ফরিদগঞ্জ টাইমস ডেস্ক :
চাঁদপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-২-এর ফরিদগঞ্জ জোনাল অফিসে কর্মরত বিদ্যুৎ কর্মীদের ওপর হামলার প্রতিবাদে এবং ডিজিএম মো. সাইফুল আলমকে অপসারণের দাবিতে তাকে তার নিজ কার্যালয়ে অবরুদ্ধ করেছেন ক্ষুব্ধ কর্মীরা। রোববার (২৯ জুন) দুপুরে এই ঘটনা ঘটে।
ভুক্তভোগী বিদ্যুৎ কর্মীদের ভাষ্যমতে, গত ২৪ জুন একটি উপকেন্দ্র থেকে বিদ্যুৎ কর্মীকে তুলে নেওয়ার ঘটনায় ধানুয়া গ্রামের একাংশ গ্রাহকের সঙ্গে অফিসের টানাপোড়েন চলছিল। এ পরিস্থিতির মধ্যেই রোববার সকালে ডিজিএম সাইফুল ইসলাম বকেয়া বিলের অজুহাতে ঐ এলাকায় বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার কঠোর নির্দেশ দেন। কর্মীরা অভিযোগ করেন, এলাকায় পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত না করেই তাদের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করতে পাঠানো হয়। এতে এলাকাবাসীর সাথে সংঘর্ষে চাঁদপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-২-এর এজিএম নাজির উল্লাহসহ অন্তত ১৫ জন কর্মী মারধরের শিকার হন। কর্মীদের দাবি, ডিজিএম উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবেই কর্মীদের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে এই সংঘাতময় পরিস্থিতির দিকে ঠেলে দিয়েছেন।
অন্যদিকে, এলাকাবাসী ও ভুক্তভোগী গ্রাহকদের অভিযোগ ভিন্ন। গ্রাহক জুয়েল গাজীসহ স্থানীয়রা জানান, পল্লী বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষ গত দুই মাস এলাকায় কোনো বিলের কাগজ পাঠায়নি। হঠাৎ তিন মাসের বিল একসঙ্গে পাওয়ায় গ্রাহকরা জরিমানার মুখে পড়েছেন। কোনো প্রকার পূর্ব নোটিশ ছাড়াই ১৬ সদস্যের একটি টিম বকেয়া বিলের দোহাই দিয়ে এলাকায় প্রবেশ করে। সংযোগ বিচ্ছিন্নের কারণ জানতে চাইলে ফিরোজা বেগম নামে এক নারী গ্রাহককে বিদ্যুৎ কর্মীরা মারধর করেন, যা স্থানীয়দের বিক্ষুব্ধ করে তোলে।
ঘটনার ভয়াবহতা প্রসঙ্গে স্থানীয়রা জানান, পরিস্থিতি উত্তপ্ত হওয়ার পর ধানুয়া গ্রামের মসজিদের মাইকে ঘোষণা দিয়ে গ্রামবাসী একত্রিত হন। এরপর স্থানীয়রা ক্ষুব্ধ হয়ে বিদ্যুৎ কর্মীদের ওপর চড়াও হন এবং এক পর্যায়ে নারীরা তাদের ঝাড়ু পেটা করে এলাকা থেকে বের করে দেন। পরবর্তীতে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সহযোগিতায় কর্মীরা এলাকা ত্যাগ করেন।
ঘটনা বেগতিক দেখে চাঁদপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-২-এর জেনারেল ম্যানেজার (জিএম) মো. আতিকুজ্জামান চৌধুরী সশরীরে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। ক্ষুব্ধ কর্মীরা ও স্থানীয়দের শান্ত করতে তিনি তাৎক্ষণিক এক বক্তব্যে জানান, “ঘটনাটির সুষ্ঠু তদন্তে আজই একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হচ্ছে। তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনের সুপারিশ অনুযায়ী ডিজিএম সাইফুল ইসলামের বিরুদ্ধে কঠোর প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
বর্তমানে ফরিদগঞ্জ পল্লী বিদ্যুৎ অফিস এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। ডিজিএম মো. সাইফুল ইসলাম নিজ কার্যালয়ে অবরুদ্ধ রয়েছেন এবং পরিস্থিতির দিকে নজর রাখছে কর্তৃপক্ষ।
