সেপ্টেম্বর আল-আমিন একাডেমীর গর্ভনিং বডি বাতিলের চিঠি দেয়। তৎপ্রেক্ষিতে আল-আমিন সোসাইটির পক্ষ থেকে মহামান্য হাইকোর্টে কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডের চিঠির বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে রীট পিটিশান-১৩৭৯১/২০২৬ইং দায়ের করে। বিগত ২৭ সেপ্টেম্বর তারিখে দো-তরফা শুনানী অন্তে মহামান্য হাইকোর্ট কুমিল্লা শিক্ষাবোর্ডের কার্যকারিতা স্থগিত আদেশ ও রুল জারি করেন। পরবর্তীতে সরকার পক্ষ চেম্বার জজ আদালতে লিভ-টু আপীল ৯৪২/২০২৬ইং দায়ের করার পর ২০২৬ সালের অক্টোবর মাসের ১ তারিখে মহামান্য চেম্বার জজ আদালত সরকার পক্ষের লিভ-টু-আপীল খারিজ আদেশ প্রদান করে। ফলে আল-আমিন সোসাইটি কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত ও পরিচালিত আল-আমিন একাডেমী স্কুল এন্ড কলেজের গর্ভনিং বডি বহাল থাকে। আল-আমিন সোসাইটি কর্তৃক আল-আমিন একাডেমী পরিচালনায় আইনগত আর কোনো বাধা নেই।” 

আজকের সংবাদ, চাঁদপুর, শিক্ষা ও সাহিত্য

হাইমচরে দুদকের সহযোগিতায় শিক্ষার্থীদের মাঝে শিক্ষা উপকরণ বিতরণ

মো. আক্তার হোসেন, হাইমচর প্রতিবেদক :  চাঁদপুরের হাইমচরে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) চাঁদপুর অঞ্চলের সহযোগিতায় এবং হাইমচর উপজেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির আয়োজনে দরিদ্র ও মেধাবী শিক্ষার্থীদের মাঝে শিক্ষা উপকরণ বিতরণ করা হয়েছে। একই সঙ্গে শিক্ষার্থীদের মধ্যে মাদক, ইভটিজিং, বাল্যবিবাহ ও দুর্নীতি প্রতিরোধে সচেতনতামূলক আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। বুধবার (৭ অক্টোবর) বেলা ১১টায় উপজেলার মধ্যচর সাহেবগঞ্জ বাজার সংলগ্ন মোল্লা কান্দি যুব সমাজকল‍্যাণ সংঘ নুরুল হক মঞ্জিলা জুনিয়র হাই স্কুল (এমজেএসকেএনএলএম জুনিয়র হাইস্কুল) এর শ্রেণিকক্ষে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এতে আদর্শ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরাও অংশ নেয়। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন হাইমচর সরকারি মহাবিদ্যালয়ের সাবেক অধ্যক্ষ ও হাইমচর উপজেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সভাপতি মো. মনোয়ার হোসেন মোল্লা, নীলকমল উচ্চ বিদ্যালয়ের সাবেক প্রধান শিক্ষক ও উপজেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সাধারণ সম্পাদক মো. বশির উল্লাহ, কমিটির সহ-সভাপতি মো. মোশারফ হোসেন এবং সদস্য স্বপন কুমার সরকার। এছাড়া আদর্শ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক এমরান হোসেন, এমজেএসকেএনএলএম জুনিয়র হাইস্কুলের প্রধান শিক্ষক মো. আনোয়ারুল আজিম, সমাজসেবক আব্দুল হক মোল্লা, সমাজকর্মী মহসিন উদ্দিন দুদু মিয়া। অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন সহকারী শিক্ষক ফারুকুল ইসলাম। আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, শিক্ষার্থীদের শুধু পাঠ্যবইয়ের জ্ঞান অর্জন করলেই হবে না; পাশাপাশি নৈতিকতা, সামাজিক মূল্যবোধ ও দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে নিজেদের গড়ে তুলতে হবে। মাদক, বাল্যবিবাহ, ইভটিজিং ও দুর্নীতির মতো সামাজিক সমস্যার বিরুদ্ধে সবাইকে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানান তারা। উপজেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সাধারণ সম্পাদক মো. বশির উল্লাহ বলেন, বাল্যবিবাহ বন্ধে অভিভাবকদের আরও সচেতন হতে হবে। কোনো পরিবারে বাল্যবিবাহের পরিস্থিতি তৈরি হলে অভিভাবকদের ডেকে বোঝানোর মাধ্যমে বিষয়টি সমাধানের উদ্যোগ নিতে হবে। তিনি মাদক বিক্রি ও সেবনের বিরুদ্ধে এলাকার মুরুব্বিদের মাধ্যমে সামাজিকভাবে প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহ্বান জানান। তিনি আরো বলেন, যারা মাদক বিক্রি করে এবং সেবন করে– গোপনে ৩৩৩ ফোন দিয়ে নিজের পরিচয় গোপন রেখে তাদেরকে ধরিয়ে দিন।  উপজেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সভাপতি মো. মনোয়ার হোসেন মোল্লা শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বলেন, তোমরাই আগামী দিনের ভবিষ্যৎ। তোমরা পড়াশোনা করে এই চর থেকে দেশের গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় যাবে, এটাই আমাদের প্রত্যাশা।  চরাঞ্চলে মাদকের বিস্তার রয়েছে। তাই শিক্ষার্থীদের মাদকের কাছাকাছি না যাওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, মাদক একজন শিক্ষার্থীর জীবন ধ্বংস করে দিতে পারে। একই সঙ্গে বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে বিদ্যালয়ে অভিভাবক সমাবেশ করে সচেতনতা তৈরির ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি। ইভটিজিং প্রতিরোধেও শিক্ষক, সমাজসেবী ও শিক্ষার্থীদের সম্মিলিতভাবে ভূমিকা রাখার আহ্বান জানানো হয়। মেয়েরা যাতে বিদ্যালয়ে আসা-যাওয়ার পথে কোনো ধরনের হয়রানির শিকার না হয়, সেদিকেও সবাইকে নজর রাখার কথা বলেন তিনি। আলোচনা শেষে বিভিন্ন শ্রেণির দরিদ্র ও মেধাবী শিক্ষার্থীদের হাতে বিভিন্ন ধরনের শিক্ষা উপকরণ তুলে দেওয়া হয়। আয়োজকরা জানান, শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় উৎসাহিত করার পাশাপাশি তাদের মধ্যে সামাজিক ও নৈতিক মূল্যবোধ জাগ্রত করা এবং মাদক, বাল্যবিবাহ, ইভটিজিং ও দুর্নীতির মতো সামাজিক ব্যাধির বিরুদ্ধে সচেতনতা তৈরিই এ আয়োজনের মূল উদ্দেশ্য।

আজকের সংবাদ, চাঁদপুর, প্রধান সংবাদ

চাঁদপুরের আলোচিত চেয়ারম্যান সেলিম খান ও তার চিত্রনায়ক ছেলের মরদেহ উত্তোলন

চাঁদপুর প্রতিবেদক :  আদালতের নির্দেশে ময়নাতদন্তের জন্য চাঁদপুরের আলোচিত সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান সেলিম খান ও তার ছেলে চিত্রনায়ক শান্ত খানের মরদেহ কবর থেকে উত্তোলন করা হয়েছে। বুধবার (৭ অক্টোবর) সকালে সদর উপজেলার লক্ষ্মীপুর মডেল ইউনিয়নের খান বাড়ির পারিবারিক কবরস্থান থেকে প্রথমে সেলিম খানের মরদেহ এবং পরে তার ছেলে শান্ত খানের মরদেহও উত্তোলন করা হয়। এসময় জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট প্রত্যয় হাশেম এবং মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা উপ-পরিদর্শক (এসআই) চাঁদ মিয়া উপস্থিত ছিলেন। চাঁদপুর সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফয়েজ আহমেদ জানান, আদালতের নির্দেশনা পাওয়ার পর ময়নাতদন্তের জন্য জেলা প্রশাসকের কাছে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগের আবেদন করা হয়। জেলা প্রশাসকের অনুমোদনের পর আদালতের নির্দেশে মরদেহ উত্তোলনের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়েছে। সেলিম খান চাঁদপুর সদর উপজেলার লক্ষ্মীপুর মডেল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও কার্যক্রম নিষিদ্ধ ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি ছিলেন। রাজনীতির পাশাপাশি তিনি চলচ্চিত্র প্রযোজনা ও পরিবেশনা প্রতিষ্ঠান ‘শাপলা মিডিয়া’র স্বত্বাধিকারী ছিলেন। তার ছেলে শান্ত খান চলচ্চিত্রে অভিনয় করতেন। সেলিম খানের বিরুদ্ধে চাঁদপুরের পদ্মা-মেঘনা নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন, চাঁদপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের জমি অধিগ্রহণসহ বিভিন্ন বিষয়ে অনিয়মের অভিযোগ ছিল। তার বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) ও রাজস্ব ফাঁকিসহ একাধিক মামলা থাকার কথাও জানা যায়। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতনের দিন সন্ধ্যায় এলাকা ছাড়ার চেষ্টা করার সময় জনতার পিটুনিতে সেলিম খান ও তার ছেলে শান্ত খান নিহত হন। এ ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে চাঁদপুর সদর মডেল থানায় মামলা দায়ের করে। ওই মামলার তদন্ত ও পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে আদালত কবর থেকে মরদেহ দুটি উত্তোলন করে ময়নাতদন্তের নির্দেশ দেন। 

আজকের সংবাদ, ফরিদগঞ্জ, শিক্ষা ও সাহিত্য

জাতীয় শিক্ষা সপ্তাহে শ্রেষ্ঠ শিক্ষকসহ ১৬ ইভেন্টে প্রথম গৃদকালিন্দিয়া কলেজ

গৃদকালিন্দিয়া কলেজ ক্যাম্পাস প্রতিবেদক :  জাতীয় শিক্ষা সপ্তাহ–২০২৬ এ চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জ উপজেলায় শ্রেষ্ঠ কলেজ নির্বাচিত হয়েছে গৃদকালিন্দিয়া হাজেরা হাসমত ডিগ্রি কলেজ। একইসঙ্গে শ্রেষ্ঠ শিক্ষকসহ মোট ১৬টি ইভেন্টে প্রথম স্থান অর্জন করে প্রতিষ্ঠানটি উপজেলার শিক্ষা ও সহশিক্ষা কার্যক্রমে অনন্য সাফল্যের স্বাক্ষর রেখেছে। মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) ফরিদগঞ্জ উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসের পক্ষ থেকে শ্রেষ্ঠ কলেজ, শ্রেষ্ঠ শিক্ষক ও বিভিন্ন ইভেন্টে প্রথম স্থান অর্জনকারীদের হাতে সম্মাননা স্মারক তুলে দেওয়া হয়। পরে কলেজ প্রাঙ্গণে শ্রেষ্ঠ কলেজের সম্মাননা স্মারক নিয়ে শিক্ষকরা ফটোসেশনে অংশ নেন। এর আগে বিভিন্ন ইভেন্টে প্রথম স্থান অর্জনকারী শিক্ষার্থীদের হাতে সম্মাননা ও পুরস্কার তুলে দেন কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মো. মফিজুল ইসলাম ভূঁইয়া। জাতীয় শিক্ষা সপ্তাহে গৃদকালিন্দিয়া হাজেরা হাসমত ডিগ্রি কলেজের সমাজকর্ম বিভাগের প্রভাষক মো. আবদুল বাতেন শ্রেষ্ঠ শিক্ষক নির্বাচিত হয়েছেন।  এছাড়া বিভিন্ন ইভেন্টে প্রথম স্থান অর্জনকারীরা হলেন ক্বেরাতে জান্নাতুল ফারিয়া, হামদে সুমাইয়া আক্তার মিম, নাতে সুমাইয়া আক্তার মিম, বাংলা রচনায় জান্নাতুল ফারিয়া, ইংরেজি রচনায় সাহিদা আক্তার, কবিতা আবৃত্তিতে আরিফা আক্তার, দেশাত্মবোধক গানে রাবেয়া আক্তার, রবীন্দ্র সংগীতে সানজিদা আক্তার, নজরুল সংগীতে মাহিদ হাসান, নির্ধারিত বক্তব্যে আয়েশা আক্তার জুই, লোক সংগীতে সানজিদা আক্তার, তাৎক্ষণিক অভিনয়ে ইসরাত জাহান আফরিন, উপস্থিত বক্তব্যে আয়েশা আক্তার জুঁই এবং দেয়াল পত্রিকায় ইসরাত জাহান আফরিন ও তার দল। কলেজের বিতর্ক, সাহিত্য ও সংস্কৃতি ক্লাবের আহ্বায়ক সহকারী অধ্যাপক গৌরী রানী সাহা বলেন, ফরিদগঞ্জ উপজেলার অন্যতম বৃহৎ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান হিসেবে একাডেমিক শিক্ষার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের সহশিক্ষা কার্যক্রমে দক্ষ করে গড়ে তুলতে প্রতিষ্ঠানটি নিয়মিত প্রশিক্ষণ ও নানা কার্যক্রম পরিচালনা করছে। এরই ধারাবাহিকতায় জাতীয় শিক্ষা সপ্তাহে এই সাফল্য এসেছে। কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মো. মফিজুল ইসলাম ভূঁইয়া বলেন, এই অর্জন শুধু একটি বড় প্রতিষ্ঠানের একক সাফল্য নয়। এর পেছনে শিক্ষক-শিক্ষার্থী, অভিভাবক, সাবেক শিক্ষার্থী ও প্রতিষ্ঠানের শুভাকাঙ্ক্ষীদের সম্মিলিত সহযোগিতা ও অনুপ্রেরণা রয়েছে। তিনি এই সাফল্যের জন্য সংশ্লিষ্ট সকলের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। এসময় উপস্থিত ছিলেন শিক্ষক পরিষদের সাধারণ সম্পাদক সহকারী অধ্যাপক সঞ্জয় ভৌমিক, ইংরেজি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক কে কে এম মাসুম, আইসিটি বিভাগের সরকারী অধ্যাপক পরেশ চন্দ্র দাস, পদার্থ বিজ্ঞানের বিভাগের সরকারি অধ্যাপক সুরেশ্বর বনিক, উদ্ভিদবিজ্ঞান বিভাগের সহকারী অধ্যাপক শাহনাজ বেগম, ফরিদুল ইসলাম, ব্যবস্থাপনা বিভাগের সরকারী অধ্যাপক আব্দুল হক, গণিত বিভাগের সহকারী অধ্যাপক অশোক কুমার সাহা, রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের সহকারী অধ্যাপক শাহানারা আক্তার, সমাজকর্ম বিভাগের সহকারী অধ্যাপক দিলরুবা আক্তার, অর্থনীতি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক নাসরিন আক্তার, মার্কেটিং বিভাগের প্রভাষক জসীম উদ্দিন, হিসাব বিজ্ঞান বিভাগের প্রভাষক নাজির হোসেন, বাংলা বিভাগের  প্রভাষক মার্জিয়া আক্তার, ইতিহাস বিভাগের প্রভাষক ফারজানা আক্তার-সহ আরও অনেকে।

আজকের সংবাদ, চাঁদপুর

হাইমচরে ফার্মেসিতে অভিযান চালিয়ে মেয়াদোত্তীর্ণ ঔষধ বিক্রির দায়ে জরিমানা 

মো. আক্তার হোসেন, হাইমচর :   চাঁদপুরের হাইমচর উপজেলার সদর আলগীবাজারে মোবাইলকোর্ট পরিচালনা করে পাঁচটি ফার্মেসি ও এক দোকানিকে মোট ৫৭ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে পাঁচটি ফার্মেসিকে বিভিন্ন অনিয়মের দায়ে ৫৫ হাজার টাকা এবং রাস্তা দখল করে জনসাধারণের চলাচলে বিঘ্ন ঘটানোর অপরাধে এক ব্যক্তিকে ২ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) আলগীবাজারে এ মোবাইলকোর্ট পরিচালনা করেন হাইমচর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. নজরুল ইসলাম। অভিযানকালে আলগীবাজারের বিভিন্ন ফার্মেসিতে ওষুধের মজুত, মেয়াদ, অনুমোদন, লাইসেন্স ও বিক্রয়সংক্রান্ত বিষয় পরিদর্শন করা হয়। এ সময় ড্রাগ লাইসেন্স ও ট্রেড লাইসেন্স না থাকা, ফিজিশিয়ান স্যাম্পল বিক্রি, নিয়মবহির্ভূতভাবে অ্যান্টিবায়োটিক বিক্রয়সহ বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগে হাসিব মেডিসিন কর্নার, রাখী মেডিকেল হল, লাজ ফার্মেসি, পলাশ মেডিকেল এবং পপুলার এগ্রো অ্যান্ড পোল্ট্রি ফিডকে সর্বমোট ৫৫ হাজার টাকা অর্থদণ্ড করা হয়। অভিযানে পলাশ মেডিকেল হলের স্বত্বাধিকারী সুমন দেবনাথকে ২৫ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়। বাকি প্রতিষ্ঠানগুলোর জরিমানার পৃথক পরিমাণ তাৎক্ষণিকভাবে জানানো হয়নি। এছাড়া আলগীবাজারে রাস্তা দখল করে জনসাধারণের চলাচলে বিঘ্ন সৃষ্টি করার অপরাধে আব্দুস সালাম নামে এক ব্যক্তিকে ২ হাজার টাকা অর্থদণ্ড করা হয়। মোবাইলকোর্ট পরিচালনাকালে ওষুধ প্রশাসন অধিদপ্তরের প্রতিনিধি প্রসিকিউশন দাখিল করেন। এ সময় উপজেলা প্রশাসনের কর্মচারী এবং হাইমচর থানা পুলিশের একটি দল সার্বিক সহযোগিতা করে। অভিযানকালে ফার্মেসি মালিকদের মেয়াদোত্তীর্ণ ও অনুমোদনবিহীন ওষুধ বিক্রি না করা এবং চিকিৎসকের প্রেসক্রিপশন ছাড়া অ্যান্টিবায়োটিক বিক্রি থেকে বিরত থাকার বিষয়ে সতর্ক করা হয়। একই সঙ্গে ওষুধ বিক্রির ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট আইন ও বিধিবিধান যথাযথভাবে অনুসরণের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।

আজকের সংবাদ, ফরিদগঞ্জ, মতামত

জনদুর্ভোগ লাঘব ও নাগরিক সেবা সহজীকরণের লক্ষ্যে সুবিদপুর উপজেলার প্রস্তাব

মোস্তফা কামাল যাত্রা :  প্রিয় ফরিদগঞ্জ উপজেলা নিবাসী সর্বস্তরের জনগণ, আসসালামু আলাইকুম। ফরিদগঞ্জ উপজেলা ও চাঁদপুর জেলার মানচিত্রে পূর্ব ও পশ্চিম সুবিদপুর ইউনিয়নদ্বয়ের অবস্থান এবং উপজেলা ও জেলা সদরের সঙ্গে দূরত্ব বিবেচনায় এ অঞ্চলের জনগণের সরকারি ও নাগরিক সেবা গ্রহণ দীর্ঘসূত্রতা, সময়ক্ষেপণ ও নানা ভোগান্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশেষ করে স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা, ভূমি-সংক্রান্ত জটিলতা, আইনশৃঙ্খলা, স্থানীয় সরকার এবং প্রশাসনিক বহুমাত্রিক সেবা গ্রহণের ক্ষেত্রে দূরত্ব একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিবন্ধকতা। প্রতিকূল ও দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার সময় এই ভোগান্তি আরও প্রকট হয়ে ওঠে। এ অবস্থায় জনগণের নাগরিক অধিকার ও সরকারি সেবায় প্রবেশগম্যতা সহজতর করার লক্ষ্যে ভৌগোলিক অবস্থান, জনসংখ্যা, যোগাযোগব্যবস্থা এবং ফরিদগঞ্জ উপজেলা সদর থেকে দূরত্ব বিবেচনায় একটি নতুন উপজেলা প্রতিষ্ঠার যৌক্তিকতা গুরুত্বের সঙ্গে পর্যালোচনা করা প্রয়োজন। প্রস্তাবিত নতুন উপজেলায় পূর্ব ও পশ্চিম সুবিদপুর ইউনিয়নের পাশাপাশি গুপ্টি, পাইকপাড়া, বালিথুবাসহ মোট ৮টি ইউনিয়ন অন্তর্ভুক্ত করার প্রস্তাব করা হচ্ছে। আমার জন্মগ্রাম পূর্ব সুবিদপুর ইউনিয়নের ‘সুবিদপুর’ গ্রামের অধিবাসীদের দীর্ঘদিনের নাগরিক ভোগান্তির বাস্তব চিত্র একজন সচেতন অধিবাসী হিসেবে পর্যালোচনা করে প্রস্তাবিত নতুন উপজেলার নাম হিসেবে আমি ‘সুবিদপুর উপজেলা’ নামটি প্রস্তাব করছি। কেন সুবিদপুর উপজেলা? প্রস্তাবিত নতুন উপজেলা বাস্তবায়িত হলে বর্তমান ফরিদগঞ্জ উপজেলার অবশিষ্ট ৮টি ইউনিয়ন—গোবিন্দপুর (উত্তর), গোবিন্দপুর (দক্ষিণ), চরদুঃখিয়া (পূর্ব), চরদুঃখিয়া (পশ্চিম), ফরিদগঞ্জ (উত্তর), ফরিদগঞ্জ (দক্ষিণ), রূপসা (উত্তর) ও রূপসা (দক্ষিণ)—এর জনগণের ওপর উপজেলা প্রশাসনিক সেবার চাপ কমবে এবং একই সঙ্গে উভয় অঞ্চলের মানুষের সরকারি সেবা গ্রহণ আরও সহজ, দ্রুত ও কার্যকর হবে। অন্যদিকে প্রস্তাবিত ৮টি ইউনিয়নের অধিবাসীরা উপজেলা-কেন্দ্রিক নাগরিক সেবার আওতায় কম সময়ে, কম ব্যয়ে এবং কম ভোগান্তিতে প্রয়োজনীয় সরকারি ও প্রশাসনিক সেবা পাওয়ার সুযোগ লাভ করবেন। অতএব, ‘সুবিদপুর উপজেলা’ প্রতিষ্ঠা কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর স্বার্থের বিষয় নয়; এটি জনগণের নাগরিক অধিকার, সেবাপ্রাপ্তির সহজতা এবং জনদুর্ভোগ লাঘবের একটি যৌক্তিক দাবি। এই দাবিকে বাস্তব ও জনমুখী উদ্যোগে পরিণত করতে ফরিদগঞ্জ উপজেলার সর্বস্তরের জনগণের স্বতঃস্ফূর্ত সমর্থন, মতামত, ঐক্য ও সহযোগিতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ‘সুবিদপুর উপজেলা বাস্তবায়ন উদ্যোগ’ জনদুর্ভোগ লাঘব, নাগরিক মতামত সংগ্রহ এবং সংশ্লিষ্ট মহলের সঙ্গে গঠনমূলক সংলাপের মাধ্যমে এই যৌক্তিক দাবি বাস্তবায়নের লক্ষ্যে একটি নাগরিক অধিপরামর্শ কেন্দ্র হিসেবে কাজ করতে অঙ্গীকারবদ্ধ। স্থানীয় সরকারের নাগরিক সেবা আরও সহজ, কার্যকর, সময়োপযোগী ও জনমুখী করার লক্ষ্যে এবং ফরিদগঞ্জ উপজেলার ১৬টি ইউনিয়নের জনগণের সেবাপ্রাপ্তির সুযোগ আরও সুসংগঠিত করতে—বাস্তবায়ন করা হোক প্রস্তাবিত ‘সুবিদপুর উপজেলা’। এ বিষয়ে নীতিগত সিদ্ধান্ত গ্রহণ এখন সময়ের দাবি। সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্তৃপক্ষ, জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক ও সামাজিক নেতৃত্ব এবং সর্বস্তরের জনগণের ঐকান্তিক সমর্থন ও সহযোগিতা প্রত্যাশা করছি। বিনীত সম্ভাষণসহ— প্রস্তাবক :  মোস্তফা কামাল যাত্রা আব্বাস আলী পাটওয়ারী বাড়ি, সুবিদপুর, ফরিদগঞ্জ, চাঁদপুর।  নির্বাহী পরিচালক, ইউনাইট থিয়েটার ফর সোশ্যাল অ্যাকশন (উৎস / UTSA)।  শিক্ষক, নাট্যকলা বিভাগ, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়, চট্টগ্রাম। 

আজকের সংবাদ, ফরিদগঞ্জ, সর্বশেষ

ফরিদগঞ্জে ‎গৃহ নির্মাণ সামগ্রী উপহার দিলো জামায়াতে ইসলামী

‎ফরিদগঞ্জ টাইমস ডেস্ক :  ‎চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জে অসহায় ও দরিদ্র মানুষের পাশে দাঁড়ানোর লক্ষ্যে গৃহ নির্মাণ সামগ্রী উপহার প্রদান করা হয়েছে। এ উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে মানবসেবা, শান্তি, ঐক্য ও সুস্থ সাংস্কৃতিক বিকাশের প্রত্যয়ে স্থানীয় নেতৃবৃন্দ ও গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন। ‎অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী চাঁদপুর জেলা শাখার আমীর মাওলানা বিল্লাল হোসেন মিয়াজী। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা মহানগর দক্ষিণ হাজারীবাগ থানা বিএনপির যুগ্ম-আহ্বায়ক মিজানুর রহমান মিজান, সহকারী সেক্রেটারি অধ্যক্ষ হারুন আর-রশিদ, ফরিদগঞ্জ উপজেলা জামায়াতের আমীর মাওলানা ইউনূছ হেলাল, উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি ও জামায়াত মনোনীত চেয়ারম্যান প্রার্থী সাখাওয়াত হোসেন। ‎এছাড়া ১৪নং ইউনিয়ন জামায়াতের সভাপতি আবু হানিফ, সেক্রেটারি আমীর হোসেন কামাল, হাবিব উল্লাহ ভূঁইয়া, আনোয়ার হোসেন সবুজ-সহ স্থানীয় জামায়াতের নেতৃবৃন্দ ও গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।  ‎অনুষ্ঠানে অসহায় পরিবারের গৃহ নির্মাণে সহায়তার জন্য ঢেউটিনসহ প্রয়োজনীয় গৃহ নির্মাণ সামগ্রী উপহার দেওয়া হয়।  এসময় বক্তারা বলেন, সমাজের অসহায় ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের পাশে দাঁড়ানো প্রত্যেকের নৈতিক দায়িত্ব। মানবিক সহায়তার মাধ্যমে একটি সুন্দর, শান্তিপূর্ণ ও বৈষম্যহীন সমাজ গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তারা। 

আজকের সংবাদ, ফিচার, স্বাস্থ্য

নার্সিসিস্টিক প্যারেন্টিং: যখন সন্তান বেড়ে ওঠে বাবা-মায়ের ছায়া হয়ে 

নাজজেদা নাহার :  প্রতিটি শিশুর প্রথম আয়না তার বাবা-মা। সেই আয়নায় সে নিজেকে দেখে শেখে—আমি কে, আমার কতটা মূল্য আছে, আমাকে ভালোবাসা যায় কী না। কিন্তু কিছু বাবা-মায়ের কাছে এই আয়নাটা উল্টো দিকে ফেরানো থাকে—সেখানে সন্তান নিজেকে দেখে না, বরং প্রতিফলিত হয় বাবা-মায়ের নিজস্ব প্রয়োজন, ইমেজ আর অহংকার। মনোবিজ্ঞানের ভাষায় একে বলে নার্সিসিস্টিক প্যারেন্টিং—এমন এক লালন-পালনের ধরন; যেখানে সন্তানকে দেখা হয় স্বতন্ত্র মানুষ হিসেবে নয়, বরং বাবা-মায়ের নিজস্ব চাহিদা পূরণের মাধ্যম হিসেবে। এখানে ভালোবাসা প্রায়ই শর্তসাপেক্ষ থাকে—সন্তান যখন বাবা-মায়ের প্রত্যাশা মেটায়, তখনই মেলে স্বীকৃতি; ব্যর্থ হলে জোটে উপেক্ষা বা সমালোচনা। Psychology Today-র কমিউনিকেশন বিশেষজ্ঞ প্রেস্টন নি এই ধরনের বাবা-মাকে বর্ণনা করেছেন এমন একজন হিসেবে, যিনি সন্তানের মাধ্যমে নিজের জীবন যাপন করেন, সন্তানের ওপর মালিকানাসুলভ মনোভাব পোষণ করেন, এমনকি নিজের সন্তানের সঙ্গেই এক ধরনের প্রচ্ছন্ন প্রতিযোগিতায় লিপ্ত হন। গবেষণা যা বলছে: সমস্যাটা আসে কোথা থেকে  নার্সিসিজম আসলে একটি ব্যক্তিত্ব-বৈশিষ্ট্যের ধারাবাহিকতা (spectrum)—একপ্রান্তে থাকে স্বাভাবিক, সুস্থ আত্মবিশ্বাস, আর চরম প্রান্তে থাকে নার্সিসিস্টিক পার্সোনালিটি ডিসঅর্ডার (NPD), যা একটি স্বীকৃত ক্লিনিক্যাল মানসিক স্বাস্থ্য-সমস্যা। একজন বাবা-মা এই স্পেকট্রামের যেখানেই থাকুন না কেন, তাঁর সন্তানের ওপর প্রভাব পড়তে পারে। আর এই প্রবণতা কেবল প্যারেন্টিং থেকেই আসে না—গবেষণা বলছে, কিছু শিশু জন্মগতভাবেই বেশি সংবেদনশীল বা আবেগীয়ভাবে তীব্র প্রতিক্রিয়াশীল হয়, এবং শৈশবের ট্রমা বা অস্থিতিশীল পরিবেশও এই ঝুঁকি বাড়াতে পারে। সহজ ভাষায়, জৈবিক প্রবণতা ও পারিবারিক অভিজ্ঞতা—দুটো মিলেই নার্সিসিস্টিক প্যাটার্ন গড়ে ওঠে। এই বিষয়ে দীর্ঘদিন দুটি প্রতিদ্বন্দ্বী তত্ত্ব চলে আসছিল। একদল মনোবিজ্ঞানী মনে করতেন, বাবা-মায়ের অতিরিক্ত প্রশংসা বা অতিমূল্যায়নই (overvaluation) সন্তানকে নার্সিসিস্ট বানায়। আরেকদলের যুক্তি ছিল ঠিক উল্টো—ভালোবাসার উষ্ণতার অভাবই এই প্রবণতার জন্ম দেয়। ২০১৫ সালে নেদারল্যান্ডসের গবেষক এডি ব্রুমেলম্যান ও তাঁর সহকর্মীরা ৫৬৫টি শিশু ও তাদের বাবা-মায়ের ওপর দেড় বছর ধরে চালানো একটি দীর্ঘমেয়াদি গবেষণায় (PNAS) এই বিতর্কের অনেকটাই মীমাংসা করে দেন। ফলাফল স্পষ্টভাবে প্রথম তত্ত্বের পক্ষে যায়—শিশু নার্সিসিস্ট হয়ে ওঠে বাবা-মায়ের অতিরঞ্জিত মূল্যায়ন আত্মস্থ করার মধ্য দিয়ে, ভালোবাসার অভাব থেকে নয়। “আমি অন্যদের চেয়ে শ্রেষ্ঠ”, “আমার বিশেষ সুবিধা পাওয়ার অধিকার আছে”—এই ধরনের বার্তা শিশু বিশ্বাস করতে শুরু করে যখন বাবা-মা বারবার তাকে ‘অসাধারণ’ বলে চিহ্নিত করেন। এই গবেষণারই একজন সহ-লেখক, মনোবিজ্ঞানী ব্র্যাড বুশম্যান পরে মন্তব্য করেছিলেন, শিশুরা বিশ্বাস করে বাবা-মা যখন বলেন তারা অন্যদের চেয়ে বিশেষ—আর এটা তাদের জন্য বা সমাজের জন্য মোটেও ভালো ফল বয়ে আনে না। আকর্ষণীয় বিষয় হলো, গবেষণায় দেখা গেছে সন্তানের প্রকৃত আত্মসম্মানবোধ (self-esteem) গড়ে ওঠে বাবা-মায়ের উষ্ণতা থেকে, অতিমূল্যায়ন থেকে নয়। অর্থাৎ, প্রশংসা আর ভালোবাসা এক জিনিস নয়—আর এই পার্থক্যটা বোঝা নার্সিসিস্টিক প্যারেন্টিং চেনার প্রথম চাবিকাঠি।  চেনার উপায়: কিছু পুনরাবৃত্ত প্যাটার্ন  ক্লিনিক্যাল সাইকোলজিস্ট মেরি অ্যান লিটল তাঁর Childhood Narcissism বইয়ে এবং Psychology Today-তে প্রকাশিত একাধিক নিবন্ধে লিখেছেন, নার্সিসিস্টরা কাঠামোগতভাবেই ‘যথেষ্ট ভালো’ বাবা-মা হওয়ার সক্ষমতা রাখেন না—কারণ তাঁদের মনোযোগ মূলত নিজের দিকেই ফেরানো থাকে। সন্তানের প্রায় অফুরন্ত মনোযোগ ও স্নেহের প্রয়োজন হলেও এই বাবা-মায়ের কাছে দেওয়ার মতো আবেগীয় শক্তি অবশিষ্ট থাকে না। ২০২৩ সালে প্রকাশিত তিনটি আন্তর্জাতিক গবেষণা—Lyons ও সহকর্মীদের, Hoxhaj-এর এবং Torres-এর—পৃথকভাবে একই সিদ্ধান্তে পৌঁছেছে: নার্সিসিস্টিক বাবা-মায়ের সন্তান হওয়ার অভিজ্ঞতা আত্মমূল্যবোধ, সংযুক্তি-শৈলী, রোমান্টিক সম্পর্ক ও আবেগীয় স্থিতিশীলতার ওপর স্বীকৃত ও শনাক্তযোগ্য প্রভাব ফেলে। এমনকি নার্সিসিজম এক প্রজন্ম থেকে পরের প্রজন্মে সঞ্চারিত হওয়ারও প্রমাণ মিলেছে। এই প্যারেন্টিংয়ের বৈশিষ্ট্যগুলো আলাদা আলাদাভাবে দেখলে হয়তো তেমন উদ্বেগজনক মনে হয় না, কিন্তু একসঙ্গে দেখলে একটা স্পষ্ট প্যাটার্ন ধরা পড়ে। প্রথমত, সন্তান যদি অসাধারণ প্রতিভাবান হয়, তাহলে তাকে বাবা-মায়ের নিজস্ব গৌরবের সম্প্রসারণ বানিয়ে ফেলা হয়—আর হতাশ করলে জোটে কঠোর প্রত্যাখ্যান। দ্বিতীয়ত, শিশুসুলভ স্বাভাবিক দুষ্টুমি বা ভুলকেও এই বাবা-মায়েরা ব্যক্তিগত অপমান হিসেবে নেন, কারণ তাঁরা মনে করেন এতে তাঁদের নিজেদের ভাবমূর্তি নষ্ট হচ্ছে—ফলে সন্তান শেখে নিখুঁত হওয়ার চাপ, নয়তো লজ্জাবোধ। তৃতীয়ত, অতিরিক্ত নিয়ন্ত্রণ, নির্দেশনা আর সমালোচনার মধ্য দিয়ে সন্তানের নিজে সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগ কেড়ে নেওয়া হয়, যার ফলে আত্মবিশ্বাস ধীরে বিকশিত হয়। আর সবচেয়ে গভীর ক্ষতটা হয়তো এখানেই—এই বাবা-মায়েরা সন্তানকে যেমন সে ঠিক তেমনভাবে ভালোবাসতে পারেন না; তাঁরা ভালোবাসেন কল্পিত, আদর্শ সন্তানকে।  শর্তসাপেক্ষ এই ভালোবাসা থেকে জন্ম নেয় গভীর এক অনুভূতি—আমি হয়তো ভালোবাসার যোগ্যই নই। সন্তান বড় হয়ে নিজের পথ বেছে নিতে শুরু করলে সমস্যাটা আরও প্রকট হয়ে ওঠে। প্রেস্টন নি লক্ষ্য করেছেন, শিক্ষাগত-পেশাগত পথ বাছাই থেকে শুরু করে নিজস্ব বন্ধু বা জীবনসঙ্গী বেছে নেওয়া পর্যন্ত—স্বাতন্ত্র্যের প্রতিটি প্রকাশকে দেখা হয় ব্যক্তিগত আক্রমণ হিসেবে। সন্তানের জীবনে রোমান্টিক সঙ্গীর আগমন প্রায়ই বড় হুমকি হিসেবে বিবেচিত হয়, কারণ তা বাবা-মায়ের নিয়ন্ত্রণের বৃত্ত ভাঙার ইঙ্গিত দেয়। আমাদের প্রেক্ষাপটে একটি পর্যবেক্ষণ: বাংলাদেশের মতো সমাজে, যেখানে ‘পারিবারিক সম্মান’ ও ‘লোকে কী বলবে’—এই মানদণ্ডে সন্তান গড়ে তোলা হয়, সেখানে এই প্যাটার্নগুলো অনেক সময় স্বাভাবিক অভিভাবকত্ব হিসেবেই ধরা পড়ে না। সন্তানের রেজাল্ট বা চাকরিকে ‘আত্মীয়স্বজনকে গর্ব করে বলার মতো’ বিষয় বানিয়ে ফেলা, নিজের পছন্দে বিয়ে বা ক্যারিয়ার বেছে নিলে ‘তুই আমাদের মুখ রাখলি না’ বলে অপরাধবোধ চাপিয়ে দেওয়া, কিংবা সন্তানের আবেগ প্রকাশকে ‘বেয়াদবি’ বা ‘অকৃতজ্ঞতা’ বলে থামিয়ে দেওয়া—এসব এতটাই পরিচিত দৃশ্য যে অনেকে বড় হয়েও বোঝেন না তাঁদের অভিজ্ঞতার একটা নাম আছে।  যখন সন্তান বড় হয়  শৈশবের এই অভিজ্ঞতা প্রাপ্তবয়স্ক জীবনেও রয়ে যায়, রূপ পাল্টে। যাঁরা নার্সিসিস্টিক বাবা-মায়ের সন্তান, তাদের মধ্যে প্রায়ই দেখা যায় নিম্ন আত্মমূল্যবোধ, বিষণ্নতা, এমনকি জটিল PTSD-র লক্ষণ। এর কারণ খুঁজতে গেলে ফিরে যেতে হয় শৈশবেই—যেখানে সন্তান শিখেছিল নিজের আবেগীয় প্রয়োজন চেপে রাখতে, কারণ স্বীকৃতি নির্ভর করত তার পারফরম্যান্স বা অর্জনের ওপর। এই শেখা প্রাপ্তবয়স্ক জীবনে রূপ নেয় এক ধরনের ভেতরের শূন্যতায়, যা প্রায়ই ব্যাখ্যাতীত থেকে যায়। নিয়ন্ত্রণও থামে না বড় হওয়ার পর। থেরাপিস্ট জেনিফার ফ্রিডি ও তাঁর সহলেখকের একটি নিবন্ধ অনুযায়ী, নার্সিসিস্টিক বাবা-মায়েরা প্রায়ই প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানকেও গ্যাসলাইট করে চলেন—পুরনো নিয়ন্ত্রণের ধরনে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করেন। এই জটিল সম্পর্কগুলো উদ্বেগ, বিষণ্নতা, বিভ্রান্তি, অসহায়ত্ব, ক্রোধ, ক্লান্তি আর গভীর শোকের এক অন্তহীন চক্র তৈরি করতে পারে। তবে ভালো খবরও আছে—ট্রমা-সংবেদনশীল ও সংযুক্তি-কেন্দ্রিক থেরাপি এই চক্র ভাঙতে কার্যকরভাবে সাহায্য করতে পারে। আরেকটি সাধারণ প্রবণতা হলো সম্পর্কের একটি ত্রুটিপূর্ণ মডেল বহন করা। নার্সিসিস্টিক বাড়িতে বড় হওয়া সন্তান প্রায়ই ‘ঊর্ধ্ব-নিম্ন’ ধরনের সম্পর্ককেই স্বাভাবিক বলে ধরে নেয়—কারণ ছোটবেলা থেকে সে নিজেই বাবা-মায়ের আবেগীয় প্রয়োজন মেটানোর ভূমিকায় অভ্যস্ত। এই প্যাটার্ন অজান্তেই পরবর্তী জীবনের বন্ধুত্ব, প্রেম এমনকি কর্মক্ষেত্রের সম্পর্কেও প্রতিফলিত হতে থাকে—কখনো নিজেকে বারবার নিয়ন্ত্রণকারী সঙ্গীর কাছে খুঁজে পাওয়া, কখনো বা নিজের ভেতরেই বাবা-মায়ের কিছু আচরণের প্রতিচ্ছবি আবিষ্কার করা। (এখানে ব্যবহৃত ‘জটিল PTSD’, ‘গ্যাসলাইট’, ‘নার্সিসিস্টিক পার্সোনালিটি ডিসঅর্ডার’ ইত্যাদি পরিভাষা শিক্ষামূলক উদ্দেশ্যে ব্যবহৃত—এগুলো কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তি বা সম্পর্কের ক্লিনিক্যাল নির্ণয় নয়। কারো আচরণ এসব মাপকাঠিতে পড়ে কী না, তা কেবল একজন প্রশিক্ষিত মানসিক স্বাস্থ্য পেশাদারই নির্ধারণ করতে পারেন।) ক্ষতির ভেতরেও যা বেঁচে থাকে  তবে এই গল্প শুধুই ক্ষতির নয়। মনোবিজ্ঞানী চিকি ডেভিস একটি গুরুত্বপূর্ণ ও প্রায়ই উপেক্ষিত দিক তুলে ধরেছেন—নার্সিসিস্টিক বাবা-মায়ের সন্তানেরা

Scroll to Top