২৮শে জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

Author name: Farid Ahmed

আজকের সংবাদ, চাঁদপুর

চাঁদপুরে জামায়াতের ইফতার উপহার পেলো দুই হাজার পরিবার

নিজস্ব প্রতিবেদক: চাঁদপুরে দুই হাজার অসহায় ও সুবিধাবঞ্চিত পরিবারের মাঝে ইফতার সামগ্রী উপহার হিসেবে বিতরণ করেছে জামায়াত। সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে শহরের আল-আমিন মডেল মাদরসা ক্যাম্পাসে আনুষ্ঠানিকভাবে এসব ইফতার সামগ্রী অসহায় ব্যক্তিদের হাতে তুলেদেন জেলা ও শহর জামায়াতের নেতারা। এতে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন জেলা জামায়াতের আমির মাওলানা বিলাল হোসেন মিয়াজী। তিনি বক্তব্যে বলেন, মাহে রমজান সংযম, সহমর্মিতা ও মানবিকতার শিক্ষা দেয়। সমাজের বিত্তবানদের উচিত এই মাসে অসহায় ও নিম্নআয়ের মানুষের পাশে দাঁড়ানো। জামায়াতে ইসলামী সবসময় মানবকল্যাণে কাজ করে যাচ্ছে এবং ভবিষ্যতেও এই ধারা অব্যাহত থাকবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। তিনি আরো বলেন, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির এই সময়ে নিম্নআয়ের মানুষের নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যসামগ্রী সংগ্রহ করা কঠিন হয়ে পড়েছে। এ বাস্তবতায় রমজান মাসে তাদের কষ্ট লাঘবে এই খাদ্য সহায়তা কার্যক্রম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। শহর জামায়াতের আমির অ্যাডভোকেট মো. শাহজাহান খানের সভাপতিত্ব বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি অ্যাডভোকেট মো. শাহজাহান মিয়া। সঞ্চালনায় ছিলেন শহর জামায়াতের সেক্রেটারি শেখ মো. বেলায়েত হোসেন। শহর জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি মো. সবুজ খান, জামায়াত নেতা মো. আব্দু শুক্কুর মোস্তান, গোলাম মাওলা, আকরাম হোসেন, মোল্লা হানিফ, মো. ওমর ফারুক, হাফেজ ফরহাদ হোসেনসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা এ সময় উপস্থিত ছিলেন।

আজকের সংবাদ, মতামত

সদকাতুল ফিতরের টাকার পরিমাণ

ইসলামি শরিয়তে ফিতরা দেওয়া ওয়াজিব। রাসুল (সা.) বলেছেন, দুটি কারণে সাদাকাতুল ফিতরকে উম্মতের জন্য ওয়াজিব করা হয়েছে। এক.অশ্লীল কথা ও অর্থহীন কাজ হতে মাহে রমজানের সাওমকে পবিত্র করার জন্য। দুই. গরিব-মিসকিনদের খাবারের ব্যবস্থা করার জন্য। (সুনানে আবু দাউদ : ১৬০৯) কাদের ওপর ফিতরা ওয়াজিব? যেসব মুসলিম নর-নারীর মালিকানায় মৌলিক প্রয়োজনের অতিরিক্ত সাড়ে বায়ান্ন তোলা রুপার মূল্য সমপরিমাণ সম্পদ রয়েছে, তাদের ওপর সাদাকাতুল ফিতর ওয়াজিব। সাদাকাতুল ফিতর ওয়াজিব হওয়ার জন্য সুস্থ মস্তিষ্কসম্পন্ন অথবা বুঝমান-বালেগ হওয়া কিংবা মুকিম হওয়া শর্ত নয়। অবুঝ-নাবালেগ, মুসাফির এবং মানসিক ভারসাম্যহীন ব্যক্তিও নেসাব পরিমাণ সম্পদের মালিক হলে তাদের ওপরও সাদাকাতুল ফিতর ওয়াজিব হবে। হাদিসে নবীজি (সা.) ছোট-বড় সকলের পক্ষ থেকে সাদাকাতুল ফিতর আদায়ের নির্দেশ দিয়েছেন। নাবালেগ, মানসিক ভারসাম্যহীনের সম্পদ থেকে তার অভিভাবক সদকায়ে ফিতর আদায় করবেন। (রদ্দুল মুহতার : ২/৩৫৯) ফিতরা আদায়ের নিয়ম সদকাতুল ফিতর সম্পর্কিত হাদিসগুলো পর্যালোচনা করলে স্পষ্ট হয় যে, কিসমিস, গম, পনির, খেজুর ও যব দ্বারা সদকাতুল ফিতর আদায় করা যাবে। উল্লিখিত পাঁচ প্রকারের মধ্য থেকে যব, খেজুর, কিশমিশ ও পনির দ্বারা সদকাতুল ফিতর আদায় করতে চাইলে ‘এক সা’ করে দিতে হবে। গ্রাম হিসেবে ‘এক সা’ দ্বারা যব ৩ কেজি ২৭১ গ্রাম, খেজুর ৩ কেজি ২৭১ গ্রাম, কিশমিশ ৩ কেজি ২৭১ গ্রাম এবং পনির ৩ কেজি ২৭১ গ্রাম হয়। তবে গম (ময়দা/আটা) দ্বারা আদায় করতে চাইলে ‘আধা সা’ দিতে হবে। গ্রাম হিসেবে ‘আধা সা’ দ্বারা- ময়দা/আটা ১ কেজি ৬৩৬ গ্রাম হয়। ১ সা = ২৮০.৫০ তোলা, আর ১ তোলা = ১১.৬৬ গ্রাম (প্রায়)। অতএব, ১ সা = ৩২৭০.৬০ গ্রাম (প্রায়)। অর্থাৎ ৩ কেজি ২৭০ গ্রামের কিছু বেশি। উপরে সতর্কতামূলক ৩ কেজি ২৭১ গ্রাম ধরা হয়েছে। আর আধা সা = ১৬৩৫.৩১৫ গ্রাম বা ১.৬৩৫৩১৫ কেজি (প্রায়)। অর্থাৎ ১ কেজি ৬৩৫ গ্রামের কিছু বেশি। উপরে সতর্কতামূলক ১ কেজি ৬৩৬ গ্রাম ধরা হয়েছে।) সহিহ বোখারি গ্রন্থে উল্লেখ রয়েছে, أبو سعيد الْخُدْرِيّ يَقُولُ كُنَّا نُخْرِجُ زَكَاةَ الْفِطْرِ صَاعًا مِنْ طَعَامٍ أَوْ صَاعًا مِنْ شَعِيرٍ أَوْ صَاعًا مِنْ تَمْرٍ أَوْ صَاعًا مِنْ أَقِطٍ أَوْ صَاعًا مِنْ زَبِيبٍ অর্থ : হজরত আবু সাঈদ খুদরি (রাজি.) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমরা এক সা পরিমাণ খাদ্য অথবা এক সা পরিমাণ যব অথবা এক সা পরিমাণ খেজুর অথবা এক সা পরিমাণ পনির অথবা এক সা পরিমাণ কিশমিশ দিয়ে সদকাতুল ফিতর আদায় করতাম। (বোখারি : ১৫০৬) হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রাজি.) থেকে বর্ণিত, তিনি রমজানের শেষ দিকে বসরার মিম্বারে খুতবা দানকালে বলেছেন, أَدُّوا زَكَاةَ صَوْمِكُمْ فَجَعَلَ النَّاسُ يَنْظُرُ بَعْضُهُمْ إِلَى بَعْضٍ فَقَالَ مَنْ هَاهُنَا مِنْ أَهْلِ الْمَدِينَةِ قُومُوا إِلَى إِخْوَانِكُمْ فَعَلِّمُوهُمْ فَإِنَّهُمْ لَا يَعْلَمُونَ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَرَضَ صَدَقَةَ الْفِطْرِ عَلَى الصَّغِيرِ وَالْكَبِيرِ وَالْحُرِّ وَالْعَبْدِ وَالذَّكَرِ وَالْأُنْثَى نِصْفَ صَاعِ بُرٍّ أَوْ صَاعًا مِنْ تَمْرٍ أَوْ شَعِيرٍ. অর্থ : তোমরা নিজ নিজ সাদকাতুল ফিতর আদায় করো। তখন লোকজন একে অপরের দিকে তাকাতে লাগল। ইবনে আব্বাস (রাজি.) বললেন, এখানে মদিনার অধিবাসী কে কে আছ? তোমরা তোমাদের সাথীদের কাছে গিয়ে তাদেরকে শিক্ষা দাও। কেননা তারা জানে না যে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম প্রত্যেক অপ্রাপ্ত বয়স্ক, প্রাপ্ত বয়স্ক, স্বাধীন, গোলাম, পুরুষ এবং মহিলার ওপর অর্ধ সা করে গম অথবা এক সা করে খেজুর বা যব সদকাতুল ফিতর স্বরূপ ওয়াজিব করেছেন। {আবু দাউদ : ১৬২২, নাসায়ি : ২৫১৫ (প্রখ্যাত হাদিস বিশারদ আল্লামা ইবনে আবদুল হাদি আল হানবলি বলেন, হাদিসটির সকল রাবি প্রসিদ্ধ ও নির্ভরযোগ্য। আল্লামা জাহাবি রাহি. বলেছেন, হাদিসটির সনদ শক্তিশালী)} সুনানে তিরমিজি গ্রন্থে উল্লেখ রয়েছে, أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بَعَثَ مُنَادِيًا فِي فِجَاجِ مَكَّةَ: أَلَا إِنَّ صَدَقَةَ الْفِطْرِ وَاجِبَةٌ عَلَى كُلِّ مُسْلِمٍ ذَكَرٍ أَوْ أُنْثَى حُرٍّ أَوْ عَبْدٍ صَغِيرٍ أَوْ كَبِيرٍ مُدَّانِ مِنْ قَمْحٍ أَوْ سِوَاهُ أَوْ صَاع من طَعَام . অর্থ : হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আমর ইবনুল আস রাজি. থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একজন ঘোষক প্রেরণ করলেন, সে যেন মক্কার পথে পথে এ ঘোষণা করে যে, জেনে রেখো! প্রত্যেক মুসলিম নর-নারী, গোলাম-স্বাধীন, ছোট-বড় প্রত্যেকের ওপর সদকাতুল ফিতর অপরিহার্য। দুই মুদ (আধা সা) গম কিংবা এক সা অন্য খাদ্য। {তিরমিজি : ৬৭৪ (ইমাম তিরমিজি রাহি. বলেন, হাদিসটি হাসান)} মুসনাদে আহমদ গ্রন্থে উল্লেখ রয়েছে, عن فاطِمَةَ بِنْتِ المُنذِرِ، عَنْ أَسمَاءِ بِنْتِ أَبِي بَكْرٍ رَضِيَ اللَّهُ تَعَالَى عَنْهُما، قَالَتْ: كُنَّا نُؤَدِّي زَكَاةَ الفِطْرِ عَلَى عَهْدِ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مُدَّيْنِ مِنْ قَمْحٍ، بِالْمِدِّ الَّذِي تَقْتَاتُونَ بِهِ. অর্থ : হজরত ফাতেমা বিনতে মুনজির রাহি. থেকে বর্ণিত, হজরত আসমা বিনতে আবু বকর রাজি. বলেন, আমরা রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর জামানায় সদকাতুল ফিতর আদায় করতাম এমন দুই মুদ (আধা সা) গম দ্বারা যে মুদ (পাত্র) দ্বারা তোমরা খাদ্যবস্তু গ্রহণ করে থাকো। (মুসনাদে আহমদ : ২৭৪৭৫) মুসান্নাফে আবদুর রাজ্জাক গ্রন্থে উল্লেখ রয়েছে, হজরত মামার (রাহি.) বলেন, بَلَغَنِي أَنْ أَبَا بَكْرٍ أَخْرَجَ زَكَاةَ الفِطْرِ مِدَّيْنِ. অর্থ : আমার কাছে তথ্য পৌঁছেছে, হজরত আবু বকর সিদ্দিক রাজি. দুই মুদ (আধা সা দ্বারা) সদকাতুল ফিতর আদায় করেছে। (মুসান্নাফে আবদুর রাজ্জাক : ৩/৩১৬) সদকাতুল ফিতরের টাকার পরিমাণ ১. আটা প্রতি কেজি ৬০ টাকা করে হলে একজনের সদকাতুল ফিতর হবে ৯৮.১৬ টাকা। ২. কিশমিশ প্রতি কেজি ৫৫০ টাকা করে হলে একজনের সদকাতুল ফিতর হবে ১,৭৯৯.০৫ টাকা। ৩. পনির প্রতি কেজি ১,৫০০ টাকা করে হলে একজনের সদকাতুল ফিতর হবে ৪,৯০৬.৫ টাকা। ৪. খেজুর প্রতি কেজি ৩০০ টাকা করে হলে একজনের সদকাতুল ফিতর হবে ৯৮১.৩ টাকা। ৫. যব প্রতি কেজি ১৩৫ টাকা করে হলে একজনের সদকাতুল ফিতর হবে ৪৪১.৫৮৫ টাকা। লেখক : মুহতামিম, জামিয়াতুল কোরআন, ঢাকা।

আজকের সংবাদ, জাতীয়

ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ শুরু কবে

নিজস্ব প্রতিবেদক: আগামী ১০ মার্চ ‘ফ্যামিলি কার্ড’ বিতরণের কার্যক্রম উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। প্রাথমিকভাবে দেশের ১৩টি উপজেলায় পরীক্ষামূলকভাবে এই কার্ড চালু করা হবে। সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) প্রধানমন্ত্রীর প্রেস উইং গণমাধ্যমকে এই তথ্য নিশ্চিত করেন। এর আগে রোববার (২২ ফেব্রুয়ারি) অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে ফ্যামিলি কার্ড সংক্রান্ত কমিটির সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সভায় জানানো হয়, শুরুতে দুটি উপজেলায় পাইলট প্রকল্প চালানোর পরিকল্পনা থাকলেও তা সম্প্রসারণ করে দেশের ১৩টি উপজেলার ১৩টি ওয়ার্ডে বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। প্রাথমিকভাবে বনানীর কড়াইল বস্তি, পাংশা, পতেঙ্গা, বাঞ্ছারামপুর, লামা, খালিশপুর, চরফ্যাশন, দিরাই, ভৈরব, বগুড়া সদর, লালপুর, ঠাকুরগাঁও ও নবাগঞ্জে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ করা হবে। উপজেলা, ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড পর্যায়ে কমিটি গঠন করে পাঁচ কার্যদিবসের মধ্যে উপকারভোগীর তালিকা চূড়ান্ত করা হবে। অনুদানের অর্থ ব্যাংক বা মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসের মাধ্যমে বিতরণ করা হবে। নারীরা খানা প্রধান হিসেবে ফ্যামিলি কার্ড পাবেন এবং অন্য ভাতা পাবেন না। তবে পরিবারের অন্য সদস্যদের সুবিধা থাকবে। মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয় ও সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধিরা গণমাধ্যমকে জানান, ফ্যামিলি কার্ডের মাধ্যমে হতদরিদ্র ও দরিদ্র পরিবারকে সুসংগঠিতভাবে সহায়তা দেওয়া হবে। এ লক্ষ্যে গত ১৯ ফেব্রুয়ারি মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ একটি মন্ত্রিসভা কমিটি গঠন করেছে। উপকারভোগী নির্বাচন জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) তথ্যের মাধ্যমে করা হলেও, আর্থিক তথ্য না থাকায় নির্বাচিত ওয়ার্ডে সরেজমিন যাচাই-বাছাই করে সুবিধাভোগী চূড়ান্ত করা হবে। পরিবারগুলোকে হতদরিদ্র, দরিদ্র, মধ্যবিত্ত ও উচ্চবিত্ত চারটি শ্রেণিতে ভাগ করার পরিকল্পনা রয়েছে।

অর্থনীতি, আজকের সংবাদ

শিগগির শুরু হচ্ছে কৃষক কার্ড বিতরণ: তথ্যমন্ত্রী

দেশের কৃষকদের নানা সুবিধার আওতায় আনতে শিগগির ফ্যামিলি কার্ডের মতো কৃষি কার্ড বিতরণ শুরু হবে বলে জানিয়েছেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন। সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) সচিবালয়ে কৃষক কার্ড নিয়ে বৈঠকের পর মন্ত্রী এ কথা জানান। বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তথ্যমন্ত্রী বলেন, মূলত আমাদের কৃষকদের একটা স্মার্ট কার্ড দেওয়া এবং স্মার্ট কার্ড দেওয়ার ক্ষেত্রে একটি ফ্যামিলি কার্ড নিয়ে আমরা আলাপ করছি। নীতিগতভাবে এটা আমাদের বহু আগের সিদ্ধান্ত। ইনশাআল্লাহ, যত দ্রুত সম্ভব আমরা ফ্যামিলি কার্ডের মতোই কৃষক কার্ডের পাইলট প্রজেক্টে শুরু করতে যাচ্ছি। ঈদের আগে কি কৃষক কার্ড বিতরণ শুরু হবে- এ বিষয়ে তিনি বলেন, সময়টা এই মুহূর্তে বলা যাচ্ছে না। কারণ, সময়ের সঙ্গে তো প্রস্তুতির অনেক বিষয় জড়িত। তবে, আমাদের প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ এবং তার পরামর্শ হচ্ছে যত দ্রুত সম্ভব এটা করা যায়।

আজকের সংবাদ, জাতীয়

‘পুলিশের এসপি ও ওসিদের নিয়োগ আর লটারির মাধ্যমে হবে না’

পুলিশের এসপি ও ওসিদের নিয়োগ আর লটারির মাধ্যমে হবে না বলে জানিয়েছেন সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেছেন, ভবিষ্যতে যোগ্যতা ও দক্ষতার ভিত্তিতেই এসব গুরুত্বপূর্ণ পদে পদায়ন করা হবে। আজ সোমবার ( ২৩ ফেব্রুয়ারি) সকালে সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধিদপ্তরগুলোর প্রধানদের সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘নির্বাচনের আগে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় এসপি ও ওসিদের লটারির মাধ্যমে নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু এভাবে গুরুত্বপূর্ণ পদে নিয়োগ দিলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা প্রত্যাশিত সেবা দিতে পারেন না। বড় জেলা ও ছোট জেলার কাজের ধরন আলাদা- সেখানে অভিজ্ঞতা, দক্ষতা ও উপযুক্ততা বিবেচনা করা জরুরি। কিন্তু তা যথাযথভাবে অনুসরণ করা হয়নি। এমনকি লটারির প্রক্রিয়াটিও স্বচ্ছ ছিল না।’

আজকের সংবাদ, জাতীয়

প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে চীনের রাষ্ট্রদূতের সৌজন্য সাক্ষাৎ

আজ সোমবার সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে এক সৌজন্য সাক্ষাতে মিলিত হন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও ঢাকায় নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন। বৈঠকে দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের উন্নয়ন এবং আঞ্চলিক ভূ-রাজনীতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। চীনের রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশের নতুন সরকারের ঘোষিত ‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’ পররাষ্ট্রনীতিকে আন্তরিকভাবে স্বাগত জানিয়েছেন। তিনি বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় বেইজিংয়ের পক্ষ থেকে সব ধরনের সহযোগিতা অব্যাহত রাখার দৃঢ় প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। সাক্ষাৎকালে রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন জানান, বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ অখণ্ডতা ও বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে সার্বভৌম অবস্থান রক্ষায় চীন সবসময় বিশ্বস্ত বন্ধু হিসেবে পাশে থাকবে। বহুল আলোচিত তিস্তা প্রকল্প বাস্তবায়ন নিয়ে তিনি আশাবাদী হলেও বর্তমান সরকারের চূড়ান্ত অবস্থান নিয়ে এখনই মন্তব্য করেননি। তবে আঞ্চলিক রাজনীতিতে তৃতীয় কোনো দেশের অনাকাঙ্ক্ষিত হস্তক্ষেপের সমালোচনা করে তিনি জানান, চীন এই অঞ্চলের প্রতিটি মানুষের টেকসই উন্নয়নের জন্য কাজ করছে এবং এখানে কোনো প্রতিবন্ধকতা কাম্য নয়। মূলত ওয়াশিংটনের প্রভাব ঠেকানোর কৌশলী বার্তার পাশাপাশি বেইজিংয়ের উন্নয়ন অংশীদারত্বের বিষয়টি তিনি স্পষ্ট করেন। প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে এই উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে রোহিঙ্গা সংকট সমাধানের উপায় নিয়েও গুরুত্বের সাথে আলোচনা হয়। চীন বাংলাদেশে একটি স্থিতিশীল ও শক্তিশালী সরকার পরিচালনার ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় অর্থনৈতিক ও কারিগরি সহায়তা প্রদানের আগ্রহ প্রকাশ করেছে। নতুন সরকারের অধীনে বাংলাদেশ-চীন সম্পর্ক এক নতুন উচ্চতায় পৌঁছাবে বলে বৈঠকে আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়। বেইজিংয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়, বাংলাদেশের উন্নয়ন যাত্রায় তারা অন্যতম প্রধান অংশীদার হিসেবে নিজেদের অবস্থান আরও সুসংহত করতে চায়। সৌজন্য সাক্ষাৎ শেষে প্রধানমন্ত্রীও চীনের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বের প্রশংসা করে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

আজকের সংবাদ, জাতীয়

শীত কখন জেঁকে বসতে পারে?

ফরিদগঞ্জ টাইমস ডেস্ক: হিমালয় অঞ্চল থেকে বয়ে আসা হিম বাতাসে পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ায় জেঁকে বসেছে শীত। কয়েক দিন ধরে ১৩ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে ওঠানামা করছে তাপমাত্রা। ভোরে হালকা কুয়াশা থাকলেও ঘন কুয়াশার দেখা মেলেনি। এরপর সকাল গড়াতেই আকাশে ঝলমলে রোদ দেখা যায়, তবে শীতের দাপট তাতে কমেনি। তবে রাজধানীবাসী শীতের আমেজে এখনো পুরোপুরি উপভোগ করতে পারছে না। শীতের তাপমাত্রা কম থাকলেও দিনে সূর্যের তীব্রতা জানান দেয় শীত শীত জেঁকে বসতে এখনো কিছুটা সময় লাগবে। শীত জেঁকে বিষয়ে আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, ডিসেম্বরের মাঝামাঝি থেকেই শীত চাপ আরও বাড়াবে। এ সময় শৈত্যপ্রবাহও শুরু হতে পারে। উত্তর ও পশ্চিমের জেলা পঞ্চগড়, ঠাকুরগাঁও, দিনাজপুর, রংপুর, কুড়িগ্রাম, নওগাঁ, নাটোর এবং রাজশাহীর ওপরই এই চাপ সবচেয়ে বেশি পড়বে। এ বিষয়ে আবহাওয়াবিদ মোস্তফা কামাল পলাশ বলছেন, বছরের বাকি সময়ে দেশের উপকূলে আর কোনো ঘূর্ণিঝড় আঘাত হানার আশঙ্কা নেই। ডিসেম্বরের সমুদ্র তাপমাত্রা ঘূর্ণিঝড়ের পক্ষে অনুকূল নয়। পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ায় শীতের তীব্রতা আগের মতোই অব্যাহত। সকালে কনকনে ঠান্ডায় রাস্তাঘাট ফাঁকা থাকে; দুপুরে রোদের একটু উষ্ণতা মিললেও শীত কমার কোনো লক্ষণ নেই। গতকাল রোববার (৩০ নভেম্বর) জেলার তাপমাত্রা ছিল ১৩ দশমিক ১ ডিগ্রি সেলসিয়াস, যা আগের দিনের চেয়ে সামান্য কম। নীলফামারীর সৈয়দপুরে কুয়াশা এতটাই ঘন হয়ে পড়েছে যে, উড়োজাহাজ চলাচলে ব্যাঘাত সৃষ্টি হয়েছে। সকালে সব ফ্লাইটই কমবেশি আধা ঘণ্টা দেরিতে ছেড়েছে বা নেমেছে। জরুরি কাজে ঢাকায় যেতে না পেরে অনেক যাত্রী বিমানবন্দরে অপেক্ষা করতে বাধ্য হয়েছেন। বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, আকাশ পরিষ্কার হলেই ফ্লাইট স্বাভাবিক হবে; আপাতত কোনো ফ্লাইট বাতিলের সিদ্ধান্ত নেই। শীতের দীর্ঘমেয়াদি পূর্বাভাসে জানানো হয়, ডিসেম্বরের মাঝামাঝি থেকে জানুয়ারির প্রথম সপ্তাহই হবে এ মৌসুমের সবচেয়ে ঠান্ডা সময়। মাঝারি থেকে তীব্র শৈত্যপ্রবাহে দেশের বড় অংশ কাঁপবে। উত্তরাঞ্চলে শীতের প্রভাব থাকবে আরও তীক্ষ্ণ, যা মানুষের দৈনন্দিন জীবন, পরিবহন এবং কৃষিকাজ সবখানেই অনুভূত হবে। শৈত্যপ্রবাহের বিষয়ে আবহাওয়াবিদ মো. শাহীনুল ইসলাম গণমাধ্যমে বলেন, শীত ধীরে ধীরে নামছে। ডিসেম্বরের মাঝামাঝি সময়ে শীত আরও তীব্র হতে পারে। শৈত্যপ্রবাহ শুরু হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

আজকের সংবাদ, চাঁদপুর

চাঁদপুর-ঢাকা নৌরুটে দ্রুতগামী নৌযান চালুর দাবি

নিজস্ব প্রতিবেদক: চাঁদপুর-ঢাকা নৌরুটে দ্রুতগামী ও আধুনিক নৌযান চালুর দাবিতে সরব হয়েছেন সাধারণ যাত্রী ও স্থানীয় বিভিন্ন পেশার মানুষ। দীর্ঘদিন ধরে রুটটিতে চলাচলকারী লঞ্চগুলোর সেবার মান নিম্নমানের থাকায় যাত্রী সংখ্যা ক্রমেই কমে যাচ্ছে। ফলে এই গুরুত্বপূর্ণ রুটে আধুনিক ও দ্রুতগতিসম্পন্ন নৌযান চালু করার দাবি দিন দিন জোরদার হচ্ছে। এ বিষয়ে চাঁদপুরের জেলা প্রশাসক (ডিসি) মোহাম্মদ মোহসীন উদ্দিন জেলাবাসীর পক্ষে ১৬ অক্টোবর নৌ পরিবহন মন্ত্রণালয়ে একটি চিঠি পাঠিয়েছেন। মঙ্গলবার (২১ অক্টোবর) সকালে তিনি বিষয়টি নিশ্চিত করেন। জানা যায়, এক সময় ডাকাতিয়া নদীর তীরে অবস্থিত ছিল চাঁদপুর নৌবন্দর। কিন্তু তিন নদীর মোহনা ঝুঁকিপূর্ণ হওয়া এবং ডাকাতিয়া নদীর নাব্যতা কমে যাওয়ায় পরবর্তীতে শহরের নিশি বিল্ডিং এলাকায় স্থানান্তর করা হয় বন্দরের কার্যক্রম। সেখানে এখন গড়ে উঠছে আধুনিক নৌবন্দর। যাত্রীরা মনে করেন, বন্দর আধুনিক হলেও রুটে চলাচলকারী নৌযানগুলোকে আধুনিক ও দ্রুতগামী না করা পর্যন্ত যাত্রীসেবার মান কাঙ্ক্ষিত পর্যায়ে পৌঁছাবে না।

আজকের সংবাদ, চাঁদপুর

চাঁদপুরে ইজিবাইক চালক হত্যা মামলায় দুইজনের যাবজ্জীবন

নিজস্ব প্রতিবেদক: চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলার দক্ষিণ ইসলামাবাদ গ্রামে নগদ টাকা ছিনিয়ে নিয়ে ইজিবাইক চালক ইব্রাহীম পাটোয়ারী (৪৮) কে হত্যার অপরাধে মো. আরিফ হোসেন (৩৫) ও মো. সবুজ (২৫) কে যাবজ্জীবন কারাদন্ড, ১ লাখ টাকা করে জরিমানা এবং অনাদায়ে আরো ৬ মাসের সশ্রম কারাদন্ড দিয়েছে আদালত। একই ঘটনায় আদালত অপর ধারায় আসামীদেরকে ৩ বছরের সশ্রম কারাদন্ড, ৪ হাজার টাকা করে জরিমানা এবং অনাদায়ে আরো দুই মাসের সশ্রম কারাদন্ড প্রদান করে। সোমবার (২০ অক্টোবর) দুপুরে চাঁদপুরের সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ সামছুন্নাহার এই রায় দেন। হত্যার শিকার ইব্রাহীম পাটোয়ারী উপজেলার দক্ষিণ ইসলামাবাদ গ্রামের পাটোয়ারী বাড়ির আবুল কাশেম পাটোয়ারীর ছেলে। কারাদন্ডপ্রাপ্ত আসামী আরিফ হোসেন উপজেলার দক্ষিণ ইসলামবাদ গ্রামের প্রধানিয়া বাড়ির মো. নুরুল ইসলামের ছেলে এবং মো. সবুজ ইন্দুরিয়া ইসলামাবাদ গ্রামের প্রধানিয়া বাড়ির শহীদুল ইসলামের ছেলে। মামলার বিবরণ থেকে জানাগেছে, হত্যার শিকার ইব্রাহীম ও তার স্ত্রী নিলুফা বেগমের সাথে পারিবারিক কলোহের কারণে বিরোধ ছিলো। যার ফলে তিনি নিকটাত্মীয়র বাড়িতে চলে যান। এরই মধ্যে ইব্রাহিম নিজের দুটি ইজিবাইক ১ লাখ ৭০ হাজার টাকা বিক্রি করেন। ঘটনার সময় ২০২০ সালের ৯ মার্চ রাতে ইব্রাহীম তার স্ত্রীর সাথে দেখা করার জন্য আত্মীয় বাড়িতে যান। ওই বাড়ি থেকে ইব্রাহীমকে ফোন করে ডেকে নেন আসামী ইব্রাহীম ও সবুজ। এরপর ১০ মার্চ রাতে আসামীরা ইব্রাহীমের সাথে থাকা টাকা ছিনিয়ে নিয়ে তাকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করে ওই এলাকার জনৈক আব্দুল কাদিরের মাছ চাষের পুকুরে ফেলে যান। ১৩ মার্চ স্থানীয়দের মাধ্যমে জানতে পারেন পুকুরে মরদেহ ভেসে উঠেছে। এমন সংবাদের ভিত্তিতে ইব্রাহীমের স্ত্রী নিলুফা বেগম তার স্বামীর মরদেহ সনাক্ত করেন। এই ঘটনায় নিলুফা বেগম ১৩ মার্চ মতলব উত্তর থানায় আরিফ ও সবুজকে আসামী করে হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলা দায়েরর পর ১৫ মার্চ আসামীদেরকে গ্রেপ্তার করে সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে সোপর্দ করে থানা পুলিশ। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা মতলব উত্তর থানার তৎকালীন উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. হাবিবুর রহমান ২০২০ সালের ৩১ আগস্ট তদন্ত শেষে আদালতে চার্জশীট দাখিল করেন। সরকার পক্ষের আইনজীবী পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যাডভোকেট কুহিনুর বেগম বলেন, মামলাটি পাঁচ বছরের অধিক সময় চলমান অবস্থায় আদালত ১৬জনের স্বাক্ষ্য গ্রহণ করেন। স্বাক্ষ্য প্রমাণ ও আসামীরা তাদের অপরাধ শিকার করায় বিচারক তাদের উপস্থিতিতে এই রায় দেন। আসামী পক্ষের আইনজীবী ছিলেন অ্যাডভোকেট রফিকুল ইসলাম, মাসুম হোসেন ভুঁইয়া ও সেলিম মিয়া।

আজকের সংবাদ, রাজনীতি

দাবি বাস্তবায়নে জামায়াতসহ সমমনা দলগুলোর কর্মসূচি ঘোষণা

নিজস্ব প্রতিবেদক: জুলাই সনদ বাস্তবায়ন, গণভোট ও পিআর পদ্ধতির দাবিতে কর্মসূচি ঘোষণা করেছে জামায়াতে ইসলামী, ইসলামী আন্দোলন, খেলাফত মজলিস এবং বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসসহ সমমনা রাজনৈতিক দলগুলো। ২০ অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া কর্মসূচির শেষধাপে দাবি আদায়ে প্রয়োজনে গণআন্দোলনের ডাক দিয়েছে দলগুলো। রোববার (১৯ অক্টোবর) এসব কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়। কর্মসূচি বিষয়ে জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল গোলাম পরওয়ার কথা বলেছেন গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে। তিনি বলেন, গণভোট ও পিআর পদ্ধতির নির্বাচনের সঙ্গে জুলাই সনদের স্বাক্ষরের কোনো সম্পর্ক নেই। শুধু যেসব বিষয়ে রাজনৈতিক দলগুলো ঐকমত্যে পৌঁছাতে পেরেছে তার ভিত্তিতেই জুলাই সনদে স্বাক্ষর করা হয়েছে। গোলাম পরওয়ার বলেন, আমাদের আন্দোলন নির্বাচনকে বাধাগ্রস্ত করবে না। ফেব্রুয়ারিতেই নির্বাচন চাই, তবে এর আগে সনদ বাস্তবায়নের আদেশ জারি করতে হবে আর গণভোট দিতে হবে। এদিকে বেলা আড়াইটার দিকে জাতীয় প্রেস ক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে খেলাফত মজলিসের মহাসচিব ড. আহমেদ আবদুল কাদের বলেন, ‘আমাদের দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে, জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নে আদেশ জারি ও ওই আদেশের ওপর আগামী নভেম্বর মাসের মধ্যে গণভোট আয়োজন, পিআর পদ্ধতিতে নির্বাচন প্রভৃতি।’ লিখিত বক্তব্যে আহমেদ আবদুল কাদের বলেন, ‘এরই মধ্যে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের রোডম্যাপ ঘোষণা করা হয়েছে। তিনি বলেন, আমরা ঘোষিত রোডম্যাপ অনুযায়ী অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও ভয়ভীতিমুক্ত গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের লক্ষ্যে  প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে আসছি। আমাদের অতীত অভিজ্ঞতা অনুযায়ী কালো টাকার ব্যবহার বন্ধ, ভোটকেন্দ্র দখল, পেশিশক্তি প্রদর্শন ও ভোটের বিভিন্ন অনিয়ম ও অপতৎপরতা বন্ধ, কোয়ালিটিসম্পন্ন পার্লামেন্ট, দক্ষ আইন প্রণেতা তৈরিসহ প্রতিটি ভোট মূল্যায়নের লক্ষ্যে পিআর পদ্ধতিতে নির্বাচনের দাবি জানিয়ে আসছি।’ কর্মসূচি ঘোষণা নিয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, জুলাই সনদের আইনিভিত্তি দিতে রাষ্ট্রপতির আদেশ, গণভোট, পিআর পদ্ধতি, লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিতসহ ৫ দফা দাবি বাস্তবায়নে চতুর্থ ধাপে কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়েছে। কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে২০ অক্টোবর রাজধানীতে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ।২৫ অক্টোবর বিভাগীয় শহরে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ।২৭ অক্টোবর জেলা শহরে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশের ঘোষণা।২৭ অক্টোবরের মধ্যে দাবি না মানলে গণআন্দোলনের ডাক দেয়া হবে বলে সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়।

আজকের সংবাদ, ফরিদগঞ্জ

ফরিদগঞ্জকে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন মতলব উত্তর

নিজস্ব প্রতিবেদক: উৎসবমুখর ও বর্ণাঢ্য আয়োজনের মধ্যদিয়ে ২১তম চাঁদপুর জেলা প্রশাসক গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট-২০২৫ এর ফাইনাল ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার (১৮ অক্টোবর) বিকেল সাড়ে ৩টায় চাঁদপুর স্টেডিয়ামে এই ফাইনাল খেলা অনুষ্ঠিত হয়। খেলায় নির্ধারিত সময়ে গোলশূন্য থাকার পর রোমাঞ্চকর টাইব্রেকারে ফরিদগঞ্জ উপজেলা ক্রীড়া সংস্থাকে ৪-৩ গোলে পরাজিত করে চ্যাম্পিয়ন হয় মতলব উত্তর উপজেলা ক্রীড়া সংস্থা দল। ফাইনাল ম্যাচে অসাধারণ পারফরম্যান্সের জন্য ম্যান অব দ্য ম্যাচ এবং টুর্নামেন্টের সেরা গোলরক্ষক নির্বাচিত হন মতলব উত্তরের খেলোয়াড় মো. সাকিব হোসেন। অপরদিকে দুই গোল করে সর্বোচ্চ গোলদাতার পুরস্কার অর্জন করেন ফরিদগঞ্জের তারিকুল ইসলাম। পুরো টুর্নামেন্টে ধারাবাহিক দক্ষতার কারণে সেরা খেলোয়াড় নির্বাচিত হন মতলব উত্তরের মো. ওমর সানি মুন্সী। জেলার ৮ উপজেলার অংশগ্রহণে আয়োজিত এই টুর্নামেন্টে ছিল খেলোয়াড়দের দুর্দান্ত পারফরম্যান্স ও দর্শকদের প্রাণবন্ত উপস্থিতি। ফাইনাল খেলায় স্টেডিয়াম ছিল দর্শকে পরিপূর্ণ। প্রায় দশ হাজারেরও বেশি ফুটবলপ্রেমী ম্যাচটি উপভোগ করেন উৎসবমুখর পরিবেশে। ফাইনাল শেষে বিজয়ী ও রানারআপ দলের হাতে ট্রফি, মেডেল ও প্রাইজমানি তুলে দেন জেলা প্রশাসক ও জেলা ক্রীড়া সংস্থার সভাপতি মোহাম্মদ মোহসীন উদ্দিন এবং পুলিশ সুপার (এসপি) মুহম্মদ আব্দুর রকিব। প্রাইজমানি হিসেবে চ্যাম্পিয়ন দল পুরস্কার পায় ২০ হাজার টাকা, রানারআপ দল পায় ১৫ হাজার টাকা এবং টুর্নামেন্টের সেরা খেলোয়াড় পেয়েছেন ৫ হাজার টাকা। পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মোহসীন উদ্দিন বলেন, জেলা প্রশাসক গোল্ডকাপ শুধু একটি ফুটবল টুর্নামেন্ট নয়, এটি আমাদের তরুণ সমাজকে খেলাধুলায় সম্পৃক্ত রাখার এক অনন্য প্রয়াস। খেলাধুলা মানুষকে শৃঙ্খলাবদ্ধ ও মানবিক করে তোলে। আগামীতে আরও বড় পরিসরে এই আয়োজন অব্যাহত থাকবে। পুলিশ সুপার মুহম্মদ আব্দুর রকিব বলেন, খেলাধুলা তরুণদের মাদক ও অপরাধ থেকে দূরে রাখে। জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে ভবিষ্যতেও এ ধরনের ইতিবাচক কর্মকাণ্ডে সর্বাত্মক সহযোগিতা করা হবে। বর্ণাঢ্য সমাপনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন টুর্নামেন্ট কমিটির আহবায়ক অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. এরশাদ উদ্দিন, বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ড. জালাল উদ্দিন, চাঁদপুর জেলা জামায়াতের আমির মাওলানা বিল্লাল হোসেন মিয়াজী, জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অ্যাড. সলিম উল্লাহ সেলিম, সাংগঠনিক সম্পাদক আলহাজ্ব মোঃ মোশাররফ হোসাইন, সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি শাহজালাল মিশনসহ বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি, সাংবাদিক, ক্রীড়াবিদ ও হাজারো ফুটবলপ্রেমী দর্শক।

আজকের সংবাদ, চাঁদপুর

চাঁদপুরে কিশোর গ্যাংয়ের ৭ সদস্য আটক

নিজস্ব প্রতিবেদক: চাঁদপুর শহরের স্বর্ণখোলা এলাকা থেকে কিশোর গ্যাংয়ের ৭ সদস্যকে আটক করেছে পুলিশ। শনিবার (১৮ অক্টোবর) রাতে ওই এলাকা থেকে দেশীয় অস্ত্রসহ তাদের আটক করা হয়। আটক কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যরা হলেন মো. শাওন (১৭), মো. রায়হান (১৬), শামীম খান (১৮), সৈকত খান (১৭), মো. হামিম (১৬), রাহাত খান (১৭) ও মো. তোহা (১৬)। এ সময় তাদের কাছ থেকে ৫টি বড় রামদা উদ্ধার করে পুলিশ। চাঁদপুরের পুলিশ সুপার (এসপি) মুহম্মদ আব্দুর রকিব জানান, শহরের স্বর্ণখোলা এলাকায় দেশীয় অস্ত্র নিয়ে মহড়া দিচ্ছে একদল কিশোর গ্যাং- এমন তথ্য পেয়ে সদর মডেল থানা পুলিশ সেখানে অভিযান চালায়। এ সময় দেশীয় অস্ত্রসহ হাতেনাতে ওই ৭ জনকে আটক করা হয়। এদিকে, রাতে এই রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত পুলিশ আটক হওয়া কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যদের জিজ্ঞাসাবাদ করছিল। এর আগে, গতকাল শুক্রবার রাতেও চাঁদপুর শহরের নাজিরপাড়া এলাকা থেকে কিশোর গ্যাংয়ের আরো ৫ সদস্যকে দেশীয় অস্ত্রশস্ত্রসহ আটক করে সেনাবাহিনীর নেতৃত্বে যৌথ বাহিনীর সদস্যরা।

Scroll to Top